সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বাফেলো

বড় ধরনের লোকসান কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় অনন্য সফলতার নজির গড়েছেন তালহা বখত। ছবি: সংগৃহীত
শূন্য থেকে ‘বাফেলোর প্রিন্স’: একসময় চাকরি হারানো বাংলাদেশি তালহা বখতের ১০০ বাড়ি

মাত্র আট বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন তালহা বখত। বড় হয়ে চাকরি পান বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এইচপিতে। কিন্তু ক্যারিয়ারে সাফল্যের মধ্যেই আসে চাকরি হারানোর অভিজ্ঞতা। এরপর ব্যবসায় বিনিয়োগ করে প্রায় দুই লাখ ডলার লোকসান গুনতে হয় তাঁকে। এত কিছুর পরও থেমে থাকেননি এই প্রবাসী বাংলাদেশি। নতুন করে ব্যবসা শুরু করে একসময় নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে গড়ে তোলেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসা। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি জানিয়েছিলেন, তখন বাফেলোতে তাঁর ১০০টি বাড়ি ছিল।   দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালহা বখতের যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা শুরু হয় ১৯৯১ সালে। তখন তাঁর বয়স মাত্র আট বছর। পরিবারের সঙ্গে নতুন দেশে এসে বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং পরবর্তী সময়ে চাকরি ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথটি সহজ ছিল না।   শিক্ষাজীবনের শুরুতে বাণিজ্য বিষয়ে পড়াশোনা করেন তালহা। পরে তথ্যপ্রযুক্তিতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে যোগ দেন হিউলেট প্যাকার্ড বা এইচপিতে। সাধারণ বেতনের চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও নিজের দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে দ্রুত পদোন্নতি পান। মাত্র চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি প্রতিষ্ঠানটির এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান।   তবে চাকরিজীবনের এই সাফল্যও তাঁকে অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত রাখতে পারেনি। পদোন্নতি পেয়ে নতুন একটি বিভাগে যাওয়ার পর সেই বিভাগে কর্মী ছাঁটাই শুরু হয়। এতে চাকরি হারান তিনি। পরবর্তী সময়ে একই প্রতিষ্ঠান তাঁকে অন্য বিভাগে কাজের সুযোগ দিলেও এই অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত চিন্তাভাবনায় বড় পরিবর্তন আনে।   তালহা বুঝতে পারেন, শুধু চাকরির আয়ের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। তাই চাকরির পাশাপাশি ব্যবসার সুযোগ খুঁজতে থাকেন তিনি।   অবশ্য উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল আরও আগে। মাত্র ২৪ বছর বয়সে তিনি একটি ব্যাংকুয়েট ব্যবসা শুরু করেন। মূলত বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবসায় একপর্যায়ে তাঁর অধীনে প্রায় ৯০০ জন কাজ করতেন বলে তিনি জানিয়েছিলেন।   এত বড় একটি কর্মীবাহিনী পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁকে ব্যবসার ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্ব সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেয়। পাশাপাশি আর্থিকভাবেও ভালো অবস্থানে পৌঁছেছিলেন তিনি।   কিন্তু ২০০৮ সালে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগের পর বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েন তালহা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের বাজার পরিস্থিতিতে প্রায় দুই লাখ ডলার হারান তিনি। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে আবার নতুন করে শুরু করার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়।   বড় অঙ্কের লোকসানের পর ব্যবসা থেকে পুরোপুরি সরে যাননি তালহা। প্রথমে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেন। এরপর যুক্ত হন মোবাইল এক্সেসরিজের ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসায়। বিভিন্ন খাতে কাজ করতে গিয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাঁর রিয়েল এস্টেট ব্যবসার ভিত্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখে।   ২০১২ সালে তাঁর ব্যবসায়িক জীবনে আসে নতুন মোড়। নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে যান তালহা। সেখানে প্রথমে তিনটি বাড়ি তাঁর পছন্দ হয়। নিজের একটি বাড়ি কেনার যে আমেরিকান ড্রিম নিয়ে তিনি এগোচ্ছিলেন, সেই স্বপ্নই ধীরে ধীরে বড় পরিসরের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় রূপ নিতে শুরু করে।   তালহা ২০১৫ সাল পর্যন্ত চাকরি চালিয়ে যান। তবে এর আগেই তিনি রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ শুরু করেছিলেন। একপর্যায়ে দেখতে পান, বাড়িভাড়া ও ব্যবসা থেকে আসা আয় তাঁর চাকরির আয়ের সমপর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এরপর চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি নিজের ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় তাঁর কৌশল ছিল অন্য অনেক বিনিয়োগকারীর তুলনায় আলাদা। বাড়ি কিনে দ্রুত বিক্রি করে মুনাফা করার পরিবর্তে তিনি দীর্ঘমেয়াদে বাড়িগুলো নিজের কাছে রেখে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় এই পদ্ধতি বাই অ্যান্ড হোল্ড নামে পরিচিত।   এই পদ্ধতিতে বাড়িভাড়া থেকে নিয়মিত আয় করার পাশাপাশি সম্পত্তির দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ থাকে। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, মর্টগেজ, প্রপার্টি ট্যাক্স এবং ভাড়াটিয়াসংক্রান্ত বিভিন্ন ঝুঁকিও রয়েছে।   তালহা ২০২২ সালে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছিলেন, তখন বাফেলোতে তাঁর ১০০টি বাড়ি ছিল। তিনি বাড়িগুলো বিক্রি না করে ভাড়া দিচ্ছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে বাড়িগুলোর মূল্যও দুই থেকে তিনগুণ বেড়েছিল।   তবে এই ১০০টি বাড়ির তথ্য মূলত তালহার নিজের দেওয়া বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত। ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর মালিকানাধীন বাড়ির বর্তমান সংখ্যা বা সম্পত্তির মোট মূল্য সম্পর্কে নতুন কোনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১০০টি বাড়িকে তাঁর বর্তমান সম্পত্তির সংখ্যা হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।   রিয়েল এস্টেট ব্যবসার পাশাপাশি বাফেলোতে কমিউনিটিভিত্তিক ব্যবসা গড়ে তোলার সঙ্গেও যুক্ত হন তালহা। তাঁর অন্যতম পরিচিত উদ্যোগ আল আকসা সুপার মার্কেট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট।   নিউইয়র্কের বাফেলো শহরের ১৩৫০ ফিলমোর অ্যাভিনিউতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালের ১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন বাফেলো মেয়র বায়রন ব্রাউন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেবিডব্লিউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালহা ও তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার মোহাম্মদ হাসনাত সুপার মার্কেটটি গড়ে তুলতে প্রায় ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেন। ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য আরও ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও সে সময় জানিয়েছিলেন তাঁরা।   প্রতিষ্ঠানটি শুধু দক্ষিণ এশীয় খাবার ও হালাল পণ্যের বাজার হিসেবে নয়, স্থানীয় মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহের একটি উদ্যোগ হিসেবেও গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে বাফেলোর পূর্বাঞ্চলে মানসম্মত গ্রোসারি ও তাজা খাদ্যপণ্যের সহজলভ্যতা বাড়ানোর বিষয়টি উদ্যোক্তারা গুরুত্ব দিয়েছিলেন।   