সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#বিরোধ

ভারতে ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাম বাদ, মোদিবিরোধী বিক্ষোভ
ভারতে ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাম বাদ, মোদিবিরোধী বিক্ষোভ

ভারতে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মুসলিমসহ কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সংখ্যালঘু মুসলিম ও বিরোধী সমর্থকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।   বুধবার (৭ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে ভারতের চলমান ভোটার তালিকা বিতর্ক এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।   বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম, যা এসআইআর নামে পরিচিত। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারদের তথ্য নতুন করে যাচাই এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে।   নির্বাচন কমিশনের দাবি, মৃত ব্যক্তি, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটার এবং একাধিকবার নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করাই এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য।   অন্যদিকে বিরোধী দল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতিতে গুরুতর অনিয়ম রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারা কিংবা তথ্যের অসংগতির কারণে অনেক বৈধ ভোটারের নামও বাদ পড়ছে।   বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু মুসলিম, অভিবাসী শ্রমিক এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহে সমস্যায় পড়া মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সমালোচকেরা।   ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যায়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের পর প্রায় ১৩ কোটি নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনা নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।   তবে বাদ পড়া ১৩ কোটি মানুষের সবাই মুসলিম নন। তাঁদের মধ্যে ঠিক কতজন মুসলিম এবং কতজন বৈধ ভোটার, তার নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশিত হয়নি। ফলে ভোটার তালিকা থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক মুসলিমকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।   এদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে। দলটির দাবি, এই প্রক্রিয়ায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থক এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।   কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ক্ষমতাসীন বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। তাঁর নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করছে।   বুধবার নয়াদিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে রাহুল গান্ধীকে সাময়িকভাবে আটক করে পুলিশ। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি অন্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।   বিক্ষোভে কংগ্রেসের পাশাপাশি বিভিন্ন বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন এবং তরুণদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকারীরাও অংশ নিচ্ছেন।   বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা তৃতীয় দিনের মতো ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। নয়াদিল্লির পাশাপাশি তেলেঙ্গানা, বিহার ও বেঙ্গালুরুতেও প্রতিবাদ কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে।   আন্দোলনকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ভুলভাবে বাদ পড়া বৈধ নাগরিকদের নাম পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।   এদিকে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও ঝাড়খণ্ডসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম ভোটারদের নাম একসঙ্গে বাদ দেওয়ার আবেদন জমা পড়ার অভিযোগ সামনে এসেছে।   গত সেপ্টেম্বরে রাজ্যসভার সদস্য কপিল সিবাল অভিযোগ করেন, ঝাড়খণ্ডে বিজেপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ব্যাপকভাবে আবেদন করেছেন। তাঁর দাবি, উত্তরাখণ্ড, মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও ওড়িশাতেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।   অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক হিন্দুও রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।   ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রভাব শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে।   ভারতের নির্বাচন কমিশন অবশ্য বারবার জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা নয়।   এর আগে সুপ্রিম কোর্টে কমিশন জানিয়েছিল, ভোটার তালিকায় কারও ধর্মীয় পরিচয়ের তথ্য সংরক্ষণ করা হয় না। ফলে ধর্মের ভিত্তিতে কতজনের নাম বাদ পড়েছে, তার সরকারি হিসাবও নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই।   কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যু, স্থায়ীভাবে বাসস্থান পরিবর্তন, একাধিক নিবন্ধন এবং নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার মতো কারণে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।   তবে সমালোচকেরা বলছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনিক নিয়ম অনুসরণ করলেই চলবে না। কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়লে তাঁকে যথাযথ নোটিশ দেওয়া, আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা এবং সহজে নাম পুনর্বহালের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি।   এই বিতর্ক ইতোমধ্যে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের বৈধতা ও প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক আবেদন উঠেছে।   আদালতে আবেদনকারীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের যথাযথভাবে অবহিত না করেই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রেও দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সমস্যায় পড়ছেন।   অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের দাবি, পুরো প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং বাদ পড়া ব্যক্তিদের জন্য আপত্তি ও সংশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে।   বিতর্কের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের শনাক্ত করে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নিবন্ধনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   ভারতের মতো বিশাল গণতান্ত্রিক দেশে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি করেছে।   একদিকে নির্বাচন কমিশন নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে, অন্যদিকে বিরোধীরা আশঙ্কা করছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে।   বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর বৈষম্যমূলক প্রভাব পড়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগতভাবে লাখ লাখ মুসলিম ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   এ অবস্থায় ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা, বাদ পড়া নাগরিকদের ভোটাধিকার পুনর্বহাল এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবিতে ভারতে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। বিক্ষোভের পাশাপাশি আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তও দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি।
বিরোধী দলের কর্মকাণ্ডেই ‘ডিসেম্বরে ফেরার’ সুযোগ খুঁজছে কেউ কেউ: পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি

বিরোধী দলের ধারাবাহিক আন্দোলন ও সরকারের প্রতি অসহযোগিতার কারণে আওয়ামী লীগ নতুন করে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তাঁর ভাষ্য, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ‘কেউ কেউ ডিসেম্বরে আসতে চায়’। বক্তব্যে ‘কেউ কেউ’ বলতে তিনি আওয়ামী লীগকে বোঝান বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী এলাকায় জিল্লুর রহিম কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশেষায়িত বিনামূল্যের চিকিৎসা ক্যাম্প, চক্ষু শিবির ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ এ-৩ যৌথভাবে কর্মসূচিটির আয়োজন করে।   এ্যানি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকেই বিরোধী দল সহযোগিতার পরিবর্তে অসহযোগিতার পথে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার শপথ নেওয়ার দিনও বিরোধী দল উপস্থিত ছিল না এবং এরপর বিভিন্ন ইস্যুতে তারা সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।   তিনি বলেন, বিরোধী দলের এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণেই অন্য একটি রাজনৈতিক শক্তি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, বিরোধী দল এমন সুযোগ তৈরি না করলে এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি না দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তবে এটি এ্যানির রাজনৈতিক মূল্যায়ন; প্রতিবেদনে তাঁর দাবির পক্ষে আলাদা কোনো প্রমাণ উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি।   পানিসম্পদমন্ত্রী বিরোধী দলের সংসদের ভেতরের ও বাইরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, সংসদে বিরোধী দল সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার কথা বললেও সংসদের বাইরে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সেই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি বিগত ১৭ বছরে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর ঝটিকা মিছিলের প্রসঙ্গও টানেন। এসব বক্তব্যও মন্ত্রীর নিজস্ব রাজনৈতিক দাবি ও মূল্যায়ন।   গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনেরও সমালোচনা করেন এ্যানি। তিনি বলেন, বিরোধী দল ঢাকা থেকে রংপুর ও চট্টগ্রাম অভিমুখে কর্মসূচি পালন করছে এবং গ্যাস, তেল ও বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলন করছে। তাঁর বক্তব্য, সরকার এমন এক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছে যেখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে এবং ছয় মাসের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়।   লংমার্চ ও রোডমার্চের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টিও সামনে আনেন পানিসম্পদমন্ত্রী। এসব কর্মসূচিতে জ্বালানি খরচ, সড়কে যানজট এবং রোগীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে কি না এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিরোধী দল সংসদে সহযোগিতার কথা বললেও মাঠের কর্মসূচি সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন এ্যানি।   বক্তব্যের একপর্যায়ে নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগে অর্থ ব্যবহার করে কিছু ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বা সংশ্লিষ্ট বিরোধী পক্ষের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   এ্যানি আরও বলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর ভাষ্য, কোনো রাজনৈতিক পক্ষ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশ বা জনগণের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে সরকার তা মেনে নেবে না। তিনি বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেন।   ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ওই পরিস্থিতি হঠাৎ তৈরি হয়নি; দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পাশাপাশি ছাত্র, যুবক ও তরুণদের অংশগ্রহণ এর পটভূমি তৈরি করেছে বলে তিনি মনে করেন। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দায়িত্ব পেয়েছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।   এ্যানির বক্তব্যে ‘ডিসেম্বরে আসতে চায়’ কথাটির মাধ্যমে ঠিক কোন পরিকল্পনা বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচির কথা বোঝানো হয়েছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই। ফলে বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য। একই সঙ্গে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে তাঁর অসহযোগিতার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিরোধী পক্ষের প্রতিক্রিয়াও পাওয়া গেলে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আরও পরিষ্কার হবে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
কানাডায় ভাড়াটিয়া গরুর মাংসের বারবিকিউ করাতে উ/ত্ত/প্ত হয়ে হা/তা/হা/তি করায় ভারতীয় নারী গ্রেফতার
কানাডায় ভাড়াটিয়া গরুর মাংসের বারবিকিউ করাতে উ/ত্ত/প্ত হয়ে হা/তা/হা/তি করায় ভারতীয় নারী গ্রেফতার

