তিস্তা নদী সংশ্লিষ্ট মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন এগিয়ে এলে পূর্ণ সমর্থন দেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—এমনটাই জানিয়েছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের কল্যাণে প্রয়োজন হলে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতাও করবে তার দল। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনের আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও উপস্থিত ছিলেন। শফিকুর রহমান তিস্তা নদীকে ‘উত্তরাঞ্চলের কান্না’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সমাধান না হওয়ায় মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে। অতীতে কেন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি, তা সবার জানা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি ঝুলে থাকার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার ‘তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ গ্রহণ করে, যা ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ নামে পরিচিত। ২০১৬ সালে সমীক্ষার মাধ্যমে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন সময়ে চীন ও ভারত আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বড় অবকাঠামো চীনের সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করেই সহযোগিতা করে আসছে, যা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উদাহরণ। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি চীনের অর্থায়নে হাসপাতাল নির্মাণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সুবিধা তৈরির ঘোষণার কথাও উল্লেখ করেন।
জাতীয় সংসদে লিখিত বক্তব্য পাঠ করা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য, প্রয়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র মাসুদ উদ্দিন সাঈদী সংসদে লিখিত বক্তব্য পাঠ করলে স্পিকার তাকে দেখে না পড়ে বক্তব্য দেওয়ার পরামর্শ দেন। একই ধরনের মন্তব্য করা হয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রেও। স্পিকার বলেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় কাগজ দেখে পড়ার পরিবর্তে হাউজের দিকে তাকিয়ে কথা বলা উচিত। তবে এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—সংসদে কি লিখিত বক্তব্য পড়া নিষিদ্ধ, নাকি তা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। সমালোচকরা বলছেন, অতীতে বহু গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য লিখিতভাবেই সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন শীর্ষ নেতার বক্তব্য লিখিত ছিল, এমনকি রাষ্ট্রপতির ভাষণও লিখিত আকারেই সংসদে পাঠ করা হয়েছে। ফলে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে আলাদা করে মন্তব্য করার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় অনেক সংসদ সদস্য লিখিত বক্তব্য ব্যবহার করে থাকেন, যাতে ভুল না হয় এবং বক্তব্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা যায়। তাই লিখিত বক্তব্য পড়াকে কেন্দ্র করে আপত্তি তোলায় সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে সরকারি দলের একটি শোক প্রস্তাব উত্থাপনের সময় কয়েকজন প্রয়াত নেতার নাম উচ্চারণে জটিলতা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। এতে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার নিয়ম ও শালীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে অসহায় ও দুস্থদের জন্য শাড়ি ও থ্রি-পিস বরাদ্দ না পাওয়ায় তীব্র আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ। শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। তার অভিযোগ, এই বরাদ্দ শুধুমাত্র সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি এলাকায় দেওয়া হয়েছে এবং বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের বঞ্চিত করা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল কোনো দলীয় সম্পদ নয়, এটি রাষ্ট্রের একটি মানবিক সহায়তা তহবিল। প্রধানমন্ত্রী সমগ্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী—কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়। তাই এই তহবিল থেকে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রাজনৈতিক বিভাজন পরিহার করে সব এলাকার দুস্থ মানুষের জন্য সমান বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। প্রমাণ হিসেবে আব্দুল ওয়ারেছ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি বরাদ্দের স্ক্রিনশটও সংযুক্ত করেন। সেখানে দেখা যায়, উত্তরাঞ্চলের ৫টি জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনে ৭০০ পিস শাড়ি, ১০০ পিস থ্রি-পিস এবং ৫০ পিস হাজী রুমাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জামায়াত নেতার দাবি, তার নির্বাচনি এলাকায় এ ধরনের কোনো সাহায্য না আসায় সাঘাটা-ফুলছড়ি উপজেলার অসহায় মানুষ ঈদ উপহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো দেশ। প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে বক্তব্য রাখলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তার এই ভাষণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বক্তব্যের শুরুতেই ড. শফিকুর রহমান সংসদকে দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা প্রদর্শনের জন্য সংসদই শ্রেষ্ঠ জায়গা। তার বক্তব্যে উঠে আসে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং একটি স্বচ্ছ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব। ড. শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সুষম উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণ। সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে চান এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সরকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের শীর্ষ নেতার এই সংসদীয় উপস্থিতি এবং গঠনমূলক বক্তব্য দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি পদক্ষেপ। তিনি নিজেকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যদিও সংসদের স্পিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এখনো পাননি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদায়নের অনুরোধ জানান। চিঠিতে বলা হয়, এ ধরনের পদায়নের মাধ্যমে বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতি সরকারের কাছে উপস্থাপন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রচলিত কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। কারণ সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা আলাদা। বিরোধী দলের কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাকে সরাসরি সরকারি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব সেই বিভাজনকে অস্পষ্ট করে দিতে পারে। এই বিতর্ক অনেকের কাছে ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর গঠিত দশম জাতীয় সংসদের পরিস্থিতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তখন জাতীয় পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দল হলেও দলের কয়েকজন সদস্য একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে একই দলের সদস্যরা সরকার ও বিরোধী উভয় ভূমিকায় ছিলেন যা রাজনৈতিক অস্বাভাবিকতা হিসেবে আলোচিত হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক রিদওয়ানুল হক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে প্রশ্ন তুলেছেন, বিরোধী দলের নেতা যদি তার উপদেষ্টাকে সরাসরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগের প্রস্তাব দেন, তবে তা বিরোধী রাজনীতির ভূমিকাকে দুর্বল করতে পারে। বর্তমান বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ডা. শফিকুর রহমান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, বিরোধী দলের নেতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষমতা কেবল সংসদের স্পিকারের হাতে। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে স্পিকার বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং পরে তা সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। যদিও জামায়াতের সংসদীয় দল তাকে তাদের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে বলে জানা গেছে, তবে সেই সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে কার্যকর হয়নি। এই বিলম্বের অন্যতম কারণ হলো সংসদের শীর্ষ পদে শূন্যতা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর থেকে স্পিকারের পদটি শূন্য রয়েছে। একই সময়ে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার হওয়ায় তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। ফলে স্পিকার না থাকায় বিরোধী দলের নেতা স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও থেমে আছে। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ডা. শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর এটিই প্রথমবার কোনো জামায়াত প্রধানের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন বলে আলোচনা হয়। সেদিন তিনি নিজেকে “বিরোধী দলীয় নেতা” হিসেবে পরিচয় দেন এবং বলেন, এটি রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের অংশ হিসেবেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তবে স্পিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছাড়া এই দাবির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম জানিয়েছেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ইতোমধ্যে বৈঠকে নেতা, উপনেতা ও চিফ হুইপ নির্বাচন করেছেন। তবে স্পিকার না থাকায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ওই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর বিরোধী দলের নেতৃত্ব সম্পর্কিত বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হতে পারে। তাই রাজনৈতিকভাবে ডা. শফিকুর রহমান নিজেকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে উপস্থাপন করলেও আইনগত স্বীকৃতি পেতে তাকে এখনো সংসদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তর থেকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। চিঠির একটি অনুলিপি গণমাধ্যমের কাছেও এসেছে। চিঠিতে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান দক্ষতার সঙ্গে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগ তৈরিতে তার অভিজ্ঞতা ও পেশাগত নেটওয়ার্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া, আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে ভূমিকা রাখতে পেরেছেন মাহমুদুল হাসান। বিরোধীদলীয় নেতা তার এই প্রস্তাবকে ‘নতুন ও ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দিলে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতিগত ভাবনা সরকারকে উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা সহজ হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষাতেও তা সহায়ক হতে পারে। চিঠিতে তিনি আরও বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের পররাষ্ট্রনীতি আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য