বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় এক অনন্য এবং ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃচ্ছতা সাধনের অংশ হিসেবে তিনি নিজের দপ্তরে ৫০ শতাংশ বৈদ্যুতিক বাতি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ২০১ নম্বর কক্ষসহ তাঁর কার্যালয়ের প্রতিটি কক্ষে কার্যকর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, কৃত্রিম আলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিনের বেলা জানালার পর্দা সরিয়ে প্রাকৃতিক আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকেও এই সিদ্ধান্তের প্রতিফলন দেখা গেছে। সেখানে অর্ধেক লাইট ও এসি ব্যবহার করেই যাবতীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
বৈঠক শেষে অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী কেবল নিজের দপ্তরেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শপিংমল ও বাণিজ্যিক ভবনসহ সাধারণ নাগরিকদের নিজ নিজ বাসস্থানেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে জ্বালানি সাশ্রয়ে বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ নিয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় স্বার্থে অপচয় রোধে এই সময়োপযোগী উদ্যোগ সারাদেশে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় এক অনন্য এবং ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃচ্ছতা সাধনের অংশ হিসেবে তিনি নিজের দপ্তরে ৫০ শতাংশ বৈদ্যুতিক বাতি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ২০১ নম্বর কক্ষসহ তাঁর কার্যালয়ের প্রতিটি কক্ষে কার্যকর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, কৃত্রিম আলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিনের বেলা জানালার পর্দা সরিয়ে প্রাকৃতিক আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকেও এই সিদ্ধান্তের প্রতিফলন দেখা গেছে। সেখানে অর্ধেক লাইট ও এসি ব্যবহার করেই যাবতীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বৈঠক শেষে অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী কেবল নিজের দপ্তরেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শপিংমল ও বাণিজ্যিক ভবনসহ সাধারণ নাগরিকদের নিজ নিজ বাসস্থানেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে জ্বালানি সাশ্রয়ে বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ নিয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় স্বার্থে অপচয় রোধে এই সময়োপযোগী উদ্যোগ সারাদেশে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পুলিশের অধিকাংশ সদস্য আগের গাঢ় নীল রঙের (নেভি ব্লু শার্ট-প্যান্ট) পোশাকে ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মতামত দেওয়া সদস্যদের মধ্যে ১ লাখ ৪ হাজার ৯১৩ জন আগের পোশাকের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে বর্তমানে ব্যবহৃত লৌহ (আয়রন) রঙের শার্ট ও কফি (শেল) রঙের প্যান্টের পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ৯১১ জন সদস্য। বুধবার (৪ মার্চ) পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার সদস্য কর্মরত আছেন। গত সোম ও মঙ্গলবার দেশের ৬৪ জেলায় পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে কল্যাণ প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা পুলিশ, রেঞ্জ পুলিশ ও পুলিশ সদর দপ্তরের সদস্যসহ মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৬৪১ জন পুলিশ সদস্য অংশ নেন। প্যারেডে অংশ নেওয়া সদস্যদের কাছে লিখিত ফর্মের মাধ্যমে পোশাক নিয়ে মতামত চাওয়া হয়। সেই মতামতের হিসাব অনুযায়ী দেখা গেছে, প্রায় ৯৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ সদস্য আগের নেভি ব্লু শার্ট-প্যান্ট এবং মহানগর এলাকায় সবুজ শার্ট ও গাঢ় রঙের প্যান্টের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে ২ হাজার ৮১৭ জন সদস্য ভিন্ন রঙের পোশাক চান, যা মোট মতামতের প্রায় ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করার পর পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। এদিন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে পুলিশ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখে জানতে চান, পোশাক পরিবর্তন করলে পুলিশের মানসিকতার পরিবর্তন হবে কি না। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানায়, ২০০৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন এবং ১০ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে তৎকালীন সরকার পুলিশের আগের পোশাক নির্ধারণ করেছিল। তখন আবহাওয়া, দায়িত্ব পালনের সুবিধা, দৃশ্যমানতা এবং অন্যান্য বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্য না থাকার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছিল। বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের নির্ধারিত নতুন পোশাক নির্বাচন করার সময় পুলিশ সদস্যদের মতামত, আবহাওয়া ও অন্যান্য বাস্তবতা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। ফলে মাঠপর্যায়ে অন্যান্য ইউনিফর্মধারী বাহিনীর সঙ্গে পোশাকের সাদৃশ্য তৈরি হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করতে সমস্যা তৈরি করছে। এ কারণে পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চলমান নানা আলোচনা ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটাতে মুখ খুলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই চুক্তি কোনো গোপন প্রক্রিয়ায় হয়নি বরং দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতিতেই তা সম্পাদিত হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ নির্বাচনের আগেই আমাদের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের সাথে কথা বলেছে এবং তারা এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। সুতরাং, এটি অন্ধকারে করা হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়।" চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি 'এন্ট্রি' ও 'এক্সিট' ক্লজের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, চুক্তিটি এখনো কার্যকর (নোটিফিকেশন) হয়নি এবং সরকার চাইলে যেকোনো সময় এটি রিভিউ করার সুযোগ রাখে। এছাড়া মাত্র ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পথও খোলা রয়েছে। ড. রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তির ভাষা ও শর্তাবলি ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের করা চুক্তির মতোই অভিন্ন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমরা বাংলাদেশকে কোনো বন্ধ ঘরে ঠেলে দিইনি।" বাণিজ্যিক সুবিধার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আলোচনা শুরু হয়ে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর জুলাই মাসে এটি চূড়ান্ত হয়। বিশেষ করে আমেরিকান কটন দিয়ে তৈরি পোশাকে 'জিরো রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ' সুবিধা আদায় বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য একটি বড় বিজয়। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, এই চুক্তি বর্তমান সরকারের 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতির সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।