সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

টেক্সাস

টেক্সাসের লারেডোর অভিবাসন আটককেন্দ্রে মারা গেছেন ডালাসে দীর্ঘদিন বসবাস করা এমিলিয়ানো আন্দ্রাদে-কোভরুবিয়াস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
টেক্সাসের অভিবাসন কেন্দ্রে ডালাসের বাসিন্দার মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ পরিবারের

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লারেডো শহরের একটি অভিবাসন আটককেন্দ্রে মারা গেছেন ডালাসে কয়েক দশক ধরে বসবাস করা ৫৬ বছর বয়সী এমিলিয়ানো আন্দ্রাদে-কোভরুবিয়াস। গত ১৭ অক্টোবর সকালে রিও গ্র্যান্ডে প্রসেসিং সেন্টারে তাঁকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর মৃত্যু কী কারণে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার। একই সঙ্গে আটক অবস্থায় তাঁর চিকিৎসা ও নিয়মিত ওষুধ পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটের দিকে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় কর্মীরা আন্দ্রাদেকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তাঁকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। প্রায় ২০ মিনিট পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয় বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। ওয়েব কাউন্টির চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয়ে তাঁর ময়নাতদন্ত চলছে।   আন্দ্রাদে-কোভরুবিয়াসের পরিবার বলছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডালাসে বসবাস করতেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর মেয়ে এস্তেফানি আন্দ্রাদের ভাষ্য, বাবার ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগ ছিল। আটক হওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধও ছিল, কিন্তু আটককেন্দ্রের কর্মীরা তাঁকে সেগুলো দেননি বলে পরিবারের অভিযোগ। মেয়ের দাবি, অসুস্থ বোধ করা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া এবং বুকে চাপ অনুভব করার কথা জানালেও তাঁর বাবা যথাযথ সাড়া পাননি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।   আইসিই জানিয়েছে, গত ২৬ জুন মেক্সিকো থেকে টেক্সাসে ফেরার সময় লারেডো সীমান্তে তাঁকে আটক করা হয়। সংস্থাটির দাবি, ২০০৪ সালে চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তারের তথ্য অভিবাসনসংক্রান্ত আবেদনে প্রকাশ না করায় তাঁর বৈধ অভিবাসন মর্যাদা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ মনে করে। তবে ওই ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন কি না, তা আইসিইর প্রকাশিত বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়নি। সংস্থাটি আরও বলেছে, তাঁর বিরুদ্ধে বহিষ্কার-সংক্রান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া চলছিল এবং আটক অবস্থায় তিনি যথাযথ চিকিৎসা পেয়েছিলেন। তাঁর মেয়ে অবশ্য দাবি করেছেন, আবেদনের সময় বাবার অতীতের গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছিল এবং এরপরও তাঁর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি অনুমোদন করা হয়েছিল।   ঘটনাটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহে নেমেছেন টেক্সাসের লারেডো এলাকার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হেনরি কুয়েলার। তিনি ১৮ অক্টোবর আটককেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসাসামগ্রী দেখেছেন বলে জানান। তবে আন্দ্রাদে-কোভরুবিয়াস ঠিক কী ধরনের চিকিৎসা পেয়েছিলেন, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। কুয়েলার বলেন, একদিকে পরিবারের বক্তব্য, অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের বিবরণ, ফলে প্রকৃত ঘটনা জানতে আরও তথ্য প্রয়োজন। তিনি এ বিষয়ে নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি চেয়েছেন।   আন্দ্রাদে-কোভরুবিয়াসের পরিবার জানিয়েছে, তাঁরা বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাননি। তাঁর মেয়ে বলেছেন, বাবার স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। ডালাসে তিনি অ্যাপার্টমেন্ট ও টাউনহাউস রং করার কাজ করতেন এবং তাঁর তিন সন্তানই যুক্তরাষ্ট্রে জন্মেছেন। পরিবার বলছে, মেক্সিকোতে একটি বাড়ি নির্মাণের কাজ শেষ করে একসময় সেখানে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। এখন মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ এবং আটক অবস্থায় চিকিৎসা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার।   সূত্র: ফক্স ৪ নিউজ, দ্য টেক্সাস ট্রিবিউন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
একটি সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন দম্পতি, আলট্রাসাউন্ডে একে একে মিলল চার হৃদস্পন্দন
একটি সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন দম্পতি, আলট্রাসাউন্ডে একে একে মিলল চার হৃদস্পন্দন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনের বাসিন্দা স্টারলিন ও বিল ক্যাফেরাটা দম্পতি ভেবেছিলেন তাঁদের তিনজনের ছোট্ট পরিবারে নতুন আরেকজন অতিথি আসতে চলেছে। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান করাতে গিয়ে এমন এক বিস্ময়কর সত্যের মুখোমুখি হলেন, যার জন্য তাঁরা মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। একটি বা দুটি নয়, স্ত্রী স্টারলিনের গর্ভে বেড়ে উঠছে একসঙ্গে চারটি সন্তান!   পেশায় পেডিয়াট্রিক ইমার্জেন্সি নার্স ৪২ বছর বয়সী স্টারলিন এবং ৪৩ বছর বয়সী বিল দীর্ঘদিন ধরেই দ্বিতীয় সন্তানের চেষ্টা করছিলেন। আইভিএফ (IVF) পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের সর্বশেষ সংরক্ষিত ভ্রূণটি প্রতিস্থাপন করেন। কিন্তু তাঁদের অজান্তেই সেই একই চক্রে স্টারলিন প্রাকৃতিকভাবে আরও দুটি ডিম্বাণু নিঃসরণ করেন, যা নিষিক্ত হয়ে যায়।   গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে হঠাৎ করে শারীরিক অসুস্থতা, রক্তপাত ও পেটে ব্যথা দেখা দিলে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে ছোটেন এই দম্পতি। প্রথমে গর্ভপাতের আশঙ্কা করলেও, আলট্রাসাউন্ড শুরু হতেই চিকিৎসক জানান একটি থলিতে দুটি হৃদস্পন্দন শোনা যাচ্ছে। এরপর একে একে তৃতীয় ও চতুর্থ হৃদস্পন্দনের খোঁজ মিললে আনন্দে ও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান তাঁরা। পরিস্থিতি এতটাই আবেগঘন হয়ে ওঠে যে, স্টারলিনকে সামলে নেওয়ার সুযোগ দিতে চিকিৎসককে কিছুক্ষণের জন্য স্ক্যান বন্ধ রাখতে হয়েছিল।   চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন এই ক্যাফেরাটা দম্পতি। আইভিএফের মাধ্যমে স্থাপিত ভ্রূণের পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট দুটি ভ্রূণও জরায়ুতে সফলভাবে প্রতিস্থাপিত হয়। এরপর এর মধ্যে একটি ভ্রূণ বিভক্ত হয়ে অভিন্ন যমজে পরিণত হয়। গর্ভাবস্থার সময়টি স্টারলিনের জন্য মোটেও সহজ ছিল না।   মাত্র ১৭ সপ্তাহেই তাঁর শরীর এতটাই ভারী হয়ে গিয়েছিল যে মনে হচ্ছিল তিনি ৪১ সপ্তাহের গর্ভবতী। শারীরিক নানা জটিলতায় তাঁকে পুরোপুরি বিছানায় বিশ্রামে থাকতে হয়। অবশেষে গর্ভাবস্থার ৩১ সপ্তাহে তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান—লেনন, ফ্রান্সেসকা, স্টেলা এবং এনজোর জন্ম দেন স্টারলিন।   বর্তমানে এই দম্পতির প্রথম সন্তান জোয়ির বয়স আট বছর এবং চার জমজ সন্তানের বয়স পাঁচ। সাত সদস্যের এই বড় পরিবারটি এখন এক ছাদের নিচে আনন্দে সময় কাটাচ্ছে। একসঙ্গে নতুন নতুন রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া থেকে শুরু করে নানা জায়গায় ভ্রমণ—সব মিলিয়ে দারুণ এক জীবন উপভোগ করছেন তাঁরা। স্টারলিন জানান, তাঁর এই চার সন্তান একে অপরের ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ বা সেরা বন্ধু হিসেবেই বেড়ে উঠছে, যা দেখে বাবা-মা হিসেবে তাঁরা এক অন্যরকম প্রশান্তি পান।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের বেড়ে ওঠার পরিবেশের সূচকে শীর্ষে টেক্সাসের ফ্রিসকো
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের বেড়ে ওঠার পরিবেশের সূচকে শীর্ষে টেক্সাসের ফ্রিসকো, বাফেলো ৯৯তম

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের শিক্ষা, আর্থিক অবস্থা ও বসবাসের পরিবেশ নিয়ে তৈরি একটি বেসরকারি সূচকে প্রথম হয়েছে টেক্সাসের ফ্রিসকো। দ্বিতীয় স্থানে একই অঙ্গরাজ্যের প্লানো এবং তৃতীয় স্থানে ক্যালিফোর্নিয়ার আরভাইন। প্রথম চার শহরের তিনটিই টেক্সাসের।    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষায়িত কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রোকেয়ার থেরাপি গত ৯ সেপ্টেম্বর ‘২০২৬ আমেরিকাস চাইল্ডহুড ওয়েল-বিয়িং ইনডেক্স’ প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রের জনবহুল ১০০টি শহর নিয়ে তৈরি এই সূচকে মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর জনসংখ্যার হিসাব ও সিটি হেলথ ড্যাশবোর্ডের আর্কাইভ করা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।    মূল্যায়নে পাঁচটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো স্কুলে দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতি, শিশুদারিদ্র্য, বাসাবাড়িতে সিসার সংস্পর্শের ঝুঁকি, পার্কে যাওয়ার সুযোগ এবং তৃতীয় শ্রেণির পড়ার দক্ষতা। প্রতিটি বিষয়ের স্কোর মিলিয়ে শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।   ফ্রিসকো পেয়েছে ১০০-এর মধ্যে ৮৯ দশমিক ৮। প্রতিবেদনে ব্যবহৃত হিসাবে শহরটির শিশুদারিদ্র্যের হার ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং স্কুলে দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অবস্থাসহ একাধিক ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভালো ফল শহরটিকে এগিয়ে রেখেছে।   চতুর্থ স্থানে রয়েছে টেক্সাসের ম্যাককিনি। পঞ্চম থেকে দশম অবস্থানে পর্যায়ক্রমে রয়েছে অ্যারিজোনার চ্যান্ডলার, আইডাহোর বোইসি, ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে, ভার্জিনিয়ার চেসাপিক, নেভাডার হেন্ডারসন ও ক্যালিফোর্নিয়ার চুলা ভিস্তা।   নিউইয়র্ক সিটির অবস্থান ৩৯তম। বস্টন রয়েছে ৮৮তম, শিকাগো ৮৯তম এবং ফিলাডেলফিয়া ৯৪তম স্থানে। বাফেলো ৯৯তম এবং ডেট্রয়েট সর্বশেষ। প্রকাশক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, নিচের অবস্থানে থাকার অর্থ কোনো শহরে শিশুদের ভালোভাবে বেড়ে ওঠা অসম্ভব, এমন নয়।   সিটি হেলথ ড্যাশবোর্ডের সংজ্ঞা অনুযায়ী, শিক্ষাবর্ষের অন্তত ১০ শতাংশ দিন স্কুলে না যাওয়াকে দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতি ধরা হয়। পার্কে যাওয়ার সুযোগ বলতে বোঝানো হয়েছে বাসা থেকে ১০ মিনিট হাঁটার দূরত্বে জনসাধারণের ব্যবহারযোগ্য পার্ক থাকা। অন্যদিকে সিসার সংস্পর্শের ঝুঁকি নির্ধারণে বাড়ির বয়স ও দারিদ্র্যের তথ্য ব্যবহার করা হয়। এটি শিশুদের রক্তে সিসা শনাক্ত হওয়ার হিসাব নয়।   সূচকটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ২১টি শহরের সম্পূর্ণ তথ্য না পাওয়ায় সেগুলোর ক্ষেত্রে উপলব্ধ শহরগুলোর মধ্যক মান বসানো হয়েছে। এসব শহরকে মূল তুলনামূলক বিশ্লেষণ থেকে বাদ রাখা হয়েছে। ব্যবহৃত প্রতিটি তথ্যের বছরও প্রকাশিত পদ্ধতিবিবরণীতে আলাদাভাবে উল্লেখ নেই। ফলে এটি নির্বাচিত কয়েকটি বিষয়ের তুলনামূলক চিত্র, শিশুদের জীবনমানের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন নয়।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ শহর ফ্রিসকো
শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও বিকাশে এগিয়ে যেসব মার্কিন শহর, তালিকায় শীর্ষে ফ্রিসকো

