সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

নিউইয়র্ক

নিউইয়র্কে সিটি বাইকের গতি কমায় ২৪ মিনিটের যাত্রায় গুনতে হচ্ছে ৬ ডলার ৪৮ সেন্ট
নিউইয়র্কে সিটি বাইকের গতি কমায় ২৪ মিনিটের যাত্রায় গুনতে হচ্ছে ৬ ডলার ৪৮ সেন্ট

নিউইয়র্ক সিটির রাস্তায় সিটি বাইক (Citi Bike) ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন এক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে তৎকালীন মেয়র এরিক অ্যাডামস ই-বাইকের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ১৮ মাইল থেকে কমিয়ে ১৫ মাইল করার নির্দেশ দেন। শহরজুড়ে রাস্তা ও পার্কের ভেতরের পথগুলোতে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর থেকেই যাত্রীরা যাতায়াতে বেশি সময় লাগার পাশাপাশি বাড়তি খরচের অভিযোগ করছেন।   লিফটের (Lyft) মালিকানাধীন সিটি বাইক বর্তমানে সদস্যদের ই-বাইক চালানোর জন্য প্রতি মিনিটে ২৭ সেন্ট করে চার্জ কাটে। ফলে গতি কমার কারণে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে যেমন বেশি সময় লাগছে, তেমনি পকেট থেকে খসছে বাড়তি অর্থ।   নিয়মিত সিটি বাইক ব্যবহারকারী অ্যান্ড্রু কামের মতে, বাইকের গতি কমার কারণে সেবাটির মান কমার পাশাপাশি এটি আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। তিনি হিসাব করে দেখিয়েছেন, গতি কমার কারণে চেম্বারস স্ট্রিট থেকে ১২৫তম স্ট্রিট পর্যন্ত ৬ মাইলের একটি সাধারণ যাত্রায় এখন আগের চেয়ে অন্তত ১ ডলার ৮ সেন্ট বেশি খরচ হচ্ছে।   আগে ১৮ মাইল বেগে এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগত প্রায় ২০ মিনিট এবং খরচ হতো ৫ ডলার ৪০ সেন্ট। কিন্তু বর্তমান ১৫ মাইল গতিসীমার কারণে একই পথ পাড়ি দিতে অন্তত ২৪ মিনিট সময় লাগছে, যার ফলে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে ৬ ডলার ৪৮ সেন্ট। অনেক সাধারণ যাত্রী ব্যাপারটি বুঝতে না পারায় অ্যান্ড্রু কাম একে সিটি বাইক ব্যবহারকারীদের ওপর একধরনের ‘লুক্কায়িত কর’ বা হিডেন ট্যাক্স হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।   মজার ব্যাপার হলো, যাত্রীদের খরচ বাড়লেও গতি কমানোর এই নিয়মের সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সিটি বাইকের আয়ের খাতায়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রেকর্ড সংখ্যক যাত্রী সিটি বাইক ব্যবহার করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২ কোটি ৪৭ লাখ (২৪.৭ মিলিয়ন) ডলার মুনাফা অর্জন করেছে, যা ২০২৪ সালের ৬৮ লাখ (৬.৮ মিলিয়ন) ডলারের তুলনায় বহুগুণ বেশি।   মূলত উইলিয়ামসবার্গে একটি ই-বাইক দুর্ঘটনায় তিন বছরের এক শিশু আহত হওয়ার পর তৎকালীন ফার্স্ট ডেপুটি মেয়র র্যান্ডি মাস্ত্রোর চাপে মেয়র অ্যাডামস গতি কমানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যদিও ওই দুর্ঘটনায় কোনো সিটি বাইক জড়িত ছিল না। বর্তমানে নিউইয়র্কের সাইকেল আরোহী এবং বেশ কয়েকজন সিটি কাউন্সিল মেম্বার বাড়তি খরচের এই লাগাম টানতে সোচ্চার হয়েছেন।   তাঁরা সদস্যদের জন্য ই-বাইক রাইডের সর্বোচ্চ খরচ ৩ ডলারে সীমিত করার একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছেন। তবে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নিউইয়র্কের রাস্তায় দ্রুতগতির আরোহীদের বাধ্য হয়েই ধীরগতিতে চলতে হবে এবং গুনতে হবে বাড়তি অর্থ।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
মক্কা-মদিনায় হামলা ‘রেড লাইন’ অতিক্রমের শামিল, জাতিসংঘে শাহবাজের হুঁশিয়ারি
মক্কা-মদিনায় হামলা ‘রেড লাইন’ অতিক্রমের শামিল, জাতিসংঘে শাহবাজের হুঁশিয়ারি

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে সৌদি আরবে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শুক্রবার নিউইয়র্কে দেওয়া এই ভাষণে তিনি সতর্ক করে বলেন, মুসলমানদের পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনার পবিত্রতার প্রতি যেকোনো হুমকি এমন এক 'রেড লাইন' বা চূড়ান্ত সীমা, যা কখনোই অতিক্রম করা উচিত নয়।   রিয়াদের দাবি অনুযায়ী, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের এই হামলায় বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। যদিও হুথিরা বরাবরই রিয়াদের এই অভিযোগকে 'জঘন্য মিথ্যা' বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।   এর আগে গত মাসে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক যৌথভাবে 'মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট' নামে একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কোনো এক সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা বলে বিবেচিত হবে।   শুক্রবার রিয়াদে এই তিন দেশের সেনাপ্রধানরা বৈঠক করে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সামরিক সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। তবে তুরস্ক ও পাকিস্তান এই চুক্তির অধীনে রিয়াদকে ঠিক কী ধরনের সহায়তা দেবে তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।   তবে মার্কিন গণমাধ্যম নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান জানিয়েছেন যে, হুমকির মাত্রার ওপর ভিত্তি করে রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিকস, গোলাবারুদ কিংবা আরও বিস্তৃত সামরিক সহায়তা দেওয়া হতে পারে।   জাতিসংঘের এই ভাষণে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি বিশ্ব অর্থনীতি সচল রাখতে হরমোজ প্রণালি এবং বাব আল-মানদাব জলপথ মুক্ত ও নিরাপদ রাখার ওপর জোর দেন।   একইসঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যামূলক এজেন্ডা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানান এবং লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের কড়া সমালোচনা করেন।   নিজ অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে শাহবাজ শরিফ ভারতের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে যৌথভাবে পরিচালিত সিন্ধু নদের পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ আনেন। পাকিস্তানের পানির ন্যায্য হিস্যা আটকানোর যেকোনো চেষ্টাকে ‘যুদ্ধের শামিল’ হিসেবে দেখা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।   এছাড়া কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে জোর দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, জনমিতি পরিবর্তনের মাধ্যমে কাশ্মীরের আইনি মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, তেহরিক-ই-তালিবানের (টিটিপি) হুমকিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে ডিজেল বাসের বদলে রাস্তায় বৈদ্যুতিক স্কুল বাস, ৯ মিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ
নিউইয়র্কে ডিজেল বাসের বদলে রাস্তায় বৈদ্যুতিক স্কুল বাস, ৯ মিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যখন স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলো ডিজেলের রেকর্ড দাম নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক তখনই নিউইয়র্ক সিটির রাস্তায় নামল অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক স্কুল বাসের নতুন এক বহর। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ব্রুকলিনের ইস্ট নিউইয়র্ক এলাকার একটি ডিপোতে স্কুল পরিবহন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান 'ফার্স্ট স্টুডেন্ট' এবং ইউটিলিটি কোম্পানি 'কন এডিসন' তাদের ৯ মিলিয়ন ডলারের পাইলট প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করেছে।   এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দূষণকারী ডিজেল বাসের পরিবর্তে হাজার হাজার পরিচ্ছন্ন মডেলের বাস চালু করা এবং শহুরে বৈদ্যুতিক গ্রিডের ওপর চাপ না বাড়িয়ে বরং এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। ফার্স্ট স্টুডেন্টের বিদ্যুতায়ন বিভাগের প্রধান কেভিন ম্যাথিউস জানিয়েছেন, তারা পুরো প্রকল্পটিকে এমনভাবে সাশ্রয়ী করতে চাইছেন যাতে নিউইয়র্ক সিটির প্রতিটি শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে কার্বন নির্গমনমুক্ত যাতায়াতের সুবিধা উপভোগ করতে পারে।   এই বৈদ্যুতিক বাসগুলোর চার্জিং ব্যবস্থাটি অন্যান্য ইভি চার্জিং স্টেশনের চেয়ে একেবারেই আলাদা। সাধারণত ভূগর্ভস্থ তার ও যন্ত্রপাতি বসানোর জন্য মাটি খুঁড়তে হলেও ইস্ট নিউইয়র্কের এই সিস্টেমে সবকিছু মাটির ওপরে স্থাপন করা হয়েছে। কারণ, ওই এলাকার নিচ দিয়েই জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রধান জেট ফুয়েল লাইন গেছে, তাই খোঁড়াখুঁড়ির কোনো সুযোগ ছিল না।   তবে এই বিকল্প পদ্ধতিটি আর্থিকভাবে বেশ লাভজনক প্রমাণিত হয়েছে। মাটির ওপরের এই অবকাঠামো প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ২০ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি এক মাস আগেই কাজ শেষ করতে সাহায্য করেছে। ফার্স্ট স্টুডেন্ট জানিয়েছে, আগামী জুনের মধ্যে ইস্ট নিউইয়র্কে আরও ৪০টি ব্যাটারিচালিত বাস সরবরাহ করা হবে।   একইসঙ্গে কন এডিসনের সাথে তাদের প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপও চলমান রয়েছে, যার মাধ্যমে বাসগুলোর 'ভিহিকল-টু-গ্রিড' (V2G) সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরাসরি গ্রিডে সরবরাহ করে বিদ্যুতের খরচ কমানো এবং নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।   কন এডিসনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈদ্যুতিক বাস ও অন্যান্য বাণিজ্যিক যানবাহনগুলো ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি করবে। গ্রীষ্মকালে যখন অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতার কারণে এসি ব্যবহারের ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে, তখন বাসগুলোর অব্যবহৃত ব্যাটারির শক্তি গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।   এদিকে, ইস্ট নিউইয়র্ক ও সাউথ ব্রঙ্কসের মতো এলাকাগুলোতে যানবাহনের ধোঁয়ার কারণে বাসিন্দাদের মধ্যে হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি। তাই এসব এলাকায় বৈদ্যুতিক বাসের প্রচলন জনস্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   ফার্স্ট স্টুডেন্টের ডিপোতে ইতোমধ্যে দুটি বাসের ছাদে ৩ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে, যা বাসের ব্যাটারির পাশাপাশি ডিপোর বড় ব্যাটারিকেও চার্জ করতে পারে। পরিবেশ দূষণ রোধ ও দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমানোর এসব সুবিধার পাশাপাশি সরকারি তহবিলের সহজলভ্যতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বৈদ্যুতিক স্কুল বাসের ব্যবহার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
মিয়ামিতে জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে পুতিনকে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ, ক্ষুব্ধ ইউরোপ
মিয়ামিতে জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে পুতিনকে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ, ক্ষুব্ধ ইউরোপ

