ধর্ষণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।   তিনি জানান, এসব মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকারমূলক বিষয় হিসেবে দেখছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   একই বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে আনা কিছু পরিবর্তন অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ, যা শিগগিরই সংসদে উপস্থাপন করা হবে।   এছাড়া বিশ্ব বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ধর্ষণের পশুবৃত্তি
ধর্ষণের পশুবৃত্তিকে রুখবে কোন শক্তি: ভয়, আইন নাকি সামাজিক বিবেক?

মানুষের ভেতরে দুটি শক্তি সব সময় পাশাপাশি কাজ করে—একটি সভ্যতার, অন্যটি প্রবৃত্তির। সভ্যতা মানুষকে সামাজিক করে, নৈতিক করে, দায়িত্বশীল করে; আর প্রবৃত্তি মানুষকে প্রাণীর সঙ্গে যুক্ত করে, তাকে তাড়না দেয়, তাকে তাড়িত করে। এই দুই শক্তির সংঘর্ষই মানবসভ্যতার ইতিহাসের একটি মৌলিক বাস্তবতা। যখন মানুষের ভেতরে সভ্যতার শক্তি প্রবল থাকে, তখন সে ন্যায়-অন্যায় বিচার করতে পারে, অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করতে পারে, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু যখন প্রবৃত্তি বা পশুবৃত্তি শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং সেই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের কোনো বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ শক্তি উপস্থিত থাকে না, তখন মানুষ ভয়ঙ্কর অপরাধও করতে পারে। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধকে বোঝার ক্ষেত্রে এই মানবিক ও প্রবৃত্তিগত দ্বন্দ্বকে উপেক্ষা করলে সমস্যার গভীরে পৌঁছানো যায় না। মানুষের শরীরে যৌনতা একটি প্রাকৃতিক জৈবিক প্রবৃত্তি। এই প্রবৃত্তি মানব প্রজাতির বংশবৃদ্ধি ও অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কিন্তু সভ্য সমাজ এই প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিয়ম, নীতি, মূল্যবোধ ও আইন তৈরি করেছে। যৌনতা তখনই গ্রহণযোগ্য যখন তা নৈতিকতা, সামাজিক বিধি ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ঘটে। কিন্তু যখন এই প্রবৃত্তি বিকৃত রূপ নেয় এবং অন্যের স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে অগ্রাহ্য করে, তখন তা অপরাধে পরিণত হয়। ধর্ষণ আসলে শুধু যৌনতা নয়; এটি ক্ষমতার অপব্যবহার, সহিংসতা, অন্যকে অপমান করার বিকৃত মানসিকতা এবং মানবিকতার চরম অবক্ষয়ের বহি:প্রকাশ।   অনেকেই মনে করেন, মানুষ যদি ধার্মিক হয়, যদি নিয়মিত নামাজ পড়ে বা পূজা করে, যদি সামাজিকভাবে সম্মানিত হয়, তাহলে সে এমন অপরাধ করবে না। বাস্তবতা কিন্তু সব সময় এই ধারণাকে সমর্থন করে না। ইতিহাসে এমন অসংখ্য ঘটনা আছে যেখানে সমাজে সম্মানিত বা ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষও ভয়াবহ অপরাধ করেছে। আবার অপরদিকে বলা হয় নারীরা পর্দা করলে ধর্ষণ ঘটত না, এক্ষেত্রেও শত শত উদাহরণ আছে পর্দানশীন নারী, বৃদ্ধ নারী বা নবজাতক বা দু-তিন বছরের মেয়ে শিশুও ধর্ষিতা হচ্ছে। এর কারণ হলো ধর্মীয় আচার বা সামাজিক পরিচয় মানুষকে নৈতিকভাবে শক্তিশালী করার একটি উপায় হতে পারে, কিন্তু তা কখনোই