- প্রচ্ছদ
- Topic
বাড়ির দাম
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ির দাম ও বন্ধকি ঋণের সুদহার বাড়তে থাকায় বড় শহরে বাড়ি কেনা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে দেশটির কিছু শহরে এখনো তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও আবাসনের চাহিদা বাড়ছে। ফলে আগামী দিনে এসব এলাকায় বাড়ির দাম আরও বাড়তে পারে। সম্প্রতি ট্রাভেল + লেজার-এর এক প্রতিবেদনে রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতামত ও স্থানীয় আবাসন বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন ৯টি শহরের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব, মধ্য-পশ্চিম ও পশ্চিমাঞ্চলের শহর রয়েছে। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোতে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ১৪ লাখ ডলার এবং মায়ামিতে তা প্রায় ৬ লাখ ডলারের কাছাকাছি। এর তুলনায় তালিকার শহরগুলোতে এখনো তুলনামূলক কম দামে বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। র্যালি, নর্থ ক্যারোলাইনা তালিকার শীর্ষে রয়েছে নর্থ ক্যারোলাইনার র্যালি। বিশেষ করে শহরের উত্তরাঞ্চল নর্থ র্যালিকে সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে দেখছেন রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী রায়ান স্মিথ। তার মতে, প্রযুক্তি খাতের নতুন উদ্যোগ, বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প এবং উচ্চ সম্পদশালী মানুষের আগমনের কারণে ওই এলাকায় আবাসনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সময়ে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় বাড়ির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, র্যালিতে গড় বাড়ির মূল্য এখন ৫ লাখ ডলারের কিছুটা কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সম্প্রসারণের সঙ্গে আবাসনের চাহিদা বাড়তে থাকলে শহরটির তুলনামূলক সাশ্রয়ী অবস্থান বেশিদিন নাও থাকতে পারে। গ্র্যান্ড র্যাপিডস, মিশিগান মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিডসে ২০২০ সালের পর বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তারপরও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের বড় শহরগুলোর মধ্যে এটি এখনো তুলনামূলক সাশ্রয়ী। এখানে গড় বাড়ির মূল্য ৩ লাখ ডলারের কিছু বেশি। শহরটির রেস্তোরাঁ, সংস্কৃতি, শিল্পচর্চা, হাঁটার উপযোগী এলাকা এবং বাইরে সময় কাটানোর সুযোগ তরুণ ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। ফলে জীবনযাত্রার মান ও বাড়ির তুলনামূলক কম দামের সমন্বয় ভবিষ্যতে আবাসনের চাহিদা আরও বাড়াতে পারে। গ্রিনভিল, সাউথ ক্যারোলাইনা সাউথ ক্যারোলাইনার গ্রিনভিলও বিশেষজ্ঞদের নজরে রয়েছে। শহরটির কাছে পাহাড়, বিকশিত শহরকেন্দ্র এবং বাড়তে থাকা স্বাস্থ্যসেবা খাত রয়েছে। পাশাপাশি মিশেলিন নর্থ আমেরিকার সদর দপ্তরও এখানে অবস্থিত। রেড বার্ন হোমবায়ার্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা কেন করসিনি বলেন, মানুষ শুধু কম দামের কারণে গ্রিনভিলে যাচ্ছে না। উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগই অনেককে শহরটির দিকে টানছে। ফলে বাড়ির দাম বাড়লেও ভবিষ্যতে চাহিদা শক্তিশালী থাকতে পারে। গত এক বছরে গ্রিনভিলে গড় বাড়ির মূল্য ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্পোকেন, ওয়াশিংটন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন খুঁজছেন এমন ক্রেতাদের জন্য ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেনকে সম্ভাবনাময় শহর হিসেবে ধরা হচ্ছে। স্পোকেনে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৪ লাখ ডলার। একই অঙ্গরাজ্যের সিয়াটলের তুলনায় এটি অনেক কম। বিশেষ করে প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপন পছন্দ করেন এবং সিয়াটলের উচ্চ বাড়ির দাম বহন করতে পারছেন না, এমন ক্রেতাদের কাছে স্পোকেন আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। চ্যাটানুগা, টেনেসি টেনেসির চ্যাটানুগাও তালিকায় রয়েছে। শহরটির বিশেষ আকর্ষণ হলো প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপন, বিকশিত শহরকেন্দ্র এবং তুলনামূলক কম বাড়ির দাম। কেন করসিনির মতে, কোনো শহরে যদি কর্মসংস্থান বাড়ে, বাইরে সময় কাটানোর সুযোগ থাকে এবং একই সঙ্গে আবাসন তুলনামূলক সাশ্রয়ী থাকে, তাহলে সেই বাজারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ভালো হতে পারে। চ্যাটানুগায় গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ডলার। এর তুলনায় কাছের বড় শহর ন্যাশভিলে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। ফলে ন্যাশভিলের উচ্চ আবাসন ব্যয়ের কারণে অনেক ক্রেতা চ্যাটানুগার দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। রিচমন্ড, ভার্জিনিয়া ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে ইতোমধ্যে বাড়ির বাজার বেশ প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, শহরটিতে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। এখানে একটি বাড়ি বিক্রির চুক্তিতে যেতে গড়ে প্রায় ছয় দিন সময় লাগছে এবং প্রায় অর্ধেক বাড়ি তালিকাভুক্ত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ঐতিহাসিক আবাসিক এলাকা, খাবার ও শিল্প-সংস্কৃতির পরিবেশ, বিনোদনের সুযোগ এবং বৈচিত্র্যময় অর্থনীতি নতুন বাসিন্দাদের আকৃষ্ট করছে। ওয়াশিংটন ডিসি ও উত্তর ভার্জিনিয়ার তুলনায় রিচমন্ড এখনো তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় ভবিষ্যতে এর চাহিদা আরও বাড়তে পারে। এথেন্স, জর্জিয়া জর্জিয়ার এথেন্সে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে বড় শিক্ষার্থী জনগোষ্ঠী রয়েছে। এই শিক্ষার্থী আবাসন বাজারে বাড়ির চাহিদা