- প্রচ্ছদ
- Topic
প্রত্নতত্ত্ব
প্রায় দুই হাজার বছর আগে রোমান সাম্রাজ্যের সীমান্তবর্তী স্কটল্যান্ডে মৃ ত্যু হয়েছিল এক ব্যক্তির। সময়ের ব্যবধানে তাঁর চেহারা হারিয়ে গেলেও কঙ্কাল থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির সাহায্যে এবার তাঁর মুখের একটি ডিজিটাল অবয়ব তৈরি করেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল। গবেষকদের এই প্রচেষ্টা প্রাচীন স্কটল্যান্ডের মানুষের জীবনযাপন, শারীরিক অবস্থা এবং অতীত সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে। ব্যক্তিটির মাথার খুলি এবং ডিজিটালভাবে পুনর্গঠিত মুখের অবয়ব স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় অবস্থিত ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব স্কটল্যান্ডের একটি প্রদর্শনীতে দেখানো হবে। ‘রোমান স্কটল্যান্ড: লাইফ অন দ্য এজ অব এম্পায়ার’ নামের এই প্রদর্শনী আগামী ১৪ নভেম্বর শুরু হবে এবং চলবে ২০২৭ সালের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত। এতে রোমান সাম্রাজ্যের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ, সামরিক উপস্থিতি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার নানা দিক তুলে ধরা হবে। গবেষকদের ধারণা, ওই ব্যক্তির বয়স ছিল ৫০ বছরের কিছু বেশি। খ্রিষ্টীয় ১৪০ থেকে ১৬৫ সালের মধ্যে স্কটল্যান্ডের এডিনবরার কাছাকাছি ইনভেরেস্ক এলাকায় তাঁর মৃ ত্যু হয়েছিল। তিনি মূলত ব্রিটেনের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। সেখান থেকে কয়েক শ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ফার্থ অব ফোর্থ উপকূলবর্তী এলাকায় পৌঁছেছিলেন বলে গবেষণায় জানা গেছে। তাঁর চেহারা পুনর্গঠনের জন্য বিশেষজ্ঞরা একাধিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে ছিল কঙ্কালের গঠন বিশ্লেষণ, অতীতে শরীরের বিভিন্ন উপাদান নিয়ে করা গবেষণা এবং প্রাচীন ডিএনএ পরীক্ষা। এসব তথ্য একত্র করে ব্যক্তিটির শারীরিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয় তাঁর সম্ভাব্য মুখের অবয়ব। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, ডিজিটাল পুনর্গঠনটি ওই ব্যক্তির প্রকৃত চেহারার শতভাগ নিশ্চিত প্রতিচ্ছবি নয়। বরং প্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর মুখ কেমন হতে পারে, সেটির একটি সম্ভাব্য রূপ তুলে ধরা হয়েছে। ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব স্কটল্যান্ডের প্রাগৈতিহাসিক ও রোমান প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান কিউরেটর ফ্রেজার হান্টার জানিয়েছেন, ইনভেরেস্কে রোমান আমলের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে তিনি বহু বছর ধরে কাজ করছেন। কিন্তু এই মুখ পুনর্গঠনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ওই এলাকার একজন বাসিন্দাকে কল্পনায় আরও স্পষ্টভাবে দেখতে পারছেন। তাঁর মতে, প্রত্নতত্ত্ব শুধু পুরোনো বস্তু বা ধ্বংসাবশেষের ইতিহাস জানায় না। এর মাধ্যমে অতীতের মানুষের আশা, ভয়, অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়গুলোও বোঝার সুযোগ তৈরি হয়। আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ইনভেরেস্কের ওই বাসিন্দার সম্ভাব্য চেহারা তুলে ধরতে পারা তাঁর কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা। হান্টার আরও মনে করেন, ব্যক্তিটির পরিবার ও পরিচিতজনেরা তাঁকে দেখলে এই অবয়বের সঙ্গে তাঁর মিল খুঁজে পেতে পারতেন। কঙ্কাল পরীক্ষা করে ওই ব্যক্তির জীবনে একাধিক শারীরিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাঁর ডান হাতের কনুইয়ের কাছে হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ছিল। এর কারণে হাতটির ব্যবহার সীমিত হয়ে পড়েছিল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তাঁদের