সুপার মার্কেটটিতে তাজা শাকসবজি, ফলমূল, হালাল মাংস, মাছ, বিভিন্ন ধরনের গ্রোসারি ও দক্ষিণ এশীয় খাদ্যপণ্য বিক্রি করা হয়। পাশাপাশি রেস্টুরেন্টে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের তৈরি খাবার। প্রথম আলোর তৎকালীন প্রতিবেদনেও বাফেলোতে আল আকসা সুপার মার্কেটের উদ্বোধন এবং বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ভূমিকার বিষয়টি উঠে আসে। স্থানীয় ব্যবসায়িক তালিকা ও প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব অনলাইন তথ্যেও একই ঠিকানায় সুপার মার্কেট ও রেস্টুরেন্টের কার্যক্রমের উল্লেখ রয়েছে।   তালহা বখতের ব্যবসায়িক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনি একাধিকবার পেশা ও ব্যবসার ধরন পরিবর্তন করেছেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরি, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, রেস্টুরেন্ট, মোবাইল এক্সেসরিজ এবং রিয়েল এস্টেটের মতো ভিন্ন ভিন্ন খাতে কাজ করেছেন তিনি।   দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া বক্তব্যে তালহা সাফল্যের পেছনে উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা, নিয়মিত পরিশ্রম এবং ব্যর্থতার পর আবার চেষ্টা করার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। তাঁর মতে, শুধু অর্থ উপার্জনের চিন্তার চেয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   ১৯৯১ সালে আট বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সেই বাংলাদেশি শিশুর পরবর্তী জীবনে প্রযুক্তি খাতে চাকরি, বড় আর্থিক ক্ষতি এবং একাধিক ব্যবসায়িক উদ্যোগের অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে। ২০২২ সালে তাঁর নিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাফেলোতে ১০০টি বাড়ির মালিক হওয়ার পাশাপাশি একটি বড় সুপার মার্কেট প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।   তাঁর জীবনের এই ঘটনাগুলো প্রবাসে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার একটি উদাহরণ। তবে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সাফল্যের এই অভিজ্ঞতা অন্য বিনিয়োগকারীর জন্য একই ফলাফলের নিশ্চয়তা দেয় না। তালহা বখতের গল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক, বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এবং চাকরির অনিশ্চয়তার পরও নতুন উদ্যোগ নিয়ে আবার ব্যবসায় ফিরে আসা।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের বাফেলোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভ্রাম্যমাণ সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা
নিউইয়র্কের বাফেলোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভ্রাম্যমাণ সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা

নিউইয়র্কের বাফেলো ও পশ্চিম নিউইয়র্ক এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অপ্রত্যাশিত এক দুঃসংবাদ এসেছে। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল নিউইয়র্কের পক্ষ থেকে বাফেলোতে তাদের ভ্রাম্যমাণ কনসুলার সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।   সোমবার রাতে কনস্যুলেটের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অনিবার্য কারণবশত’ বাফেলোতে এই সেবা স্থগিত করা হলো। তবে বিজ্ঞপ্তিতে সেবা বন্ধের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি, যা স্থানীয় কমিউনিটিতে নানা জল্পনা-কল্পনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রায় ৩৭০ মাইল দূরে অবস্থিত বাফেলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পাসপোর্ট ও অন্যান্য জরুরি সেবা নেওয়ার ভোগান্তি কমাতে কনস্যুলেট নিয়মিতভাবে সেখানে ভ্রাম্যমাণ সেবা প্রদান করে আসছিল। আগামী ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর বাফেলোতে এই সেবার সময়সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং এবারই প্রথম সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা দেওয়ার কথাও ছিল।   