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় আসন্ন জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে ওয়াশিংটন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই তথ্য নিশ্চিত করেন।   আগামী ডিসেম্বরে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে অনুষ্ঠেয় এই শীর্ষ সম্মেলনকে পুতিনের জন্য অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এক বড় ‘সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রুবিও। পুতিন যদি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন, তবে ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে তাঁর প্রথম সফর এবং ২০১৯ সালের পর কোনো জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে সশরীরে প্রথম উপস্থিতি।   আমন্ত্রণের বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, মস্কো এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে ওয়াশিংটনের ইতিবাচক এই উদ্যোগকে রাশিয়া গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং সমন্বয়ের পর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে। পেসকভ আবারও স্পষ্ট করেন, মস্কো কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং একটি স্থায়ী শান্তি সমাধান চায়। দৃশ্যত দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন চললেও নেপথ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।   সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ অঘোষিত সফরে মস্কো গিয়েছিলেন। এছাড়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি ইস্যু ও ইউক্রেন শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে রুশ বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।   এদিকে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল ও জ্বালানির রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে একটি ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’র ওপর জোর দিচ্ছেন। যদিও গত সপ্তাহেই তিনি রুশ জ্বালানি ক্রেতা ও পুতিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কঠোর আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন।   ট্রাম্পের দাবি, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বিশ্ব অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প ভুল জায়গায় চাপ প্রয়োগ করছেন; আক্রমণ বন্ধ করা এবং ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করার মূল দায়িত্ব রাশিয়ার। তদুপরি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার কারণেই মূলত জ্বালানির বাজার অস্থির হয়েছে।   আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইউক্রেনীয় শিশুদের বেআইনিভাবে রাশিয়ায় স্থানান্তরের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে রাখলেও মিয়ামি সফরে পুতিনের গ্রেপ্তার হওয়ার কোনো আইনি ঝুঁকি নেই। কারণ যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির প্রতিষ্ঠাতা চুক্তি ‘রোম সংবিধি’র সদস্য নয়।   উল্টো ডোনাল্ড ট্রাম্প আইসিসিকে ‘নিয়ন্ত্রণহীন ও দুর্বৃত্ত প্রতিষ্ঠান’ আখ্যা দিয়ে সাধারণ পরিষদে সদস্য দেশগুলোকে এটি থেকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাছাড়া গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধেও পরোয়ানা থাকায় সংস্থাটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতিও চলছে।   তবে পুতিনকে জি-টোয়েন্টিতে আমন্ত্রণের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, যারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যুদ্ধ শুরু করেছে এবং বেসামরিক মানুষ হত্যা করেছে, তাদের এভাবে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করা বিশ্বজুড়ে ভুল বার্তা দেবে।   অন্যদিকে ইউক্রেনের অন্যতম মিত্র পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুস্ক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এমন পদক্ষেপ রাশিয়াকে শান্তি আলোচনার দিকে আনার বদলে তাদের আক্রমণাত্মক নীতি অব্যাহত রাখতে আরও বেশি উৎসাহিত করবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হতেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হতেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভাষণ দিতে মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই ওয়াকআউট করেছেন অসংখ্য দেশের প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার বিশ্বনেতাদের এই সম্মেলনে নেতানিয়াহু যখন বক্তব্য শুরু করেন, তখন প্রতিবাদস্বরূপ দলে দলে কূটনীতিকরা মিলনায়তন ত্যাগ করেন। তবে এই ঘটনাকে পাত্তা না দিয়ে ওয়াকআউট করা প্রতিনিধিদের ‘নৈতিক কাপুরুষ’ বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।   এ সময় গ্যালারিতে থাকা তার সমর্থকরা হিব্রু ভাষায় ‘ইসরায়েলের জনগণ বেঁচে আছে’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। আসন্ন নির্বাচনের আগে ক্রমেই বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক কোণঠাসা পরিস্থিতির মধ্যেই এদিন গাজা যুদ্ধ ও ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ডের পক্ষে জোরালো সাফাই গান তিনি।   ভাষণে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, পশ্চিম ইউরোপীয় নেতা এবং কাতার ও তুরস্কের কড়া সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। মেয়র মামদানি তাকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ ও ‘ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ গণহত্যার স্থপতি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ায় নেতানিয়াহু তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল কোনো গণহত্যা চালায়নি, বরং তা প্রতিরোধ করেছে।   একই সঙ্গে তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই মেয়র মামদানির বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থনের ভিত্তিহীন অভিযোগ আনেন। এর প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে মেয়র মামদানি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহু তার গণহত্যার বিষয়টি আড়াল করতেই বরাবরের মতো মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন।   আগামী পাঁচ সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা নেতানিয়াহু এদিন প্রায় ৪০ মিনিট ধরে অনেকটা নির্বাচনী প্রচারণার ঢঙেই ভাষণ দেন, যা ইসরায়েলের প্রধান চারটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রাইম টাইমে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।   এই ভাষণের আগে ম্যানহাটনে তার সরকারের অর্থায়নে পাঁচ শতাধিক ইসরায়েলপন্থী ও ইরানবিরোধী বিলবোর্ড এবং ট্রাক নামানো হয়েছিল। নিজেকে সাতটি ফ্রন্টে লড়াই করা নেতা হিসেবে তুলে ধরে তিনি এদিনও ভাষণে বিভিন্ন সরঞ্জাম প্রদর্শন করেন।   লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি একটি পেজার হাতে তুলে ধরেন। পাশাপাশি একটি স্টারলিংক ইন্টারনেট রিসিভার দেখিয়ে তিনি জানান, এটি তিনি ইরানি প্রতিনিধিদের জন্য রেখে যাবেন, যাতে তারা নিজ দেশে ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন।   ইসরায়েলের এই নেতার আগমন ঘিরে জাতিসংঘের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করো, গাজাকে বাঁচতে দাও’ স্লোগানে শত শত বিক্ষোভকারী রাস্তা অবরোধ করলে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে। গাজা যুদ্ধের জেরে ইসরায়েলের নির্বাচনকালীন এই সংক্ষিপ্ত সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর কোনো পূর্বনির্ধারিত বৈঠক ছিল না।   তবে ভাষণে ট্রাম্পের ‘সাহসী নেতৃত্বের’ প্রশংসা করে তাকে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অংশীদার বলে উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু।   প্রায় তিন বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধের জেরে ইসরায়েল বর্তমানে চরম কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে রয়েছে। ২০২৪ সালে আইসিসির জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে নেতানিয়াহু অনেক দেশেই সফর করতে পারেন না। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর সম্প্রতি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডার নিষেধাজ্ঞাকেও তিনি দুর্বলতা আখ্যা দিয়ে কড়া সমালোচনা করেন।   বসতি স্থাপনকারীদের ভয়াবহ সহিংসতাকে তিনি মাত্র ‘দেড়শতাধিক কিশোর অপরাধীর পাথর ছোড়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা’ বলে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করেন এবং দাবি করেন যে ইসরায়েল একটি আইনের দেশ।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে মেরিল্যান্ড বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের সঙ্গে মেরিল্যান্ড বিএনপি নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মেরিল্যান্ড বিএনপির নেতাকর্মীরা।নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাজলসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।   সাক্ষাৎকালে তাঁরা আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সৌজন্যপূর্ণ কথাবার্তা বলেন। সংশ্লিষ্টদের প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, সাক্ষাৎটি ছিল আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে। মোহাম্মদ কাজল মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। মেরিল্যান্ডে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামকরণের উদ্যোগের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে।   এদিকে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হিসেবে তাঁর প্রথম ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।   প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রয়েছে। এই দলে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়েছেন।   ফলে নিউইয়র্কে মেরিল্যান্ড বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই সাক্ষাৎটি প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের সময় অনুষ্ঠিত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবেই উল্লেখ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কর্মসূচি রয়েছে।