নিশ্চিত নিশ্চয়তা নয়। মানুষের চরিত্র গড়ে ওঠে দীর্ঘ পারিবারিক সুশিক্ষা, পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের আচরণ ও অভ্যাস, পরিবারের অন্য সদস্যদের অনৈতিক কার্যকলাপ, পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক শিক্ষা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং নৈতিক বোধের মাধ্যমে। শুধু বাহ্যিক পরিচয় বা আচার দিয়ে মানুষের অন্তর্গত প্রবৃত্তিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। মানুষের মস্তিষ্ক একটি জটিল সিস্টেম। এখানে নানা ধরনের সিগন্যাল বা প্রেরণা বা প্রেষণা কাজ করে। একটি সিগন্যাল মানুষকে কোনো কাজ করতে উৎসাহিত করে, আবার আরেকটি সিগন্যাল সেই কাজ থেকে তাকে বিরত থাকতে বলে। সভ্যতা মূলত মানুষের মস্তিষ্কে এই দ্বিতীয় সিগন্যালটি তৈরি করার চেষ্টা করে-যাকে আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ, বিবেক বা নৈতিক বোধ বলতে পারি। কিন্তু সব মানুষের মধ্যে এই শক্তি সমানভাবে বিকশিত হয় না। অনেক সময় পরিস্থিতি, পরিবেশ, পারিবারিক সুশিক্ষা এবং সুযোগের অভাব এই নৈতিক সিগন্যালকে দুর্বল করে দেয়। এই জায়গায় আইন এবং শাস্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আইন শুধু অপরাধ ঘটার পর বিচার করার জন্য নয়; আইন মানুষের মনে একটি সম্ভাব্য পরিণতির ধারণা তৈরি করে। একজন মানুষ যখন কোনো অপরাধ করার কথা ভাবেন, তখন তার মস্তিষ্কে সম্ভাব্য শাস্তির ছবিও ভেসে ওঠে। এই ভয় অনেক সময় মানুষকে অপরাধ থেকে বিরত রাখে। সমাজবিজ্ঞানে এটিকে ‘ডিটারেন্স’ বা প্রতিরোধমূলক প্রভাব বলা হয়।   মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অনেক সিদ্ধান্তই এই ধরনের মানসিক সিগন্যাল দ্বারা প্রভাবিত হয়। কেউ সাপ ধরে না, কারণ তার মনে সাপের কামড়ে মৃত্যুর ভয় কাজ করে। কেউ ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কিছু লেখার আগে দ্বিধা করে, কারণ তার মনে সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়। কেউ আইন ভাঙতে চায় না, কারণ সে জানে এর জন্য শাস্তি হতে পারে। অর্থাৎ মানুষের আচরণের ওপর ভয় বা সম্ভাব্য পরিণতির ধারণা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এই বাস্তবতা থেকেই অনেকের মনে প্রশ্ন আসে—যদি ধর্ষণের মতো অপরাধের জন্য অত্যন্ত কঠোর এবং প্রকাশ্য শাস্তি দেওয়া হয়, তাহলে কি মানুষের মনে এমন ভয় তৈরি হবে না যা তাকে অপরাধ থেকে বিরত রাখবে? এই প্রশ্নের পেছনে একটি শক্তিশালী যুক্তি আছে। ইতিহাসে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে কঠোর আইন ও দৃশ্যমান শাস্তি অপরাধ কমাতে ভূমিকা রেখেছে। যখন সমাজে একটি বার্তা স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় যে কোনো অপরাধের জন্য কঠিন ও অবধারিত শাস্তি হবে, তখন অনেক মানুষ সেই অপরাধ করার আগে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য হয়। তবে একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাও রয়েছে। শুধু শাস্তির কঠোরতা সব সময় অপরাধ কমানোর একমাত্র বা সবচেয়ে কার্যকর উপায় নয়। গবেষণায় প্রায়ই দেখা যায় যে অপরাধ কমানোর ক্ষেত্রে শাস্তির কঠোরতার চেয়ে শাস্তির