- প্রচ্ছদ
- Topic
নিউইয়র্ক
নিউইয়র্কে স্ন্যাপ বা ইবিটি তোমার মাথায় কি উকুন সুবিধা নেওয়া অনেক বাসিন্দার জন্য নতুন কাজের নিয়ম কার্যকর হয়েছে। বিশেষ করে ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের একটি অংশ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করলে তাদের স্ন্যাপ সুবিধা সীমিত বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশিসহ নিউইয়র্কে বসবাসরত যেসব পরিবার এই সুবিধা পান, তাদের জন্য নতুন নিয়মগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির তথ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মটি মূলত এমন কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, যাদের ওপর নির্ভরশীল ছোট সন্তান নেই। একজন ব্যক্তির বয়স ১৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে হলে, তার সঙ্গে ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু বসবাস না করলে এবং শারীরিক বা মানসিক কারণে কাজ করতে অক্ষম হিসেবে ছাড় না থাকলে তিনি এই কাজের শর্তের আওতায় পড়তে পারেন। নতুন নিয়মে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, বয়স ১৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে হতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তির সঙ্গে ১৪ বছরের কম বয়সী নির্ভরশীল শিশু না থাকলে কাজের শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। তৃতীয়ত, কোনো বৈধ ছাড় না থাকলে মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, স্বেচ্ছাসেবা বা অনুমোদিত প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে। মাসে ৮০ ঘণ্টার হিসাবে সপ্তাহে গড়ে প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ বা অনুমোদিত কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে হয়। কেউ চাকরি করলে সেই কাজের সময় গণনা হতে পারে। একইভাবে অনুমোদিত চাকরির প্রশিক্ষণ, শিক্ষা বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের নির্দিষ্ট সময়ও শর্ত পূরণে বিবেচিত হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তিন মাসের সীমা। যাদের ওপর এই কাজের শর্ত প্রযোজ্য, তারা প্রয়োজনীয় কাজ বা অনুমোদিত কার্যক্রমে অংশ না নিলে এবং কোনো ছাড়ের আওতায় না থাকলে তিন বছরের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র তিন মাস স্ন্যাপ সুবিধা পেতে পারেন। এরপর আবার যোগ্যতা অর্জন না করা পর্যন্ত সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। নতুন ফেডারেল আইনে এই কাজের শর্তের আওতায় পড়ার বয়সসীমাও বাড়ানো হয়েছে। আগে সর্বোচ্চ বয়স ছিল ৫৪ বছর। নতুন নিয়মে তা বাড়িয়ে ৬৪ বছর করা হয়েছে। ফলে ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী অনেক কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কও এখন এই শর্তের আওতায় আসতে পারেন। তবে ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী হলেই সবার স্ন্যাপ সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। গর্ভবতী নারী, শারীরিক বা মানসিক কারণে কাজ করতে অক্ষম ব্যক্তি এবং ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুর সঙ্গে বসবাসকারী ব্যক্তি কাজের এই বিশেষ সময়সীমা থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন। এ ছাড়া নির্দিষ্ট ধরনের প্রতিবন্ধী ভাতা বা সম্পূরক নিরাপত্তা আয় গ্রহণকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রেও সাধারণ কাজের শর্ত থেকে ছাড় থাকতে পারে। কারও পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও ছাড় প্রযোজ্য হতে পারে। তাই নিজের ক্ষেত্রে নিয়মটি প্রযোজ্য কি না, সেটি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। নতুন আইনে আগে বিশেষ ছাড় পাওয়া কয়েকটি শ্রেণির মানুষের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। কিছু সাবেক সেনাসদস্য, গৃহহীন ব্যক্তি এবং পালক পরিবার থেকে বেরিয়ে আসা নির্দিষ্ট বয়সী তরুণ তরুণীর ক্ষেত্রেও নতুন কাজের শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। যারা নিউইয়র্ক সিটির মানবসম্পদ প্রশাসন থেকে কাজের কার্যক্রমসংক্রান্ত চিঠি বা নোটিশ পেয়েছেন, তাদের সেটি উপেক্ষা করা উচিত নয়। চাকরি, প্রশিক্ষণ বা অন্য অনুমোদিত কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার প্রমাণ চাওয়া হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা জমা দিতে হবে। অনলাইনে নিজের সরকারি সুবিধার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া যায়। চাইলে নিকটস্থ মানবসম্পদ প্রশাসনের কার্যালয়েও যোগাযোগ করা যেতে পারে। কাজ করতে না পারার বৈধ কারণ থাকলে সেটিও কর্তৃপক্ষকে জানানো জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্রসহ অতিরিক্ত প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। পারিবারিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও তথ্য হালনাগাদ করা গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে, ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু আপনার সঙ্গে বসবাস শুরু করলে সেটি আপনার ওপর কাজের বিশেষ শর্ত প্রযোজ্য হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির স্ন্যাপ সহায়তা নম্বর ৭১৮-৭৬২-৭৬৬৯। নিজের সুবিধার বর্তমান অবস্থা, নতুন কাজের শর্ত কিংবা কোনো ছাড় প্রযোজ্য কি না জানতে এই নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি বাংলাদেশি বা অভিবাসী পরিবারগুলোর স্ন্যাপ সুবিধা একযোগে বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত নয়। জাতীয়তা বা বাংলাদেশি পরিচয়ের কারণে কারও সুবিধা বন্ধ হবে না। কার ওপর নতুন কাজের শর্ত প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করবে বয়স, কাজের সক্ষমতা, নির্ভরশীল শিশু, কাজ বা অনুমোদিত কার্যক্রম এবং প্রযোজ্য ছাড়ের ওপর। তাই যারা বর্তমানে নিউইয়র্কে স্ন্যাপ সুবিধা পাচ্ছেন, তাদের কর্তৃপক্ষের পাঠানো চিঠি বা নোটিশ ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি। নিজের ওপর নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হলে নির্ধারিত কাজের সময়ের তথ্য অথবা ছাড় পাওয়ার প্রমাণ সময়মতো জমা না দিলে স্ন্যাপ সুবিধা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নিউইয়র্ক সিটির গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও নিরাপদ করতে এবার কিউ৮ বাস রুটে চালু হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ। শুক্রবার থেকেই এই রুটে বাস স্টপ আটকে রাখা, ডাবল পার্কিং কিংবা অবৈধভাবে বাস লেন ও বাসওয়ে ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এমটিএ)। এখন থেকে রাস্তায় কোনো ট্রাফিক পুলিশ উপস্থিত না থাকলেও বাসে সংযুক্ত ক্যামেরার মাধ্যমেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত করে জরিমানার নোটিশ পাঠানো হবে। কুইন্সের জ্যামাইকা বাস টার্মিনাল থেকে ব্রুকলিনের গেটওয়ে মল পর্যন্ত চলাচলকারী কিউ৮ বাসটি ১০১তম অ্যাভিনিউ হয়ে দুই বরোর মধ্যে বিপুল সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করে। ব্যস্ততম এই রুটে প্রতিদিনের যানজট ও বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এমটিএ এই অটোমেটেড ক্যামেরা এনফোর্সমেন্ট কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। নতুন এই নিয়মের আওতায় কোনো গাড়ির মালিক প্রথমবার অবৈধভাবে বাস লেন ব্যবহার বা পার্কিং করলে তাকে ৫০ ডলার জরিমানা গুনতে হবে। তবে একই গাড়ি বারবার নিয়ম ভাঙলে জরিমানার পরিমাণ ধাপে ধাপে বেড়ে সর্বোচ্চ ২৫০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এমটিএ কর্তৃপক্ষের মতে, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য কেবল জরিমানা আদায় করা নয়, বরং বাস চলাচলে অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা দূর করে যাত্রীদের মূল্যবান সময় বাঁচানো। বাস স্টপ বা বাস লেন অন্য গাড়ির দখলে থাকলে বাসগুলোকে বাধ্য হয়ে অন্য লেনে যেতে হয়, যা যাত্রীদের ওঠানামা ও সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। চলতি বছর নিউইয়র্ক সিটির ১৪তম বাস রুট হিসেবে কিউ৮-এ এই প্রযুক্তি যুক্ত হলো। ফলে এখন থেকে এই রুটের আশপাশে গাড়ি চালানো বা পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে চালকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, অন্যথায় ক্যামেরার চোখ ফাঁকি দিয়ে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না।
