ধর্ষণ

ধর্ষণ মামলার পলাতক সন্দেহভাজন I ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ব্রঙ্কসের একাধিক ধর্ষণ মামলার পলাতক সন্দেহভাজনের মাগশট প্রকাশ, জনসাধারণের সহায়তা চাইল এনওয়াইপিডি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে সংঘটিত একাধিক ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত এক পলাতক সন্দেহভাজনের মাগশট প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। একই সঙ্গে তাকে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জনসাধারণের কাছে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। এনওয়াইপিডি জানায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্রঙ্কস এলাকায় সংঘটিত একাধিক ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে যাতে কেউ তাকে শনাক্ত করতে পারলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে পারেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সন্দেহভাজনকে নিজ উদ্যোগে আটকানোর চেষ্টা না করে সরাসরি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, মামলাগুলোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে গোয়েন্দারা কাজ করছেন। কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রকাশিত মাগশটের মাধ্যমে জনগণের সহায়তায় সন্দেহভাজনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা গোপনীয়ভাবে জানানো যাবে এবং তথ্যদাতার পরিচয় সুরক্ষিত রাখা হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত গ্রাহাম প্ল্যাটনারের সিনেট দৌড়ের ইতি
ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত গ্রাহাম প্ল্যাটনারের সিনেট দৌড়ের ইতি, ১১ মিনিটের ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত গ্রাহাম প্ল্যাটনার ১১ মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করে সিনেট নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।   ভিডিওতে প্ল্যাটনার নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করেন। তবে তাঁর বক্তব্যকে অনেক সমালোচক “বাস্তবতা-বিবর্জিত” বলে অভিহিত করেছেন। কেউ কেউ তাঁকে “আত্মমুগ্ধ সমাজবিরোধী” (narcissistic sociopath) বলেও মন্তব্য করেছেন।   প্ল্যাটনারের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগ এখনো বিচারাধীন। এ বিষয়ে আদালতের কোনো চূড়ান্ত রায় হয়নি।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
মায়ের ওপর ধ’র্ষণের অভিযোগ I ছবি: সংগৃহীত
মায়ের ওপর ধ’র্ষণের অভিযোগ, প্রতিশোধে যুবককে গলা কে’টে হ’ত্যা করলো ৪ ভাই

ময়মনসিংহ নগরীতে মাকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে তার নিজ বাসায় ঢুকে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৫ জুলাই) সকালে নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোড সংলগ্ন ৩৬ বাড়ি কলোনি এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত যুবকের নাম রাজিব আহমেদ রুবেল (৩৫)। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপুরে নিহতের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে অভিযুক্ত চার ছেলেকে আটক করে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রাজিব নগরীর আর কে মিশন রোড এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। প্রায় এক মাস আগে সে আকুয়া ৩৬ বাড়ি কলোনির ওই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠে এবং নিজের বন্ধুদের নিয়ে বসবাস শুরু করে। অভিযুক্ত ওই বন্ধুরা সবাই সম্পর্কে আপন ভাই। অভিযোগ উঠেছে, গত শুক্রবার রাজিব তাদের মাকে ধর্ষণ করে। পরদিন শনিবার ওই নারীকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মায়ের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতনের চরম প্রতিশোধ নিতেই ওই চার ভাই মিলে রাজিবকে গলা কেটে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।   হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারাই মূলত ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ লাশ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল অর্থাৎ নিহতের মাথার পাশ থেকে একটি মদের বোতলও জব্দ করেছে। ময়মনসিংহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল জানান, ধর্ষণের শিকার ওই নারীর চার ছেলে মিলে রাজিবকে হত্যা করেছে বলে তারা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন। ইতিমধ্যেই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম ওই নারী ও তার দুই ছেলেকে হাসপাতাল থেকে হেফাজতে নিয়েছেন।   চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সার্বিক তদন্তে নেমেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন এবং জোরকদমে কাজ শুরু করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত শেষে দ্রুতই এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো সম্ভব হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নারী অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে ব্রিটেনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত গগনদীপ সিংয়ের ৩৪ বছরের কারাদণ্ড

