ধানের শীষ

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল
শেরপুর-৩ আসনে বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির মাহমুদুল হক রুবেল

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের উপ-নির্বাচনে বড় ব্যবধানে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে শেরপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন নির্বাচনের এই ফলাফল নিশ্চিত করেন।   ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে মাহমুদুল হক রুবেল পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলহাজ মাসুদুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯১ ভোট। রুবেল তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৬৬ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৪৮০ ভোট।   এই আসনে মোট ৫২ দশমিক ১৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোট স্থগিত করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলে।   রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, কিছু বিচ্ছিন্ন স্থানে জাল ভোটের অভিযোগ পাওয়া গেলেও পুলিশ দ্রুত জড়িতদের আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কুড়িগ্রাম-০২ আসনে ধানের শীষের পরাজয় ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফলাফল কারচুপি’: ফেসবুকে ছাত্রদল সভাপতির অভিযোগ

কুড়িগ্রাম-০২ সংসদীয় আসন–এ ধানের শীষ প্রতীকের পরাজয়কে কেন্দ্র করে ভোট কারচুপি ও ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–এর কুড়িগ্রাম জেলা সভাপতি।   পোস্টে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে দলীয় কোন্দল নয় বরং সুপরিকল্পিত ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ফলাফল কারচুপি পরাজয়ের মূল কারণ। তার মতে, নির্বাচনের আগে একটি প্রভাবশালী মহল মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি এবং নির্দিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে নেতাকর্মীদের মনোবল দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তার ভাষ্য, স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর ধানের শীষ প্রতীকের বিজয়।   পুনঃগণনার আবেদন ও আইনি পদক্ষেপ ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী ফলাফল পুনঃগণনার দাবিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। পাশাপাশি নির্বাচনের স্বচ্ছতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট দাখিল করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।   ছাত্রদল নেতা প্রশাসনের প্রতি ভোট পুনঃগণনার মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পুনঃগণনার পর যে ফলাফলই আসুক, তা গণতান্ত্রিকভাবে মেনে নেওয়া হবে।   এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পাঁচ আসনে ধানের শীষের জয়, তবু মন্ত্রিসভায় জায়গা পেল না নোয়াখালী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিজয় অর্জনের পরও নতুন মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর কোনো প্রতিনিধি স্থান না পাওয়ায় দলীয় নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক হতাশা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।   দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের পর একতরফা নির্বাচনগুলো বাদ দিলে নোয়াখালীর অধিকাংশ আসনই বরাবরই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দখলে ছিল। এমনকি ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলের ভরাডুবির মধ্যেও জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে জয় আসে। এবারের নির্বাচনে পাঁচটি আসনে বিজয়ী হওয়ায় স্থানীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে আশা তৈরি হয়েছিল যে অন্তত একজন হলেও মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-১ আসনে এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-২ আসনে জয়নুল আবদিন ফারুক, নোয়াখালী-৩ আসনে বরকতউল্লা বুলু, নোয়াখালী-৪ আসনে মো. শাহজাহান এবং নোয়াখালী-৫ আসনে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন। শুধুমাত্র নোয়াখালী-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী এনসিপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।   জয়নুল আবদিন ফারুক সর্বোচ্চ ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বরকতউল্লা বুলু ও মো. শাহজাহান পাঁচবার করে নির্বাচিত হয়েছেন। মাহবুব উদ্দিন খোকন দ্বিতীয়বার এবং মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।   স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সব সরকারেই নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব ছিল মন্ত্রিসভায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে এবারও জেলার মানুষ একই ধরনের প্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশা করেছিলেন।   জেলা সদরের শ্রীপুরের বাসিন্দা ক্রীড়া সংগঠক মো. জহীর উদ্দিন বলেন, পাঁচটি আসনে ধানের শীষের বিজয়ের পর আমরা আশা করেছিলাম, নোয়াখালীর পরীক্ষিত নেতাদের কেউ না কেউ মন্ত্রী হবেন। দেশনায়ক তারেক রহমান-এর কাছে আমাদের এ প্রত্যাশা রইল।   ব্যবসায়ী আশরাফুল এজাজ বলেন, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা হয়েছে, এটি ইতিবাচক। তবে নোয়াখালী থেকে কাউকে না রাখায় আমরা আশাহত।   জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, নোয়াখালী বরাবরই দলকে আসন উপহার দিয়েছে। এত বর্ষীয়ান নেতা থাকার পরও এবার মন্ত্রী না হওয়াটা দুঃখজনক। লন্ডনপ্রবাসী সাংবাদিক সাহেদ শফিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, দুঃসময়ে রাজপথে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের কেউই মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাননি।   গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য আব্দুজ জাহের বলেন, অন্তত দুই-তিনজন মন্ত্রী হওয়ার আশা ছিল। বর্ধিত মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলে বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসবে।   জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর বলেন, হৃদয়টা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত। আমাদের প্রতি সুবিচার করা হয়নি। নেতা–কর্মীদের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত ছিল।   তবে হতাশার মধ্যেও অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন মন্ত্রিসভা দক্ষতার পরিচয় দেবে এবং ভবিষ্যতে বর্ধিত মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হতে পারে। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর কেউ স্থান না পাওয়ায় জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও মূল্যায়নের দাবি উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
ফেনীতে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা
দাঁড়িপাল্লা সমর্থকদের ওপর হামলা ও দোকান ভাঙচুর, কৃষক দল নেতাকে অব্যাহতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই ফেনীর বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সহিংসতা। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জেলার ফুলগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলায় ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের সমর্থকদের ওপর হামলা, দোকানপাট ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে ‘ধানের শীষ’ সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং এক হৃদয়বিদারক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুলগাজীর মুন্সিরহাট বাজারে জামায়াত সমর্থিত ব্যবসায়ীদের অন্তত পাঁচটি দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মুন্সিরহাট ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. সুমনকে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফুলগাজী উপজেলা বিএনপি জানিয়েছে, দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী এবং কোনো প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ১০-১২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।   এদিকে, দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নে জয়নাল আবেদীন দুলাল নামের এক জামায়াত কর্মীর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ঘটনার সবচেয়ে করুণ অধ্যায়টি ঘটে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে; হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিজের সন্তানের ওপর এমন নৃশংস হামলার খবর সইতে না পেরে স্ট্রোক করে মারা যান দুলালের মা রৌশন আরা বেগম। এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   সহিংসতার ছায়া পড়েছে ছাগলনাইয়াতেও। সেখানে এক জামায়াত নেতার তিনটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জামায়াত নেতারা অবিলম্বে এসকল হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।   ফেনীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) জানিয়েছেন, প্রাপ্ত প্রতিটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান চালানো হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
সুনামগঞ্জের সবগুলো সংসদীয় আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্বম্ভরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের পাঁচ আসনেই ধানের শীষের নিরঙ্কুশ জয়

সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।   সুনামগঞ্জ-১ আসনে (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) বিএনপির প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী তোফায়েল আহমদ খান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৯২ হাজার ৯৬৬ ভোট।   সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই ও শাল্লা) বিএনপির প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ৯৯ হাজার ৫২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির পান ৬৩ হাজার ২২০ ভোট।   সুনামগঞ্জ-৩ আসনে (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ ধানের শীষ প্রতীকে ৯৭ হাজার ৩১৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন তালা প্রতীকে পান ৪২ হাজার ২২৬ ভোট।   সুনামগঞ্জ-৪ আসনে (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) বিএনপির প্রার্থী নূরুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে ৯৮ হাজার ৯২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শামস উদ্দীন পান ৭৫ হাজার ৭৩৬ ভোট।   সুনামগঞ্জ-৫ আসনে (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) বিএনপির প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমেদ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫১ হাজার ৯১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবদুস সালাম আল মাদানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১ লাখ ২ হাজার ১২১ ভোট।   জেলার পাঁচটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ের মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জে দলটির প্রভাব আরও সুদৃঢ় হলো বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জসীম উদ্দীন
‘বোরকা-দাড়ি দেখে সন্দেহ হলেই ধরে ফেলবেন’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী জসীম উদ্দীনের একটি বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তাকে ভোটকেন্দ্রে বোরকা এবং দাড়িওয়ালা ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ নজরদারি ও সন্দেহের ভিত্তিতে তাদের ‘ধরে ফেলার’ নির্দেশ দিতে দেখা গেছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।   গত শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় জসীম উদ্দীন এই মন্তব্য করেন। ভাইরাল হওয়া সেই ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “আবারো নতুন করে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ভোটের শুরুতে এবং শেষে ব্যালট বাক্স চেক করবেন। যদি কোনো বোরকা টোরকা দাড়ি দেখে সন্দেহ হয়, সেখানেই ধরে ফেলবেন।”   নিজের নির্বাচনি এলাকার ১৪২টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে তিনি কঠোর হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আমি বলে দিয়ে যাচ্ছি—আমার বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়া ১৪২টা কেন্দ্র। ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখে এই কেন্দ্রগুলোতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের এক লাখ ধানের শীষের কর্মীরা উপস্থিত থাকবে। কেউ দুই নম্বরি করার চেষ্টা করবেন না। আমিও করব না, আপনারাও করবেন না।”   বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি অবশ্য কিছুটা নমনীয় সুরে জনগণের ভোটাধিকারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “একটা একটা করে ভোট দিয়ে মানুষের জনপ্রিয়তা নিয়েই আমি এমপি হতে চাই। দল-মত নির্বিশেষে আমি আপনাদের কাছে ভোট ভিক্ষা চাচ্ছি। আমার জন্য এবং আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।” এছাড়া তিনি বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া চান।   উল্লেখ্য, কুমিল্লা-৫ আসনে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এখানে বিএনপির জসীম উদ্দীনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়ছেন জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা ও শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেন এবং এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার জুবায়ের আহমেদ। এই হেভিওয়েট লড়াইয়ের আগে জসীম উদ্দীনের এমন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো মন্তব্য নির্বাচনি মাঠে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ 0
বিএনপি নেতার হুমকির ভিডিও ভাইরাল
ধানের শীষ ছাড়া অন্য মার্কায় ভোট দিলে রেহাই নেই: সোনারগাঁয়ে বিএনপি নেতার হুমকিতে ভোটারদের মাঝে চরম আতঙ্ক!