কিন্তু আকস্মিক এই ঘোষণায় প্রবাসীদের সেই প্রত্যাশা সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কনস্যুলেটের বর্তমান সরকারি ওয়েবসাইটে বাফেলোর সেবা বন্ধের কারণ বা পুনরায় চালুর নতুন কোনো সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   সেবা বন্ধের প্রকৃত কারণ নিয়ে বাফেলোর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র মতে, কনসুলার সেবা আয়োজন ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের মধ্যে নেতৃত্ব, ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে।   এর আগে ২০২৪ ও ২০২৬ সালেও সংগঠনগত বিরোধ এবং স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়েছিল। অনেকেই ধারণা করছেন, প্রবাসী সংগঠনগুলোর এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়হীনতার কারণেই কনস্যুলেট সেবা স্থগিতের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। যদিও কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ স্পষ্ট করা হয়নি।   সাধারণ প্রবাসীরা এই পরিস্থিতিতে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সংগঠনের নেতৃত্ব বা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। কিন্তু অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বলি হয়ে সাধারণ প্রবাসীদের কনসুলার সেবার মতো মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।   উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের অনেকেই প্রস্তাব করেছেন, রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে থাকা কোনো নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম বা গ্রহণযোগ্য সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে এই সেবা পুনরায় চালু করা হোক। বাফেলোর প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা, কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দ্রুত পুনর্বিবেচনা করবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে একটি নিরপেক্ষ ব্যবস্থায় বাফেলোতে ভ্রাম্যমাণ কনসুলার সেবা পুনরায় চালু করবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্ক স্টেটের বিভিন্ন শহরে তুলনামূলক কম দামের বাড়ির দৃশ্য
নিউইয়র্কে এখনো তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ, প্রবাসীদের নজরে ৫ শহর

নিউইয়র্ক সিটির বাইরে গেলেই এখনো তুলনামূলক কম দামে নিজের বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক হাউজিং মার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, বিংহ্যামটন, রচেস্টার, সিরাকিউজ, ইউটিকা ও বাফালোতে বাড়ির দাম নিউইয়র্ক সিটির তুলনায় অনেক কম। দীর্ঘদিন ভাড়া দেওয়ার পর এসব শহরে বাড়ি কিনেছেন এমন কয়েকজন প্রবাসীর অভিজ্ঞতাও দেখাচ্ছে, সামর্থ্য ও জীবনযাপনের সঙ্গে মিল থাকলে নিউইয়র্ক স্টেটের অন্য শহরেও বাড়ি কেনার সুযোগ খোঁজা যেতে পারে।   এর একটি উদাহরণ জি নাহার। দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে ভাড়া থাকার পর সম্প্রতি তিনি বিংহ্যামটনে নিজের সামর্থ্যের মধ্যে একটি ছোট বাড়ি কিনেছেন। এখন নিজের পছন্দ অনুযায়ী নতুন বাড়িটি সাজিয়ে নিচ্ছেন।   আমেরিকা বাংলাকে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে জি নাহার বলেন, নিউইয়র্কে এত বছর ভাড়া দিতে যে অর্থ খরচ করেছেন, তার কিছুটা যদি আগে বাড়ি কেনার দিকে দিতে পারতেন, তাহলে হয়তো আরও আগেই নিজের একটি বাড়ি হয়ে যেত। দেরিতে হলেও এখন নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা হয়েছে—এটাই তার কাছে বড় বিষয়। নিজের বাড়ি হওয়ায় সেটিকে নিজের মতো করে সাজানোর সুযোগও পাচ্ছেন তিনি।   তার অভিজ্ঞতা বিশেষ করে তাদের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে, যারা নিউইয়র্কে বহু বছর ধরে ভাড়া দিচ্ছেন, কিন্তু নিউইয়র্ক সিটির বাড়ির দাম দেখে কেনার কথা ভাবছেন না। বিংহ্যামটন নিউইয়র্ক সিটি থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরে হলেও এটি নিউইয়র্ক স্টেটেরই একটি শহর। ফলে শহর বদলালে জীবনযাপনের ধরন, যাতায়াত, চাকরি ও কমিউনিটির সুযোগে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে যোগ্য ক্রেতারা স্টেটভিত্তিক কিছু বাড়ি কেনার কর্মসূচি ও কর সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন।   