নিশ্চিততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ যদি মানুষ মনে করে যে অপরাধ করলে ধরা পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম, তাহলে কঠোর শাস্তির ভয়ও অনেক সময় তাকে অপরাধ ঘটানো থেকে বিরত রাখতে পারে না। কিন্তু যদি সে নিশ্চিত থাকে যে অপরাধ করলে ধরা পড়বেই এবং শাস্তি হবেই, তাহলে তুলনামূলক কম শাস্তিও শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। আরেকটি জটিল বিষয় হলো, কিছু ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি বিপজ্জনক ও বিপরীত ফলও বয়ে আনতে পারে। যেমন কোনো অপরাধের শাস্তি যদি হয় মৃত্যুদণ্ড, তাহলে অপরাধী অনেক সময় প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য ভিকটিমকে হত্যা করার মতো আরও গুরুতর অপরাধ করতে পারে। কারণ তার কাছে তখন আর হারানোর কিছু থাকে না। তাই আইন প্রণয়ন ও শাস্তির মাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ও গবেষণাভিত্তিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।   গণতান্ত্রিক সমাজে আরেকটি প্রশ্ন প্রায়ই উঠে আসে—যদি সমাজের অধিকাংশ মানুষ কোনো কঠোর আইন চায়, তাহলে সেটি কেন সব সময় বাস্তবায়িত হয় না? এর উত্তর সহজ নয়। গণতন্ত্র শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে চলে না; এটি সংবিধান, মানবাধিকার, বিচারব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা সাথেও সম্পৃক্ত। অনেক সময় জনপ্রিয় আবেগের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও টেকসই আইনি প্রভাব বিবেচনা করতে হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে জনগণের উদ্বেগ বা দাবি অগ্রাহ্য করা উচিত। বরং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে, গবেষণা ও বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে হয়। ধর্ষণ প্রতিরোধের প্রশ্নে তাই একমাত্র কোনো একটি পদ্ধতির ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। এটি একটি জটিল সামাজিক সমস্যা, যার শিকড় রয়েছে পরিবার, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন, অর্থনীতি এবং মানসিকতার গভীরে। একটি শিশুর চরিত্র গড়ে ওঠে পরিবারে। যদি ছোটবেলা থেকেই তাকে অন্যের মর্যাদা, সম্মতি এবং মানবিকতার শিক্ষা দেওয়া হয়, তাহলে তার মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণের শক্তি তৈরি হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এই মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সামাজিক সংস্কৃতিও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। অনেক সমাজে এখনও নারীর প্রতি অবমাননাকর দৃষ্টিভঙ্গি বা পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা বিদ্যমান। এই মানসিকতা পরিবর্তন না করলে আইন একা খুব বেশি দূর এগোতে পারে না। সামাজিক ও প্রিন্ট-ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং জনসচেতনতা কর্মসূচি মানুষের মনোভাব পরিবর্তনে সহায়তা করতে পারে। আইনের কার্যকর প্রয়োগ অবশ্যই অপরিহার্য। একটি সমাজে যদি অপরাধের বিচার দীর্ঘসূত্রিতায় আটক   ©️মো: আবদুর রহমান মিঞা (লেখক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক) ই-মেইল: arahmanmiah@gmail.com  

