সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
অপরাধ

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও একই পরিবারের সাতজনসহ আটজনকে হত্যা, কারণ খুঁজছে পুলিশ

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ০:৩৯
পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরে ভয়াবহ বন্দুক হামলায়
পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরে ভয়াবহ বন্দুক হামলায়

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় একই পরিবারের সাত সদস্যসহ আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলে, এক বছর বয়সী এক মেয়ে এবং আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী রয়েছেন। হামলার পর ৪৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত ব্যক্তিও আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার ৯ অক্টোবর বিকেলে শহরের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তবে নিজের পরিবারের সদস্যদের কেন ওই ব্যক্তি হত্যা করেছেন, তার কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি তদন্তকারীরা।


যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে এরি শহরের সেভেনথ ও পেরি স্ট্রিট এলাকার একটি বাড়িতে গুলির শব্দ শনাক্ত করে পুলিশের শটস্পটার সিস্টেম। সতর্কবার্তা পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে বাড়ির বাইরে দুই নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে বাড়ির ভেতরে আরও ছয়জন এবং হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


এরি পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ শনিবার ১০ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নিহত আটজনের মধ্যে সাতজন হামলাকারীর আত্মীয়। অপরজন ছিলেন পরিবারের পরিচিত এক নারী। হামলাকারীর বয়স ৪৫ বছর। তাঁর পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলায় ব্যবহৃত পিস্তলটি তাঁর নিজের নামে নিবন্ধিত ছিল। পুলিশ বাড়ির দ্বিতীয় তলায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁর শরীরে নিজের ছোড়া গুলির আঘাত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।


পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির নিচতলায় পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলে এবং এক বছর বয়সী এক মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায়। দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির কাছে পাওয়া যায় ২৪ ও ৪৪ বছর বয়সী দুই নারী এবং ১৯ ও ২১ বছর বয়সী দুই তরুণের মরদেহ। নিহত ২৪ বছর বয়সী নারী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এ ছাড়া বাড়ির বাইরে নিহত দুই নারীর বয়স ছিল ৫১ ও ৩৭ বছর। সব মিলিয়ে হামলাকারীসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।


তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে সামনে এসেছে প্রতিবেশীর বাড়ির ডোরবেল ক্যামেরার ভিডিও ও অডিও রেকর্ডিং। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ফুটেজে দেখা যায়, দুই নারী উদ্বিগ্ন অবস্থায় বাড়িটির সামনে আসেন। তাঁরা দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন এবং আশপাশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় বাড়ির ভেতর থেকে অস্পষ্ট গুলির শব্দ শোনা যায়। কিছুক্ষণ পর হামলাকারী বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং ওই দুই নারীকে গুলি করেন।
পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ জানান, ওই দুই নারী বাড়ির ভেতরে কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে বুঝতে পেরেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাঁরা আগে থেকে কী জানতেন কিংবা কেন সেখানে গিয়েছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা তাঁদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন।


এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক বিরোধ, ব্যক্তিগত ক্ষোভ কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো বিষয় জড়িত থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। তবে সেটি তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে হামলাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।


এদিকে ঘটনাস্থলে পুলিশের অভিযান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে পুলিশ পৌঁছানোর পর বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে কেন সময় লেগেছিল, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। এ বিষয়ে পুলিশপ্রধান জানান, কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বাড়ির ভেতর থেকে আর কোনো গুলির শব্দ কিংবা সাহায্যের আহ্বান শুনতে পাননি। ভেতরে কারও নড়াচড়াও দেখা যায়নি। ফলে পরিস্থিতি যাচাই করে নিরাপদে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির ভেতরে প্রবেশের আগে বিশেষ সোয়াট টিম মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ও রোবট ব্যবহার করা হয়। পরে কর্মকর্তারা বাড়িতে প্রবেশ করে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। অভিযানের সময় শোনা কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ পুলিশের ব্যবহৃত ফ্ল্যাশব্যাং ডিভাইস থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীর কোনো গোলাগুলি হয়নি।


এরি পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ বলেন, তাঁর দীর্ঘ ২৮ বছরের বেশি পুলিশি কর্মজীবনে এটি অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। একই বাড়িতে এতজন মানুষের মৃত্যু, বিশেষ করে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের অভিজ্ঞতা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জন্যও অত্যন্ত কঠিন ছিল। তিনি জানান, এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যা দায়িত্ব পালন শেষে ঘটনাস্থল ছেড়ে আসার পরও পুলিশ সদস্যদের মনে দীর্ঘদিন থেকে যায়।


