দুই হাজার বছর পর রোমান স্কটল্যান্ডে মৃ ত্যু হওয়া ব্যক্তির মুখ ফিরল ডিজিটাল প্রযুক্তিতে
প্রায় দুই হাজার বছর আগে রোমান সাম্রাজ্যের সীমান্তবর্তী স্কটল্যান্ডে মৃ ত্যু হয়েছিল এক ব্যক্তির। সময়ের ব্যবধানে তাঁর চেহারা হারিয়ে গেলেও কঙ্কাল থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির সাহায্যে এবার তাঁর মুখের একটি ডিজিটাল অবয়ব তৈরি করেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল। গবেষকদের এই প্রচেষ্টা প্রাচীন স্কটল্যান্ডের মানুষের জীবনযাপন, শারীরিক অবস্থা এবং অতীত সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে।
ব্যক্তিটির মাথার খুলি এবং ডিজিটালভাবে পুনর্গঠিত মুখের অবয়ব স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় অবস্থিত ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব স্কটল্যান্ডের একটি প্রদর্শনীতে দেখানো হবে। ‘রোমান স্কটল্যান্ড: লাইফ অন দ্য এজ অব এম্পায়ার’ নামের এই প্রদর্শনী আগামী ১৪ নভেম্বর শুরু হবে এবং চলবে ২০২৭ সালের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত। এতে রোমান সাম্রাজ্যের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ, সামরিক উপস্থিতি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার নানা দিক তুলে ধরা হবে।
গবেষকদের ধারণা, ওই ব্যক্তির বয়স ছিল ৫০ বছরের কিছু বেশি। খ্রিষ্টীয় ১৪০ থেকে ১৬৫ সালের মধ্যে স্কটল্যান্ডের এডিনবরার কাছাকাছি ইনভেরেস্ক এলাকায় তাঁর মৃ ত্যু হয়েছিল। তিনি মূলত ব্রিটেনের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। সেখান থেকে কয়েক শ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ফার্থ অব ফোর্থ উপকূলবর্তী এলাকায় পৌঁছেছিলেন বলে গবেষণায় জানা গেছে।
তাঁর চেহারা পুনর্গঠনের জন্য বিশেষজ্ঞরা একাধিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে ছিল কঙ্কালের গঠন বিশ্লেষণ, অতীতে শরীরের বিভিন্ন উপাদান নিয়ে করা গবেষণা এবং প্রাচীন ডিএনএ পরীক্ষা। এসব তথ্য একত্র করে ব্যক্তিটির শারীরিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয় তাঁর সম্ভাব্য মুখের অবয়ব।
তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, ডিজিটাল পুনর্গঠনটি ওই ব্যক্তির প্রকৃত চেহারার শতভাগ নিশ্চিত প্রতিচ্ছবি নয়। বরং প্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর মুখ কেমন হতে পারে, সেটির একটি সম্ভাব্য রূপ তুলে ধরা হয়েছে।
ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব স্কটল্যান্ডের প্রাগৈতিহাসিক ও রোমান প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান কিউরেটর ফ্রেজার হান্টার জানিয়েছেন, ইনভেরেস্কে রোমান আমলের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে তিনি বহু বছর ধরে কাজ করছেন। কিন্তু এই মুখ পুনর্গঠনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ওই এলাকার একজন বাসিন্দাকে কল্পনায় আরও স্পষ্টভাবে দেখতে পারছেন।
তাঁর মতে, প্রত্নতত্ত্ব শুধু পুরোনো বস্তু বা ধ্বংসাবশেষের ইতিহাস জানায় না। এর মাধ্যমে অতীতের মানুষের আশা, ভয়, অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়গুলোও বোঝার সুযোগ তৈরি হয়। আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ইনভেরেস্কের ওই বাসিন্দার সম্ভাব্য চেহারা তুলে ধরতে পারা তাঁর কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা। হান্টার আরও মনে করেন, ব্যক্তিটির পরিবার ও পরিচিতজনেরা তাঁকে দেখলে এই অবয়বের সঙ্গে তাঁর মিল খুঁজে পেতে পারতেন।
