জেরুজালেমের লাতিন প্যাট্রিয়ার্ককে পাম সানডে’র গণপ্রার্থনা বা 'মাস' উদযাপনে বাধা দেওয়ায় ইসরায়েলি পুলিশের তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়েছে ইতালি। ইতালীর প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই ঘটনাকে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন। লাতিন প্যাট্রিয়ার্কেট সূত্রে জানা গেছে, জেরুজালেমের চার্চ অফ দ্য হোলি সেপালকারে পূর্বনির্ধারিত প্রার্থনা অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে যাচ্ছিলেন কার্ডিনাল পিয়েরবাতিস্তা পিজাবাল্লা। তিনি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ক্যাথলিক বিচারব্যবস্থার প্রধান আর্চবিশপ। তবে সেখানে প্রবেশের সময় ইসরায়েলি পুলিশ তাকে পথিমধ্যে আটকে দেয়। প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এক বিবৃতিতে বলেন, "এই ঘটনাটি কেবল মুমিনদের জন্যই নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সম্মান করে এমন যে কোনো সম্প্রদায়ের জন্য একটি অবমাননাকর বিষয়।" ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছেন যে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ইতালিতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছেন। ইসরায়েলি বাহিনীর এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দল সিপিএন-ইউএমএল (CPN-UML) এর প্রভাবশালী নেতা কেপি শর্মা অলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে কাঠমান্ডুতে তার নিজ বাসভবন থেকে নিরাপত্তা বাহিনী তাকে হেফাজতে নেয়। এই গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কাঠমান্ডুসহ নেপালের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্নীতির অভিযোগ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা উসকে দেওয়ার সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে অলির সমর্থকরা এই পদক্ষেপকে 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' এবং বর্তমান সরকারের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। কেপি শর্মা অলির গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তার দলের হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে এসেছেন। কাঠমান্ডুর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে এবং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করেছে। নেপালের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ কেপি শর্মা অলি এর আগেও কয়েক দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বর্তমান জোট সরকারের সাথে তার বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেপ্তার নেপালের ভঙ্গুর গণতন্ত্রকে আরও বড় ধরনের সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাউকেই আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নেপালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রধান শহরগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নেপালের এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং সকল পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
কাঠমান্ডু, নেপাল নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ (২৭ মার্চ) শপথ গ্রহণ করেছেন বালেন্দ্র শাহ। মার্চের শুরুতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) বড় জয় অর্জন করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করলেন। শপথ গ্রহণের আগে ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র একটি গান প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি নেপালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও যুবসমাজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। রাজনীতিতে আসার আগে বালেন্দ্র নেপালের আন্ডারগ্রাউন্ড হিপ-হপ জগতে র্যাপার ও গীতিকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করার আগে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। মাত্র তিন বছরের মেয়র পদে থাকার সময়েই তিনি দেশের তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এর আগে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন, যা যুবসমাজের তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এক সপ্তাহের মধ্যেই জনগণ ওলির সরকারের পতন নিশ্চিত করেন। বালেন্দ্র শাহ বালেন নামে বেশি পরিচিত। ১৯৯০ সালে কাঠমান্ডুতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। নেপালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করে পরে ভারতের বিশ্বেশ্বরায়া টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বড় দলগুলোর প্রার্থীকে পরাজিত করে ৬১ হাজারের বেশি ভোটে জয়লাভ করেন। বালেন্দ্রের জনপ্রিয়তা মূলত তার সামাজিক বার্তা, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং যুবসমাজের প্রতি সমর্থনের কারণে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তার নেতৃত্ব নেপালে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: বিবিসি
দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দেশটিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর আজ শুক্রবার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন সাবেক জনপ্রিয় র্যাপার এবং কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বলেন শাহ’ নামেই সমধিক পরিচিত। আজ শুক্রবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এর আগে নির্বাচনে তাঁর দল এক বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে, যা নেপালের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বলেন শাহর এই উত্থান নেপালের তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সম্প্রতি নেপালে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দুর্নীতিবিরোধী এক বিশাল ছাত্র-যুব আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সেই আন্দোলনে সহিংসতায় অন্তত ৭৭ জন প্রাণ হারান। মূলত অর্থনৈতিক সংকট এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সেই ক্ষোভকে পুঁজি করেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্ত করেন বলেন শাহ। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম বক্তব্যে বলেন শাহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন। ৩০ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশটিতে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে তোলা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই এখন তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন সংগীতশিল্পী এবং স্বতন্ত্র ধারার রাজনীতিক হিসেবে তাঁর এই জয় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা হিমালয় কন্যা নেপালকে এক নতুন দিশা দেখাতে পারে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে বলেন শাহ কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, যেখানে তিনি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং নগরায়নের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন। আন্তর্জাতিক মহলও নেপালের এই নতুন নেতৃত্বকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে চীন ও ভারতের মধ্যবর্তী এই কৌশলগত রাষ্ট্রের নতুন সরকার বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী ধরনের ভারসাম্য বজায় রাখে, সেদিকেই এখন সবার নজর।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। শনিবার (আজ) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মাটিতে ঈদ উদ্যাপন করতে পেরে তিনি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দেশের মানুষ আরও শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে ঈদ উদ্যাপন করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, জনগণ যে বাংলাদেশ দেখতে চায়, সেই প্রত্যাশিত দেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং যাবে। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকলে নির্বাচিত সরকার দেশগঠনের কাজে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে। এ সময় তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। বক্তব্যে তিনি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-এ শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া ব্যক্তিদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। শেষে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকার জাতীয় ঈদগাহে দেশের প্রধান ঈদ জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এ জামাতে শান্তি ও সম্প্রীতির আহ্বান জানানো হয়। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ঈদগাহে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং কয়েক মিনিট পর রাষ্ট্রপতি সেখানে উপস্থিত হন। প্রধান এই জামাতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন। নামাজে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক। নামাজ শেষে খুতবা ও মোনাজাতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে সহিংসতা ও সংঘাত নিরসনের জন্য দোয়া করা হয়। এবারের ঈদ এমন এক সময়ে উদ্যাপিত হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ঈদের বার্তা নতুন করে আশা ও সম্প্রীতির আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বৃষ্টি ও ঝড়ের আশঙ্কা থাকলেও ঈদের সকালে আকাশ মেঘলা থাকলেও নামাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। সকাল থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে জাতীয় ঈদগাহে। প্রবেশের সময় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়; আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হয় এবং পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় রাখা হয়। জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির একসঙ্গে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, আশপাশের সড়ক ও খোলা জায়গাসহ প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন। এ ছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টা থেকে পর্যায়ক্রমে একাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
বগুড়ার শেরপুরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে দেড় বছরের এক শিশুকন্যা। গুরুতর আহত শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুটির চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং শিশুটির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আতিকুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় আহত অন্যান্য ব্যক্তিদেরও সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া শিশুটির চিকিৎসার সকল ব্যয়ভারও তিনি গ্রহণ করেছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সকালে, যখন ঢাকা থেকে রংপুরগামী ১২ জন যাত্রী নিয়ে একটি মাইক্রোবাস বগুড়ার শেরপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শিশুটির আরও তিনজন স্বজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানান, নিহতদের মরদেহ রংপুরের কাউনিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানে দাফন সম্পন্ন হবে। নিহতরা ঈদ উদযাপনের জন্য পরিবার নিয়ে রংপুর যাচ্ছিলেন।