নুরুল্লাহ সাইদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে হার্ভে ওয়াইনস্টিনের ১৫ বছরের কারাদণ্ড, যৌ ন  নি পীড়নে দোষী সাব্যস্ত
নিউইয়র্কে হার্ভে ওয়াইনস্টিনের ১৫ বছরের কারাদণ্ড, যৌ ন নি পীড়নে দোষী সাব্যস্ত

বুধবার নিউইয়র্কের একটি আদালত হলিউডের সাবেক প্রভাবশালী প্রযোজক হার্ভে ওয়াইনস্টিনকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। ২০০৬ সালে এক সাবেক প্রোডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্টকে যৌন নিপীড়ন করার দায়ে গত বছর পুনরায় অনুষ্ঠিত বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এই রায় ঘোষণা করা হলো।   ৭৪ বছর বয়সী ওয়াইনস্টিন ২০০৬ সালে ম্যানহাটনে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে মিরিয়ম হেইলিকে নিপীড়নের অভিযোগে ২০২৫ সালের জুনে ফার্স্ট-ডিগ্রি ক্রিমিনাল সেক্সুয়াল অ্যাক্টের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলা এই আইনি প্রক্রিয়ায় এর আগে ২০২০ সালে তাকে দেওয়া ২৩ বছরের কারাদণ্ডটি ২০২৪ সালে নিউইয়র্কের সর্বোচ্চ আদালত বাতিল করে দিয়েছিল।   ওয়াইনস্টিন অবশ্য সবসময়ই কারও সাথে জোরপূর্বক বা অসম্মতিতে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন ব্র্যাগ এই বিচারের সময় সাহসিকতার সাথে সাক্ষ্য দেওয়ায় হেইলির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে, ওয়াইনস্টিনের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ওয়াইনস্টিন নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করছেন এবং বিচারক কার্টিস ফারবারের দেওয়া এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করছেন।   এর আগে ২০২০ সালে নিউইয়র্কে হেইলিকে নিপীড়ন এবং উঠতি অভিনেত্রী জেসিকা মানকে ধর্ষণের দায়ে ওয়াইনস্টিনকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ন্যায্য বিচার পাননি—এমন যুক্তিতে নিউইয়র্কের সর্বোচ্চ আদালত ২০২৪ সালে ওই রায় বাতিল করে।   পরবর্তীতে ২০২৫ সালে পুনরায় অনুষ্ঠিত বিচারে জুরি বোর্ড তাকে হেইলির মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে, তবে সাবেক মডেল কাজা সোকোলাকে নিপীড়নের অভিযোগ থেকে খালাস দেয় এবং জেসিকা মানের ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। গত মে মাসে মানের অভিযোগের ওপর তৃতীয় বিচারটিও কোনো রায় ছাড়াই শেষ হয়। এরপর মান আর চতুর্থবার সাক্ষ্য দিতে না চাওয়ায় পরের মাসে প্রসিকিউটররা অভিযোগটি তুলে নেন।   মিরাম্যাক্স স্টুডিওর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হার্ভে ওয়াইনস্টিনকে ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের আরেকটি আলাদা মামলায় ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আপিল আদালত সেই রায় বহাল রাখলেও তাকে নতুন করে সাজা ঘোষণার নির্দেশ দেয়, কারণ বিচারক তার বাতিল হয়ে যাওয়া নিউইয়র্কের রায়টিকে একটি প্রভাবক হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।   ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে প্রথম রায়টি ছিল '#মিটু' (MeToo) আন্দোলনের একটি বড় মাইলফলক, যা ক্ষমতাধর পুরুষদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার নারীদের মুখ খুলতে উৎসাহিত করেছিল। এখন পর্যন্ত বিখ্যাত অনেক অভিনেত্রীসহ ১০০ জনেরও বেশি নারী ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ এনেছেন, যদিও তিনি এসব অভিযোগ ক্রমাগত অস্বীকার করে আসছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
কম খরচে নিউইয়র্কে বাড়ি কেনার সুযোগ, মিলতে পারে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা
কম খরচে নিউইয়র্কে বাড়ি কেনার সুযোগ, মিলতে পারে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা

নিউইয়র্ক সিটিতে বাড়ি কেনা অনেকের কাছেই অধরা স্বপ্ন মনে হলেও, প্রথমবার বাড়ি কিনতে যাওয়া যোগ্য ক্রেতাদের জন্য বেশ কয়েকটি বিশেষ সরকারি সহায়তার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংরক্ষণ ও উন্নয়ন বিভাগের ‘হোমফার্স্ট’ কর্মসূচি।   এই কর্মসূচির মাধ্যমে ডাউন পেমেন্ট এবং বাড়ি কেনার আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাওয়া সম্ভব। নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরো—ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, ম্যানহাটন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে ১ থেকে ৪ ইউনিটের বাড়ি, কনডোমিনিয়াম বা সমবায়ী মালিকানার বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে এই সহায়তা পাওয়া যাবে। তবে শর্ত হলো, বাড়িটি অবশ্যই ক্রেতার প্রধান বাসস্থান হতে হবে এবং কেনার আগে নির্ধারিত আবাসন মানের পরিদর্শনে তা উত্তীর্ণ হতে হবে।   এই ১ লাখ ডলারের সহায়তাটি কোনো সরাসরি নগদ অনুদান নয়, বরং এটি নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষ ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়। ৪০ হাজার ডলার বা তার কম সহায়তা নিলে ওই বাড়িতে ক্রেতাকে অন্তত ১০ বছর এবং ৪০ হাজার ডলারের বেশি সহায়তা নিলে অন্তত ১৫ বছর প্রধান বাসস্থান হিসেবে বসবাস করতে হবে। এর পাশাপাশি আবেদনকারীর আয়ের নির্দিষ্ট সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।   ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে কার্যকর নিয়ম অনুযায়ী, এক সদস্যের পরিবারের সর্বোচ্চ বার্ষিক আয় ১ লাখ ৪২ হাজার ৫৬০ ডলার এবং চার সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে তা ২ লাখ ৩ হাজার ৫২০ ডলার হতে পারবে। এছাড়াও, এক ইউনিটের বাড়ির ক্ষেত্রে ব্রঙ্কস, ম্যানহাটন ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে সর্বোচ্চ মূল্যসীমা ৬ লাখ ৬১ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।   হোমফার্স্টের পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংযোগ (Housing Connect) ব্যবস্থায় সাশ্রয়ী মূল্যে কনডোমিনিয়াম ও সমবায়ী মালিকানার বাড়ি কেনারও সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যম ও মাঝারি আয়ের পরিবারের জন্য ‘মিচেল-লামা’ কর্মসূচির আওতায় সমবায়ী মালিকানার বাড়ি পাওয়ার বিকল্পও রয়েছে, যার জন্য আলাদা অপেক্ষমাণ তালিকা অনুসরণ করা হয়।   আর যারা নিউইয়র্ক সিটির বাইরে বাড়ি কিনতে আগ্রহী, তাদের জন্য নিউইয়র্ক স্টেট মর্টগেজ এজেন্সির (SONYMA) অধীনেও বিভিন্ন ডাউন পেমেন্ট সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। তবে এই ধরনের যেকোনো সরকারি সুবিধার আওতায় বাড়ি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির সর্বশেষ নিয়মাবলি যাচাই করে অনুমোদিত হাউজিং কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
লং আইল্যান্ডে প্রেমিকার সাবেক সঙ্গীকে হ ত্যা, ২৫ বছরের কারাদণ্ড প্রেমিকের
লং আইল্যান্ডে প্রেমিকার সাবেক সঙ্গীকে হ ত্যা, ২৫ বছরের কারাদণ্ড প্রেমিকের

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে একটি অভিজাত ইয়ট ক্লাবে 'ত্রিভুজ প্রেমের' জেরে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে ভিক্টর প্যানেবিয়াঙ্কো (৩২) নামের এক যুবককে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ফার্স্ট-ডিগ্রি ম্যানস্লটার বা হত্যার দায়ে তাকে এই সর্বোচ্চ সাজা শোনানো হয়। গত ১০ নভেম্বর ক্রিস্টোফার মিলওয়াটার (৫২) নামের ওই ব্যক্তিকে স্টনি ব্রুক ইয়ট ক্লাবের পার্কিং লটে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছিল, যেখানে তিনি মাছ ধরতে যেতেন।   প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, হত্যাকারী ভিক্টর এবং তার প্রেমিকা ক্যাসি কর্সো (৩৩) নর্থ ক্যারোলিনা থেকে গাড়ি চালিয়ে লং আইল্যান্ডে এসেছিলেন ক্রিস্টোফারকে হত্যা করার পূর্বপরিকল্পনা নিয়ে। উল্লেখ্য, ক্রিস্টোফার একসময় ক্যাসির প্রেমিক ছিলেন, কিন্তু তাদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ক্যাসি তার প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতে শুরু করেন।   ঘটনার দিন ভোর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে ক্রিস্টোফার যখন ইয়ট ক্লাবে পৌঁছান, তখন আগে থেকেই পার্কিং লটে ওত পেতে ছিলেন ভিক্টর ও ক্যাসি। বিপদের আঁচ পেয়ে ক্রিস্টোফার নিজের গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ভিক্টর তার গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পথ আটকে দেন। এরপর ক্রিস্টোফার গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে ভিক্টর তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন এবং বুকে দুবার মারাত্মকভাবে ছুরিকাঘাত করেন।   সিসিটিভি ফুটেজে এই রোমহর্ষক দৃশ্য ধরা পড়েছে, যেখানে মৃত্যুর ঠিক আগে ক্রিস্টোফারের শেষ কথা ছিল, "তুমি আমাকে ছুরি মারছ?"   হত্যাকাণ্ডের পরপরই ভিক্টর এবং ক্যাসি গাড়ি চালিয়ে নর্থ ক্যারোলিনায় তাদের অ্যাপার্টমেন্টে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে স্টোকস কাউন্টির শেরিফ তাদের সেখান থেকে গ্রেপ্তার করেন। সাফোক কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি রে টিয়ার্নি এই রায়কে ন্যায়বিচারের জয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, তারা আশা করেন এই সর্বোচ্চ সাজার মাধ্যমে নিহতের পরিবার কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পাবে।   অন্যদিকে, নিহতের সাবেক প্রেমিকা ও এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ইন্ধনদাতা ক্যাসি কর্সোও দোষ স্বীকার করেছেন এবং তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন।   মর্মান্তিক এই ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগে ক্রিস্টোফার তার ফেসবুক পেজে নিজের অতীত ও জীবন নিয়ে বেশ কিছু রহস্যময় পোস্ট করেছিলেন। একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, "আমি মারা গেলে বিশ্রামের জন্য প্রচুর সময় পাব, তাই এখন দ্রুত গোসল সেরে জিমে যাওয়ার সময়।" অন্য একটি পোস্টে তিনি তার অতীত নিয়ে মানুষকে গসিপ না করার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি সবকিছুর সাথেই আপস করে শান্তিতে রয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
একের পর এক বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প
বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্র এখন নিউইয়র্ক, একের পর এক বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন যুক্তরাষ্ট্র। আজ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে রয়েছে একের পর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিপক্ষীয় ও দলীয় বৈঠক মিলিয়ে অন্তত ১১ জন বিশ্বনেতার সঙ্গে তাঁর আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে।   ট্রাম্পের কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সম্ভাব্য উত্তেজনা প্রশমনের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। জেলেনস্কি ইতোমধ্যে শান্তি প্রক্রিয়াকে তাঁর সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গেও ট্রাম্পের বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে এটি বার্নহামের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বিষয় নিউইয়র্কে বার্নহামের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।   জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গেও ট্রাম্প বৈঠক করবেন। যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীর্ষ বৈঠকের আগে এই আলোচনা হচ্ছে। জাপান টাইমস জানিয়েছে, চীন নিয়ে টোকিওর অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-জাপান জোটের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করতে পারেন তাকাইচি।   তবে নিউইয়র্কের কূটনীতিতে সবচেয়ে বড় আলোচনার একটি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গেও ট্রাম্পের বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন বলে প্রকাশিত সূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহও বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। এপি জানিয়েছে, জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে কূটনীতিকেরা হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সংকটে অচলাবস্থা কাটানোর সুযোগ খুঁজছেন।   জাতিসংঘের এই সপ্তাহে কূটনৈতিক ব্যস্ততার মাত্রাও ব্যাপক। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিকের বরাত দিয়ে দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, সদস্যদেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রায় এক হাজার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের অনুরোধ এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকট সমাধানের প্রচেষ্টা এসব বৈঠকের বড় অংশজুড়ে থাকবে।   ফলে এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন শুধু বিশ্বনেতাদের আনুষ্ঠানিক ভাষণের মঞ্চ নয়; ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—একাধিক বড় আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পর্দার আড়ালের কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে নিউইয়র্ক।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি চিকিৎসক সায়েরা হক
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি চিকিৎসক সায়েরা হক, রংপুর মেডিকেল থেকে ব্রুকলিনের চিকিৎসাসেবা

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনাল মেডিসিনের চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডা. সায়েরা হক। রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এসে তিনি কনি আইল্যান্ড হাসপাতালে ইন্টারনাল মেডিসিনে প্রশিক্ষণ নেন। বর্তমানে তিনি ব্রুকলিনে নিজস্ব চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী দেখার পাশাপাশি সাউথ ব্রুকলিন হেলথের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।    প্রকাশ্য চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ডা. সায়েরা হক ১৯৯৫ সালে রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে মেডিকেল ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে তার ইন্টারনাল মেডিসিনের রেসিডেন্সি সম্পন্ন হয় কনি আইল্যান্ড হাসপাতালে। নিউইয়র্কের সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থার চিকিৎসক প্রোফাইলেও তার মেডিকেল শিক্ষা ও রেসিডেন্সির তথ্য উল্লেখ রয়েছে।    চিকিৎসাবিষয়ক বিভিন্ন প্রকাশ্য প্রোফাইলে তাকে ইন্টারনাল মেডিসিনের বোর্ড সার্টিফায়েড চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের চিকিৎসক ডিরেক্টরিতেও তার বিশেষত্ব হিসেবে ইন্টারনাল মেডিসিনের তথ্য রয়েছে।    ব্রুকলিনে তার চিকিৎসাসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলা ভাষায় রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ। নিউইয়র্ক সিটি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের প্রোফাইলে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষায় তার চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত চিকিৎসক তালিকাতেও তাকে বাংলা ভাষাভাষী চিকিৎসক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।    তার নিজস্ব চিকিৎসাকেন্দ্র হক মেডিকেল অফিসের প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রাইমারি কেয়ার চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখেন। চিকিৎসাকেন্দ্রটির ওয়েবসাইটে তাকে ইন্টারনাল মেডিসিনে ২৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং ইমার্জেন্সি রুমে অ্যাটেন্ডিং ফিজিশিয়ান হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী বলা হয়েছে। তবে বর্তমানে একই প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য ওয়েবসাইটে অভিজ্ঞতার সময়কাল ৩০ বছরের বেশি এবং ইমার্জেন্সি রুমে ২১ বছরের বেশি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পুরোনো ও বর্তমান প্রোফাইলের মধ্যে অভিজ্ঞতার সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে।    ব্রুকলিনে তার চিকিৎসাকেন্দ্রের বর্তমান প্রকাশ্য ঠিকানা ৫৪০ ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউ, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক ১১২১৮ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্রের নিজস্ব তথ্য এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক তালিকায় এই ঠিকানা ও ফোন নম্বরের তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে কিছু পুরোনো জাতীয় চিকিৎসক রেজিস্ট্রি তথ্যে ৫১৮ ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউর ঠিকানাও দেখা যায়। তাই রোগীদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে চিকিৎসাকেন্দ্রের বর্তমান তথ্য নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।    ডা. সায়েরা হকের চিকিৎসাসেবা শুধু একটি নির্দিষ্ট কমিউনিটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকাশ্য চিকিৎসক তালিকায় তাকে নতুন রোগী গ্রহণকারী চিকিৎসক হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং টেলিহেলথ সুবিধার কথাও উল্লেখ রয়েছে। তার চিকিৎসাকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রোগীদের জন্য সপ্তাহের বিভিন্ন দিন এবং দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সুযোগ রয়েছে।    নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য মাতৃভাষায় চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ একটি বাস্তব সুবিধা। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা, নিয়মিত প্রাইমারি কেয়ার এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য বোঝার ক্ষেত্রে রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে ভাষাগত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডা. সায়েরা হকের প্রকাশ্য চিকিৎসক প্রোফাইলগুলোতে বাংলা ভাষায় সেবা দেওয়ার তথ্য থাকায় ব্রুকলিনে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী রোগীদের জন্য তার চিকিৎসাসেবা আলাদা গুরুত্ব বহন করে।  সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে অভিবাসন ও আবাসন সংকট নিয়ে ট্রাম্প-মামদানির রুদ্ধদ্বার বৈঠক
নিউইয়র্কে অভিবাসন ও আবাসন সংকট নিয়ে ট্রাম্প-মামদানির রুদ্ধদ্বার বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানির সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১২ মাসের মধ্যে এটি তাদের তৃতীয় বৈঠক। অন্যান্য ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কারণে সমালোচিত হলেও, মেয়র মামদানি তার এই আলোচনার সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, শহরের বাসিন্দাদের জন্য সর্বোচ্চ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য এবং সে কারণেই এই ধরনের কথোপকথন অত্যন্ত জরুরি ও মূল্যবান।   বৈঠক শেষে মেয়র মামদানি জানান, নিউইয়র্ক শহরকে আরও উন্নত করে গড়ে তোলা এবং অভিবাসীদের নিরাপত্তার বিষয়টি তাদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।   অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রেসি ম্যানশনে তার অতীতের স্মৃতিচারণ করার পাশাপাশি মেয়রের প্রস্তাবিত একটি বৃহৎ আবাসন উন্নয়ন প্রকল্পে সমর্থন দেওয়ার বিষয়েও ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন।   রাজনৈতিক মতাদর্শ সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী হওয়া সত্ত্বেও এই দুই নেতার মধ্যকার আলোচনাগুলো বরাবরই বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ হতে দেখা গেছে।   গত ২০২৫ সালের নভেম্বরে মেয়র হিসেবে মামদানি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে তাদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও তারা দ্বিতীয়বারের মতো মুখোমুখি বসেছিলেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১,৩৬৯ ডলার ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট, লটারিতে আবেদনের শেষ সুযোগ ৮ অক্টোবর
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১,৩৬৯ ডলার ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট, লটারিতে আবেদনের শেষ সুযোগ ৮ অক্টোবর

নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কস এলাকার ওয়েস্ট ফার্মসে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন বা 'অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং' প্রকল্পের অধীনে লটারির মাধ্যমে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক ওয়াইআইএমবিওয়াই (YIMBY) ও এনওয়াইসি হাউজিং কানেক্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, 'লংফেলো মারমিয়ন অ্যাপার্টমেন্টস' নামের এই প্রকল্পে মোট ১৪টি এক ও দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।   ১৯০০ লংফেলো অ্যাভিনিউ ও ১৯৬৮ মারমিয়ন অ্যাভিনিউয়ের দুটি পাঁচতলা ভবনে অবস্থিত এই অ্যাপার্টমেন্টগুলোর মাসিক ভাড়া পরিবারগুলোর আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে, যা সর্বনিম্ন ১ হাজার ৩৬৯ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   প্রকল্পটিতে সাধারণ ভাড়ার পাশাপাশি বেশ কিছু বিশেষ ভাড়ার সুবিধাও রয়েছে। এখানে ১ হাজার ৩৬৯ ডলার ভাড়ায় এক বেডরুমের তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যার জন্য আবেদনকারীর বার্ষিক আয় ৫১ হাজার ২৫৮ থেকে ৭৬ হাজার ৩৫০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। অন্যদিকে, ২ হাজার ৮ ডলার ভাড়ায় দুই বেডরুমের দুটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যার আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫৭২ থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৯২০ ডলার।   এর বাইরেও এক বেডরুমের চারটি অ্যাপার্টমেন্ট ১ হাজার ৬৮৭ ডলারে এবং দুই বেডরুমের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ১ হাজার ৬২৭ ডলারে পাওয়া যাবে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এক ও তিন বেডরুমের মোট চারটি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া নির্ধারিত হবে আবেদনকারী পরিবারের মোট আয়ের মাত্র ৩০ শতাংশের সমপরিমাণ।   এই বিশেষ ইউনিটগুলোতে কোনো আয় না থাকলেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে, তবে সেক্ষেত্রে হাউজিং কর্তৃপক্ষের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।   এই অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নত করতে আবাসিক তত্ত্বাবধায়ক বা সুপারিনটেনডেন্ট, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী আধুনিক যন্ত্রপাতি, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ক্যামেরা, ইন্টারকম ও যৌথ লন্ড্রির মতো চমৎকার সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। তবে ভাড়াটিয়াদের নিজেদের ব্যবহারের বিদ্যুৎ ও চুলার বিল আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হবে।   আগ্রহী প্রার্থীরা নিউইয়র্ক সিটির 'এনওয়াইসি হাউজিং কানেক্ট'-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রকল্পের নাম খুঁজে সরাসরি অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার বা ডাকযোগে পাঠানোর শেষ সময় আগামী ৮ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে তিন মাসে তিন ক্যাবচালকের মৃত্যু
নিউইয়র্কে তিন মাসে তিন ক্যাবচালকের মৃত্যু, প্রবাসী চালকদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ

নিউইয়র্ক সিটিতে গত তিন মাসে তিনজন ইয়েলো ক্যাবচালককে নিজ নিজ ট্যাক্সির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনের ওয়েস্ট ভিলেজে ৫৩ বছর বয়সী ক্যাবচালক জগজিৎ সিংয়ের মৃত্যুর পর চালকদের স্বাস্থ্য, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   জগজিৎ সিং প্রায় ২০ বছর ধরে নিউইয়র্কে ক্যাব চালাতেন। ১১ সেপ্টেম্বর যাত্রী নামিয়ে ওয়েস্ট ভিলেজের সেভেনথ অ্যাভিনিউ সাউথ ও চার্লস স্ট্রিটের কাছে তার ট্যাক্সি থামানোর পর দীর্ঘ সময় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। পরে বন্ধুরা গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করে তাকে ট্যাক্সির ভেতরে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান এবং ৯১১-এ ফোন করেন। জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   নিউইয়র্ক পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে অপরাধমূলক হামলা হিসেবে চিহ্নিত করার কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণের বিষয়টি অফিস অব চিফ মেডিকেল এক্সামিনারের তদন্তের আওতায় ছিল। সহকর্মীদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হৃদ্‌যন্ত্রজনিত সমস্যার কথা বলা হলেও সেটিকে এখনো সরকারি চূড়ান্ত কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। সিং স্ত্রী ও ১০ বছর বয়সী যমজ সন্তান রেখে গেছেন।   এর কয়েক সপ্তাহ আগে ৫৩ বছর বয়সী খলিফা এইচ. সিওয়াকে ম্যানহাটনের হেনরি হাডসন পার্কওয়ের কাছে তার ট্যাক্সির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি তানজানিয়ার নাগরিক ছিলেন। পরিচিতজনদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনাতেও মেডিকেল এক্সামিনারের তদন্ত হয়েছিল, তবে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তার মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না।   এই ধারাবাহিকতার প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২ জুলাই। ৭৩ বছর বয়সী রিচার্ড কুলিবালিকে হারলেমের ফ্রেডেরিক ডগলাস বুলেভার্ডে পার্ক করা তার ট্যাক্সির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি আইভরি কোস্টের অভিবাসী ছিলেন এবং দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে ক্যাব চালিয়েছেন। তার মৃত্যুর সময় শহরে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছিল। তবে গরমের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে এমন দাবি নিশ্চিত করার মতো তথ্য নেই। পরবর্তী তথ্য অনুযায়ী, মেডিকেল এক্সামিনার তার মৃত্যুকে ন্যাচারাল কজ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।   পরপর তিনজন ক্যাবচালকের মৃত্যুতে নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্স চালকদের কর্মপরিবেশ ও স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য, নিউইয়র্কের অনেক ক্যাবচালক দীর্ঘ সময় কাজ করেন এবং আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের কারণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম কিংবা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। সংগঠনটি চালকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি চিকিৎসা সহায়তা বাড়ানোর দাবি তুলেছে।   তবে তিনটি মৃত্যুর মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে এমন প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি। তিনজনের মৃত্যুর পরিস্থিতিও এক নয় এবং তাদের জাতীয় পরিচয়ও ভিন্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বাংলাদেশি বলা হলেও প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনজনের কেউই বাংলাদেশি ছিলেন না। একজন ছিলেন আইভরি কোস্টের, একজন তানজানিয়ার এবং জগজিৎ সিং ছিলেন ভারত থেকে আসা একজন অভিবাসী।   নিউইয়র্কে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী চালক ট্যাক্সি ও পরিবহন খাতে কাজ করেন। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো চালকদের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর ঝুঁকি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পাওয়ার বিষয়গুলোকে নতুন করে সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে প্রতিটি মৃত্যুর কারণ আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আপাতত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এসব ঘটনাকে একই কারণের মৃত্যু বা কোনো অপরাধমূলক ঘটনার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

নুরুল্লাহ সাইদ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্ক ছাড়াও আমেরিকায় ১০ ‘ছোট বাংলাদেশ’ দেশি খাবার ও বাজারে জমজমাট আড্ডা
নিউইয়র্ক ছাড়াও আমেরিকায় ১০ ‘ছোট বাংলাদেশ’ দেশি খাবার ও বাজারে জমজমাট আড্ডা