নিউইয়র্কের কুইন্সের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে হামলার শিকার হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি ওয়াহেদ আলী মন্ডল। মঙ্গলবার দুপুরে বাসায় ফেরার পথে এক ব্যক্তি তার ওপর আকস্মিক হামলা চালায় বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহত অবস্থায় তাকে এলমহার্স্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জ্যাকসন হাইটস থেকে নর্দার্ন বুলেভার্ডের বাসায় ফিরছিলেন ওয়াহেদ আলী মন্ডল। ৭১তম স্ট্রিট ও ৩৫তম অ্যাভিনিউয়ের কাছে পৌঁছালে একটি রিহ্যাব সেন্টারের কর্নারে হঠাৎ এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হামলাকারী ওয়াহেদ আলী মন্ডলের ঘাড়, বুক, গলা ও মুখে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে আশপাশে থাকা লোকজন তাকে ধাওয়া করে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হামলায় আহত ওয়াহেদ আলী মন্ডলকে চিকিৎসার জন্য কুইন্সের এলমহার্স্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার আঘাতের বিস্তারিত অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতাল বা চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ওয়াহেদ আলী মন্ডলের বড় ছেলে মোক্তার হোসেন তার বাবার ওপর হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বাবার দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। হামলাকারী হিসেবে আটক ব্যক্তির পরিচয় এবং তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। একইভাবে কী কারণে ওয়াহেদ আলী মন্ডলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনার পেছনে জাতিগত, ধর্মীয় বা অন্য কোনো বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটিকে এখনই হেইট ক্রাইম হিসেবে উল্লেখ করার সুযোগ নেই। নিউইয়র্ক পুলিশ ঘটনাটি হেইট ক্রাইম হিসেবে তদন্ত করছে কি না, সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জ্যাকসন হাইটস ও এর আশপাশের এলাকা নিউইয়র্কের অন্যতম বৃহৎ বাংলাদেশি কমিউনিটির আবাসস্থল। এলাকাটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সংগঠন রয়েছে। প্রকাশ্য রাস্তায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ বাংলাদেশির ওপর হামলার খবরে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি জানতে পুলিশের তদন্ত এবং আনুষ্ঠানিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হামলার কারণ, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং ঘটনাটি কোনো ধরনের বিদ্বেষমূলক অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
নিউইয়র্ক সিটির বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর আরোপিত বিতর্কিত ‘পিয়ে-আ-তের’ (Pied-à-terre) কর বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন আদালত। এর জেরে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি গভর্নর হোকুলের পুনর্নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মঙ্গলবার প্রকাশিত নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ওয়েন ওজি সোমবার কর বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই করটি নিয়ে রাজ্য সরকার ও সিটি হলের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিতর্কিত এই করের লক্ষ্য নিউইয়র্ক সিটিতে থাকা উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় আবাসন বা বিলাসবহুল বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা। চলতি বছরের মে মাসে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা রাজ্য বাজেটের অংশ হিসেবে করটির অনুমোদন দেন। এটি ছিল মেয়র মামদানি এবং তার সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর একটি। তবে কর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পরপরই একাধিক জটিলতা সামনে আসে। এরপর আদালতের স্থগিতাদেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এ অবস্থায় গভর্নর হোকুলের কার্যালয় জানিয়েছে, করটির বাস্তবায়নের দায় নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের। গভর্নরের মুখপাত্র জেনিফার গুডম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, এই মামলাটি কর বাস্তবায়নের প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে, যা আদালত এবং সিটি প্রশাসনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। তবে গভর্নর এখনও মনে করেন, যারা নিউইয়র্ক সিটিতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের দ্বিতীয় বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখেন, তারা ন্যায্য হারে কর দেওয়ারও সামর্থ্য রাখেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন গভর্নর নির্বাচন সামনে রেখে হোকুল এই বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চাইছেন। ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, নির্বাচনের আগে হোকুলের জন্য ‘কর বাড়ানো ও অতিরিক্ত ব্যয়ের’ ভাবমূর্তি মোটেই সুবিধাজনক নয়। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যান এই ইস্যুতে গভর্নরকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। কুইন্সে এক নির্বাচনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, হোকুল নিজের ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। তার দাবি, ডেমোক্রেটিক পার্টিতে এখন মামদানির প্রভাব বেড়েছে এবং গভর্নর তার চাওয়া অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এদিকে, আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করেছে মামদানির প্রশাসন। তাদের দাবি, স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হলে মামলার শুনানি চলাকালেও কর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তবে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী র্যান্ডি মাস্ত্রো অভিযোগ করেছেন, আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পরও সিটি প্রশাসন কর বাস্তবায়নের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আদালতে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘আইনের শাসনের পরিপন্থী’ বলে উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের বর্তমান স্থগিতাদেশ শুধু তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক জটিলতাই নয়, ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক সিটির দীর্ঘদিনের জটিল সম্পত্তি কর ব্যবস্থার বড় ধরনের সংস্কারের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। কারণ, এই কর কার্যকর করতে হলে শহরের বিদ্যমান সম্পত্তি কর কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে হতে পারে, যা অতীতের কোনো মেয়রই বাস্তবে কার্যকর করতে পারেননি। রিপাবলিকান নেতারাও এই সুযোগে গভর্নর হোকুলের সমালোচনা আরও জোরদার করেছেন। অঙ্গরাজ্যের কম্পট্রোলার পদপ্রার্থী জোসেফ হার্নান্দেজ বলেন, মামদানি নতুন কর চেয়েছিলেন, হোকুল সেটি অনুমোদন দিয়েছেন। এখন এর পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে নিউইয়র্কের বাড়ির মালিকদের। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মাইকেল ট্যানুসিসও দাবি করেন, এই করের বাস্তবায়ন যেমন সমস্যায় পড়েছে, তেমনি করটির প্রয়োজনীয়তাও প্রশ্নবিদ্ধ। তার ভাষায়, শুধু বাস্তবায়ন নয়, এমন করই থাকা উচিত নয়। নিউইয়র্কে ‘পিয়ে-আ-তের’ কর নিয়ে আইনি লড়াই এখনও চলমান। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে করটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না এবং এটি গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক অবস্থানে কতটা প্রভাব ফেলবে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি যখন ধনীদের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর নতুন কর আরোপের উদ্যোগ নিচ্ছেন, ঠিক তখনই সাধারণ বাড়ির মালিকেরা এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। কো-অপ এবং কন্ডো (condo) মালিকদের দাবি, বর্গফুটের ভুল হিসাবের কারণে তারা বছরের পর বছর ধরে অতিরিক্ত সম্পত্তি কর বা প্রপার্টি ট্যাক্স দিয়ে আসছেন। সব মিলিয়ে পুরো শহরে যার পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে লাখ লাখ ডলারে। অথচ এখন নিজেদের অতিরিক্ত দেওয়া টাকা ফেরত বা রিফান্ড পেতে গিয়ে নগর কর্তৃপক্ষের কাছে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। আপার ওয়েস্ট সাইডের শতবর্ষী একটি কো-অপ ভবনের বাসিন্দা এলেন সিলভারম্যান জানান, ভবনের সংস্কার কাজের সময় একজন স্থপতি দিয়ে নতুন করে মাপজোক করা হলে এই বিশাল গরমিল ধরা পড়ে। তিনি দেখতে পান, ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের রেকর্ডে থাকা তথ্যের চেয়ে তাদের ভবনের প্রকৃত আয়তন ২২ শতাংশ কম। নিউইয়র্ক সিটি মূলত বাসযোগ্য বর্গফুটের একটি জটিল সূত্রের ওপর ভিত্তি করে কর নির্ধারণ করে থাকে। এই ভুল হিসাবের কারণে গত ৪০ বছর ধরে ভবনটিকে লাখ লাখ ডলার অতিরিক্ত কর গুণতে হয়েছে। ২০২৩ সালে সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে 'ক্ল্যারিক্যাল এরর রিপোর্ট' জমা দেওয়ার পর ভবিষ্যতের জন্য আয়তন সংশোধন করা হলেও, আইন অনুযায়ী পূর্ববর্তী ছয় বছরের পাওনা রিফান্ড দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। একই ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন আপার ইস্ট সাইডের বাসিন্দা অ্যান্ড্রু ক্যাভাগনারো। তার ভবনের আয়তনও প্রায় ১০ হাজার বর্গফুট বেশি দেখানো হয়েছিল। অভিযোগ জানানোর পর তাকে মাত্র দুই বছরের রিফান্ড দেওয়া হয়েছে, অথচ তার নিয়ম অনুযায়ী ছয় বছরের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত পাওয়ার কথা ছিল। প্রপার্টি ট্যাক্স কনসালট্যান্ট স্ট্যান রুশো জানান, নিউইয়র্কের প্রায় ৭০ শতাংশ কন্ডো