বিংহ্যামটনের বাড়ির বাজার এখনো তুলনামূলক কম দামের। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে সেখানে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৯০ ডলার। তবে এক বছরের তুলনায় দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ বাজারটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী হলেও দাম বাড়ছে।   বিংহ্যামটনে মুসলিম কমিউনিটিরও উপস্থিতি রয়েছে। ইসলামিক অর্গানাইজেশন অব দ্য সাদার্ন টিয়ারসহ বিভিন্ন ইসলামিক প্রতিষ্ঠান সেখানে নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা ও কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে নিউইয়র্ক সিটি থেকে দূরে গিয়েও মুসলিম পরিবারগুলো ধর্মীয় ও সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ পেতে পারে।   শুধু বিংহ্যামটন নয়, বাফালোর অভিজ্ঞতাও একই ধরনের চিত্র তুলে ধরে। দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে ভাড়া থাকার পর সম্প্রতি বাফালোতে নিজের বাড়ি কিনেছেন প্রবাসী মামুন চৌধুরী।   মামুন চৌধুরীর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, তিনি যদি আরও আগে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন, তাহলে কয়েক বছর আগে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ পেতেন। এখন তাকে আগের তুলনায় কিছুটা বেশি দামে বাড়ি কিনতে হয়েছে। তার মতে, দুই বছর আগে বা তারও কিছু আগে একই ধরনের বাড়ি আরও কম দামে কেনার সুযোগ ছিল।   তবে বর্তমান বাজার নিয়েও তার অভিজ্ঞতা হলো, বাফালোতে এখনো তুলনামূলক যুক্তিসংগত দামে বাড়ি খুঁজে পাওয়া সম্ভব। অর্থাৎ যারা এখনো বাড়ি কেনেননি, তাদের জন্য বাজার পুরোপুরি নাগালের বাইরে চলে যায়নি।   ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে বাফালোর বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৮৪৮ ডলার। এক বছরে দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। সেখানে একটি বাড়ি বিক্রি হতে গড়ে প্রায় ১৫ দিন লাগছে।   বাফালোতে বাংলাদেশি কমিউনিটিরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠন, মসজিদ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফলে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে দাম ছাড়াও কমিউনিটি, ধর্মীয় পরিবেশ ও সামাজিক যোগাযোগ অনেক পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   তালিকার আরেকটি শহর রচেস্টার। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে রচেস্টারে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬৮ ডলার। এক বছরের তুলনায় দাম বেড়েছে ৮ শতাংশ। বাড়িগুলো গড়ে মাত্র ১০ দিনে বিক্রি হচ্ছে, যা বাজারে ক্রেতাদের চাহিদার ইঙ্গিত দেয়।   সিরাকিউজে একই সময়ে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ১১০ ডলার। এক বছরে দাম বেড়েছে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। সেখানে বাড়ি বাজারে থাকার গড় সময় ২৬ দিন।   অন্যদিকে ইউটিকায় বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ২ লাখ ৯ হাজার ৮৬১ ডলার, যা এক বছরে ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। সেখানে বাড়ি বিক্রি হতে গড়ে ৩৫ দিন সময় লাগছে।   পাঁচ শহরের বাজারে পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—নিউইয়র্ক সিটির বাইরে গেলে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি পাওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে শুধু বাড়ির দাম দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। মর্টগেজের সুদ, ডাউন পেমেন্ট, প্রপার্টি ট্যাক্স, বাড়ির মালিকের ইন্স্যুরেন্স, বাড়ির অবস্থা, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এবং চাকরির সুযোগও হিসাব করতে হবে।   