নিউইয়র্ককে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হিসেবে ধরা হলেও দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠেছে আরও বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি। কোথাও বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারি, কোথাও মসজিদ ও ইসলামিক শিক্ষা, আবার কোথাও ব্যবসা ও পেশাজীবী নেটওয়ার্ককে ঘিরে তৈরি হয়েছে এমন পরিবেশ, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের ভাষা, খাবার, সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবন অনেকটাই ধরে রাখতে পারছেন।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে বিশ্লেষণে নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে ডেট্রয়েট, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি ও বোস্টনের মতো মেট্রোপলিটন এলাকার নাম এসেছে। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের তথ্যভিত্তিক ওই তালিকায় আটলান্টিক সিটিও ছিল শীর্ষ ১০-এর মধ্যে।   এখানে ‘ছোট বাংলাদেশ’ কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক নাম নয়। এটি এমন এলাকাকে বোঝাতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশি পরিবার, ব্যবসা, খাবার, গ্রোসারি, মসজিদ, সামাজিক সংগঠন এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সেবা মিলিয়ে একটি দৃশ্যমান কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।   ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক, মিশিগান: নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির কথা উঠলে মিশিগানের ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম। বিশেষ করে হ্যামট্রাম্যাকের কন্যান্ট অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি ব্যবসা ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।   ডেট্রয়েটের পর্যটন সংস্থা ভিজিট ডেট্রয়েটের তথ্য অনুযায়ী, হ্যামট্রাম্যাক ও উত্তর ডেট্রয়েট এলাকায় আনুমানিক ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন বলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মেট্রো ডেট্রয়েটের হিসাব। এলাকাটিতে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি গ্রোসারি ও হালাল খাবারের দোকানও রয়েছে।    হ্যামট্রাম্যাকে বাংলাদেশি কমিউনিটির ধর্মীয় অবকাঠামোরও দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আল-ইসলাহ ইসলামিক সেন্টার বাংলাদেশি অভিবাসীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরে মাদ্রাসা বা ইসলামিক স্কুলের কার্যক্রমও চালু করা হয়।    কন্যান্ট স্ট্রিটে ফ্যামিলি বাজার, মেঘনা বাজার, মারহাবা বাজার ও হেরা ফিশ মার্কেটের মতো দোকানে বাংলাদেশি গ্রোসারি, মসলা, সবজি, হালাল মাংস ও মাছ পাওয়া যায়।    লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া: লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘লিটল বাংলাদেশ’ সম্ভবত নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে পরিচিত নামগুলোর একটি। থার্ড স্ট্রিট ও আলেকজান্দ্রিয়া অ্যাভিনিউ ঘিরে গড়ে ওঠা চার ব্লকের এই এলাকাটি ২০১০ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়। এলাকায় রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট, আবাসিক এলাকা ও বাংলাদেশি কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।    লিটল বাংলাদেশের রাস্তায় বাংলাদেশি খাবারের পাশাপাশি গ্রোসারি, বিউটি সেলুন, মোবাইলের দোকান ও অন্যান্য ব্যবসা দেখা যায়। বাংলা ভাষার কথাবার্তা, দেশি খাবারের গন্ধ এবং বাংলাদেশি পণ্য বিক্রি করা দোকান এলাকাটিকে অন্য অনেক আমেরিকান এলাকার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।   থার্ড স্ট্রিটের বিভিন্ন দোকানে দেশি মাছ, মসলা, চাল, ডাল ও হালাল পণ্য পাওয়া যায়। কিছু ব্যবসায় একই সঙ্গে গ্রোসারি ও রেস্টুরেন্ট পরিচালিত হচ্ছে।    ওয়াশিংটন মেট্রো, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ড: ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রোপলিটন এলাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির আরেকটি বড় কেন্দ্র। এই কমিউনিটি শুধু ডিসি শহরে সীমাবদ্ধ নয়; নর্দার্ন ভার্জিনিয়া এবং মেরিল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায়ও বাংলাদেশি পরিবার ও ব্যবসা ছড়িয়ে আছে।   পিউ রিসার্চের সাম্প্রতিক বাংলাদেশি জনসংখ্যা বিশ্লেষণে নিউইয়র্ক ও ডেট্রয়েটের পর ওয়াশিংটন মেট্রোকে বড় বাংলাদেশি কেন্দ্র হিসেবে দেখানো হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য ব্যবহার করা এই বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার এবং এর ৪৪ শতাংশ নিউইয়র্কে বসবাস করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।    এই অঞ্চলের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো পেশাজীবীদের শক্ত উপস্থিতি। সরকারি চাকরি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা ও বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশি-আমেরিকানদের পাশাপাশি রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, মসজিদ ও কমিউনিটি সংগঠনও রয়েছে।   ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া: পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া মেট্রো এলাকাও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের বিশ্লেষণে ফিলাডেলফিয়া মেট্রোতে প্রায় ৭ হাজার বাংলাদেশির বসবাসের হিসাব পাওয়া যায়।    শহর ও আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, হালাল খাবারের ব্যবসা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। বাংলা ভাষার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও এই কমিউনিটির পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   আটলান্টা, জর্জিয়া: দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত কেন্দ্র আটলান্টা মেট্রো। বিশেষ করে ডোরাভিল, চ্যাম্বলি, নরক্রস এবং বাফোর্ড হাইওয়ের আশপাশে বাংলাদেশি ব্যবসার দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে।   বর্তমানে আটলান্টা এলাকায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারির বিস্তৃত তালিকা পাওয়া যায়। স্থানীয় বাংলাদেশি ব্যবসা ডিরেক্টরিতে রুচি বাংলাদেশি কুইজিন, দেশি স্ট্রিট ফুড, আলিফ ক্যাফে, আল-আমিনসহ একাধিক বাংলাদেশি খাবারের ব্যবসা এবং একাধিক গ্রোসারি ও হালাল মাংসের দোকানের তালিকা রয়েছে।    ডোরাভিলের আল-আমিনের ও  জমজমের মতো কিছু ব্যবসায় একই ছাদের নিচে বাংলাদেশি খাবার, গ্রোসারি ও হালাল মাংসের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে একজন বাংলাদেশি পরিবারের জন্য রেস্টুরেন্টে খাওয়া এবং দেশি বাজার করা দুটোই একই জায়গায় সম্ভব।    ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ, টেক্সাস: টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায়ও গত কয়েক দশকে বাংলাদেশি কমিউনিটি বিস্তৃত হয়েছে। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মেট্রো বিশ্লেষণে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থে প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশির হিসাব ছিল।    এই অঞ্চলের বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে ব্যবসা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য পেশায় যুক্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশি খাবার ও গ্রোসারি ব্যবসাও তৈরি হয়েছে।   ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থের পাশাপাশি টেক্সাসের হিউস্টনেও উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে।   হিউস্টন, টেক্সাস: হিউস্টনে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো দেশি খাবার ও বাজারের সমন্বয়। রুপশি বাংলা গ্রোসারি অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট নিজেদের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট এবং মিলনস্থল হিসেবে পরিচয় দেয়। হাইওয়ে ৬ এলাকার এই ব্যবসায় বাংলাদেশি খাবারের পাশাপাশি মাছ, সবজি, চাল, মসলা ও হালাল মাংসসহ বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যায়।    পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের হিসাবে হিউস্টন মেট্রোতে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশির বসবাস ছিল।    মিয়ামি, ফ্লোরিডা: দক্ষিণ ফ্লোরিডার মিয়ামি মেট্রোতেও বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি রয়েছে। পিউ রিসার্চের একই মেট্রো বিশ্লেষণে মিয়ামিতে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশির হিসাব পাওয়া যায়।    এখানে বাংলাদেশিরা বিভিন্ন পেশা ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, হালাল খাবার, গ্রোসারি এবং কমিউনিটি সংগঠনের মাধ্যমে দূরত্বের মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগ ধরে রাখছেন অনেকে।   বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস: নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পুরোনো কেন্দ্র বোস্টন। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের হিসাবে বোস্টন মেট্রোতে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির বসবাস ছিল।    তবে জনসংখ্যার সংখ্যা দিয়ে কমিউনিটির সাংগঠনিক শক্তি পুরোপুরি বোঝা যায় না। বোস্টনে কয়েক দশকের বাংলাদেশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ইতিহাস রয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ ইংল্যান্ডও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কমিউনিটির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।   আটলান্টিক সিটি, নিউ জার্সি: নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিও বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের শীর্ষ ১০ মেট্রো তালিকায় আটলান্টিক সিটিতে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির হিসাব ছিল।    এখানে বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির জন্য মসজিদ ও ইসলামিক শিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। মাসজিদ আল-হেরা নিজেদেরকে আটলান্টিক সিটির বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির প্রথম মসজিদ হিসেবে উল্লেখ করে এবং সেখানে নিয়মিত নামাজের পাশাপাশি শিশুদের ইসলামিক স্কুল ও প্রাপ্তবয়স্কদের কোরআন শিক্ষার কার্যক্রম রয়েছে।    বাংলাদেশি কমিউনিটি শুধু জনসংখ্যার হিসাব নয়: যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটি নিয়ে কথা বলার সময় শুধু কতজন বাংলাদেশি কোথায় থাকেন, সেই সংখ্যা দিয়ে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। একটি কমিউনিটি কতটা প্রতিষ্ঠিত, সেটি বোঝার জন্য সেখানে বাংলাদেশি ব্যবসা, গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট, মসজিদ, ইসলামিক শিক্ষা, সামাজিক সংগঠন এবং পেশাজীবী নেটওয়ার্ক কতটা গড়ে উঠেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।   পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যার ৪৪ শতাংশ নিউইয়র্কে বসবাস করে। একই বিশ্লেষণে মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিকে বাংলাদেশি জনসংখ্যার বড় রাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।    অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন এলাকাভিত্তিক তথ্য দেখায়, নিউইয়র্কের বাইরেও ডেট্রয়েট, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি, বোস্টন ও আটলান্টিক সিটিতে বাংলাদেশিদের দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে।    এই এলাকাগুলোর কোথাও হয়তো নিউইয়র্কের মতো বিশাল বাংলাদেশি জনসংখ্যা নেই। কিন্তু দেশি খাবারের রেস্টুরেন্ট, বাংলাদেশি বাজার, মসজিদ, ইসলামিক শিক্ষা, সামাজিক অনুষ্ঠান আর বাংলায় আড্ডার সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রবাসী জীবনে এসব জায়গা নিজেদের মতো করে একেকটি ‘ছোট বাংলাদেশ’-এর রূপ নিয়েছে।   নিউইয়র্ক তাই যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি জীবনের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হলেও, বাংলাদেশি আমেরিকানদের গল্প এখন আর একটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বাইরে হাজার হাজার মাইল দূরে, আমেরিকার নানা প্রান্তে তৈরি হয়েছে এমন কিছু কমিউনিটি, যেখানে একটি রেস্টুরেন্টের টেবিলে বসে দেশি খাবার খাওয়া, পাশের দোকান থেকে বাংলাদেশের মাছ-মসলা কেনা এবং পরিচিত মানুষের সঙ্গে বাংলায় কয়েক ঘণ্টা আড্ডা দেওয়া এখন প্রবাসী জীবনেরই স্বাভাবিক অংশ।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
এনার্জি অ্যাফোর্ডেবিলিটি প্রোগ্রামের আওতায় আয়ভেদে ইউটিলিটি বিলে ছাড় দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ২৫ লাখ পরিবারের জন্য ইউটিলিটি বিলে ৫০০ ডলার পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ

নিউইয়র্কে ইউটিলিটি বিলের খরচ কমাতে নতুন করে প্রায় ২৫ লাখ পরিবারের জন্য ৫০০ ডলার পর্যন্ত সহায়তার ঘোষণা এসেছে। স্টেটের সম্প্রসারিত এনার্জি অ্যাফোর্ডেবিলিটি প্রোগ্রামের আওতায় যোগ্য পরিবারগুলো মাসিক ইউটিলিটি বিলের ওপর ছাড় পেতে পারে। আয় ও পরিবারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে বছরে সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে।    মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই কর্মসূচিতে আরও বেশি পরিবারকে যুক্ত করতে রাজ্যব্যাপী নতুন এনরোলমেন্ট উদ্যোগের ঘোষণা দেন। স্টেটের হিসাবে, প্রায় ১০ লাখ পরিবার ইতোমধ্যে এনার্জি অ্যাফোর্ডেবিলিটি প্রোগ্রামের সুবিধা পাচ্ছে। নতুন করে আরও প্রায় ২৫ লাখ পরিবার এই মাসিক ইউটিলিটি বিল ছাড়ের জন্য যোগ্য হতে পারে।    তবে এই সুবিধাকে সবার জন্য নিশ্চিত ৫০০ ডলারের নগদ সহায়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত ইউটিলিটি বিলের ওপর মাসিক ছাড়। পরিবারের আয় অনুযায়ী ছাড়ের পরিমাণ নির্ধারিত হবে এবং কর্মসূচির লক্ষ্য হলো যোগ্য পরিবারের বার্ষিক আয়ের তুলনায় সাধারণ ইউটিলিটি খরচ ৬ শতাংশের মধ্যে রাখা।    ২০২৬ সালে কর্মসূচিটির যোগ্যতার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। নতুন নিয়মে স্টেট বা সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের নিচে থাকা আরও অনেক পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে। ফলে আগে যোগ্য না থাকা কিছু পরিবারও এখন ইউটিলিটি বিলের ছাড়ের জন্য আবেদন করতে পারবে।    স্টেটের তথ্য অনুযায়ী, কিছু পরিবার অন্য সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে থাকার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনার্জি অ্যাফোর্ডেবিটি প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এর মধ্যে হোম এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা হিপ, মেডিকেইড, সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা স্ন্যাপ, সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই, ফেডারেল পাবলিক হাউজিং অ্যাসিস্ট্যান্স এবং ভেটেরান্সের নির্দিষ্ট সুবিধার মতো কর্মসূচি রয়েছে। তবে কোন কর্মসূচির সুবিধাভোগী স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবেন আর কাদের নিজে অ্যাপ্লিকেশন করতে হবে, তা প্রোগ্রাম ও ইউটিলিটি কোম্পানির নিয়মের ওপর নির্ভর করে।    যারা ইতোমধ্যে হিপের সুবিধা পান, তারা নিজেদের ইউটিলিটি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে এনার্জি অ্যাফোর্ডেবিটি প্রোগ্রামে অ্যাকাউন্টটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না তা যাচাই করতে পারেন। অন্যদিকে আয়ভিত্তিক যোগ্য গ্রাহকরা সরাসরি তাদের ইউটিলিটি কোম্পানির মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।    আবেদনের ক্ষেত্রে পরিবারের আয় ও যোগ্যতার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হতে পারে। নির্দিষ্ট কাগজপত্র ইউটিলিটি কোম্পানি ও আবেদনকারীর যোগ্যতার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের ইউটিলিটি কোম্পানির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   নিউইয়র্ক স্টেটের হিসাবে, নতুন ও পুরোনো সুবিধাভোগী মিলিয়ে রাজ্যের প্রায় অর্ধেক পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় মাসিক ইউটিলিটি বিল ছাড় পাওয়ার যোগ্য হতে পারে। যোগ্য পরিবারগুলো এখনই তাদের যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন করতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ট্যাক্সিক্যাব চালক গুরবিন্দর সিং
নিউইয়র্কে ৯/১১ হামলার পর টানা ৪০ দিন বিনা ভাড়ায় ট্যাক্সি চালিয়েছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত গুরবিন্দর

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর যখন পুরো নিউইয়র্ক শহর শোক ও স্তব্ধতায় আচ্ছন্ন, তখন এক অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ট্যাক্সিক্যাব চালক গুরবিন্দর সিং। হামলার দিন সকালেও তিনি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন।   এরপর শহরের মানুষের দুর্দশা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকট দেখে তিনি নিজের উপার্জনের কথা না ভেবে টানা ৪০ দিন বিনামূল্যে ট্যাক্সি চালিয়েছেন। সেসময় যাদের জরুরি যাতায়াতের প্রয়োজন ছিল, তাদের কাউকেই ফেরাননি এবং কারো কাছ থেকেই কোনো ভাড়া নেননি এই মহানুভব চালক। সম্প্রতি এক্সে শাবোস কেস্টেনবাউম নামের এক যাত্রীর পোস্টের মাধ্যমে ২৫ বছর পর এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের গল্পটি নতুন করে বিশ্ববাসীর সামনে এসেছে।   পঁয়ত্রিশ বছর আগে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো গুরবিন্দর সিং এখনো নিউইয়র্কে ট্যাক্সি চালান। শাবোস কেস্টেনবাউমের সাথে যাত্রাপথে তিনি তার সেদিনের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন এবং নিউইয়র্কের তৎকালীন মেয়র রুডি জুলিয়ানির দেওয়া একটি প্রশংসাপত্রও দেখান। ওই চিঠিতে বিপদের সময় শহরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য গুরবিন্দরকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন মেয়র।   ২৫তম বার্ষিকীতে গুরবিন্দর বিশ্ববাসীর প্রতি একটি বার্তাও দিয়েছেন— "সব মানুষকে ভালোবাসুন এবং সম্মান করুন।" সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা অভিবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে গুরবিন্দরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। সাধারণ মানুষের এই ধরনের নিঃস্বার্থ সেবাই যে যেকোনো বড় বিপর্যয় মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় হাতিয়ার, গুরবিন্দরের গল্পটি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
সেনাসদস্য থেকে মার্কিন নাগরিক, ‘এবার আমি আমেরিকা উপভোগ করতে চাই’
সেনাসদস্য থেকে মার্কিন নাগরিক, ‘এবার আমি আমেরিকা উপভোগ করতে চাই’

নিউইয়র্কের সিরাকিউজে নাগরিকত্ব গ্রহণের অনুষ্ঠানে ১১ দেশের ১২ জন নতুন মার্কিন নাগরিক হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর চার সদস্য। বৃহস্পতিবার জেমস এম. হ্যানলি ফেডারেল কোর্টহাউসে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাদের কয়েক বছরের নাগরিকত্বের যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।   নতুন নাগরিকদের একজন জোসেফ ইয়াওসন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ার স্বপ্নের সঙ্গে তাঁর আরেকটি স্বপ্ন জড়িয়ে ছিল, আর সেটি হলো মার্কিন সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া। সেই স্বপ্নও পূরণ করেছেন তিনি।   “আমার স্বপ্ন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া, আর আমি তা করতে পেরেছি,” বলেন ইয়াওসন।   তবে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথটি তাঁর জন্য সহজ ছিল না। ইয়াওসন জানান, পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাঁর প্রায় তিন থেকে চার বছর সময় লেগেছে।   “এটি খুব কঠিন একটি প্রক্রিয়া। এমন নয় যে শুধু উঠে দাঁড়ালেন আর পেয়ে গেলেন। এখানে পৌঁছাতে তিন থেকে চার বছর লেগেছে,” বলেন তিনি।   অনুষ্ঠানে মার্কিন দেউলিয়া আদালতের বিচারক প্যাট্রিক রাডেল সভাপতিত্ব করেন। এটি ছিল তাঁর পঞ্চম নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠান। নতুন নাগরিকদের স্বাগত জানিয়ে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বক্তব্যও তুলে ধরেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিভিন্ন দেশের মানুষের মার্কিন নাগরিক হওয়ার সুযোগের কথা বলা হয়।   নাগরিকত্বের শপথ নেওয়ার মাধ্যমে নতুন নাগরিকদের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার একটি অধ্যায় শেষ হয়েছে এবং শুরু হয়েছে জীবনের নতুন অধ্যায়।   সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া এবং মার্কিন নাগরিক হওয়ার দুটি লক্ষ্যই পূরণ করেছেন ইয়াওসন। এখন তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও ঠিক করা আছে।   “যখন আমার সময় আসবে, আমি অবসর নিতে চাই। আমি আমেরিকা উপভোগ করতে চাই,” বলেন তিনি।   সিএনওয়াই সেন্ট্রালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে ব্রাজিল, ঘানা, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও সিয়েরা লিওনসহ ১১টি দেশের নাগরিকরা মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
দুর্ঘটনার আগে একসঙ্গে তোলা দুই ঘনিষ্ঠ বান্ধবী এলিস সুওমি ও আলেজান্দ্রা পাহারসিংয়ের ছবি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে মদ্যপ অবস্থায় টেসলা চালিয়ে নিজের বান্ধবীকেই হত্যা করলেন তরুণী

