- প্রচ্ছদ
- Topic
পেনসিলভানিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার একটি শহরের কাছে ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এক ডেভেলপার কোম্পানি। স্থানীয়দের রাজি করাতে প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার মার্কিন ডলার নগদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। হেজেল টাউনশিপের ১০ হাজার ৪৬০ জন বাসিন্দাকে চিঠি দিয়ে নর্থপয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি এই প্রস্তাব দেয়। শহরটির গড় পারিবারিক আয় যেখানে ৬০ হাজার ডলার, সেখানে মোট ৪৫ মিলিয়ন ডলারের এই বিশাল প্রস্তাব স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা হতে পারতো। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, এই অর্থ দিয়ে অনায়াসেই কয়েক মাসের বাসাভাড়া বা দীর্ঘদিনের মুদি ও জ্বালানি খরচ মেটানো সম্ভব। এত লোভনীয় প্রস্তাবের পরও বেশিরভাগ বাসিন্দা এটি প্রত্যাখ্যান করছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ডেটা সেন্টারটি নির্মিত হলে এলাকায় শব্দ ও আলোক দূষণ বাড়বে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসারে ব্যাপক হারে চাকরি হারানোর ভয় তো রয়েছেই। প্রস্তাবটিকে অনেকেই ডেটা সেন্টারের অনুমোদন পাওয়ার জন্য নিছক ‘ঘুষ’ হিসেবে দেখছেন। ডেটা সেন্টারের প্রস্তাবিত এলাকার কাছের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জেফ ফাসনাচট জানান, ডেটা সেন্টার হলে তার সম্পত্তির যে পরিমাণ দাম কমবে, এই ১০ হাজার ডলার তার কাছে কিছুই নয়। আরেক বাসিন্দা এড নেগ্রা মনে করেন, সরাসরি নগদ অর্থের এই প্রস্তাব ডেভেলপারদের জন্য বুমেরাং হতে পারে, কারণ এতে মানুষের মনে সন্দেহ আরও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে জনমত ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। গত মে মাসের একটি গ্যালাপ জরিপে দেখা যায়, মানুষ তাদের এলাকায় ডেটা সেন্টারের চেয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকেও বেশি সমর্থন করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডেভেলপাররা স্থানীয় উৎসবগুলোতে স্পন্সর করার পাশাপাশি স্কুল বা ফায়ার সার্ভিস তহবিলে কোটি কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার চেষ্টা করছে। নর্থপয়েন্টের চিফ মার্কেটিং অফিসার ব্রেন্ট মাইলস জানান, স্থানীয়দের 'এতে আমাদের কী লাভ'—এমন প্রশ্নের জবাবেই এই নগদ অর্থের প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ বছরে শহরের পুলিশ বিভাগসহ অন্যান্য খাতে আরও ১২০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। চার্লি লেশকোর মতো বয়োজ্যেষ্ঠ কেউ কেউ বাড়ি বা গাড়ি কেনার আশায় এই প্রস্তাবে কিছুটা আগ্রহী হলেও, কার্ল মাজুসিয়াকের মতো অনেকেই শেষ পর্যন্ত এটি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, এলাকায় এমন স্থাপনার কোনো প্রয়োজন নেই। ডেটা সেন্টার নিয়ে স্থানীয়দের এই প্রবল আপত্তির প্রভাব পড়েছে রাজনীতিতেও। জনমতকে গুরুত্ব দিয়ে উভয় দলের নেতারাই এখন ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। টেক্সাসের রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ডেটা সেন্টারের অনুমোদন সাময়িক স্থগিত করেছেন এবং নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট গভর্নর ক্যাথি হচুল বড় আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর জশ শাপিরো ডেভেলপারদের 'শোষণমূলক' আখ্যা দিয়ে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে তাদের কোনো গোপনীয়তা চুক্তি (এনডিএ) সই করার ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় হামের সংক্রমণ বাড়ছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের শুক্রবারের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের পর নতুন করে ৫৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর রাজ্যের ৩৯টি কাউন্টিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯০। অন্তত ১৭৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হামসংশ্লিষ্ট চারটি মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টিতে, ৩৫৯ জন। এরপর রয়েছে মিফলিন কাউন্টি, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১০২। রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম চালাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এপ্রিলের শেষ দিকে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর ১৬৫টি অস্থায়ী ক্লিনিকে পাঁচ হাজার তিনশর বেশি মানুষকে হাম, মাম্পস ও রুবেলার এমএমআর টিকা দেওয়া হয়েছে বলে বিভাগটি জানিয়েছে। আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতেও আরও টিকাদান ক্লিনিক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক। সাধারণত জ্বর, কাশি, সর্দি ও চোখ লাল হওয়ার পর শরীরে র্যাশ দেখা দেয়। স্বাস্থ্য বিভাগ বলেছে, কেউ হামের সংস্পর্শে এসে থাকলে এবং উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সম্ভাব্য সংক্রমণের কথা আগে জানিয়ে যোগাযোগ করলে অন্যদের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি কমানো যায়।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের বাটলার শহরে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে এক ব্যর্থ হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ জেমস কোপেনহেভার মারা গেছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর দীর্ঘ দুই বছর ধরে তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। ৭৬ বছর বয়সী এই বৃদ্ধের শরীরে গুলির কিছু অংশ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রয়ে গিয়েছিল এবং তিনি স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন। হাউস রিপাবলিকান কনফারেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেমস কোপেনহেভারের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে আইনপ্রণেতারা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, তিনি অসীম শক্তি ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে এই অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আয়োজিত ওই সমাবেশে থমাস ম্যাথিউ ক্রুকস নামের এক বন্দুকধারী পাশের একটি গ্লাস ম্যানুফ্যাকচারিং ভবনের ছাদ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ওই ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা কোরি কম্পারেটোর নিহত হন এবং জেমস কোপেনহেভার ও ডেভিড ডাচ নামের দুই দর্শনার্থী গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ২০২৫ সালে এক সাক্ষাৎকারে জেমস কোপেনহেভার ওই দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পের ভাষণের সময় তিনি পেছনে থাকা জাম্বোট্রন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। হঠাৎ তিনি ডান হাতে টান অনুভব করেন এবং বুঝতে পারার আগেই দ্বিতীয় একটি গুলি তার শরীরে আঘাত হানে। ওই হামলায় তাঁর ট্রাইসেপ ও তলপেটে গুলি লেগেছিল। এই ঘটনার পর তাকে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের গাফিলতির কারণে এমন ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হয়েছেন দাবি করে চলতি বছরের শুরুতে তিনি ও ডেভিড ডাচ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেছিলেন। এই হামলার পর মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা ও পরিকল্পনাগত চরম গাফিলতির বিষয়টি সামনে আসে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ঘটনার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সংস্থাটির তৎকালীন পরিচালক কিম্বারলি চিটল পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে মার্কিন কংগ্রেসের দ্বিদলীয় টাস্কফোর্সের তদন্তেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে ভয়াবহ ব্যর্থতার প্রমাণ মেলে। এসব ব্যর্থতার জেরে পরে বেশ কয়েকজন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টকে বেতন ছাড়াই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে, হামলার পরপরই রক্তমাখা মুখে ট্রাম্পের মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে ‘ফাইট’ বলার দৃশ্যটি তার নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম আলোচিত প্রতীকে পরিণত হয়, যার ওপর ভর করে তিনি গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের পর প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে টানা নয় এমন দুই মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস গড়েন।
পেনসিলভানিয়ার ভ্যালেন্সিয়ার ২১ বছর বয়সী জোনাথন হান্টার ক্রেমারকে আইএসআইএসের পক্ষে একটি সহিংস হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই। তার কাছ থেকে একটি সেমি-অটোমেটিক রাইফেল, পাঁচটি ম্যাগাজিন এবং ১৯০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ফেডারেল ক্রিমিনাল কমপ্লেইন্ট অনুযায়ী, ক্রেমারের অনলাইন কার্যক্রম এবং পরবর্তী সময়ে অস্ত্র সংগ্রহের ঘটনায় তদন্তকারীরা সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত পান। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি অনলাইনে আইএসআইএসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন এবং বিস্ফোরক তৈরির ম্যানুয়াল ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে তিনি নিজের কথিত পরিকল্পনাকে একটি ‘মিশন’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এফবিআইয়ের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ১২ সেপ্টেম্বর ক্রেমার বাড়ি থেকে ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে উবারে করে পেনসিলভানিয়ার গিবসোনিয়ায় যান। সেখানে একটি ওয়ালমার্ট থেকে রাইফেল সংগ্রহের পর তিনি একটি ডিসপোজেবল ফোন কেনেন এবং নগদ অর্থে ক্র্যানবেরি এলাকার একটি হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করেন। পরে তিনি একটি গান স্টোরেও যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর হোটেল ও তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা সেমি-অটোমেটিক রাইফেল, পাঁচটি রাইফেল ম্যাগাজিন, ১৯০ রাউন্ড গোলাবারুদ, রাইফেল স্কোপ ও বাইপড উদ্ধার করেন। এছাড়া একটি এনট্রেঞ্চমেন্ট টুল, পেপার স্প্রে এবং প্রায় ৩০টি ছুরিও পাওয়া গেছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। হোটেল থেকে একটি হাতে লেখা নোটও উদ্ধার করা হয়। ক্রেমারের বিষয়ে এফবিআইয়ের নজর অবশ্য নতুন নয়। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা অবস্থায় ব্যাপক প্রাণহানির উদ্দেশ্যে হামলার পরিকল্পনা এবং শিশু যৌন নির্যাতনের সামগ্রী রাখার ঘটনায় তদন্তের আওতায় এসেছিলেন। পরে পেনসিলভানিয়ায় কিশোর আদালতের মাধ্যমে ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের মার্চে একটি টিপ পাওয়ার পর তার বিষয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করে এফবিআই। তদন্তকারীদের অভিযোগ, অনলাইনে ‘হামজা আল রশিদ’ নামে পরিচিত ক্রেমার আইএসআইএস-সমর্থক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অস্ত্র সংগ্রহ করছিলেন। তবে কথিত হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্য কী ছিল, তা কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেছেন, অনলাইন কর্মকাণ্ড, উগ্রপন্থী বক্তব্য এবং অস্ত্র সংগ্রহের ঘটনাগুলো মিলিয়ে কর্মকর্তারা তাকে হামলার প্রস্তুতিতে থাকা ব্যক্তি হিসেবে দেখেছেন। ক্রেমারের বিরুদ্ধে এমন একটি ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে তিনি এমন অস্ত্র ও গোলাবারুদ গ্রহণ করেছিলেন, যেগুলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ ফেডারেল অপরাধে ব্যবহৃত হতে পারে বলে তিনি জানতেন বা জানার যথেষ্ট কারণ ছিল। তাকে বাটলার কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে এবং প্রসিকিউটররা জামিন না দেওয়ার আবেদন করেছেন। তাদের দাবি, তিনি সমাজের জন্য চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন। তবে ক্রেমারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলা বাস্তবায়নের আগেই এফবিআইয়ের অভিযানে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফ্রাঙ্কোনিয়া টাউনশিপে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আবুল কালাম আজাদ নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কাউপাথ রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আজাদের দেশের বাড়ি চাঁদপুর। তিনি ল্যান্সডেলে বসবাস করতেন এবং হ্যাটফিল্ড মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আওয়াজ বিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার দুপুর ১টা ৭ মিনিটে কাউপাথ রোডের ১০০ ব্লকে একটি ধূসর ও একটি রুপালি রঙের সেডানের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে আবুল কালাম আজাদ নিহত হন। দুর্ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য গ্র্যান্ড ভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর কাউপাথ রোডের একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। লেইডি রোড থেকে মিডো উড লেন পর্যন্ত সড়কটি যান চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। দুর্ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল কাজ করে। ফ্রাঙ্কোনিয়া টাউনশিপ পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে হ্যাটফিল্ড ও টোওয়ামেসিন পুলিশ এবং মন্টগোমারি কাউন্টি ডিটেকটিভ ব্যুরো সহায়তা করছে। তবে দুই গাড়ির সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। নিহত আবুল কালাম আজাদ চার ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। সন্তানদের মধ্যে ১৪ ও ৮ বছর বয়সী দুই ছেলে, ৭ বছর বয়সী এক মেয়ে এবং ৯ মাস বয়সী যমজ দুই ছেলে রয়েছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে ল্যান্সডেল ও হ্যাটফিল্ড এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার কারণ ও ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি জানতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: আওয়াজ বিডির
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফ্রাঙ্কোনিয়া টাউনশিপে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আবুল কালাম আজাদ নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কাউপাথ রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আজাদের দেশের বাড়ি চাঁদপুর। তিনি ল্যান্সডেলে বসবাস করতেন এবং হ্যাটফিল্ড মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আওয়াজ বিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার দুপুর ১টা ৭ মিনিটে কাউপাথ রোডের ১০০ ব্লকে একটি ধূসর ও একটি রুপালি রঙের সেডানের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে আবুল কালাম আজাদ নিহত হন। দুর্ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য গ্র্যান্ড ভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর কাউপাথ রোডের একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। লেইডি রোড থেকে মিডো উড লেন পর্যন্ত সড়কটি যান চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। দুর্ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল কাজ করে। ফ্রাঙ্কোনিয়া টাউনশিপ পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে হ্যাটফিল্ড ও টোওয়ামেসিন পুলিশ এবং মন্টগোমারি কাউন্টি ডিটেকটিভ ব্যুরো সহায়তা করছে। তবে দুই গাড়ির সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। নিহত আবুল কালাম আজাদ চার ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। সন্তানদের মধ্যে ১৪ ও ৮ বছর বয়সী দুই ছেলে, ৭ বছর বয়সী এক মেয়ে এবং ৯ মাস বয়সী যমজ দুই ছেলে রয়েছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে ল্যান্সডেল ও হ্যাটফিল্ড এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার কারণ ও ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি জানতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: আওয়াজ বিডির
চার বছর বয়স পর্যন্ত কথা বলতে পারেননি ফক্স রাইকার। ওই বয়সে তার অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকেরা পরিবারকে জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে তিনি স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিন্তু সেই আশঙ্কাকে ভবিষ্যতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে মেনে নেয়নি তার পরিবার। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার বাসিন্দা ফক্সের শৈশব কেটেছে যোগাযোগ ও সামাজিক দক্ষতা শেখার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। তিনি চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়েছেন এবং প্রায় এক দশক বিভিন্ন ধরনের থেরাপি নিয়েছেন। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলায় কথোপকথন শুরু করা, অন্যের মুখের অভিব্যক্তি বোঝা এবং সামাজিক পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়, এসব বিষয় আলাদাভাবে অনুশীলন করতে হয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফক্স শুধু যোগাযোগের দক্ষতাই অর্জন করেননি, একাডেমিক ক্ষেত্রেও নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দেন। সেন্ট জোসেফস ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সম্মানসহ পড়াশোনা শেষ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২২ সালে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক হন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অটিজম সহায়তা কর্মসূচির প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে চিকিৎসাবিদ্যায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। স্নাতক শেষ করার পর ফক্স পেনসিলভানিয়ার পাওলি হাসপাতালে জরুরি বিভাগের প্রযুক্তিবিদ হিসেবে কাজ করেন। সেখানে গুরুতর অসুস্থ বা জরুরি অবস্থায় আসা রোগীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার চিকিৎসক হওয়ার আগ্রহকে আরও দৃঢ় করে। ২০২৩ সালে সিবিএস ফিলাডেলফিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফক্স জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকেরা একসময় মনে করেছিলেন তিনি হয়তো স্বাবলম্বীভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন না। কিন্তু হাসপাতালের সহকর্মীরা পরে তার কাজের প্রশংসা করেন। পাওলি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক স্টুয়ার্ট ব্রিল্যান্ট জানিয়েছিলেন, ফক্সকে দেখে কর্মক্ষেত্রে তার অটিজম বোঝার উপায় ছিল না। তিনি ফক্সকে পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল কর্মী হিসেবে বর্ণনা করেন। চিকিৎসাবিদ্যায় পড়ার সুযোগ পাওয়ার পরও ফক্স নিজের অটিজমের বিষয়টি আড়াল করেননি। বরং মেডিকেল স্কুলের আবেদনে তিনি বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার মতে, এটি তার জীবনের একটি অংশ এবং অটিজমের সঙ্গে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে রোগীদের বুঝতে তাকে আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি দিতে পারে। বর্তমানে ফক্স ফিলাডেলফিয়া কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিনে চিকিৎসাবিদ্যা পড়ছেন। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত এক লেখায় তিনি নিজেই তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, অটিজম তার জন্য শুধু একটি চ্যালেঞ্জ নয়, রোগীদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতাও তৈরি করেছে। বিশেষ করে অটিজমে আক্রান্ত রোগীরা জরুরি বিভাগে এলে তাদের আচরণ ও প্রয়োজন বুঝতে নিজের অভিজ্ঞতা তাকে সহায়তা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফক্স আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগের কিছু বিষয় তার জন্য এখনো সচেতনভাবে পরিচালনা করতে হয়। চোখে চোখ রাখা, অন্যের অঙ্গভঙ্গি বোঝা কিংবা কথার অন্তর্নিহিত অর্থ ধরার মতো বিষয়গুলো তিনি দীর্ঘদিনের অনুশীলনের মাধ্যমে আয়ত্ত করেছেন। কখনো কখনো কোনো কথাকে আক্ষরিক অর্থে নেওয়ার কারণে ভুল বোঝাবুঝিও হতে পারে। তবে এসব অভিজ্ঞতাই তাকে অন্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরও সচেতন করেছে। চিকিৎসাবিদ্যায় তার যাত্রা এখন শেষ পর্যায়ের দিকে। তার সাম্প্রতিক পেশাগত তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে চিকিৎসাবিদ্যার চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফক্সের গল্পটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের ঘটনা নয়, অটিজম নিয়ে প্রচলিত কিছু ধারণাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। অটিজমে আক্রান্ত প্রত্যেক ব্যক্তির সক্ষমতা, প্রয়োজন ও বিকাশের পথ এক নয়। তাই শৈশবের একটি নির্ণয় দিয়ে কোনো শিশুর ভবিষ্যৎ কতটা দূর যেতে পারবে, তা আগেভাগে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করার অন্যতম উদ্দেশ্যও সেটিই বলে জানিয়েছেন ফক্স। তার মতে, অটিজম বা অন্য কোনো স্নায়ুবৈচিত্র্য একজন মানুষের পরিচয়ের একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু সেটিই তার সক্ষমতার পুরো পরিচয় নয়। চিকিৎসক হওয়ার পথে এগিয়ে গিয়ে তিনি এখন এমন একটি পেশায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে নিজের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে রোগীদের আরও ভালোভাবে বুঝতে কাজে লাগাতে চান। চার বছর বয়সে যাকে নিয়ে স্বাবলম্বী জীবনযাপন সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই ফক্স রাইকার এখন নিজের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের কাছাকাছি। তার যাত্রা দেখাচ্ছে, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা বা আশঙ্কা সবসময় তার শেষ পরিণতি নির্ধারণ করে না। সূত্র: ফক্স রাইকারের লেখা, ফিলাডেলফিয়া কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিন, সিবিএস ফিলাডেলফিয়া ও সেন্ট জোসেফস ইউনিভার্সিটি।
পেনসিলভানিয়ার এক সাবেক ক্যাথলিক পুরোহিতের বিরুদ্ধে তিনটি গির্জা, গির্জার সদস্য ও দাতাদের পাশাপাশি নিজের বৃদ্ধ মায়ের কাছ থেকে মোট ৭ লাখ ৪০ হাজার ৪০৯ ডলার ৯৬ সেন্ট চুরির অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, গ্রেগরি অ্যালেন মাদেয়া নামের ৬৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি চুরি করা অর্থের একটি অংশ মাদক কেনা, যৌন সম্পর্কের জন্য অর্থ ব্যয়, বিদেশ ভ্রমণ, প্রমোদতরী ভ্রমণ এবং একটি ৩৫ হাজার ৫০০ ডলারের গাড়ি কেনার কাজে ব্যবহার করেছেন। পশ্চিম মিফলিনের বাসিন্দা মাদেয়ার বিরুদ্ধে চুরি, বয়স্ক ব্যক্তির আর্থিক শোষণ এবং প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১৪ আগস্ট ফ্লোরিডার ভেরো বিচ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে তাকে পেনসিলভানিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তার জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার ডলার এবং আগামী মাসে তাকে আবার আদালতে হাজির হতে হবে। অভিযোগ অনুযায়ী, পেনসিলভানিয়ার তিনটি গির্জা থেকে মাদেয়া প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং তার বৃদ্ধ মায়ের কাছ থেকে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার নিয়েছেন। তদন্তকারীদের হিসাবে, পশ্চিম পেনসিলভানিয়ার তিনটি গির্জা, তাদের সদস্য, দাতা এবং তার মায়ের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ মিলিয়ে কথিত চুরির মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ লাখ ৪০ হাজার ৪০৯ ডলার ৯৬ সেন্ট। তদন্তে বলা হয়েছে, গির্জার সংগ্রহের খাম থেকেও অর্থ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই অর্থের একটি অংশ এমন একজন পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের বিনিময়ে ব্যবহারের জন্য হেরোইন কেনায় ব্যয় করা হয়েছিল। ওই ব্যক্তির সঙ্গে মাদেয়ার হোটেলে দেখা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ডেরি টাউনশিপের একটি গির্জার সাধারণ তহবিল থেকে মাদেয়া ৭৫ হাজার ডলার তুলে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ওই গির্জার নাম দ্য অ্যাসাম্পশন অব দ্য ব্লেসড ভার্জিন মেরি ইউক্রেনিয়ান ক্যাথলিক চার্চ। সেখানে তিনি পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পরে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে ওই গির্জা থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, কাছাকাছি ম্যাককিসপোর্ট ও জিনেট শহরের ইউক্রেনীয় ক্যাথলিক গির্জার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুটি গির্জা থেকেও তিনি অর্থ নিয়েছেন। এসব অভিযোগের মধ্যে একটি ঘটনায় একটি গির্জা থেকে ১৯ হাজার ৪০০ ডলার মূল্যের সোনার পাত্র নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা তদন্তে মাদেয়াকে ঘিরে আরও কিছু আলামত পাওয়া গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, তার ফেলে দেওয়া আবর্জনার মধ্যে গির্জার সংগ্রহের খাম পাওয়া যায়। তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিভিন্ন যন্ত্রেও ডেবিট কার্ড ও ব্যাংকের নথির ছবি পাওয়া গেছে বলে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, চুরি করা অর্থের একটি অংশ বিদেশ ভ্রমণ এবং প্রমোদতরীতে ভ্রমণের পেছনেও ব্যয় করা হয়েছিল। একই ব্যক্তিকে উপহার দেওয়ার জন্য ৩৫ হাজার ৫০০ ডলারের একটি ফোর্ড মুস্তাং কেনার অভিযোগও রয়েছে। পরে ওই ব্যক্তি মাদেয়ার সঙ্গে বসবাস শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মাদেয়ার বিরুদ্ধে নিজের মায়ের আর্থিক সম্পদ নেওয়ার অভিযোগও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, তিনি এমন এক সময়ে তার মায়ের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছিলেন, যখন ওই বৃদ্ধা নিজের আর্থিক বিষয়গুলো পরিচালনা করতে পারছিলেন না। পেনসিলভানিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ডেভ সানডে এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মন্তব্য করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি শুধু যে গির্জাগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সেগুলোর ওপর থাকা আস্থার অপব্যবহার করেছেন তা নয়, নিজের মায়ের সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ করেছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পর তা সামাল দেওয়ার অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মাদেয়াকে ১৪ আগস্ট ফ্লোরিডার ভেরো বিচে গ্রেপ্তারের পর পেনসিলভানিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়। তার বিরুদ্ধে চুরি, বয়স্ক ব্যক্তির আর্থিক শোষণ এবং প্রতারণার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। আদালতে তার জামিন ২৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী মাসে মামলাটির পরবর্তী শুনানিতে তাকে আবার আদালতে হাজির হতে হবে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগগুলোতে গির্জার তহবিল, সদস্য ও দাতাদের অর্থ এবং তার মায়ের অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি ওই অর্থ ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে এবং মামলাটি আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এগোবে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রে অবসর জীবন কাটানোর জন্য সেরা ছোট শহরগুলোর নতুন তালিকায় পশ্চিম উপকূলের তুলনায় পূর্বাঞ্চলের শহরগুলোই এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে পেনসিলভানিয়ার শহরগুলো তালিকায় বড় জায়গা দখল করেছে। MoneyLion-এর ২০২৬ সালের তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো শহর সেরা ৫০-এ জায়গা পায়নি। তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ক্যাম্প হিল, পেনসিলভানিয়া। হ্যারিসবার্গের কাছে অবস্থিত ছোট এই শহরের জনসংখ্যা ৮ হাজারের কিছু বেশি। শহরটির গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৮৯০ ডলার, আর বছরে জীবনযাত্রার গড় খরচ প্রায় ৪৩ হাজার ৭৯৪ ডলার। এর জীবনযাত্রার মানের স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৯২। পেনসিলভানিয়ার আধিপত্য তালিকায় সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। সেরা ৫০টি ছোট শহরের মধ্যে ১৫টিই পেনসিলভানিয়ার। ক্যাম্প হিলের পর জেনকিনটাউন দ্বিতীয় এবং অ্যাসপিনওয়াল অষ্টম স্থানে রয়েছে। রাজ্যটির আরও কয়েকটি শহরও শীর্ষ ৫০-এ জায়গা পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে পূর্বাঞ্চলের ২২টি ছোট শহর তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়ার বাইরে মেইন, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের শহরও রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে কলেজ প্লেস, ওয়াশিংটন, যা তালিকায় নবম। এরপর ওয়াশিংটনের স্টেইলাকুম ২০তম এবং ওরেগনের ফিলোমাথ ২১তম স্থানে রয়েছে। অর্থাৎ পশ্চিম উপকূল পুরোপুরি বাদ পড়েনি, তবে তালিকার শীর্ষে পূর্বাঞ্চলের শহরগুলোর আধিপত্য স্পষ্ট। MoneyLion-এর বিশ্লেষণে ছোট শহরগুলোর গড় বাড়ির মূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয়, সম্পত্তি অপরাধের হার, সহিংস অপরাধের হার এবং জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করা হয়েছে। এসব সূচকের ভিত্তিতে শহরগুলোর স্কোর তৈরি করে চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে। তবে অবসর জীবনের জন্য ভালো জায়গা নির্ধারণে একটি তালিকাই শেষ কথা নয়। অন্য সাম্প্রতিক গবেষণায় পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরকেও অবসর জীবনের জন্য আকর্ষণীয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইনভেস্টোপিডিয়ার ২০২৬ সালের পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়াসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যের শহর রয়েছে। সেখানে বাড়ির খরচ, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার মানের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। এদিকে অবসর জীবনের জন্য স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আরেক ইনভেস্টোপিডিয়া বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্তদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার ভিত্তিতে বিভিন্ন শহরকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ অবসরের জন্য জায়গা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু বাড়ির দাম নয়, চিকিৎসা সুবিধা, কর, জীবনযাত্রার খরচ এবং ব্যক্তিগত পছন্দও গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় নতুন বসবাস শুরু করা বাংলাদেশিদের জন্য চাকরি, সন্তানদের স্কুলে ভর্তি, ইংরেজি শেখা, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার সহায়তা, আইনি পরামর্শ ও ড্রাইভার লাইসেন্সের মতো বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি ও কমিউনিটি পর্যায়ে সহায়তার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ফিলাডেলফিয়া, আপার ডারবি, পিটসবার্গ ও অ্যালেন্টাউনের মতো এলাকায় নিজের জিপ কোড ব্যবহার করে কাছাকাছি বিভিন্ন সেবা খুঁজে পাওয়া যায়। চাকরি খুঁজতে পেনসিলভেনিয়া ক্যারিয়ারলিংক গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি সেবা। এখানে চাকরির সুযোগ খোঁজার পাশাপাশি রেজিউমে তৈরি, চাকরির ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি এবং ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণের মতো বিভিন্ন সহায়তা পাওয়া যায়। অনলাইনে নিজের প্রোফাইল তৈরি করে চাকরির জন্য আবেদনও করা যায়। স্থানীয় সরকারি ও সামাজিক সেবা খুঁজতে পেনসিলভেনিয়া ২১১ সেবা বেশ কার্যকর। ২১১ নম্বরে ফোন করে কিংবা নিজের জিপ কোড ৮৯৮-২১১ নম্বরে টেক্সট করে কাছাকাছি খাবার, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সামাজিক সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়। সন্তানের স্কুলে ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে আগে নিজের এলাকার স্কুল ডিস্ট্রিক্ট সম্পর্কে জানা জরুরি। ফিলাডেলফিয়ায় স্কুল ডিস্ট্রিক্ট অব ফিলাডেলফিয়ার শিক্ষার্থী ভর্তি ও প্লেসমেন্ট অফিস নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি এবং স্কুল সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে থাকে। বসবাসের ঠিকানা ও জিপ কোডের ভিত্তিতে কোন স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে, সে তথ্যও পাওয়া যায়। ইংরেজি শেখার জন্য পেনসিলভেনিয়ায় বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে। ফিলাডেলফিয়ায় প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম ও বিভিন্ন কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনামূল্যে ইএসএল ক্লাস পরিচালিত হয়। অভিবাসী ও শরণার্থীদের জন্য দ্য ওয়েলকামিং সেন্টারেও বিনামূল্যে ইংরেজি ও ডিজিটাল দক্ষতা শেখার সুযোগ রয়েছে। নতুন অভিবাসীদের জন্য ফ্রি লাইব্রেরি অব ফিলাডেলফিয়াও গুরুত্বপূর্ণ একটি রিসোর্স। লাইব্রেরি কার্ডের মাধ্যমে বই পড়ার পাশাপাশি চাকরি খোঁজা, রেজিউমে তৈরি, ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন বিনামূল্যের সেবা ব্যবহার করা যায়। কিছু শাখায় নতুন আমেরিকানদের জন্য ইংরেজি শেখা ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। খাবারের প্রয়োজন হলে পেনসিলভেনিয়া ২১১-এর মাধ্যমে কাছাকাছি ফুড প্যান্ট্রি ও ফুড ব্যাংকের তথ্য পাওয়া যায়। ফিলাডেলফিয়ায় জিপ কোড বা ঠিকানা দিয়ে ফ্রি খাবার ও গ্রোসারি সহায়তার বিভিন্ন স্থান খুঁজে বের করা সম্ভব। কিছু প্রতিষ্ঠানে সহায়তা নিতে পরিচয়পত্র বা আয়ের প্রমাণের প্রয়োজন নাও হতে পারে। সরকারি বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে জানতে ফিলাডেলফিয়ায় বেনিফিলির সহায়তা নেওয়া যায়। এসএনএপি, মেডিকেইড, এলআইএইচইএপি, এসএসআই ও এসএসডিআই-এর মতো সুবিধার যোগ্যতা এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কাউন্সেলরদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যসেবার জন্য কমিউনিটি হেলথ সেন্টার ও স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোও কাজে আসতে পারে। হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও কিছু প্রতিষ্ঠানে কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে চিকিৎসার ধরন, যোগ্যতা ও খরচ প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে। তাই যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জেনে নেওয়া ভালো। ইমিগ্রেশন, হাউজিং বা কর্মক্ষেত্রে নিজের অধিকার নিয়ে সমস্যায় পড়লে পেনসিলভেনিয়া লিগ্যাল এইড নেটওয়ার্কের স্থানীয় সংস্থাগুলোর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। ফ্রি বা কম খরচে আইনি সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা ব্যক্তির আয় ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে। ড্রাইভার লাইসেন্স বা স্টেট আইডির জন্য পেনডটের ড্রাইভার লাইসেন্স সেন্টার ব্যবহার করা যায়। অনলাইনে নিজের জিপ কোড দিয়ে কাছাকাছি সেন্টার খুঁজে প্রয়োজনীয় সেবার তথ্য এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করা সম্ভব। বাংলাদেশি কমিউনিটির সহায়তাও নতুনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফিলাডেলফিয়া ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠন ও মসজিদভিত্তিক কমিউনিটি কার্যক্রম রয়েছে। ঈদ, বৈশাখী অনুষ্ঠান, স্বাস্থ্য মেলা, সামাজিক সহায়তা এবং নতুন অভিবাসীদের জন্য বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক কার্যক্রম এসব সংগঠনের মাধ্যমে আয়োজন করা হয়। পেনসিলভেনিয়ায় নতুন কেউ কোনো সেবা খুঁজলে নিজের জিপ কোড ব্যবহার করাই সবচেয়ে সহজ উপায়। যেমন, নিজের এলাকার জিপ কোড যোগ করে চাকরি বা বিনামূল্যের ইএসএল ক্লাসের জন্য অনলাইনে খোঁজ করলে কাছাকাছি সুযোগগুলো দ্রুত পাওয়া যায়। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার আগে তাদের বর্তমান সময়সূচি, যোগ্যতা এবং সেবা চালু আছে কি না, তা অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় নতুন করে বসবাস শুরু করা বাংলাদেশি পরিবার ও অভিবাসীদের জন্য চাকরি, শিক্ষা, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা কোথায় পাওয়া যাবে, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফিলাডেলফিয়া, আপার ডারবি, পিটসবার্গ ও অ্যালেন্টাউনের মতো এলাকায় বসবাসকারীরা সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় কমিউনিটি রিসোর্সের মাধ্যমে এসব সহায়তা নিতে পারেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি রিসোর্স হলো পেনসিলভানিয়া ২১১। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক ও জরুরি সেবার সঙ্গে মানুষকে যুক্ত করে এই বিনামূল্যের সেবা। ২১১ নম্বরে ফোন করে অথবা নিজের এলাকার জিপ কোড ব্যবহার করে খাবার, বাসস্থান, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরি এবং শিশুদের সহায়তাসহ বিভিন্ন স্থানীয় সেবা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। চাকরি খুঁজতে পেনসিলভানিয়ার ক্যারিয়ারলিংকও গুরুত্বপূর্ণ। এটি রাজ্যের সরকারি কর্মসংস্থান সেবা, যেখানে চাকরির সুযোগ খোঁজার পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি ও ক্যারিয়ার উন্নয়নে সহায়তা পাওয়া যায়। নিজের এলাকার কাছাকাছি সেবা খুঁজতে জিপ কোড ব্যবহার করা যায়। শিশুদের স্কুলে ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে নিজের বাসার ঠিকানা অনুযায়ী স্থানীয় স্কুল জেলার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ইংরেজি ভাষা শেখা শিক্ষার্থীদের জন্য পেনসিলভানিয়া শিক্ষা বিভাগ বিভিন্ন সহায়তার ব্যবস্থা রেখেছে। প্রয়োজন হলে পরিবারগুলো স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ভাষাগত সহায়তা বা দোভাষীর সুবিধা সম্পর্কেও জানতে পারেন। যারা ইংরেজি শিখতে চান বা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে চান, তাদের জন্যও পেনসিলভানিয়ায় বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে। রাজ্যের প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা ও পারিবারিক সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা, হাইস্কুল সমমানের পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং চাকরি ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় গণগ্রন্থাগারও নতুন অভিবাসীদের জন্য কাজে লাগতে পারে। ফিলাডেলফিয়ার ফ্রি লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন পাবলিক লাইব্রেরিতে কম্পিউটার ব্যবহার, চাকরি খোঁজা, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকে। নির্দিষ্ট কোনো ক্লাস বা কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে সময়সূচি ও যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া ভালো। খাবারের প্রয়োজন হলে পেনসিলভানিয়া ২১১-এর মাধ্যমে কাছাকাছি খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র, খাদ্যভাণ্ডার ও বিনামূল্যের খাবারের ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া যায়। স্থানীয় বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকেও খাবার বিতরণের কর্মসূচির তথ্য পাওয়া যেতে পারে। আইনি সমস্যায় কম আয়ের পরিবারগুলো পেনসিলভানিয়া লিগ্যাল এইড নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সহায়তা খুঁজতে পারেন। এই নেটওয়ার্ক যোগ্য ব্যক্তিদের বিভিন্ন দেওয়ানি আইনি বিষয়ে সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করে। অভিবাসন, বাসস্থান বা কর্মক্ষেত্রসংক্রান্ত কোনো আইনি সমস্যায় পড়লে যোগ্যতা অনুযায়ী বিনামূল্যে বা কম খরচে আইনি সহায়তার সুযোগ রয়েছে কি না, তা জেনে নেওয়া যেতে পারে। ড্রাইভিং লাইসেন্স বা স্টেট আইডির প্রয়োজন হলে পেনসিলভানিয়া ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকেলসের নির্ধারিত সেন্টারে যোগাযোগ করতে হবে। কাছের লাইসেন্স বা ছবি তোলার কেন্দ্র খুঁজতে নিজের জিপ কোড ব্যবহার করা যায়। নতুন লাইসেন্স, নবায়ন ও রিয়েল আইডির জন্য আলাদা নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে পারে। এর পাশাপাশি স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিও নতুনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার জায়গা হতে পারে। বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠন, মসজিদ ও অন্যান্য কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান থেকে সামাজিক অনুষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার বিতরণ, শিক্ষা ও অন্যান্য সহযোগিতার তথ্য পাওয়া যায়। তবে কোনো নির্দিষ্ট সেবা বিনামূল্যে বা সবার জন্য উন্মুক্ত কি না, তা আগে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত। পেনসিলভানিয়ায় নতুন বসবাস শুরু করলে একসঙ্গে সব তথ্য খোঁজার প্রয়োজন নেই। নিজের জিপ কোড ব্যবহার করে প্রথমে ২১১-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা খুঁজে নেওয়া যেতে পারে। এরপর চাকরি, স্কুল, ইংরেজি শিক্ষা, আইনি সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলেই প্রয়োজনীয় সহায়তার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যে হামে (মিজলস) আক্রান্ত হয়ে অন্তত দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তিদের কেউই হামের টিকা নেননি। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, এটি ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হামে মৃত্যুর প্রথম ঘটনা। একই সাথে পেনসিলভেনিয়ায় গত ৩৫ বছরের ইতিহাসে এটিই প্রথম হামজনিত মৃত্যুর রেকর্ড। পেনসিলভেনিয়ার স্বাস্থ্য সচিব ড. ডেবরা বোগেন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজ্যটিতে হাম প্রায় নির্মূল অবস্থায় থাকায় সাধারণ মানুষ এই রোগের ভয়াবহতা ও সম্ভাব্য জটিলতা সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে 'এমএমআর' (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এটি হামের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত আজীবন সুরক্ষা নিশ্চিত করে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মৃত দুজনই ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টির বাসিন্দা ছিলেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত পেনসিলভেনিয়ায় মোট ৩৯৩ জনের হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা নিউমোনিয়া এবং মস্তিষ্কে প্রদাহসহ মারাত্মক স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। আক্রান্তদের প্রায় ২০ শতাংশেরই হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। সিডিসির তথ্যমতে, দেশটিতে হামের সংক্রমণ গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে, যার ৯৩ শতাংশ রোগীই টিকাবিহীন এবং এর ৬৯ শতাংশের বয়স ১৯ বছর বা তার কম। এর আগে ২০২৫ সালে ৪৩টি অঙ্গরাজ্যে ২ হাজার ২৮৯ জনের সংক্রমণ শনাক্তের মাধ্যমে ৩০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছিল, যার ফলে দুটি শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। এদিকে টিকা কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ১০ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে শিশুদের টিকা গ্রহণের নিয়ম শিথিল করার পাশাপাশি কম্বাইন্ড এমএমআর টিকাকে আলাদা তিনটি ভাগে বিভক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্প এমএমআর টিকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তা জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সেন্টার্স ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেসের প্রধান ড. মেহমেট ওজ সিবিএসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের দাবির বিরোধিতা করে নিশ্চিত করেছেন যে, এমএমআর টিকা কোনোভাবেই প্রাণঘাতী নয়, বরং এটি অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে বন্ধুর বাড়ি ভেবে ভুল একটি বাড়িতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ২২ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হয়েছেন। গ্লেন পিশার নামের ওই তরুণ শনিবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে একটি বারে ছিলেন। পরে বন্ধুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য হেঁটে রওনা হলে ভুল করে অন্য একটি বাড়িতে গিয়ে পৌঁছান বলে তাঁর পরিবার জানিয়েছে। ঘটনাটি ঘটে আপার পটসগ্রোভ এলাকায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধুর জন্মদিন উদ্যাপন করতে শনিবার রাতে গ্লেন বন্ধুদের সঙ্গে একটি বারে ছিলেন। রাত বাড়ার পর উদ্যাপন বন্ধুর বাড়িতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গ্লেন সেখানে যাওয়ার জন্য হেঁটে রওনা দেন। তবে পথ ভুল করে তিনি অন্য একটি বাড়িতে পৌঁছে যান। গ্লেনের মা এরিন পিশারের ভাষ্য, তাঁর ছেলে বুঝতে পারেননি যে তিনি ভুল বাড়ির সামনে চলে এসেছেন। তিনি বাড়িটির পেছনের দরজায় গিয়ে কড়া নাড়েন এবং বন্ধুর বাড়ি ভেবে ভেতরে ঢোকার জন্য বলেন। বাড়ির ভেতরে থাকা দম্পতি আকস্মিক এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে জরুরি নম্বরে ফোন করেন। স্থানীয় সময় রোববার রাত ১২টা ৩২ মিনিটের দিকে ওই বাড়ির বাসিন্দারা পুলিশের কাছে ফোন করেন। গ্লেন তখন বন্ধুদের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন বলে তাঁর মা জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, ফোনে কথা বলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে এবং গ্লেনকে গুলি করা হয়। গ্লেনের পরিবার জানিয়েছে, ওই সময় তাঁর কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। তাঁর সঙ্গে শুধু একটি মুঠোফোন ও একটি ব্যাগ ছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তবে পুলিশের গুলি চালানোর পরিস্থিতি ঠিক কীভাবে তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার সময় বাড়িটির পেছনের অংশে থাকা নজরদারি ক্যামেরায় পুরো ঘটনার কিছু অংশ ধারণ হয়ে থাকতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সেই ভিডিও তদন্তের কাজে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি সংবাদমাধ্যমকে দেখানো হয়নি। ঘটনাটির তদন্ত করছে মন্টগোমারি কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত গ্লেনকে গুলি করার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে পুলিশের গুলি চালানোর কারণ সম্পর্কেও অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। গ্লেন পিশারের পরিবার জানিয়েছে, তিনি সম্প্রতি নিউ জার্সির সেন্ট এলিজাবেথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেখানে তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসবল দলে খেলার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিবারের কাছে তিনি বেসবালপ্রেমী এবং প্রাণবন্ত একজন তরুণ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁর মা জানিয়েছেন, ছেলে ছিলেন হাসিখুশি স্বভাবের এবং পরিবারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। হঠাৎ এই মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তারা। ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। ভুল বাড়িতে পৌঁছে যাওয়া থেকে শুরু করে পুলিশ আসার পর গুলি চালানোর ঘটনা পর্যন্ত পুরো পরিস্থিতি তদন্তকারীরা পর্যালোচনা করছেন। বাড়ির পেছনের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করে ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশাল কোকেন পাচার চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ জনই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং একজন অভিযুক্ত এক শিক্ষার্থীর বাবা। পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত নথিতে এই ১৪ জনের বিরুদ্ধে কোকেন সরবরাহ, বিতরণ থেকে শুরু করে তা ওজন করা, প্যাকেটজাত করা এবং গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সাথে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, এই মাদক চক্রটি মূলত ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডেল্টা আপসিলন’ এবং ‘সিগমা চি’ নামের দুটি ফ্র্যাটার্নিটি (শিক্ষার্থী সংগঠন) হাউস থেকে পরিচালিত হতো। অগস্টিনো আবাতিয়েল্লো এবং থমাস রবিনসন নামের দুই জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে কাজ করতেন। তারা নিউইয়র্ক ও ফিলাডেলফিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ কোকেন সংগ্রহ করে ফ্র্যাটার্নিটি হাউসগুলোতে আনতেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই চক্রের নতুন সদস্যদের ফ্র্যাটার্নিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার (হাজিং বা র্যাগিং) শর্ত হিসেবে জোরপূর্বক কোকেন কাটা ও প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যবহার করা হতো। অভিযুক্তদের মধ্যে আবাতিয়েল্লো, থমাস রবিনসন, মোহাম্মদ হুরাবি ও লার্স জিপভ্যাট নামের চারজনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর (ফেলোনি) অভিযোগ আনা হয়েছে। রবার্ট জানোল্লা নামের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও অপরাধমূলক যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। বাকি আট শিক্ষার্থী—লিয়াম স্মিথ, মাইকেল ব্রোগনো, ক্যাডেন হাওয়ে, কনর হারলে, সেথ বিয়ার্ডসলি, কাইল রিডপাথ, ড্যানিয়েল প্রাইস এবং চার্লস ওয়াইজম্যানের বিরুদ্ধে মাদক রাখা ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম বহনের মতো তুলনামূলক লঘু (মিসডিমিনর) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া থমাস রবিনসনের বাবা পল রবিনসনের (যিনি পেশায় একজন আইনজীবী) বিরুদ্ধে মাদক ও নগদ অর্থভর্তি একটি সিন্দুক লুকিয়ে রাখা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযুক্ত ১৪ জনকেই নির্দোষ বলে ধরে নেওয়া হবে। পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের ফ্র্যাটার্নিটিগুলোকে নিষিদ্ধ করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, বুধবার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পর ক্যারোলিন তার প্রেমিক মোজারের সঙ্গে দেখা করতে পিটসবার্গের দক্ষিণ-পশ্চিমে নর্থ স্ট্রাবান টাউনশিপে যান। সেখানে গাড়ির ভেতরে বসে নিজেদের সম্পর্ক এবং কলেজে ওঠার পর তা কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে কথা বলছিলেন এই তরুণ যুগল। কথোপকথনের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রেমিকার কোনো কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে মোজার বাড়ির ভেতর থেকে একটি বড় ছুরি নিয়ে আসে এবং ক্যারোলিনের বুকে উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে হত্যা করে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে মোজার দাবি করে যে, একটি 'শয়তান' বা অশুভ আত্মা তাকে নিয়ন্ত্রণ করছিল এবং সেই তাকে এই খুন করতে নির্দেশ দিয়েছে। হত্যার পর প্রেমিকার মৃতদেহ গাড়ির পেছনের অংশে লুকিয়ে মোজার প্রায় ২৫ মিনিট ড্রাইভ করে পেনসিলভানিয়ার বিলসভিল-এ তার মায়ের কাছে যায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মোজার জানায়, তার মা গাড়িটি পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে সাহায্য করার প্রস্তাব দেন। অভিযোগ রয়েছে, র্যাচেল মোজার ছেলেকে ল্যাটেক্স গ্লাভস পরতে দেন এবং তাকে গোসল করতে বলেন। তিনি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি একটি পলিথিনে লুকিয়ে রাখেন এবং ছেলের রক্তমাখা কাপড় ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে ফেলেন। এরপর তারা প্রমাণ লোপাটের জন্য রক্তমাখা গাড়িটি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া বরো-তে রেখে আসেন। এ সময় মা র্যাচেল তার নিজের গাড়ি নিয়ে ছেলের পেছন পেছন যান। বৃহস্পতিবার সকালেই পুলিশ মোজার ও তার মা র্যাচেলকে গ্রেপ্তার করে। মোজারের বিরুদ্ধে হত্যা, প্রমাণ লোপাট, মৃতদেহের অবমাননা এবং বিচারকাজে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, তার মায়ের বিরুদ্ধেও পলাতক আসামিকে সহায়তা, প্রমাণ লোপাট এবং মৃতদেহের অবমাননার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ ঢেকে পুলিশ ভ্যানে ওঠার সময় র্যাচেল সাংবাদিকদের বলেন, তার ছেলে একটি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে তিনি দুঃখিত। পেনওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ডিভিশন-২ সকার দলের এই মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি পুলিশ হেলিকপ্টার ও ছোট একটি বিমানের মধ্যে মাঝ আকাশে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যায় কার্লাইল বিমানবন্দরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন (এফএএ) ও জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড (এনটিএসবি) ঘটনাটি তদন্ত করছে। এফএএর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৫০ মিনিটে কাম্বারল্যান্ড কাউন্টির কার্লাইল বিমানবন্দরের কাছে পেনসিলভেনিয়া স্টেট পুলিশের একটি বেল ৪০৭ হেলিকপ্টারের সঙ্গে একটি সেসনা ১৫০ ছোট বিমানের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর উভয় উড়োজাহাজই বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। পুলিশের হেলিকপ্টারে দুইজন আরোহী ছিলেন বলে এফএ জানিয়েছে। তবে ছোট বিমানটিতে ঠিক কতজন ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা বিভাগের বিপুলসংখ্যক যান পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে একটি মাঠের মধ্যে পুলিশ হেলিকপ্টারটিকে কাত হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। আশপাশে ছড়িয়ে ছিল উড়োজাহাজের বিভিন্ন অংশ ও ধ্বংসাবশেষ। উদ্ধারকারী ও তদন্তকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ছুটে যান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যাট্রিক ব্রাউন ও লয়েড স্লাসার নামের দুই স্থানীয় বাসিন্দা একটি বেড়া টপকে মাঠে গিয়ে সহায়তার চেষ্টা করেন। তারা পুলিশ হেলিকপ্টারের ভেতরে দুইজন এবং ছোট বিমানটিতে একজনকে দেখেছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান। তবে আরোহীদের অবস্থা সম্পর্কে তাদের বক্তব্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, দুর্ঘটনার আগে পুলিশ হেলিকপ্টারটি তুলনামূলক নিচু দিয়ে উড়ছিল এবং বিমানবন্দরের কাছে কয়েকটি কৌশলগত উড্ডয়ন অনুশীলন করছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিমানবন্দর এলাকায় এ ধরনের উড্ডয়ন ও অনুশীলন অস্বাভাবিক নয়। তবে এসব কর্মকাণ্ডই সংঘর্ষের কারণ ছিল কি না, তা এখনো জানা যায়নি। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পেনসিলভেনিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, পেনসিলভেনিয়া স্টেট পুলিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি দুর্ঘটনায় জড়িতদের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। ঘটনাস্থলে একজন কাউন্টি করোনারকেও ডাকা হয়েছিল। তবে দুর্ঘটনার পরপরই কারও মৃত্যু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি কোনো নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টারে থাকা দুইজনের পরিচয় এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কার্লাইল শহরটি পেনসিলভেনিয়ার রাজধানী হ্যারিসবার্গের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। কার্লাইল বিমানবন্দরটি স্থানীয় উড্ডয়ন কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়। দুর্ঘটনাটি বিমানবন্দরের খুব কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে দ্রুত জরুরি উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে সক্ষম হয়। দুর্ঘটনার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। উভয় উড়োজাহাজের গতিপথ, উচ্চতা, আবহাওয়া, বিমানবন্দরের কার্যক্রম এবং পাইলটদের যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এফএএ ও এনটিএসবি তদন্তের মাধ্যমে সংঘর্ষের সঠিক কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করছে। এ ধরনের তদন্তে সাধারণত ঘটনাস্থলের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ, উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ নথি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট উড্ডয়ন তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িত উড়োজাহাজ দুটির আরোহী এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কেও আরও তথ্য প্রকাশ পেতে পারে। এটি একটি চলমান ঘটনা। কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ বা হতাহতের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
পেনসিলভানিয়ার বাফেলো টাউনশিপে স্ত্রী বিচ্ছেদের আবেদন করার পর নিজের বাড়ি খননযন্ত্র দিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ৪৮ বছর বয়সী এরিক পিয়ার্সজার বিরুদ্ধে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, বাড়ি ভাঙার সময় তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে ভেতরেই ছিলেন। তবে ঘটনায় কেউ আহত হননি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার রাতে পিয়ার্সজা মদ্যপান করেছিলেন। স্ত্রীর সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে তিনি বিচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে বাড়ি ভেঙে ফেলার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি একটি নির্মাণকাজের খননযন্ত্রে উঠে বাড়িটির পেছনের অংশে আঘাত করতে শুরু করেন। বাড়ি ভাঙার সময় ভেতরে থাকা পরিবারের সদস্যরা জরুরি নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। তাঁদের ফোনে কথা বলার সময় বাড়ি ভাঙার শব্দও শোনা যায় বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়ির পেছনের অংশ ভেঙে ফেলার পর পিয়ার্সজা আবার ঘরে ঢোকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি একটি ব্যাগ নিয়ে শহরের দিকে চলে যান। পরে পুলিশ তাঁকে আটক করে। পিয়ার্সজার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপর্যয় সৃষ্টি, অন্য ব্যক্তির জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলার তিনটি অভিযোগ এবং বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ। তাঁকে ১০ হাজার ডলার বন্ডে বাটলার কাউন্টি কারাগারে রাখা হয়েছে। তদন্তকারীদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাইরে থেকে বাড়িটির ক্ষতি তুলনামূলকভাবে সীমিত মনে হলেও ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পুরো বাড়িটি ভেঙে ফেলতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর পিয়ার্সজার বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর পরবর্তী কার্যক্রম চলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের উত্তর ফিলাডেলফিয়ায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় উত্তর ফিলাডেলফিয়ার একটি সড়কে দুর্ঘটনাগ্রস্ত একটি গাড়ি দেখতে পান তারা। গাড়ির ভেতরে ওই ব্যক্তিকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার শরীরে গুলির আঘাত ছিল। পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারীরা গাড়িটির চালকের পাশের দরজায় গুলির চিহ্ন দেখতে পান। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ওই ব্যক্তি গাড়ি চালিয়ে কিছু দূর যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তবে কোথায় এবং কীভাবে তাকে গুলি করা হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং গুলির কারণ কী, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখন পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের খবরও পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে জন্ম নেওয়া বিরল দুই মাথার একটি গেকো টিকে থেকে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। জন্মের পর এর দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম বলে ধারণা করা হলেও, চার সপ্তাহ পার করে এখন সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে প্রাণীটি। এর দুটি মাথার নাম রাখা হয়েছে ‘সাইমন’ ও ‘গারফাঙ্কেল’। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব পেনসিলভানিয়ার সরীসৃপ প্রজনন প্রতিষ্ঠান ‘রকস্টার গেকোস’-এ গত ২৯ জুন এই বিরল গেকোটির জন্ম হয়। জন্মের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির ভিডিও প্রকাশ করলে তা দ্রুতই ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এ ধরনের ঘটনা মাত্র দ্বিতীয়বার ঘটেছে। সাধারণত এ ধরনের প্রাণী দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে না। তবু শুরু থেকেই বিশেষ যত্ন নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্রাণীর একাধিক মাথা নিয়ে জন্মানোর ঘটনাকে ‘পলিসেফালি’ বলা হয়। ভ্রূণের বিকাশের সময় জিনগত ত্রুটি বা পরিবেশগত বিভিন্ন কারণে এমনটি ঘটতে পারে। দুই মাথার প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রতিটি মাথার আলাদা মস্তিষ্ক থাকে। তবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তারা যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণে চলাফেরা, খাবার গ্রহণ কিংবা দিক নির্ধারণে অনেক সময় সমস্যা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দুটি মাথা ভিন্ন দিকে যেতে চাইলে চলাফেরা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়ে, যা বন্য পরিবেশে তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা আরও কমিয়ে দেয়। তবে সাইমন ও গারফাঙ্কেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। রকস্টার গেকোস জানিয়েছে, শুরুতে দুটি মাথা কখনও কখনও ভিন্ন দিকে যেতে চাইলেও ধীরে ধীরে তারা চলাফেরায় সমন্বয় তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো মাথাকেই অন্যটির ওপর প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায়নি। সাম্প্রতিক হালনাগাদ তথ্যে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গেকোটির বয়স এখন চার সপ্তাহ। ওজন মাত্র ১ দশমিক ৮ গ্রাম হলেও এটি স্বাভাবিকভাবে খাবার খেতে পারছে। দুটি মাথাই আলাদাভাবে কোনো সহায়তা ছাড়াই খাবার গ্রহণ করছে। আরও একটি স্বস্তির বিষয় হলো, গেকোটির মাথা দুটি এমনভাবে অবস্থান করছে যে তারা একে অপরকে আক্রমণ করতে পারে না। ফলে নিজেদের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকিও নেই। নিউ ক্যালেডোনিয়ার স্থানীয় এই প্রজাতির ক্রেস্টেড গেকো পূর্ণবয়সে সাধারণত ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয় এবং ওজন হয় ৩৫ থেকে ৪৫ গ্রাম। তবে দুই মাথার এই গেকোটি স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে কি না, তা জানতে এখনও আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রাণীপ্রেমীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেকোটির জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন। অনেকেই শুরু থেকেই এর বেড়ে ওঠার খবর অনুসরণ করছেন। কেউ কেউ আশা প্রকাশ করেছেন, বিরল এই প্রাণীটি সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন লাভ করবে। রকস্টার গেকোস জানিয়েছে, গেকোটির পাঁচ সপ্তাহ পূর্ণ হলে তারা আবারও এর নতুন অবস্থা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই মাথার প্রাণী সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সাপ ও কচ্ছপের মধ্যে। তবে মাছ, শূকর, ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যেও অতীতে পলিসেফালির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবু সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা এমন প্রাণীর সংখ্যা খুবই কম।
বহু বছরের খোঁজাখুঁজির পর যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার একটি ঐতিহাসিক পাথরের বাড়ি কিনেছিলেন টাইলার ও লরেন বোল্ডিন দম্পতি। কিন্তু সেখানে বসবাস শুরু করার পর তারা আবিষ্কার করেন, বাড়িটির প্রকৃত বাসিন্দা যেন তারাই নন; বরং শত শত সাপ। এরপর থেকেই সাপের এই অস্বাভাবিক উপদ্রব মোকাবিলা করে বাড়িটিকে বাসযোগ্য রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। পেনসিলভানিয়ার মধ্যাঞ্চলের প্রায় দুই হাজার জনসংখ্যার ছোট শহর পাইন গ্রোভে অবস্থিত ১৮৩০-এর দশকে নির্মিত বাড়িটি ২০২০ সালে নিলামে ৪ লাখ ৬০ হাজার ডলারে কেনেন বোল্ডিন দম্পতি। প্রায় ৬ হাজার বর্গফুটের বাড়িটিতে রয়েছে ছয়টি শয়নকক্ষ ও পাঁচটি বাথরুম। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। পরিবার নিয়ে সেখানে ওঠার পর থেকেই বাড়ির চারপাশে নিয়মিত সাপ দেখা দিতে শুরু করে। কখনও পাথরের দেয়াল বেয়ে ওপরে উঠছে, কখনও সামনের সিঁড়ি পার হচ্ছে, আবার কখনও পুরো আঙিনাজুড়ে বিচরণ করছে সাপগুলো। দম্পতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে এসব দৃশ্য শেয়ার করার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। অনেকে বাড়িটি ছেড়ে দেওয়া কিংবা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার মতো মন্তব্য করলেও টাইলার বোল্ডিন বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ বেছে নেন। তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সমস্যার উৎস দূর করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সে লক্ষ্যেই বাড়ির ভিত্তির বিভিন্ন ফাটল বন্ধ করা হয়েছে, উঠানের পুরোনো গাছের গুঁড়ি ও সাপের সম্ভাব্য আশ্রয়স্থল সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ ধরনের ‘স্নেক গ্র্যাবার’ ব্যবহার করে বাড়ির আশপাশে পাওয়া সাপগুলো ধরে কাছের বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। বোল্ডিন দম্পতির বাড়িতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় অ-বিষধর ব্ল্যাক র্যাট স্নেক বা কালো ইঁদুরখেকো সাপ। যুক্তরাষ্ট্রে এ প্রজাতির সাপ মানুষের জন্য সাধারণত ক্ষতিকর নয় এবং ইঁদুরসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণী নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। টাইলার বোল্ডিন ২০২৩ সালে প্রকাশিত এক টিকটক ভিডিওতে জানান, শুরু থেকেই তারা এসব অ-বিষধর সাপকে না মারার নীতি অনুসরণ করেছেন। কারণ এসব সাপ এলাকায় বিষধর কপারহেড ও টিম্বার র্যাটলস্নেকের মতো আরও বিপজ্জনক প্রজাতির বিস্তার কমাতে সহায়তা করে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদেরও মতে, অ-বিষধর সাপ পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বাড়িতে সাপের উপস্থিতি দেখা দিলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হত্যা না করে নিরাপদ উপায়ে অপসারণ এবং তাদের প্রবেশের পথ বন্ধ করাই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা। বর্তমানে বোল্ডিন পরিবার ধাপে ধাপে সাপের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে এবং একটি ঐতিহাসিক বাড়ি কেনার স্বপ্ন কীভাবে অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে, তার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে অ্যামাজনের পার্সেল সরবরাহের সময় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট আইস এর হাতে আটক হয়েছেন চীনের মানবাধিকার আইনজীবী উ শাওপিং। তাঁর এসাইলাম আবেদন এখনো বিচারাধীন থাকলেও তাঁকে আটক করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও চীনা ভিন্নমতাবলম্বীরা। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার কাম্বারল্যান্ড কাউন্টির মাউন্ট হলি স্প্রিংস এলাকায় অ্যামাজনের পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার সময় আইস কর্মকর্তারা উ শাওপিংকে থামান। তাঁর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা তাঁর নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইলে তিনি বিচারাধীন আশ্রয় আবেদনের নথি দেখিয়ে জানান যে তিনি বৈধভাবে পর্যটক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে আশ্রয়ের আবেদন করেন। এরপরও তাঁকে আটক করে পেনসিলভানিয়ার একটি অভিবাসন আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়। উ শাওপিং ২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনে মানবাধিকার আইনজীবীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়নের সময় দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ২০২০ সালে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন, যার নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। এ সময় তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য অ্যামাজনের ডেলিভারি কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত চীনা মানবাধিকারকর্মীদের বিভিন্ন কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন। চীনে থাকাকালে উ শাওপিং ধর্মীয় সংখ্যালঘু, ফালুন গং অনুসারী এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের জিয়ামেনে মানবাধিকারকর্মীদের একটি বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর সেখানে উপস্থিত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুই বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী ডিং জিয়াশি ও শু ঝিয়ং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দণ্ডিত হন। ওই ঘটনার পরপরই উ শাওপিং যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। উ শাওপিংয়ের স্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁর স্বামী সবসময় চীনের সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে ছিলেন। কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার সমালোচনার কারণেই তিনি নিপীড়নের শিকার হন এবং শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উ শাওপিংয়ের অভিবাসন আদালতে পরবর্তী শুনানির তারিখ ২৭ জুলাই নির্ধারিত রয়েছে। তাঁর সমর্থকদের আশঙ্কা, তাঁকে যদি চীনে ফেরত পাঠানো হয়, তাহলে সেখানে তিনি কারাবাসসহ গুরুতর নিপীড়নের মুখে পড়তে পারেন। এ ঘটনার বিষয়ে আইস এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো প্রকাশ্য ব্যাখ্যা দেয়নি। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের আটক এবং অভিবাসন প্রয়োগ নীতির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।