জাতীয় নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন টালমাটাল স্থানীয় সরকার রাজনীতির মাঠ।
একদিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ প্রধান সিটি কর্পোরেশনগুলোতে নির্বাচন আয়োজনের আইনি বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে সরকারি কর্মকর্তাদের সরিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক নেতাদের ‘প্রশাসক’ হিসেবে নিয়োগ—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে জনমনে প্রশ্ন: ভোট কি তবে অনিশ্চিত?
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছিল। নাগরিক সেবা সচল রাখতে অন্তর্বর্তী সরকার শুরুতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক নিয়োগ দিলেও, গত রোববার এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সিলেট ও খুলনায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মঙ্গলবার তারা সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
দক্ষিণ সিটির নতুন প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, জনগণের আস্থা অর্জন করেই তারা নির্বাচনে যেতে চান। তবে আইন বলছে ভিন্ন কথা। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির মেয়াদ গত বছরের জুনেই শেষ হয়েছে, আর চট্টগ্রাম সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ২২শে ফেব্রুয়ারি। আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখনও কোনো দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে পারেনি।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র একজন প্রশাসক দিয়ে বিশাল এই সিটি কর্পোরেশনগুলোর কাউন্সিলরদের শূন্যতা পূরণ করা অসম্ভব। সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান এবং নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান বদিউল আলম মজুমদার উভয়েই দ্রুত নির্বাচনের ওপর জোর দিয়েছেন। তাদের মতে, নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা যেমন কঠিন, তেমনি আইনি জটিলতাও বাড়ছে।
এদিকে, বিএনপির এই নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সংসদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার একে ‘পাতানো নির্বাচনের প্রথম ধাপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একই সুর জাতীয় নাগরিক পার্টিরও (এনসিপি); তারা মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চাইছে।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আইন সংস্কার ও আবহাওয়াগত দিক বিবেচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সিটি কর্পোরেশনগুলোর মেয়াদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে নির্বাচন হবে। তবে দলীয় প্রতীকে ভোট হবে কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে জাতীয় সংসদ থেকে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক কঠিন সময় পার করছে আওয়ামী লীগ। ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক দলীয় নিবন্ধন স্থগিত ও সহযোগী সংগঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ায় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা এই দলটি। বর্তমানে রাজনৈতিক ‘স্পেস’ ফিরে পেতে কৌশলী অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী মহল। দলীয় সূত্রমতে, আপাতত সহিংসতা এড়িয়ে সংগঠন পুনর্গঠনেই মূল মনোযোগ দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে বিতর্কিত নেতাদের বাদ দিয়ে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির তরুণ নেতৃত্ব সামনে আনার বিষয়ে হাইকমান্ডে নীতিগত ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে মূল প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে নেতৃত্ব ঘিরেই। দলের ভেতরে এখনো শেখ হাসিনাকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা মনে করা হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প নেতৃত্ব আনার বিষয়টি জোরালো আলোচনায় রয়েছে। বিচক্ষণ মহলের মতে, আওয়ামী লীগ ‘শেখ পরিবার’-এর হাতেই নেতৃত্ব বজায় রাখতে আগ্রহী। সেক্ষেত্রে শেখ হাসিনা নেপথ্য শক্তি হিসেবে কাজ করবেন এবং সামনে আনা হতে পারে নতুন কোনো মুখ। সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা কম। তবে তৃণমূল ও শীর্ষ নেতাদের বড় অংশ এখনো মনে করেন, পরিস্থিতির বিচারে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। বর্তমানে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের দিকে কড়া নজর রাখছে দলটি। অনেক আত্মগোপনে থাকা নেতা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন এবং দলীয় কার্যালয় খোলার প্রস্তুতি চলছে। বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কিছু ইতিবাচক বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতারা আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশা দেখছেন। সব মিলিয়ে, একদিকে শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা এবং অন্যদিকে বাস্তবতা মেনে বিকল্প নেতৃত্বের পথ খোলা রাখা—এই দ্বৈত কৌশলে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুতির পর দীর্ঘ প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবার নতুন কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞা এবং নিবন্ধন স্থগিতের কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এখন কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে দলটি। আপাতত সংঘাতের পথ পরিহার করে সংগঠন পুনর্গঠন এবং ইতিবাচক ধারার রাজনীতিতে ফেরাকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। সূত্রমতে, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে দলীয় কার্যালয়গুলোতে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতির হার বাড়ছে। কিছু ক্ষেত্রে হামলা বা পাল্টা দখলের ঘটনা ঘটলেও, প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির কেন্দ্রীয় অবস্থানের প্রতি এক ধরনের আস্থা প্রকাশ করছে আওয়ামী লীগ। দলটির অভ্যন্তরে এমন আলোচনা রয়েছে যে, বিএনপির নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাজনৈতিক সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি হলে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হবে। আওয়ামী লীগের একাধিক স্তরের নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, দলটির হাইকমান্ড এখন ‘ক্লিন ইমেজ’ বা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতৃত্ব সামনে আনতে চায়। বিগত সময়ে যাদের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে, তাদের সরিয়ে তরুণ ও বিতর্কহীন নেতৃত্ব দিয়ে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য এবং পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা আশা করছেন, নবনির্বাচিত সরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে দলটির ওপর থাকা আইনি ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে। সরকার থেকে সবুজ সংকেত বা প্রয়োজনীয় ‘রাজনৈতিক স্পেস’ পেলে দ্রুততম সময়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পূর্ণ উদ্যমে শুরু করতে চায় দলটি।
উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ বলবৎ থাকা অবস্থাতেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর একটি প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত ২৫৭ জন সহকারী প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে তোড়জোড় চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ উদ্দেশ্যে সম্প্রতি এলজিইডি দুই দফায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বেলাল হোসেন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি দাপ্তরিক চিঠি পাঠান বলে জানা যায়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এলজিইডির সাংগঠনিক কাঠামোয় ৫ম গ্রেডভুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী বা সমমানের পদগুলো চলতি দায়িত্বের মাধ্যমে পূরণ করা যেতে পারে। সেখানে বলা হয়, রাজস্ব বাজেটের আওতায় নির্বাহী প্রকৌশলীর মোট ১৬৮টি অনুমোদিত পদ রয়েছে, যার মধ্যে বর্তমানে ১১৪টি শূন্য। জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী এসব পদের বেতনক্রম ৪৩ হাজার থেকে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকা। এছাড়া উন্নয়ন বাজেটের বিভিন্ন প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ-প্রকল্প পরিচালক ও উপ-পরিচালকের মিলিয়ে আরও ১১২টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি পদ প্রেষণে পূরণ করা হয়েছে। ফলে রাজস্ব ও উন্নয়ন—দুই খাত মিলিয়ে মোট ২১০টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। প্রস্তাবে আরও বলা হয়, যোগদানের তারিখের ভিত্তিতে পূর্বে ৩৩৩ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তবে জ্যেষ্ঠতা-সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকায় পরবর্তীতে পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থগিত থাকে। দীর্ঘদিন পদগুলো শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে চলতি দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে পদ পূরণের বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়। তবে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের একাংশের দাবি, প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত ২৫৭ জন সহকারী প্রকৌশলীকে ৫ম গ্রেডে দায়িত্ব দেওয়ার পথ সুগম করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল মাহমুদ জাহেদী বলেন, সহকারী প্রকৌশলীদের পদোন্নতি সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব তার নজরে আসেনি। অন্যদিকে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বেলাল হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।