কঙ্কাল পরীক্ষা করে ওই ব্যক্তির জীবনে একাধিক শারীরিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাঁর ডান হাতের কনুইয়ের কাছে হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ছিল। এর কারণে হাতটির ব্যবহার সীমিত হয়ে পড়েছিল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তাঁদের ধারণা, সেপটিক আর্থ্রাইটিস নামের সংক্রমণজনিত প্রদাহ থেকে এই সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। রোগটি জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধিতে সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে হাড়েরও ক্ষতি করতে পারে।
এ ছাড়া তাঁর নাক ভাঙার চিহ্নও পাওয়া গেছে। তবে আঘাতটি মৃত্যুর আগেই সেরে গিয়েছিল বলে কঙ্কাল বিশ্লেষণে বোঝা যায়। শারীরিক অবস্থার এসব তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকেরা মনে করছেন, মৃ ত্যুর সময় তিনি আর সৈনিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন না। কারণ, তাঁর ডান হাতের সীমিত ব্যবহার তাঁকে তলোয়ার চালানোর মতো কাজ করতে বাধা দিতে পারত।
ইনভেরেস্কের রোমান দুর্গের আশপাশে একাধিক ব্যক্তির সমাধি পাওয়া গেছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের কাছে এসব সমাধি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রোমান আমলের স্কটল্যান্ডে এ ধরনের সমাধি খুব বেশি পাওয়া যায় না। সেখানে সমাহিত ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের মধ্যে চারজনের দেহে মৃত্যুর পর মাথা বিচ্ছিন্ন করার চিহ্ন পাওয়া গেছে। মুখ পুনর্গঠন করা ব্যক্তিও তাঁদের একজন।
গবেষকদের মতে, ব্রিটেনে এ ধরনের ঘটনার প্রাচীনতম পরিচিত উদাহরণগুলোর মধ্যে এগুলো অন্যতম। স্কটল্যান্ডে এখন পর্যন্ত পাওয়া এ ধরনের নিদর্শনের মধ্যে এগুলোকে প্রথম উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে মৃত্যুর পর কেন ওই ব্যক্তিদের মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এর পেছনে অতিপ্রাকৃত বিষয় নিয়ে তৎকালীন মানুষের বিশ্বাস, মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ কিংবা শাস্তি দেওয়ার কোনো প্রথা কাজ করে থাকতে পারে। কিন্তু এসব সম্ভাবনার কোনটি প্রকৃত কারণ ছিল, তা নির্ধারণ করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
জাদুঘরটির অস্থি-প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কিউরেটর জেস থম্পসন জানিয়েছেন, ইনভেরেস্কের সমাধিগুলো রোমান আমলের স্কটল্যান্ড সম্পর্কে জানার জন্য অত্যন্ত বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। তাঁর মতে, বিভিন্ন শাস্ত্রের গবেষণা একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি তাঁদের জীবনের গল্পও পুনর্গঠন করা সম্ভব হচ্ছে। তাঁরা কোথা থেকে এসেছিলেন, কেন সীমান্তবর্তী এলাকায় গিয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁদের জীবনে কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গবেষণা সহায়তা করছে।
এই মুখ পুনর্গঠনের কাজ করেছেন বিশেষজ্ঞ ক্রিস রিন। অস্থি-প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যায়ন, আগে পরিচালিত আইসোটোপ বিশ্লেষণ এবং প্রাচীন ডিএনএ গবেষণার ফলাফল একত্র করে তিনি ব্যক্তিটির সম্ভাব্য চেহারা তৈরি করেন। আইসোটোপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মানুষের অতীত জীবন ও ভৌগোলিক উৎস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে প্রাচীন ডিএনএ থেকে জিনগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।