এ পদায়নের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের আগে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল যে পোস্টাল ভোটের অধিকাংশই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে পড়বে, এমনকি কেউ কেউ ধারণা করেছিলেন এই ভোটের হার ৮০ শতাংশেরও বেশি হতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাস্তবে সেই ধারণার সঙ্গে মিল নেই এবং ফলাফলে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। শনিবার (৭ মার্চ) নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পোস্টাল ভোটে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, তবে তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ৪৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিএনপি পেয়েছে ৩০ দশমিক ২৮ শতাংশ ভোট। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি পেয়েছে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ ভোট এবং বাকি ভোট গেছে অন্যান্য দলের ঝুলিতে। প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা করা হয়। এর পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং কারাবন্দীরাও ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য ১৫ লাখ ২০ হাজার ৯৩ জন নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে মোট ভোট পড়েছে ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৮৭৪টি, বাতিল হয়েছে ৫৭ হাজার ৮৯৮টি। ভোট পড়ার হার ছিল ৬৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ভোটের হিসাবে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ১১৪ ভোট, বিএনপি পেয়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার ১৪৪ ভোট এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি পেয়েছে ৫২ হাজার ৮৪০ ভোট। এদিকে নির্বাচন কমিশনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পোস্টাল ভোট দুইটি আসনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সিরাজগঞ্জ-৪ ও মাদারীপুর-১ আসনে ডাকযোগে দেওয়া ভোটের কারণে ফলাফলে পরিবর্তন আসে এবং দুটি আসনেই জয় পায় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বিশ্লেষকদের মতে, পোস্টাল ভোট নিয়ে আগে যে ধারণা ছড়িয়েছিল যে অধিকাংশ ভোটই জামায়াতের পক্ষে পড়বে, চূড়ান্ত ফলাফল সেই ধারণাকে পুরোপুরি সমর্থন করেনি এবং প্রকৃত চিত্র অনেকটাই ভিন্ন দেখা গেছে।
দৈনিক নয়াদিগন্ত–এর কাছে দীর্ঘদিনের বকেয়া সম্মানি পরিশোধের দাবিতে সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমিরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, প্রায় চার বছর ধরে তিনি পত্রিকাটিতে নিয়মিত উপসম্পাদকীয় লিখেছেন। অন্যান্য পত্রিকার তুলনায় অনেক কম সম্মানিতে—সহানুভূতির জায়গা থেকে—তিনি লেখালেখি চালিয়ে গেছেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তার প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে তিনি প্রায় ২০০টি উপসম্পাদকীয় লিখেছেন, যার মোট শব্দসংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করা একজন লেখক হিসেবে এই পরিমাণ শ্রমের যথাযথ মূল্য না পাওয়ায় তিনি ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। গোলাম মাওলা রনি বলেন, “একসময় হয়তো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট ছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে বলে জানা যায়। তারপরও কেন বকেয়া পরিশোধ হচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়।” বিষয়টির সমাধানে তিনি জামায়াত আমিরের নৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং দ্রুত বকেয়া পরিশোধের মাধ্যমে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে দৈনিক নয়াদিগন্তের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে অবিলম্বে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, চলমান উত্তেজনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রোববার (১ মার্চ) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামীর এই আমির। বার্তায় শফিকুর রহমান লেখেন, খামেনির মৃত্যুসংবাদে তিনি গভীরভাবে শোকাহত এবং শোকসন্তপ্ত ইরানি জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন ইরানের জনগণ এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ও শক্তি অর্জন করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ইতোমধ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়লে তা কেবল একটি দেশের নয়, সমগ্র অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। পবিত্র রমজান মাসে যেকোনো হামলা বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শফিকুর রহমান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি। বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘ ও বিশ্বনেতাদের কার্যকর ভূমিকা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে কথোপকথনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি জানান, অনুষ্ঠানে তিনি সকল গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাদের, ইফতার পরিবেশনকারী কর্মী এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের সঙ্গে মুসাফাহ করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে তিনি নিজের জন্য দোয়া চেয়েছিলেন এবং আমির তাকে ‘দোয়া ও দাওয়াহ দুইটাই’ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলার সময় নাসীরুদ্দীন জানান, বাসার বুয়া প্রতিদিন ফ্যামিলি কার্ড চাইছে, যা নির্বাচনে জেতার একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি ইতিমধ্যেই শুরু করেছেন এবং খুব শিগগিরই সারা দেশে চালু হবে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মঈন খানের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি জানতে পেরেছিলেন, তিনি ভালো আছেন এবং বাসায় আসার আমন্ত্রণ দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনকে তিনি শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য স্মরণ করান। এছাড়া, তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে বাসায় ইফতারের জন্য দাওয়াত দেন। ইফতার শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায় নেওয়ার সময় আব্বাস তাকে ‘দুষ্টুমি করবা না’ বলে সতর্ক করেন। নাসীরুদ্দীন জবাবে উল্লেখ করেন, ছোট ভাইয়ের সিট এভাবে কেড়ে না দিয়েও ছেড়ে দেয়া যেত।
রাজধানীর শিশু তাহিয়া থেকে শুরু করে নরসিংদী ও হাজারীবাগের কিশোরী—পরপর ঘটে যাওয়া বীভৎস নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে প্রভাবশালী মহল ধর্ষকদের রক্ষাকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে, যা একটি সভ্য সমাজের জন্য চরম অবমাননাকর। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "৬ বছর বয়সী শিশু তাহিয়াকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা, নরসিংদীতে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হাজারীবাগের স্কুলছাত্রী হত্যার ঘটনাগুলো পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এসব অপরাধে নগ্ন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং প্রশাসনের চরম শৈথিল্য আমাদের শঙ্কিত করে।" ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, কার ইশারায় শিশু তাহিয়ার হত্যাকাণ্ডকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে? তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং এলাকা ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "দলীয় পদবি ব্যবহার করে নিপীড়কদের রক্ষা করা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।" বিবৃতিতে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলো: অবিলম্বে সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ইনসাফ কায়েম করা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা। বিবৃতির শেষে তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "ইনসাফের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না; আমরা মজলুমের পাশে আছি এবং থাকবো।"
রাজধানীর রায়েরবাজারে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে নিজ বাসার সামনে এক কিশোরী শিক্ষার্থীকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা দেশের চরম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতারই বহিঃপ্রকাশ। একটি সভ্য সমাজে এ ধরনের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে নারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকার এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সমাজে অরাজকতা ছড়িয়ে পড়বে। জামায়াতের এই নেতা অবিলম্বে ঘাতকদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। নিহত বিন্তির শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি অপরাধ দমনে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের এক নতুন নজির স্থাপন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এই আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। আমন্ত্রণ গ্রহণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দাওয়াত কবুল করেছেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও উল্লেখ করেন যে, জামায়াতের আমির ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও তার সহধর্মিণী ও পরিবারের সদস্যদেরও বিশেষভাবে আমন্ত্রিত হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টায় শুরু হতে যাওয়া এই অনুষ্ঠানটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গেজেট প্রকাশের পর সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন রঙ দেখা দিয়েছে। বর্তমান সংসদে প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হিসাব অনুযায়ী, বিএনপি ও তাদের মিত্ররা সম্ভাব্যভাবে ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেতে পারে ১৩টি আসন, যার মধ্যে জামায়াত এককভাবে ১১টি আসনের প্রার্থী দিতে পারবে। জামায়াতের সম্ভাব্য নারী প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নীতিনির্ধারণী ফোরামে হবে। প্রার্থী বাছাইয়ে মেধা, যোগ্যতা, সংগঠনের দায়িত্ব, অভিজ্ঞতা এবং পরিবারের ত্যাগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দলীয় শীর্ষ নেতা জানান, জোট টিকিয়ে রাখার কৌশলগত বিষয়ও এ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ভোট দেবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। প্রতিটি দল বা জোট তাদের প্রাপ্ত সাধারণ আসনের অনুপাতে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে। একক প্রার্থী থাকলে ভোট নেওয়ার প্রয়োজন হবে না; তবে একাধিক প্রার্থী থাকলে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্তরা নির্বাচিত হবেন। একটি আসন পেতে ছয়জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। জামায়াতের আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য নারী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. আমিনা বেগম রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য শাহান আরা বেগম এবং সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি ব্যারিস্টার সাবিকুন্নাহার মুন্নী। এর বাইরে আলোচনায় রয়েছেন সাঈদা রুম্মান, খন্দকার আয়েশা খাতুন, ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, কাজী মারিয়া ইসলাম বেবি, রাবেয়া খানম, ডা. শিরিন আক্তার রুনা, তানহা আজমি, নার্গিস খান, কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তার ও আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন। অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, “নারীরা দলের আমির হতে না পারলেও সংরক্ষিত নারী আসনে যোগ্যদের মনোনয়ন দেওয়া হবে।” দলীয় সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামীর মোট সদস্য সংখ্যা এক লাখের বেশি, যার মধ্যে ৫৭ শতাংশ পুরুষ ও ৪৩ শতাংশ নারী। মহিলা বিভাগের সদস্যসংখ্যা প্রায় অর্ধলাখ এবং দেশে প্রায় চার লাখ কর্মী ও অসংখ্য সহযোগী সদস্য রয়েছে। এদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক নারী রয়েছে, যারা ইসলামি ও আধুনিক জ্ঞান সমৃদ্ধ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সংক্ষিপ্ত এক বার্তায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি লেখেন, “ইনশাআল্লাহ, আগামীর বাংলাদেশ হবে ইনসাফভিত্তিক। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।” প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত পোস্টটিতে এক লাখের বেশি প্রতিক্রিয়া, কয়েক হাজার শেয়ার এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মন্তব্য দেখা গেছে। এর আগে মাতৃভাষা প্রসঙ্গে দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি বলেন, মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। একই সময়ে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে তিনি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং দোয়ায় অংশ নেন।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এটি তার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন। শুক্রবার রাত ১২টা ২২ মিনিটে তিনি শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এছাড়া ১১ দলীয় জামায়াত জোটের শীর্ষ নেতারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ডা. শফিকুর রহমান আজিমপুর কবরস্থানে ভাষাশহীদদের মাজার জিয়ারত করবেন এবং তাদের রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করবেন। মহান একুশের প্রথম প্রহরে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিপ্লব-পরবর্তী সংবিধান সংস্কারের জন্য আয়োজিত জাতীয় গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনার আভাস দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর ভিত্তিতে আয়োজিত গণভোটে ৬০.২৬ শতাংশ ভোটার সংবিধান সংশোধনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে বিজয়ী দল বিএনপি এবং তাদের এক সময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামী মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ পেয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের সময় এই দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সংবিধান রক্ষার শপথ গ্রহণের পরও বিএনপির সংসদ সদস্যরা ‘সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল’-এ দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়ার ক্ষেত্রে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, জুলাই সনদে বর্ণিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের জন্য এই কাউন্সিল বাধ্যতামূলক। বিএনপির এই অবস্থানের কারণে কাউন্সিলের বৈধতা ও সংস্কার প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এই বিরোধের মূলে রয়েছে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন প্রক্রিয়া। জুলাই সনদে বিদ্যমান ৩৫০ আসনের জাতীয় সংসদের পাশাপাশি ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটি চায় এই উচ্চকক্ষের নির্বাচন হোক ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ পদ্ধতিতে। এতে করে প্রাপ্ত ভোটের হার অনুযায়ী দলগুলো আসন পাবে। অন্যদিকে, বিএনপি বর্তমান ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভিত্তিক পদ্ধতি ধরে রাখতে আগ্রহী, যা তাদের বিশাল সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে আরও সংহত করতে সাহায্য করবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তারা জুলাই সনদের সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও এই কাউন্সিলকে এখনই বৈধ মনে করছেন না। তাদের মতে, নির্বাচিত সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ার পরেই এই কাউন্সিল আইনি ভিত্তি পাবে। অন্যদিকে, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা বিএনপির এই অবস্থানকে সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ তৈরি করে। এতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদ নির্ধারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির মতো ৮০টিরও বেশি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। এখন এই সংস্কারগুলো ১৮০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও বড় দলগুলোর মধ্যকার এই মতভেদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সূত্র: আলজাজিরা