ও কো-অপ ভবনের বর্গফুটের হিসাবে এ ধরনের অতিরঞ্জন রয়েছে। গত বছর সিটি কর্তৃপক্ষ রিফান্ড পাওয়ার যোগ্য সময়সীমা ছয় বছর থেকে কমিয়ে তিন বছরে নামিয়ে এনেছে। রুশোর মতে, কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবেই রিফান্ড দেওয়ার প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে, যাতে বাসিন্দাদের টাকা ফেরত দিতে না হয়। এদিকে এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্স। তারা শুধু একটি লিখিত বিবৃতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের 'ট্যাক্স কমিশন'-এর কাছে আপিল করার পরামর্শ দিয়েছে। তবে ট্যাক্স কমিশন বা মেয়র মামদানির দপ্তর থেকে একাধিকবার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পায়নি সংবাদমাধ্যমগুলো। নিউইয়র্ক সিটিতে বর্তমানে সাত হাজারের বেশি কন্ডো এবং কো-অপ ভবন রয়েছে। সিটি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সুস্পষ্ট উত্তর বা সহযোগিতা না পেয়ে ভুক্তভোগী মালিকরা এখন নিজেদের অধিকার আদায়ে স্থানীয় ও রাষ্ট্রীয় আইনপ্রণেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বাড়ি কেনার খরচ যখন অনেকের নাগালের বাইরে, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে ইউটিকার শহরে। নিউইয়র্ক সিটির প্রায় চার ঘণ্টা উত্তরে অবস্থিত এই শহরে কিছু এলাকায় বাড়ির গড় মূল্য ৮৭ হাজার ডলারের কাছাকাছি, আর মাসিক ভাড়া শুরু হচ্ছে প্রায় ৯০০ ডলার থেকে। কিন্তু এত সাশ্রয়ী হওয়ার পরও শহরটি জনসংখ্যা ধরে রাখতে পারছে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অন্যতম সাশ্রয়ী আবাসন বাজার এখন ইউটিকা। এলাকাভেদে বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৮৭ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের মধ্যে। তবে শহরটির সামগ্রিক গড় বাড়ির মূল্য আরও বেশি, প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার ৪১২ ডলার, যা গত এক বছরে প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে। বাড়ির দামের পাশাপাশি ইউটিকার জীবনযাত্রার ব্যয়ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গড়ের তুলনায় প্রায় ২৮ থেকে ৩৩ শতাংশ কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু বাড়ি ১ লাখ ডলারেরও নিচে তালিকাভুক্ত রয়েছে। এমনকি পাঁচ বেডরুমের একটি বাড়ির দাম ৮৯ হাজার ৯০০ ডলার এবং তিন বেডরুমের একটি বাড়ির দাম ৯৯ হাজার ৯০০ ডলার রাখা হয়েছে। কিন্তু কম দামের আবাসনই ইউটিকার সবচেয়ে বড় সমস্যা সমাধান করতে পারছে না। শহরটির জনসংখ্যা ২০২০ সালের আদমশুমারির পর থেকে ৪ শতাংশের বেশি কমেছে। সাম্প্রতিক বছরেও প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ শহরটি ছেড়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বর্তমানে জনসংখ্যা বছরে প্রায় শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ হারে কমছে। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট। একসময় শিল্পনির্ভর ইউটিকা কয়েক দশকের শিল্পায়ন পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিবর্তনে বড় ধরনের কর্মসংস্থান হারিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিষ্ঠানের কারখানা বন্ধ হওয়া এবং চাকরি শহরের বাইরে চলে যাওয়ার ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ও করভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। শহরটির মধ্যম পারিবারিক আয় এখন প্রায় ৫২ হাজার ডলার, যা নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গড়ের তুলনায় অনেক কম। ২০২৪ সালে ইউটিকার একজন ব্যক্তির মধ্যম আয় ছিল প্রায় ৩০ হাজার ৭৮৫ ডলার। একই সঙ্গে শহরটির দারিদ্র্যের হার ২৭ শতাংশের বেশি, যা জাতীয় হারের প্রায় দ্বিগুণ। বেকারত্বের হারও প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। ফলে ইউটিকার আবাসন বাজারে একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে। বাড়ি কেনার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ভালো বেতনের চাকরি ও অর্থনৈতিক সুযোগের অভাব অনেক মানুষকে অন্য শহরে চলে যেতে উৎসাহিত করছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে সাশ্রয়ী শহরের তালিকা অবশ্য কোন তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হচ্ছে তার ওপর পরিবর্তিত হয়। ২০২৬ সালের আরেকটি আবাসন বিশ্লেষণে জামেস্টাউনকে অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে সাশ্রয়ী স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে মধ্যম বাড়ির মূল্য প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৯১৪ ডলার এবং মধ্যম ভাড়া ৭৫৯ ডলার। তবে ইউটিকাকে আলাদা করে আলোচনায় এনেছে কম দামে বাড়ি পাওয়ার সুযোগ এবং একই সঙ্গে জনসংখ্যা কমে যাওয়ার বাস্তবতা। অর্থাৎ, এখানে সাশ্রয়ী দামে বাড়ি কেনা সম্ভব হলেও সেটিকে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলতে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
অনলাইনে চাকরি খুঁজতে বা আবেদন করতে স্বচ্ছন্দ নন? কম্পিউটার ব্যবহারে অভ্যস্ত নন, কিংবা নতুন করে চাকরি খোঁজা শুরু করেছেন? নিউইয়র্কে এমন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সরাসরি গিয়ে চাকরি খোঁজা, আবেদন প্রস্তুত করা এবং নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নিউইয়র্ক সিটির ওয়ার্কফোর্স১ ক্যারিয়ার সেন্টার। এখানকার সেবাগুলো বিনামূল্যে। নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরো বা এলাকায় মোট ১৮টি ওয়ার্কফোর্স১ ক্যারিয়ার সেন্টার রয়েছে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি রয়েছে এমন ব্যক্তিরা এসব সেন্টারের সেবা নিতে পারেন। সেখানে গিয়ে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা সম্পর্কে জানিয়ে উপযুক্ত চাকরির সুযোগ খোঁজার পাশাপাশি ক্যারিয়ার পরামর্শ, ইন্টারভিউ প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের তথ্য পাওয়া যায়। যারা অনলাইনে চাকরির আবেদন করতে জানেন না, তাদের জন্যও এই সেন্টারগুলো কাজে আসতে পারে। ওয়ার্কফোর্স১ ক্যারিয়ার সেন্টারে বায়োডাটা তৈরি বা আপডেট করা, ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি এবং চাকরি খোঁজার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে কর্মশালা আয়োজন করা হয়। সেন্টারভেদে কর্মশালার সময়সূচি আলাদা হতে পারে। ইংরেজির পাশাপাশি আরও ২৫টি ভাষায় সেবা পাওয়া যায় এবং প্রয়োজন হলে ফোনে অনুবাদ সেবাও রয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হলো নিউইয়র্ক সিটি জবস। নিউইয়র্ক সিটির এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত চাকরির মেলা, নিয়োগ আয়োজন এবং তথ্য সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলা, বিভিন্ন চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানা এবং ক্যারিয়ার ও প্রশিক্ষণ নিয়ে তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকে। জবস এনওয়াইসির (jobs NYC) ওয়েবসাইটে গিয়ে এসব আয়োজনের সময়সূচিও দেখা যায়। সেখানে কোন দিন, কোন এলাকায়, কখন চাকরির মেলা বা নিয়োগ আয়োজন হবে, তার বিস্তারিত তথ্য দেওয়া থাকে। সরকারি চাকরিতে আগ্রহীদের জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে তথ্য সেশনও তালিকাভুক্ত থাকে। ফলে যারা অনলাইনে নিয়মিত চাকরির খবর খুঁজে পান না, তারাও ওয়েবসাইটটি দেখে নিজেদের সুবিধামতো আয়োজন বেছে নিতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে, আগস্ট ২০২৬-এর তালিকায় কুইন্সে ২৫ আগস্ট একটি জবস এনওয়াইসি হায়ারিং হল এবং ২৬ আগস্ট ফার রকাওয়েতে একটি নিয়োগ আয়োজন রয়েছে। এসব আয়োজনে চাকরিপ্রার্থীরা সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন। কিছু অনুষ্ঠানে আগাম নিবন্ধন করা ভালো হলেও, আসন পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও ওয়াক-ইন করার সুযোগ রাখা হয়। তবে ওয়াক-ইন সুবিধা প্রতিটি অনুষ্ঠানে এক রকম নয়, তাই যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আয়োজনের তথ্য দেখে নেওয়া জরুরি। এসব চাকরির মেলা বা নিয়োগ আয়োজনে গেলে সঙ্গে কয়েক কপি বায়োডাটা এবং একটি ফটো আইডি রাখা ভালো। অনেক অনুষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকে এবং কোনো কোনো নিয়োগদাতা ঘটনাস্থলেই ইন্টারভিউ নিতে পারেন। তবে সেখানে গেলেই চাকরি বা ইন্টারভিউ নিশ্চিত হবে না। শুধু বেসরকারি চাকরি নয়, নিউইয়র্ক সিটি সরকারের চাকরির বিষয়েও জবস এনওয়াইসির মাধ্যমে তথ্য পাওয়া যায়। সিভিল সার্ভিস ১০১ ধরনের তথ্য সেশনে সিটি সরকারের চাকরি, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা এবং চাকরির আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। তাই নিউইয়র্কে যারা নতুন এসেছেন, চাকরি হারিয়েছেন, দীর্ঘ বিরতির পর আবার কাজ শুরু করতে চান, কিংবা অনলাইনে চাকরির আবেদন করতে স্বচ্ছন্দ নন, তাদের শুধু অনলাইনে চাকরি খোঁজার ওপর নির্ভর করতে হবে না। কাছের ওয়ার্কফোর্স১ ক্যারিয়ার সেন্টারে গিয়ে সরাসরি পরামর্শ নেওয়া যায়। পাশাপাশি জবস এনওয়াইসির ওয়েবসাইটে নিয়মিত চোখ রাখলে নিজের এলাকার কাছাকাছি চাকরির মেলা, নিয়োগ আয়োজন, প্রশিক্ষণ ও তথ্য সেশনের সময়সূচিও জানা যাবে।