এই গবেষণায় ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব স্কটল্যান্ডের পাশাপাশি ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এবং হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষণাসংশ্লিষ্ট কাজের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রদর্শনীতে শুধু রোমান সৈন্যদের সামরিক অভিযান নয়, বরং তাঁদের ঘাঁটির আশপাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের জীবনও তুলে ধরা হবে। রোমান সাম্রাজ্য যখন নতুন ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা করছিল, তখন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় কী পরিবর্তন এসেছিল, সেই অভিজ্ঞতাও থাকবে প্রদর্শনীর আলোচনায়।
প্রায় দুই হাজার বছর আগের একজন মানুষের মুখের এই পুনর্গঠন তাই শুধু একটি প্রত্নতাত্ত্বিক কৌতূহল নয়। এটি প্রাচীন মানুষের জীবন, শারীরিক সীমাবদ্ধতা, ভৌগোলিক যাত্রা এবং মৃত্যুর পর তাঁদের দেহকে ঘিরে প্রচলিত রীতিনীতি সম্পর্কে জানারও একটি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিজ্ঞান
View moreপ্রায় দুই হাজার বছর আগে রোমান সাম্রাজ্যের সীমান্তবর্তী স্কটল্যান্ডে মৃ ত্যু হয়েছিল এক ব্যক্তির। সময়ের ব্যবধানে তাঁর চেহারা হারিয়ে গেলেও কঙ্কাল থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির সাহায্যে এবার তাঁর মুখের একটি ডিজিটাল অবয়ব তৈরি করেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল। গবেষকদের এই প্রচেষ্টা প্রাচীন স্কটল্যান্ডের মানুষের জীবনযাপন, শারীরিক অবস্থা এবং অতীত সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে। ব্যক্তিটির মাথার খুলি এবং ডিজিটালভাবে পুনর্গঠিত মুখের অবয়ব স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় অবস্থিত ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব স্কটল্যান্ডের একটি প্রদর্শনীতে দেখানো হবে। ‘রোমান স্কটল্যান্ড: লাইফ অন দ্য এজ অব এম্পায়ার’ নামের এই প্রদর্শনী আগামী ১৪ নভেম্বর শুরু হবে এবং চলবে ২০২৭ সালের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত। এতে রোমান সাম্রাজ্যের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ, সামরিক উপস্থিতি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার নানা দিক তুলে ধরা হবে। গবেষকদের ধারণা, ওই ব্যক্তির বয়স ছিল ৫০ বছরের কিছু বেশি। খ্রিষ্টীয় ১৪০ থেকে ১৬৫ সালের মধ্যে স্কটল্যান্ডের এডিনবরার কাছাকাছি ইনভেরেস্ক এলাকায় তাঁর মৃ ত্যু হয়েছিল। তিনি মূলত ব্রিটেনের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। সেখান থেকে কয়েক শ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ফার্থ অব ফোর্থ উপকূলবর্তী এলাকায় পৌঁছেছিলেন বলে গবেষণায় জানা গেছে। তাঁর চেহারা পুনর্গঠনের জন্য বিশেষজ্ঞরা একাধিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে ছিল কঙ্কালের গঠন বিশ্লেষণ, অতীতে শরীরের বিভিন্ন উপাদান নিয়ে করা গবেষণা এবং প্রাচীন ডিএনএ পরীক্ষা। এসব তথ্য একত্র করে ব্যক্তিটির শারীরিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয় তাঁর সম্ভাব্য মুখের অবয়ব। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, ডিজিটাল পুনর্গঠনটি ওই ব্যক্তির প্রকৃত চেহারার শতভাগ নিশ্চিত প্রতিচ্ছবি নয়। বরং প্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর মুখ কেমন হতে পারে, সেটির একটি সম্ভাব্য রূপ তুলে ধরা হয়েছে। ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব স্কটল্যান্ডের প্রাগৈতিহাসিক ও রোমান প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান কিউরেটর ফ্রেজার হান্টার জানিয়েছেন, ইনভেরেস্কে রোমান আমলের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে তিনি বহু বছর ধরে কাজ করছেন। কিন্তু এই মুখ পুনর্গঠনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ওই এলাকার একজন বাসিন্দাকে কল্পনায় আরও স্পষ্টভাবে দেখতে পারছেন। তাঁর মতে, প্রত্নতত্ত্ব শুধু পুরোনো বস্তু বা ধ্বংসাবশেষের ইতিহাস