বিশেষ করে বর্তমান মর্টগেজের সুদের হার বাড়ি কেনার মোট খরচে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ফ্রেডি ম্যাকের হিসাবে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের নির্দিষ্ট হারের মর্টগেজের গড় হার ছিল ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগে এটি ছিল ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ।   নিউইয়র্ক স্টেটের কিছু বাড়ির মালিকানা কর্মসূচিও যোগ্য ক্রেতাদের জন্য কাজে আসতে পারে। যেমন, সনিমা ডিপিএএল প্লাস ২০২৬ কর্মসূচিতে যোগ্য স্বল্প আয়ের ক্রেতাদের ডাউন পেমেন্ট, ক্লোজিং খরচ এবং নির্দিষ্ট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের খরচে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ রয়েছে। এই কর্মসূচির জন্য পরিবারের আয় নির্ধারিত এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশের মধ্যে হতে হবে এবং তহবিল শেষ হয়ে গেলে কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।   এছাড়া নিউইয়র্ক স্টেটের স্টার কর্মসূচির আওতায় যোগ্য মালিকের বসবাস করা প্রাথমিক বাড়ির জন্য প্রপার্টি ট্যাক্স সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী বেসিক স্টার ক্রেডিটের আয়ের সীমা ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত। তবে এটি মূলত স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ট্যাক্সের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং যোগ্যতার নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে।   তাই বিংহ্যামটন, রচেস্টার, সিরাকিউজ, ইউটিকা কিংবা বাফালোতে বাড়ি কিনলেই নিউইয়র্ক সিটির সব সুবিধা পাওয়া যাবে—এমন নয়। বরং এসব শহরে বসবাসের খরচ, চাকরি, যাতায়াত, কমিউনিটি ও স্থানীয় সুযোগ-সুবিধা আলাদা করে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে যোগ্য হলে নিউইয়র্ক স্টেটের প্রযোজ্য বাড়ি কেনার কর্মসূচি ও কর সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।   জি নাহার ও মামুন চৌধুরীর অভিজ্ঞতা এই আলোচনায় আরেকটি দিক তুলে ধরে। একজন দীর্ঘদিন ভাড়া দেওয়ার পর বিংহ্যামটনে নিজের সামর্থ্যের মধ্যে বাড়ি কিনেছেন। অন্যজন বাফালোতে বাড়ি কিনে মনে করছেন, আরও আগে সিদ্ধান্ত নিলে হয়তো কম দামে কেনার সুযোগ পেতেন। তাদের অভিজ্ঞতা থেকে অন্তত এটুকু বোঝা যায়, নিউইয়র্ক সিটির বাইরে তুলনামূলক কম দামের কিছু বাজার এখনো রয়েছে।   শেষ পর্যন্ত বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে প্রত্যেক পরিবারের আয়, সঞ্চয়, ঋণের সক্ষমতা, চাকরি ও জীবনযাপনের পছন্দের ওপর। তবে নিউইয়র্কে যারা দীর্ঘদিন ধরে রেন্ট দিচ্ছেন এবং নিউইয়র্ক সিটির বাইরে বসবাসের সুযোগ বিবেচনা করতে পারেন, তাদের জন্য বিংহ্যামটন, রচেস্টার, সিরাকিউজ, ইউটিকা ও বাফালো হাউজিং মার্কেটের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি শহর হতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
নায়াগ্রা ফলসের পর্যটকদের চাহিদায় বাফালো অঞ্চলে বাড়ছে স্বল্পমেয়াদি আবাসন ভাড়ার বাজার। ছবি: সংগৃহীত
নায়াগ্রা ফলসের পর্যটক, বাফালোর সাশ্রয়ী বাড়ি নিয়ে এয়ারবিএনবি বিনিয়োগে কেন বাড়ছে প্রবাসীদের আগ্রহ

বিশ্বখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র নায়াগ্রা ফলসকে ঘিরে স্বল্পমেয়াদি আবাসন ভাড়ার বাজারে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন অনেক প্রবাসী বিনিয়োগকারী। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফালো শহরে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি পাওয়া যাওয়ায় অনেকের নজর এখন এয়ারবিএনবি-ভিত্তিক রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের দিকে। বাজার বিশ্লেষণ, স্থানীয় রিয়েল এস্টেট সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা এবং পর্যটন প্রবাহ সব মিলিয়ে বাফালোকে সম্ভাবনাময় একটি বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   সম্প্রতি কানাডার অন্টারিও প্রদেশের নায়াগ্রা ফলস এলাকায় আমেরিকা বাংলার প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী অ্যান্ডি ও সুজানের। তারা যৌথভাবে নায়াগ্রা অঞ্চলে বাড়ি কিনে এয়ারবিএনবির মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ব্যবসা পরিচালনা করছেন।   