নিউইয়র্কের আপস্টেটের শহর ইউটিকায় যেন চলছে নতুন বাসিন্দা খোঁজার এক মরিয়া চেষ্টা। নিউইয়র্ক সিটির আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিপরীতে এই শহরটি নীরবে রাজ্যের অন্যতম সাশ্রয়ী আবাসন বাজারে পরিণত হয়েছে। একাধিক মার্কেট ট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী, এলাকাভেদে এখানকার একেকটি বাড়ির গড় মূল্য মাত্র ৮৭ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের মধ্যে। মাসিক ভাড়াও শুরু হয় মাত্র ৯০০ ডলার থেকে। সামগ্রিকভাবে নিউইয়র্ক রাজ্যের গড়ের চেয়ে ইউটিকার জীবনযাত্রার ব্যয় প্রায় ২৮ থেকে ৩৩ শতাংশ কম। নিউইয়র্ক সিটির লাগামহীন ব্যয়ের কারণে যারা শহর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের কাছে এই পরিসংখ্যানকে স্বপ্নের মতো মনে হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটি থেকে চার ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এই শহরে জীবনযাত্রার খরচ এত কম হওয়া সত্ত্বেও একটি বড় প্রশ্ন থেকেই যায়—কেন এই শহরের জনসংখ্যা ক্রমশ কমছে? জিলো (Zillow)-এর তথ্যমতে, গত এক বছরে ইউটিকার বাড়ির দাম প্রায় ৯ শতাংশ বাড়লেও এখানকার একটি বাড়ির গড় দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৪১২ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ে একটি বাড়ির গড় মূল্য যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার, সেখানে ইউটিকার এই দামকে নিতান্তই নগণ্য বলা চলে। শহরের আবাসন বাজারের এই সস্তা দরের বেশ কিছু বাস্তব উদাহরণ রয়েছে। স্প্রিং স্ট্রিট ওয়েস্টে অবস্থিত পাঁচ বেডরুম ও এক বাথরুমের একটি সিঙ্গেল-ফ্যামিলি বাড়ির তালিকাভুক্ত মূল্য মাত্র ৮৯ হাজার ৯০০ ডলার। এছাড়া তিন বেডরুমের একটি বাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৯৯ হাজার ৯০০ ডলারে। শহরের একটু দামি এলাকার কথা বিবেচনা করলেও, মোহক স্ট্রিটে ২ হাজার ৫৩২ স্কয়ার ফুটের পাঁচ বেডরুম ও আড়াই বাথরুমের একটি বাড়ির দাম হাঁকা হয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ ডলার। কিন্তু মুদ্রার উল্টোপিঠের চিত্রটা বেশ হতাশাজনক। এত সস্তায় আবাসন সুবিধা পাওয়ার পরও মানুষ ইউটিকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। বর্তমানে শহরটির জনসংখ্যা বছরে প্রায় ০.৭৪ শতাংশ হারে কমছে। ২০২০ সালের আদমশুমারির পর থেকে শহরটির জনসংখ্যা ৪ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির বাইরের আপস্টেট মিউনিসিপ্যালিটিগুলোর মধ্যে ইউটিকা থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ স্থানান্তর হয়েছে, যার সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোহক ভ্যালির এক প্রবীণ রিয়েল এস্টেট এজেন্ট এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, "এটি হয়তো আপনার কেনা সবচেয়ে সস্তা বাড়ি হবে, কিন্তু আপনার সন্তানদের এখানে থাকার জন্য রাজি করানোটা হবে সবচেয়ে কঠিন কাজ।" সাউদার্ন টিয়ার বা ক্যাপিটাল রিজিয়নের সাথে ইউটিকার তুলনা করে সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে তিনি পরিস্থিতিটি এভাবেই তুলে ধরেন। তার মতে, "এখানে বাড়ির দাম কোনো সমস্যা নয়। দাম ছাড়া বাকি সবকিছুই আসলে সমস্যা।" শহরবাসীর এই প্রস্থানের শেকড় লুকিয়ে আছে কয়েক দশক আগের ইতিহাসে। ‘রাস্ট বেল্ট’ এলাকার অন্যান্য শহরের মতো ইউটিকাকেও শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে। জেনারেল ইলেকট্রিক (GE) এবং লকহিড মার্টিনের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কারখানা বন্ধ করে শহরতলিতে চলে যাওয়ার ফলে ইউটিকা তার মূল অর্থনৈতিক শক্তি হারিয়ে ফেলে। বিপুল সংখ্যক চাকরি হারানোর কারণে শহরের কর রাজস্ব কমে যায় এবং অনেক বাসিন্দা চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়েন। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউটিকার মানুষের ব্যক্তিগত আয়ের মধ্যমা (মিডিয়ান ইনকাম) ছিল মাত্র ৩০, ৭৮৫ ডলার, যেখানে একটি পরিবারের আয়ের মধ্যমা প্রায় ৫২,০০০ ডলার; যা নিউইয়র্ক রাজ্যের গড়ের চেয়ে অনেক নিচে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের (Department of Labor) তথ্যানুযায়ী, এই শহরের বেকারত্বের হার ৪.৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এখানকার দারিদ্র্যের হার ২৭ শতাংশেরও বেশি, যা জাতীয় গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। অর্থনৈতিক এই দৈন্যদশার কারণেই মূলত সস্তায় বাড়ি পাওয়ার পরও মানুষ শহর ছাড়ছেন। সম্প্রতি নিজের বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করেছেন এমন এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "ব্রুকলিনে একটি বাড়ি কিনতে শুধু ডাউনপেমেন্ট হিসেবে যে টাকা দিতে হয়, সেই টাকায় আপনি এখানে আস্ত একটি বাড়ি পেয়ে যাবেন। কিন্তু ভাড়ায় খাটানোর জন্য বাড়ি কেনা যায়, এখানে নিজেরা থাকার কোনো কারণ কাউকে বোঝানোই এখানকার সবচেয়ে বড় সমস্যা।"
যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম পুলিশ বাহিনী নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের উপস্থিতি গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ইউনিফর্মধারী সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তার সংখ্যা ১ হাজারের বেশি ছিল। তাদের মধ্যে ১০ জন গোয়েন্দা, ৮২ জন সার্জেন্ট, ২০ জন লেফটেন্যান্ট এবং ৪ জন পরিদর্শক রয়েছেন। অ্যাসোসিয়েশনের এই তথ্যের সঙ্গে আগে প্রকাশিত ৪০০ জনের বেশি বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা থাকার দাবির পার্থক্য রয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য উদ্ধৃত করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানায়, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের প্রায় ৩৩ হাজার ইউনিফর্মধারী সদস্যের মধ্যে ১ হাজারের বেশি বাংলাদেশি-আমেরিকান ছিলেন। একই সময়ে বিভাগটির প্রায় ১৯ হাজার বেসামরিক কর্মীর মধ্যে আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছিলেন। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ বিভাগেও বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে। বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের অনেকে পুলিশ বিভাগে বেসামরিক পদে কাজ শুরু করে পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়েছেন। এই পথটি বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে পুলিশ বিভাগে যোগ দেওয়ার একটি পরিচিত মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠেছে। এদিকে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে পুলিশ কর্মকর্তা পদে যোগ দেওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতাও আগের তুলনায় সহজ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে বিভাগটি পুলিশ একাডেমিতে প্রবেশের জন্য কলেজের সনদের শর্ত ৬০ থেকে কমিয়ে ২৪ করেছে। বর্তমানে আবেদনকারীদের স্বীকৃত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমপক্ষে ২৪টি কলেজ সনদ এবং ন্যূনতম ২ দশমিক ০ গড় নম্বর থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে দুই বছর পূর্ণকালীন মার্কিন সামরিক বাহিনীতে সম্মানজনক চাকরির অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য। প্রবেশ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স ১৭ বছর ৬ মাস। তবে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেতে প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হয়। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ৩৫তম জন্মদিনের আগে নিবন্ধন করতে হয়। এছাড়া প্রার্থীদের মার্কিন নাগরিকত্ব, বৈধ নিউইয়র্ক ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং নির্ধারিত এলাকায় বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হয়। বেতনও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে চাকরির অন্যতম আকর্ষণ। সাম্প্রতিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পুলিশ কর্মকর্তাদের বর্তমান প্রারম্ভিক বার্ষিক বেতন ৫৫ হাজার ৯৪২ ডলার। পাঁচ বছর ছয় মাস চাকরি শেষে মূল বেতন ১ লাখ ৯ হাজার ৩৫২ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর বাইরে পোশাক ভাতা, ছুটির দিনের পারিশ্রমিক, স্বাস্থ্যবিমা, বিভিন্ন তহবিলে নগর সরকারের অবদান এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বেতন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে বেতন কাঠামো সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। বাংলাদেশি-আমেরিকানদের নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে এই ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি কমিউনিটির নাগরিক ও পেশাগত অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশি-আমেরিকান নিউইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম কর্মরত অবস্থায় নিহত হওয়ার পর তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াতেও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতি এই কমিউনিটির শক্তিশালী প্রতিনিধিত্বকে সামনে নিয়ে আসে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সামগ্রিক জনবলও সম্প্রতি বেড়েছে। ২০২৫ সালে বিভাগটি রেকর্ড ৪ হাজার ৫৬ জন নতুন পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ করে। ওই বছরের ডিসেম্বরের নিয়োগের পর বিভাগের মোট জনবল ৩৪ হাজার ৭০০-এর বেশি হয়। বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে চাকরির সুযোগ নিয়ে আগ্রহ বাড়লেও আবেদনকারীদের অবশ্যই সর্বশেষ যোগ্যতা, বেতন ও নিয়োগসংক্রান্ত শর্ত বিভাগটির বর্তমান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যাচাই করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক হারবারে একটি স্পিডবোট উল্টে এক মা ও তার পাঁচ মাস বয়সী কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পানিতে পড়ে যাওয়া আরও ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বোটটির চালকের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে নৌযানটি অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল কি না, তা তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং মার্কিন কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার নিউইয়র্ক হারবারের লিবার্টি আইল্যান্ডের কাছে ২২ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বেলাইনার স্পিডবোট উল্টে যায়। লিবার্টি আইল্যান্ডেই বিশ্বের অন্যতম পরিচিত স্থাপনা স্ট্যাচু অব লিবার্টি অবস্থিত। দুর্ঘটনার পর আশপাশে থাকা অন্যান্য নৌযান এবং সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পানিতে থাকা ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ ডুবুরি দল পানির ভেতর থেকে ২৭ বছর বয়সী এক নারী ও তার পাঁচ মাস বয়সী কন্যাশিশুকে উদ্ধার করে। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় উদ্ধার হওয়া অন্যদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ঘটনার পর নিউইয়র্কের ৪৬ বছর বয়সী ম্যানুয়েল হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে ১৩টি বেপরোয়া আচরণের মাধ্যমে অন্যের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ যুক্ত হতে পারে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কিছু জানায়নি। কোস্ট গার্ডের সেক্টর নিউইয়র্কের কমান্ডার ক্যাপ্টেন ডরিন ম্যাককার্থি এক বিবৃতিতে বলেন, "গত রাতের এই মর্মান্তিক প্রাণহানিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা রইল। একই সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া অংশীদার সংস্থা এবং সহায়তাকারী সাধারণ নৌযানের দ্রুত ও সাহসী ভূমিকার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।" রোববার কোস্ট গার্ড জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত নৌযানটি অনুমোদন ছাড়া বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী বহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এ ধরনের অবৈধ চার্টার কার্যক্রম নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মা ও শিশুর পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার পর তাদের পরিচয় জানানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসে গতকাল রোববার (৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড ২০২৬’। ‘এক অঞ্চল, এক সংস্কৃতি, এক ভবিষ্যৎ’ (One Region, One Culture, One Future) স্লোগানকে সামনে রেখে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের এক মঞ্চে নিয়ে আসার লক্ষ্যেই এই বর্ণাঢ্য প্যারেডের আয়োজন করা হয়। নিউইয়র্ক সিটির অনুমোদিত পারমিট অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জ্যাকসন হাইটসের ৩৭তম অ্যাভিনিউ ধরে ৬৯তম স্ট্রিট থেকে ৮৭তম স্ট্রিট পর্যন্ত মূল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট রুটটিতে সাধারণ যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। আয়োজক সংগঠন ‘সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড ইনকরপোরেটেড’ জানিয়েছে, নিউইয়র্কে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সংগীত, নৃত্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতির মাধ্যমে মেলবন্ধন তৈরি করাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এবারের প্যারেডে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশি সংস্কৃতি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রস্তুতিপর্বেই বাংলাদেশকে এই আয়োজনের ‘হোস্ট কান্ট্রি’ এবং বাংলাদেশ সোসাইটিকে হোস্ট সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। প্যারেডে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নিজস্ব সংস্কৃতি বিশেষভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তানের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিও সমানভাবে উদযাপিত হয়েছে। আয়োজকদের ‘ফ্ল্যাগস অব ইউনিটি’ বা ঐক্যের পতাকা প্রদর্শনীতে দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের পতাকার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয় বজায় রেখেই নিউইয়র্কে দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির ঐক্যের বার্তা তুলে ধরাই ছিল এর লক্ষ্য। এই আয়োজনে আয়োজক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শাহ নওয়াজ এবং প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন শাহ শহিদুল হক। এছাড়াও সহসভাপতি হিসেবে রানু আমেনা নেওয়াজ ও ড. আবু জুবায়ের দারা এবং কনভেনার হিসেবে মহিউদ্দিন দেওয়ান যুক্ত ছিলেন। জ্যাকসন হাইটস এলাকাটি নিউইয়র্কের অন্যতম প্রধান দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হওয়ায়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে প্যারেডের জন্য এই স্থানটিকে বেছে নেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ঠিক কতজন সাধারণ মানুষ বা দর্শনার্থী এই প্যারেডে অংশ নিয়েছেন এবং কোন কোন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন, সে সম্পর্কে চূড়ান্ত বা নিশ্চিত কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ভাষা, জাতীয়তা ও সাংস্কৃতিক ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্য শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই প্যারেড একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
নিউইয়র্ক সিটির অ্যাডামস প্রশাসন 'জবস এনওয়াইসি' হায়ারিং হলের পরবর্তী ধাপের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার কুইন্সে বরো-ভিত্তিক বড় পরিসরে একটি নিয়োগ মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কুইন্সের ১১০-৩১ মেরিক বুলেভার্ডে অবস্থিত দ্য গ্রেটার অ্যালেন এ.এম.ই. ক্যাথেড্রাল অফ নিউইয়র্কে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই মেলা চলবে। সিটির অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়ানোর চলমান কৌশলের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই ইভেন্টের মূল লক্ষ্য হলো সরাসরি এবং সামনাসামনি নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের প্রচলিত বাধাগুলো দূর করা। মেলায় অংশগ্রহণকারী চাকরিপ্রার্থীরা স্থানীয় নিয়োগকর্তা, বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং নিউইয়র্ক সিটির একাধিক মিউনিসিপ্যাল এজেন্সির সাথে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন, যারা তাদের হাজার হাজার শূন্যপদ পূরণের জন্য সক্রিয়ভাবে কর্মী খুঁজছেন। কুইন্সের এই মূল নিয়োগ মেলায় প্রার্থীদের সর্বোচ্চ সাফল্য নিশ্চিত করতে সিটি কর্মকর্তারা বেশ কয়েকটি প্রস্তুতিমূলক ইভেন্টেরও রূপরেখা প্রকাশ করেছেন। এর অংশ হিসেবে ১৩ আগস্ট বিকেল আড়াইটা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১ সেন্টার স্ট্রিটের নর্থ মেজানিনে সশরীরে এবং ভার্চুয়ালি 'সিভিল সার্ভিস ১০১' সেশনের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মাইক্রোসফট টিমস-এর মাধ্যমে অনলাইনে একটি সান্ধ্যকালীন ভার্চুয়াল সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এই সেশনগুলোতে প্রার্থীদের সিভিল সার্ভিস নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হবে। ২৫ আগস্ট কুইন্সে মূল মেলার ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ ২৬ আগস্ট 'এইচআরএ বিজনেস লিংক কুইন্স ক্যারিয়ার ফেয়ার' অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অংশগ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট ইমেইল ঠিকানায় যোগাযোগের মাধ্যমে আগে থেকে বাধ্যতামূলক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার্থে কর্মশক্তি উন্নয়ন কর্মকর্তারা মেলায় একটু আগেভাগে উপস্থিত হওয়ার এবং নিয়োগকারীদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। সিটির নির্দেশিকা অনুযায়ী, মেলায় প্রবেশের জন্য যেকোনো একটি বৈধ সরকারি ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র (আইডি) প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। এর পাশাপাশি প্রার্থীদের হালনাগাদ করা জীবনবৃত্তান্ত বা রেজুমের একাধিক প্রিন্ট কপি সাথে করে আনতে হবে। ইভেন্টের পরিবেশের সঙ্গে মানানসই সম্পূর্ণ পেশাদার বা বিজনেস পোশাক (ফর্মাল অ্যাটায়ার) পরিধান করার ওপর কঠোরভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। 'জবস এনওয়াইসি' হায়ারিং হলের এই মেলায় ইভেন্টব্রাইট (Eventbrite) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিবন্ধন করা যাবে এবং এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
নিউইয়র্ক সাবওয়ে সিস্টেমে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও ট্রেনের বিলম্ব কমাতে নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছে মেট্রোপলিটান ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি বা এমটিএ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে সাবওয়েতে যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে ৭০টিরও বেশি ‘বটেলনেক’ বা যানজটপূর্ণ স্থানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত যেসব জায়গায় একাধিক লাইনের ট্রেন একই ট্র্যাক ব্যবহার করে বা ট্র্যাকের কাঠামোগত কারণে ট্রেনের গতি কমাতে হয়, সেখানেই এই যানজটের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সৃষ্টি করে এমন ২৫টি স্পটকে সংস্কারের জন্য শীর্ষ তালিকায় রাখা হয়েছে, যার বেশিরভাগই ব্রুকলিনে অবস্থিত। শীর্ষ সংস্কার তালিকায় থাকা একটি উল্লেখযোগ্য স্থান হলো মার্টল অ্যাভিনিউ। এখানকার যাত্রীদের কাছে ট্রেনের বিলম্ব যেন নিত্যদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রিসিলা সুয়ারেজ নামের এক যাত্রী তার হতাশা প্রকাশ করে জানান, প্রতিদিন এই যানজট পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো অত্যন্ত কষ্টকর একটি অভিজ্ঞতা। এমটিএ জানিয়েছে, সবগুলো প্রকল্পের কাজ রাতারাতি শেষ হবে না। তবে তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ট্র্যাকের সুইচ আধুনিকীকরণ, ইন্টারলকিং সিস্টেমের উন্নয়ন এবং ব্যস্ত জংশনগুলোতে ট্রেনের চলাচল ব্যবস্থা নতুন করে সাজানো। এমটিএ-এর সিনিয়র প্ল্যানার লিয়াম ও'কনেল সিনিয়র জানান, টাওয়ার অপারেটররা এখনও কয়েক দশকের পুরোনো ম্যানুয়াল ইন্টারলকিং সিস্টেম ব্যবহার করে কাজ করছেন। জংশনে কোনো একটি ট্রেন মাত্র এক বা দুই মিনিট আগে-পরে পৌঁছালে, ছোট এই সমস্যাটিই অন্যান্য ট্রেনের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিক বিলম্বের (ক্যাসকেডিং ডিলে) কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাবওয়ে সিস্টেমের ইতিহাসও এই সমস্যার অন্যতম একটি কারণ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজকের এই সাবওয়ে ব্যবস্থা মূলত তিনটি আলাদা কোম্পানির তৈরি করা ভিন্ন ভিন্ন রেললাইন জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। ননপ্রফিট সংগঠন রাইডার্স অ্যালায়েন্স-এর পলিসি অ্যান্ড কমিউনিকেশন ডিরেক্টর ড্যানি পার্লস্টেইন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এমটিএ শুরু থেকেই এই পরিস্থিতি সামলাতে এবং আধুনিক ব্যবস্থার সাথে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে। মানুষের মধ্যে এমটিএ নিয়ে নানা সন্দেহ থাকলেও, প্রতিদিন যাতায়াতে যাত্রীদের যে সময়টা নষ্ট হয়, তা ফিরিয়ে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এমটিএ কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সাফল্য নতুন ট্র্যাক নির্মাণের মাধ্যমে পরিমাপ করা হবে না, বরং যাত্রীদের বেঁচে যাওয়া সময়ের মাধ্যমেই এর সার্থকতা প্রমাণিত হবে। ইতোমধ্যে ডিকলব এবং নস্ট্রান্ড জংশনের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সংস্কারের কাজ শুরু হয়ে গেছে।
নিউইয়র্ক সিটির মতো বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল শহরে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়া যেখানে অত্যন্ত ব্যয়বহুল, সেখানে মাত্র ৫০০ ডলারে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া পাওয়ার এক দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছে ‘অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং লটারি’। শহরটির হাউজিং কানেক্ট পোর্টালের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষেরা এই সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। আবাসন সংকট নিরসনে এবং কর্মজীবী মানুষদের স্বস্তি দিতে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় নিউইয়র্কের বিভিন্ন আধুনিক ও নবনির্মিত ভবনে নির্দিষ্ট সংখ্যক অ্যাপার্টমেন্ট সাধারণ মানুষের জন্য লটারির মাধ্যমে বরাদ্দ রাখা হয়। মূলত আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ও পরিবারের সদস্য সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এসব অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। আয়ের নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণকারী যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজেই এই লটারিতে অংশ নিতে পারেন। যাদের আয় শহরের গড় আয়ের তুলনায় বেশ কম, তারা এই লটারির মাধ্যমে মাসিক মাত্র ৫০০ ডলার বা তার কাছাকাছি ভাড়ায় উন্নতমানের অ্যাপার্টমেন্টে থাকার সুযোগ পেতে পারেন। লটারিতে নির্বাচিত হলে আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে নিজেদের আয়ের প্রমাণ দিতে হয়। আবাসন ব্যয় আকাশচুম্বী হওয়ার এই সময়ে এমন সাশ্রয়ী মূল্যের লটারি ব্যবস্থা অনেক স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্যই নিউইয়র্কে টিকে থাকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্কে ক্রমবর্ধমান বাড়িভাড়ার লাগাম টানতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের অনুমোদনের পর তিনি শহরের প্রায় দশ লাখ রেন্ট-কন্ট্রোলড বা নিয়ন্ত্রিত ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত করতে সক্ষম হয়েছেন। এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি এক ও দুই বছর মেয়াদি উভয় লিজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। আগামী ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়মের আওতায় নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বোরোর প্রায় ৪০ শতাংশ অ্যাপার্টমেন্ট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক ও দুই বছর মেয়াদি চুক্তিতে এ ধরনের স্থগিতাদেশ দেওয়া হলো। দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে আসা ভাড়াটে অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীগুলো এই সিদ্ধান্তকে বিপুল উদযাপনের মাধ্যমে স্বাগত জানিয়েছে। এর আগে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে ভাড়াটেরা অভিযোগ করেছিলেন যে, মূল্যস্ফীতি এবং ইউটিলিটি বিলের ঊর্ধ্বগতির সাথে তাদের আয়ের কোনো সমন্বয় হচ্ছে না। মেয়র মামদানির এই পদক্ষেপটি তার ‘ব্লক বাই ব্লক’ আবাসন উদ্যোগের একটি অংশ, যার লক্ষ্য শহরে চার লাখ সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ি নির্মাণ ও সংরক্ষণ করা। এই পরিকল্পনার আওতায় ভাড়াটেদের ইউনিয়নের আইনি স্বীকৃতি প্রদান, ভবনে নিজস্ব পরিদর্শনের সুযোগ, নিয়ম ভঙ্গকারী বাড়িওয়ালাদের জন্য কঠোর শাস্তি এবং হিটিং সমস্যা বা লিফট বিকল হওয়ার মতো অভিযোগগুলোতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে একটি বড় ভিত্তি হিসেবে দেখছেন আবাসন অধিকার কর্মীরা। মেট্রোপলিটন কাউন্সিল অন হাউজিংয়ের কর্মকর্তা আন্দ্রেয়া শাপিরো জানিয়েছেন, তারা এই বিজয়কে পুঁজি করে ভবিষ্যতে সর্বজনীন রেন্ট কন্ট্রোল বা ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর আশা করছেন। তবে জাতীয় পর্যায়ে আবাসন নীতি সংস্কার করা অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ন্যাশনাল লো ইনকাম হাউজিং কোয়ালিশন এবং পিউ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের গবেষণায় দেখা গেছে, আবাসন সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। ২০১০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে নিউইয়র্কে কর্মসংস্থান ২২ শতাংশ বাড়লেও আবাসন সরবরাহ বেড়েছে মাত্র ৪ শতাংশ, যা গৃহহীনতা ও বাস্তুচ্যুতির অন্যতম প্রধান কারণ। অন্যদিকে অস্টিন বা ডেনভারের মতো শহরগুলোতে সরবরাহ বাড়ায় ভাড়া বৃদ্ধির হার কমেছে। ভাড়াটেরা প্রায়ই ছাদ ধসে পড়া, শীতে পানি না থাকা এবং ইঁদুর-তেলাপোকার উপদ্রবের মতো চরম দুর্দশার মধ্যে বসবাস করলেও অনেক বাড়িওয়ালা মেরামতের বদলে শুধু ভাড়া বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভাড়াটেদের জন্য এই সিদ্ধান্ত স্বস্তিদায়ক হলেও এর তীব্র বিরোধিতাও শুরু হয়েছে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস মেয়র মামদানির এই পদক্ষেপকে 'উদ্ভট নাটক' বলে কটাক্ষ করেছেন। অন্যদিকে ক্ষুব্ধ বাড়িওয়ালারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করেছেন। তাদের অভিযোগ, মেয়র রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের ওপর অন্যায্য প্রভাব খাটিয়েছেন এবং বাড়িওয়ালাদের খরচ কমিয়ে ও আয় বাড়িয়ে দেখানোর জন্য তথ্য বিকৃত করেছেন। তবে সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামস কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত এবং ভাড়া স্থগিতের বিপক্ষে ভোট দেওয়া বোর্ডের একমাত্র সদস্য অর্পিত গুপ্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। অবশ্য তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই পদক্ষেপ বাড়িওয়ালাদের আর্থিকভাবে দুর্বল করে ভবনের রক্ষণাবেক্ষণকে ব্যাহত করতে পারে। প্রবল বাধা ও সমালোচনা সত্ত্বেও অধিকার কর্মীরা জোর দিয়ে বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে বাস্তুচ্যুতি রোধ এবং ভাড়াটে ও বাড়িওয়ালাদের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করা একান্ত অপরিহার্য।