জানায় না। এর মাধ্যমে অতীতের মানুষের আশা, ভয়, অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়গুলোও বোঝার সুযোগ তৈরি হয়। আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ইনভেরেস্কের ওই বাসিন্দার সম্ভাব্য চেহারা তুলে ধরতে পারা তাঁর কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা। হান্টার আরও মনে করেন, ব্যক্তিটির পরিবার ও পরিচিতজনেরা তাঁকে দেখলে এই অবয়বের সঙ্গে তাঁর মিল খুঁজে পেতে পারতেন। কঙ্কাল পরীক্ষা করে ওই ব্যক্তির জীবনে একাধিক শারীরিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাঁর ডান হাতের কনুইয়ের কাছে হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ছিল। এর কারণে হাতটির ব্যবহার সীমিত হয়ে পড়েছিল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তাঁদের ধারণা, সেপটিক আর্থ্রাইটিস নামের সংক্রমণজনিত প্রদাহ থেকে এই সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। রোগটি জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধিতে সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে হাড়েরও ক্ষতি করতে পারে। এ ছাড়া তাঁর নাক ভাঙার চিহ্নও পাওয়া গেছে। তবে আঘাতটি মৃত্যুর আগেই সেরে গিয়েছিল বলে কঙ্কাল বিশ্লেষণে বোঝা যায়। শারীরিক অবস্থার এসব তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকেরা মনে করছেন, মৃ ত্যুর সময় তিনি আর সৈনিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন না। কারণ, তাঁর ডান হাতের সীমিত ব্যবহার তাঁকে তলোয়ার চালানোর মতো কাজ করতে বাধা দিতে পারত। ইনভেরেস্কের রোমান দুর্গের আশপাশে একাধিক ব্যক্তির সমাধি পাওয়া গেছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের কাছে এসব সমাধি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রোমান আমলের স্কটল্যান্ডে এ ধরনের সমাধি খুব বেশি পাওয়া যায় না। সেখানে সমাহিত ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের মধ্যে চারজনের দেহে মৃত্যুর পর মাথা বিচ্ছিন্ন করার চিহ্ন পাওয়া গেছে। মুখ পুনর্গঠন করা ব্যক্তিও তাঁদের একজন। গবেষকদের মতে, ব্রিটেনে এ ধরনের ঘটনার প্রাচীনতম পরিচিত উদাহরণগুলোর মধ্যে এগুলো অন্যতম। স্কটল্যান্ডে এখন পর্যন্ত পাওয়া এ ধরনের নিদর্শনের মধ্যে এগুলোকে প্রথম উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর পর কেন ওই ব্যক্তিদের মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এর পেছনে অতিপ্রাকৃত বিষয় নিয়ে তৎকালীন মানুষের বিশ্বাস, মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ কিংবা শাস্তি দেওয়ার কোনো প্রথা কাজ করে থাকতে পারে। কিন্তু এসব সম্ভাবনার কোনটি প্রকৃত কারণ ছিল, তা নির্ধারণ করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। জাদুঘরটির অস্থি-প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কিউরেটর জেস থম্পসন জানিয়েছেন, ইনভেরেস্কের সমাধিগুলো রোমান আমলের স্কটল্যান্ড সম্পর্কে জানার জন্য অত্যন্ত বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। তাঁর মতে, বিভিন্ন শাস্ত্রের গবেষণা একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি তাঁদের জীবনের গল্পও পুনর্গঠন করা সম্ভব হচ্ছে। তাঁরা কোথা থেকে এসেছিলেন, কেন সীমান্তবর্তী এলাকায় গিয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁদের জীবনে কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গবেষণা সহায়তা করছে। এই মুখ পুনর্গঠনের কাজ করেছেন বিশেষজ্ঞ ক্রিস রিন। অস্থি-প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যায়ন, আগে পরিচালিত আইসোটোপ বিশ্লেষণ এবং প্রাচীন ডিএনএ গবেষণার ফলাফল একত্র করে তিনি