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও সামগ্রিক বিকাশের জন্য কোন শহরগুলো তুলনামূলকভাবে ভালো, তা নিয়ে প্রকাশিত নতুন এক সূচকে শীর্ষস্থান দখল করেছে টেক্সাসের ফ্রিসকো। ২০২৬ সালের ‘আমেরিকা’স চাইল্ডহুড ওয়েল-বিইং ইনডেক্স’ অনুযায়ী, শিশুদের জীবনমানের বিভিন্ন সূচকে ভালো অবস্থানে রয়েছে টেক্সাসের একাধিক শহর। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে টেক্সাসের প্লানো এবং তৃতীয় স্থানে ক্যালিফোর্নিয়ার আরভাইন। চতুর্থ স্থানে রয়েছে টেক্সাসের ম্যাককিনি। শিশুদের জন্য বসবাসের পরিবেশ মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বৃহৎ শহরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সূচক তৈরি করা হয়েছে। এতে শিশুদের শিক্ষা, আর্থিক অবস্থা, পরিবেশ ও সামাজিক কল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কিত পাঁচটি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলো হলো স্কুলে নিয়মিত উপস্থিতি, শিশুদের দারিদ্র্যের হার, বাসাবাড়িতে সিসার সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সবুজ জায়গা ও পার্কে প্রবেশের সুযোগ এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতা। সূচকটির ফলাফলে শহরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। কিছু শহর একাধিক ক্ষেত্রে ভালো ফল করলেও অন্য শহরগুলোতে অর্থনৈতিক সংকট, স্কুলে অনুপস্থিতি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে পড়ার দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ফ্রিসকো ১০০-এর মধ্যে ৮৯ দশমিক ৮ স্কোর নিয়ে প্রথম হয়েছে। শহরটির শিশুদের মধ্যে মাত্র ৩ দশমিক ৯ শতাংশ ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে, যা বিশ্লেষণ করা শহরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। স্কুলে দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির হারও তুলনামূলকভাবে কম, মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। পাশাপাশি বাসাবাড়িতে সিসার সংস্পর্শে আসার ঝুঁকির সূচকে শহরটি সর্বনিম্ন ঝুঁকির শ্রেণিতে রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতার হারও এখানে সর্বোচ্চ—৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফ্রিসকো প্রথম নয়। শহরটির ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাসিন্দা ১০ মিনিটের হাঁটার দূরত্বের মধ্যে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সবুজ জায়গায় পৌঁছাতে পারেন। কিছু শহরে এই সুবিধা আরও বেশি। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে ভালো অবস্থানে থাকলেও শিশুদের জন্য পার্ক ও সবুজ জায়গায় প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর অবকাশ রয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্লানোর স্কোর ৮৯ দশমিক ৬। শহরটিতে শিশুদের দারিদ্র্যের হার ৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতার হার ৮৩ দশমিক ১ শতাংশ। চতুর্থ স্থানে থাকা ম্যাককিনির স্কোর ৮২ দশমিক ৬। সেখানে শিশুদের দারিদ্র্যের হার ৮ দশমিক ৮ শতাংশ এবং পড়ার দক্ষতার হার ৮৫ দশমিক ১ শতাংশ। শীর্ষ ১০ শহরের তালিকায় আরও রয়েছে অ্যারিজোনার চ্যান্ডলার, আইডাহোর বয়েস সিটি, ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে, ভার্জিনিয়ার চেসাপিক, নেভাদার হেন্ডারসন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার চুলা ভিস্তা। তালিকায় যথাক্রমে তাদের অবস্থান পঞ্চম থেকে দশম। টেক্সাসের শহরগুলোর সামগ্রিক অবস্থানও উল্লেখযোগ্য। সম্পূর্ণ পর্যবেক্ষণযোগ্য তথ্য থাকা শহরগুলোর মধ্যে রাজ্যটির আটটি শহর শীর্ষ ২০-এ স্থান পেয়েছে। ফ্রিসকো, প্লানো ও ম্যাককিনির পাশাপাশি অস্টিন ১১তম, আরভিং ১২তম, আরলিংটন ১৫তম, করপাস ক্রিস্টি ১৯তম এবং গারল্যান্ড ২০তম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, সূচকের একেবারে নিচে রয়েছে মিশিগানের ডেট্রয়েট। ১০০-এর মধ্যে শহরটির স্কোর মাত্র ১৫ দশমিক ৬। সেখানে শিশুদের দারিদ্র্যের হার ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ, অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি শিশু ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। স্কুলে দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির হার ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ, যা বিশ্লেষণ করা শহরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতার হার মাত্র ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। বাসাবাড়িতে সিসার সংস্পর্শে আসার ঝুঁকির দিক থেকেও শহরটি সর্বোচ্চ ঝুঁকির শ্রেণিতে রয়েছে। ডেট্রয়েটের পর নিচের দিকের পাঁচটি শহরের তালিকায় রয়েছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো, ওহাইওর ক্লিভল্যান্ড, সিনসিনাটি ও কলম্বাস। অর্থাৎ, সবচেয়ে নিচে থাকা পাঁচটি শহরের মধ্যে তিনটিই ওহাইওতে অবস্থিত। তবে ডেট্রয়েটের বাসিন্দাদের ৮১ শতাংশেরও বেশি ১০ মিনিটের হাঁটার দূরত্বে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সবুজ জায়গায় পৌঁছাতে পারেন। এতে বোঝা যায়, একটি শহরের সামগ্রিক অবস্থান নির্ধারণে শুধু একটি সুবিধা নয়, একাধিক বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। এই সূচক তৈরিতে পাঁচটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সূচকের ফলাফল ০ থেকে ১০০-এর মধ্যে রূপান্তর করে গড় স্কোরের ভিত্তিতে শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্লেষণে ব্যবহৃত কিছু শহরের তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় সেগুলোর ক্ষেত্রে মধ্যম মান ব্যবহার করা হয়েছে; তাই সেসব শহরের অবস্থান সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সূচকটি মূলত শিশুদের বেড়ে ওঠার সঙ্গে সম্পর্কিত শহরভিত্তিক পরিবেশ ও সুযোগের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে। এটি কোনো শহরের প্রতিটি শিশুর ব্যক্তিগত জীবনমানের মূল্যায়ন নয়। তবে শিক্ষা, আর্থিক স্থিতিশীলতা, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং খেলার জায়গায় প্রবেশের সুযোগ শিশুদের বিকাশে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে এই তথ্য সহায়ক হতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসের মন্দিরে নবরাত্রি উৎসব,
টেক্সাসের মন্দিরে নবরাত্রি উৎসব, প্রার্থনা ও নাচে শত শত মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফ্রিসকো শহরে নবরাত্রি উৎসবের এক সন্ধ্যায় শত শত মানুষ জড়ো হন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে কার্য সিদ্ধি হনুমান মন্দিরে তাঁরা প্রার্থনা, গান ও নাচে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন শিশু, অভিভাবক, প্রবীণ ও কলেজশিক্ষার্থীরা।    ওই রাতে উৎসবের নির্ধারিত রং ছিল কমলা। উজ্জ্বল কমলা রঙের পোশাকে মন্দিরে আসেন অনেক অংশগ্রহণকারী। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রিসকোর এই মন্দিরে নবরাত্রির প্রতিটি রাতের জন্য আলাদা রং ও দেবীর ভিন্ন রূপ নির্ধারিত থাকে।   নবরাত্রি দেবীর আরাধনাকে কেন্দ্র করে পালিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসব। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি পরিবার ও সম্প্রদায়ের সদস্যদের একত্র হওয়া এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য তুলে ধরারও সুযোগ তৈরি করে এ আয়োজন।   মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ফ্রিসকোতে এ বছরের দেবী নবরাত্রি মহোৎসব চলছে ১১ থেকে ২০ অক্টোবর। সূচিতে সন্ধ্যার পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। 

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে গ্রাহকদের তিন লাখ ডলারের বেশি আত্মসাতের মামলায় ঠিকাদার জেরেমি জেরড জেনোকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
রিফর্মেশন কাজে গ্রাহকদের ৩ লাখ ডলারের বেশি আত্মসাৎ, ঠিকাদারের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নির্মাণ ও সংস্কারকাজের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে তিন লাখ ডলারের বেশি নিয়ে আত্মসাতের মামলায় এক ঠিকাদারকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জেরেমি জেরড জেনো নামের ওই ব্যক্তি ট্যারান্ট কাউন্টিতে চুরির অভিযোগে দোষ স্বীকার করার পর শুক্রবার, ৯ অক্টোবর তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়।    ফক্স ৪ ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থের প্রতিবেদনে পুলিশের বরাতে বলা হয়েছে, জেনো গ্রাহকদের কাছ থেকে চেক নিয়ে নগদ অর্থ তুলে নিতেন। পরে কাজ এগিয়ে নেওয়ার বদলে নানা অজুহাত দেখাতেন এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতেন। তিনি বিভিন্ন ছদ্মনামও ব্যবহার করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।   ২০২৪ সালে টেরি স্টিভেনসন নামের এক গ্রাহক বেনব্রুক পুলিশ বিভাগে অভিযোগ করলে তদন্ত শুরু হয়। স্টিভেনসনের ভাষ্য, একটি ভবনের সংস্কারকাজের জন্য তিনি জেনোকে ৪০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন। কাজ সামান্য এগোনোর পরই জেনো যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। বারবার নির্মাণসামগ্রী আসার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা আসেনি।    অন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আর্লিংটনের লি রবিনসন আলভারাডোয় নির্মাণকাজের জন্য ৩৫ হাজার ডলার হারানোর কথা জানিয়েছেন। ডালাসের একটি প্রতিষ্ঠানের সেলভিন রোসা বলেছেন, হুড কাউন্টিতে একটি বাড়ির ভিত্তি নির্মাণ করেও তিনি পাওনা পাননি।   প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, হুড কাউন্টিতে একই ধরনের অপরাধের মামলায় আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় এবং ট্যারান্ট কাউন্টির মামলায় জামিনে থেকেও জেনো একই কার্যক্রম চালিয়ে যান। ফক্স ৪ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা তাঁদের অর্থ ফেরত পাননি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে নিদাল হাসানের মৃ ত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে না, পরিকল্পনা থেকে সরে এলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে নিদাল হাসানের মৃ ত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে না, পরিকল্পনা থেকে সরে এলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালানো নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার (লাইভস্ট্রিম) করার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা রয়েছে।   ট্রাম্প জানিয়েছেন, সাধারণ ও ‘ভালো মনের মানুষ’ এ ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য দেখতে চান না বলেই এটি জনসমক্ষে সম্প্রচার করা হবে না। তবে ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বরের ওই মর্মান্তিক হামলায় নিহতদের পরিবার এবং ভুক্তভোগীরা চাইলে বিশেষ ব্যবস্থায় এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য দেখতে পারবেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কেমন আচরণ করে তা বিশ্ববাসীকে দেখাতে এই সরাসরি সম্প্রচার একটি জোরালো সতর্কবার্তা হতে পারত। কিন্তু অনেক ভালো মনের মানুষ কোনো ডিভাইসের মাধ্যমে এই দৃশ্য দেখতে ইচ্ছুক নন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমেই নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, তবে তা সম্প্রচারিত হবে না।   এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন ‘সেক্রেটারি অব ওয়ার’ পিট হেগসেথ নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি জনসমক্ষে সম্প্রচারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তার ওই ঘোষণার পরপরই ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য, ১৯৩০-এর দশকের পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আর কোনো নজির নেই।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসে মেক্সিকো সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদারে আট হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাস সীমান্তে আট হাজারের বেশি সেনা, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে জোরদার অভিযান