ধারণা, সেপটিক আর্থ্রাইটিস নামের সংক্রমণজনিত প্রদাহ থেকে এই সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। রোগটি জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধিতে সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে হাড়েরও ক্ষতি করতে পারে। এ ছাড়া তাঁর নাক ভাঙার চিহ্নও পাওয়া গেছে। তবে আঘাতটি মৃত্যুর আগেই সেরে গিয়েছিল বলে কঙ্কাল বিশ্লেষণে বোঝা যায়। শারীরিক অবস্থার এসব তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকেরা মনে করছেন, মৃ ত্যুর সময় তিনি আর সৈনিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন না। কারণ, তাঁর ডান হাতের সীমিত ব্যবহার তাঁকে তলোয়ার চালানোর মতো কাজ করতে বাধা দিতে পারত। ইনভেরেস্কের রোমান দুর্গের আশপাশে একাধিক ব্যক্তির সমাধি পাওয়া গেছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের কাছে এসব সমাধি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রোমান আমলের স্কটল্যান্ডে এ ধরনের সমাধি খুব বেশি পাওয়া যায় না। সেখানে সমাহিত ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের মধ্যে চারজনের দেহে মৃত্যুর পর মাথা বিচ্ছিন্ন করার চিহ্ন পাওয়া গেছে। মুখ পুনর্গঠন করা ব্যক্তিও তাঁদের একজন। গবেষকদের মতে, ব্রিটেনে এ ধরনের ঘটনার প্রাচীনতম পরিচিত উদাহরণগুলোর মধ্যে এগুলো অন্যতম। স্কটল্যান্ডে এখন পর্যন্ত পাওয়া এ ধরনের নিদর্শনের মধ্যে এগুলোকে প্রথম উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর পর কেন ওই ব্যক্তিদের মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এর পেছনে অতিপ্রাকৃত বিষয় নিয়ে তৎকালীন মানুষের বিশ্বাস, মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ কিংবা শাস্তি দেওয়ার কোনো প্রথা কাজ করে থাকতে পারে। কিন্তু এসব সম্ভাবনার কোনটি প্রকৃত কারণ ছিল, তা নির্ধারণ করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। জাদুঘরটির অস্থি-প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কিউরেটর জেস থম্পসন জানিয়েছেন, ইনভেরেস্কের সমাধিগুলো রোমান আমলের স্কটল্যান্ড সম্পর্কে জানার জন্য অত্যন্ত বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। তাঁর মতে, বিভিন্ন শাস্ত্রের গবেষণা একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি তাঁদের জীবনের গল্পও পুনর্গঠন করা সম্ভব হচ্ছে। তাঁরা কোথা থেকে এসেছিলেন, কেন সীমান্তবর্তী এলাকায় গিয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁদের জীবনে কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গবেষণা সহায়তা করছে। এই মুখ পুনর্গঠনের কাজ করেছেন বিশেষজ্ঞ ক্রিস রিন। অস্থি-প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যায়ন, আগে পরিচালিত আইসোটোপ বিশ্লেষণ এবং প্রাচীন ডিএনএ গবেষণার ফলাফল একত্র করে তিনি ব্যক্তিটির সম্ভাব্য চেহারা তৈরি করেন। আইসোটোপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মানুষের অতীত জীবন ও ভৌগোলিক উৎস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে প্রাচীন ডিএনএ থেকে জিনগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। এই গবেষণায় ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব স্কটল্যান্ডের পাশাপাশি ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এবং হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষণাসংশ্লিষ্ট কাজের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে শুধু রোমান সৈন্যদের সামরিক অভিযান নয়, বরং তাঁদের ঘাঁটির আশপাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের জীবনও তুলে ধরা হবে। রোমান সাম্রাজ্য যখন নতুন ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা করছিল, তখন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় কী পরিবর্তন এসেছিল, সেই অভিজ্ঞতাও থাকবে প্রদর্শনীর আলোচনায়। প্রায় দুই হাজার বছর আগের একজন মানুষের মুখের এই পুনর্গঠন তাই শুধু একটি প্রত্নতাত্ত্বিক কৌতূহল নয়। এটি প্রাচীন মানুষের জীবন, শারীরিক সীমাবদ্ধতা, ভৌগোলিক যাত্রা এবং মৃত্যুর পর তাঁদের দেহকে ঘিরে প্রচলিত রীতিনীতি সম্পর্কে জানারও একটি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