ব্যক্তিটির সম্ভাব্য চেহারা তৈরি করেন। আইসোটোপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মানুষের অতীত জীবন ও ভৌগোলিক উৎস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে প্রাচীন ডিএনএ থেকে জিনগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। এই গবেষণায় ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব স্কটল্যান্ডের পাশাপাশি ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এবং হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষণাসংশ্লিষ্ট কাজের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে শুধু রোমান সৈন্যদের সামরিক অভিযান নয়, বরং তাঁদের ঘাঁটির আশপাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের জীবনও তুলে ধরা হবে। রোমান সাম্রাজ্য যখন নতুন ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা করছিল, তখন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় কী পরিবর্তন এসেছিল, সেই অভিজ্ঞতাও থাকবে প্রদর্শনীর আলোচনায়। প্রায় দুই হাজার বছর আগের একজন মানুষের মুখের এই পুনর্গঠন তাই শুধু একটি প্রত্নতাত্ত্বিক কৌতূহল নয়। এটি প্রাচীন মানুষের জীবন, শারীরিক সীমাবদ্ধতা, ভৌগোলিক যাত্রা এবং মৃত্যুর পর তাঁদের দেহকে ঘিরে প্রচলিত রীতিনীতি সম্পর্কে জানারও একটি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
ঘুমের ঘোরে কারা বেশি অশা লীন কথা বলেন, গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য
নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ত্রুটি, আ গু ন লাগার ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রে হুন্দাই ও জেনেসিসের ৯৪ হাজারের বেশি গাড়ি
সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করে নারীদের জন্য বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু বুরকিনা ফাসোতে
জাপানের মিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ক্রিসপার ক্যাস৯ জিন সম্পাদনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডাউন সিনড্রোম থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া মানবকোষে অতিরিক্ত ২১ নম্বর ক্রোমোজোম সরাতে সক্ষম হয়েছেন। রিয়োতারো হাশিজুমের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণাটি ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পিএনএএস নেক্সাস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। এটি শরীরের বাইরে পরীক্ষাগারে কোষের ওপর পরিচালিত গবেষণা। কোনো মানুষের শরীরে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে ডাউন সিনড্রোমের চিকিৎসা করা হয়নি। ট্রাইসোমি ২১ অবস্থায় সাধারণ দুটি কপির পরিবর্তে কোষে ২১ নম্বর ক্রোমোজোমের তিনটি কপি থাকে। এই অতিরিক্ত জিনগত উপাদান ডাউন সিনড্রোমের সঙ্গে সম্পর্কিত বিকাশগত পার্থক্য ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ। গবেষকেরা আলাদা কোনো জিনের পরিবর্তন করার পরিবর্তে তিনটি ক্রোমোজোমের মধ্যে নির্দিষ্ট একটি কপি সরানোর পদ্ধতি পরীক্ষা করেছেন। মিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ক্রোমোজোম অপসারণের হার সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ পাওয়া গেছে। এই হার পরীক্ষাগারের কোষে পাওয়া ফলাফল। এটি মানুষের চিকিৎসায় সাফল্যের হার নয় এবং পরীক্ষার সব কোষ থেকেই অতিরিক্ত ক্রোমোজোম সরানো সম্ভব হয়নি। গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে ডাউন সিনড্রোম থাকা ব্যক্তির ত্বক থেকে নেওয়া ফাইব্রোব্লাস্ট কোষ এবং সেগুলো থেকে তৈরি আইপিএস কোষ। আইপিএস হলো পরীক্ষাগারে পুনঃপ্রোগ্রাম করা এমন স্টেম সেল, যা বিভিন্ন ধরনের কোষে পরিণত হতে পারে। গবেষকেরা জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট ক্রোমোজোম কপিকে শনাক্ত করার উপযোগী নির্দেশক তৈরি করেন। এরপর ক্রিসপার ক্যাস৯ ব্যবস্থার সাহায্যে সেই ক্রোমোজোমের একাধিক স্থানে কাটার মাধ্যমে সেটি অপসারণের চেষ্টা করেন। পদ্ধতিটির বিশেষ দিক হলো তিনটি কপির সবগুলোকে নির্বিচারে লক্ষ্য না করে নির্দিষ্ট একটি কপিকে লক্ষ্যবস্তু করা। গবেষণাপত্রে এই কৌশলকে অ্যালিল স্পেসিফিক পদ্ধতি বলা হয়েছে। গবেষকেরা দেখিয়েছেন, স্টেম সেলের পাশাপাশি পরিণত ফাইব্রোব্লাস্ট এবং বিভাজন না হওয়া কোষেও এই কৌশলে ক্রোমোজোম অপসারণ সম্ভব হয়েছে। অতিরিক্ত ক্রোমোজোম সরানো কোষে কিছু কার্যগত পরিবর্তনও পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব কোষে জিনের সক্রিয়তার ধরন, কোষের বৃদ্ধির গতি এবং ক্ষতিকর সক্রিয় অক্সিজেন মোকাবিলার সক্ষমতা স্বাভাবিক অবস্থার দিকে ফিরেছে। তবে কোষের এই পরিবর্তন থেকে মানুষের বিকাশগত বৈশিষ্ট্য বা স্বাস্থ্যগত জটিলতা একইভাবে বদলে যাবে, এমন সিদ্ধান্ত এই গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশোধিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লক্ষ্য করা ক্রোমোজোমটি অপসারিত না হলে সেটিতে ডিএনএর অংশ বাদ পড়া, যুক্ত হওয়া কিংবা উল্টোভাবে বিন্যস্ত হওয়ার মতো পরিবর্তন ঘটতে পারে। ডিএনএর দুই সুতো কাটার সঙ্গে এসব ঝুঁকি সম্পর্কিত। গবেষকেরা তাই ভবিষ্যতে ক্রোমোজোম না কেটে সেটি অপসারণের আরও নিরাপদ পদ্ধতি তৈরির প্রয়োজন তুলে ধরেছেন। এই কাজকে ইতিহাসে প্রথমবার সম্পূর্ণ ক্রোমোজোম সরানোর ঘটনা বলা যথাযথ নয়। গবেষণাপত্রেই ক্রিসপার ব্যবহার করে পুরো ক্রোমোজোম অপসারণের আগের গবেষণার উল্লেখ রয়েছে। নতুন গবেষণার গুরুত্ব হলো মানব ট্রাইসোমি ২১ কোষে নির্দিষ্ট একটি ক্রোমোজোম কপিকে বেছে অপসারণের কৌশল এবং তার কার্যকারিতা দেখানো। মিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্ট করেছে, এটি কোষ পর্যায়ে একটি ধারণার কার্যকারিতা প্রমাণের গবেষণা। ফলাফল ভবিষ্যতে ডাউন সিনড্রোমের সঙ্গে সম্পর্কিত জটিলতা নিয়ে গবেষণায় সহায়তা করতে পারে। তবে মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে পদ্ধতিটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বর্তমানে এই গবেষণাকে ডাউন সিনড্রোম সারানোর চিকিৎসা হিসেবে উপস্থাপন করার ভিত্তি নেই।
পানীয়তে মা দক শনাক্তের নেলপলিশ তৈরি করলেন যুক্তরাষ্ট্রের চার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী
প্রায় ১০ কোটি বছর আগের পোকার সন্ধান, শরীরের দ্বিগুণ লম্বা মুখ: নাম টেলিটাবিজের নু-নু
নোবেল জিতে সুখবর সবার আগে সন্তানদের দিলেন বাবা, নিজ হাতে বানালেন স্যান্ডউইচ
মানুষের মতো নরম, নমনীয় এবং ক্ষত সারাতে সক্ষম চামড়া এবার রোবটের শরীরেও ব্যবহারের পথ দেখিয়েছেন জাপানের বিজ্ঞানীরা। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শোজি তাকেউচির নেতৃত্বে গবেষকেরা মানবকোষ ও কোলাজেন দিয়ে তৈরি জীবন্ত ত্বক একটি তিন জোড়ার রোবটিক আঙুলের গায়ে সফলভাবে বসিয়েছেন। আঙুলটি বাঁকালে ত্বকও স্বাভাবিকভাবে নড়ে এবং কেটে গেলে কোলাজেন শিটের সহায়তায় প্রায় সাত দিনের মধ্যে ক্ষতস্থান জোড়া লাগতে শুরু করে। গবেষণাটি ২০২২ সালে প্রকাশিত হলেও জীবন্ত টিস্যু দিয়ে তৈরি রোবোটিক কাভারিং নিয়ে আলোচনায় এটি এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গবেষকেরা প্রথমে রোবটের আঙুলের চারপাশে কোলাজেন ও মানব ত্বকের ডার্মাল কোষ ব্যবহার করে একটি স্তর তৈরি করেন। এরপর এর ওপর কেরাটিনোসাইট যোগ করে মানুষের ত্বকের বাইরের স্তরের মতো আরেকটি স্তর গড়ে তোলা হয়। এই পদ্ধতির বিশেষত্ব হলো, ত্বকটি আলাদা করে তৈরি করে পরে রোবটের গায়ে জোড়া লাগানো হয়নি। বরং রোবটের আঙুলের চারপাশেই সরাসরি ত্বকটি গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে আঙুলের বাঁক, খাঁজ ও জোড়াগুলোর সঙ্গে ত্বকটি ঘনিষ্ঠভাবে মানিয়ে যায় এবং নড়াচড়ার সময় সহজে ছিঁড়ে যায় না। গবেষণায় ব্যবহৃত রোবটিক আঙুলটি তিনটি জোড়াসম্পন্ন। একটি মোটর ও তারের সাহায্যে এটি বাঁকানো হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, জীবন্ত ত্বক দিয়ে ঢাকার পরও আঙুলটি জোড়াগুলো নড়াতে পারছে এবং ত্বক তার সঙ্গে নমনীয়ভাবে প্রসারিত হচ্ছে। সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল ত্বকের ক্ষত সারানোর পরীক্ষা। গবেষকেরা স্ক্যালপেল দিয়ে ত্বকের ডার্মাল স্তরে একটি ক্ষত তৈরি করেন। পরে সেই জায়গায় পাতলা কোলাজেন শিট লাগিয়ে দেন। প্রায় সাত দিন কালচারের পর দেখা যায়, আশপাশের ত্বকের কোষ কোলাজেন শিটের মধ্যে প্রবেশ করেছে এবং ক্ষতস্থানের সংযোগ শক্তিশালী হয়েছে। এরপর রোবটিক আঙুলটি আবার আগের মতো বাঁকানো সম্ভব হয়। তবে এটিকে মানুষের মতো সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ক্ষত নিরাময় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। গবেষণায় ক্ষতস্থানে কোলাজেন শিট বসিয়ে দিতে হয়েছিল এবং পুরো প্রক্রিয়াটি পুষ্টিসমৃদ্ধ তরল পরিবেশে চালানো হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে এই ত্বক শরীরের মানুষের ত্বকের মতো খোলা বাতাসে দীর্ঘ সময় স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে বেঁচে থাকতে পারে না। এটাই প্রযুক্তিটির বড় সীমাবদ্ধতা। বর্তমান সংস্করণে ত্বকের ভেতরে রক্তনালি বা এমন কোনো সঞ্চালন ব্যবস্থা নেই, যা নিয়মিত পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে। ফলে জীবন্ত অবস্থায় রাখতে এটিকে বিশেষ কালচার মিডিয়ামের মধ্যে রাখতে হয়। গবেষকেরা ভবিষ্যতে ত্বকের মধ্যে পুষ্টি সরবরাহের জন্য ক্ষুদ্র চ্যানেল তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। অধ্যাপক শোজি তাকেউচির দল দীর্ঘদিন ধরে বায়োহাইব্রিড রোবোটিকস নিয়ে কাজ করছে। এই ক্ষেত্রটিতে জীবন্ত কোষ ও টিস্যুকে যান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করে এমন প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়, যা প্রচলিত রোবটের তুলনায় বেশি নমনীয় ও মানুষের শরীরের বৈশিষ্ট্যের কাছাকাছি হতে পারে। গবেষকদের লক্ষ্য শুধু রোবটকে মানুষের মতো দেখতে করা নয়। ভবিষ্যতে ত্বকের মধ্যে সংবেদনশীল কোষ, চুলের ফলিকল, ঘামগ্রন্থিসহ আরও জটিল উপাদান যুক্ত করার সম্ভাবনাও তারা দেখছেন। এতে কোনো রোবট স্পর্শ অনুভব করা, তাপমাত্রা বুঝতে পারা কিংবা নিজের বাইরের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা মেরামত করার মতো সক্ষমতার দিকে এগোতে পারে। এই ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে হিউম্যানয়েড রোবট, চিকিৎসা গবেষণা, ওষুধ ও প্রসাধনী পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করবে এমন রোবটের ক্ষেত্রে নরম ও নমনীয় বহিরাবরণ নিরাপত্তা বাড়াতে পারে। তবে গবেষণাটি এখনো পরীক্ষাগার পর্যায়ের। মানুষের মতো পূর্ণাঙ্গ ত্বক, দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার ক্ষমতা কিংবা স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্ষত নিরাময়ের পর্যায়ে প্রযুক্তিটি পৌঁছায়নি। তারপরও মানুষের জীবন্ত কোষ দিয়ে তৈরি ত্বক একটি চলমান রোবটের গায়ে বসানো এবং ক্ষত সারানোর সক্ষমতা দেখাতে পারা ভবিষ্যতের বায়োহাইব্রিড রোবট তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই বছরের ১৩ নভেম্বর ‘পৃথিবী ধ্বংসের’ পূর্বাভাস! কী বলেছিল সেই গবেষণা
শনির চাঁদে প্রাণের সম্ভাবনা, নতুন গবেষণায় মিলল আশাব্যঞ্জক তথ্য