- প্রচ্ছদ
- Topic
#ডেমোক্রেটিক_রিপাবলিক_অব_কঙ্গো
প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রগামী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সব যাত্রীর জন্য নতুন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে দেশটির সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন, সিডিসি। আগামী ৩ নভেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ কিংবা দেশটির কোনো বিমানবন্দর হয়ে অন্য দেশে যাওয়ার আগে যাত্রীদের নিশ্চিত করতে হবে, তাঁরা আগের ২১ দিনের মধ্যে আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে অবস্থান করেননি। নতুন এই নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, গ্রিন কার্ডধারী, বিদেশি পর্যটক এবং এয়ারলাইনসের কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে নিয়মটি কার্যকরের আগেই আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বড় বড় এয়ারলাইনস। তাদের দাবি, এত অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নতুন যাচাইব্যবস্থা চালু করা কঠিন। এ কারণে ৩ নভেম্বরের নির্ধারিত সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলো। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ফক্স নিউজের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে সিডিসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটির উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রার মাধ্যমে ভাইরাসটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সম্ভাবনা কমানো। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে কঙ্গো সফর করেছেন এমন ব্যক্তিদের ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য আগেই যাচাই করতে চায় কর্তৃপক্ষ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রগামী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ওঠার আগে প্রত্যেক যাত্রীকে একটি লিখিত অথবা ডিজিটাল ঘোষণাপত্র পূরণ করতে হবে। সেখানে নিশ্চিত করতে হবে, গত ২১ দিনের মধ্যে তিনি ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে গিয়েছেন কি না। এমনকি কোনো যাত্রী জীবনে কখনো কঙ্গো সফর না করলেও তাঁকে এই ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে। সিডিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ২১ দিনের মধ্যে কঙ্গোতে অবস্থান করেছেন এমন কোনো ব্যক্তি সাধারণভাবে যুক্তরাষ্ট্রগামী ফ্লাইটে উঠতে পারবেন না। এই বিধিনিষেধের মধ্যে কঙ্গোর কোনো বিমানবন্দর দিয়ে শুধু ট্রানজিট করেছেন এমন যাত্রীরাও পড়বেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিশেষ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন নিয়ম শুধু কঙ্গো থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আসা ফ্লাইটের জন্য নয়। বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্যই ঘোষণাপত্র পূরণ করার শর্ত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা অন্য কোনো দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা যাত্রীদেরও এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা থেকে দুবাই, দোহা, ইস্তাম্বুল কিংবা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন বা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য শহরে যাওয়ার সময় নতুন ঘোষণাপত্রের প্রয়োজন হতে পারে। তবে যাঁরা আগের ২১ দিনের মধ্যে কঙ্গোতে যাননি, তাঁদের ক্ষেত্রে শুধু সেই তথ্য নিশ্চিত করাই মূল শর্ত। এটি সব আন্তর্জাতিক যাত্রীর ওপর সাধারণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নয়। নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এয়ারলাইনসগুলোকেও। প্রতিটি বিমান সংস্থাকে যাত্রী এবং ক্রু সদস্যদের কাছ থেকে ঘোষণাপত্র সংগ্রহ করতে হবে। ফ্লাইট যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর অন্তত ৪২ দিন পর্যন্ত এসব নথি সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনে সিডিসি কিংবা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য পরীক্ষা করতে পারবে। এয়ারলাইনস ফর আমেরিকা নামের সংগঠনটি নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। সংগঠনটি আমেরিকান এয়ারলাইনস, ডেল্টা, ইউনাইটেড, সাউথওয়েস্ট এবং জেটব্লুসহ যুক্তরাষ্ট্রের বড় বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে। গত ২৬ অক্টোবর সিডিসির কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে তারা নতুন নিয়ম পুনর্বিবেচনা এবং কার্যকরের সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সিডিসির উদ্দেশ্যকে তারা সমর্থন করে। তবে বিশ্বের সব আন্তর্জাতিক যাত্রীর জন্য একই ধরনের ঘোষণাপত্র বাধ্যতামূলক করা অতিরিক্ত বিস্তৃত একটি ব্যবস্থা। তাদের মতে, কঙ্গোতে সাম্প্রতিক সময়ে ভ্রমণ করেছেন এমন যাত্রীদের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে তুলনামূলক সীমিত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এয়ারলাইনস ফর আমেরিকা জানিয়েছে, নতুন নিয়ম কার্যকর করতে বিমান সংস্থাগুলোর চেক ইন সিস্টেম, ডিজিটাল স্বাক্ষর সংগ্রহের ব্যবস্থা, বিমানবন্দরের কার্যক্রম এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণে পরিবর্তন আনতে হবে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এসব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছে সংগঠনটি। একই ধরনের আপত্তি জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন, আইএটিএ। বিশ্বের ৩৭০টির বেশি বিমান সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী এই সংগঠনও সিডিসিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছে। রয়টার্সের বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আইএটিএ মনে করছে, দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রগামী সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে নতুন তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ অযৌক্তিক চাপ তৈরি করছে। বিমান সংস্থাগুলো আরও দুটি বিশেষ ছাড় চেয়েছে। প্রথমত, এয়ারলাইনসের পাইলট ও কেবিন ক্রু সদস্যদের নতুন ঘোষণাপত্রের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংগঠনটির যুক্তি, বিমানকর্মীদের ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন সরকারি ও বিমান চলাচল ব্যবস্থায় সংরক্ষিত থাকে। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জন্য পরিচালিত বিশেষ চার্টার ফ্লাইটগুলোকেও এই নিয়ম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। বিমান সংস্থাগুলোর মতে, সামরিক কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থায় সদস্যদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ করে। তবে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে সিডিসি এসব অনুরোধ গ্রহণ করেছে কিংবা ৩ নভেম্বরের নির্ধারিত সময়সীমা পরিবর্তন করেছে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আপাতত ঘোষিত সময় অনুযায়ী নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ইবোলা একটি গুরুতর ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থ, যেমন রক্ত বা অন্যান্য সংক্রমিত নিঃসরণের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। রোগটির প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, পেশিব্যথা এবং ক্লান্তি থাকতে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে বমি, ডায়রিয়া এবং গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। সিডিসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ইবোলা ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে সর্বোচ্চ ২১ দিন সময় লাগতে পারে। এ কারণেই নতুন ভ্রমণ ঘোষণাপত্রে আগের ২১ দিনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হচ্ছে। এই সময়সীমার মাধ্যমে সম্ভাব্য সংক্রমণের ঝুঁকি শনাক্ত করার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং ওয়েলনেস ইকুইটি অ্যালায়েন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. টাইলার ইভান্স ফক্স নিউজকে জানান, ইবোলার মতো রোগের বিস্তার ঠেকাতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণব্যবস্থায় সতর্কতা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, সংক্রামক রোগের ঝুঁকি শুধু একটি দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। ইভান্স অতীতে পশ্চিম আফ্রিকা এবং কঙ্গোতে ইবোলা মোকাবিলার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। তিনি জানান, রোগটির প্রাথমিক লক্ষণ সাধারণ ফ্লুর মতো মনে হতে পারে। ফলে সম্ভাব্য সংক্রমণের ইতিহাস জানা এবং ভ্রমণকারীদের তথ্য যাচাই করা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক হতে পারে। তবে ইবোলা সাধারণ সর্দি বা ফ্লুর মতো বাতাসের মাধ্যমে সহজে ছড়ায় না। সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শই এর বিস্তারের প্রধান পথ। এ কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধের পাশাপাশি রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা অন্যদের পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ। সিডিসি আরও জানিয়েছে, ঘোষণাপত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট যাত্রী আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে পারেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী জরিমানা কিংবা ফৌজদারি মামলার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নতুন নিয়মের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য আলাদা ইবোলা টেস্ট কিংবা সব যাত্রীর বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এমন তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই। মূল পরিবর্তনটি হলো কঙ্গোতে সাম্প্রতিক অবস্থানসংক্রান্ত ঘোষণাপত্র এবং নির্দিষ্ট ভ্রমণ ইতিহাস থাকা ব্যক্তিদের জন্য বোর্ডিং বিধিনিষেধ। এদিকে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর আপত্তির কারণে আগামী কয়েক দিনে নিয়ম বাস্তবায়নের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকে নজর রয়েছে। বিশেষ করে নতুন ডিজিটাল ফর্ম, বিমানবন্দরের চেক ইন ব্যবস্থা এবং ট্রানজিট যাত্রীদের যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে এমন বাংলাদেশি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো ফ্লাইটের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নির্দেশনা যাচাই করা। বিশেষ করে ৩ নভেম্বর বা তার পরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা থাকলে নতুন ঘোষণাপত্র পূরণের ব্যবস্থা সম্পর্কে আগেই জেনে নেওয়া উচিত। শুক্রবার পর্যন্ত ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের জন্য এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা। তবে বড় বিমান সংস্থাগুলো সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানানোয় চূড়ান্ত বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সম্পর্কে সিডিসি এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের পরবর্তী নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।