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
রাকসুর বিক্ষোভ
নরসিংদীসহ দেশব্যাপী ধর্ষণ ও সহিংসতার প্রতিবাদে রাকসুর বিক্ষোভ

নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক ধর্ষণ ও সহিংসতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি ) বাদ জুমা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাকসু কার্যালয়ের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।    এসময় তাদেরকে 'ইনকিলাব ইনকিলাব জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ', 'ধর্ষণের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না', 'ধর্ষকের শাস্তি, মৃত্যু মৃত্যু', 'ধর্ষকের আস্তানা, ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও', 'আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকের ঠাঁই নাই', 'ধর্ষকের শাস্তি হোক, ইনসাফের জয় হোক', 'নির্বাচনের পনেরো দিনে, প্রশাসনকে নিলো কিনে', 'তারেক রহমান জানেন নাকি, ধর্ষকের নেতা আপনি, এ ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়।    বিক্ষোভে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি ) কাউসার হাবিব বলেন, সরকার গঠনের পরপরই নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে নরসিংদী পর্যন্ত যে নৃশংসতা ঘটেছে। বিশেষ করে এক কন্যাশিশুকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও হত্যা,  শুধু একটি অপরাধ নয়। এটি মানবতার বিরুদ্ধে ঘৃণ্যতম অপরাধ। এমন বর্বরতা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে এই পৈশাচিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একইসাথে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।    তিনও আরো বলেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, দেশের মা-বোনদের সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দেশের ছাত্রসমাজ ও সচেতন জনতা সবসময়ই ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে প্রস্তুত, এ কথা সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্মরণ রাখতে হবে।    এসময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, সারা দেশে যেভাবে হত্যা ও একটি বিশেষ দলীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা ধর্ষনের সাথে জড়িত হচ্ছে এবং ধর্ষিত করার পর হত্যা করা হচ্ছে এগুলা দেখার পর বাংলাদেশের প্রশাসন ও বিচার বিভাগ যেভাবে নীরব হয়ে আছে আমরা বলতে চাই এরকম অন্যায় অবিচার নিজের দলের লোক করলেও যদি আপনি এর বিচার করেন তাহলে আমরা মনে করবো আপনি ইনসাফের পক্ষে রয়েছেন, আর যদি নিজের দলের লোক মনে করে বিচার বিভাগকে হাতে নিয়ে বিচারকে দমিত করে ধর্ষককে নিরাপত্তা দেন তাহলে আমরা মনে করবো আপনি স্বৈরাচার হিসাবে আর্বিভূত হয়েছেন।     তিনি আরও বলেন, এরকম স্বৈরাচারী আচরণ থেকে বিরত হয়ে ধর্ষকের বিচার ও ধর্ষকদের শাস্তি নিশ্চিত করে সে ছাত্রদল হোক বিএনপি হোক ধর্ষক যা সে স্রেফ ধর্ষকই এদের বিচার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখবে ইনশাআল্লাহ। আমরা ধর্ষনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি সেই সাথে ধর্ষিতা বোনদের জন্য দোয়া করছি।    উল্লেখ্য, বিক্ষোভ মিছিলে রাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, হল সংসদের নেতৃবৃন্দসহ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
সরিষা ক্ষেত থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ছবিঃ সংগৃহীত
ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে তুলে নিয়ে হত্যা, নরসিংদীতে গ্রেপ্তার ৫

নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ার জেরে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নিহতের মা বাদী হয়ে মাধবদী থানা-এ মামলা করেন।   একই রাতে জেলা পুলিশ ও র‌্যাব-১১ সিপিএসসি নরসিংদীর যৌথ অভিযানে মাধবদীর কোতালীরচর হোসেন বাজার এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   গ্রেপ্তাররা হলেন মো. এবাদুল্লাহ (৪০), মো. আইয়ুব (৩০), গাফফার (৩৪), মহিষাশুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫) এবং তাঁর ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২)।   মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, মামলায় নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।   এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালীরচর দড়িকান্দী এলাকায় একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আমেনা আক্তার (১৫) নামে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।   স্বজনদের ভাষ্য, নিহতের বাবা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সূত্রে তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় কয়েকজন যুবক মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়।   গত বুধবার রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগীকে নিয়ে তার খালার বাড়ি যাচ্ছিলেন বাবা। বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন যুবক মেয়েটিকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও না পেয়ে পরিবার বাড়ি ফিরে যায়। পরদিন সকালে সরিষা ক্ষেত থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
নৌকায় তুলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, চারজনের যাবজ্জীবন

জোরপূর্বক নৌকায় তুলে বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে এক যুবতীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনায় চার জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি ট্রাইব্যুনাল।   দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন শহিদুল ইসলাম, নিজাম, মনির হোসেন সেন্টু ও সাইফুল ইসলাম। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।   মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ২৫ বছর বয়সী ভুক্তভোগী যুবতী তার এক বান্ধবীর সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন আশ্রাফাবাদ এলাকায় বেড়াতে যান। সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন আসামি তাকে জোরপূর্বক একটি নৌকায় তুলে বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে তাকে একটি বাড়ির কক্ষে আটকে রাখা হয়।   পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং এ ঘটনায় কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৩) ধারায় চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।   মামলার বিচার চলাকালে আটজন সাক্ষী বিভিন্ন সময়ে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।   প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

জান্নাত নিশাত
বিশ্ব

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি তরুণী নিশাতের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটিত

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0