বিশ্বখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র নায়াগ্রা ফলসকে ঘিরে স্বল্পমেয়াদি আবাসন ভাড়ার বাজারে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন অনেক প্রবাসী বিনিয়োগকারী। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফালো শহরে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি পাওয়া যাওয়ায় অনেকের নজর এখন এয়ারবিএনবি-ভিত্তিক রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের দিকে। বাজার বিশ্লেষণ, স্থানীয় রিয়েল এস্টেট সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা এবং পর্যটন প্রবাহ সব মিলিয়ে বাফালোকে সম্ভাবনাময় একটি বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি কানাডার অন্টারিও প্রদেশের নায়াগ্রা ফলস এলাকায় আমেরিকা বাংলার প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী অ্যান্ডি ও সুজানের। তারা যৌথভাবে নায়াগ্রা অঞ্চলে বাড়ি কিনে এয়ারবিএনবির মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
তাদের অভিজ্ঞতায়, পর্যটনের ব্যস্ত মৌসুমে প্রায় পুরো সময়ই তাদের বাসাগুলো বুকড থাকে। এমনকি পর্যটক তুলনামূলক কম আসার সময় বাদ দিলে বছরের অধিকাংশ সময়ই নিয়মিত অতিথি পাওয়া যায়। তাদের মতে, নায়াগ্রা ফলস এমন একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সারা বছরই পর্যটক আসেন। ফলে পরিবার বা দল নিয়ে ভ্রমণকারীদের একটি বড় অংশ হোটেলের পরিবর্তে এয়ারবিএনবিতে থাকতে আগ্রহী হন।
অ্যান্ডি ও সুজান জানান, কানাডার নায়াগ্রা অঞ্চলে বাড়ির দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাফালো একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হতে পারে। তাদের মতে, বাফালোতে তুলনামূলক কম মূল্যে বাড়ি কিনে অথবা আইনগতভাবে দীর্ঘমেয়াদি লিজ নিয়ে সেটি এয়ারবিএনবির মাধ্যমে পরিচালনা করার সুযোগ রয়েছে।
স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার বাজার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান এয়ারডিএনএ এর তথ্য অনুযায়ী, বাফালোতে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার সক্রিয় স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার তালিকা রয়েছে। এসব সম্পত্তির গড় দখল হার ৫০ শতাংশের বেশি এবং পর্যটন মৌসুমে চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে প্রকৃত আয় নির্ভর করে সম্পত্তির অবস্থান, সুযোগ-সুবিধা, ব্যবস্থাপনা এবং মৌসুমি চাহিদার ওপর।
কানাডার নায়াগ্রা অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিয়েল এস্টেট এজেন্ট রামদীপ সিং জানান, নায়াগ্রা ফলস ভ্রমণে আসা অনেক পর্যটক বাফালো নায়াগ্রা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। তাদের অনেকেই এক বা একাধিক রাতের জন্য হোটেলের পরিবর্তে এয়ারবিএনবির বাসা বেছে নেন। ফলে বাফালো ও আশপাশের এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আবাসনের চাহিদা বছরজুড়েই থাকে।
রামদীপ সিংয়ের মতে, শুধু বাড়ির দাম কম দেখেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। সম্ভাব্য ভাড়া, দখল হার, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ, সম্পত্তি কর, বীমা এবং মর্টগেজের কিস্তিসহ সব ধরনের ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা জরুরি। তার ভাষায়, সঠিক লোকেশন নির্বাচন এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাফালোতে এয়ারবিএনবি ব্যবসায় ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট শহরের শর্ট-টার্ম রেন্টাল নীতিমালা, জোনিং আইন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় বিধিনিষেধ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া উচিত। কারণ বিভিন্ন শহরে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
বাফালো শহর থেকে নায়াগ্রা ফলসে গাড়িতে পৌঁছাতে সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে। এই ভৌগোলিক সুবিধার কারণে অনেক পর্যটক কম খরচে থাকার জন্য বাফালোকে বেছে নেন। একই সঙ্গে শহরটির বিমানবন্দর, মহাসড়ক যোগাযোগ এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন বাজার বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে এয়ারবিএনবি ব্যবসাকে বিবেচনা করছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তবসম্মত আর্থিক পরিকল্পনা, স্থানীয় আইন মেনে পরিচালনা এবং বাজার সম্পর্কে পর্যাপ্ত গবেষণার মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে বাফালো অঞ্চলে এয়ারবিএনবি খাত ভবিষ্যতে আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট ওয়ার্থে দাঁতের একটি নিয়মিত চিকিৎসা চলাকালে চার বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এক দন্তচিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, চিকিৎসার আগে শিশুটিকে একাধিক সেডেটিভ ওষুধ দেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলোর মাত্রা প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এ ঘটনায় দন্তচিকিৎসক ডা. ক্রিশেল হেমফিলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ টেক্সাস জানিয়েছে, ৪৮ বছর বয়সী ডা. ক্রিশেল হেমফিলকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত গ্রেপ্তারি নথিতে বলা হয়েছে, তিনি চার বছর বয়সী আইথানা আরিয়াগাকে মুখে খাওয়ানোর জন্য মেপেরিডিন (ডেমেরল) নামের একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধের তরল দ্রবণ দেন। এর পাশাপাশি আরও দুটি সেডেটিভ এবং নাইট্রাস অক্সাইডও প্রয়োগ করা হয়েছিল। তদন্তে জানা গেছে, গত ১ এপ্রিল ফোর্ট ওয়ার্থের সাইকামোর স্কুল রোডে অবস্থিত কাডল কিডস ডেন্টাল কেয়ার ক্লিনিকে শিশুটির জিহ্বার নিচের টিস্যু সংশোধনের একটি নিয়মিত চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। ক্লিনিকটির মালিক ডা. হেমফিল নিজেই ওই চিকিৎসা পরিচালনা করছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, চিকিৎসা শুরুর আগে শিশুটিকে একাধিক সেডেটিভ দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ওষুধগুলো ডা. হেমফিল নিজেই প্রয়োগ করেছিলেন। শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে ডা. হেমফিল তাকে বাঁচানোর জন্য বুকে চাপ দিয়ে হৃদ্যন্ত্র সচল রাখার চেষ্টা (সিপিআর) শুরু করেন। পরে মধ্যাহ্ন বিরতিতে থাকা আরেকজন দন্তচিকিৎসক এসে সিপিআর চালিয়ে যান। এরপর জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তদন্তে যুক্ত ট্যারান্ট কাউন্টির মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তর জানিয়েছে, শিশুটির শরীরে যে পরিমাণ মেপেরিডিন পাওয়া গেছে, তা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্যও অনেক বেশি বলে বিবেচিত হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শিশুটিকে ওষুধটি দুই দফায় দেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে আইথানা আরিয়াগার মৃত্যুর কারণ হিসেবে মেপেরিডিন বিষক্রিয়া উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর ডা. হেমফিলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান এবং মামলার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি টেক্সাসে শিশুদের দন্তচিকিৎসায় সেডেটিভ ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ক্ষেত্রে সেডেটিভ ওষুধ ব্যবহারের সময় ওষুধের ধরন, মাত্রা এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা জরুরি। সূত্র: সিবিএস নিউজ টেক্সাস, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ট্যারান্ট কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তর।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট ওর্থ ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের (ফোর্ট ওর্থ আইএসডি) বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দীর্ঘদিনের শিক্ষিকা ও প্রশাসক শাইমা আলজুবি। সম্প্রতি একটি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা অতীতের কিছু পোস্টকে কেন্দ্র করে সেই নিয়োগ বাতিল করা হয়। এবার তিনি অভিযোগ করেছেন, তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সমান আইনি সুরক্ষার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। পাশাপাশি তার মুসলিম পরিচয় ও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত হওয়াও জেলা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করা হয়েছে মামলায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাইমা আলজুবি দীর্ঘদিন ধরে ফোর্ট ওর্থ আইএসডিতে শিক্ষক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত মে মাসে তাকে ওয়েস্টার্ন হিলস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে জেলা কর্তৃপক্ষ। ফোর্ট ওর্থ আইএসডি জানায়, আলজুবির ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অতীতে করা কিছু পোস্ট নিয়ে তদন্ত চলছিল। সেই তদন্তের কারণেই তার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচিত পোস্টগুলোর মধ্যে ছিল কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আন্দোলন ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’-এর প্রতি সমর্থন, যুক্তরাষ্ট্রে শিশু অবস্থায় আসা অভিবাসীদের সুরক্ষা কর্মসূচি ‘ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডাকা)’-এর পক্ষে মত এবং করোনা মহামারির সময় মাস্ক ব্যবহারের সমর্থনে লেখা পোস্ট। নিয়োগ বাতিলের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। গত মে মাসের শেষ দিকে বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক এবং কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, অনলাইনে রক্ষণশীল গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় এক কমিউনিটি নেতা ফাদিয়া সালেম বলেন, এই ঘটনার মাধ্যমে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বার্তা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ‘৮১৭ পডকাস্ট’-এর ইজে ক্যারিয়নের ভাষ্য, বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টই মূল সমস্যা। অথচ বাস্তবে অনলাইনভিত্তিক ডানপন্থী প্রভাবশালীদের চাপ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। এদিকে ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় আলজুবি আদালতের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চেয়ে আবেদন করেছেন। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে ওয়েস্টার্ন হিলস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং চতুর্দশ সংশোধনী অনুযায়ী সমান আইনি সুরক্ষার অধিকার তার ক্ষেত্রে লঙ্ঘিত হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের বিষয়বস্তুর কারণে নয়, বরং অন্তত আংশিকভাবে তার মুসলিম পরিচয় এবং জাতিগত উৎস দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। অন্যদিকে ফোর্ট ওর্থ আইএসডি মামলার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। জেলা কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি কর্মী-সংক্রান্ত গোপনীয় বিষয়। তবে এক বিবৃতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, শাইমা আলজুবিকে ‘প্রিন্সিপাল প্রোগ্রাম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর’ নামে জেলা পর্যায়ের একটি নেতৃত্বের পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এই পদে তিনি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও একাডেমিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু আদালতে জমা দেওয়া নথিতে আলজুবির আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এই পদটি বাস্তবে নতুন করে তৈরি করা হয়েছে এবং আলজুবি সেটি গ্রহণ করেননি। তার লক্ষ্য আগের ঘোষিত প্রধান শিক্ষক পদেই ফিরে যাওয়া। এখন আদালত ফোর্ট ওর্থ আইএসডির জবাব পাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। মামলার ফলাফল শুধু আলজুবির কর্মজীবন নয়, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় বৈষম্য সংক্রান্ত বিতর্কেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। সূত্র: ফক্স ৪, আদালতের নথি এবং ফোর্ট ওর্থ আইএসডির বিবৃতি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে গত মার্চ মাস থেকেই তীব্র দাবদাহ বইছে। সল্টলেক সিটি থেকে শুরু করে বোস্টন পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতার মধ্যে বসবাস করছেন। তবে এর মধ্যেও অন্তত একটি মেট্রোপলিটন এলাকা অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় অনেকটাই শীতল রয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো হলো যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি সংলগ্ন অঙ্গরাজ্যের মধ্যে একমাত্র বড় শহর, যেখানে তাপমাত্রা কখনোই ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট স্পর্শ করেনি। ইরি হ্রদের পূর্ব তীরে অবস্থিত হওয়ায় প্রাকৃতিকভাবেই শহরটি একটি স্বয়ংক্রিয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পেয়ে গেছে, যা একে গ্রীষ্মের চরম বৈরী আবহাওয়া থেকে সুরক্ষিত রেখেছে। অনেকের কাছেই বাফেলো মানেই বিলস দল, চিকেন উইংস আর প্রচুর বরফ। তবে যে ভৌগোলিক সুবিধা শহরটিকে গ্রীষ্মে শীতল রাখে, সেটিই আবার শীতকালে এখানে প্রচুর তুষারপাতের কারণ ঘটায়। ইউনিভার্সিটি অব বাফেলোর চিফ সাসটেইনেবিলিটি অফিসার রায়ান ম্যাকফারসনের মতে, গ্রেট লেকসের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় শহরটি প্রাকৃতিকভাবেই একটি স্থিতিশীল ও নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশ উপভোগ করে। শহরের বিস্তৃত পার্ক সিস্টেম, প্রচুর গাছপালা এবং উত্তরাঞ্চলীয় অবস্থান এই শীতলতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে বাফেলো পুরোপুরি সুরক্ষিত নয়। ম্যাকফারসন শহরটিকে 'ক্লাইমেট হ্যাভেন' বা জলবায়ু স্বর্গ আখ্যা দেওয়ার বিষয়ে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি মনে করেন, জলবায়ুর যে বর্তমান গতিপ্রকৃতি, তাতে কোনো এক সময় বাফেলোতেও তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ছুঁতে পারে। এছাড়া ২০২৩ সালে কানাডার দাবানলের ধোঁয়া এবং ক্রমবর্ধমান ভারী বৃষ্টিপাত প্রমাণ করেছে যে, চরম তাপমাত্রাই শহরটির একমাত্র সমস্যা নয়। তবে বাফেলোর এই সাময়িক জলবায়ুগত সুবিধাটি স্থানীয় আবাসন এবং বিমা বাজারে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রাইভেট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ডায়ান ডেলানির মতে, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া বা টেক্সাসের মতো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে বিমা কোম্পানিগুলো যখন কঠোর শর্ত দিচ্ছে এবং প্রিমিয়াম ব্যাপক হারে বাড়িয়ে দিচ্ছে, তখন বাফেলোর চিত্র বেশ স্বস্তিদায়ক। ইনস্যুরিফাই-এর তথ্যমতে, বাফেলোতে একটি ৩ লাখ ডলারের সম্পদের গড় বার্ষিক প্রিমিয়াম মাত্র ১,২৮৫ ডলার। অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসে এটি ২,৩৬৪ ডলার এবং মিয়ামিতে আকাশছোঁয়া ১৪,৫২০ ডলার। তবে ডেলানি ও ম্যাকফারসন দুজনেই একমত যে, জলবায়ুর পরিবর্তনশীল এই সময়ে কোনো অঞ্চলকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ ভাবার সুযোগ নেই। তাই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে কেবল শহর পরিবর্তন না করে, বাফেলোর মতো থার্মাল এনার্জি নেটওয়ার্কসহ অন্যান্য টেকসই অবকাঠামো ও জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পে এখনই বিনিয়োগ করা প্রয়োজন।