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের নির্বাচনি পরিবেশ এখন এক অপ্রত্যাশিত হুমকির মুখে। ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাতে গিয়ে সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিনের একটি উস্কানিমূলক ও হুমকিমূলক বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট সাদীপুর এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের নির্বাচনি সভায় বক্তব্য রাখছিলেন নিজাম উদ্দিন। সেখানে তিনি খোলাখুলিভাবে হুমকি দিয়ে বলেন, ধানের শীষ প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকে ভোট দিলে নির্বাচনের পর কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। মোবাইল ফোনে ধারণ করা এই বক্তব্যের ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়লে এলাকার সাধারণ মানুষ এবং বিরোধী প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।   ভোটাররা অভিযোগ করেছেন, এ ধরনের বক্তব্য স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের পথে বড় বাধা এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী অঞ্জন দাস উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই হুমকির ফলে ভোটাররা কেন্দ্রমুখী হওয়ার সাহস হারাতে পারেন, যা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়।   তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিনের দাবি, তিনি মূলত তার আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে একটি উঠান বৈঠক করছিলেন এবং যারা প্রকাশ্যে দলের সঙ্গে থাকলেও গোপনে অন্য প্রার্থীর হয়ে কাজ করছেন, তাদের উদ্দেশ্যেই এই ‘শাসনমূলক’ কথা বলেছেন।   এদিকে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আসিফ আল জিনাত জানিয়েছেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি তারা খতিয়ে দেখছেন এবং নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।   সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এই ধরনের ভীতি প্রদর্শনমূলক বক্তব্য বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাধারণ ভোটার ও অন্যান্য প্রার্থীরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
প্রচারণা শেষে ফেরার পথে গুলির মুখে পড়লেন ছাত্রদলের সাবেক নেতা