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মদ্যপ অবস্থায় টেসলা গাড়ি চালিয়ে কাঠামোর সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় ২৭ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা ঘনিষ্ঠ বন্ধু এলিস সুয়োমি নিহত হয়েছেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, গাড়ি চালানোর সময় ওই নারীর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল আইনগত সীমার প্রায় তিন গুণ।   অভিযুক্ত আলেহান্দ্রা পাহারসিংহের বিরুদ্ধে যানবাহনজনিত অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড এবং দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল ত্যাগের অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে ম্যানহাটনের মিডটাউন এলাকায় ২০২৪ সালের একটি টেসলা চালানোর সময় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারান বলে অভিযোগ।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে ম্যাডিসন অ্যাভিনিউ ও পূর্ব ৪২তম স্ট্রিটের কাছে গাড়িটি ফুটপাতে উঠে একটি ডাকবাক্সে আঘাত করে। এরপর সেটি রাস্তার পাশে নির্মাণকাজের জন্য স্থাপন করা কাঠামোতে ধাক্কা দেয়। গাড়িতে যাত্রী হিসেবে ছিলেন ২৭ বছর বয়সী এলিস সুয়োমি।   দুর্ঘটনার পরও পাহারসিংহ গাড়ি চালিয়ে কয়েক ব্লক এগিয়ে যান। পরে পূর্ব ৪২তম স্ট্রিট ও সেকেন্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছে গাড়ি থামলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গুরুতর আহত সুয়োমিকে দ্রুত বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত ৩টার কিছু পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পাহারসিংহও দুর্ঘটনায় সামান্য আহত হন এবং চিকিৎসা নেওয়ার পর পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়।   ম্যানহাটন প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, পাহারসিংহের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল দশমিক ২২৯। নিউইয়র্কে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে আইনগত সীমা দশমিক শূন্য আট। অর্থাৎ তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা নির্ধারিত সীমার প্রায় তিন গুণ ছিল।   মামলার নথিতে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা থমাস ডিলনের বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে পাহারসিংহ ওই রাতে একাধিকবার মদ্যপানের কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি পুলিশকে জানান, ৪২তম স্ট্রিটে গাড়ি চালানোর ঘটনা তাঁর মনে নেই।   পাহারসিংহ কানেকটিকাটের বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে তাঁর আগে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। বুধবার রাতে ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়।   ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় তাঁকে হেফাজতে রাখার জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার নগদ জামিন অথবা ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ড চেয়েছিল। তবে বিচারক জেফরি গেরশুনি জামিনের পরিমাণ ৫০ হাজার ডলার নির্ধারণ করেন। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পাহারসিংহ রাইকার্স আইল্যান্ডে হেফাজতে ছিলেন। আগামী সোমবার তাঁকে আবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।   নিহত এলিস সুয়োমি হারলেমে থাকতেন এবং তাঁর তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। দুর্ঘটনার পর তাঁর বাসার বাইরে স্বজন ও বন্ধুরা স্মরণসভা করেন। সেখানে নীল ও সাদা মোমবাতি, তাঁর ছবি এবং ছোট মেয়ের সঙ্গে তাঁর একটি ছবিও রাখা হয়।   সুয়োমির প্রতিবেশী জর্জ কার্টাগেমা নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, তিনি সুয়োমিকে ভালো মানুষ হিসেবে চিনতেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সুয়োমি অন্যদের সাহায্য করতেন এবং কারও খাবার বা পোশাকের প্রয়োজন হলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করতেন।   পাহারসিংহ ও সুয়োমি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বলে তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট থেকেও ধারণা পাওয়া যায়। দুর্ঘটনার আগে তাঁদের একসঙ্গে থাকার ছবি ও বন্ধুত্বের নানা স্মৃতিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছিল। তবে দুর্ঘটনার কারণ ও ঘটনাটির পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে।   আইনগতভাবে পাহারসিংহের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তিনি দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   উৎস: নিউইয়র্ক পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
জ্যামাইকার ফুটপাতে নিউ ইয়র্ক পুলিশের অভিযান
জ্যামাইকার ফুটপাতে নিউ ইয়র্ক পুলিশের অভিযান, ছোট দোকান ও ভ্যান সরিয়ে জায়গা খালি

নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় হিলসাইড অ্যাভিনিউ ও ১৬৯ স্ট্রিটের আশপাশে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাতের দুই পাশে ছোট ভ্যান, স্টল ও পণ্য সাজিয়ে বিক্রি করায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। সাম্প্রতিক অভিযানে এসব স্থাপনা ও ভ্যান সরিয়ে এলাকা পরিষ্কার করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   বিশেষ করে সবজি ও অন্যান্য পণ্য বিক্রির ছোট ভ্যান এবং ফুটপাতের ওপর বসানো অস্থায়ী দোকান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, ফুটপাতের বড় অংশ ব্যবসার কাজে ব্যবহার হওয়ায় অনেক সময় সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না।   সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন শিশুদের স্ট্রলার নিয়ে চলা মা-বাবা, বয়স্ক ব্যক্তি এবং হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা। ফুটপাত দিয়ে চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে গেলে অনেককে রাস্তার কাছাকাছি বা কখনো রাস্তার ওপর দিয়ে চলতে হয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। ব্যস্ত হিলসাইড অ্যাভিনিউ এলাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি পথচারীদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।   এলাকায় ভেন্ডরদের কার্যক্রম নিয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারি অবশ্য নতুন নয়। কুইন্স কমিউনিটি বোর্ড ৮-এর ২০২৫ সালের এক সভায় ১৬৪ থেকে ১৬৯ স্ট্রিট পর্যন্ত হিলসাইড অ্যাভিনিউ এলাকায় ভেন্ডরদের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগের কথা উঠে আসে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা অবৈধ ভেন্ডিং, আবর্জনা এবং ফুটপাত ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন। স্যানিটেশন বিভাগের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল, এলাকায় এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে ভেন্ডিং কার্ট জব্দ করা হয়েছে।    নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ লাইসেন্স ও পারমিট থাকলেও ভেন্ডরদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে হয়। পথচারীদের চলাচলের রাস্তা, ভবনের প্রবেশপথ, বাসস্টপ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। শহরের নিয়মে ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের পথ বাধামুক্ত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।    শহরের স্যানিটেশন বিভাগ ২০২৩ সাল থেকে স্ট্রিট ভেন্ডর এনফোর্সমেন্টে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের এনফোর্সমেন্টের অন্যতম লক্ষ্য হলো ফুটপাত, কার্ব, গণপরিবহনের প্রবেশপথ এবং দোকানের প্রবেশপথ যেন ভেন্ডিং বা পণ্য দিয়ে বাধাগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করা।    অন্যদিকে, ফুটপাতে ব্যবসা করা অনেক ছোট ভেন্ডরের জন্য এটি জীবিকার বিষয়। তাই স্থানীয় কমিউনিটির আলোচনায় একদিকে যেমন পথচারীদের জন্য ফুটপাত খোলা রাখার দাবি রয়েছে, অন্যদিকে বৈধভাবে ব্যবসা করা ছোট ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   হিলসাইড অ্যাভিনিউ জ্যামাইকার অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক ও যাতায়াত করিডোর। এলাকায় যানবাহন ও পথচারীর চাপ বেশি হওয়ায় ফুটপাত দখল এবং ভেন্ডিং নিয়ে নিয়মিত অভিযোগ তৈরি হয়। কুইন্স কমিউনিটি বোর্ডের নথিতেও এই করিডোরে ভেন্ডরদের কার্যক্রম ও এনফোর্সমেন্ট নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।    স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ফুটপাত কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসার ব্যক্তিগত জায়গা নয়। এটি সবার চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকা দরকার। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা জরুরি।   তবে সাম্প্রতিক অভিযানে ঠিক কোন সংস্থা কতগুলো ভ্যান বা দোকানের সরঞ্জাম সরিয়েছে এবং কতজনকে জরিমানা বা সামন্স দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি তথ্য এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই অভিযানের নির্দিষ্ট পরিসর সম্পর্কে চূড়ান্ত সংখ্যা বা দাবি করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করাই যথাযথ।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্ক স্টেট সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সেপ্টেম্বর মাসে শত শত চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে সরকারি চাকরি! সেপ্টেম্বরে শত শত পদে নিয়োগ, আবেদন করতে পারবেন প্রবাসী বাঙালিরাও

নিউইয়র্ক স্টেট সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সেপ্টেম্বর মাসে শত শত চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রশাসন, আইন ও অন্যান্য বিভাগে বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য স্টেটের অফিসিয়াল জব পোর্টালে একাধিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।   স্টেটজবস নিউইয়র্কের বর্তমান তালিকায় অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, নার্স, সোশ্যাল ওয়ার্কার, আইটি স্পেশালিস্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনিশিয়ান, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট, অ্যাটর্নি, ডেটা অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন ধরনের পদ দেখা যাচ্ছে। অনেক পদের আবেদন শেষ হওয়ার তারিখ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই, আবার কিছু পদের ডেডলাইন অক্টোবর বা নভেম্বর পর্যন্ত রয়েছে।   উদাহরণ হিসেবে, নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনে আইটি স্পেশালিস্ট, ডিপার্টমেন্ট অব হেলথে বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক পদ এবং অন্যান্য স্টেট এজেন্সিতে অফিস ও পেশাদার পর্যায়ের চাকরির বিজ্ঞপ্তি রয়েছে।   তবে সেপ্টেম্বর মাসে ঠিক ৮০০টি নতুন পদে নিয়োগ হবে এমন নির্দিষ্ট সংখ্যা অফিসিয়াল স্টেটজবস তালিকায় নিশ্চিত করা যায়নি। চাকরির সংখ্যা ও পদের তালিকা নিয়মিত পরিবর্তন হচ্ছে। তাই আবেদনকারীদের প্রতিটি পদের যোগ্যতা, বেতন, কর্মস্থল এবং আবেদন শেষ হওয়ার তারিখ আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।   নিউইয়র্ক স্টেটের কিছু সরকারি চাকরিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ হয়। আবার কিছু পদে সরাসরি অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হয়। স্টেটের সিভিল সার্ভিস বিভাগও সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী কয়েক মাসের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করেছে।   আগ্রহীরা নিউইয়র্ক স্টেটের অফিসিয়াল চাকরির পোর্টালে গিয়ে নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী পদ খুঁজে আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি এবং যোগ্যতার শর্ত অবশ্যই যাচাই করতে হবে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অ্যাপলের নির্দিষ্ট আইফোন মডেলের যোগ্য মালিকরা সেটেলমেন্টের অর্থ পেতে আবেদন করতে পারবেন

আইফোন মালিকদের জন্য অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট, অর্থ পেতে শুরু আবেদন প্রক্রিয়া

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০