স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় নতুন উন্নয়ন অব্যাহত থাকলেও সেখানে নির্মাণের জন্য জমির পরিমাণ সীমিত। বর্তমানে রিয়েল্টর ডটকমের হিসাবে বাজারটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত বছরের তুলনায় মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলারে নেমেছে। এতে ক্রেতাদের দর-কষাকষির কিছুটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় বাড়ির দাম আবারও বাড়তে পারে বলে কেন করসিনি মনে করেন। হিউস্টন, টেক্সাস টেক্সাসের হিউস্টন দেশটির বড় শহরগুলোর মধ্যে তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন বাজারের একটি। সম্প্রতি ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো শহরটিতে বাড়ির দাম কমেছে। বর্তমানে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার ডলার। তবে হিউস্টনের বাজারকে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির দিকে এগোচ্ছে এমন বলা হচ্ছে না। তারপরও রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ কারেন কোস্টিউ শহরটির সম্ভাবনাকে শক্তিশালী বলে মনে করছেন। তার মতে, মহাকাশ, প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি, জ্বালানি, বাণিজ্য, উৎপাদন ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যবসা বাড়ছে। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশও শহরটির আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। এর পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর কারণে হিউস্টনে খাবার, শিল্প ও সংস্কৃতিরও শক্তিশালী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সিনসিনাটি, ওহাইও ওহাইওর সিনসিনাটিকে আবাসন কেনার ক্ষেত্রে অন্যতম সম্ভাবনাময় শহর হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজ্যের সিনসিনাটি ও ক্লিভল্যান্ড তরুণ বাসিন্দা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আকৃষ্ট করছে মূলত তুলনামূলক কম আবাসন ব্যয়, বিদ্যমান বাড়ির বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন এলাকার পুনর্গঠনের কারণে। সিনসিনাটিতে গড় বাড়ির মূল্য এখনো ২ লাখ ডলারের মাঝামাঝি। ঐতিহাসিক এলাকা, পেশাদার ক্রীড়া দল, রেস্তোরাঁ ও পানীয় সংস্কৃতি এবং বাড়তে থাকা শিল্প-সংস্কৃতির পরিবেশ শহরটির ভাবমূর্তি বদলে দিচ্ছে। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় চাহিদা বাড়তে থাকলে বর্তমানে যে তুলনামূলক সাশ্রয়ী সুযোগ রয়েছে, তা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের এই তালিকা কোনো শহরের বাড়ির দাম নিশ্চিতভাবে কতটা বাড়বে, তার পূর্বাভাস নয়। বরং কর্মসংস্থান, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাসনের সরবরাহ, জীবনযাত্রার মান এবং আশপাশের ব্যয়বহুল শহর থেকে মানুষের স্থানান্তরের মতো বিষয় বিবেচনা করে সম্ভাবনাময় বাজারগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। ট্রাভেল + লেজারের প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় ১৩ আগস্ট ২০২৬। প্রতিবেদনের জন্য রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতামতের পাশাপাশি স্থানীয় আবাসন বাজারের তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে যারা বাড়ি কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য র্যালি, গ্র্যান্ড র্যাপিডস, গ্রিনভিল, স্পোকেন, চ্যাটানুগা, রিচমন্ড, এথেন্স, হিউস্টন ও সিনসিনাটি নজরে রাখার মতো বাজার হতে পারে। তবে কোনো শহরে বাড়ি কেনার আগে স্থানীয় কর, বন্ধকি ঋণের সুদ, বীমা, সম্পত্তির কর, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ আবাসন সরবরাহসহ আরও অনেক বিষয় যাচাই করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকদের হাতে থাকা আবাসন সম্পদের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে বাড়ির মালিক হিসেবে কতটা সম্পদ গড়ে উঠেছে, তা অঙ্গরাজ্যভেদে ব্যাপকভাবে আলাদা। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে হাওয়াই ও ক্যালিফোর্নিয়া। ঋণভিত্তিক আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান লেন্ডিংট্রির (LendingTree) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির মালিকদের মোট আবাসন-সম্পদের নিট মূল্য বা হোম ইকুইটি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইকুইটি রয়েছে হাওয়াইয়ের বাড়ির মালিকদের। লেন্ডিংট্রি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত তাদের প্ল্যাটফর্মে করা প্রায় ৯ লাখ ৬৭ হাজার বেনামি হোম ইকুইটি-সংক্রান্ত অনুসন্ধানের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব করেছে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির মালিকেরা কত ইকুইটি থাকার কথা জানিয়েছেন, তার মধ্যম মান বা মিডিয়ান এবং অন্তত ২ লাখ ডলার ইকুইটি রয়েছে এমন অনুসন্ধানের অনুপাত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, হাওয়াইয়ে বাড়ির মালিকদের মধ্যম হোম ইকুইটি ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার। একই সঙ্গে হাওয়াইয়ের ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ অনুসন্ধানকারী জানিয়েছেন, তাদের বাড়িতে অন্তত ২ লাখ ডলার ইকুইটি রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া। অঙ্গরাজ্যটিতে মধ্যম হোম ইকুইটি ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ অনুসন্ধানকারীর ইকুইটি অন্তত ২ লাখ ডলার। তৃতীয় ম্যাসাচুসেটসে মধ্যম ইকুইটি ৩ লাখ ৪৫ হাজার ডলার। সেখানে ৭৮ দশমিক ৪ শতাংশ অনুসন্ধানকারী ২ লাখ ডলার বা তার বেশি ইকুইটির কথা জানিয়েছেন। শীর্ষ দশে এরপর রয়েছে ইউটা, নিউ জার্সি, ওয়াশিংটন, রোড আইল্যান্ড, নিউ হ্যাম্পশায়ার, কলোরাডো এবং আইডাহো। ইউটায় মধ্যম ইকুইটি ৩ লাখ ডলার। নিউ জার্সি ও ওয়াশিংটনে তা ২ লাখ ৯৫ হাজার ডলার। রোড আইল্যান্ডে ২ লাখ ৮৫ হাজার, নিউ হ্যাম্পশায়ারে ২ লাখ ৭৫ হাজার, কলোরাডোতে ২ লাখ ৫৫ হাজার এবং আইডাহোতে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম মধ্যম হোম ইকুইটির অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও আইওয়া। উভয় অঙ্গরাজ্যেই মধ্যম ইকুইটি ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় মাত্র ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং আইওয়ায় ৩৪ শতাংশ অনুসন্ধানকারী অন্তত ২ লাখ ডলার ইকুইটির কথা জানিয়েছেন। হোম ইকুইটি বলতে একটি বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য থেকে ওই বাড়ির বিপরীতে বকেয়া বন্ধকি ঋণের পরিমাণ বাদ দিলে যে অংশ থাকে, সেটিকে বোঝায়। অর্থাৎ কোনো বাড়ির বর্তমান মূল্য যদি ৫ লাখ ডলার হয় এবং সেই বাড়ির বিপরীতে ২ লাখ ডলার বন্ধকি ঋণ বাকি থাকে, তাহলে মালিকের হোম ইকুইটি হবে ৩ লাখ ডলার। করোনাভাইরাস মহামারির পর যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ির দামের বড় উল্লম্ফন বাড়ির মালিকদের ইকুইটি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সময়ে উচ্চ সুদের হার ও বাড়ির দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে যারা আগে থেকেই বাড়ির মালিক ছিলেন, তাদের অনেকেই নিজেদের বাড়ির মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সম্পদ তৈরি করতে পেরেছেন। ফেডারেল রিজার্ভের ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর মালিকানাধীন আবাসিক রিয়েল এস্টেটের মোট মূল্য ছিল ৪৮ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বাড়ির বিপরীতে বন্ধকি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এই দুই হিসাবের পার্থক্য থেকেই প্রায় ৩৪ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের হোম ইকুইটি পাওয়া যায়। তবে এই সম্পদের সুবিধা সারা দেশে সমান নয়। লেন্ডিংট্রির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পশ্চিমাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে বাড়ির মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ির প্রতি বর্গফুটের গড় দাম ৯৭ ডলার থেকে বেড়ে ১৬৯ ডলারে পৌঁছেছে। পশ্চিমাঞ্চলে এই বৃদ্ধি ছিল আরও বেশি প্রায় ১০৫ শতাংশ, ফলে ২০২৪ সালে সেখানে প্রতি বর্গফুটের দাম দাঁড়ায় ২২৪ ডলার। অন্যদিকে, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে একই সময়ে প্রতি বর্গফুটের দাম বেড়েছে ৬৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে তা ১৬৫ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে কোথায় বাড়ি কেনা হয়েছে, কখন কেনা হয়েছে এবং বর্তমানে সেই বাড়ির মূল্য কত এসব বিষয় একজন মালিকের গড়ে ওঠা সম্পদের পরিমাণে বড় পার্থক্য তৈরি করছে। লেন্ডিংট্রির প্রধান ভোক্তা অর্থনীতি বিশ্লেষক ম্যাট শুলজ বলেন, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মধ্যে বিশাল পার্থক্যই দেখিয়ে দেয় যে বাড়ির ইকুইটির চিত্র সবার জন্য এক নয়। কারও বাড়ি বড় আর্থিক নিরাপত্তা তৈরি করতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে পাওয়া আর্থিক সুবিধার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। বাড়ির মালিকেরা চাইলে এই ইকুইটির বিপরীতে ঋণ নিয়ে বাড়ির সংস্কার, বড় ধরনের খরচ বা উচ্চ সুদের ঋণ একত্র করার মতো কাজে অর্থ ব্যবহার করতে পারেন। তবে ইকুইটির বিপরীতে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকিও রয়েছে। ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাড়িটি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। লেন্ডিংট্রির তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত ঋণদাতারা বাড়ির মূল্যের একটি অংশ পর্যন্ত ধার দেওয়ার অনুমতি দেয়। এদিকে বাড়ির মালিকেরা সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের এই বাড়তি সম্পদের একটি অংশ নগদে রূপান্তরও করছেন। ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জের (ICE) জুন ২০২৬ মর্টগেজ মনিটর অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাড়ির মালিকদের ইকুইটি থেকে অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ ২০২১ সালের পর প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বছরের তুলনায় ইকুইটি উত্তোলন ২ শতাংশ বেড়েছে এবং এর অর্ধেকের বেশি, প্রায় ৫৪ শতাংশ, এসেছে দ্বিতীয় পর্যায়ের ঋণ বা সেকেন্ড-লিয়েনের মাধ্যমে। অর্থাৎ মহামারির পর বাড়ির দাম বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বহু পুরোনো বাড়ির মালিকের হাতে বড় অঙ্কের সম্পদ তৈরি হলেও, সেই সম্পদের পরিমাণ কোথায় বাড়ি রয়েছে তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে। বিশেষ করে হাওয়াই, ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউ ইংল্যান্ডের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির মালিকেরা তুলনামূলকভাবে বেশি ইকুইটি ধরে রেখেছেন। বিপরীতে মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে সেই পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম। লেন্ডিংট্রির এই গবেষণা অবশ্য পুরো যুক্তরাষ্ট্রের সব বাড়ির মালিকের সরাসরি জরিপ নয়; এটি তাদের প্ল্যাটফর্মে করা প্রায় ৯ লাখ ৬৭ হাজার বেনামি হোম ইকুইটি-সংক্রান্ত অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তাই অঙ্গরাজ্যভিত্তিক এই পরিসংখ্যানকে ওই প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীদের রিপোর্ট করা ইকুইটির মধ্যম মান হিসেবে দেখা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রে সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ির সংকট কাটাতে নতুন নির্মাণ বাড়ানো প্রয়োজন হলেও উল্টো কমছে বাড়ি তৈরির গতি। জুলাইয়ে একক পরিবারের নতুন বাড়ি নির্মাণের হার আগের মাসের তুলনায় ৯ দশমিক ৯ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৮ লাখ ৮ হাজার ইউনিটে নেমে এসেছে বলে মার্কিন জনগণনা ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এটি ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সবচেয়ে কম পর্যায়ের হার। একক পরিবারের বাড়িই যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন নির্মাণের সবচেয়ে বড় অংশ। ফলে এই খাতে এমন পতন আবাসন সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই মাসে অ্যাপার্টমেন্টসহ সব ধরনের নতুন আবাসিক ইউনিটের নির্মাণ শুরুর হারও কমেছে বলে সরকারি তথ্যে উঠে এসেছে। এর পেছনে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে রয়েছে বাড়ি কেনার ঋণের উচ্চ সুদ। ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাজারে প্রবেশ না করে অপেক্ষা করছেন। অন্যদিকে নির্মাণসামগ্রী, শ্রম ও জমির ব্যয়ও বেশি থাকায় নির্মাতাদের জন্য কম দামে নতুন বাড়ি বাজারে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে। জাতীয় আবাসন নির্মাতা সমিতি বা এনএএইচবির সাম্প্রতিক তথ্যও একই ধরনের চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগস্টে নতুন একক পরিবারের বাড়ি নির্মাণ নিয়ে নির্মাতাদের আস্থা এক পয়েন্ট বেড়ে ৩৫ হয়েছে। তবে সূচকটি ৫০-এর নিচে থাকায় সামগ্রিকভাবে নির্মাতাদের বড় অংশ এখনো বাজার পরিস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন না। আগস্ট ছিল টানা ১৬তম মাস, যখন এই সূচক ৪০-এর নিচে রয়েছে। জুলাইয়ে নির্মাতাদের আস্থার সূচক ছিল ৩৪। তখন বর্তমান বিক্রয় পরিস্থিতির সূচক ৩৭, আগামী ছয় মাসের বিক্রয় প্রত্যাশা ৪৩ এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের যাতায়াতের সূচক ছিল মাত্র ২৩। অর্থাৎ বাড়ি কিনতে আগ্রহী মানুষের উপস্থিতিও তুলনামূলক দুর্বল ছিল। বাড়ির দামও ক্রেতাদের জন্য বড় বাধা হয়ে আছে। জাতীয় পর্যায়ে বাড়ির দাম উচ্চ অবস্থানে থাকায় কম সুদের ঋণের জন্য অপেক্ষা করছেন অনেক ক্রেতা। ফলে একদিকে বাড়ির প্রয়োজন ও চাহিদা রয়েছে, অন্যদিকে বর্তমান দামে অনেক পরিবারের পক্ষে বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর দেশটির আবাসন নির্মাণ খাত বড় ধাক্কা খায়। বহু নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ব্যবসা বন্ধ করে, কর্মীরা খাতটি ছেড়ে যান এবং নতুন প্রকল্পে ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে কয়েক বছর ধরে প্রয়োজনের তুলনায় কম বাড়ি নির্মাণ হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় সুদের হার ঐতিহাসিকভাবে কমে যাওয়ার পর বাড়ি কেনার চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। কিন্তু তখনও বাজারে পর্যাপ্ত বাড়ি ছিল না। সীমিত সরবরাহের বিপরীতে ক্রেতাদের প্রতিযোগিতা বাড়ায় বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির দাম দ্রুত বেড়ে যায়। মহামারির পর নির্মাণ কিছুটা বাড়লেও দীর্ঘদিনের ঘাটতি এখনো কাটেনি। ফ্রেডি ম্যাকের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৩৭ লাখ বাড়ির ঘাটতি রয়েছে। আবাসন সংকটের আকার নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব ভিন্ন হলেও, পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাব যে বাজারের বড় সমস্যা, তা নিয়ে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে। অন্যদিকে নির্মাতাদের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা জটিল। দেশে বাড়ির ঘাটতি থাকলেও ক্রেতারা বর্তমান দামে পর্যাপ্ত বাড়ি কিনতে পারছেন না। ফলে নতুন বাড়ি নির্মাণ করে বিক্রি না হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এতে নির্মাতারা নতুন প্রকল্প শুরু করার ক্ষেত্রে সতর্ক হয়ে পড়ছেন। এনএএইচবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ৩৭ শতাংশ নির্মাতা বাড়ির দাম কমিয়েছিলেন। গড়ে দাম কমানোর হার ছিল ৬ শতাংশ। একই সময়ে ৬৩ শতাংশ নির্মাতা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ধরনের বিক্রয় সুবিধা বা প্রণোদনা দিয়েছেন। আগস্টেও নির্মাতাদের মধ্যে এই চাপ পুরোপুরি কাটেনি। এনএএইচবির চেয়ারম্যান বিল ওওয়েন্স বলেন, উচ্চ নির্মাণ ব্যয় ও আবাসনের সামর্থ্যসংক্রান্ত চাপ নির্মাতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। উচ্চ বন্ধকি ঋণের হার সম্ভাব্য ক্রেতাদের বাজারের বাইরে রাখছে, আর নির্মাণসামগ্রী, জ্বালানি ও অন্যান্য ব্যয় বাড়ায় ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে বাড়ি তৈরি করা কঠিন হয়ে উঠছে। তবে পুরো চিত্রই নেতিবাচক নয়। জুলাইয়ে আবাসিক ভবনের নির্মাণ অনুমোদনের হার বেড়েছে। জনগণনা ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মোট নির্মাণ অনুমোদন বার্ষিক হিসাবে প্রায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার ইউনিটে উঠেছে। একক পরিবারের বাড়ির অনুমোদনও বেড়েছে। অর্থাৎ নির্মাতাদের একটি অংশ ভবিষ্যতের চাহিদা নিয়ে এখনো পুরোপুরি আশাহত হননি। এখানে নির্মাণ অনুমোদন এবং নির্মাণ শুরু হওয়ার মধ্যে পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বাড়ির নির্মাণ অনুমোদন পাওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে নির্মাণ শুরু হয়ে গেছে এমন নয়। ফলে অনুমোদন বাড়লেও প্রকৃত নির্মাণ শুরু হতে সময় লাগতে পারে। আবাসন বাজারের এই চাপ শুধু বাড়ি নির্মাতা বা ক্রেতাদের বিষয় নয়। নতুন বাড়ির সরবরাহ কম থাকলে পুরোনো বাড়ির বাজারেও চাপ তৈরি হতে পারে। আবার বাড়ির দাম দীর্ঘদিন উচ্চ থাকলে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে। বিশেষ করে তরুণ পরিবার ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনার সামর্থ্য এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋণের সুদ, ডাউন পেমেন্ট, বাড়ির মূল্য এবং মাসিক কিস্তি সব মিলিয়ে বাড়ি কেনার মোট খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজার এখন এক ধরনের বৈপরীত্যের মধ্যে রয়েছে। একদিকে দেশটির দীর্ঘমেয়াদি বাড়ির ঘাটতি পূরণ করতে আরও নির্মাণ প্রয়োজন, অন্যদিকে উচ্চ সুদ ও নির্মাণ ব্যয়ের কারণে নির্মাতারা নতুন প্রকল্পে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। ক্রেতাদের সামর্থ্য না বাড়লে শুধু নির্মাণ বাড়ালেই সমস্যার পুরো সমাধান হবে না। আগামী মাসগুলোতে বন্ধকি ঋণের সুদ, নির্মাণসামগ্রীর দাম, বাড়ির বিক্রি এবং নির্মাতাদের আস্থার সূচক আবাসন বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের দুর্বল নির্মাণের পরও নির্মাণ অনুমোদনের কিছুটা উন্নতি বাজারে সম্ভাব্য পুনরুদ্ধারের আশা ধরে রেখেছে।