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মেক্সিকো সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করতে আট হাজারের বেশি সেনা মোতায়েনের পর রিও গ্র্যান্ডে নদীসংলগ্ন কিছু এলাকায় অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের তৎপরতা কমেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে সীমান্ত পরিস্থিতি, সামরিক উপস্থিতি এবং অভিযানটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে। টেক্সাসের রোমা এলাকায় সেনাসদস্য, সীমান্তরক্ষী এবং কোস্ট গার্ডের সদস্যরা নজরদারি কার্যক্রম চালাচ্ছেন। অভিযানে নজরদারি প্রযুক্তি, বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা এবং সীমান্ত পর্যবেক্ষণব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। মাদক ও মানব পাচার ঠেকানো এই অভিযানের অন্যতম ঘোষিত উদ্দেশ্য। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সীমান্তে সেনা উপস্থিতি বাড়ানো এবং মেক্সিকোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করার ফলে অবৈধ পারাপার প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মেক্সিকো সীমান্তসংলগ্ন তামাউলিপাস এলাকায় ৫০০ সেনা পাঠিয়েছে। তবে সীমান্তে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের একাংশ মনে করছেন, অবৈধ পারাপার কমার পেছনে আগের প্রশাসনের আশ্রয়প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতিও ভূমিকা রেখেছে। ফলে সেনা মোতায়েনের কারণে কতটা পরিবর্তন এসেছে, তা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা কঠিন।   মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সীমান্ত নিরাপত্তা রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। রিপাবলিকান প্রশাসন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণকে তাদের নীতির সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে, সমালোচকেরা সামরিক ব্যয়ের যৌক্তিকতা, মানবিক প্রভাব এবং অভিযানের প্রকৃত ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী ও বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও অভিবাসননীতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সীমান্তে সেনা মোতায়েনের এই খবরকে সরাসরি বৈধ ভিসাধারী বা স্থায়ী বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। নির্দিষ্ট অভিবাসন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসে তরুণদের নতুন গন্তব্য
জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ে ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ছেন তরুণেরা, সবচেয়ে বেশি যাচ্ছেন টেক্সাসে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অন্য রাজ্যে পাড়ি জমাচ্ছেন জেনারেশন জেড বা জেন জি প্রজন্মের তরুণেরা। তাঁদের বড় একটি অংশের গন্তব্য টেক্সাস। জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসনের খরচ এবং নতুন জায়গায় বসবাসের সুযোগ নিয়ে বাড়তে থাকা আলোচনার মধ্যে প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে তরুণদের এই স্থানান্তরের চিত্র উঠে এসেছে।   ২০২৪ সালের জনসংখ্যা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওই বছর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ৫৮ হাজার ১০৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক জেন জি অন্য রাজ্যে চলে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো রাজ্য থেকে এই প্রজন্মের মানুষের অন্যত্র চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংখ্যাটি সর্বোচ্চ। তাঁদের মধ্যে ১৯ হাজার ২৮৭ জন পাড়ি জমিয়েছেন টেক্সাসে। অর্থাৎ, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়া তরুণদের জন্য টেক্সাস ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য। তবে শুধু ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে যাওয়ার হিসাব দেখলেই পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তরুণদের রাজ্য পরিবর্তনের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক জেন জি নিজ রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে অথবা ওয়াশিংটন ডিসিতে চলে গেছেন। এই সংখ্যা দেশটির ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী জেন জি জনগোষ্ঠীর প্রায় ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ, এই বয়সী প্রায় প্রতি চারজনের একজন ওই বছর রাজ্য বদলেছেন। নিট স্থানান্তরের হিসাবে জেন জিদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় রাজ্য ছিল সাউথ ক্যারোলাইনা। সেখানে যতজন তরুণ এসেছেন, চলে গেছেন তার চেয়ে অনেক কম। ফলে রাজ্যটিতে এই প্রজন্মের মানুষের নিট সংখ্যা বেড়েছে ২২ হাজার ৮৪৩ জন। অন্যদিকে, টেক্সাসে তরুণদের আসা-যাওয়া—দুটিই বেশি হলেও রাজ্যটিতে নিট সংখ্যা বেড়েছে ১০ হাজার ৭২০ জন। এই হিসাবে টেক্সাসের অবস্থান ছিল সপ্তম। নিউইয়র্কও তরুণদের আকর্ষণ ধরে রেখেছে। ২০২৪ সালে রাজ্যটিতে জেন জি প্রজন্মের মানুষের নিট সংখ্যা বেড়েছে ৮ হাজার ৬১ জন। বিপরীতে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ জার্সি ও ইলিনয়েসসহ কয়েকটি রাজ্যে এই বয়সী মানুষের সংখ্যা কমেছে। জেন জিদের রাজ্য বদলের প্রবণতা আগের প্রজন্মগুলোর তুলনায়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মিলেনিয়ালদের ১৪ শতাংশ অন্য রাজ্যে চলে গেছেন। জেনারেশন এক্সের ক্ষেত্রে এই হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ এবং বেবি বুমারদের ক্ষেত্রে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ, রাজ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে জেন জির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। টেক্সাসে তরুণদের আগমন অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। চলতি বছর প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট একটি স্থানান্তর-তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে টেক্সাসে ৫ হাজার ৮১ জন জেন জি এসেছেন, বিপরীতে রাজ্যটি ছেড়েছেন ৩ হাজার ৫৫৫ জন। ফলে সেখানে নিট আগমন হয়েছে ১ হাজার ৫২৬ জনের। ওই বিশ্লেষণে অস্টিন, হিউস্টন ও ডালাস মহানগর এলাকাকে নতুন তরুণ বাসিন্দাদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে মানুষের স্থানান্তরও দীর্ঘদিনের প্রবণতা। ২০২৩ সালে এক লাখের বেশি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা টেক্সাসে চলে গিয়েছিলেন বলে আগের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছিল। একই সময়ে টেক্সাস থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় যাওয়ার তুলনায় উল্টো পথে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল দ্বিগুণেরও বেশি। ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয়, বিশেষ করে আবাসনের খরচ, গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। সিলিকন ভ্যালি ও সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে করা এক জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৮০১ জন প্রাপ্তবয়স্কের ৪৬ শতাংশ বলেছেন, বাড়ির উচ্চমূল্যের কারণে তাঁরা ওই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার চাপ অনুভব করছেন। আগের বছরের তুলনায় এই হার ৩ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আঞ্চলিক গবেষণা সংস্থা জয়েন্ট ভেঞ্চার সিলিকন ভ্যালির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী রাসেল হ্যানকক বলেছেন, আবাসনসংকট ও জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ই মানুষকে ওই অঞ্চল ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করছে। তাঁর মতে, মৌলিক আবাসনসমস্যার সমাধান করতে না পারার বিষয়টি বাসিন্দাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসন ব্যয়ের প্রভাব দারিদ্র্যের হিসাবেও দেখা যাচ্ছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, দেশটির রাজ্যগুলোর মধ্যে আবাসন ব্যয়জনিত দারিদ্র্যের হারে ক্যালিফোর্নিয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। রাজ্যটিতে বাড়ি কেনা ও ভাড়া নেওয়ার অত্যধিক খরচ সামগ্রিক দারিদ্র্যের ৩৪ শতাংশ এবং শিশুদের দারিদ্র্যের ৪২ শতাংশের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান থেকে বলা যায় না যে কেবল আবাসন ব্যয়ের কারণেই সব তরুণ ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ছেন। পড়াশোনা, চাকরি, ব্যক্তিগত পছন্দ ও অন্যান্য কারণও স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে। তা সত্ত্বেও, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে বিপুলসংখ্যক তরুণের চলে যাওয়া এবং টেক্সাসে তাঁদের উল্লেখযোগ্য অংশের নতুন ঠিকানা খোঁজা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হয়ে উঠেছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসে শিশুদের অটিজম থেরাপি কর্মসূচি বন্ধের প্রস্তাব
বিনা খরচে অটিজম থেরাপির সুযোগ হারানোর শঙ্কায় টেক্সাসের শত শত পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে শিশুদের অটিজম চিকিৎসায় সহায়তা দেওয়া একটি সরকারি কর্মসূচির অর্থায়ন পুরোপুরি বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা কমিশন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে স্বল্প আয়ের অনেক পরিবার বিনা খরচে বা কম খরচে যে থেরাপি পেয়ে আসছে, তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে উদ্বেগে পড়েছেন অভিভাবক, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী এবং অটিজম নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।   টেক্সাসের ৭ বছর বয়সী ইসরায়েল সোলিসের জীবনেই এই কর্মসূচির গুরুত্ব স্পষ্ট। অটিজম নিয়ে জন্ম নেওয়া ইসরায়েল আগে কথা বলে নিজের চাহিদা বোঝাতে পারত না। অন্যরা তার প্রয়োজন বুঝতে না পারলে হতাশায় সে নিজেকে কামড়াত বা আঁচড় দিত। তবে সরকারি সহায়তায় পরিচালিত একটি কর্মসূচির আওতায় থেরাপি নেওয়ার পর তার যোগাযোগের সক্ষমতায় পরিবর্তন এসেছে। হিউস্টনের থেরাপি প্রদানকারীদের কাছ থেকে শেখা ছবি ব্যবহার করে এখন সে নিজের চাহিদা বোঝাতে পারে। ইসরায়েলের মা এলিজাবেথ সোলিসের আরেক ছেলেও একই কর্মসূচির আওতায় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন–ক্লিয়ার লেকের অটিজম ও বিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতা কেন্দ্রে পরিচালিত এই সেবার জন্য পরিবারটিকে কোনো অর্থ দিতে হয় না। কর্মসূচিটি বন্ধ হয়ে গেলে সন্তানদের চিকিৎসা কীভাবে চালিয়ে যাবেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এলিজাবেথ। তাঁর আশঙ্কা, সহায়তা পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেলে সন্তানদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। টেক্সাসের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা কমিশন ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে ‘চিলড্রেনস অটিজম প্রোগ্রাম’ বা শিশুদের অটিজম কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ পুরোপুরি বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। অর্থাৎ, কর্মসূচিটি বন্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তবে এটি ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে যায়নি। ২০০৮ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় টেক্সাসজুড়ে ১৬টি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অটিজম থাকা শিশুদের বিশেষায়িত আচরণগত থেরাপি দেওয়া হয়। পরিবারের আয় ও বিমা-সুবিধা বিবেচনা করে সেবার খরচ নির্ধারণ করা হয়। কর্মসূচির আওতায় একটি শিশু সারা জীবনে সর্বোচ্চ ৭২০ ঘণ্টা অ্যাপ্লায়েড বিহেভিয়ার অ্যানালাইসিস বা এবিএ থেরাপি পাওয়ার যোগ্য। অটিজমের চিকিৎসায় এই পদ্ধতিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও সেবাদানকারীরা। গত দুই বছরে কর্মসূচিটির পেছনে অঙ্গরাজ্য সরকার ১ কোটি ৩৭ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। চলতি বছর কর্মসূচির আওতা আরও বাড়ানো হয়েছিল। বয়সসীমা বাড়িয়ে ২১ বছর পর্যন্ত করা হয় এবং বছরে থেরাপি নেওয়ার ঘণ্টার নির্ধারিত সীমাও তুলে দেওয়া হয়। ২০২৬ অর্থবছরে এই কর্মসূচির অর্থায়নে ৫৮৩টি শিশু চিকিৎসা পেয়েছে। কিন্তু সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যজুড়ে আরও অন্তত এক হাজার শিশু অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে। টেক্সাসের অটিজম সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক জ্যাকুই বেনেস্তান্তে বলেছেন, বাজেট প্রস্তাবে কর্মসূচিটির জন্য বরাদ্দের জায়গাটি ফাঁকা দেখে তাঁরা বিস্মিত হয়েছেন। তাঁর মতে, অর্থায়ন ধরে রাখতে আগে থেকেই লড়াই করতে হয়েছে, কিন্তু একটি চলমান কর্মসূচি পুরোপুরি বাতিল করার প্রস্তাব তাঁদের জন্য বড় ধাক্কা। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে অঙ্গরাজ্যের বাজেট কমানোর উদ্যোগ। গত জুলাইয়ে গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট, লেফটেন্যান্ট গভর্নর ড্যান প্যাট্রিক এবং প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ডাস্টিন বারোজ পরবর্তী দুই বছরের জন্য বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, আপিল আদালত ও বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যয় ৩ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা কমিশনও সেই নির্দেশনার আওতায় ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা করেছে। কর্মসূচিটি বাদ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কমিশনের কর্মকর্তারা ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁদের নথিতে বলা হয়েছে, সেবাগ্রহীতাদের ওপর সরাসরি প্রভাব যতটা সম্ভব কম রাখা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়নে প্রভাব এড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে একই বাজেট প্রস্তাবে কমিশন স্বীকার করেছে, অটিজম থেরাপির চাহিদা যোগ্য সেবাদানকারীদের সক্ষমতার চেয়ে বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা পাওয়া কঠিন। অটিজম চিকিৎসার ক্ষেত্রে মেডিকেইডের আওতা বাড়লেও সব পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত সেবা নিশ্চিত হয়নি। ২০২২ সালে ২০ বছর বা তার কম বয়সীদের জন্য মেডিকেইডের আওতায় এবিএ থেরাপির সুবিধা যুক্ত হয়। ফলে অঙ্গরাজ্যের আলাদা কর্মসূচিটি অপ্রয়োজনীয় মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে অনেক পরিবার এখনো এই সুবিধার বাইরে রয়ে গেছে। যেসব পরিবারের বিমা নেই কিংবা যাদের বিমা নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত পরিকল্পনার আওতায়, তাদের ক্ষেত্রে এবিএ থেরাপির খরচ বিমা থেকে নাও পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, মেডিকেইডে সুবিধা থাকলেও কম অর্থ পরিশোধের কারণে অনেক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এই বিমার আওতাভুক্ত রোগীদের নিতে আগ্রহী হয় না। ফলে সরকারি কর্মসূচিটি এমন পরিবারগুলোর জন্য বিকল্প পথ তৈরি করেছে, যারা অন্য কোনোভাবে থেরাপি পাচ্ছে না। টেক্সানস উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ জোটের অ্যাডভোকেসি পরিচালক জোলিন পোলের মতে, কর্মসূচি বন্ধ না করে বরং অর্থায়ন বাড়িয়ে অপেক্ষমাণ শিশুদের সেবা দেওয়া উচিত। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে ভবিষ্যতে পরিবার ও অঙ্গরাজ্য—উভয়ের ওপরই বেশি চাপ তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে পাঁচ বছর বয়সী লিলা রদ্রিগেজের মা এমিলি পেনারও। মেডিকেইড থাকলেও মেয়ের জন্য থেরাপি প্রদানকারী খুঁজে পেতে তাঁকে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। পরে তিনি ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন–ক্লিয়ার লেকের অটিজম কেন্দ্রে কর্মসূচিটির আওতায় সেবা পাওয়ার সুযোগ খুঁজে পান। লিলা যখন প্রথম অটিজম শনাক্ত হয়, তখন সে কথা বলতে পারত না এবং প্রি-কে শ্রেণিতেও সমস্যায় পড়ত। থেরাপির মাধ্যমে ইতিবাচক আচরণকে উৎসাহিত করা হয়। যেমন, ট্যাবলেট ব্যবহারের সময় শেষ হলে লিলা ভেঙে পড়ত। তখন থেরাপিস্টরা স্লাইমের মতো পছন্দের জিনিস ব্যবহার করে তাকে অন্য কাজে মনোযোগী করতেন, যাতে একটি কাজ থেকে অন্য কাজে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তার কাছে ইতিবাচক হয়। জুনে কর্মসূচি থেকে সেবা শেষ করার আগে লিলা সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন সেখানে থেরাপি নিত। পেনার মতে, এই সহায়তা তাঁর মেয়েকে তুলনামূলক স্বাভাবিক শৈশব কাটানোর সুযোগ দিয়েছে। জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ বছরে শিশুদের মধ্যে অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার শনাক্তের হার ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে থেরাপির চাহিদাও বাড়ছে। টেক্সাসে এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত সেবার জন্য অপেক্ষা করতে হয় সপ্তাহ নয়, বরং বছরের পর বছর। ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন–ক্লিয়ার লেকের অটিজম কেন্দ্রটি ২০০৮ সালে কর্মসূচি চালুর পর থেকেই এর আওতায় সেবা দিয়ে আসছে। কেন্দ্রটির পরিচালক ডরোথিয়া লারম্যান জানান, গত বছর কর্মসূচিসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ৪১টি পরিবারকে থেরাপি দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ২০০ পরিবার অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে। তাঁর ভাষায়, কর্মসূচি বন্ধ হলে এসব পরিবারের বড় অংশের জন্য অন্য কোনো সেবার ব্যবস্থা থাকবে না। এতে শিশুদের পাশাপাশি পুরো পরিবারের দৈনন্দিন জীবনেও বড় প্রভাব পড়তে পারে—দোকানে যাওয়া, রেস্তোরাঁয় খাওয়া কিংবা সরকারি স্কুলে মানিয়ে নেওয়ার মতো কাজও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তিন বছর বয়সী মাইকা অর্টিজের মা হেইলি জনসনের অভিজ্ঞতাও একই রকম। ১৮ মাস বয়সে মাইকার অটিজম শনাক্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচির আওতায় কয়েক মাস থেরাপি নেওয়ার পর তার যোগাযোগের দক্ষতা বেড়েছে এবং অতিরিক্ত রাগ বা আক্রমণাত্মক আচরণ কমেছে বলে জানান জনসন। বর্তমানে মাইকা আবারও সেবা পাওয়ার অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে। কর্মসূচিটি বন্ধের প্রস্তাবে হতাশ জনসন বলেন, অটিজম থাকা শিশুদের পরিবার এমনিতেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে থাকে। প্রয়োজনীয় সহায়তার সুযোগ সীমিত হওয়ায় এই কর্মসূচি তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আইনপ্রণেতারা প্রস্তাবটি অনুমোদন করলে বর্তমান কর্মসূচির আওতায় থাকা শিশুরা ২০২৭ সালের আগস্টের শেষ পর্যন্ত সেবা পাবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা কমিশন। এর মধ্যে বিকল্প অর্থায়ন নিশ্চিত করা না গেলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোকে তাদের কর্মসূচি বন্ধ করতে হতে পারে। ফলে টেক্সাসের বহু পরিবারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বর্তমান সহায়তা বন্ধ হয়ে গেলে সন্তানদের প্রয়োজনীয় থেরাপি কোথা থেকে পাওয়া যাবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ফি ছাড়াই আবেদন করার বিশেষ সুযোগ
টেক্সাসে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিনা ফিতে কলেজে আবেদনের সুযোগ, যেভাবে আবেদন করবেন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ফি ছাড়াই আবেদন করার বিশেষ সুযোগ পাচ্ছেন যোগ্য শিক্ষার্থীরা। ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচি চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে যোগ্য টেক্সাসের বাসিন্দারা রাজ্যের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষাক্রমে আবেদন করতে পারবেন বিনা আবেদন ফিতে।   টেক্সাসের উচ্চশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের আর্থিক বাধা কমানো এবং আরও বেশি শিক্ষার্থীকে কলেজে আবেদন করতে উৎসাহিত করা। বিশেষ করে যাঁরা একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে চান, তাঁদের জন্য এটি অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।   টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এই কর্মসূচিতে দুই লাখ ষাট হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। এবারও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এই সুবিধা গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   কারা আবেদন করতে পারবেন?   এই কর্মসূচির আওতায় টেক্সাসের বাসিন্দা হিসেবে যোগ্য শিক্ষার্থীরা রাজ্যের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষাক্রমে আবেদন করতে পারবেন। প্রথমবার কলেজে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্থানান্তরিত হয়ে ভর্তি হতে আগ্রহীরাও এই সুযোগ পেতে পারেন।   আবেদনকারীর টেক্সাসের বাসিন্দা হিসেবে যোগ্যতা যাচাই করা হবে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা কিংবা টেক্সাসে পড়াশোনা করার কারণে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধার যোগ্য হবেন না।   কর্মসূচিটি মূলত স্নাতক পর্যায়ের আবেদনের জন্য। সাধারণ নিয়মে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের আবেদন এই ফি মওকুফের আওতায় পড়ে না। তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব উদ্যোগে অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে।   কীভাবে আবেদন করবেন?   শিক্ষার্থীদের প্রথমে ApplyTexas ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে অথবা বিদ্যমান অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে। এরপর পছন্দের কলেজ, শিক্ষাবিষয় এবং ভর্তির সময় নির্বাচন করে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।   আবেদনে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রতিষ্ঠানের চাওয়া অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। সব তথ্য যাচাই করে আবেদনটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে।   ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট সেন্ট্রাল ডে-লাইট টাইমের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, শেষ সময়টি হবে ১৯ অক্টোবর সকাল ১০টা ৫৯ মিনিট। আবেদন তৈরি করে রেখে দিলে হবে না; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার প্রমাণ থাকতে হবে।যোগ্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ApplyTexas-এর মাধ্যমে জমা দেওয়া আবেদনের ফি মওকুফ হবে। আবেদনপ্রক্রিয়ায় ফি বা অর্থ পরিশোধের নির্দেশনা দেখা গেলেও যোগ্য আবেদনকারীদের এই সপ্তাহে জমা দেওয়া আবেদনের জন্য অর্থ দিতে হবে না বলে প্ল্যাটফর্মটি জানিয়েছে। আবেদনের ওয়েবসাইট: https://www.applytexas.org/   কত টাকা সাশ্রয় হতে পারে?   কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আবেদন ফি আলাদা। কোনো শিক্ষার্থী একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে চাইলে প্রতিটি আবেদনের জন্য আলাদা ফি দিতে হতে পারে। এই কর্মসূচিতে যোগ্য শিক্ষার্থীরা একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় করতে পারবেন।   তবে সাশ্রয়ের নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত আবেদন ফি এবং শিক্ষার্থী কতটি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন তার ওপর। আবেদন ফি মওকুফের অর্থ এই নয় যে টিউশন ফি, ভর্তি-পরবর্তী অন্যান্য খরচ বা আবাসনের খরচও মওকুফ হবে।   বাংলাদেশি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কী নিয়ম?   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই রাজ্যব্যাপী কর্মসূচি সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত নয়। সুবিধাটি টেক্সাসের বাসিন্দা হিসেবে যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেই কেউ এই সুবিধা পাবেন না।   যাঁরা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যেতে চান অথবা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে আবেদন করতে চান, তাঁদের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আবেদন ফি মওকুফের নিয়ম যাচাই করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আবেদনের ফি, যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের নিয়ম আলাদা হতে পারে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসের বাসিন্দা কিম এরিক স্মিথ
মৃত ছেলের দেহ ভেগাসের জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে, ‘প্রমাণ’ পাওয়ার দাবি মায়ের