এক নারীকে অপহরণ করে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা, শারীরিক নির্যাতন এবং ধর্ষণের অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত গগনদীপ সিংকে ৩৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ব্রিটেনের একটি আদালত। বিচারক তাকে ২৮ বছর কারাভোগের পাশাপাশি আরও ছয় বছর বর্ধিত তত্ত্বাবধানে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সাজা ঘোষণার পর জানানো হয়েছে, অন্তত ১৮ বছর কারাভোগের আগে তিনি প্যারোলের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। সাজা শেষে তাকে যুক্তরাজ্য থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।   ব্রিটিশ গণমাধ্যম ও মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩৪ বছর বয়সী গগনদীপ সিং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুইটি ধর্ষণ, অপহরণ, বেআইনিভাবে আটক রাখা এবং গুরুতর শারীরিক ক্ষতির উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ইলিংওয়ার্থ ক্রাউন কোর্টে। শুক্রবার আদালত তার সাজা ঘোষণা করেন।   তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের জুনে। সে সময় ২৪ বছর বয়সী এক নারী থাইল্যান্ড থেকে যুক্তরাজ্যে আসেন। পরে তাকে একটি স্যুটকেস বহনের বিষয়ে সন্দেহজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বার্মিংহাম বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে পশ্চিম লন্ডনের হ্যানওয়েলের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়।   প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বাড়িতে তাকে এক দিনেরও বেশি সময় আটকে রাখা হয়। এই সময় তিনি ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। আদালত শুনেছে, গগনদীপ সিং ওই নারীকে দুইবার ধর্ষণ করেন। পাশাপাশি তাকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানা ধরনের সহিংস আচরণের মুখোমুখি করা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও কাউকে কিছু না বলার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।   তদন্তকারীরা জানান, ঘটনার পর ভয়, মানসিক আঘাত এবং নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভুক্তভোগী শুরুতে পুরো ঘটনা প্রকাশ করতে চাননি। তবে তার মা এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সহায়তায় তিনি ধীরে ধীরে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিতে সক্ষম হন।   মামলার তদন্তে নেতৃত্ব দেওয়া ডিটেকটিভ কনস্টেবল সীতারা আবদুল ভুক্তভোগীর সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই মামলায় ভুক্তভোগী যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, তা কল্পনা করাও কঠিন। তবু তিনি সামনে এসে তদন্তে সহযোগিতা করেছেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।   তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর ওপর এমন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল যে তিনি নিজের জীবন নিয়েও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তাকে নীরব রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের সমর্থন এবং পুলিশের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত সত্য প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে।   তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ভুক্তভোগীর মায়ের সংরক্ষণ করা আলামত থেকে। পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় মেয়ের পরা পোশাক তিনি যত্ন করে সংরক্ষণ করেছিলেন। পরবর্তীতে ফরেনসিক পরীক্ষায় ওই পোশাক থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার সঙ্গে গগনদীপ সিংয়ের মিল পাওয়া যায়। এই প্রমাণই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।   পুলিশের মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভুক্তভোগী বলেন, শুরুতে তিনি পুলিশের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছিলেন। তার আশঙ্কা ছিল অভিযোগ করলে তিনি এবং তার পরিচিতরা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। তবে তার মা তাকে সাহস জুগিয়েছেন এবং আইনি সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহ দিয়েছেন।   নিজের মায়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার মা কখনো হাল ছাড়েননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য পুলিশের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংরক্ষণ করেছেন এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্রও যত্নসহকারে রেখে দিয়েছেন।   ভুক্তভোগী আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের মনে রাখতে হবে যে অপরাধের দায় কখনোই ভুক্তভোগীর নয়। কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও মানুষ নতুন করে জীবন শুরু করতে পারে এবং ন্যায়বিচারের জন্য এগিয়ে আসতে পারে।   ভুক্তভোগীর মা পুলিশের পেশাদার ও মানবিক আচরণের প্রশংসা করে বলেন, মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিষয়টি দেখেছেন এবং পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছেন। তার ভাষায়, এই রায়ের মাধ্যমে অন্তত একটি বিষয় নিশ্চিত হয়েছে যে সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ একজন ব্যক্তি এখন আর সাধারণ মানুষের মধ্যে নেই।   আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বলছে, এই মামলাটি দেখিয়েছে যে ভুক্তভোগী, পরিবার এবং তদন্তকারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে তারা নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ভয় বা সামাজিক চাপ উপেক্ষা করে আইনগত সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিজ মায়ের হাতে তিন সন্তান হত্যার ভয়াবহ বর্ণনা শুনে কেঁদে ফেললেন আদালতে উপস্থিত সদস্যরা

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০