এরি শহরের মেয়র দারিয়া ডেভলিন নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই পরিবারের ওপর যে বিপর্যয় নেমে এসেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। কোনো কথাই তাঁদের ক্ষতি পূরণ করতে পারবে না। তবে শহরের প্রশাসন ও বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছেন।


পেনসিলভেনিয়ার গভর্নর জশ শাপিরোও ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এরি শহরের মেয়রের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর ইতোমধ্যে চার শতাধিক গণগুলির ঘটনা নথিভুক্ত করেছে গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ। সংস্থাটি সাধারণত হামলাকারী ছাড়া অন্তত চারজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে গণগুলির ঘটনা হিসেবে গণনা করে। এরি শহরের এই হত্যাকাণ্ড আবারও যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা এবং পরিবারের ভেতরে সংঘটিত প্রাণঘাতী হামলার বিষয়টিকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।


এদিকে নিহতদের পরিচয় প্রকাশের আগে তাঁদের স্বজনদের খবর দেওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এরি কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি এলিজাবেথ হার্জ সাধারণ মানুষকে তদন্ত চলাকালে গুজব বা যাচাইহীন তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে ভিত্তিহীন তথ্য নিহতদের পরিবারের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তদন্তকারীরা এখন হত্যাকাণ্ডের আগে হামলাকারীর গতিবিধি, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করছেন। 


বিশেষ করে বাড়ির বাইরে নিহত দুই নারী কেন সেখানে এসেছিলেন এবং তাঁরা আগে থেকে কোনো বিপদের খবর পেয়েছিলেন কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। এসব তথ্য হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।


পুলিশের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারী মারা যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য নতুন কোনো হুমকি নেই। তবে আটজনকে হত্যার পেছনে তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। 
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে পারিবারিক বিরোধ বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করতে চাইছে না কর্তৃপক্ষ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

