ঢাবি

‘ছোটভাই আর্গুমেন্ট বেশি করতেছো’ বলে ছাত্রনেতাকে পুলিশের মারধর

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে ‘আর্গুমেন্ট’ করার অজুহাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতের এই ঘটনায় এক সংবাদকর্মীও পুলিশের লাঠিপেটার শিকার হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।   যৌক্তিক প্রশ্নেই ক্ষিপ্ত পুলিশ: প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভিযানের সময় ঢাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ নাঈম উদ্দিন পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন তোলেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা। এ সময় ‘ছোটভাই আর্গুমেন্ট বেশি করতেছো’ বলে নাঈমকে এলোপাথাড়ি লাঠিপেটা শুরু করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের নেতৃত্বে থাকা ডিসি মাসুদের সামনেই এই ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ সদস্যরা নাঈমের মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেয়।   হাসপাতালে সাংবাদিক: একই অভিযানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গুরুতর আহত হয়েছেন ‘বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর’-এর মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট তোফায়েল আহমেদ (২৫)। আহত তোফায়েল জানান, তিনি ভিডিও ধারণ করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয় এবং ৪-৫ জন কনস্টেবল মিলে তাঁকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। বর্তমানে তিনি ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন।   ছাত্রনেতাদের প্রতিবাদ ও প্রশাসন নীরব: এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা। ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি সভাপতি শিমুল কুম্ভকার ও ডাকসু সদস্য তাজিনুর রহমানসহ অনেকে এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। তারা বলেন, “পুলিশ রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিচার করার অধিকার রাখে না। প্রশ্ন তোলায় গায়ে হাত দেওয়া ফৌজদারি অপরাধের শামিল।”   এদিকে, গুরুতর এই অভিযোগের বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   শিক্ষার্থীদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই ‘রহস্যজনক নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতার দায়ে প্রক্টরিয়াল টিমের সমালোচনা করেছেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মাদকমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও, অভিযানের নামে নিরপরাধ নাগরিক ও সাংবাদিকদের ওপর এমন আক্রমণ নতুন বাংলাদেশের আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতের ভিসি নিয়োগ দিয়ে যেভাবে ডাকসু নির্বাচন, বললেন ঢাবি অধ্যাপক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ ও শিক্ষা অঙ্গনের অস্থিরতা নিয়ে এক নিবিড় বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রখ্যাত অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন। তাঁর মতে, গত কিছুদিন ধরে দেশে একটি বিশেষ রাজনৈতিক হাইপ তৈরির চেষ্টা চলেছিল, যার নেপথ্যে ছিল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা।   ড. কামরুল হাসান মামুন দাবি করেন, দেশজুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট মতাদর্শের উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগের মূল উদ্দেশ্যই ছিল ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠনকে বিজয়ী করা। তিনি বলেন, “অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতের ভিসি নিয়োগ দিয়ে ডাকসুসহ দেশের ছাত্র সংসদগুলোতে বিজয়ী করে একটি রাজনৈতিক হাইপ তৈরির চেষ্টা আমরা দেখেছি। এতে জনমনে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে দেশ কি আফগানিস্তানের পথে যাচ্ছে কি না কিংবা দেশ মব (Mob) সংস্কৃতিতে ঢুকে পড়বে কি না।”   প্রশাসনের উচ্চপদে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পুনরায় নিয়োগদানকেও তিনি এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন। এছাড়াও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ‘বট বাহিনী’ বা কৃত্রিম প্রচারকদের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষায়, “এই বট বাহিনীরা মূলত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, যারা মুক্তমত প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করেছিল। শিল্প-সংস্কৃতি, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ওপর বড় ধরনের আঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এমনকি ক্যাম্পাসে নারীদের পোশাক ও চলাফেরার ওপর একটি অদৃশ্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। দেশের সাধারণ মানুষ তাদের রায়ের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে আপাত রক্ষা করেছে।”   নির্বাচন প্রসঙ্গে অধ্যাপক মামুন বিএনপির ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “এই নির্বাচনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হলো বিএনপির মুক্তিযুদ্ধের দিকে ঝুঁকে পড়া। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার পর থেকে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের ওপর আস্থা রাখা এর একটি বড় প্রমাণ।”   তবে বিশাল এই বিজয়ে দলটিকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, “ভূমিধস বিজয় বাংলাদেশে এই প্রথম নয়। এর আগেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এমন জয় পেয়েছে। তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আকাশে না উড়ে মাটির কাছাকাছি থাকা। দেশকে মাথায় রেখে কাজ করলেই কেবল দেশের এবং দলের মঙ্গল হবে। দেশ এক বিশাল ক্রান্তিকাল থেকে রক্ষা পেলেও আগামীর পথ চলায় সামান্য ভুল বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।”

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
জামায়াত সেক্রেটারির বক্তব্য দিয়ে ঢাবি ছাত্রদল নেতার ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নামে একটি বানোয়াট বক্তব্য সম্বলিত ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের স্যার এ এফ রহমান হলের আহ্বায়ক ফেরদৌস সিদ্দিক সায়মন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে এই ফটোকার্ডটি শেয়ার করার পর জনমনে ব্যাপক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।   ভাইরাল হওয়া ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হয়েছিল যে, এটি গত ২ ফেব্রুয়ারি দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘কালের কণ্ঠ’-এর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কালের কণ্ঠের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটে এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশিত হয়নি। মূলত একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে পত্রিকাটির লোগো ব্যবহার করে এই জাল কার্ডটি তৈরি করেছে।   অনুসন্ধানে এই জালিয়াতির বেশ কিছু অসংগতি ধরা পড়েছে: প্রথমত, কার্ডটির ফন্ট স্টাইল, সাইজ এবং ডিজাইনের সাথে কালের কণ্ঠের আসল ফটোকার্ডের কোনো মিল নেই। দ্বিতীয়ত, কার্ডে ব্যবহৃত ছবিটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। এটি মূলত ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর একটি সমাবেশের পুরনো ছবি, যা এডিট করে নতুন করে প্রচার করা হয়েছে। সবশেষে, মিয়া গোলাম পরওয়ারের নামে যে বক্তব্যটি সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, তার কোনো অস্তিত্ব দেশের মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে পাওয়া যায়নি।   রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুড়ির এই সময়ে ডিজিটাল মাধ্যমে এ ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়ানোকে ‘সাইবার অপরাধ’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করার আগে অবশ্যই তার সত্যতা যাচাই করে নেবেন। ছাত্রদল নেতার শেয়ার করা এই ফটোকার্ডটি একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচারের অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়।   সতর্কতা: যেকোনো সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করতে মূল ধারার গণমাধ্যমের ভেরিফায়েড পেজ বা ওয়েবসাইট যাচাই করুন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব কি বন্ধ? ইউএস ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে কী বলা আছে

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস  এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

Top week

বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?
আমেরিকা

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0