ইসরায়েলে যিশুখ্রিষ্টের সময়কার প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো একটি ইহুদি ধর্মীয় স্নানাগার অক্ষত অবস্থায় মাটি থেকে তুলে সরানো হয়েছে। প্রায় ২৫ টন ওজনের এই প্রাচীন স্থাপনাটি উদ্ধার করতে ব্যবহার করা হয় বিশাল ক্রেন। প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন নয়, বরং প্রায় দুই হাজার বছর আগে ওই অঞ্চলে ইহুদি সম্প্রদায়ের বসবাস ও ধর্মীয় চর্চার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। স্নানাগারটি ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কিরিয়াত গাতের কারমেই গাত এলাকায় পাওয়া যায়। নতুন আবাসিক এলাকার উন্নয়নকাজের আগে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন চালানোর সময় এর সন্ধান মেলে। পরে নির্মাণকাজের কারণে প্রাচীন স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞরা সেটি অক্ষত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। ইহুদিদের ধর্মীয় শুদ্ধতার জন্য ব্যবহৃত এ ধরনের স্নানাগারকে বলা হয় ‘মিকভে’। ইহুদি ধর্মীয় রীতিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পানিতে অবগাহনের মাধ্যমে শুদ্ধতা অর্জনের জন্য এসব স্থাপনা ব্যবহৃত হতো। উদ্ধার হওয়া স্নানাগারটি দ্বিতীয় মন্দির যুগের নিদর্শন। এই ঐতিহাসিক সময়কাল যিশুখ্রিষ্টের জীবন ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। তবে যিশু ব্যক্তিগতভাবে এই নির্দিষ্ট স্নানাগারটি ব্যবহার করেছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, স্নানাগারটির সন্ধান ওই এলাকায় প্রায় দুই হাজার বছর আগে একটি ইহুদি বসতি ছিল বলে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ দেয়। জুডিয়ান নিম্নভূমি ও উত্তর নেগেভ অঞ্চলের মধ্যবর্তী এলাকায় ওই সময়ের একটি ইহুদি বসতির অস্তিত্ব সম্পর্কে এই আবিষ্কার নতুন তথ্য সামনে এনেছে। এটি প্রাচীন অঞ্চলের জনবসতি ও ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করেছে। খননকাজে স্নানাগারের পাশাপাশি পাথরের তৈরি পরিমাপের পাত্রও পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় মন্দির যুগে ইহুদিদের মধ্যে এ ধরনের পাত্রের ব্যবহার প্রচলিত ছিল। ইহুদি ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, পাথরের এসব পাত্রকে অন্য কিছু উপকরণের মতো সহজে আচারগত অপবিত্রতার শিকার বলে বিবেচনা করা হতো না। ফলে স্নানাগার ও পাত্র—দুই ধরনের নিদর্শন একসঙ্গে পাওয়া যাওয়ায় ওই এলাকার তৎকালীন ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। এত বড় ও প্রাচীন একটি স্থাপনা অক্ষত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়া ছিল জটিল কাজ। সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের একটি দল প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে স্নানাগারটির চারপাশের মাটি সরিয়ে সেটিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করেন। এরপর স্থাপনাটির নিচে ছিদ্র করে শক্তিশালী ইস্পাতের বিম ঢোকানো হয়। এসব বিম কাঠামোটিকে ধরে রাখতে সাহায্য করে, যাতে মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন করার সময় সেটি ভেঙে না পড়ে। স্নানাগারের দেয়ালে থাকা প্রাচীন প্লাস্টারের আস্তরণও ছিল বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। উত্তোলন ও পরিবহনের সময় কম্পনের কারণে প্লাস্টার খসে পড়তে পারত। এ ঝুঁকি কমাতে সংরক্ষণকারীরা গজ, আঠা ও ফোমজাতীয় সুরক্ষামূলক উপকরণ ব্যবহার করেন। এরপর প্রায় ২৫ টন ওজনের কাঠামোটি তোলার জন্য ব্যবহার করা হয় ৩০০ টন পর্যন্ত ভার বহনে সক্ষম একটি ক্রেন। স্নানাগারটির প্রস্থ প্রায় চার মিটার হওয়ায় পরিবহনের জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষ প্রশস্ত যানবাহনেরও। সফলভাবে তুলে নেওয়ার পর স্থাপনাটি অস্থায়ী সংরক্ষণের জন্য বেইত গুভরিনে একটি সংরক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবহনের সময় নিরাপত্তার জন্য সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং ট্রাকের সামনে ও পেছনে সহায়ক যান চলাচল করে। সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের কাছে পুরো অভিযানটি ছিল অত্যন্ত সতর্কতার বিষয়, কারণ কাঠামোটি ভেঙে গেলে দুই হাজার বছরের পুরোনো নিদর্শনটি অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, ওই এলাকার প্রাচীন ইহুদি বসতিটি দ্বিতীয় শতকে বার কোখবা বিদ্রোহের সময় পরিত্যক্ত হয়ে থাকতে পারে। প্রায় ৫০০ বছর পর বাইজেন্টাইন যুগে সেখানে আবার বসতি গড়ে ওঠে। তবে তখনকার জনগোষ্ঠী আগের বাসিন্দাদের থেকে আলাদা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন আবিষ্কারটি তাই শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং ওই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি জনবসতি ও পরিবর্তনের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাণকাজ শেষ হলে প্রাচীন স্নানাগারটি আবার কারমেই গাত এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে নতুন আবাসিক এলাকার কেন্দ্রীয় উন্মুক্ত স্থানে এটি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা আধুনিক নগরায়ণের মধ্যেই প্রাচীন ইহুদি জীবনের একটি বাস্তব নিদর্শন দেখার সুযোগ পাবেন। লেখক, ভাষ্যকার ও খ্রিষ্টধর্মের পক্ষে লেখালেখি করা দিনেশ ডি’সুজা এই আবিষ্কারকে বাইবেলের সময়কার জগৎকে আরও স্পষ্টভাবে বোঝার একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রাচীন ইতিহাসের বস্তুগত প্রমাণ তুলে ধরতে পারে। তবে কোনো নিদর্শন বাইবেলের সময়কাল সম্পর্কে ঐতিহাসিক ধারণাকে সমর্থন করলেও তা নিজে থেকে ধর্মীয় বিশ্বাস, অলৌকিক ঘটনা বা ধর্মগ্রন্থের প্রতিটি বক্তব্য প্রমাণ করে না।
সিরিয়ার দেইর এজ-জোর শহর যখন আই এ সের দখলের মুখে, তখন যুদ্ধের ঝুঁকি উপেক্ষা করে প্রায় ৩০ হাজার ঐতিহাসিক প্রত্নবস্তু সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান দেশটির প্রত্নতাত্ত্বিকরা। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে সেই দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে পরিচালিত ওই অভিযানে দেইর এজ-জোর জাদুঘরের মূল্যবান সংগ্রহগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব নিদর্শনের মধ্যে মেসোপটেমিয়ার প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত বহু গুরুত্বপূর্ণ বস্তু ছিল। গবেষণাটির লেখক ও প্রত্নতত্ত্ববিদ অধ্যাপক মামুন আবদুলকরিমের নেতৃত্বে ওই সময় সিরিয়ার প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর অধিদপ্তর উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। তিনি ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সংস্থাটির মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর সময়কালে সিরিয়ার বিভিন্ন জাদুঘর থেকে প্রায় ৩ লাখ প্রত্নবস্তু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার ছিল দেইর এজ-জোর জাদুঘরের। দেইর এজ-জোর ছিল সিরিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা। জাদুঘরটির অনেক নিদর্শন এসেছে হালাফ, দুরা-ইউরোপোস ও মারির মতো প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে। তবে শহরটি তখন ছিল ভয়াবহ সংঘাতের মধ্যে। জাদুঘরটি একটি সামরিক বিমানবন্দরের সঙ্গে সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি পথ দিয়ে যুক্ত ছিল। ফলে প্রত্নবস্তু সরিয়ে নেওয়ার প্রতিটি ধাপেই ছিল বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি। গবেষণায় বলা হয়েছে, যুদ্ধের সময় এমন উদ্ধার অভিযান শুধু পরিবহন ও পরিকল্পনার বিষয় নয়। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, পরস্পরের ওপর আস্থা রাখা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলানোর সক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধ্যাপক আবদুলকরিমের মতে, যুদ্ধের মধ্যে সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা করলে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারিয়ে যেতে পারে। দেইর এজ-জোরের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০১৪ সালের পর সিরিয়া ও ইরাকের বড় অংশে আই এ সের নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত হলে বহু জাদুঘর ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা লুট ও ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়ে। ইরাকের মসুলে জাদুঘর লুট এবং নিনেভে ও আসিরীয় সভ্যতার বহু নিদর্শন ধ্বংসের ঘটনাও সিরিয়ার প্রত্নতত্ত্ব কর্তৃপক্ষকে জরুরি সংরক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করতে বাধ্য করে। অধ্যাপক আবদুলকরিম বলেন, এসব প্রত্নবস্তু শুধু জাদুঘরের সংগ্রহ নয়। এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার বছরের মানব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের স্মৃতি। তাঁর ভাষায়, ৩০ হাজার নিদর্শন উদ্ধার করার অর্থ শুধু ৩০ হাজার বস্তু রক্ষা করা নয়; বরং যুদ্ধের কারণে মুছে যেতে বসা হাজার বছরের ইতিহাসকে সংরক্ষণ করা। নতুন গবেষণাটি Museum Management and Curatorship সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে যুদ্ধ বা সংকটের আগেই জাদুঘর ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রক্ষায় প্রস্তুতি, নথিপত্র, পেশাগত সক্ষমতা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তি তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইংল্যান্ডের কেন্টে বাড়ির রান্নাঘর সম্প্রসারণের কাজ করতে গিয়ে প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো মানুষের কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় এক দম্পতির বাড়ি পরিণত হয়েছিল সম্ভাব্য অপরাধস্থলে। ২০১৯ সালের সেই ঘটনায় পুলিশ ও বিশেষজ্ঞরা তদন্ত শুরু করলেও পরে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ আধুনিক কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ছয় বছর পর চলতি বছরের আগস্টে স্থানীয় একটি গির্জার কবরস্থানে সেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সমাহিত করা হয়েছে। ঘটনাটি ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কেন্টের ওয়াই এলাকায়। ২০১৯ সালের বসন্তে ৪৯ বছর বয়সী রস স্লেজার কর্মস্থলে ছিলেন। এ সময় তার বাড়িতে রান্নাঘর সম্প্রসারণের কাজ করছিলেন এক নির্মাণশ্রমিক। মাটি খোঁড়ার সময় তিনি কিছু হাড় দেখতে পান। প্রথমে স্লেজারও বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। তার ধারণা ছিল, এগুলো হয়তো কোনো খামারের প্রাণী বা পোষা প্রাণীর হাড়। কিন্তু নির্মাণশ্রমিক জানান, হাড়গুলো মানুষের হতে পারে। বিষয়টি জানার পর স্লেজার বাড়িতে ফিরে এসে বুঝতে পারেন, ঘটনাটি সাধারণ কোনো নির্মাণকাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। খবর পেয়ে পুলিশ বাড়িটিতে যায় এবং জায়গাটিকে সম্ভাব্য অপরাধস্থল হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করে। প্রায় ১০ জন পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে তদন্তকারীরা আরও একজন মানুষের দেহাবশেষের অংশ খুঁজে পান। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া অংশগুলোর মধ্যে ছিল একটি উরুর হাড়, দুটি মাথার খুলি, পাঁজরের হাড়, শ্রোণিচক্রের একটি অংশ এবং বাহু ও আঙুলের হাড়ের কিছু অংশ। স্লেজার পরে জানান, পুলিশি তদন্তের কারণে তার বাড়ির পরিবেশ পুরোপুরি বদলে গিয়েছিল। রাতেও সেখানে পুলিশ পাহারা ছিল। একজন কর্মকর্তা গাড়িতে অবস্থান করতেন এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর গাড়ি থেকে বের হয়ে জায়গাটি পর্যবেক্ষণ করতেন। গাড়ির আলোতে প্রতিবেশীদের বাড়ির বাতি জ্বলে উঠত এবং তার কুকুরও ঘেউ ঘেউ করত। ফলে সে রাতে তাদের ঘুমাতেও সমস্যা হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে প্রাথমিক তদন্তের প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেন, উদ্ধার হওয়া হাড়গুলো আধুনিক সময়ের কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। পরে পরীক্ষায় এগুলোকে অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগের মানুষের দেহাবশেষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বয়স আনুমানিক এক হাজার বছর বলে ধারণা করা হয়। এরপরও স্লেজার পরিবারের জন্য বিষয়টি পুরোপুরি শেষ হয়নি। বাড়ির বাগানে কৃত্রিম ঘাস বসানোর সময় স্লেজার আরও কিছু হাড়ের অংশ দেখতে পান। সেগুলো দেখে আবারও তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন, কারণ নির্মাণকাজ ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন। তবে পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, এগুলোও একই প্রাচীন দেহাবশেষের অংশ। পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়ার পর হাড়গুলো স্থানীয় ঐতিহাসিক সংগঠনের কাছে রাখা হয়। পরে সেগুলো স্থানীয় গির্জার পুরোহিতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে প্রাচীন দেহাবশেষ কোথায় এবং কীভাবে সমাহিত করা হবে, তা নির্ধারণ করতে কিছুটা সময় লাগে। প্রয়োজনীয় অনুমতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে দাফন পিছিয়ে যায় বলে স্লেজার জানান। অবশেষে ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট ওয়াইয়ের সেন্ট গ্রেগরি অ্যান্ড সেন্ট মার্টিন চার্চের কবরস্থানে দেহাবশেষগুলো পুনরায় সমাহিত করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় ২৫ জনের বেশি মানুষ অংশ নেন। গির্জার রেক্টর রেভারেন্ড রবি হলি বলেন, দেহাবশেষগুলোর পরিচয় জানা না গেলেও তারা মানুষ ছিলেন এবং তাদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়াই উচিত। অনুষ্ঠানে উইলিয়াম ব্লেকের বিখ্যাত গান ‘জেরুজালেম’ গাওয়া হয়। স্লেজার বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেহাবশেষগুলোর একটি যথাযথ শেষ ঠিকানা হয়েছে এবং স্থানীয় মানুষও তাদের সম্মান জানানোর সুযোগ পেয়েছেন। স্থানীয় ইতিহাসও এই আবিষ্কারের সঙ্গে জড়িত। ওয়াই হিস্টোরিক্যাল সোসাইটির আর্কাইভিস্ট মোরিন ডি-স্যাক্স জানান, ওই এলাকায় ১৯৩০-এর দশকে বাড়িঘর নির্মাণের সময়ও কয়েকটি কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল। ফলে জায়গাটিতে প্রাচীন সমাধিস্থল থাকার সম্ভাবনার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আগে থেকেই কিছুটা জানা ছিল। সাধারণ একটি বাড়ির সংস্কারকাজ থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত স্থানীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। প্রথমে সম্ভাব্য অপরাধের তদন্ত, পরে প্রত্নতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং সবশেষে যথাযথ সমাহিতকরণ, প্রায় এক হাজার বছর আগের অজ্ঞাত দুই মানুষের দেহাবশেষকে ঘিরে ছয় বছর ধরে চলা এই ঘটনাটির সমাপ্তি হয়েছে স্থানীয় গির্জার কবরস্থানে।