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ধানের শীষের প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রদলের সাবেক এক নেতার গাড়িতে গুলির ঘটনা ঘটেছে। রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে আড়াইহাজার বাজারের অদূরে সড়কে এ ঘটনা ঘটে।   আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, হামলার শিকার ব্যক্তি মাহমুদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আমির হোসেন। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তাঁর বাড়ি মাহমুদপুরের শ্রীনিবাসদী গ্রামে। ঘটনার সময় তিনি তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন। তাঁর পাশে বসা ছিলেন তাঁর বন্ধু মাহমুদপুর ইউনিয়ন যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান।   ওসি বলেন, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।   সাদেকুর রহমান জানান, তাঁরা দিনভর মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারণা চালান। প্রচারণা শেষে আড়াইহাজার বাজারে গাড়ির টিভি মনিটর মেরামত করে বাড়ি ফেরার পথে গোপালদী-মাহমুদপুর বাইপাস সড়কে একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই যুবক চলন্ত অবস্থায় তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ছোড়ে। চলন্ত গাড়িতে থাকায় গুলি তাঁদের শরীরে লাগেনি।   তিনি আরও জানান, ঘটনার পর নিকটবর্তী দলীয় নেতা-কর্মীদের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি নিয়ে তাঁরা থানায় যান। হামলাকারী দুই যুবকের বয়স অনূর্ধ্ব ৩০ বছর এবং তাঁদের কারও মাথায় হেলমেট ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন।   ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, “হামলা ও গুলি চালানোর অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ 0
আ. লীগ নেতা
নৌকার পক্ষে ভোট করা আ. লীগ নেতা চাইছেন ধানের শীষে ভোট!

বগুড়ার শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলায় এক সময়ের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা এবং নৌকা প্রতীকের কট্টর সমর্থক সহিদুল ইসলাম সরকারের হঠাৎ ‘ভোলবদল’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা ও আলোচনার ঝড় উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একাধিক মামলার আসামি হয়ে জেল খেটে বেরুতেই তিনি এখন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।   সহিদুল ইসলাম সরকার বগুড়ার নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ শাসনামলে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপুর ‘রাতের ভোট’ খ্যাত নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া সদর উপজেলা ও জেলা পরিষদ নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে প্রকাশ্য গণসংযোগ ও ভোট প্রার্থনা করেন। ছাত্র জনতার আন্দোলনের সময় তিনি বিপ্লবীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন বলেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।   গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে থাকা সহিদুল ইসলাম সরকার সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েই ভোল পাল্টে ফেলেন। বর্তমানে তিনি বগুড়া সদর-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভায় তার ব্যানার হাতে মিছিল করার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক ‘ট্রল’।   এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বিএনপি নেতারা। নিশিন্দারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যিনি বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের সব সুবিধা ভোগ করেছেন এবং জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার এজাহারভুক্ত আসামি, তার হাতে ধানের শীষের লিফলেট থাকা শহীদদের আত্মত্যাগের অবমাননা। এ ধরনের সুবিধাবাদীদের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।"   এদিকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সহিদুল ইসলাম সরকার এক অদ্ভুত দাবি তুলেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, তৎকালীন পরিস্থিতিতে চেয়ারম্যান পদ টিকিয়ে রাখতে তাকে কিছু করতে হলেও তিনি আসলে ‘মনেপ্রাণে বিএনপি’ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া তার মিছিলের ছবিগুলোকে তিনি ‘এআই প্রযুক্তি’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বানানো বলে দাবি করেছেন। তবে তার এমন দাবিকে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

নাহিদা বৃষ্টি
আমেরিকা

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0