নিউইয়র্ক সিটির দুই হাজারেরও বেশি পরিবার সম্প্রতি তাদের ২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চাইল্ডকেয়ার বা শিশু দিবাযত্ন সুবিধার অফার পেয়েছে। এটি শহরের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানির নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল, যা তিনি দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করে দেখালেন। প্রথম ধাপে মাত্র ২ হাজার আসনের বিপরীতে ৫ হাজার ৭০০টিরও বেশি পরিবারের আবেদন জমা পড়েছিল। এই বিপুল চাহিদাই বলে দেয় নিউইয়র্কের কর্মজীবী মানুষদের জন্য এই সুবিধাটি কতটা জরুরি ছিল। এই যুগান্তকারী উদ্যোগের ফলে প্রতিটি পরিবারের বছরে গড়ে প্রায় ২৬ হাজার ডলার সাশ্রয় হবে। এটি কোনো সাধারণ ট্যাক্স ক্রেডিট বা ভাউচার নয়, বরং এটি এমন একটি সুবিধা যার মাধ্যমে কর্মজীবী অভিভাবকদের কষ্টার্জিত অর্থ তাদের নিজেদের পকেটেই থেকে যাবে। এর ফলে সন্তান লালন-পালন এবং চাকরির মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার যে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি নিউইয়র্কের মানুষদের হতে হতো, তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র আট দিনের মাথায় মামদানি এই সর্বজনীন চাইল্ডকেয়ার ব্যবস্থার কাজ শুরু করেছিলেন, যা এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। তবে এটি কেবল মেয়র মামদানির বৃহত্তর পরিকল্পনার প্রথম ধাপ। আগামী ২০২৭ সালের শরতের মধ্যে স্ট্যাটেন আইল্যান্ডসহ নিউইয়র্কের পাঁচটি বোরোতে এই কর্মসূচির পরিধি বাড়িয়ে মোট ১২ হাজার শিশুর জন্য আসন বরাদ্দ করা হবে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো আগামী চার বছরের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির প্রতিটি দুই বছর বয়সী শিশুর জন্য একটি করে বিনামূল্যের আসন নিশ্চিত করা। একদিকে যখন ফেডারেল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এবং শিশু পরিচর্যার ব্যয় ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন নিউইয়র্ক সিটির এই পদক্ষেপ একটি বড় দৃষ্টান্ত। নিউইয়র্ক প্রমাণ করছে যে, সরকার যদি কর্মজীবী পরিবারগুলোর কল্যাণে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সর্বজনীন চাইল্ডকেয়ার কোনো অবাস্তব কল্পনা নয়—বরং এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর নীতিগত সিদ্ধান্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে শক্তিশালী বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাতজন সাধারণ বাসিন্দা এবং চারজন দমকলকর্মী রয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় জানালার ফ্রেম ছিটকে রাস্তার ওপারে গিয়ে পড়ে এবং ভবনের ভেতরের একাধিক দরজা কবজা থেকে খুলে যায় বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু আগে ব্রঙ্কসের ইস্ট ২০৯তম স্ট্রিটের ৩৭৪ নম্বর ভবনে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছালেও ততক্ষণে ভবনের একাধিক জানালা দিয়ে আগুনের লেলিহান শিখা বের হতে দেখা যায়। ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রবেশ করে দমকলকর্মীরা অত্যন্ত তীব্র অগ্নিকাণ্ডের মুখোমুখি হন। এফডিএনওয়াইয়ের চিফ অব ডিপার্টমেন্ট জন এসপোসিতো বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কোনো ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছিল। বিস্ফোরণের শক্তিতে জানালার ফ্রেম ছিটকে রাস্তার অপর পাশে চলে যায় এবং দ্বিতীয় তলায় পৌঁছে দমকলকর্মীরা দেখতে পান, কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্টের দরজা পর্যন্ত কবজা থেকে খুলে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভেতরে আটকে পড়া মানুষকে খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। পরে আগুন ভবনের তিনটি তলায় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তৃতীয় তলার একটি অংশ ধসে পড়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে দমকলকর্মীদের সাময়িকভাবে ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ৩০০-এর বেশি দমকল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা কর্মী অংশ নেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ঘটনাটিকে পঞ্চম স্তরের অগ্নিকাণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যা নিউইয়র্কে সর্বোচ্চ মাত্রার জরুরি অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম। এফডিএনওয়াই কমিশনার লিলিয়ান বন্সিনিওরে বলেন, ভবনের ভেতর থেকে একাধিক বাসিন্দাকে উদ্ধার করতে হয়েছে। দমকলকর্মী ও জরুরি চিকিৎসাসেবা কর্মীরা অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। দমকলকর্মীরা যখন আগুনের মধ্যে আটকে পড়াদের উদ্ধার করছিলেন, তখন জরুরি চিকিৎসাসেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলেই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দিয়ে একাধিক মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। দমকল বিভাগ জানিয়েছে, বুধবার রাত পর্যন্ত ঘটনাস্থলে নজরদারি অব্যাহত থাকবে যাতে আগুন আবার ছড়িয়ে না পড়ে। বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। এফডিএনওয়াইয়ের অগ্নি তদন্তকারী দল ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধান করছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি অবৈধ ও বিপজ্জনক ই-বাইক এবং স্কুটার বিক্রি বন্ধে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বুধবার সিটি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তার প্রশাসন অবৈধভাবে উচ্চ গতির ই-বাইক ও স্কুটার বিক্রির অভিযোগে ৪২টি অনলাইন খুচরা বিক্রেতাকে 'সিজ-অ্যান্ড-ডেসিস্ট' (cease-and-desist) বা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে এই নির্দেশ না মানলে প্রতিটি অবৈধ বিক্রির জন্য বিক্রেতাদের দুই হাজার ডলার করে জরিমানা গুণতে হবে। মেয়র স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের রাস্তায় এ ধরনের বিপজ্জনক যান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। নতুন এই নির্দেশনার লক্ষ্য হলো— ১০০ পাউন্ডের বেশি ওজনের বা ২০ মাইল বেগের বেশি চলতে সক্ষম স্কুটার, ৭৫০ ওয়াটের বেশি ক্ষমতার মোটরযুক্ত ই-বাইক এবং বৈধ নিবন্ধন নম্বরবিহীন মোপেডগুলোর ভবিষ্যৎ বিক্রি বন্ধ করা। তবে মেয়রের এই পদক্ষেপকে 'অকার্যকর ও দুর্বল প্রতিক্রিয়া' বলে আখ্যা দিয়েছেন সমালোচকরা। কারণ, এই নির্দেশনার মাধ্যমে কেবল ভবিষ্যতে বিক্রি হতে যাওয়া যানগুলো ঠেকানোর কথা বলা হয়েছে, কিন্তু ইতোমধ্যে শহরের রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ানো বিপজ্জনক ই-বাইকগুলো অপসারণের বিষয়ে মেয়র কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। এমনকি এসব যানের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার যে আইনি প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটি সমর্থন করতেও তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মেয়রের দাবি, ই-বাইক ও স্কুটারের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করলে রাস্তার নিরাপত্তা খুব একটা বাড়বে না এবং তিনি এই পথে হাঁটতে চান না। মেয়রের এমন অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছে 'এনওয়াইসি ই-ভেহিকল সেফটি অ্যালায়েন্স'। সংগঠনের একজন মুখপাত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহরের রাস্তা থেকে অত্যন্ত বিপজ্জনক অবৈধ যানগুলো সরাতে মেয়র সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। গত পাঁচ বছর ধরে শহরে এই জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংকট চললেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। পরিসংখ্যানও এই ভয়াবহতার প্রমাণ দেয়। মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে ই-বাইক চালকদের মৃত্যুর অর্ধেকের বেশি ঘটনার জন্যই অবৈধ যানগুলো দায়ী। এছাড়া, এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৮ সালে সাইকেল ও স্কুটার দুর্ঘটনাজনিত ট্রমার হার ১০ শতাংশেরও কম থাকলেও ২০২৩ সালের মধ্যে তা অর্ধেকের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটির মোট ট্রমা রোগীর প্রায় ৭ শতাংশই মাইক্রোমোবিলিটি দুর্ঘটনার শিকার। সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্কে ই-বাইকের কারণে বেশ কিছু মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। লোয়ার ম্যানহাটনে অবৈধ ই-বাইক চালাতে গিয়ে পার্ক করা এসইউভির সঙ্গে ধাক্কা লেগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়। গত মাসে সেন্ট্রাল পার্কে ই-বাইকের ধাক্কায় এক জগিংকারী মারাত্মকভাবে আহত হয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে কোমায় ছিলেন। এসব কারণে সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন বর্তমান আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়ার অভিযোগ তুলে নতুন আইনের প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, রাস্তায় থাকা অবৈধ বাইকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানানোর কিছুক্ষণ পরই মেয়র নিজেই যখন প্রশ্ন তোলেন— "যে আইন প্রয়োগই হয় না, তার আসলে কী মূল্য আছে?", তখন তার এই স্ববিরোধী অবস্থান পুরো পরিস্থিতিকে আরও হাস্যকর করে তোলে।