রাজধানীর বাংলা কলেজ এলাকায় ভাসমান চা–বিক্রেতা ছয় বছর বয়সী শিশু ফাতেমা ও তার নানির পাশে ঈদ উপহার পৌঁছে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনের মাধ্যমে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় তালতলা এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো বিশেষ ঈদ উপহার। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু ফাতেমার খবর নজরে আসার পরই তিনি এই শুভেচ্ছার হাত বাড়িয়ে দেন। উপহারে শিশু ফাতেমার জন্য ছিল নতুন জামা, জুতা ও প্রসাধন সামগ্রী। তার নানির জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে শাড়ি ও প্রয়োজনীয় উপহার সামগ্রী। সংগঠনটি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পরিবারের কাছে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছাও জানিয়েছে। সম্প্রতি বাংলা কলেজের সামনে নানির চা দোকানে সাহায্য করতে গিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় আহত হয়েছিল ফাতেমা। তাকে একজন পুলিশ সার্জেন্ট উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। এই মানবিক ঘটনার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। উপহার হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, শাকিল আহমেদ ও ফরহাদ আলী সজীব। তারা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানোর যে অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর, তারই অংশ হিসেবে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হলো।
ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি জানান, এসব মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকারমূলক বিষয় হিসেবে দেখছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে আনা কিছু পরিবর্তন অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ, যা শিগগিরই সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া বিশ্ব বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএনপির ইশতেহারে উল্লেখিত ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে অবস্থিত সাহাপাড়া খাল খননের মাধ্যমে এ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়। প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। বিমানবন্দর থেকে তিনি বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসে সৈয়দপুর শহরের মধ্য দিয়ে দিনাজপুরের দিকে যাত্রা করেন। কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখননের মাধ্যমে দেশের খাল খনন কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। একই সঙ্গে ভার্চুয়ালি দেশের ৫৪ জেলায় খাল খননের উদ্বোধন কার্যক্রম শুরু করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর গোরস্তানে গিয়ে তার নিকট আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। অনুষ্ঠান শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা করছেন।
নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে একটি সুন্দর ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের সম্মানি কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন যাদের সাধারণ মানুষ কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই শ্রদ্ধা করে এবং বিপদে যাদের কাছ থেকে সঠিক পরামর্শ পায়। সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করে শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনার যে প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের আগে দেওয়া হয়েছিল, এই উদ্যোগ তারই একটি অংশ। ভাতা ও সম্মানি কার্যক্রমের বিস্তারিত: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পাইলট প্রকল্পের আওতায় এই আর্থিক সহায়তা সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদান করা হবে: মসজিদ: প্রতি মসজিদের জন্য ১০ হাজার টাকা (ইমাম ৫ হাজার, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার এবং খাদেম ২ হাজার টাকা)। মন্দির: প্রতি মন্দিরের জন্য ৮ হাজার টাকা (পুরোহিত ৫ হাজার এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা)। বৌদ্ধ বিহার: প্রতি বিহারের জন্য ৮ হাজার টাকা (অধ্যক্ষ ৫ হাজার এবং উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা)। গির্জা: প্রতি চার্চের জন্য ৮ হাজার টাকা (পালক/যাজক ৫ হাজার এবং সহকারী ৩ হাজার টাকা)। এছাড়া ধর্মীয় উৎসবগুলোতে (ঈদ, দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিন) বিশেষ বোনাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে সরকারি বা বিদেশি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এই সুবিধার আওতামুক্ত থাকবে। চলতি অর্থবছরে এই খাতে ২৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে প্রতি বছর প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়েছে।
আগামী ১৪ মার্চ সারা দেশের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকার প্রদত্ত মাসিক ভাতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ধর্মমন্ত্রীর দপ্তরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার করার লক্ষ্যে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সরকার গঠনের পর সেই অঙ্গীকারগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইসমাইল জবিউল্লাহ জানান, এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম শুরু হবে। এতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে একটি করে মোট ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ নির্বাচন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলা থেকে দুটি করে মোট ৯৯০টি মন্দির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া দেশের ৭২টি