সংসদে বিরোধী শক্তির নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এল। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এখন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা। আজ মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে বিরোধীদলের এই নতুন কাঠামোর কথা জানানো হয়েছে। একনজরে নতুন দায়িত্বশীলরা: বিরোধীদলীয় নেতা: ডা. শফিকুর রহমান (আমির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী)। বিরোধীদলীয় উপনেতা: ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের (নায়েবে আমির, জামায়াত)। বিরোধীদলীয় হুইপ: নাহিদ ইসলাম (আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি - এনসিপি)। আজ দুপুর ১২টার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ গ্রহণ করেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। যদিও বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়া নিয়ে আগে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছিল, তবে জরুরি বৈঠকের পর দেশের স্বার্থে শপথ ও সংসদীয় দায়িত্ব পালনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াত জোট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ–এর নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ দিয়ে সাতটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও একটিতেও জয় পায়নি দলটি। নিজের নির্বাচনী দুর্গ চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনেও পরাজয় বরণ করেছেন তার ছেলে ওমর ফারুক। নির্বাচন-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল অলি আহমদ বলেন, নির্বাচনের নামে আমাদের ধোঁকা দেওয়া হয়েছে, সমগ্র জাতিকে বোকা বানানো হয়েছে। দিন-রাত সমানতালে ভোট ডাকাতি হয়েছে। যেসব প্রার্থী সাড়ে ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে বেশি ভোট পেয়েছেন, তাদের ব্যালটে ডাবল সিল মেরে বাতিল করা হয়েছে। কোথাও ভোট কম পড়লে নতুন করে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করা হয়েছে। এসব কাজে অনেক প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সরাসরি জড়িত, যা দেশদ্রোহিতার শামিল। নিজের ছেলে ওমর ফারুকের পরাজয় প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওমর ফারুককে ভোট দিলেও প্রশাসন সেই ভোট ‘হাইজ্যাক’ করে তাকে হারিয়ে দিয়েছে। তিনি এটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ন্যক্কারজনক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমদ জামায়াতে ইসলামীসহ জোটের শরিকদের প্রতি একীভূত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এখন আমরা ১১ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতায় আছি। তবে এই ঐক্যকে সুদৃঢ় করতে আমাদের নতুন নাম ও নতুন প্রতীক প্রয়োজন। এলডিপির ‘ছাতা’, জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ কিংবা ‘শাপলা কলি’ নয়—সবাইকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এক ছাতার নিচে আসতে হবে। এতে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরো শক্ত হবে এবং দলগুলোর মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি দূর হবে। অলি আহমদ জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১৪০০ মেধাবী সন্তান জুলাই আন্দোলনে শাহাদাত বরণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও হাজার হাজার প্রাণ ঝরেছে। আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। কেউ এসে হেলায় হেলায় রাজত্ব করবে আর আমরা বসে থাকব, তা হতে পারে না। সর্বশেষে তিনি দাবি করেন, এলডিপি’র প্রার্থীরা হারেননি, বরং কারচুপির মাধ্যমে তাদের হারানো হয়েছে এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন এখনও এলডিপির পাশে রয়েছে।
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। অভিযানের সময় কার্যালয় থেকে পোলিং কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফাকে আটক করা হয়। জামায়াত প্রার্থী মাহমুদ হোসেন বুধবার রাত ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, জব্দ করা টাকাগুলো ছিল কর্মীদের সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারের জন্য রাখা। তিনি বলেন, “আমার বিরোধী পক্ষ মব সৃষ্টি করে আমাদের কর্মীদের হেনস্থা করেছে। তারপর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট টাকা, কিছু কাগজপত্র ও ল্যাপটপ জব্দ করেছেন।” জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া আটক পোলিং কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফাকে দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, নড়িয়া পৌরসভার দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে এই নির্বাচনী কার্যালয় পরিচালিত হচ্ছিল। অভিযানের সময় সেখানে জামায়াতের কয়েকজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন। গোলাম মোস্তফা পঞ্চপল্লী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। শরীয়তপুর–২ আসনের নির্বাচনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাঁদের মধ্যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাহমুদ হোসেন ও বিএনপির সফিকুর রহমান। মাহমুদ হোসেন প্রশাসন ও ইলেকশন কমিশনকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা বিচারের প্রতি আস্থাশীল। তবে আমার বুঝে আসে না, এই বিস্তীর্ণ এলাকায় আমরা কর্মীদের কীভাবে খাবার খাওয়াব।”
চলমান পরিস্থিতিতে গুজবে কান না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান। ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান লিখেছেন, “প্রিয় দেশবাসী, লাইলাতুল গুজব চলছে। সবাই সাবধান, এই সমস্ত গুজবকে পাত্তাই দেবেন না। ইনশা আল্লাহ সত্যের বিজয় অবশ্যম্ভাবী।” তার এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। চলমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য এড়িয়ে সচেতন থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস