জ্বলন্ত গাড়ি থেকে খালি হাতে কাচ ভেঙে চালককে উদ্ধার, যুক্তরাষ্ট্রে সম্মানিত পুলিশ কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মহাসড়কের ওপর আগুনে জ্বলতে থাকা একটি গাড়ি থেকে চালককে জীবিত উদ্ধার করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ঝুঁকিপূর্ণ ওই অভিযানের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সাহসিকতার জন্য তাকে বিভাগটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননাও দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ এবং সাউথলেক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত ৭ জুন টেক্সাসের স্টেট হাইওয়ে ১১৪-এ।
সাউথলেক পুলিশ বিভাগের করপোরাল জোশুয়া সুইশার জানান, সেদিন তিনি মহাসড়কের পাশে একটি যানবাহন থামিয়ে ট্রাফিক সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঠিক তখনই নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে একটি গাড়ি থেকে ঘন ধোঁয়া বের হওয়ার এবং সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ডের খবর পান।
তিনি জানান, বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার একটাই লক্ষ্য ছিল গাড়িটিকে নিরাপদ স্থানে থামিয়ে ভেতরে থাকা চালককে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই বের করে আনা।
সাউথলেক পুলিশ বিভাগের প্রকাশ করা ড্যাশক্যাম ভিডিওতে দেখা যায়, ধোঁয়া বের হতে থাকা গাড়িটি সুইশারের পাশ দিয়ে চলে যায়। তিনি দ্রুত গাড়িটির পিছু নেন এবং সেটিকে মহাসড়কের পাশে থামাতে সক্ষম হন। কিন্তু গাড়িটি থামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, গাড়ির দরজা খুলতে গেলে আগুনের তাপে দরজার হাতল ভেঙে যায়। এতে চালককে বের করার পথ বন্ধ হয়ে যায়।
এবিসি নিউজকে সুইশার বলেন, তখন তিনি বুঝতে পারেন, প্রচলিত উপায়ে দরজা খুলে চালককে বের করা সম্ভব নয়। তাই তিনি দস্তানা পরে গাড়ির জানালায় আঘাত করেন।
তার শরীরে ধারণ করা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ঘন কালো ধোঁয়ায় গাড়ির ভেতর প্রায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তারপরও তিনি জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
সুইশার বলেন, জানালার কাচ ভেঙে যাওয়ার পরই তিনি স্বস্তি পান, কারণ তখন অন্তত চালককে বের করার একটি পথ তৈরি হয়েছিল।
এরপর তিনি চালককে গাড়ি থেকে টেনে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরো গাড়িটি আগুনে পুড়ে যায়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িতে চালক ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। তিনি মানসিকভাবে ভীত হলেও গুরুতর আহত হননি এবং নিজে হেঁটে ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে সক্ষম হন।
ঘটনার পর জোশুয়া সুইশার বলেন, "প্রতিদিন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় না। আমি শুধু খুশি যে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় ছিলাম এবং একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পেরেছি।"
এই সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ সাউথলেক পুলিশ বিভাগ তাকে মেরিটোরিয়াস কন্ডাক্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছে। বিভাগটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই সম্মাননা কর্তব্য পালনের সময় অসাধারণ সাহস, পেশাদারিত্ব এবং জীবনঝুঁকি মোকাবিলার স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়।
পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অন্যের জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসার জন্যই এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
সূত্র: এবিসি নিউজ, সাউথলেক পুলিশ বিভাগ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreআটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ রাখার প্রস্তাব গুগলকে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাইয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বললেও তিনি রাজি হননি। কারণ হিসেবে একাধিক দেশের সঙ্গে মহাসাগরের সীমানা যুক্ত থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বুধবার (২১ অক্টোবর) দক্ষিণ ক্যারোলিনায় এক নির্বাচনী সমাবেশে সমর্থকদের সামনে এই কথোপকথনের বিবরণ দেন ট্রাম্প। তবে গুগল এমন কোনো আলোচনা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি। সমাবেশে ট্রাম্প জানান, আটলান্টিক কিংবা প্রশান্ত মহাসাগরের যেকোনো একটির নাম নিজের নামে রাখার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করেছিলেন। গুগল ম্যাপে ‘মেক্সিকো উপসাগর’-এর নাম পরিবর্তনের পর তাঁর মাথায় এই চিন্তা আসে। এরপর গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, গুগল আগের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি ভালোভাবে বাস্তবায়ন করেছিল বলেই নতুন প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন তিনি। এর আগে গুগল ম্যাপে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য ‘মেক্সিকো উপসাগর’-এর পরিবর্তে ‘আমেরিকা উপসাগর’ নাম প্রদর্শন করা হয়। ওই পরিবর্তনের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, গুগল বিষয়টি সুন্দরভাবে সামলেছে। সমাবেশে তিনি সুন্দর পিচাই এবং গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সার্গেই ব্রিনের প্রশংসাও করেন। তাঁদের অত্যন্ত মেধাবী ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের বর্ণনা অনুযায়ী, সুন্দর পিচাইকে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করা সম্ভব কি না। জবাবে পিচাই তাঁকে জানান, মহাসাগরের বিষয়টি আলাদা। কারণ এসব জলরাশি একাধিক দেশের সীমানার সঙ্গে যুক্ত। তাই গুগলের পক্ষে এমন পরিবর্তন করা সম্ভব নয় বলে পিচাই জানিয়েছিলেন, এমনটাই দাবি করেন ট্রাম্প। সমর্থকদের সামনে কথোপকথনের বিবরণ দিতে গিয়ে হাস্যরসও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি অনুযায়ী, পিচাই তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন, যেন মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের মতো কাজ গুগলকে করতে না বলা হয়। এরপর ট্রাম্প বলেন, তিনি সম্ভবত এই পরিকল্পনা বাদ দেবেন। আটলান্টিক মহাসাগরের বর্তমান নামই রাখা উচিত কি না, সে প্রশ্নও করেন উপস্থিত সমর্থকদের। তবে ট্রাম্পের দাবি করা কথোপকথনের বিষয়ে গুগলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সুন্দর পিচাই সত্যিই এমন প্রস্তাব পেয়েছিলেন কিংবা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন কি না, সেটিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। ফলে আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের আলোচনাটি আপাতত ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
হার্ভার্ডে এনভায়রনমেন্ট গবেষণায় ফেলোশিপ, বছরে বেতন ৯২ হাজার ডলার
ব্যাংক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলায় চায়ে বিষ মিশিয়ে হত্যার চেষ্টা, বান্ধবী গ্রেফতার
অভিবাসন জালিয়াতির তদন্তে বাড়িতে তল্লাশি, ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ছেন ইলহান ওমর
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে হাসপাতালে মৃত ঘোষণার পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় পর মর্গে জীবিত অবস্থায় পাওয়া এক শিশুর মা মুখ খুলেছেন। প্রায় ১৮ মাস বয়সী ভিনসেন্ট ফিওরদিলিনোকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি একটি সুইমিং পুলে মুখ নিচের দিকে ভাসতে দেখে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলেও পরে মর্গ থেকে তার শ্বাস নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। পুলিশের প্রতিবেদনে শিশুটিকে ভুলবশত মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যারিজোনার গিলবার্ট শহরে পরিবারের বাড়িতে সুপার বোল উপলক্ষে আয়োজন চলাকালে পুলে ভাসমান অবস্থায় ভিনসেন্টকে পাওয়া যায়। তাকে দ্রুত ডিগনিটি হেলথ মার্সি গিলবার্ট মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক আরিয়ান তুসি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির মা অ্যালেক্সাস ফিওরদিলিনো বলেন, চিকিৎসকের কথা বিশ্বাস করে তাকে ছেলের কাছ থেকে শেষ বিদায় নিতে হয়েছিল। অ্যালেক্সাস জানান, চিকিৎসক তাকে বলেছিলেন, শিশুটির রক্তের অম্লতার মাত্রা এত বেশি যে তাকে ফিরিয়ে আনা গেলেও তার স্বাভাবিক জীবনযাপনের সম্ভাবনা খুব কম এবং সে কষ্ট পেতে পারে। তবে শিশুটিকে বিদায় জানানোর সময় পরিবারের সদস্যদের কারও কারও মনে হয়েছিল, সে তখনো শ্বাস নিচ্ছে। অ্যালেক্সাসের শাশুড়িও শিশুটিকে জড়িয়ে ধরে শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো শব্দ শুনতে পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতালের কর্মীরা সেটিকে অস্বাভাবিক নয় বলে ব্যাখ্যা করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতালে উপস্থিত শিশুটির মা-বাবা ছাড়াও দুই পুলিশ কর্মকর্তা তার মধ্যে শ্বাস নেওয়ার লক্ষণ আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পরে শিশুটিকে হাসপাতালের শীতল কক্ষে রাখা হয়, যেটি মর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় পর মারিকোপা কাউন্টির মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয়ের কর্মীরা শিশুটির মরদেহ নিতে এসে তাকে শ্বাস নিতে দেখেন। এরপর তাকে দ্রুত ফিনিক্স চিলড্রেনস হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর ভিনসেন্টের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবার। তাদের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে এপ্রিলে ছাড়পত্র পাওয়ার পরও শিশুটির গুরুতর ও স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতি এবং স্নায়বিক জটিলতা রয়েছে। সে এখনো নিজে নিজে হাঁটতে পারে না এবং তার কথা বলার সক্ষমতাও ফিরে আসেনি। পরিবারের দাবি, পুলে ডুবে যাওয়ার ঘটনা ছাড়াও মর্গে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকার কারণে তার শারীরিক ক্ষতি আরও বেড়ে থাকতে পারে। শিশুটির চিকিৎসা ও মৃত্যুঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়ে চিকিৎসক তুসির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করছে পরিবার। তাদের আইনজীবী জানিয়েছেন, হাসপাতাল ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পরবর্তী সপ্তাহে মামলা করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, চিকিৎসকের আইনজীবী বলেছেন, তার মক্কেল শিশুটি ও তার পরিবারের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং ভিনসেন্টের সুস্থতা কামনা করছেন। চলমান আইনি প্রক্রিয়া ও রোগীর গোপনীয়তার কারণে চিকিৎসার বিস্তারিত বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। হাসপাতাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিগনিটি হেলথ এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছে। রোগীর গোপনীয়তার কথা জানিয়ে তারা চিকিৎসাসেবার বিস্তারিত নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, রোগীর নিরাপত্তা ও মানসম্মত চিকিৎসা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। গিলবার্ট পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তদন্তে চিকিৎসাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তাই হাসপাতালের কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ পাঠানো হয়নি। তবে বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এর আগে শিশুটিকে যথাযথভাবে নজরদারিতে না রাখার অভিযোগে তার মা-বাবার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনার সুপারিশ করেছিল পুলিশ। কিন্তু মারিকোপা কাউন্টির অ্যাটর্নি কার্যালয় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেনি। তদন্তে বাড়িতে শিশু-সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং একাধিক প্রাপ্তবয়স্কের উপস্থিতির বিষয়ও উঠে আসে। সূত্র: এবিসি নিউজ, এবিসি১৫ অ্যারিজোনা।
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির গির্জা থেকে ক্রুশ, রুপার পানপাত্র ও যিশুর মূর্তি চুরি
ম্যাপে আটলান্টিকের নাম বদলে নিজের নাম বসাতে গুগল সিইওকে ফোন করেছিলেন ট্রাম্প
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসীকে বহিষ্কার
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের ঐতিহাসিক শহর টোপেকায় নতুন বাসিন্দা আকৃষ্ট করতে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলারের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। ‘চুজ টোপেকা’ নামের এই কর্মসূচির মাধ্যমে শহরটিতে বসবাস ও কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য স্থানান্তর ব্যয়ের সহায়তা দেওয়া হয়। তবে শুধু সেখানে চলে গেলেই এই অর্থ পাওয়া যাবে না। সুবিধা পেতে হলে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং শাওনি কাউন্টির কোনো অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। নিউইয়র্ক পোস্টের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টোপেকা শহরের জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৪১। শহরটিতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে এমন পদে লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে এই প্রণোদনা বিশেষভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে। যেসব পদে প্রয়োজনীয় দক্ষতা, শিক্ষা বা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মী খুঁজে পাওয়া কঠিন, সেগুলোর জন্য নিয়োগদাতারা এ ধরনের সুবিধা দিতে পারেন। কর্মসূচিতে বর্তমানে ৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে বলে এর পরিচালনাকারী সংস্থা জানিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় অর্থের পরিমাণ নির্ভর করে চাকরির ধরন, নিয়োগদাতার অংশগ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট পদের শর্তের ওপর। নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানই কর্মীকে প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এরপর কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনার একটি অংশ ফেরত দেওয়া হয়। তাই ১৫ হাজার ডলার সবার জন্য নির্ধারিত বা নিশ্চিত অর্থ নয়। নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতার সঙ্গে প্রণোদনার পরিমাণ ও শর্ত যাচাই করা জরুরি। কর্মসূচির সাধারণ আবেদনকারীদের শাওনি কাউন্টিতে পূর্ণকালীন চাকরি পেতে হবে এবং সেখানে গিয়ে বসবাস করতে হবে। বাড়ি কেনা কিংবা ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমার শর্ত রয়েছে। আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে কাজ করার যোগ্য হতে হবে। তবে সব নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা দেয় না। কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রণোদনা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই; নিয়োগদাতা ও সংশ্লিষ্ট পদের জন্য কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ থাকা প্রয়োজন। আগে শাওনি কাউন্টিতে বসবাস করতেন, পরে অন্যত্র চলে গেছেন এবং এখন আবার ফিরে আসতে চান, এমন ব্যক্তিদের জন্যও রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। কর্মসূচিতে তাঁদের ‘বুমেরাং’ আবেদনকারী বলা হয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণত শাওনি কাউন্টির নিয়োগদাতার কাছ থেকে বছরে অন্তত ৫০ হাজার ডলারের বেতনের চাকরির প্রমাণ এবং কাউন্টিতে বাড়ি কেনার প্রমাণ দিতে হয়। আবেদনটি স্থায়ীভাবে সেখানে বসবাস শুরু করার আগেই জমা দিতে হবে। এই বিশেষ ব্যবস্থায় এক পরিবারের একজনই প্রণোদনা পেতে পারেন। কানসাস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী টোপেকা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। ১৯৫৪ সালে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ‘ব্রাউন বনাম বোর্ড অব এডুকেশন’ মামলায় সরকারি বিদ্যালয়ে বর্ণের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের আলাদা রাখাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। মামলাটি টোপেকার একটি বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল। ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি শহরটিতে রয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও পর্যটন আকর্ষণ, যা নতুন বাসিন্দাদের কাছে শহরটিকে আরও পরিচিত করে তুলেছে। শহরটিতে বসবাসের কথা ভাবছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য কর্মসূচির সরকারি ওয়েবসাইটে চাকরির সুযোগ, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও আবেদনের শর্ত যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চাকরির প্রস্তাব, প্রণোদনার পরিমাণ এবং বাড়ি কেনা বা ভাড়া নেওয়ার শর্ত লিখিতভাবে নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য শুধু জনসংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীসংকট মোকাবিলা এবং শাওনি কাউন্টিতে দীর্ঘমেয়াদি বসবাস ও কর্মসংস্থান উৎসাহিত করা। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, চুজ টোপেকার সরকারি ওয়েবসাইট।
প্যাটারসন রেন্ট লেভেলিং বোর্ডের নতুন কমিশনার হিসেবে শপথ নিলেন শাহরিয়ার সারওয়ার
৫০ হাজারের বেশি মার্কিন করদাতাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর ফেরত দিচ্ছে আইআরএস, সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার