- প্রচ্ছদ
- Topic
দম্পতি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর দম্পতি জিনেট ও আলেকজান্ডার টকজকো প্রায় ৭৫ বছর সংসার করার পর ২০১৫ সালের জুনে একে অপরের খুব কাছেই জীবনের শেষ সময় কাটান। আলেকজান্ডার ১৭ জুন স্ত্রীর কোলে মারা যাওয়ার পর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে জিনেটও মারা যান। তাদের জীবনের শেষ অধ্যায়টি পূর্ণ হয়েছিল বহু বছর আগে সন্তানদের কাছে বলা একটি ইচ্ছায়, শেষ সময়টুকুও যেন তারা একসঙ্গে থাকতে পারেন। জিনেট ও আলেকজান্ডার দুজনেরই জন্ম ১৯১৯ সালে কানেকটিকাটের স্ট্যামফোর্ডে। তাদের বাবা-মা ছিলেন পোল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসী। মাত্র আট বছর বয়সে তাদের পরিচয় হয়। শৈশবের সেই সম্পর্কই পরে গভীর ভালোবাসায় রূপ নেয়। ১৯৪০ সালে তারা বিয়ে করেন এবং পরবর্তী সাত দশকের বেশি সময় একসঙ্গে কাটান। বিয়ের পর আলেকজান্ডার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নেভিতে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বিজ্ঞাপন ও ফ্যাশন ফটোগ্রাফির ব্যবসায় যুক্ত হন। সান দিয়েগোতে নিজেদের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পর জিনেটও তার সঙ্গে কাজ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধান স্টাইলিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের পাঁচ সন্তান, ১০ নাতি-নাতনি এবং ছয় প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী ছিল। জীবনের শেষ সময়ে এসে দুজনেরই শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ২০১৫ সালের মে মাসে পড়ে গিয়ে আলেকজান্ডারের কোমরের হাড় ভেঙে যায়। এরপর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। পরিবার বুঝতে পারে, সময় খুব বেশি নেই। তখন হসপিস কেয়ার তাদের বাড়িতেই ব্যবস্থা করা হয়। আলেকজান্ডারের জন্য একটি বিছানা এনে সেটি জিনেটের বিছানার পাশে রাখা হয়, যাতে তারা শেষ সময়েও পাশাপাশি থাকতে পারেন। তাদের ৭৫তম বিবাহবার্ষিকী ছিল ২৯ জুন। কিন্তু আলেকজান্ডারের অবস্থা দ্রুত খারাপ হওয়ায় পরিবার আগেই ছোট করে সেই দিনটি উদযাপন করে। ঘরে আনা হয় ফুল ও বেলুন। পরিবারের সদস্যরা তাদের বিবাহের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করেন, যখন আলেকজান্ডার জীবনের শেষ সময় পার করছিলেন। ১৭ জুন আলেকজান্ডার স্ত্রীর কোলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবারের সদস্য অ্যাইমি টকজকো-কুশম্যান পরে জানান, মাকে স্বামীর মৃত্যুর কথা বলার পর জিনেট তাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, তিনি তাকে ভালোবাসেন এবং অপেক্ষা করতে, তিনি শিগগিরই তার কাছে আসবেন। এরপর জিনেটকে কিছু সময় স্বামীর পাশে থাকতে দেওয়া হয়। পরদিন, ১৮ জুন, আলেকজান্ডারের মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ৯৬ বছর বয়সী জিনেটও মারা যান। পরিবারের কাছে এটি ছিল তাদের দীর্ঘ জীবনের ভালোবাসা ও একসঙ্গে থাকার শেষ প্রতিশ্রুতির এক আবেগঘন পরিণতি। আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর জিনেটের বলা শেষ কথাগুলোই পরে এই দম্পতির গল্পের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে ওঠে। সন্তানদের বর্ণনা অনুযায়ী, সারাজীবন একসঙ্গে থাকা এই দুজন জীবনের শেষ মুহূর্তেও আলাদা থাকতে চাননি। তাদের শেষ ইচ্ছা ছিল নিজেদের ঘরে, একে অপরের হাত ধরে এবং কাছাকাছি থেকে বিদায় নেওয়া। ২০১৫ সালের ২৯ জুন তাদের যৌথভাবে দাফন করা হয়। একই দিনে তাদের ৭৫তম বিবাহবার্ষিকীও ছিল। জীবনের শুরুতে আট বছর বয়সে যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল, সাত দশকের বেশি সময় পর সেই সম্পর্কের শেষ অধ্যায়ও তারা প্রায় একই সময়ে পাশাপাশি থেকেই শেষ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এক ভারতীয় দম্পতি তরুণদের বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালোভাবে চিন্তা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের দাবি, যে সুযোগ ও উন্নত জীবনের আশায় একসময় তারা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন, ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেসব সুযোগের অনেকটাই এখন দেশেই পাওয়া যাচ্ছে। দম্পতিটি বিদেশে বসবাসের আর্থিক ও পেশাগত সুযোগের পাশাপাশি এর মানসিক দিক নিয়েও কথা বলেছেন। তাদের মতে, পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের ছেড়ে দীর্ঘদিন অন্য দেশে বসবাস করা সহজ নয়। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করা এবং পরিচিত জীবন থেকে দূরে থাকার বিষয়গুলো অনেকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তারা বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে শুধু ক্যারিয়ার বা আয়ের সম্ভাবনা বিবেচনা করলেই হবে না। নিজের পরিবার, সামাজিক বন্ধন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দেশে থাকা সুযোগগুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। দম্পতির মতে, ভারতের তরুণদের নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশে নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত। তাদের বক্তব্য, বিদেশে যাওয়াই ক্যারিয়ার গড়ার একমাত্র পথ নয়। দেশে থেকেই পেশাগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এখন আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তাদের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের একটি অংশ যেমন নিজেদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে বক্তব্যটির মিল খুঁজে পাচ্ছেন, তেমনি অন্যরা মনে করছেন, বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যক্তির পেশা, আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। বিদেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা ভারতীয় তরুণদের মধ্যে দীর্ঘদিনের। উচ্চশিক্ষা, চাকরি, আয় ও উন্নত জীবনযাত্রার প্রত্যাশায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে যান। তবে প্রবাসজীবনের সুযোগের পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতা, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া এবং পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকার মতো বাস্তবতাও অনেকের অভিজ্ঞতার অংশ। এই দম্পতির বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সুযোগের পাশাপাশি এর ব্যক্তিগত ও মানসিক মূল্যও বিবেচনা করা উচিত।
বাড়ি বা গাড়ি নেই, নেই নিয়মিত সংসারের ঝামেলাও। গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে ক্রুজ জাহাজেই বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক লিবি রোম ও তার স্বামী। তাদের দাবি, খাবার, থাকার জায়গা, যাতায়াত ও বিনোদনসহ দুজনের দৈনিক মোট খরচ প্রায় ৬৬ ডলার, যা তাদের আগের জীবনযাপনের তুলনায় বেশ কম। ৫২ বছর বয়সী লিবি রোম পিপল ম্যাগাজিনকে জানিয়েছেন, তিনি ও তার স্বামী গত ১৬ বছর ধরে অনেকটা যাযাবর জীবনযাপন করছেন। একসময় বিভিন্ন দেশে হোটেলে থেকে কাজ করলেও পরে ক্রুজ জাহাজে স্থায়ীভাবে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তিন বছরেরও বেশি সময় আগে শুরু হওয়া সেই জীবন এখনো চলছে এবং আপাতত স্থলে ফিরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। রোম পেশাগতভাবে রিমোটে কাজ করেন। দুজন মিলে নিজেদের বেশির ভাগ সম্পদ বিক্রি করে জীবনযাপনকে অনেকটাই মিনিমালিস্ট করে ফেলেছেন। এখন তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এত কম যে সবকিছু একটি ব্যাকপ্যাকেই রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন রোম। এই জীবনযাপনের সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো প্রতিদিনের সংসারের ঝামেলা কমে যাওয়া। তাদের নিজস্ব বাড়ি বা গাড়ি নেই। কাপড় ধোয়ার কাজও অনেক সময় ক্রুজ কোম্পানির সুবিধার মাধ্যমে হয়ে যায়। প্রিন্সেস ক্রুজের এলিট পর্যায়ের সদস্যরা নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রুজ বা ক্রুজ-ডে পূরণ করলে বিনামূল্যে লন্ড্রি সার্ভিসসহ বিভিন্ন সুবিধা পান। রোম জানান, তারা একই জাহাজে সারাবছর থাকেন না। সাধারণত বছরে দুই থেকে তিনটি জাহাজে পরপর ক্রুজ বুক করেন। কখনো আট থেকে নয় মাস পর্যন্ত একটানা ক্রুজের পরিকল্পনাও করেছেন। রুটের মধ্যে বিরতি পড়লে এক রাতের জন্য হোটেলে থাকতে হয়। খরচ কমানোর পেছনে রয়েছে আরও একটি কৌশল। রোম ও তার স্বামী বিভিন্ন ক্রুজ লাইনের ক্যাসিনো লয়্যালটি প্রোগ্রামের সুবিধা নেন। এসব প্রোগ্রামে নির্দিষ্ট পর্যায়ের খরচ বা ব্যবহারের পর ফ্রি বা কম খরচে ক্রুজ পাওয়ার সুযোগ থাকে। এর ফলে তারা মূলত পোর্ট ফি ও ট্যাক্সসহ অন্যান্য সীমিত খরচ বহন করে অনেক সময় ক্রুজ চালিয়ে যেতে পারেন। রোমের হিসাবে, দুজনের দৈনিক প্রায় ৬৬ ডলারের খরচে থাকা, খাবার, যাতায়াত ও বিনোদনের বড় অংশই অন্তর্ভুক্ত থাকে। অর্থাৎ মাসে গড়ে প্রায় ২ হাজার ডলারের মতো খরচ হয় তাদের। তবে ক্রুজে স্থায়ীভাবে বসবাসের সঙ্গে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জও রয়েছে। রোমের টাইপ-১ ডায়াবেটিস থাকায় নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী প্রয়োজন হয়। শুরুতে বিভিন্ন বন্দর ও বিভিন্ন চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে তার জন্য প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসা সামগ্রী সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে উঠেছিল। এখন তিনি এমন ক্রুজ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন, যেগুলো একই বন্দর থেকে শুরু ও শেষ হয়, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সহজ হয়। ক্রুজ জাহাজের মেডিকেল সেন্টার জরুরি বা আকস্মিক অসুস্থতা ও দুর্ঘটনায় চিকিৎসা দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে এগুলো ব্যবহারের জন্য তৈরি নয়। তাই নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে এমন যাত্রীদের জন্য স্থায়ী ক্রুজ জীবনযাপনে বাড়তি পরিকল্পনা জরুরি। ডাকপত্রের ক্ষেত্রেও রোমের আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তার বোনের ঠিকানায় পাঠানো হয়। আর প্রতিদিন নতুন কোনো দেশে ঘুম থেকে ওঠা, সমুদ্রযাত্রা এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতাই তার কাছে এই জীবনযাপনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক। যারা এমন জীবন বেছে নেওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের আগে কয়েকটি ক্রুজ করে অভিজ্ঞতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রোম। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার অভিজ্ঞতা নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তিন বছরের বেশি সময় জাহাজে কাটানোর পরও তিনি ও তার স্বামী এই জীবনযাপন নিয়ে সন্তুষ্ট এবং আপাতত স্থায়ীভাবে স্থলে ফেরার কোনো পরিকল্পনা করছেন না।
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে আঘাত হানা প্রলয়ংকরী বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির এক দম্পতি। স্থানীয় কর্মকর্তা ও পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্লুমফিল্ডের বাসিন্দা বিমলভাই প্যাটেল এবং তাঁর স্ত্রী জৈমিনাবেন প্যাটেল একটি ধর্মীয় সফরে গিয়ে এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েন। হঠাৎ ধেয়ে আসা বন্যা ও কাদার স্রোতে ওই এলাকার বহু ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এখনও অসংখ্য মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এই আকস্মিক নিখোঁজের খবরে ব্লুমফিল্ডে বসবাসরত প্যাটেল দম্পতির প্রতিবেশীরা চরম হতবাক হয়ে পড়েছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভাগ্যক্রমে ওই দম্পতির ৯ বছর বয়সী ছেলে বর্তমানে ভারতে তার আত্মীয়দের কাছে সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছে। নিখোঁজ দম্পতির সন্ধান চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এক আবেগঘন বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "নেপাল সীমান্তের বন্যাদুর্গত এলাকায় আমার বোন ও ভগ্নিপতি নিখোঁজ রয়েছেন। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত উদ্ধারের বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।" এদিকে, ব্লুমফিল্ডের মেয়র জেনি মান্ডেল এই সংকটময় মুহূর্তে প্যাটেল পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকারী দলগুলোর জোর তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও নিখোঁজ মানুষের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। প্যাটেল দম্পতির পাশাপাশি এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন নিউইয়র্কের আরেক দম্পতি রমেশ শর্মা ও নীলম শর্মা। তীর্থযাত্রায় গিয়ে তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় গত বুধবার সকাল থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁদের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।
বাড়ি তৈরির বিশাল নির্মাণ ব্যয় বাঁচাতে এক অভিনব ও সাহসী উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক দম্পতি। কোনো ধরনের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিজেদের স্বপ্নের বাড়ি নিজেদের হাতেই গড়ে তুলে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ম্যাডি ওলসন ও তাঁর স্বামী। মূলত নির্মাণ খরচ কমিয়ে বাড়ির মাসিক মর্টগেজ বা ঋণের কিস্তি সাধ্যের মধ্যে রাখতেই তাঁরা এই চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে মাত্র নয় মাসের মধ্যেই তাঁরা নিজেদের এই নতুন বাড়ির নির্মাণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। বাড়ি তৈরির এই দীর্ঘ যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না। বাড়ির দুটি বাথরুমের মেঝে ও দেয়ালে টাইলস বসানোর মতো অত্যন্ত দক্ষ কাজের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতাই ছিল না ম্যাডি ওলসনের। কিন্তু এই অনভিজ্ঞতা তাঁদের দমিয়ে রাখতে পারেনি। কাজে বারবার ভুল হওয়া এবং সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে তাঁরা হার না মেনে একটু একটু করে এগিয়ে গেছেন। নিজেদের এই 'ডু ইট ইওরসেলফ' (DIY) বা স্বাবলম্বী উদ্যোগের ফলে তাঁরা পেশাদার মিস্ত্রি ও ঠিকাদারদের পেছনে ব্যয় হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন। নিজেদের এই প্রথম বাড়িটি তৈরি করার পুরোটা সময় জুড়ে ওলসন দম্পতি অত্যন্ত কঠোরভাবে তাঁদের নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে থাকার চেষ্টা করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁরা সফলও হয়েছেন। বর্তমানে তাঁদের এই পরিশ্রমের ফসল বাড়িটির জন্য মাসিক মর্টগেজ বা কিস্তি বাবদ ৯০০ ডলারেরও কম অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। নিজেদের একাগ্রতা আর শ্রমে গড়া এই বাড়িটি এখন শুধু তাঁদের কাছে একটি নিরাপদ আশ্রয়ই নয়, বরং সাশ্রয়ী উপায়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই করতে চাওয়া অসংখ্য মানুষের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ওসিওলা কাউন্টিতে লাইসেন্স ছাড়া একাধিক সহায়ক আবাসিক সেবাকেন্দ্র পরিচালনা করে বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ বাসিন্দাদের ওপর নির্যাতন, অবহেলা এবং আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক দম্পতি আপাতত কারাগারেই থাকছেন। আইনজীবী নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতার কারণে তাদের জামিন শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো জানিয়েছে, অভিযুক্ত মেরি ক্যারিংটন ও রোনাল্ড প্যাক চেরিশ হোম কেয়ার নামে সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক লাইসেন্সহীন সেবাকেন্দ্র পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের দাবি, এসব কেন্দ্রে থাকা অসহায় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তদন্তে পাওয়া নথি অনুযায়ী, ওসিওলা কাউন্টির বিভিন্ন চেরিশ হোম কেয়ার কেন্দ্র থেকে কয়েক বছরে শত শতবার জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনেক রোগী তেলাপোকায় ভরা কক্ষে বসবাস করতেন, দরজা-জানালায় তালা লাগিয়ে তাদের আটকে রাখা হতো এবং পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না। এছাড়া বাসিন্দাদের খাদ্য সহায়তার জন্য বরাদ্দ ইবিটি কার্ড আত্মসাৎ এবং লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তিদের দিয়ে ওষুধ বিতরণের অভিযোগও রয়েছে। ৯১১ কলে আত্মহত্যার চেষ্টা, মারধর, সহিংসতা এবং অচেতন বা মৃত্যুর ঘটনায় বারবার জরুরি সহায়তা চাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। ওসিওলা কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের নথিতে দেখা যায়, লুভর কোর্ট এলাকার একটি চেরিশ হোম কেয়ার কেন্দ্র থেকে দেড় বছরেরও কম সময়ে চারবার এমন রোগীর বিষয়ে ৯১১-এ ফোন করা হয়, যাদের শরীরে তখন আর কোনো প্রাণের লক্ষণ ছিল না। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট নাতাশিয়া লুবার্টের বাবার মৃত্যুর ঘটনায়ও ওই কেন্দ্র থেকে জরুরি সেবা চাওয়া হয়। শেরিফের দপ্তর ও মেডিকেল পরীক্ষকের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। তদন্তে অতিরিক্ত ওষুধ প্রয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে, যে ব্যক্তি তাকে ওষুধ দিচ্ছিলেন, তার এ কাজের কোনো বৈধ লাইসেন্স ছিল না। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর কিসিমির সোয়ান ওয়ে এলাকার আরেকটি কেন্দ্র থেকেও এক বাসিন্দাকে মৃত অবস্থায় পাওয়ার খবর দিয়ে ৯১১-এ ফোন করা হয়। আরেকটি ঘটনায়, ২০২৫ সালের ১৯ মে গ্রেট হারবার ড্রাইভের একটি চেরিশ হোম কেয়ার কেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্যগত অবনতির কারণে এক ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে একই বছরের ৪ জুলাই তার মৃত্যু হয়। নাতাশিয়া লুবার্ট জানান, গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকায় তার বাবাকে দ্রুত একটি সেবাকেন্দ্রে স্থানান্তর করতে হয়েছিল। একটি কমিউনিটি সংস্থার মাধ্যমে চেরিশ হোম কেয়ারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়। তার ভাষায়, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে তার বাবাকে নিয়মিত খাবার দেওয়া হবে, গোসল করানো হবে এবং সঠিকভাবে ওষুধ দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে তারা সেই প্রতিশ্রুতির কিছুই রক্ষা করেনি। অন্যদিকে জেমস অটিঞ্জার নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি পার্ক প্লেস বিহেভিয়ারাল হেলথ থেকে চেরিশ হোম কেয়ারের বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিলেন এবং প্রায় পাঁচ বছর সেখানে ছিলেন। ১৮ বছর বয়সে সেখানে যাওয়ার পর তিনি একাধিকবার নির্যাতনের অভিযোগে শেরিফের দপ্তরে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেন, যাদের ওপর নিজের যত্নের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তারাই যদি নির্যাতন করে, তাহলে সেটি কল্পনারও বাইরে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কিছু কর্মসূচি এবং স্থানীয় কয়েকটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রোগীদের এসব লাইসেন্সহীন কেন্দ্রে পাঠিয়ে তাদের দেখভালের জন্য অর্থ প্রদান করেছিল। ফ্লোরিডার শিশু ও পরিবারবিষয়ক বিভাগ (ডিসিএফ) জানিয়েছে, বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছে। তবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। পার্ক প্লেস বিহেভিয়ারাল হেলথ, ইউনিভার্সিটি বিহেভিয়ারাল সেন্টার এবং এইচসিএ ফ্লোরিডার পক্ষ থেকেও রোগীদের কীভাবে লাইসেন্সহীন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে এইচসিএ ফ্লোরিডা জানিয়েছে, তারা তদন্তে সহযোগিতা করছে। এদিকে ২৯ জুন নির্ধারিত জামিন শুনানিতে অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। পাবলিক ডিফেন্ডার এবং কনফ্লিক্ট রেজল্যুশন অফিস উভয়ই তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে না পারায় আদালত নতুন আইনজীবী নিয়োগের উদ্যোগ নেয়। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রোনাল্ড প্যাকের নতুন জামিন শুনানি ২ জুলাই এবং মেরি ক্যারিংটনের শুনানি ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ততদিন তারা কারাগারেই থাকবেন। ওসিওলা কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর তদন্ত এখনো চলমান এবং এই ঘটনায় আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।