ইতালির রাজধানী রোমের উপকণ্ঠে সরকারি জমিতে চলা একটি অবৈধ খননের সূত্র ধরে আবিষ্কৃত হয়েছে প্রাচীন রোমান যুগের একটি বিলাসবহুল ভিলা। ভিলাটিতে পাওয়া গেছে চমৎকার মোজাইক মেঝে, মার্বেলের অলংকরণ এবং মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, যা রোমান সাম্রাজ্যের অভিজাত জীবনযাত্রার নতুন প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, ভিলাটি কাস্তেল দি গুইদো গ্রামের কাছে অবস্থিত। রোম থেকে প্রায় ১২ মাইল দূরের এই এলাকাটি রোমান সাম্রাজ্যের সময় ‘লোরিয়াম’ নামে পরিচিত ছিল, যেখানে রাজপরিবার ও অভিজাতদের আবাসস্থল ছিল। এখনও খনন ও গবেষণা চললেও ইতোমধ্যে একটি বিশাল প্রবেশদ্বার, কেন্দ্রীয় আঙিনা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত একটি জলাধার উন্মোচিত হয়েছে। এসব স্থাপনার চারপাশে কালো-সাদা নকশার উদ্ভিদ ও জ্যামিতিক অলংকরণে সাজানো মোজাইক মেঝে পাওয়া গেছে। ইতালির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোমান সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগে এই অঞ্চল সম্রাট হ্যাড্রিয়ান, অ্যান্টোনিনাস পিয়াস এবং মার্কাস অরেলিয়াসের মতো শাসকদের নিয়মিত যাতায়াতের স্থান ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের খবর কর্তৃপক্ষকে জানান। তদন্তে গিয়ে ইতালির সামরিক পুলিশ বাহিনী কারাবিনিয়েরি দেখতে পায়, প্রত্নসম্পদ লুটের উদ্দেশ্যে পরিচালিত অবৈধ খননের একাধিক লক্ষণ সেখানে রয়েছে। রাতের বেলা কাজ চলা, মাটির স্তূপ এবং অনুমোদিত খননের কোনো চিহ্ন না থাকায় কর্মকর্তাদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়। পরে জানা যায়, একদল ব্যক্তি খননযন্ত্র ব্যবহার করে বেড়া কেটে সুরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করে ভূগর্ভস্থ একটি বিশাল স্থানে খনন চালাচ্ছিল। কয়েক দিনের মধ্যেই অভিযান বন্ধ করা হলেও অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মকর্তারা বিস্মিত হন। সেখানে আবিষ্কৃত হয় আগে অজানা একটি প্রাচীন ভিলার ধ্বংসাবশেষ, যেখানে বহু নিদর্শন প্রায় অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল। ইতালির সংস্কৃতিমন্ত্রী আলেসান্দ্রো জিউলি বলেন, দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে অবৈধ খনন বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে এবং একই সঙ্গে রোমান সাম্রাজ্য যুগের একটি অসাধারণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের সন্ধান মিলেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক আলেসিয়া কন্তিনোর ভাষ্য অনুযায়ী, ভিলাটিতে বিলাসবহুল মোজাইক, সূক্ষ্ম মার্বেল অলংকরণ এবং রোমান গ্রামীণ দেবতা সিলভানাসের একটি ভাস্কর্যের অংশ পাওয়া গেছে। এসব নিদর্শন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ভিলাটি রোমান অভিজাত শ্রেণির এমন সদস্যদের ছিল, যাদের সঙ্গে সম্রাটের দরবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ খননের সময় কিছু অংশ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো প্রত্নবস্তু চুরি হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ইতালিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্নসম্পদ লুটের ঘটনা ঘটে আসছে। চোরাকারবারিদের মাধ্যমে এসব নিদর্শনের অনেকগুলো বিদেশে পাচার হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরে পৌঁছেছিল। পরবর্তীকালে এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ইতালিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। খননকাজ এখনও চলমান রয়েছে। শনিবার প্রথমবারের মতো নির্ধারিত সময়সূচির মাধ্যমে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য স্থানটি উন্মুক্ত করা হবে। আগামী কয়েক মাসে আরও দর্শনসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।