অপরাধ

View more
পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরে ভয়াবহ বন্দুক হামলায়
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও একই পরিবারের সাতজনসহ আটজনকে হত্যা, কারণ খুঁজছে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় একই পরিবারের সাত সদস্যসহ আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলে, এক বছর বয়সী এক মেয়ে এবং আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী রয়েছেন। হামলার পর ৪৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত ব্যক্তিও আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার ৯ অক্টোবর বিকেলে শহরের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তবে নিজের পরিবারের সদস্যদের কেন ওই ব্যক্তি হত্যা করেছেন, তার কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি তদন্তকারীরা। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে এরি শহরের সেভেনথ ও পেরি স্ট্রিট এলাকার একটি বাড়িতে গুলির শব্দ শনাক্ত করে পুলিশের শটস্পটার সিস্টেম। সতর্কবার্তা পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে বাড়ির বাইরে দুই নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে বাড়ির ভেতরে আরও ছয়জন এবং হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরি পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ শনিবার ১০ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নিহত আটজনের মধ্যে সাতজন হামলাকারীর আত্মীয়। অপরজন ছিলেন পরিবারের পরিচিত এক নারী। হামলাকারীর বয়স ৪৫ বছর। তাঁর পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলায় ব্যবহৃত পিস্তলটি তাঁর নিজের নামে নিবন্ধিত ছিল। পুলিশ বাড়ির দ্বিতীয় তলায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁর শরীরে নিজের ছোড়া গুলির আঘাত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির নিচতলায় পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলে এবং এক বছর বয়সী এক মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায়। দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির কাছে পাওয়া যায় ২৪ ও ৪৪ বছর বয়সী দুই নারী এবং ১৯ ও ২১ বছর বয়সী দুই তরুণের মরদেহ। নিহত ২৪ বছর বয়সী নারী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এ ছাড়া বাড়ির বাইরে নিহত দুই নারীর বয়স ছিল ৫১ ও ৩৭ বছর। সব মিলিয়ে হামলাকারীসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে সামনে এসেছে প্রতিবেশীর বাড়ির ডোরবেল ক্যামেরার ভিডিও ও অডিও রেকর্ডিং। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ফুটেজে দেখা যায়, দুই নারী উদ্বিগ্ন অবস্থায় বাড়িটির সামনে আসেন। তাঁরা দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন এবং আশপাশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় বাড়ির ভেতর থেকে অস্পষ্ট গুলির শব্দ শোনা যায়। কিছুক্ষণ পর হামলাকারী বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং ওই দুই নারীকে গুলি করেন। পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ জানান, ওই দুই নারী বাড়ির ভেতরে কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে বুঝতে পেরেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাঁরা আগে থেকে কী জানতেন কিংবা কেন সেখানে গিয়েছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা তাঁদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক বিরোধ, ব্যক্তিগত ক্ষোভ কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো বিষয় জড়িত থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। তবে সেটি তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে হামলাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এদিকে ঘটনাস্থলে পুলিশের অভিযান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে পুলিশ পৌঁছানোর পর বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে কেন সময় লেগেছিল, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। এ বিষয়ে পুলিশপ্রধান জানান, কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বাড়ির ভেতর থেকে আর কোনো গুলির শব্দ কিংবা সাহায্যের আহ্বান শুনতে পাননি। ভেতরে কারও নড়াচড়াও দেখা যায়নি। ফলে পরিস্থিতি যাচাই করে নিরাপদে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির ভেতরে প্রবেশের আগে বিশেষ সোয়াট টিম মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ও রোবট ব্যবহার করা হয়। পরে কর্মকর্তারা বাড়িতে প্রবেশ করে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। অভিযানের সময় শোনা কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ পুলিশের ব্যবহৃত ফ্ল্যাশব্যাং ডিভাইস থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীর কোনো গোলাগুলি হয়নি। এরি পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ বলেন, তাঁর দীর্ঘ ২৮ বছরের বেশি পুলিশি কর্মজীবনে এটি অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। একই বাড়িতে এতজন মানুষের মৃত্যু, বিশেষ করে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের অভিজ্ঞতা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জন্যও অত্যন্ত কঠিন ছিল। তিনি জানান, এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যা দায়িত্ব পালন শেষে ঘটনাস্থল ছেড়ে আসার পরও পুলিশ সদস্যদের মনে দীর্ঘদিন থেকে যায়। এরি শহরের মেয়র দারিয়া ডেভলিন নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই পরিবারের ওপর যে বিপর্যয় নেমে এসেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। কোনো কথাই তাঁদের ক্ষতি পূরণ করতে পারবে না। তবে শহরের প্রশাসন ও বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছেন। পেনসিলভেনিয়ার গভর্নর জশ শাপিরোও ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এরি শহরের মেয়রের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর ইতোমধ্যে চার শতাধিক গণগুলির ঘটনা নথিভুক্ত করেছে গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ। সংস্থাটি সাধারণত হামলাকারী ছাড়া অন্তত চারজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে গণগুলির ঘটনা হিসেবে গণনা করে। এরি শহরের এই হত্যাকাণ্ড আবারও যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা এবং পরিবারের ভেতরে সংঘটিত প্রাণঘাতী হামলার বিষয়টিকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এদিকে নিহতদের পরিচয় প্রকাশের আগে তাঁদের স্বজনদের খবর দেওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এরি কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি এলিজাবেথ হার্জ সাধারণ মানুষকে তদন্ত চলাকালে গুজব বা যাচাইহীন তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে ভিত্তিহীন তথ্য নিহতদের পরিবারের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তদন্তকারীরা এখন হত্যাকাণ্ডের আগে হামলাকারীর গতিবিধি, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করছেন।  বিশেষ করে বাড়ির বাইরে নিহত দুই নারী কেন সেখানে এসেছিলেন এবং তাঁরা আগে থেকে কোনো বিপদের খবর পেয়েছিলেন কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। এসব তথ্য হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। পুলিশের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারী মারা যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য নতুন কোনো হুমকি নেই। তবে আটজনকে হত্যার পেছনে তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।  তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে পারিবারিক বিরোধ বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করতে চাইছে না কর্তৃপক্ষ।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ০:৩৯
কুমড়া তুলতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

কুমড়া তুলতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিউ জার্সিতে প্রাণ হারাল দুই বছরের শিশু

ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে আহত ব্যক্তি

নিউইয়র্কে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে আহত ব্যক্তি, গাড়িতে ছিল পাঁচ বছরের শিশু

মা ও শিশুকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

নিউইয়র্কে ১৫ তলা থেকে মা ও শিশুকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সাবেক প্রেমিক

