তৃণমূল কংগ্রেস

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
তহবিল বিতর্কে তৃণমূল কংগ্রেসের ৪৪০ কোটি রুপির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ

দলের বিদ্রোহী বিধায়কদের পুলিশি অভিযোগের পর তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) প্রায় ৪৪০ কোটি রুপি জমা থাকা তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত বা ‘ফ্রিজ’ করা হয়েছে। তহবিলের বিশাল অঙ্কের এই অর্থের উৎস নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।   সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, একটি বেসরকারি ব্যাংকে থাকা দলটির তিনটি অ্যাকাউন্ট ‘ডেবিট ফ্রিজ’-এর আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে এসব অ্যাকাউন্ট থেকে আপাতত কোনো অর্থ তোলা বা বাইরের কোনো লেনদেন করা সম্ভব হবে না। তবে অ্যাকাউন্টগুলোতে নতুন করে টাকা জমা হওয়ার বা ক্রেডিট হওয়ার প্রক্রিয়াটি অব্যাহত থাকবে।   সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনে দলটির পরাজয়ের পর থেকেই প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং বিরোধীদলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই শিবিরের মধ্যে দলের সাংগঠনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়। এই দ্বন্দ্বের রেশ ধরেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুসারী ১০ জন বিধায়ক বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেন এবং অ্যাকাউন্টগুলো নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানান।   অভিযোগকারী বিধায়কেরা অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া বিপুল অর্থের উৎস নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। দায়ের করা অভিযোগের একটি কপিতে দেখা যায়, এই তহবিলগুলো বৈধ কোনো উৎস থেকে এসেছে, নাকি কাট-মানি সংগ্রহ, সরকারি তহবিলের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন স্ক্যাম বা কেলেঙ্কারির মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডের লভ্যাংশ থেকে এসেছে—তা তদন্তকারীদের খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করা হয়েছে।   অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ক্ষমতার অপব্যবহার, অসদুপায় এবং সন্দেহজনক অবৈধ অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে অর্জিত তহবিল এই ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে স্থানান্তর করা হয়ে থাকতে পারে বলে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।   এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত এক সিনিয়র বিধায়ক জানিয়েছেন, পুলিশের এই পদক্ষেপের কথা তাঁরা লোকমুখে শুনলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি হাতে পাননি। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, মাত্র কয়েক দিন আগেই সিনিয়র তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাস ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অ্যাকাউন্টগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে লেনদেন স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।   তাঁর যুক্তি ছিল, দলের অভ্যন্তরীণ সংকট ও নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ আমানত যেন কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। কিন্তু অরূপ বিশ্বাস যেখানে কেবল অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার জন্য এই স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন, সেখানে বিদ্রোহী বিধায়কেরা বিষয়টিকে সরাসরি অপরাধমূলক তদন্তের আওতায় নিয়ে এসেছেন।   অন্যদিকে, এই আর্থিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের মন্তব্যে। তিনি দাবি করেছেন, অরূপ বিশ্বাস বর্তমানে আর দলের কোষাধ্যক্ষ পদে নেই, তাই আর্থিক বিষয়ে দলের হয়ে কথা বলার কোনো অধিকার তাঁর নেই। কুণাল ঘোষের দাবি অনুযায়ী, গত ৫ জুনের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শুভাশীষ চক্রবর্তীকে নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তখন থেকেই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।   সব মিলিয়ে, তিনটি অ্যাকাউন্টের ডেবিট ফ্রিজ হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে তৃণমূলের ভেতরের এই আর্থিক বিরোধ এখন আর কেবল ক্ষমতার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা পুলিশি অভিযোগ এবং তহবিলের বৈধতা নিয়ে এক বিশাল প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
টানা ১১ ঘণ্টা জেরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে
টানা ১১ ঘণ্টা জেরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে, দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ। দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাঁকে টানা ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।   সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কলকাতার সল্ট লেক এলাকার সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দপ্তরে এই জিজ্ঞাসাবাদ চলে। নির্ধারিত সময়ের আগেই ইডি কার্যালয়ে উপস্থিত হন অভিষেক। দিনভর জেরা শেষে রাত ১০টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।   ইডি সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিষ্ঠিত সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর আর্থিক লেনদেন, কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বহুল আলোচিত নিয়োগ দুর্নীতি মামলাসহ একাধিক অভিযোগ নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়।   তবে জিজ্ঞাসাবাদে অভিষেক সব ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর দাবি, এসব অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।   