- প্রচ্ছদ
- Topic
জুলাই সনদ
নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্ক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সমন্বয়ক মতিউর রহমান লিটু, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে তিনি দলের প্রতি নিজের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা, বিভিন্ন নেতার সহযোগিতার স্মৃতিচারণ এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরেছেন। খোলা চিঠিতে মতিউর রহমান লিটু জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখার পর তারেক রহমানের নির্দেশে দলের কয়েকজন নেতা তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি আশিক ইসলাম, শামসুল আলম, মোখলেসুর রহমান চৌধুরী, শিমুল বিশ্বাস সহ বিএনপির বিভিন্ন সিনিয়র নেতার সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। চিঠিতে তিনি বলেন, বিএনপির প্রতি তার ভালোবাসা শৈশব থেকেই। পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় দলটির সঙ্গে তার আবেগ ও আদর্শিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে কয়েকটি বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে তিনি ‘জুলাই সনদ’ ও ‘গণভোটের রায়’ গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমাতে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে। চিঠিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি মহল বিএনপিকে জুলাই আন্দোলনের বিপরীতে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্তেরও আহ্বান জানান তিনি। চিঠির শেষাংশে মতিউর রহমান লিটু স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত মতামত। এ বক্তব্যের সঙ্গে বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতা বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নিচে Motiur Rahman Litu 'র লিখা #চিঠি দেয়া হলোঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি খোলা চিঠি, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও একটি অনুরোধ; -মতিউর রহমান লিটু সালাম নিবেন, আশাকরি আপনি ভালো আছেন। আজ কয়েকটি কথা বলার জন্য একটি খোলা চিঠি লিখছি। শহীদ জিয়াকে নিয়ে ১৭বছর আগে আনাড়ি হাতে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি বানিয়েছিলাম, ইউটিউবে সেটা দেখে আপনি আপনার তৎকালীন মুখপাত্র আশিক ইসলামকে বলেছিলেন আমাকে সহযোগিতা করার জন্য। হ্যা, তিনি আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন, ম্যাডামের সাবেক এপিএস শামসুল আলম ভাই নিজের মতো করেই আমাকে গড়ে তুলেছেন। রাষ্ট্রপতির সাবেক উপদেষ্টা মোখলেসুর রহমান চৌধুরী আপন ভাইয়ের মতো করেই বিএনপিতে আমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এরপরে শতাধিক সিনিয়র নেতারা আমাকে সর্বদিক দিয়ে, সব সময় সহযোগিতা করেছেন। ম্যাডামের “Mother of democracy" উপাদি প্রাপ্তির পরে গুলশান অফিসে শিমুল বিশ্বাস ভাইয়ের দেয়া বৈঠকে সাবেক উপ রাষ্ট্রপতি মওদুদ আহম্মেদ সাহেব বুকে জড়িয়ে অলমোস্ট কেঁদে দিয়েছিলেন। গুলশান অফিসের দ্বিতীয় তলায় শিমুল ভাইয়ের সেই বৈঠকে প্রায় ৩০জনের মতো সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আমি একজন সাধারণ বাবার সন্তান হয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু কোনোদিন আশাকরিনি। শহীদ জিয়ার মৃত্যুর দিন আমার বাবার চিৎকার দিয়ে কান্নার স্মৃতি থেকে বিএনপির প্রতি আমার মায়া, ভালোবাসা জন্ম হয়েছে। সেই থেকেই বিএনপি করি। বেড়ে ওঠার সাথে সাথে রক্ত মাংস মজ্জায় একটি মাত্র দল মিশে আছে সেটি হলো বিএনপি আর দেশনেত্রী বেগম জিয়ার স্মৃতি। তাই মৃত্যুর আগে পর্যন্ত হয়তো ভুলতে পারবোনা এই দলের ভালোবাসা। যদিও পরিবারের প্রায় সকল সদস্য বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত। বিএনপির জন্য অনেক রক্ত ঝরেছে, অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, সেসব কথা আজ বলতে চাইনা। আজ জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বলতে চাই- আপনি শহীদ জিয়ার সন্তান, আপনার জন্য জীবন দিতেও কুন্ঠাবোধ করবোনা। সব সময় আপনার ভালো চাই এবং চাইবো। হাসিনাকে হটানোর জন্য আমরা ১৬বছর আন্দোলন করেছি কিন্তু শেষের একমাসে নিষ্পাপ তরুণ ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আসায় হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। যেই