পণ্য ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ
শিশুর ঘুমের পানিতে ভয়ংকর অ্যালকোহল, যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট পণ্য ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জন্য ব্যবহৃত একটি ঘুমের পণ্য নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বেবিজ ম্যাজিক টি ব্র্যান্ডের বেবি স্লিপ গ্রাইপ ওয়াটার নামের পণ্যটির একটি নির্দিষ্ট ব্যাচ বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। পরীক্ষায় পণ্যটিতে লেবেলে উল্লেখ না থাকা তিন ধরনের অ্যালকোহল পাওয়া গেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন গত ৭ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রত্যাহারের তথ্য প্রকাশ করেছে।পণ্যটি সাধারণত শিশুদের অস্বস্তি বা ঘুমের সমস্যা কমানোর উদ্দেশ্যে বাজারজাত করা হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষায় এতে প্রায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ ইথানল, শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ মিথানল এবং শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ আইসোপ্রোপানল পাওয়া গেছে। এসব উপাদান পণ্যের লেবেলে উল্লেখ ছিল না।   বিশেষ করে মিথানল ও আইসোপ্রোপানল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ এগুলো শিশুদের খাওয়ানোর জন্য স্বাভাবিক কোনো উপাদান নয়। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বলেছে, পণ্যটি কতটা খাওয়া হয়েছে এবং ব্যবহারকারীর বয়স ও ওজনের ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকি নির্ভর করতে পারে।   প্রত্যাহার করা পণ্যটির ব্যাচ নম্বর ২৫১২২বিডব্লিউ। এর মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ডিসেম্বর ২০২৮। পণ্যটি চার তরল আউন্সের একটি বাদামি রঙের বোতলে ছিল এবং বোতলটি নীল রঙের বাক্সের মধ্যে রাখা হয়। সঙ্গে একটি মুখে খাওয়ানোর সিরিঞ্জও ছিল।   এই ব্যাচের পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পণ্যটি সিক্রেটস অব টি নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন বিক্রেতার কাছে বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে অ্যামাজনও ছিল। ফলে কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকার দোকানের মধ্যে এটি সীমাবদ্ধ ছিল না।   এখন পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট পণ্য ব্যবহারের কারণে অসুস্থ হওয়ার কোনো খবর কোম্পানি পায়নি বলে জানিয়েছে। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে বাবা-মা ও অভিভাবকদের সতর্ক করা হয়েছে।   খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব পরিবার এই পণ্য কিনেছে তাদের প্রথমে বোতলের ব্যাচ নম্বর পরীক্ষা করতে হবে। যদি নম্বর ২৫১২২বিডব্লিউ হয়, তাহলে শিশুকে এটি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। পণ্যটি ফেলে দেওয়া অথবা যেখান থেকে কেনা হয়েছে সেখানে ফেরত দিয়ে অর্থ ফেরত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এই খবরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ অনলাইনে শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ঘুম, গ্যাস বা অস্বস্তি কমানোর পণ্য সহজেই কেনা যায়। অনেক বাবা-মা পণ্যের নাম ও বিজ্ঞাপন দেখে সেটিকে নিরাপদ মনে করতে পারেন। কিন্তু কোনো শিশুকে দেওয়ার আগে উপাদান, বয়সের উপযোগিতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   শিশুর অস্বাভাবিক ঘুম, খাওয়ার সমস্যা, কান্না বা পেটের অস্বস্তির কারণ বোঝার জন্য প্রয়োজন হলে শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শুধু কোনো অনলাইন পণ্য ব্যবহার করে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা না করাই নিরাপদ।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেদের ঘরে থাকা পণ্যটি পরীক্ষা করা। বিশেষ করে যারা অ্যামাজন বা অন্য অনলাইন মাধ্যমে শিশুদের পণ্য কেনেন, তাদের পুরোনো অর্ডারের তালিকা দেখেও যাচাই করা উচিত।   খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন জানিয়েছে, এই প্রত্যাহার কোম্পানির স্বেচ্ছায় নেওয়া পদক্ষেপ এবং সংস্থার জ্ঞাতসারে পরিচালিত হচ্ছে। পণ্য ব্যবহারের পর কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১২:৪৪
অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে

ফিনিক্সের অ্যাপার্টমেন্টে গভীর রাতে গুলির ঘটনা, গুরুতর আহত এক ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি

৬ অক্টোবর ২০২৬-এর অপরাধ পরিসংখ্যান ব্রিফিং।

নিউইয়র্কে অপরাধ কমলেও হেট ক্রাইম বেড়েছে, উদ্বেগে পুলিশ ও নগরবাসী আজ

পারিবারিক ফটো।

রাত ২ টায় কুইন ক্যামিলার চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, স্বামী আটক

