- প্রচ্ছদ
- Topic
পুলিশ কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া অঙ্গরাজ্যে বন্দুকধারীর এক নৃশংস ও অতর্কিত হামলায় (অ্যাম্বুশ) শেন সাবার (৪০) নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় তার সাথে থাকা আরেক সহকর্মী শরীরে ১২টি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। গত শনিবার মধ্যরাতের পর পশ্চিম ফিলাডেলফিয়ায় এই ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম ফিলাডেলফিয়ার একটি বাড়ির বারান্দায় এক সশস্ত্র ব্যক্তির অবস্থানের খবর পেয়ে শনিবার প্রথম প্রহরে সেখানে অভিযানে যান শেন সাবার ও তার সহকর্মী। তারা বাড়িটিতে প্রবেশ করার সাথে সাথেই ওত পেতে থাকা হামলাকারী তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে শেন সাবার তিনটি গুলিবিদ্ধ হন। পরে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের সামনেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহত সাবার সাত বছর বয়সী এক ছেলে ও তিন বছর বয়সী এক মেয়ের জনক ছিলেন। ফিলাডেলফিয়ার পুলিশ কমিশনার কেভিন বেথেল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই হত্যাকাণ্ডকে ‘নৃশংস, অর্থহীন ও ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, জীবন বাঁচাতে সাবার বীরত্বের সাথে লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। অন্যদিকে, হামলায় ১২ বার গুলিবিদ্ধ হওয়া অপর পুলিশ কর্মকর্তা—যিনি নিজেও পাঁচ সন্তানের জনক—বর্তমানে হাসপাতালে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। তবে তিনি এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন বলে সতর্ক করেছেন পুলিশ কমিশনার। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ল্যারি ক্রাসনির জানান, দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করার পর সন্দেহভাজন হামলাকারী একটি গলি দিয়ে পালিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসা আরও নয়জন পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে সৌভাগ্যবশত ওই নয় কর্মকর্তার কেউই গুলিবিদ্ধ হননি। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর একটি গাছের ওপর লুকিয়ে থাকা অবস্থায় এরিক লুইস (৩৫) নামের ওই সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জানিয়েছেন, আটক লুইসের বিরুদ্ধে হত্যা এবং ১০টি হত্যাচেষ্টার অভিযোগসহ প্রায় ৮০টি পৃথক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে।
দুই এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ১১ মাসের এক শিশুকে শ্বাসরোধের পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করার পর তাদের ধন্যবাদ জানাতে মায়ের সঙ্গে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের ৪৪তম প্রিসিন্কটের স্টেশনে হাজির হয় শিশুটি। শুক্রবারের ওই সাক্ষাতে পরিবার ও দুই কর্মকর্তার মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ ও নিউজ ১২ ব্রঙ্কসের প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ২৬ সেপ্টেম্বর। নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১৬৮তম স্ট্রিট ও গ্র্যান্ড কনকোর্স এলাকার কাছে দায়িত্ব পালন করছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা জুলিও আরিয়াস ও ক্যারোলিন আব্রেউ-গার্সিয়া। তারা একটি চিহ্নিত পুলিশ গাড়িতে করে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় এক পথচারী তাদের থামিয়ে দেন। তিনি আতঙ্কিত অবস্থায় থাকা ২১ বছর বয়সী জ্যানিবেল মন্টানোর দিকে ইঙ্গিত করেন। তার কোলে তখন অচেতন অবস্থায় ছিল ১১ মাসের ছেলে জাইহলার মন্টানো। পুলিশ কর্মকর্তাদের শরীরে থাকা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত শিশুটিকে কোলে তুলে নেন আরিয়াস। শিশুটিকে উপুড় করে ধরে তার পিঠে একের পর এক চাপড় দিতে থাকেন তিনি। ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি তখন ডাইনোসরের পোশাক পরা ছিল এবং তার এক পায়ে ডোরাকাটা মোজা ছিল। কয়েকবার পিঠে চাপড় দেওয়ার পর হঠাৎ শিশুটি কেঁদে ওঠে। শিশুটির কান্নার শব্দ শুনেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত পান আরিয়াস। ভিডিওতে তাকে শিশুটিকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, সে ঠিক আছে কি না। পরে সাংবাদিকদের কাছে আরিয়াস বলেন, শিশুটির কান্না শোনার পরই তিনি বুঝতে পারেন যে সে ঠিক আছে। তার সঙ্গী আব্রেউ-গার্সিয়া এ সময় অ্যাম্বুলেন্সের জন্য রেডিওতে যোগাযোগ করছিলেন। আব্রেউ-গার্সিয়া বলেন, শিশুটিকে কাঁদতে দেখে তার মনে হয় যেন তিনি আবার স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছেন। পুরো ঘটনাটিতে দ্রুত সমন্বয় করে একজন কর্মকর্তা শিশুটিকে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার দিকে মন দেন, আর অন্যজন জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করেন। শুক্রবার ৪৪তম প্রিসিন্কটে গিয়ে জ্যানিবেল মন্টানো দুই কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদর করেন কর্মকর্তারা এবং পরিবারের সঙ্গে ছবি তোলেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জ্যানিবেল বলেন, তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং একই সঙ্গে তাদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এমন পরিস্থিতিতে দুই কর্মকর্তাকে কীভাবে যথেষ্ট ধন্যবাদ জানাবেন, তা তিনি জানেন না বলেও জানান। আরিয়াস বলেন, শিশুটিকে বাঁচানোর সময় তার পিঠে চাপড় দেওয়ার পর শিশুটি কিছু বের করে দেয়, যার সামান্য অংশ তার জুতায়ও লাগে। তবে তখন এসবের দিকে তার কোনো মনোযোগ ছিল না। শিশুটি ঠিক আছে কি না, সেটিই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পরে তিনি শিশুটিকে এত জোরে পিঠে চাপড় দিতে হয়েছে বলে দুঃখও প্রকাশ করেন। দুই সন্তানের বাবা আরিয়াস জানান, পুলিশি প্রশিক্ষণ তাকে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করেছে। নিজের দুই মাস বয়সী সন্তান থাকার বিষয়টিও ওই মুহূর্তে তাকে পরিস্থিতিটি আরও দ্রুত বুঝতে সহায়তা করেছে বলে তিনি মনে করেন। জুলিও আরিয়াস ২০২২ সালে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন এবং ব্রঙ্কসের ৪৪তম প্রিসিন্কটে দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রিসিন্কটের আওতায় ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম, গ্র্যান্ড কনকোর্স ও হাইব্রিজ এলাকার বড় একটি অংশ রয়েছে। ক্যারোলিন আব্রেউ-গার্সিয়া ২০২১ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন এবং তিনিও একই প্রিসিন্কটে দায়িত্ব পালন করছেন। শিশুটিকে উদ্ধারের ঘটনার পর ধারণ করা শরীরে পরা ক্যামেরার ভিডিও এবং পরিবারের সঙ্গে কর্মকর্তাদের পরবর্তী সাক্ষাতের ছবি ঘটনাটিকে জনসমক্ষে নিয়ে আসে। শুক্রবারের সাক্ষাতে ছোট্ট জাইহলারকে কোলে নিয়ে দুই কর্মকর্তার সঙ্গে পরিবারের পুনর্মিলন সেই উদ্ধার অভিযানের একটি মানবিক পরিণতি হয়ে ওঠে। সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ
মেক্সিকোর আকাপুলকোয় ভয়াবহ হ্যারিকেন ওটিসের পর উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় ক্ষুধার্ত চার মাস বয়সী এক শিশুকে বুকের দুধ খাইয়ে আলোচনায় আসেন মেক্সিকো সিটির পুলিশ কর্মকর্তা আরিজবেথ ডিওনিসিও অ্যামব্রোসিও। মানবিক এই উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে ‘পুলিশিয়া প্রিমেরো’ পদ থেকে ‘সুবঅফিসিয়াল’ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে, হ্যারিকেন ওটিস আকাপুলকোয় আঘাত হানার পর। ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর মেক্সিকোর আকাপুলকোয় ক্যাটাগরি ৫ হ্যারিকেন ওটিস আঘাত হানে। ঝড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর মেক্সিকো সিটির পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার, ত্রাণ ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজে সেখানে মোতায়েন হন। অ্যামব্রোসিওও তাদের সঙ্গে আকাপুলকোয় যান। তিনি তখন ৩৩ বছর বয়সী এবং নিজেও দুই সন্তানের মা ছিলেন। একই সময়ে তিনি নিজের এক বছর বয়সী শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। ঝড়ের পর উদ্ধারকাজ ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর সময় অ্যামব্রোসিও একটি শিশুর কান্না শুনতে পান। তিনি কান্নার উৎসের দিকে গিয়ে এক নারীর সঙ্গে কথা বলেন। ওই নারী শিশুটির মা অথবা স্বজন ছিলেন বলে অ্যামব্রোসিও পরে জানান। শিশুটির বয়স ছিল প্রায় চার মাস। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটি দীর্ঘ সময় ধরে খাবার পায়নি এবং ক্ষুধায় কাঁদছিল। মেক্সিকোর সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুটি প্রায় ৪৮ ঘণ্টা খাবার ছাড়াই ছিল। অ্যামব্রোসিও তখন বুঝতে পারেন, তিনি নিজেও যেহেতু সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন, তাই শিশুটিকে দুধ খাওয়াতে পারেন। তিনি ওই নারীর অনুমতি চান। অনুমতি পাওয়ার পর তিনি শিশুটিকে কোলে নিয়ে বুকের দুধ খাওয়ান। অ্যামব্রোসিওর ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে তার কাছে দেওয়ার পর কান্না ধীরে ধীরে থেমে যায়। তিনি পরে বলেন, ওই মুহূর্তে নিজের দুই সন্তানের কথা তার মনে পড়েছিল এবং প্রয়োজনের সময় শিশুটিকে প্রয়োজনীয় কিছু দিতে পেরে তার মনে শান্তি এসেছিল। ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে অ্যামব্রোসিওকে শিশুটিকে বুকের দুধ খাওয়াতে দেখা যায়। আকাপুলকোয় তখন যোগাযোগব্যবস্থা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় অ্যামব্রোসিও নিজেও প্রথমে জানতে পারেননি যে ছবিটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি প্রায় আট দিন সেখানে থেকে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে অংশ নেন বলে মেক্সিকোর সংবাদমাধ্যম এল ইউনিভার্সাল জানিয়েছে। আকাপুলকো থেকে ফিরে আসার পর তাকে মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তা বিভাগের সদর দপ্তরে ডাকা হয়। সেখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পাবলো ভাসকেস কামাচো তার কাছে শিশুটিকে সহায়তা করার ঘটনাটি জানতে চান। এরপরই তাকে পদোন্নতির কথা জানানো হয়। তিনি ‘পুলিশিয়া প্রিমেরো’ পদ থেকে ‘সুবঅফিসিয়াল’ পদে উন্নীত হন, যা তাকে নেতৃত্বের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। কামাচো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যামব্রোসিওর সেবার প্রশংসা করে বলেন, আকাপুলকোয় শিশুটির জীবন রক্ষায় তার ভূমিকা মানবিকতার উদাহরণ। তবে অ্যামব্রোসিও নিজে ঘটনাটিকে অসাধারণ বা বীরত্বপূর্ণ কিছু হিসেবে দেখেননি। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনের মুহূর্তে যা করা দরকার ছিল, তিনি সেটিই করেছেন। শিশুটিকে সাহায্য করার পর তিনি আবার হেলমেট, ফার্স্ট এইড কিট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে উদ্ধারকাজে ফিরে যান। শিশুটির সঙ্গে সেটিই ছিল তার শেষ দেখা। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সুযোগ পেলে সেই পরিবারের সঙ্গে আবার দেখা করে শিশুটিকে দেখতে চাইতেন। হ্যারিকেন ওটিসের পর আকাপুলকোয় ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে অ্যামব্রোসিওর এই ঘটনা উদ্ধারকাজের আরেকটি মানবিক দিক সামনে আনে। ধ্বংসস্তূপ সরানো ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো দায়িত্বের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের প্রতি নজর দেওয়ার ঘটনাটিও তখন ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষও তার এই ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মহাসড়কের ওপর আগুনে জ্বলতে থাকা একটি গাড়ি থেকে চালককে জীবিত উদ্ধার করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ঝুঁকিপূর্ণ ওই অভিযানের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সাহসিকতার জন্য তাকে বিভাগটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননাও দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ এবং