আন্দোলনটাকে আমরা জুলাই আন্দোলন হিসাবে চিনি, যেই আন্দোলনের জন্য দেশে একটি নির্বাচন হয়েছে, আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। জাতি মুক্তির স্বাধ গ্রহণ করেছে। দেশের মানুষ আপনাকে ভালোবাসে- সেই ভালোবাসাটুকু যেন সারাজীবন টিকে থাকে, বিএনপি যেন দীর্ঘদিন বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে সেজন্য আপনাকে একটা বিশেষ অনুরোধ করতে চাই- কে কি পরামর্শ দিলো সেদিকে না তাকিয়ে এক বাক্যে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় মেনে নেয়ার ঘোষণা দিন। এরপরে বিরোধীদলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বসুন, সংসদে যেহেতু দুই তৃতীয়াংশ আছে, দেশ চালানোর মতো করে সংবিধানকে সাজিয়ে নিন। দেখবেন বর্তমান বিরোধীদল আপনাকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করছে। কারণ, সবার কিন্তু একটাই লক্ষ্য হাসিনার মতো একটা খুনি যেন কোনোদিন ফিরতে না পারে! আর কিছুনা। বিরোধীদলের জীবনে যে সাফল্য এখন আছে সেটা তাদের জীবনের সর্বোচ্চ সাফল্য, তারাও সেটা হারাতে চাইবেননা। জুলাই বিষয়ে দূরত্বটা মীমাংসিত হলে বাংলাদেশটা হতে পারে সৌহার্দপূর্ণ একটি দেশ। যেখানে আমরা সুখে শান্তিতে সবাই বসবাস করতে পারবো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আপনাকে যারা জুলাই এর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে তারা কোনোভাবেই বিএনপির ভালো চাইতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করিনা। আমার সন্দেহ তাঁরা হয়তো ভারতের উদ্দেশ্য কার্যকর করতে এমন খেলা খেলছে। গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে সেটাই এখন খুঁজে বের করা দরকার! আমার চিঠিটি আপনার দৃষ্টিগোচর হবে বলে আমি আশাকরি। ভুল বোঝেন, রাগ করেন আর অভিমান করেন যেভাবেই গ্রহণ করেন- “জুলাই সনদ ও গণভোট” নিয়ে অন্তত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটাকে একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ থেকে রক্ষা করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। এছাড়া জুলাই বিষয়ে একটা সমাধান হলে- তরুণ একটা প্রজন্ম তৈরী হয়েছে যারা আপনার দূরদর্শিতার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বিএনপির রাজনীতিতে আরো বেশী সচল হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। (উল্লেখ্যঃ আমার লেখা এই খোলা চিঠিতে বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতা কিংবা অন্যকোন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ইনফ্লুয়েন্স নেই! সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত অভিমত! তাই এই চিঠির জন্য আমার কোন শুভাকাংখীর ব্যাপারে ভুল ধারণা পোষণ করবেননা, অনুরোধ রইলো)
‘জুলাই সনদ’কে ধর্ম, মানবতা ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী। স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার গঠন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর তোপখানা রোডের বিজয় মিলনায়তনে আয়োজিত ‘একাত্তরকে মুছে দিতে কি জুলাই?’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মোমিন মেহেদী অভিযোগ করেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও তাদের সমর্থকেরা ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী একটি রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘জনসুরক্ষা আইন’-এর পরিবর্তে ‘জুলাই সুরক্ষা আইন’ নামে একটি বিল পাস করে জনগণের স্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সভায় তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। মোমিন মেহেদী আরও অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন দিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরি করছে। তিনি বলেন, জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উপেক্ষা করে সংসদে অপ্রাসঙ্গিক ইস্যুতে সময় ব্যয় করা হচ্ছে। সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকট সমাধান এবং জনজীবনের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর নীতি গ্রহণের পরিবর্তে রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ানো হলে তা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, বিএনপি সরকার গঠন করেই দেশে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে, তাই দিল্লির প্রেসক্রিপশনে দেশের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি না করে ‘জুলাই সনদের’ ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়া সদরের বাঘোপাড়া শহীদ দানেশ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এক উপ-নির্বাচনী গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বগুড়া-৬ (সদর) আসনে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলের সমর্থনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বলেছিলেন, কিন্তু এখন সেই পাঁচ কোটি ভোটারের ম্যান্ডেট অস্বীকার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের গণভোট আদেশ বাতিল করা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।” তিনি আরও যোগ করেন, শেখ হাসিনা যেভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিলেন, বিএনপিও সব প্রতিষ্ঠানে নিজেদের খবরদারি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “বিএনপি তাদের নিজেদের দেওয়া ‘৩১ দফা’র সঙ্গেই প্রতারণা করছে। তারা মুখে সংবিধান সংস্কারের কথা বলে ক্ষমতায় এসে এখন গণভোটের রায় মানতে চাইছে না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার চাটুকারদের ভিসি নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ঋণখেলাপিকে গভর্নর বানিয়ে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করছে। সমাবেশে উপস্থিত নেতারা আসন্ন উপ-নির্বাচনে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানান এবং ভোটারদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার লড়াইয়ে শামিল হওয়ার অনুরোধ করেন। বিকেলে শহরের শহীদ খোকন পার্কেও জামায়াতের আরেকটি বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, দেশের চলমান জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে ‘লুকোচুরি’ খেলছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি কনভেনশন সেন্টারে ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে জনমনে কোনো স্বস্তি নেই উল্লেখ করে তিনি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জামায়াত আমির বলেন, জ্বালানি সংকট নিরসনে বিরোধী দলগুলো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকলেও সরকার তা আমলে নিচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে আলোচনা এড়িয়ে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে এবং জনগণের ওপর একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের বর্তমান আচরণে ‘ফ্যাসিবাদের সংক্রমণ’ দেখা যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ সময় সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ‘ইস্পাত কঠিন আন্দোলনের’ হুঁশিয়ারি দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব না দিলে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আফজাল হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মসিউল আলম, নায়েবে আমির অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমির মাওলানা আব্দুর জব্বারসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ৫ আগস্ট পরবর্তী সরকারের রূপরেখা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব দাবি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। বিপ্লবী সরকার না করার কারণ নিয়ে প্রশ্ন বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে পার্থ প্রশ্ন করেন, “৫ আগস্টের পর আপনারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবর্তে কেন বিপ্লবী সরকার গঠন করলেন না? যদি নতুন করে সংবিধানই বানাতে হতো, তবে কেন পুরোনো সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থাকলেন? এখন পুরোনো সংবিধানে থেকে আপনারা খোদ সংবিধানটাকেই বাতিল করতে চাচ্ছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের আইনি ভিত্তি নিয়ে। জুলাইয়ের কৃতিত্ব নিয়ে বিতর্ক জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে পার্থ বলেন, “আপনারা যদি শেষ ৬ বলে ১২ রান করে ম্যাচ জেতান, তবে মনে রাখবেন এর আগের ৩০০ রান আমরা সবাই মিলে করেছি। আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। অথচ এখন আপনারা জুলাইয়ের পুরো কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করছেন। এমন