এর আগে রোববার (১৪ জুন) তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তাঁকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। কলকাতার ভবানী ভবনে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা ধরে তাঁকে জেরা করা হয়। পরদিনই আবার ইডির তলবে হাজিরা দিতে হয় তাঁকে।   ইডির দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “বিজেপিকে নিয়ে যত কম বলা যায় ততই ভালো। একদিকে তারা দল ভাঙানোর রাজনীতি করছে, অন্যদিকে যারা মাথা নত করছে না, তাদের দমন–পীড়নের চেষ্টা চালাচ্ছে।”   তিনি আরও অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গকে বিরোধীশূন্য করার লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এসব চাপে তৃণমূল কংগ্রেস নতি স্বীকার করবে না বলেও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন তিনি।   অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এসব করে কোনো লাভ হবে না। আমাদের গলা কেটে নিলেও আমরা আত্মসমর্পণ করব না। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”   পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার তৎপরতা নতুন নয়। এর আগে বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের একাধিক নেতা–কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে।   অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের টানা জিজ্ঞাসাবাদকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও সেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | ছবি: সংগৃহীত
তৃণমূলের ১৯ সাংসদের দল ছাড়ার আভাসে বড় সংকটে মমতা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড়সড় ভরাডুবির পর দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এবার দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন দলের অন্তত ১৯ জন লোকসভা সাংসদ। ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই বিদ্রোহী সাংসদরা দিল্লির শাসক দল বিজেপি জোটের (এনডিএ) সঙ্গে থাকার তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।   শুক্রবার (১২ জুন) প্রকাশিত এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্রোহী সাংসদদের স্বাক্ষর করা একটি বিশেষ চিঠি তাদের হাতে এসেছে। এই চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ এবং সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানের মতো তৃণমূলের অত্যন্ত পরিচিত ও হেভিওয়েট মুখদের স্বাক্ষর রয়েছে। তৃণমূলের একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, খুব শিগগিরই আরও একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী শীর্ষ নেতা এই বড় বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দিতে পারেন।   প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ১৮ মে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি গোপন চিঠি পাঠিয়েছিলেন এই বিদ্রোহী সাংসদরা। সেই চিঠিতে তারা নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং লোকসভায় শাসক জোট এনডিএর সঙ্গে থাকার আনুষ্ঠানিক আগ্রহের কথা জানান। এর ঠিক দুই দিন পর, ২০ মে, তৃণমূলের মূল শিবিরের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে আরেকটি পাল্টা চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবর্তে প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভায় দলের নতুন প্রধান হুইপ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়।   এর আগে কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিজে স্বীকার করেছিলেন যে তৃণমূলের একদল সাংসদ দল ছাড়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সে সময় তিনি সরাসরি কোনো নাম প্রকাশ না করলেও সংসদে তাদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা চাওয়া এবং বিজেপিকে সমর্থনের ইঙ্গিত দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন। এদিকে এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই ইতোমধ্যে তৃণমূলের তিনজন রাজ্যসভা সাংসদ পদত্যাগ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়েন প্রকাশ চিক বরাইক, যার আগে ১০ জুন সুস্মিতা দেব এবং ৮ জুন পদ ছাড়েন সুখেন্দুশেখর রায়। তবে তারা এই ১৯ জনের চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   বর্তমানে ভারতের লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। ভারতের কঠোর দলত্যাগবিরোধী আইন এড়াতে এবং সংসদে আলাদা রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে মোট সাংসদের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১৯ জন সাংসদের সমর্থনের প্রয়োজন হয়। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, দল ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় সেই সুনির্দিষ্ট সংখ্যাটি এখন তাদের হাতের মুঠোয় রয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত সাংসদ কীর্তি আজাদ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিজেপির চাপ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন।   তৃণমূলের ভেতরের এই চরম অসন্তোষের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দল ও প্রশাসনে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ এবং মমতার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিষয়টি। চারবারের সাংসদ শতাব্দী রায় সরাসরি অভিযোগ করেছেন, দলে সাধারণ নেতাদের মতামতের কোনো মূল্য ছিল না এবং কেবল কিছু নির্বাচিত ব্যক্তিরই মমতার কাছে যাওয়ার সুযোগ ছিল। অন্যদিকে প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রকাশ্যে অভিষেকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, অভিষেককে ছাড়া দল চলবে কিনা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিতে হবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0