সাউথলেক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত ৭ জুন টেক্সাসের স্টেট হাইওয়ে ১১৪-এ। সাউথলেক পুলিশ বিভাগের করপোরাল জোশুয়া সুইশার জানান, সেদিন তিনি মহাসড়কের পাশে একটি যানবাহন থামিয়ে ট্রাফিক সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঠিক তখনই নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে একটি গাড়ি থেকে ঘন ধোঁয়া বের হওয়ার এবং সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ডের খবর পান। তিনি জানান, বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার একটাই লক্ষ্য ছিল গাড়িটিকে নিরাপদ স্থানে থামিয়ে ভেতরে থাকা চালককে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই বের করে আনা। সাউথলেক পুলিশ বিভাগের প্রকাশ করা ড্যাশক্যাম ভিডিওতে দেখা যায়, ধোঁয়া বের হতে থাকা গাড়িটি সুইশারের পাশ দিয়ে চলে যায়। তিনি দ্রুত গাড়িটির পিছু নেন এবং সেটিকে মহাসড়কের পাশে থামাতে সক্ষম হন। কিন্তু গাড়িটি থামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, গাড়ির দরজা খুলতে গেলে আগুনের তাপে দরজার হাতল ভেঙে যায়। এতে চালককে বের করার পথ বন্ধ হয়ে যায়। এবিসি নিউজকে সুইশার বলেন, তখন তিনি বুঝতে পারেন, প্রচলিত উপায়ে দরজা খুলে চালককে বের করা সম্ভব নয়। তাই তিনি দস্তানা পরে গাড়ির জানালায় আঘাত করেন। তার শরীরে ধারণ করা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ঘন কালো ধোঁয়ায় গাড়ির ভেতর প্রায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তারপরও তিনি জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। সুইশার বলেন, জানালার কাচ ভেঙে যাওয়ার পরই তিনি স্বস্তি পান, কারণ তখন অন্তত চালককে বের করার একটি পথ তৈরি হয়েছিল। এরপর তিনি চালককে গাড়ি থেকে টেনে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরো গাড়িটি আগুনে পুড়ে যায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িতে চালক ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। তিনি মানসিকভাবে ভীত হলেও গুরুতর আহত হননি এবং নিজে হেঁটে ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে সক্ষম হন। ঘটনার পর জোশুয়া সুইশার বলেন, "প্রতিদিন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় না। আমি শুধু খুশি যে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় ছিলাম এবং একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পেরেছি।" এই সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ সাউথলেক পুলিশ বিভাগ তাকে মেরিটোরিয়াস কন্ডাক্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছে। বিভাগটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই সম্মাননা কর্তব্য পালনের সময় অসাধারণ সাহস, পেশাদারিত্ব এবং জীবনঝুঁকি মোকাবিলার স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়। পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অন্যের জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসার জন্যই এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। সূত্র: এবিসি নিউজ, সাউথলেক পুলিশ বিভাগ।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে (এনওয়াইপিডি) নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে সদ্য পাস হওয়া নতুন একটি আইনের ফলে এখন থেকে জীবনের কিছুটা পরিণত বয়সেও নগরবাসীরা পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার সিটি কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে আইনটি পাস হয়। আগে এনওয়াইপিডিতে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল ৩৫ বছর, যা এখন বাড়িয়ে ৪৩ বছর করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি ২০২৫ সালে পাস হওয়া নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অনুরূপ একটি আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। সিটি কাউন্সিলের সদস্য আমান্ডা ফারিয়াসের উত্থাপিত নতুন এই আইনে সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্যদের (ভেটেরান) জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তারা আবেদনের ক্ষেত্রে তাদের বর্তমান বয়স থেকে সামরিক বাহিনীতে কাজের সময়কাল (সর্বোচ্চ ৬ বছর পর্যন্ত) বাদ দিয়ে হিসাব করার সুযোগ পাবেন। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফারিয়াস স্পষ্ট করেন যে, এই আইনের ফলে আবেদনকারীদের মূল যোগ্যতার মানদণ্ডে কোনো পরিবর্তন আসবে না; বরং এটি আরও বেশি অভিজ্ঞ ও পরিণত বয়সের প্রার্থীদের পুলিশে যোগদানে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করবে। ফারিয়াস আরও জানান, গত কয়েক বছরে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার আগেই ৩৫ বছর পার হয়ে যাওয়ায় শত শত যোগ্য প্রার্থী এনওয়াইপিডিতে যোগদানের সুযোগ হারিয়েছেন। আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত এনওয়াইপিডির চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে এবং যোগ্য প্রার্থীদের একটি বৃহত্তর পুল থেকে বাছাই করার সুযোগ তৈরি করবে। উল্লেখ্য, পুলিশ বিভাগে কর্মীসংকট কাটাতে গত বছরও এনওয়াইপিডি আবেদনের ন্যূনতম বয়স ২১ থেকে কমিয়ে সাড়ে ২০ বছর (২০.৫) করেছিল। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও ৬০ ক্রেডিটের শর্ত শিথিল করে ২৪ ক্রেডিটে নামিয়ে আনা হয়েছিল। এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ জানিয়েছেন, গত বছর পুলিশ বিভাগ কর্মী সংকটে এতটাই ভুগেছিল যে তারা আক্ষরিক অর্থেই আবেদনকারীদের জন্য আবেদন জানাচ্ছিল বা ‘মিনতি’ করছিল। তবে নিয়োগ নীতিমালায় বয়সের শর্ত শিথিলকরণসহ এসব ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফলে সম্প্রতি পুলিশের চাকরিতে আবেদনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে অতিরিক্ত মদ্যপান করে ভুল পথে গাড়ি চালিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক তদন্ত প্রতিবেদনে। গত মে মাসে রুট ১-এ সংঘটিত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হন ম্যাসাচুসেটস স্টেট পুলিশের ট্রুপার কেভিন ট্রেইনর (৩০) এবং ঘাতক জিপ চালক হার্নান মারেরো (৫০)। জানা গেছে, দুর্ঘটনার ঠিক আগে সাগাস শহরের একটি রেস্তোরাঁ থেকে টানা নয়টি অ্যালকোহলিক ড্রিংক পান করেছিলেন অভিযুক্ত চালক। এসেক্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি পল টাকার বুধবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানান, চালক মারেরো সেদিন রাতে মোট দশটি ড্রিংক পান করেন। ওয়ালথামের একটি রেস্তোরাঁ থেকে প্রথম ড্রিংক পানের পর তিনি সাগাসের 'ট্রিবু মেক্সিকান কিচেন অ্যান্ড বার'-এ যান এবং মধ্যরাত পর্যন্ত আরও নয়টি ড্রিংক পান করেন। ময়নাতদন্তের টক্সিকোলজি রিপোর্টে দেখা যায়, মারেরোর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল ০.১৯২, যা ম্যাসাচুসেটসের বৈধ সীমার দ্বিগুণেরও বেশি। অতিরিক্ত সময় ও বিনামূল্যে মদ পরিবেশনের অভিযোগে ওই রেস্তোরাঁটির বিরুদ্ধে সিভিল রেগুলেশন ভঙ্গের নোটিশ দেওয়া হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। আগামী ২৮ জুলাই এ বিষয়ে একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাত প্রায় ২টার দিকে মারেরো ভুল পথে (রং ওয়ে) গাড়ি চালানো শুরু করেন। রাস্তায় ‘রং ওয়ে’ বা ‘প্রবেশ নিষেধ’ লেখা স্পষ্ট সাইনবোর্ড থাকা সত্ত্বেও তিনি সেগুলো তোয়াক্কা না করে তীব্র গতিতে এগিয়ে যান। অন্যদিকে, ট্রুপার কেভিন ট্রেইনর তার ডিউটি শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে রেডিওতে ভুল পথে আসা গাড়ির খবর পান এবং নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেটি থামানোর চেষ্টা করেন। প্রায় ৬০ মাইল বেগে আসা জিপটির সঙ্গে তার পুলিশের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির মতে, নিজের জীবনের বিনিময়ে ট্রেইনরের এই সাহসী পদক্ষেপ হয়তো আরও বড় কোনো প্রাণহানির হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।