কোনো দাবি করবেন না যাতে দেশবাসী বিভ্রান্ত হয়।” তিনি উল্লেখ করেন যে, ট্রেজারি বেঞ্চে বসা প্রায় সবাই জুলাই যোদ্ধা ছিলেন এবং জেল খেটেছেন। গণভোটের কারিগরি ত্রুটি গণভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই সংসদ সদস্য বলেন, “গণভোটে আপনারা চারটি বিষয় যুক্ত করেছেন। কিন্তু কোনো ভোটার যদি তিনটি বিষয়ে একমত হয়ে একটিতে দ্বিমত পোষণ করেন, তবে তিনি কী করবেন? আপনারা তো ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে বাধ্য করছেন। সনদের বাকি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কেন গণভোটে আনা হলো না?” সংবিধান ও জুলাই স্পিরিট বক্তব্যের শেষে ব্যারিস্টার পার্থ জোর দিয়ে বলেন, সংবিধানের প্রতি যেমন আমাদের শ্রদ্ধা থাকতে হবে, তেমনি জুলাইয়ের মূল স্পিরিট বা চেতনাকেও সমুন্নত রাখতে হবে। জুলাই সনদ নিয়ে তাঁর কোনো বিরোধ নেই জানিয়ে তিনি মূলত পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
জাতীয় সংসদে আজ বিরোধী দলের জোরালো আলোচনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী তার বক্তব্যে ‘জুলাই বিপ্লব’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারের অবস্থান নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেশে ফেরা—সবকিছুর পেছনে মূল ভূমিকা ছিল জুলাই বিপ্লবের। তার ভাষায়, “জুলাই কোনো আবেগ নয়, জুলাই একটি বাস্তবতা, যার ভিত্তিতেই আজকের এই সংসদ গঠিত হয়েছে।” মাহবুব সালেহী দাবি করেন, বর্তমান সংসদ কোনো সাধারণ সংসদ নয়। এখানে এমন সদস্য রয়েছেন যারা ফাঁসির সেল থেকে ফিরে এসে নির্বাচিত হয়েছেন, আবার কেউ কেউ ‘আয়নাঘর’ থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও একজন নারী সদস্য তার স্বামীর অনুভূতি ধারণ করেই সংসদে এসেছেন—যা এই সংসদের ব্যতিক্রমী চরিত্রকে তুলে ধরে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি দল তাদের মেনিফেস্টোর সপ্তম পাতায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত ৫ অক্টোবর গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন, আইনের কোনো বাধা নেই এবং গণভোট পাস হলে সরকার তা বাস্তবায়ন করবে। বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী রংপুরে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে জনগণের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছিলেন। জুলাই সনদের গণভোটে চতুর্থ প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দলের তা মেনে চলার বিষয়ে ৬৯ শতাংশ মানুষ সমর্থন জানায়। কিন্তু এখন সরকার সেই গণরায় অস্বীকার করার পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার প্রশ্ন, “জনগণের স্পষ্ট রায় থাকার পরও কেন সরকার পিছু হটছে?” এই বক্তব্যের পর সংসদে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আজ রোববার (২৯ মার্চ) রাতে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের বৈধতা নিয়ে আলোচনার সময় বাধা পেয়ে স্পিকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বাধার মুখে তিনি সরাসরি স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আপনি যদি ফ্লোর দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য করেন, তবে আমাদের আর এখানে থাকার দরকার নেই।” নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, তারা সংসদে সংবিধান 'সংশোধন' করতে আসেননি, এসেছেন সংবিধান 'সংস্কার' করতে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমান সংসদ দুটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত হয়েছে—একটি গণভোট এবং অন্যটি সাধারণ নির্বাচন। এই গণভোটের ভিত্তি ছিল ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’। কিন্তু সংসদে বারবার সেই গণরায় এবং আদেশকে অসাংবিধানিক বলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বক্তব্য চলাকালে সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্য বারবার বাধা দিলে নাহিদ ইসলাম উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “যে আদেশের ভিত্তিতে আমরা আজ সংসদে এসেছি, সেটাকে অসাংবিধানিক বলা হচ্ছে—এটা মেনে নেওয়া যায় না।” পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হুঁশিয়ারি দেন যে, জনগণের রায় ও জুলাই সনদকে অবমাননা করলে সংসদের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।