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে মানবদেহের একটি প্রদর্শনীতে নিজের মৃত ছেলের দেহ শনাক্ত করেছেন বলে দাবি করেছেন টেক্সাসের বাসিন্দা কিম এরিক স্মিথ। তবে প্রদর্শনী কর্তৃপক্ষ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। পুরোনো আলোকচিত্রেও দেখা গেছে, যে সংরক্ষিত দেহটিকে তিনি ছেলের বলে মনে করছেন, সেটি তাঁর ছেলের মৃত্যুর অন্তত ছয় বছর আগে প্রদর্শনীতে ছিল। ফলে ছেলের মরদেহ খুঁজে পাওয়ার দাবিটি প্রতিষ্ঠিত তথ্যের সঙ্গে মিলছে না।    কিমের ছেলে ক্রিস্টোফার টড এরিক ২০১২ সালের ১০ নভেম্বর টেক্সাসের মিডলোথিয়ানে মারা যান। তাঁর বয়স ছিল ২৩ বছর। ছেলের মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলে আসছেন কিম। পরে লাস ভেগাসের ‘রিয়েল বডিজ’ প্রদর্শনীর একটি সংরক্ষিত মানবদেহের ছবি দেখে সেটিকে নিজের ছেলের দেহ বলে সন্দেহ করেন তিনি।    ২০২৫ সালের নভেম্বরে দ্য সানকে দেওয়া বক্তব্যে কিম বলেন, ছেলের মাথার ডান পাশে যে ধরনের ক্ষত তিনি দেখেছিলেন বলে মনে করেন, প্রদর্শনীর দেহেও একই ধরনের চিহ্ন তাঁর চোখে পড়েছে। ‘দ্য থিংকার’ নামে পরিচিত বসা অবস্থার ওই দেহটির সঙ্গে ছেলের শারীরিক মিল রয়েছে বলে তাঁর দাবি। সন্দেহ দূর করতে তিনি ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন জানিয়েছেন। তবে তাঁর উল্লেখ করা মিলগুলো ছেলের পরিচয় নিশ্চিত করার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।    প্রদর্শনীর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইমাজিন এক্সিবিশনস জানিয়েছে, পরিবারের প্রতি তাদের সহমর্মিতা থাকলেও অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান লিড স্টোরিজকে দেওয়া বক্তব্যে তারা জানায়, সংশ্লিষ্ট দেহটি ২০০৪ সাল থেকে লাস ভেগাসে প্রদর্শিত হচ্ছে। তাই ২০১২ সালে মারা যাওয়া ক্রিস্টোফারের সঙ্গে সেটির সম্পর্ক থাকার সুযোগ নেই।  লিড স্টোরিজ কর্তৃপক্ষের উল্লেখ করা ২০০৪ সালের ছবি খুঁজে পায়নি। তবে গেটি ইমেজেসের সংগ্রহে ২০০৬ সালের ২২ জুন তোলা একটি ছবি শনাক্ত করেছে, যেখানে একই সংরক্ষিত দেহ দেখা যায়। ছবিটি লাস ভেগাসের ট্রপিকানা হোটেলে ‘বডিজ: দ্য এক্সিবিশন’ উদ্বোধনের সময় তোলা হয়েছিল। এই আলোকচিত্রই দেখায়, ক্রিস্টোফারের মৃত্যুর বহু আগে দেহটি প্রদর্শনীতে ছিল।    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু বর্ণনায় বলা হয়েছে, কিম সরাসরি প্রদর্শনীতে গিয়ে ছেলের দেহ চিনতে পারেন। কিন্তু তাঁর প্রকাশিত বক্তব্য পর্যালোচনা করে লিড স্টোরিজ জানিয়েছে, তিনি প্রথমে ২০১৮ সালের একটি সংবাদ প্রতিবেদনের সঙ্গে থাকা ভিডিওতে দেহটি দেখেছিলেন। ২০২৫ সালের মার্চে সেই প্রতিবেদন আবার শেয়ার করেন তিনি। অর্থাৎ ঘটনাটি সাম্প্রতিক কোনো আবিষ্কার নয়।    ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত ক্যাসিনো ডট অর্গের প্রতিবেদনেও অভিযোগটি খণ্ডন করা হয়। সেখানে বলা হয়, ক্রিস্টোফারের দেহ ২০১২ সালেই দাহ করা হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। কিম আগে দাহের বিষয়টি স্বীকার করলেও পরে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ছেলের মৃত্যুর উত্তর খুঁজে পাওয়ার তাঁর চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও প্রদর্শনীর দেহটি ক্রিস্টোফারের বলে দাবি করার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ঘাতকের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারে আপত্তি, ৭ গুলি খেয়েও বেঁচে ফেরা সেনার আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্রে ঘাতকের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারে আপত্তি, ৭ গুলি খেয়েও বেঁচে ফেরা সেনার আহ্বান