উপজেলায় অবস্থিত বৌদ্ধ বিহার থেকে দুটি করে মোট ১৪৪টি বিহার এবং ১৯৮টি উপজেলায় থাকা গির্জা থেকে দুটি করে মোট ৩৯৬টি গির্জাও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি মসজিদের ইমাম মাসে ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। অর্থাৎ প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসে মোট ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে। অন্যদিকে মন্দিরের পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবায়েত পাবেন ৩ হাজার টাকা। একইভাবে বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ পাবেন ৫ হাজার এবং উপাধ্যক্ষ পাবেন ৩ হাজার টাকা। গির্জার যাজক পাবেন ৫ হাজার এবং সহকারী যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা। ফলে প্রতিটি মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধ বিহারের জন্য মাসিক ৮ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে সংশ্লিষ্টদের ১ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়া হবে। আর দুর্গাপূজা, বুদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, যাজক ও সহকারী যাজকদের জন্য ২ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা বরাদ্দ থাকবে। তিনি আরও জানান, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে নির্বাচিত উপকারভোগীদের সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবেই এই অর্থ পাঠানো হবে। ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, কোনোভাবেই হাতে হাতে টাকা দেওয়া হবে না। ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমেই অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে দুর্নীতির সুযোগ না থাকে।
সরকারের সব স্তরে দুর্নীতি মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সহনশীল সমাজ গঠনে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। এ সময় তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রতি সমর্থন দেওয়ার জন্য ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের আহ্বান জানান। ইফতার অনুষ্ঠানে ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। ইফতার আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে যাওয়া এবং দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে মন্ত্রী, সচিব ও বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তাদের দীর্ঘ লাইনে উপস্থিত থাকার প্রচলিত দৃশ্যে পরিবর্তন আসছে। এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বুধবার (৪ মার্চ) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরের সময় এবং দেশে প্রত্যাবর্তনের সময় বিমানবন্দরে নির্ধারিত কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন। নির্দেশনা অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠতম সদস্য একজন মন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এ বিষয়ে পূর্বে জারি করা ২০২৪ সালের ২৮ আগস্টের একটি সার্কুলার বাতিল করে নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংসদ সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় এক অনন্য এবং ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃচ্ছতা সাধনের অংশ হিসেবে তিনি নিজের দপ্তরে ৫০ শতাংশ বৈদ্যুতিক বাতি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ২০১ নম্বর কক্ষসহ তাঁর কার্যালয়ের প্রতিটি কক্ষে কার্যকর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, কৃত্রিম আলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিনের বেলা জানালার পর্দা সরিয়ে প্রাকৃতিক আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকেও এই সিদ্ধান্তের প্রতিফলন দেখা গেছে। সেখানে অর্ধেক লাইট ও এসি ব্যবহার করেই যাবতীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বৈঠক শেষে অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী কেবল নিজের দপ্তরেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শপিংমল ও বাণিজ্যিক ভবনসহ সাধারণ নাগরিকদের নিজ নিজ বাসস্থানেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে জ্বালানি সাশ্রয়ে বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ নিয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় স্বার্থে অপচয় রোধে এই সময়োপযোগী উদ্যোগ সারাদেশে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশের আটটি বিভাগের নয়টি উপজেলায় প্রাথমিকভাবে ‘কৃষি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাক-পাইলট পর্যায়ে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে দেশের সব শ্রেণির কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর নির্বাচিত ৯টি উপজেলার ৯টি ব্লকে কৃষি কার্ড বিতরণ করা হবে। নির্বাচিত উপজেলাগুলো হলো—টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর এবং কক্সবাজারের টেকনাফ। প্রেসসচিব আরও জানান, প্রাক-পাইলট ও পাইলট পর্যায় সম্পন্ন করার পর আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় কৃষি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, ১৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরীক্ষামূলকভাবে কৃষি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) গঠন করেছে। বুধবার (৪ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ২০ সদস্যের এই কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নিকারে স্থানীয় সরকার, অর্থ, স্বরাষ্ট্র, শিল্প ও আইন মন্ত্রী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এছাড়া জনপ্রশাসন, ভূমি, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, সমন্বয় ও সংস্কার, আইন ও বিচার বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিবও কমিটির সদস্য হয়েছেন। নিকার নতুন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তর স্থাপন, পুনর্গঠন এবং নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব বিবেচনা করবে। এছাড়া নতুন বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও থানা গঠন বা স্থাপনের প্রস্তাব এবং সেগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণ সম্পর্কিত বিষয়ও কমিটি দেখবে।
ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার তীব্র সমালোচনা করে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তার সরকারের অবস্থান যুদ্ধের বিরুদ্ধে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, স্পেনের জনগণ এই ভয়াবহ "বিপর্যয়ের" বিপক্ষে। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ সতর্ক করে বলেন, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণ বিশ্বকে আরও বেশি নিরাপত্তাহীন করে তুলেছিল। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কোনোভাবেই একটি উন্নত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করবে না। বর্তমান সংকটকে "মানবতার মহাবিপর্যয়ের সূচনা" হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, লক্ষ লক্ষ মানুষের ভাগ্য নিয়ে সরকারগুলোর "রাশিয়ান রুলেট" খেলা উচিত নয়। এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি স্পেনের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তবে সানচেজ তার সিদ্ধান্তে অনড় থেকে জানিয়েছেন, স্পেনের মাটি থেকে এমন কোনো অভিযান তিনি সমর্থন করবেন না যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে।
ছুটির দিনে যখন দেশ বিশ্রামে, তখনও তেজগাঁও কার্যালয়ে জনসেবায় মগ্ন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলস্য নয়, বরং দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার সকাল ১০টা থেকেই শুরু করেছেন দাপ্তরিক কার্যক্রম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রশাসনিক গতিশীলতা ফেরাতে তার এই নিরলস প্রচেষ্টা ইতিমধ্যে নেটিজেনদের নজর কেড়েছে। আজকের দিনটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য বেশ কর্মমুখর। দিনের শুরুতেই তিনি কার্যালয়ের দপ্তর প্রধান ও কর্মকর্তাদের সাথে বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়েছেন। প্রশাসনের তৃণমূল পর্যন্ত কাজের সমন্বয় এবং গতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই জরুরি বৈঠক বলে জানা গেছে। বিকালে রাজনৈতিক সৌজন্যের নিদর্শন: দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি আজ বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক বিশেষ আয়োজনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। প্রশাসনিক দায়িত্ব আর রাজনৈতিক শিষ্টাচারের এই মেলবন্ধন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপনার কি মনে হয়, প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মতৎপরতা দেশের প্রশাসনিক কাজে কতটা গতি আনবে? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।
রাজধানীর বনানীতে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নামাজ শেষে তিনি শিশু-কিশোরদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন। এক শিশু প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করে, ‘আঙ্কেল, আপনি রোজা রাখেন?’ প্রধানমন্ত্রী হাতে মিলিয়ে জবাব দেন, ‘আমি তো রোজা রাখি।’ এরপর তিনি অন্য শিশুদের সঙ্গেও হাত মেলান এবং কারও মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, মসজিদে মহিলাদের জন্য আলাদা স্থানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের উচ্ছসিত মুহূর্তে কথা বলেন। এক শিশু বলেন, ‘আঙ্কেল আজকেরটা ছাড়া সব রোজা রেখেছি।’ প্রধানমন্ত্রী মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, “তাই!” অন্য এক শিশু বলে, ‘আঙ্কেল আমি সবগুলো রোজা রেখেছি।’ প্রধানমন্ত্রী জবাব দেন, “ভেরি গুড।” নামাজ শেষে জুবাইদা রহমান মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের কাছে গিয়ে বিদায় নেন এবং হাত নেড়ে বিদায় জানিয়ে নিজের গাড়ির দিকে চলে যান।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির দেশব্যাপী বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের জন্য আগামী ১০ মার্চ বগুড়া সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শিবগঞ্জের ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় শাহ সুলতান বলখী (রহ.) মাজার মসজিদে জুমার নামাজের আগে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী এই সফরের মাধ্যমে হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষের কল্যাণে সরকারের নতুন এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সূচনা করবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের (পাইলটিং) জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। সুবিধাভোগী ও কর্মসূচির বিস্তারিত: প্রকল্পের রূপরেখা অনুযায়ী, প্রতিটি নিবন্ধিত পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। মূলত পরিবারের নারী সদস্যরা এই কার্ডের জন্য নিবন্ধিত হবেন। একটি ওয়ার্ডের যোগ্য বিবেচিত সকল পরিবারকেই এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন: কর্মসূচিটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সুবিধাভোগী নির্বাচনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী চার মাস এই পাইলটিং কার্যক্রম চলবে, যার সফলতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।