নিউইয়র্কের আপস্টেটের শহর ইউটিকায় যেন চলছে নতুন বাসিন্দা খোঁজার এক মরিয়া চেষ্টা। নিউইয়র্ক সিটির আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিপরীতে এই শহরটি নীরবে রাজ্যের অন্যতম সাশ্রয়ী আবাসন বাজারে পরিণত হয়েছে। একাধিক মার্কেট ট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী, এলাকাভেদে এখানকার একেকটি বাড়ির গড় মূল্য মাত্র ৮৭ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের মধ্যে। মাসিক ভাড়াও শুরু হয় মাত্র ৯০০ ডলার থেকে। সামগ্রিকভাবে নিউইয়র্ক রাজ্যের গড়ের চেয়ে ইউটিকার জীবনযাত্রার ব্যয় প্রায় ২৮ থেকে ৩৩ শতাংশ কম। নিউইয়র্ক সিটির লাগামহীন ব্যয়ের কারণে যারা শহর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের কাছে এই পরিসংখ্যানকে স্বপ্নের মতো মনে হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটি থেকে চার ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এই শহরে জীবনযাত্রার খরচ এত কম হওয়া সত্ত্বেও একটি বড় প্রশ্ন থেকেই যায়—কেন এই শহরের জনসংখ্যা ক্রমশ কমছে? জিলো (Zillow)-এর তথ্যমতে, গত এক বছরে ইউটিকার বাড়ির দাম প্রায় ৯ শতাংশ বাড়লেও এখানকার একটি বাড়ির গড় দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৪১২ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ে একটি বাড়ির গড় মূল্য যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার, সেখানে ইউটিকার এই দামকে নিতান্তই নগণ্য বলা চলে। শহরের আবাসন বাজারের এই সস্তা দরের বেশ কিছু বাস্তব উদাহরণ রয়েছে। স্প্রিং স্ট্রিট ওয়েস্টে অবস্থিত পাঁচ বেডরুম ও এক বাথরুমের একটি সিঙ্গেল-ফ্যামিলি বাড়ির তালিকাভুক্ত মূল্য মাত্র ৮৯ হাজার ৯০০ ডলার। এছাড়া তিন বেডরুমের একটি বাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৯৯ হাজার ৯০০ ডলারে। শহরের একটু দামি এলাকার কথা বিবেচনা করলেও, মোহক স্ট্রিটে ২ হাজার ৫৩২ স্কয়ার ফুটের পাঁচ বেডরুম ও আড়াই বাথরুমের একটি বাড়ির দাম হাঁকা হয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ ডলার। কিন্তু মুদ্রার উল্টোপিঠের চিত্রটা বেশ হতাশাজনক। এত সস্তায় আবাসন সুবিধা পাওয়ার পরও মানুষ ইউটিকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। বর্তমানে শহরটির জনসংখ্যা বছরে প্রায় ০.৭৪ শতাংশ হারে কমছে। ২০২০ সালের আদমশুমারির পর থেকে শহরটির জনসংখ্যা ৪ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির বাইরের আপস্টেট মিউনিসিপ্যালিটিগুলোর মধ্যে ইউটিকা থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ স্থানান্তর হয়েছে, যার সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোহক ভ্যালির এক প্রবীণ রিয়েল এস্টেট এজেন্ট এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, "এটি হয়তো আপনার কেনা সবচেয়ে সস্তা বাড়ি হবে, কিন্তু আপনার সন্তানদের এখানে থাকার জন্য রাজি করানোটা হবে সবচেয়ে কঠিন কাজ।" সাউদার্ন টিয়ার বা ক্যাপিটাল রিজিয়নের সাথে ইউটিকার তুলনা করে সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে তিনি পরিস্থিতিটি এভাবেই তুলে ধরেন। তার মতে, "এখানে বাড়ির দাম কোনো সমস্যা নয়। দাম ছাড়া বাকি সবকিছুই আসলে সমস্যা।" শহরবাসীর এই প্রস্থানের শেকড় লুকিয়ে আছে কয়েক দশক আগের ইতিহাসে। ‘রাস্ট বেল্ট’ এলাকার অন্যান্য শহরের মতো ইউটিকাকেও শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে। জেনারেল ইলেকট্রিক (GE) এবং লকহিড মার্টিনের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কারখানা বন্ধ করে শহরতলিতে চলে যাওয়ার ফলে ইউটিকা তার মূল অর্থনৈতিক শক্তি হারিয়ে ফেলে। বিপুল সংখ্যক চাকরি হারানোর কারণে শহরের কর রাজস্ব কমে যায় এবং অনেক বাসিন্দা চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়েন। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউটিকার মানুষের ব্যক্তিগত আয়ের মধ্যমা (মিডিয়ান ইনকাম) ছিল মাত্র ৩০, ৭৮৫ ডলার, যেখানে একটি পরিবারের আয়ের মধ্যমা প্রায় ৫২,০০০ ডলার; যা নিউইয়র্ক রাজ্যের গড়ের চেয়ে অনেক নিচে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের (Department of Labor) তথ্যানুযায়ী, এই শহরের বেকারত্বের হার ৪.৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এখানকার দারিদ্র্যের হার ২৭ শতাংশেরও বেশি, যা জাতীয় গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। অর্থনৈতিক এই দৈন্যদশার কারণেই মূলত সস্তায় বাড়ি পাওয়ার পরও মানুষ শহর ছাড়ছেন। সম্প্রতি নিজের বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করেছেন এমন এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "ব্রুকলিনে একটি বাড়ি কিনতে শুধু ডাউনপেমেন্ট হিসেবে যে টাকা দিতে হয়, সেই টাকায় আপনি এখানে আস্ত একটি বাড়ি পেয়ে যাবেন। কিন্তু ভাড়ায় খাটানোর জন্য বাড়ি কেনা যায়, এখানে নিজেরা থাকার কোনো কারণ কাউকে বোঝানোই এখানকার সবচেয়ে বড় সমস্যা।"
ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের প্রথম বাড়ি কেনার স্বপ্ন এখন আগের তুলনায় আরও দেরিতে পূরণ হচ্ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, অঙ্গরাজ্যটিতে অর্ধেক মানুষ প্রথমবারের মতো বাড়ির মালিক হতে পৌঁছে যাচ্ছেন ৪৭ বছর বয়সে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের বাকি অংশে একই মাইলফলক গড়ে অর্জিত হচ্ছে ৩৭ বছর বয়সে। অর্থাৎ, জাতীয় গড়ের তুলনায় ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের প্রায় এক দশক বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়া (পিপিআইসি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন বয়সে বাড়ির মালিকানার প্রবণতা পর্যালোচনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১৫ বছর আগেও ক্যালিফোর্নিয়ায় অর্ধেক মানুষ ৩৯ বছর বয়সের মধ্যেই নিজেদের বাড়ির মালিক হয়ে যেতেন। এখন সেই গড় বয়স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ বছরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির মূল্য বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার, ডাউন পেমেন্টের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড়ের কঠিন বাস্তবতা এবং সীমিত আবাসন সরবরাহ এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩০ বছরের অধিকাংশ সময় এবং ৪০ বছরের বড় একটি অংশ পর্যন্ত ভাড়াটিয়ার সংখ্যা বাড়ির মালিকদের তুলনায় বেশি। ফলে অনেকেই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ভাড়াবাসেই কাটাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বাড়ি কিনতে দেরি হওয়ার আরেকটি বড় প্রভাব পড়ছে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তায়। সাধারণত বাড়ির মূল্য বৃদ্ধি ও ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে যে সম্পদ বা ইকুইটি তৈরি হয়, তা গড়ে তুলতে মানুষের হাতে সময় কমে যাচ্ছে। এর ফলে অনেক ক্যালিফোর্নিয়াবাসী অবসর গ্রহণের বয়সেও গৃহঋণের কিস্তি পরিশোধ করে যাচ্ছেন। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় সামগ্রিকভাবে বাড়ির মালিকানার হার ৫৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় হার ৬৬ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে শুধু নিউইয়র্কের হার আরও কম, যা ৫৪ শতাংশ। জাতিগত বৈষম্যের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শ্বেতাঙ্গ ও এশীয় বংশোদ্ভূত বাসিন্দারা তুলনামূলক কম বয়সে বাড়ির মালিক হতে পারলেও কৃষ্ণাঙ্গ এবং লাতিনো জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রথম বাড়ি কেনার গড় বয়স বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এশীয়দের মধ্যে বাড়ির মালিক হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে আগে দেখা যায়। শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গেও বাড়ির মালিকানার সম্পর্ক রয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। যাদের অন্তত স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে, তারা সাধারণত অন্যদের তুলনায় কম বয়সেই প্রথম বাড়ি কিনতে সক্ষম হন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্যালিফোর্নিয়ায় নীতিগত বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। চলতি শরতে ভোটারদের সামনে এমন একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে, যার লক্ষ্য প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের ডাউন পেমেন্টে সহায়তা করা। পাশাপাশি নতুন আবাসন নির্মাণ বাড়ানো এবং যেসব পরিবার বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বড় বাধার মুখে পড়ছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তার বিষয়েও আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসন সংকট শুধু বাড়ি কেনার বিষয় নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদে পরিবারগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা, অবসর পরিকল্পনা এবং সম্পদ সৃষ্টির সক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তাই ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের জন্য কার্যকর নীতিগত সহায়তা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিলাসবহুল উপকূলীয় এলাকা হাম্পটনস-এ বাড়ির দাম আবারও নতুন রেকর্ড গড়েছে। সীমিত সংখ্যক বাড়ি বিক্রির জন্য বাজারে থাকা, ধনীদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওয়াল স্ট্রিটের উচ্চ বোনাসের প্রভাবে অঞ্চলটিতে আবাসন বাজারের মূল্য আরও বেড়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কভিত্তিক আবাসন মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান জনাথন মিলার অ্যাপ্রেইজাল প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, হাম্পটনসে একটি বাড়ির গড় বিক্রয়মূল্য এখন প্রায় ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো গড় মূল্য ৪০ লাখ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারের উচ্চমূল্যের আবাসন খাতে ক্রেতাদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বিলাসবহুল বাড়ির সরবরাহ সীমিত থাকায় দাম আরও দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবেদনটির প্রস্তুতকারী জনাথন মিলার বলেন, বাজারে কিছু নতুন বাড়ি বিক্রির জন্য এলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সরবরাহ এখনও অনেক কম। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র রয়েছে এবং অর্ধেকেরও বেশি বাড়ি বিক্রি হচ্ছে বিক্রেতার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি দামে। তার ভাষায়, "বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম বাড়ার ধারা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।" হাম্পটনসকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল আবাসিক এলাকা হিসেবে ধরা হয়। এই এলাকায় এখন ১৫ লাখ ডলারের কম দামে কার্যত কোনো বাড়িই পাওয়া যাচ্ছে না। সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন অবস্থান, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং নিউইয়র্ক শহরের নিকটবর্তী হওয়ায় বহু বছর ধরেই ধনী ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও হলিউড তারকাদের পছন্দের ঠিকানা এটি। পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, চলতি প্রান্তিকে হাম্পটনসের মধ্যম বাড়ির মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ লাখ ডলারে, যা গত বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। গত পাঁচ প্রান্তিকের মধ্যে এটি তৃতীয়বারের মতো নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে হাম্পটনসের বাইরে লং আইল্যান্ডের বাকি অংশেও বাড়ির দাম বাড়ছে, যদিও সেই বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে ধীর। সেখানে মধ্যম বাড়ির মূল্য গত বছরের ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ৭ লাখ ৬১ হাজার ডলারের বেশি হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে গড় বিক্রয়মূল্যও ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৯ লাখ ২২ হাজার ডলারে পৌঁছেছে, যা নতুন রেকর্ড। বিশ্লেষকদের মতে, হাম্পটনসের বিলাসবহুল আবাসন বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হচ্ছে ওয়াল স্ট্রিটের রেকর্ড পরিমাণ বোনাস। নিউইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলার থমাস ডিনাপোলির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ওয়াল স্ট্রিট প্রতিষ্ঠানের মুনাফা ৩০ শতাংশের বেশি বেড়ে ৬৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে কর্মীদের গড় বার্ষিক বোনাস বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। ফলে উচ্চ আয়ের ক্রেতারা এখন প্রচলিত গৃহঋণের ওপর নির্ভর না করে শেয়ারবাজারে অর্জিত সম্পদ এবং বোনাসের অর্থ ব্যবহার করে বাড়ি কিনছেন। এতে বিলাসবহুল আবাসনের বাজার আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হাম্পটনসে গত প্রান্তিকে ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের বাড়ি বিক্রির হার ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে লং আইল্যান্ডজুড়ে বিক্রি হওয়া প্রতি দুইটির মধ্যে একটিরও বেশি বাড়ি বিক্রেতার চাওয়া মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে, যা বাজারে শক্তিশালী চাহিদারই প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন উচ্চ আয়ের ক্রেতাদের চাহিদা অব্যাহত থাকবে এবং নতুন আবাসনের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়বে, ততদিন হাম্পটনসের আবাসন বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, জনাথন মিলার অ্যাপ্রেইজাল রিপোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা ও ভাড়া নেওয়ার ক্রমবর্ধমান খরচ কমাতে এবং দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিদলীয় বিল সিনেটে ব্যাপক সমর্থনে পাস হয়েছে। আইনপ্রণেতারা বলছেন, নতুন এই উদ্যোগ আবাসন সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে বাড়ির দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করবে। সোমবার সিনেটে ‘২১শ শতাব্দীর রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট’ ৮৫–৫ ভোটে পাস হয়। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের সমর্থন পাওয়া এই বিল এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো হবে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়ির দাম ও ভাড়া দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় আবাসন সংকট একটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিলটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় আবাসন নীতিগত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইনটিতে নতুন বাড়ি নির্মাণের পথে থাকা বিভিন্ন প্রশাসনিক বাধা কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, নতুন আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধি এবং কিছু ক্ষেত্রে একক পরিবারের বাড়ি কেনায় বড় কর্পোরেট বিনিয়োগকারীদের প্রভাব সীমিত করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিলটি চূড়ান্ত করার আগে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। পরে উভয় পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সংস্করণ তৈরি করা হয়। সিনেট ব্যাংকিং কমিটির চেয়ারম্যান টিম স্কট বলেন, বছরের পর বছর ধরে চলা কাজের ফল হিসেবে এই আইন আবাসন খরচ কমানো, সরবরাহ বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সিনেট ব্যাংকিং কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেন, নতুন আইন আবাসন নির্মাণে বিদ্যমান বাধা দূর করবে এবং বাজারে আরও বাড়ি যোগ করতে সহায়তা করবে। তার মতে, আবাসনকে শুধু বিনিয়োগের পণ্য হিসেবে না দেখে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি। হোয়াইট হাউসও বিলটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। বিশেষ করে একক পরিবারের বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বড় কর্পোরেট বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা সীমিত করার প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিলটিতে ৪৫টিরও বেশি ধারা রয়েছে। এর মধ্যে আবাসন নির্মাণে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা, পরিবেশগত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, উদ্ভাবনী আবাসন তহবিল গঠন এবং প্রবীণদের জন্য আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন বলেন, এই আইন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে এবং আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যেও এই বিলের পক্ষে ব্যাপক সমর্থন প্রমাণ করে যে আবাসন সংকট এখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ। বিলটি এখন প্রতিনিধি পরিষদে আলোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখানে অনুমোদন পেলে এটি আইনে পরিণত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি কেনা সাধারণ মানুষের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। উচ্চ সুদের হার, বাড়ির দাম বৃদ্ধি এবং সীমিত সরবরাহের পাশাপাশি এবার নতুন এক কারণ সামনে এসেছে। দেশটির আবাসন নির্মাতাদের শীর্ষ সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব হোম বিল্ডার্স (এনএএইচবি) বলছে, বিভিন্ন সরকারি বিধিনিষেধ, অনুমোদন প্রক্রিয়া, ফি ও প্রশাসনিক ব্যয়ের কারণে একটি নতুন একক-পরিবারের বাড়ির দামে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার ডলার অতিরিক্ত যোগ হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এনএএইচবির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নির্মিত একটি বাড়ির চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যের ২৬ দশমিক ৪ শতাংশই আসে বিভিন্ন ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের আরোপিত বিধিনিষেধ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয় থেকে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নির্মিত একটি বাড়ির গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ ডলার। সেই হিসাবে প্রতি বাড়িতে গড়ে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৪ ডলার ব্যয় সরাসরি বিভিন্ন সরকারি নিয়মকানুন, কর, অনুমোদন ফি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে যুক্ত হচ্ছে। এনএএইচবির গবেষকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২১ সালে একই ধরনের একটি বাড়ির ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধজনিত অতিরিক্ত ব্যয় ছিল প্রায় ৯৩ হাজার ৮৭০ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ব্যয় বাড়িয়েছে নির্মাণবিধি বা বিল্ডিং কোডে আনা পরিবর্তনগুলো। গত এক দশকে এসব বিধির পরিবর্তনের ফলে একটি নতুন বাড়ির নির্মাণ ব্যয় গড়ে ৪০ হাজার ২৮৮ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া আবাসন নির্মাতাদের বিভিন্ন পর্যায়ে জোনিং অনুমোদন, নির্মাণ অনুমতিপত্র, পরিদর্শন ফি, পরিবেশগত সমীক্ষা, যানবাহন চলাচল বিশ্লেষণ, ভূমি ব্যবহারের শর্ত, শ্রমবিষয়ক বিধিনিষেধ এবং প্রশাসনিক অনুমোদন পেতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এনএএইচবির প্রধান অর্থনীতিবিদ রবার্ট ডিয়েটজ এক বিবৃতিতে বলেন, ব্যয়বহুল এবং অকার্যকর নিয়ন্ত্রক নীতিমালা নতুন বাড়ি নির্মাণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, সরকারি বিধিনিষেধ, কর, ফি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় বর্তমানে একটি সাধারণ একক-পরিবারের বাড়ির মূল্যের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি অংশ জুড়ে রয়েছে। তিনি বলেন, “অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা কমানো, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসন নির্মাণে সীমাবদ্ধতা শিথিল করা এবং অকার্যকর জোনিং নীতির সংস্কার করা গেলে বাড়ির নির্মাণ ব্যয় কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আবাসন সংকট মোকাবিলায় নতুন বাড়ি নির্মাণও বাড়বে।” প্রতিবেদনের জরিপে অংশ নেওয়া আবাসন উন্নয়নকারীদের মধ্যে ৯৪ দশমিক ২ শতাংশ জানিয়েছেন, সরকারি বিধিনিষেধের কারণে তাদের প্রকল্পে বিলম্ব ঘটে। অন্যদিকে ৮৮ দশমিক ২ শতাংশ নির্মাতা বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রে তাদের এমন উন্নয়ন মানদণ্ড মেনে চলতে হয়, যা সাধারণ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হতো না। এনএএইচবির চেয়ারম্যান বিল ওয়েন্স বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১২ লাখ বাড়ির ঘাটতি রয়েছে। ফলে আবাসন বাজারে সরবরাহ বাড়াতে না পারলে এবং নির্মাণে বাধাগুলো দূর না করলে সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তিনি বলেন, “দেশজুড়ে বাড়ির যে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণ করতে হলে নির্মাণ খাতের সামনে থাকা বাধাগুলো দূর করতে হবে। অন্যথায় নির্মাতাদের আস্থা এবং নতুন বিনিয়োগের প্রবণতা দুর্বলই থাকবে।” আবাসন নির্মাণ খাতের বর্তমান পরিস্থিতিও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। এনএএইচবি ও ওয়েলস ফার্গো যৌথভাবে প্রকাশিত সর্বশেষ হাউজিং মার্কেট ইনডেক্স অনুযায়ী, জুন মাসে নির্মাতাদের আস্থা সূচক ৩৫-এ নেমে এসেছে। টানা ১৪ মাস ধরে এই সূচক ৪০-এর নিচে অবস্থান করছে। একই জরিপে দেখা গেছে, সম্ভাব্য ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে জুন মাসে ৩৫ শতাংশ নির্মাতা বাড়ির দাম কমিয়েছেন। পাশাপাশি ৬২ শতাংশ নির্মাতা বিশেষ ছাড়, প্রণোদনা বা অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এনএএইচবির গবেষণাটি মার্চ মাসে ৫৪ জন ভূমি উন্নয়নকারী এবং ৩৩৭ জন একক-পরিবারের বাড়ি নির্মাতার ওপর পরিচালিত জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর আবাসনসংক্রান্ত তথ্য এবং শিল্পখাতের বিভিন্ন ব্যয়ের হিসাব একত্র করে এই বিশ্লেষণ প্রস্তুত করেছেন। তবে সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে, তাদের উদ্দেশ্য সব ধরনের সরকারি বিধিনিষেধ বাতিলের দাবি তোলা নয়। বরং আবাসন ব্যয় বৃদ্ধিতে এসব নীতিমালার প্রভাব কতটা, তা নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরা এবং আবাসন খাতকে আরও সাশ্রয়ী করার সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করাই এই গবেষণার মূল লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।