আগামী ৩ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে নিদাল হাসানের। ২০০৯ সালে এই সেনাঘাঁটিতেই এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা এবং ৩২ জনকে আহত করেছিলেন তৎকালীন এই আর্মি সাইকিয়াট্রিস্ট।   দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর এখন তার এই দণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে, যা অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন সরকার। তবে এমন ভয়াবহ একটি দৃশ্য লাইভ সম্প্রচারের সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন সেদিন হাসানের ৭টি গুলি খেয়েও প্রাণে বেঁচে ফেরা সাবেক আর্মি স্টাফ সার্জেন্ট আলোনজো লান্সফোর্ড। তিনি এই দণ্ড কার্যকরের পক্ষে থাকলেও, এটিকে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত বিনোদনে পরিণত করার ঘোর বিরোধী।   লান্সফোর্ড নিজে আগামী ডিসেম্বরে হাসানের মৃত্যুদণ্ড দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এমনকি তিনি মনে করেন, নিহতের স্বজন বা ভুক্তভোগীদেরই এই দণ্ড কার্যকর করার সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মৃত্যুদণ্ড কোনো বিনোদনের বিষয় নয়।   লান্সফোর্ড বলেন, "এটি এমন কোনো ঘটনা নয় যে আপনি পপকর্ন হাতে নিয়ে বসে একটি মৃত্যুদণ্ড উপভোগ করবেন। মানুষের মাংস, রক্ত ও বারুদের গন্ধের মধ্যে মহিমান্বিত করার মতো কিছু নেই।" তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো দেশ নয় যেখানে প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ বা পাথর ছুঁড়ে হত্যা করাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হয়। যারা সেদিন জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানাতেই এই দণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়াকে উৎসব বা বিনোদনে পরিণত করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তিনি।   ৮৬ বছরের মধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর এই প্রথম ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্তটি দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মার্কিন যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের অপরাধের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা সাধারণ মানুষের দেখা উচিত। অন্যদিকে, খোদ রিপাবলিকান নেতারাই এই প্রকাশ্য সম্প্রচারের তীব্র সমালোচনা করেছেন।   মার্কিন সিনেটর থম টিলিস এবং প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য অস্টিন স্কট এটিকে জিহাদি ও স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এমনকি ক্যাথলিক বিশপদের সংগঠনও এই ঘটনাকে ‘মৃত্যুর সংস্কৃতির বর্বরোচিত প্রচার’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর পাশাপাশি নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই মৃত্যুদণ্ডের ভিডিও ফুটেজ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো তাদের নিজেদের প্রোপাগান্ডা ছড়াতে ব্যবহার করতে পারে।   নিজের দীর্ঘ মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণার কথা স্মরণ করে লান্সফোর্ড জানান, নিজের মানসিক শান্তির জন্যই তিনি ঘাতককে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাকে কোনো ছাড় দিতে রাজি নন তিনি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঠিক আগে হাসানের চোখের দিকে তাকিয়ে তিনি শুধু একটি কথাই বলতে চান— "তুমি ব্যর্থ হয়েছ।" লান্সফোর্ডের আশা, মৃত্যুর আগমুহূর্তে অন্তত হাসান নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হবেন এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসের ওয়াইলি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ক্যাফেটেরিয়ায় হালাল সার্টিফায়েড মুরগির খাবার পরিবেশন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসের স্কুলে হালাল মাংস পরিবেশন নিয়ে বিতর্ক, আপত্তি খ্রিস্টান অভিভাবকদের

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের খাবারে হালাল সার্টিফায়েড মুরগির মাংস পরিবেশন নিয়ে ধর্মীয় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নর্থ টেক্সাসের ওয়াইলি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট স্বীকার করেছে, তাদের বিভিন্ন স্কুলের ক্যাফেটেরিয়ায় হালাল মুরগির প্যাটি পরিবেশন করা হয়েছিল। তবে অভিভাবক ও করদাতাদের আপত্তির পর চলতি বছরের এপ্রিলে খাবারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় খাদ্যচাহিদা পূরণের পাশাপাশি খ্রিস্টান পরিবারগুলোকে খাবারের তথ্য জানানো এবং বিকল্প দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডালাস এক্সপ্রেসের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াইলি ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্ট তাদের প্রাথমিক, ইন্টারমিডিয়েট ও জুনিয়র হাই স্কুলে হালাল সার্টিফায়েড চিকেন প্যাটি পরিবেশনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের খাদ্য ক্রয়ব্যবস্থার মাধ্যমে পণ্যটি সরবরাহ করা হয়েছিল। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বিশেষভাবে খাবারটি নির্বাচন করা হয়নি।   স্কুল ডিস্ট্রিক্টের বক্তব্য অনুযায়ী, হালাল মুরগির প্যাটির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য অন্য খাবারের ব্যবস্থাও ছিল। তবে অভিভাবক ও করদাতাদের মতামতের পর এপ্রিলে পণ্যটি সরিয়ে সাধারণ চিকেন প্যাটি পরিবেশন শুরু করে কর্তৃপক্ষ। আগে প্রকাশিত খাবারের তালিকায় পণ্যটি কীভাবে পরিবেশন করা হচ্ছিল, সে সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছিল বলেও স্বীকার করেছে স্কুল ডিস্ট্রিক্ট।   এদিকে সেন্ট্রাল টেক্সাসের হেইস স্কুল ডিস্ট্রিক্টেও একই ধরনের বিষয় সামনে এসেছে। গত ২০ এপ্রিল স্কুল বোর্ডের একটি কর্মশালায় পুষ্টিবিষয়ক একজন কর্মকর্তা জানান, তাঁদের ক্যাফেটেরিয়ায় পরিবেশিত বেশ কিছু খাবার হালাল হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আগে সেগুলোর হালাল পরিচয় সম্পর্কে জানত না।   তবে হেইস স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ওই কর্মকর্তা কোন কোন খাবারের কথা বলেছিলেন, তা নির্দিষ্ট করেননি। ফলে সেগুলোর মধ্যে ইসলামি নিয়মে জবাই করা পশুর মাংস ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুটি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ঘটনায় খাবারের সার্টিফিকেশন সম্পর্কে প্রশাসনের সচেতনতা এবং অভিভাবকদের তথ্য জানার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   হালাল একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ ইসলামি বিধান অনুযায়ী অনুমোদিত। খাদ্যের ক্ষেত্রে হালাল সার্টিফিকেশনের মধ্যে উপাদান, প্রস্তুতপ্রণালি এবং মাংসের ক্ষেত্রে পশু জবাইয়ের নির্দিষ্ট ধর্মীয় শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। টেক্সাসের আইনেও ইসলামি ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী প্রস্তুত ও পরিবেশিত খাবারকে হালাল হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের হালাল সার্টিফিকেশন সংস্থা হালাল ট্রানজ্যাকশনস অব ওমাহার তথ্য অনুযায়ী, ইসলামি নিয়মে পশু জবাইয়ের সময় নির্দিষ্ট ধর্মীয় বাক্য উচ্চারণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিসমিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার। তবে সব হালাল সার্টিফায়েড খাবারের ক্ষেত্রে পশু জবাইয়ের বিষয়টি প্রযোজ্য নয়। শাকসবজি, শস্যসহ বিভিন্ন খাবারও হালাল হতে পারে।   ওয়াইলি স্কুল ডিস্ট্রিক্টে সরবরাহ করা মুরগির প্যাটি তৈরি করেছিল গোল্ড ক্রিক ফুডস। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্কুল মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচির জন্য হালাল সার্টিফায়েড চিকেন প্যাটি বাজারজাত করে। তবে ওয়াইলির স্কুলগুলোতে পরিবেশিত নির্দিষ্ট প্যাটিগুলোর মাংস কী পদ্ধতিতে জবাই করা পশু থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   এই বিতর্কে খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের মধ্যেও মতভিন্নতা দেখা গেছে। দ্য চিলড্রেনস ব্রেড ডেলিভারেন্স মিনিস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা যাজক মিগুয়েল বুস্টিলোস মনে করেন, খ্রিস্টানদের হালাল খাবার নিয়ে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ইসলামি ধর্মীয় বাক্য উচ্চারণের মাধ্যমে জবাই করা পশুর মাংস খাওয়ার বিষয়ে নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।   গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক মন্তব্যে বুস্টিলোস জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইসলামি ধর্মীয় নিয়মে জবাই করা গরু, ভেড়া কিংবা মুরগির মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। তবে জেনে খাওয়া এবং না জেনে এমন খাবার গ্রহণ করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   অন্যদিকে খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্ববিদ ও যাজক জন পাইপারের অবস্থান ভিন্ন। তাঁর মতে, খ্রিস্টানরা সাধারণভাবে হালাল মাংস খেতে পারেন। কারণ কোনো খাবার গ্রহণ করা মানেই অন্য ধর্মের উপাসনায় অংশ নেওয়া নয়। এ বিষয়ে তিনি বাইবেলের বিভিন্ন নির্দেশনার ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন।   ফলে খ্রিস্টানদের মধ্যে হালাল মাংস গ্রহণের বিষয়ে একক অবস্থান নেই। কেউ ধর্মীয় কারণে তা এড়িয়ে চলতে চান, আবার অন্যরা হালাল খাবার গ্রহণকে নিজেদের বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করেন না। এই মতভিন্নতার কারণে স্কুলের খাবার সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য প্রকাশের দাবি সামনে এসেছে।   এদিকে টেক্সাসের আইনসভায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবারের সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাবও উঠেছিল। ২০২৫ সালে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সুলেমান লালানি দুটি বিল উত্থাপন করেন। একটি প্রস্তাবে শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের অনুরোধে সরকারি স্কুলে হালাল সকালের খাবার কিংবা দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়।   অন্য প্রস্তাবটি নির্দিষ্ট জনসংখ্যার কাউন্টি ও আশপাশের এলাকার স্কুলগুলোর জন্য একই ধরনের ব্যবস্থা চালুর উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। তবে দুটি প্রস্তাবের কোনোটিই আইনে পরিণত হয়নি। প্রস্তাবগুলোতে সব শিক্ষার্থীকে হালাল খাবার খাওয়ানো কিংবা অন্য খাবারের বিকল্প বন্ধ করার কথা ছিল না।   টেক্সাসের বিদ্যমান আইনে হালাল ও নন-হালাল মাংস বিক্রি করা খুচরা ব্যবসায়ীদের পণ্য যথাযথভাবে চিহ্নিত করার নিয়ম রয়েছে। তবে সরকারি স্কুলের ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের তালিকায় একই ধরনের তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা ওই আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।   ওয়াইলি ও হেইস স্কুল ডিস্ট্রিক্টের প্রকাশিত তথ্য থেকে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে খ্রিস্টান শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে হালাল মাংস খাওয়ানো হয়েছে কিংবা তাঁদের বিকল্প খাবার দেওয়া হয়নি। বিতর্কের মূল বিষয় হলো, স্কুলে পরিবেশিত খাবারের ধর্মীয় সার্টিফিকেশন সম্পর্কে অভিভাবকেরা কতটা তথ্য পাচ্ছেন।   টেক্সাসের এই ঘটনায় একদিকে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় খাদ্যচাহিদা পূরণের বিষয়টি সামনে এসেছে, অন্যদিকে খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী পরিবারের নিজস্ব বিশ্বাস অনুযায়ী খাবার বেছে নেওয়ার সুযোগ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিভাবকদের কাছে খাবারের তথ্য পরিষ্কারভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং বিকল্প খাবারের ব্যবস্থা রাখা নিয়েই বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।   সূত্র: ডালাস এক্সপ্রেস

তাবাস্সুম অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসে দুই স্টপ সাইন অমান্যের অভিযোগ, হাতকড়া পরা চালকের গলা চেপে ধরলেন পুলিশ প্রধান
টেক্সাসে দুই স্টপ সাইন অমান্যের অভিযোগ, হাতকড়া পরা চালকের গলা চেপে ধরলেন পুলিশ প্রধান

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সাওয়ার লেক শহরে এক চালককে নিজ বাড়ির আঙিনায় আটকে হেনস্তা এবং গলা চেপে ধরার অভিযোগ উঠেছে স্বয়ং পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ প্রধান অ্যারন বার্লেসন এবং অন্য এক কর্মকর্তা সাদা পোশাকে কেন্ড্রিক বেটস নামের ওই চালককে হাতকড়া পরিয়ে তার পিকআপ ট্রাকের সাথে চেপে ধরে রেখেছেন।   একপর্যায়ে পুলিশ প্রধান তার ক্ষমতা জাহির করে বলেন, "আমি পুলিশ প্রধান, তাই আমার সঙ্গেই বোঝাপড়া করো।" সামান্য ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে পুলিশের এমন মারমুখী আচরণ নেটদুনিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।   কেন্ড্রিক বেটসের স্ত্রী হেইলি শেলবার্নের ধারণ করা ভিডিওতে পুরো ঘটনার চিত্র উঠে এসেছে। হেইলির দাবি, তার স্বামী দুটি স্টপ সাইন অমান্য করেছেন—এমন অভিযোগে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই বেটস তার গাড়ি পার্ক করে ফেলেছিলেন।   তাছাড়া সাদা পোশাকে থাকা ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা কোনো ধরনের ইমার্জেন্সি লাইট ছাড়াই সাধারণ গাড়িতে করে সেখানে আসেন এবং নিজেদের পরিচয় না দিয়েই বেটসকে হাতকড়া পরিয়ে ফেলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ প্রধান জোরপূর্বক বেটসের পকেটে হাত দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স বের করার চেষ্টা করছেন, যার তীব্র প্রতিবাদ জানান বেটস। একপর্যায়ে পুলিশ প্রধান বেটসের গলা চেপে ধরলে তার স্ত্রী চিৎকার করে বাধা দেন এবং আরও পুলিশ ডাকার কথা বলেন।   এই ঘটনার পর বেটসকে গ্রেপ্তার করা না হলেও তাকে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের দুটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বেটস এরই মধ্যে সাওয়ার লেক পুলিশ বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং আইনি লড়াইয়ের জন্য ‘গোফান্ডমি’-এর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছেন।   বিতর্কের মুখে সাওয়ার লেক নগর কর্তৃপক্ষ এক ঘোষণায় জানিয়েছে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের টহল থেকে সরিয়ে আপাতত দাপ্তরিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং পুরো ঘটনার একটি স্বাধীন তদন্তের জন্য টেক্সাস রেঞ্জার্স ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।   টেক্সাসের আইন অনুযায়ী পুলিশ লাইসেন্স দেখতে চাইতে পারে, তবে চালকের অনুমতি ছাড়া জোর করে পকেটে হাত দেওয়া বা হাতকড়া পরানো অবস্থায় এমন শারীরিক বলপ্রয়োগ কতটা আইনসম্মত, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন উঠেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে  হ ত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত তরুণী ২০ লাখ ডলারের জামিনে মুক্ত
টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে হ ত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত তরুণী ২০ লাখ ডলারের জামিনে মুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের দেল রিও শহরে পাঁচ সন্তানের এক মাকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ১৯ বছর বয়সী তরুণী আমায়া কুকি ডিয়াজ কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গত ২৫ জুন দিনেদুপুরে ক্যারোলিন "কারো" পেনা নামের ওই নারীকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে কুকি, তার ২১ বছর বয়সী বোন কিটি মিয়া ডিয়াজ এবং তাদের বন্ধু কিয়ান্দ্রা রেনি ফাজের বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার বা প্রথম মাত্রার খুনের অভিযোগ আনা হয়। এই সপ্তাহেই বিশাল অঙ্কের জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর মঙ্গলবার কুকি কারামুক্ত হন।   ভ্যাল ভার্দে কাউন্টি শেরিফ অফিস ও সংশোধনাগারের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, কুকির ২০ লাখ ডলারের জামিন বন্ডের জন্য ডিয়াজ পরিবার নগদ ২ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে। তবে তার বোন কিটি এখনও কারাগারেই বন্দি রয়েছেন। এল অ্যামিগো বন্ডিং নামের যে প্রতিষ্ঠানটি জামিনের ব্যবস্থা করেছে, তাদের একজন প্রতিনিধি জানান, জামিনের শর্ত ও বিস্তারিত তথ্য শুধু ওই পরিবারের মধ্যেই গোপন রাখা হয়েছে।   তবে ওই প্রতিনিধি সতর্ক করে বলেন, "ইতোমধ্যেই নানা সমস্যা শুরু হয়েছে। কেউ খুন হলে ঝামেলা হবেই। তাই ডিয়াজ পরিবারকে এখন অনেকটা আড়ালে থাকতে হচ্ছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা জানি শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারই জয়লাভ করবে।"   মামলার অভিযোগপত্র থেকে এই হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ পাওয়া যায়। ফাজ পুলিশকে জানিয়েছিলেন, ক্যারোলিন পেনা গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে তাদের বাড়িতে এসেছিলেন। তবে তদন্তকারীদের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পেনার কালো রঙের ডজ পিকআপ ট্রাকটি ফাজের বাড়ির সামনে আসার পরপরই কুকি ও কিটি সেখানে উপস্থিত হন।     ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কালো ক্রাইসলার গাড়ি থেকে নেমেই কুকি ডান হাতে একটি ছুরিজাতীয় বস্তু নিয়ে পেনার ওপর চড়াও হন এবং তার পিঠে আঘাত করেন। পুলিশের তথ্যমতে, এসময় কিটি এবং ফাজও পেনার ওপর হামলা চালায় এবং তাকে বেধড়ক মারধর করে পালিয়ে যায়। পরে পেনার ভাতিজা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রায় সাত ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।   হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার হওয়ার সময় ডিয়াজ বোনদের মুখে বিকৃত হাসি দেখা গিয়েছিল, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই নৃশংস অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ারও চেষ্টা করেছিল। তবে এই ভয়াবহ হামলার পেছনে মূল উদ্দেশ্য কী ছিল বা পেনার সঙ্গে তাদের কী ধরনের সম্পর্ক ছিল, তা এখনো পরিষ্কার করেনি পুলিশ।   আগামী ৪ নভেম্বর কুকির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে এক শুনানিতে কুকি ও কিটি উভয়ের জামিন ৫০ লাখ ডলার থেকে কমিয়ে ২০ লাখ ডলার করা হয়েছিল। অন্যদিকে, এই মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করা ফাজ বর্তমানে ৫২ লাখ ডলারের জামিন বন্ডে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং আগামী ১১ ডিসেম্বর তার প্রাক-বিচার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
মৃত্যুর আগের দিনও হাসপাতালের বিছানায় শিক্ষার্থীদের গ্রেড দিচ্ছিলেন টেক্সাসের শিক্ষক
মৃত্যুর আগের দিনও হাসপাতালের বিছানায় শিক্ষার্থীদের গ্রেড দিচ্ছিলেন টেক্সাসের শিক্ষক