নিউইয়র্ক সিটিতে কম আয়ের বাসিন্দাদের জন্য আবারও চালু হয়েছে অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং লটারি। নতুন এই কর্মসূচির আওতায় কিছু অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক রেন্ট ৫০০ ডলারেরও কম থেকে শুরু হচ্ছে। যোগ্য আবেদনকারীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে লটারির মাধ্যমে এসব অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়ার সুযোগ পাবেন। নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং কানেক্ট কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এই লটারিতে স্টুডিও, এক বেডরুম এবং বিভিন্ন ধরনের ইউনিট রয়েছে। তবে প্রতিটি ইউনিটের জন্য আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বার্ষিক আয় এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত আলাদা। নির্ধারিত আয়ের সীমার মধ্যে থাকা ব্যক্তিরাই আবেদন করতে পারবেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচিত ভবনগুলোতে আধুনিক নানা সুবিধা রয়েছে। ভবনভেদে ফিটনেস সেন্টার, লন্ড্রি, কমিউনিটি স্পেস, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিছু ভবনে পোষা প্রাণী রাখার অনুমতিও রয়েছে। নিউইয়র্কে ক্রমবর্ধমান আবাসন ব্যয়ের মধ্যে অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং লটারি বহু নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক ব্যক্তিকেই নির্বাচিত করা হয়। হাউজিং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লটারিতে নির্বাচিত হওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া নয়। আবেদনকারীদের আয়, পরিচয়, প্রয়োজনীয় নথি এবং অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতিটি প্রকল্পের আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখও আলাদা হওয়ায় আগ্রহীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কের বাফেলো নায়াগ্রা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আলেভতিনা সোবোলেভা নামের ৫৯ বছর বয়সী এক রুশ নারীকে গ্রেপ্তারের পর শিকল পরিয়ে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) বন্দিশিবিরে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ২০ জুলাই নায়াগ্রা জলপ্রপাতে ছুটি কাটানোর পর ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ বাড়িতে ফেরার পথে তাকে আটক করা হয়। আলেভতিনার মেয়ে দারিয়া সোবোলেভা জানিয়েছেন, আটকের সময় তার মাকে কেবল হাতকড়াই পরানো হয়নি, বরং শরীরে শিকল জড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ব্যথায় কষ্ট পেয়ে শিকল সামান্য ঢিলা করার অনুরোধ জানালেও কর্মকর্তারা তাতে কর্ণপাত করেননি। জানা যায়, ২০২১ সালের অক্টোবরে ছয় মাসের ভিসা নিয়ে মস্কো থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার সানিভেলে মেয়ের কাছে এসেছিলেন আলেভতিনা। কিন্তু তার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালায়। যুদ্ধের সমালোচনা করায় এবং দেশে ফিরলে কারাবরণের প্রবল ঝুঁকি থাকায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের (অ্যাসাইলাম) আবেদন করেন। তাদের ইমিগ্রেশন আইনজীবী রেজিনা জ্যাকবসন জানান, আশ্রয়প্রার্থীরা সাধারণত একটি চিঠি পেয়ে থাকেন যেখানে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধতা দেওয়া হয়। তবে বর্তমান প্রশাসন ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে বৈধ আশ্রয়প্রার্থীদেরও হেফাজতে নেওয়ার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। মায়ের এমন অপ্রত্যাশিত পরিণতিতে চরম মর্মাহত মেয়ে দারিয়া। তিনি জানান, তার মা সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে চলেছেন এবং তার কাছে একটি বৈধ ওয়ার্ক পারমিট, ক্যালিফোর্নিয়া রিয়েল আইডি ও সক্রিয় চিকিৎসা বীমা রয়েছে। তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ডও নেই। তা সত্ত্বেও, কোনো ধরনের নথিপত্র পরীক্ষা ছাড়াই সাদাপোশাকের তিন কর্মকর্তা তাকে আটক করে নিয়ে যায়। দারিয়া তার মায়ের মুক্তির জন্য খোলা একটি ওয়েবসাইটে লিখেছেন, এমন একজন নারীকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ফেরত পাঠানো হবে চরম অমানবিক, যেখানে যুদ্ধের সমালোচনা করাটা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। বর্তমানে লুইজিয়ানার একটি বন্দিশিবিরে বন্দি থাকা আলেভতিনার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে। তিনি প্রগতিশীল স্নায়বিক ব্যাধি, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং শ্রবণ সমস্যায় ভুগছেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ, চশমা বা গরম কাপড় ছাড়াই তাকে তীব্র শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, তিনি কয়েক বছরের মধ্যে হাঁটার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারেন এবং বর্তমানেও দেয়াল না ধরে তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারছেন না। গ্রেপ্তার হওয়ার পর মাত্র তিন দিনের মধ্যে তাকে ওহিও থেকে লুইজিয়ানাসহ মোট তিনটি ভিন্ন বন্দিশিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে। আইনজীবী জ্যাকবসনের মতে, বর্তমানে বিচারাধীন আশ্রয়প্রার্থীদের এ ধরনের আটকের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে, তাই তাদের ভ্রমণ এড়িয়ে চলা উচিত। বর্তমানে আলেভতিনার পরিবার ও বন্ধুমহল তাকে ইমিগ্রেশন বন্ডের মাধ্যমে ছাড়িয়ে আনার জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। দারিয়ার এখন একটাই চাওয়া—তার নির্দোষ মাকে যেন দ্রুত বিচার ব্যবস্থার সামনে উপস্থাপন করে বাড়ি ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের হফস্ট্রা বিশ্ববিদ্যালয়ে বার পরীক্ষার সময় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়া এক পরীক্ষার্থীকে সময়মতো চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, ওই নারী শ্বাসকষ্টে ভুগে অচেতন হয়ে পড়েন এবং শরীর নীলচে হয়ে যেতে শুরু করলেও পরীক্ষা কক্ষের তদারককারীরা অন্য পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেন। মামলার নথি অনুযায়ী, নিউ জার্সির ৩৬ বছর বয়সী মেরি জেন জাং ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই নিউইয়র্ক স্টেট বার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সময় হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি মেঝেতে পড়ে যাওয়ার পর দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা ডাকা হয়নি। একই সঙ্গে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন এবং স্বয়ংক্রিয় ডিফিব্রিলেটর ব্যবহারেও অযথা বিলম্ব করা হয়, যার ফলে তার মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি হয় এবং পরে বুকে ডিফিব্রিলেটর প্রতিস্থাপন করতে হয়। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কয়েকজন পরীক্ষার্থী সাহায্য করতে এগিয়ে এলে তাদের নিরুৎসাহিত করা হয় এবং পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বলা হয়। বাদীপক্ষের দাবি, মূল্যবান কয়েকটি মিনিট নষ্ট হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তবে হফস্ট্রা বিশ্ববিদ্যালয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, তাদের জননিরাপত্তা বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক মিনিটের মধ্যেই কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশনসহ প্রাথমিক জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা শুরু করেন এবং পরে প্যারামেডিকরা এসে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। নিউইয়র্ক স্টেট বোর্ড অব ল এক্সামিনার্সের চেয়ারপারসনও বলেছেন, পরীক্ষার্থী অচেতন হয়ে পড়ার প্রায় আড়াই মিনিটের মধ্যেই সহায়তা পৌঁছেছিল। ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে স্নাতক মেরি জেন জাং বর্তমানে ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেছেন। তার আইনজীবীর ভাষ্য, এই মামলার উদ্দেশ্য শুধু ক্ষতিপূরণ আদায় নয়, ভবিষ্যতে বার পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় জরুরি চিকিৎসা-সংক্রান্ত নীতিমালায় পরিবর্তন আনা এবং এমন পরিস্থিতিতে মানবিক ও দ্রুত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।