তাদের অভিজ্ঞতায়, পর্যটনের ব্যস্ত মৌসুমে প্রায় পুরো সময়ই তাদের বাসাগুলো বুকড থাকে। এমনকি পর্যটক তুলনামূলক কম আসার সময় বাদ দিলে বছরের অধিকাংশ সময়ই নিয়মিত অতিথি পাওয়া যায়। তাদের মতে, নায়াগ্রা ফলস এমন একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সারা বছরই পর্যটক আসেন। ফলে পরিবার বা দল নিয়ে ভ্রমণকারীদের একটি বড় অংশ হোটেলের পরিবর্তে এয়ারবিএনবিতে থাকতে আগ্রহী হন।   অ্যান্ডি ও সুজান জানান, কানাডার নায়াগ্রা অঞ্চলে বাড়ির দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাফালো একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হতে পারে। তাদের মতে, বাফালোতে তুলনামূলক কম মূল্যে বাড়ি কিনে অথবা আইনগতভাবে দীর্ঘমেয়াদি লিজ নিয়ে সেটি এয়ারবিএনবির মাধ্যমে পরিচালনা করার সুযোগ রয়েছে।   স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার বাজার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান এয়ারডিএনএ এর তথ্য অনুযায়ী, বাফালোতে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার সক্রিয় স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার তালিকা রয়েছে। এসব সম্পত্তির গড় দখল হার ৫০ শতাংশের বেশি এবং পর্যটন মৌসুমে চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে প্রকৃত আয় নির্ভর করে সম্পত্তির অবস্থান, সুযোগ-সুবিধা, ব্যবস্থাপনা এবং মৌসুমি চাহিদার ওপর।   কানাডার নায়াগ্রা অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিয়েল এস্টেট এজেন্ট রামদীপ সিং জানান, নায়াগ্রা ফলস ভ্রমণে আসা অনেক পর্যটক বাফালো নায়াগ্রা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। তাদের অনেকেই এক বা একাধিক রাতের জন্য হোটেলের পরিবর্তে এয়ারবিএনবির বাসা বেছে নেন। ফলে বাফালো ও আশপাশের এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আবাসনের চাহিদা বছরজুড়েই থাকে।   রামদীপ সিংয়ের মতে, শুধু বাড়ির দাম কম দেখেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। সম্ভাব্য ভাড়া, দখল হার, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ, সম্পত্তি কর, বীমা এবং মর্টগেজের কিস্তিসহ সব ধরনের ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা জরুরি। তার ভাষায়, সঠিক লোকেশন নির্বাচন এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাফালোতে এয়ারবিএনবি ব্যবসায় ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।   তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট শহরের শর্ট-টার্ম রেন্টাল নীতিমালা, জোনিং আইন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় বিধিনিষেধ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া উচিত। কারণ বিভিন্ন শহরে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।   বাফালো শহর থেকে নায়াগ্রা ফলসে গাড়িতে পৌঁছাতে সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে। এই ভৌগোলিক সুবিধার কারণে অনেক পর্যটক কম খরচে থাকার জন্য বাফালোকে বেছে নেন। একই সঙ্গে শহরটির বিমানবন্দর, মহাসড়ক যোগাযোগ এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন বাজার বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে এয়ারবিএনবি ব্যবসাকে বিবেচনা করছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তবসম্মত আর্থিক পরিকল্পনা, স্থানীয় আইন মেনে পরিচালনা এবং বাজার সম্পর্কে পর্যাপ্ত গবেষণার মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে বাফালো অঞ্চলে এয়ারবিএনবি খাত ভবিষ্যতে আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক

অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০