হাসপাতালের বিছানায় বসে ল্যাপটপে শিক্ষার্থীদের গ্রেডের কাজ করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের শিক্ষক আলেহান্দ্রো নাভারো। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়ও শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি প্রতিবেদনের নম্বর প্রস্তুত করার চিন্তা ছিল তাঁর। মেয়ে সান্দ্রা ভেনেগাসের ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিটি তোলার পরদিনই মারা যান তিনি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ছবিটি তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।    ডেল রিও শহরের এই গণিত শিক্ষকের বয়স ছিল ৬৬ বছর। সান্দ্রা জানান, হাসপাতালে যেতে হবে জেনেই তাঁর বাবা ল্যাপটপ ও চার্জার সঙ্গে নিয়েছিলেন। অসুস্থতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের গ্রেডের অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন তিনি।    সান্দ্রার বর্ণনা অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা নাভারোর পরীক্ষা করছিলেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুতর ঝুঁকি নিয়ে কথা বলছিলেন। তিনি তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আবার গ্রেডের কাজে ফিরে যাচ্ছিলেন। হাসপাতালের বিছানায় বাবার সেই মুহূর্তের ছবিটি সান্দ্রা ফেসবুকে প্রকাশ করেন ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর।    ছবির সঙ্গে দেওয়া লেখায় সান্দ্রা শুধু বাবার দায়িত্ববোধের কথাই বলেননি, শিক্ষকতার বাইরে পরিবারকে সময় দেওয়ার প্রয়োজনও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাবার বাড়িতে শেষবার দেখা করতে গিয়ে যে দুই ঘণ্টা কাটিয়েছিলেন, তখনও তাঁর বাবা কাজ করছিলেন। এখন তাঁর মনে হয়, ল্যাপটপ বন্ধ করে সেই সময়টা একসঙ্গে কাটাতে পারলে ভালো হতো।    শিক্ষকদের কাজের মূল্য দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের কর্মঘণ্টার সীমা বজায় রাখতে পরিবারের সদস্যদের সহায়তা করার আহ্বান জানান সান্দ্রা। শিক্ষকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল, কর্মক্ষেত্রে কাউকে দিয়ে আপনার জায়গা পূরণ করা গেলেও পরিবারে তা সম্ভব নয়। বাবার শেষ সময়ের ছবির সঙ্গে তিনি রেখে যান কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে এই কথাটিও।    সূত্র: ইউনিভিশন, এল ইউনিভার্সো

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসের বিগ বেন্ডে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণে আদালতের সাময়িক স্থগিতাদেশ
টেক্সাসে ট্রাম্পের ৪৬ বিলিয়ন ডলারের সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণে বিচারকের স্থগিতাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বিগ বেন্ড অঞ্চলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত বিশাল সীমান্ত প্রাচীর ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবার বিচারক ক্যাথলিন কার্ডোনি এই আদেশ দেন। এর ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া বড় একটি প্রকল্প আপাতত আইনি বাধার মুখে পড়েছে।   প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আওতায় টেক্সাসের দক্ষিণ সীমান্তে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু ইস্পাতের প্রাচীর নির্মাণের পাশাপাশি যানবাহন চলাচল ঠেকাতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধক, নতুন রাস্তা এবং আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি স্থাপনের কথা রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো বাড়িয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকানো এবং নজরদারি জোরদার করাই এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য।   তবে প্রকল্পটি ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষ এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করে। স্থানীয় জমির মালিক, ব্যবসায়ী, পরিবেশবাদী সংগঠন, রুইডোসার একটি ঐতিহাসিক গির্জার সমর্থক এবং নদীপথে পর্যটকদের নিয়ে কাজ করা রিভার গাইডরা মামলায় একত্র হন।   মামলাকারীদের অভিযোগ, বিগ বেন্ড অঞ্চলের প্রায় ৫০০ মাইল দীর্ঘ পাহাড়ি ও দুর্গম ভূপ্রকৃতি এমনিতেই সীমান্ত অতিক্রমের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে। সেখানে ব্যাপক আকারে প্রাচীর ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করলে স্থানীয় পরিবেশ, বন্যপ্রাণী এবং ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।   তাদের আরও অভিযোগ, সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে ট্রাম্প প্রশাসনের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ পরিবেশ, সংস্কৃতি ও প্রত্নতাত্ত্বিক সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু নিয়ম ও প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়েছে। এসব পদক্ষেপ আইনসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।   শুক্রবারের রায়ে বিচারক ক্যাথলিন কার্ডোনি বলেন, মামলাকারীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর অন্তত একটিতে তাদের পক্ষে রায় পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এই পর্যায়ে নির্মাণকাজ চলতে থাকলে বাদী পক্ষ গুরুতর ও পরে পূরণ করা সম্ভব নয়—এমন ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   আদালত জনস্বার্থ এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিয়েছে। ফলে মূল মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজে সাময়িকভাবে বিরতি থাকবে।   এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিগ বেন্ড ন্যাশনাল পার্কের কিছু এলাকাও পড়বে। এর আগে পার্কের ভেতরে বুলডোজার দিয়ে জমি পরিষ্কারের কাজ শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের রাজনীতিকদের মধ্য থেকেই সমালোচনা আসে। পরে প্রশাসন সেখানে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে।   সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে টেক্সাসে এর আগেও জমির মালিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধ দেখা গেছে। বিশেষ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে প্রাচীর নির্মাণের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত প্রভাব এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রশ্ন রয়েছে।   এদিকে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি আদালতের আদেশের পরও প্রকল্পটির পক্ষে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিগ বেন্ডের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা নিজেদের মূল্যায়নের ওপর আস্থাশীল। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে তারা বিচার বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।   অন্যদিকে মামলাকারী পরিবেশবাদী সংগঠন সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভার্সিটির লায়েকেন জর্ডাল আদালতের সিদ্ধান্তকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মূল মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় আপাতত বুলডোজারগুলোকে সরে যেতে হবে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে বিগ বেন্ড, টেক্সাস এবং মার্কিন সংবিধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   ন্যাশনাল পার্কস কনজারভেশন অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট টিয়ারনান সিটেনফেল্ডও আদালতের আদেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বিগ বেন্ড এলাকায় ইতোমধ্যে হওয়া ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য পরিবেশ ও ঐতিহাসিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত না করে বিকল্প সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন।   আদালতের এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্ত রায় নয়। মূল মামলায় সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা আইনগতভাবে বৈধ কি না, পরিবেশ ও ঐতিহাসিক সম্পদ সুরক্ষার নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং প্রকল্পটি কীভাবে এগোবে—এসব বিষয় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
এটিএমের ওপর পড়ে থাকা ১ লাখ ২৮ হাজার ডলার পুলিশের হাতে তুলে দিলেন টেক্সাসের এক নাপিত
টেক্সাসে এটিএমে ফেলে যাওয়া ব্যাংক অব আমেরিয়ার কর্মীর ১ লাখ ২৮ হাজার ডলার ফিরিয়ে দিলেন নাপিত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লুইসভিলে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ কুড়িয়ে পেয়েও তা নিজের কাছে না রেখে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে সততার নজির গড়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এক নাপিত। ব্যাংক অব আমেরিয়ার একটি এটিএমের ওপর পড়ে থাকা ব্যাগ থেকে তিনি ১ লাখ ২৮ হাজার ৫১৪ ডলার নগদ অর্থ এবং ১৯টি চেক পান। পরে পুরো অর্থই নিরাপদে পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।   ঘটনাটি ঘটে গত ৩ আগস্ট ডেন্টন কাউন্টির লুইসভিল শহরের ওয়েস্ট মেইন স্ট্রিটে ব্যাংক অব আমেরিয়ার একটি এটিএমে। ওই ব্যক্তি পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন তিনি ৪২ বছর বয়সী এক নারীর সঙ্গে এটিএমে টাকা তুলতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তারা মেশিনের ওপর কয়েকটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন।   ব্যাগ খুলে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ দেখতে পান ওই নাপিত। একটি ছোট ব্যাগে ছিল ১৯টি চেক। এত বিপুল অর্থ পাওয়ার পরও তিনি তা নিজের কাছে রাখার পরিবর্তে ব্যাগের মালিক খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন।   পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাগগুলোর একটিতে ‘চিক-ফিল-এ’-এর লেবেল ছিল। তাই প্রথমে তার ধারণা হয়, হয়তো জনপ্রিয় ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠানটির অর্থ হতে পারে। তিনি কাছের একটি চিক-ফিল-এ রেস্তোরাঁয় গিয়ে ব্যাগগুলো হস্তান্তরের চেষ্টা করেন। তবে রেস্তোরাঁর ম্যানেজার জানান, অর্থগুলো তাদের নয়। এরপর তিনি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৯১১ নম্বরে ফোন করেন।   পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর অর্থের পরিমাণ যাচাই করে। একজন কর্মকর্তা নগদ অর্থ দুইবার গুনে দেখেন। পরে ডিজিটাল কারেন্সি কাউন্টার দিয়েও অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত করা হয়। ব্যাগের ভেতরে থাকা ব্যাংকের একটি রসিদেও ঠিক একই পরিমাণ অর্থের উল্লেখ ছিল—১ লাখ ২৮ হাজার ৫১৪ ডলার। এরপর পুরো অর্থ সিল করে লুইসভিল পুলিশ বিভাগের নিরাপদ সংরক্ষণাগারে রাখা হয়।   লুইসভিল পুলিশের গোয়েন্দা জিনা মিলার বলেন, তার দীর্ঘ কর্মজীবনে এমন ঘটনা আগে কখনো দেখেননি। সাধারণত মানুষ হারানো মানিব্যাগ, পরিচয়পত্র বা ছোটখাটো সম্পদ পুলিশের কাছে জমা দেয়। কিন্তু ১ লাখ ২৮ হাজার ডলারের মতো বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ কেউ পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন—এমন ঘটনা তার কাছে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী।   পুলিশের তদন্তে পরে জানা যায়, অর্থগুলো কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না। টাকা ছিল ব্যাংক অব আমেরিয়ার এবং ব্যাংকের নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ব্রিঙ্কসের মাধ্যমে এটিএমে সরবরাহ করা হচ্ছিল। একজন ব্রিঙ্কস কর্মী এটিএমে কাজ শেষ করার পর অর্থের ব্যাগগুলো নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ভুল করে সেগুলো মেশিনের ওপর রেখে চলে যান।   লুইসভিল পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে কোনো চু রি বা অন্য কোনো অ প রা ধ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সবকিছু দেখে তদন্তকারীদের কাছে এটি পরিষ্কার হয় যে অর্থগুলো ভুলবশত সেখানে ফেলে যাওয়া হয়েছিল।   লুইসভিল পুলিশের প্রধান ব্রুক রলিন্স ঘটনাটিকে অত্যন্ত বিরল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এত বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়া যেমন অস্বাভাবিক, তেমনি সেটি কোনো অ প রা ধের সঙ্গে যুক্ত না থাকা এবং একজন সাধারণ নাগরিকের মাধ্যমে পুরো অর্থ অক্ষত অবস্থায় পুলিশের কাছে ফিরে আসাও ব্যতিক্রমী ঘটনা।   রলিন্স আরও বলেন, এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে। পুলিশের ভাষায়, পুলিশ সমাজের একটি অংশ; অন্য অংশ হলো সেই কমিউনিটি, যাদের সহযোগিতা ছাড়া অনেক ঘটনা সমাধান করা কঠিন।   পরে ব্যাংক অব আমেরিয়া হারিয়ে যাওয়া পুরো অর্থ ও চেকগুলো ফেরত পায়। অর্থের একটি ডলারও কম পাওয়া যায়নি।   পুলিশ এখন ওই নাপিতকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানোর পরিকল্পনা করছে। তিনি সিবিএস নিউজ টেক্সাসকে ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি না হলেও জানিয়েছেন, পুলিশ বিভাগ তাকে সম্মান জানালে তিনি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে রাজি আছেন।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি শুধু বিপুল অর্থ ফেরত পাওয়ার গল্প নয়; বরং এমন একটি উদাহরণ, যেখানে একজন সাধারণ মানুষ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অন্যের সম্পদ নিজের করে নেওয়ার পরিবর্তে সেটি সঠিক মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসের বিগ বেন্ড অঞ্চলে সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণে ফেডারেল আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার পর স্বস্তিতে পরিবেশবাদীরা। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসের বিগ বেন্ড অঞ্চলে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ সাময়িকভাবে আটকে দিল আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বিগ বেন্ড অঞ্চলে সীমান্ত দেয়াল ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণ সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবারের এই আদেশের ফলে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় নতুন করে মাটি খননসহ সীমান্ত অবকাঠামোর নির্মাণকাজ চালাতে পারবে না ট্রাম্প প্রশাসন। আদেশটি জারি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক ক্যাথলিন কার্ডোন।   আদালতের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন মেক্সিকো সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা অবকাঠামো সম্প্রসারণের বড় কর্মসূচি চালাচ্ছে। পুরো দক্ষিণ সীমান্তে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারের এই কর্মসূচির আওতায় ৩০ ফুট উচ্চতার ইস্পাত দেয়াল, যানবাহন ঠেকানোর প্রতিবন্ধক, সড়ক ও নজরদারি প্রযুক্তি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিগ বেন্ড অঞ্চলেও কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   বিচারক কার্ডোন তার আদেশে বলেন, মামলাকারীরা অন্তত একটি দাবিতে আইনি লড়াইয়ে সফল হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখাতে পেরেছেন। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা না দিলে তাদের গুরুতর ও অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট স্বার্থ ও জনস্বার্থও নির্মাণকাজ সাময়িক বন্ধ রাখার পক্ষে রয়েছে। ফলে মামলার মূল বিষয়গুলো আদালতে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   মামলাটি করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি, ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে কাজ করা ফ্রেন্ডস অব দ্য রুইডোসা চার্চ এবং বিগ বেন্ড এলাকার এক নদীভ্রমণ গাইড ও জমির মালিক। মামলাকারীদের অভিযোগ, সীমান্ত অবকাঠামো দ্রুত নির্মাণের জন্য প্রশাসন পরিবেশ ও ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ফেডারেল আইনের বিধান থেকে ব্যাপক ছাড় নিয়েছে। তাদের দাবি, এভাবে নিয়ম শিথিল করে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।   বিগ বেন্ড অঞ্চলের সবচেয়ে আলোচিত অংশ বিগ বেন্ড ন্যাশনাল পার্ক। এর বিস্তৃত মরুভূমি, চুনাপাথরের পাহাড়, গভীর গিরিখাত এবং দূষণমুক্ত রাতের আকাশের জন্য এলাকাটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ও পর্যটন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। পার্কের ভেতরে সীমান্ত নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবাদী সংগঠন, ব্যবসায়ী ও জমির মালিকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়।   আগস্টে পার্কের ভেতরে নির্মাণযন্ত্র দিয়ে জমি পরিষ্কার করার কাজ শুরু হলে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। এরপর ১৭ আগস্ট ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি পার্কের ভেতরের নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। সেই বিরতি ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে আদালতের নতুন নিষেধাজ্ঞায় বিগ বেন্ড অঞ্চলে নির্মাণকাজ আবারও আইনি বাধার মুখে পড়ল।   এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বিগ বেন্ড অঞ্চলের পার্কের বাইরে হাডস্পেথ কাউন্টিতে ৪৭ মাইল দীর্ঘ একটি এলাকায় ৩০ ফুট উচ্চতার ইস্পাতের সীমান্ত দেয়ালের প্রথম অংশ বসানোর কাজ শুরু করে প্রশাসন। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর সীমান্ত অবকাঠামো কর্মসূচির অংশ। তবে পার্ক ও আশপাশের এলাকায় পরিকল্পিত সড়ক, যানবাহন ঠেকানোর প্রতিবন্ধক এবং অন্যান্য অবকাঠামো নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধিতা অব্যাহত ছিল।   বিগ বেন্ডের সীমান্ত প্রকল্প নিয়ে বিরোধিতা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। স্থানীয় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট নেতা, জমির মালিক, ব্যবসায়ী এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের একটি অংশ নির্মাণকাজ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের মূল বক্তব্য, এই অঞ্চলের দুর্গম ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি নিজেই সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি করে। একই সঙ্গে দেয়াল ও সড়ক নির্মাণে প্রাকৃতিক পরিবেশ, নদীর প্রবেশাধিকার এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও তারা তুলে ধরেছে।   অন্যদিকে, প্রশাসনের অবস্থান হলো সীমান্তের দুর্গম এলাকাতেও অবকাঠামো প্রয়োজন, যাতে সীমান্তে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যায়। সিবিপি বলেছে, তারা সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিগ বেন্ডের অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় নিচ্ছে। আদালতের আদেশের পর সংস্থাটি জানিয়েছে, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে তারা বিচার বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে।   বিগ বেন্ড অঞ্চলে নির্মাণ পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধ এখনো শেষ হয়নি। শুক্রবারের আদেশটি মামলার চূড়ান্ত রায় নয়, বরং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত অবকাঠামো প্রকল্পের বৈধতা ও পরিবেশগত বিধি থেকে নেওয়া ছাড়ের বিষয়টি এখন আদালতে আরও বিস্তৃতভাবে পর্যালোচনা হবে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
ডেন্টিস্টের পথে গাড়ি থামায় আইসিই, আতঙ্কে মেয়েকে বাসায় পড়াচ্ছেন মার্কিন পরিবার
ডেন্টিস্টের পথে গাড়ি থামায় আইসিই, আতঙ্কে মেয়েকে বাসায় পড়াচ্ছেন মার্কিন পরিবার

টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে আইসিই এজেন্টদের হাতে গাড়ি থামানোর ঘটনার পর দৈনন্দিন জীবন বদলে গেছে মার্কিন নাগরিক মনিক রামিরেজের পরিবারের। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও আবার একই পরিস্থিতিতে পড়ার ভয় কাটেনি। মেয়ের মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাকে স্কুলে সরাসরি পাঠানোর বদলে বাসা থেকে অনলাইনে ক্লাস করার ব্যবস্থা করেছেন রামিরেজ।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইউনিভিশনকে তিনি জানান, ঘটনার সময় তারা গাড়িতে ডেন্টিস্টের অ্যাপয়েন্টমেন্টে যাচ্ছিলেন। তার ১৬ বছরের মেয়েও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। কিন্তু আইসিইর মুখোমুখি হওয়ার পর থেকে মেয়েটি উদ্বেগ ও ভয়ের মধ্যে রয়েছে বলে জানান তিনি।   পরিবারের অনেকেই একই স্কুল থেকে পড়াশোনা করেছেন বলে মেয়েকে সরাসরি ক্লাস থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কঠিন ছিল বলে উল্লেখ করেন রামিরেজ। তবে মেয়ের নিরাপত্তাবোধ ও স্বস্তিকে গুরুত্ব দিয়ে অনলাইন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।    দ্য ইনডিপেনডেন্টকে রামিরেজ জানিয়েছেন, এখন তারা জন্মসনদ সঙ্গে রাখেন। ডিএইচএসের দাবি, গাড়িটি অনিয়মিত অভিবাসীর নামে নিবন্ধিত ছিল। রামিরেজ তা অস্বীকার করেন।    ইউনিভিশনের সঙ্গে কথোপকথনে রামিরেজ জানান, পরিবারের ছোট শিশুরাও বাইরে যেতে ভয় পায়। সাধারণ পুলিশের গাড়ি দেখলেও তারা ঘরে চলে আসে বলে তার ভাষ্য। সন্তানদের সবাই যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়ার পরও এমন ভয় নিয়ে থাকতে হচ্ছে, বিষয়টি তাকে কষ্ট দিচ্ছে।    অভিবাসন অভিযান নিয়ে নাগরিক অধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের একটি গবেষণাতেও মার্কিন নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের পর্যালোচিত ঘটনায় ১৫৫ জন মার্কিন নাগরিক আটক, অভিযানের লক্ষ্যবস্তু বা আইন প্রয়োগে অসদাচরণের শিকার হয়েছেন। শিশুদের মধ্যে ৩২ জন মার্কিন নাগরিক ছিল। এগুলো সংগঠনের পর্যালোচিত ঘটনার হিসাব, দেশজুড়ে সব অভিযানের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নয়।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০