ঘটনা স্থলের ছবি:সংগৃহীত।
শিকাগোর রাস্তায় সাত বছরের শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, অভিযুক্ত নারী আটক

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের দক্ষিণাঞ্চলে দিনদুপুরে সাত বছরের এক শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সকাল প্রায় ১১টা ৫৫ মিনিটে ইস্ট চ্যাথাম এলাকার সাউথ কটেজ গ্রোভ অ্যাভিনিউ ও ইস্ট ৮৬তম স্ট্রিটের কাছে ঘটনাটি ঘটে। শিশুটির নাম এডি মারি হার্নান্দেজ চ্যাকন।   পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি তার বড় বোনের সঙ্গে রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল। এ সময় এক নারী তাদের কাছে এগিয়ে এসে ধারালো একটি বস্তু বের করেন এবং শিশুটির পিঠে একাধিকবার আঘাত করেন। ঘটনাটি জনবহুল এলাকায় দিনের বেলায় ঘটায় আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।   প্রত্যক্ষদর্শীরা ওই নারীকে আটক করার চেষ্টা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন মানুষ সন্দেহভাজন নারীকে ধরে রাখার পর পুলিশ সেখানে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়। সংঘর্ষের সময় ওই নারীও আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।    শিশুটিকে দ্রুত কমার চিলড্রেনস হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। কুক কাউন্টি মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয় পরে শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত করে। পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন।   ঘটনার পর পুলিশ এলাকাটি ঘিরে তদন্ত শুরু করে। আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।একটি নিরাপত্তা ক্যামেরার ছবিতে শিশুটিকে ঘটনার আগে একজন বয়স্ক নারীর হাত ধরে হাঁটতে দেখা যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে ওই নারী শিশুটির সঙ্গে কী সম্পর্কিত ছিলেন, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।   পুলিশ প্রথম দিকে জানিয়েছিল, সন্দেহভাজন নারী ও শিশুর মধ্যে কোনো পরিচয় ছিল কি না তা পরিষ্কার নয়। একইভাবে হামলার সম্ভাব্য কারণ বা উদ্দেশ্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।   পরবর্তীতে শিকাগো পুলিশ ৪৮ বছর বয়সী শ্যাভন গেডেনের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনে। আদালতে তার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় সেই শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম ৭ অক্টোবর হওয়ার কথা রয়েছে।   প্রসিকিউটরদের দেওয়া নতুন তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি তার কিশোরী বোনের সঙ্গে একটি দোকান থেকে বের হয়ে হাঁটছিল। তারা একটি মোবাইল ফোনের বিল পরিশোধ করতে গিয়েছিল বলে আদালতে বলা হয়েছে। ওই সময় সন্দেহভাজন নারীও কাছাকাছি একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   ঘটনার পর চ্যাথাম এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও শিশুটির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। শিকাগোর দক্ষিণাঞ্চলে একটি শিশুর এভাবে প্রকাশ্য রাস্তায় প্রাণ হারানোর ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটির স্মরণে ঘটনাস্থলের কাছে জড়ো হয়েছেন। সেখানে ফুল, মোমবাতি ও অন্যান্য স্মৃতিচিহ্ন রেখে শিশুটির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।   আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পুলিশ সম্ভাব্য সব তথ্য যাচাই করছে, যাতে হামলার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল তা পরিষ্কার করা যায়।   শিকাগোর এই ঘটনা আবারও জনবহুল এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে দিনের বেলায় রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় এমন হামলার ঘটনা অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নিরাপদ রাস্তা, দ্রুত পুলিশি প্রতিক্রিয়া এবং মানসিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার দিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।   তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলার উদ্দেশ্য বা সন্দেহভাজন নারীর মানসিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে মামলাটি আদালত ও পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৬:১১
আটকের দৃশ্য ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলের ওপর নজরদারি, এলএএএক্সে চীনা এজেন্ট সন্দেহে নারী গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসি

ট্রাংক কেটে প্রশ্ন চুরি, কর্মকর্তার কক্ষে ফটোকপি, অন্তর্বাসে পাচারের ভয়াবহ তথ্য

পুলিশ সেজে ৩০ কোটি ইয়েন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সেই রহস্যময় ঘটনার প্রতীকী দৃশ্য

পুলিশ সেজে গু লি না চালিয়েই ৩০ কোটি ইয়েন নিয়ে উধাও, রহস্য আজও অমীমাংসিত

0 Comments