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারিতে গরুর মাংসের বারবিকিউ নিয়ে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার বিরোধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাড়াটিয়ার প্রকাশ করা একাধিক ভিডিওতে বাড়ির মালিক রাজ টিওয়ানা-র সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং পরবর্তী কয়েকটি সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা যায়।    ঘটনার শুরু হয় ভাড়াটিয়া এক বন্ধুর সঙ্গে বাড়ির বাগানে বারবিকিউতে খাবার রান্না করার সময়। ভিডিওতে রাজ টিওয়ানাকে বারবিকিউ ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানাতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, গ্রিল ব্যবহারের কারণে তাঁর বাড়ির ক্ষতি হতে পারে। ভাড়াটিয়া অবশ্য দেয়ালে থাকা দাগকে পোড়া দাগ নয়, মরিচা বলে দাবি করেন।    এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একটি ভিডিওতে রাজ টিওয়ানাকে গ্রিল থেকে খাবার সরিয়ে দিতে দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাড়াটিয়া তখন গরুর মাংস রান্না করছিলেন। টিওয়ানা তাঁকে বারবিকিউ বন্ধ করতে বলেন এবং প্রয়োজনে পুলিশে ফোন করার কথা জানান।    এরপর ভাড়াটিয়া ‘টিওয়ানা ফার্ম সারভাইভার’ নামে একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আরও কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, বাড়ির মালিক তাঁর ভাড়া নেওয়া ইউনিটে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করেছেন, তালা পরিবর্তন করেছেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছেন। কয়েকটি ভিডিওতে রাজ টিওয়ানার সঙ্গে ভাড়াটিয়ার শারীরিক সংঘর্ষের দৃশ্যও দেখা যায়।    পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে পুলিশকে রাজ টিওয়ানাকে আটক করতে দেখা যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর গ্রেপ্তারের কথা বলা হলেও, তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী অভিযোগ বা চার্জ আনা হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে গরুর মাংস খাওয়া, ধর্মীয় বিশ্বাস বা সাম্প্রদায়িক বিরোধের ঘটনা হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু সারে পুলিশ সার্ভিস এই ব্যাখ্যা নাকচ করেছে।   পুলিশের মিডিয়া রিলেশনস কর্মকর্তা ইয়ান ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, এটি বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার চলমান বিরোধের অংশ এবং পুলিশ একাধিকবার সেখানে হস্তক্ষেপ করেছে। তাঁর ভাষায়, ওই গ্রেপ্তারের সঙ্গে গরুর মাংস, মাংস, ধর্ম বা মতাদর্শের কোনো সম্পর্ক ছিল না। পুলিশ একই সঙ্গে জানিয়েছে, তদন্ত চলায় বাড়ির মালিকের পরিচয় বা অনুমোদিত চার্জের বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
স্কুলে ভর্তি করানো নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বিরোধ
ইসরায়েলে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের ভর্তি নিয়ে স্কুলে ক্ষোভ, ক্লাস বর্জনের ঘোষণা অভিভাবকদের

ইসরায়েলের তেল আবিবে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের একটি স্কুলে ভর্তি করানো নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বিরোধ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ তেল আবিবের রোনিত এলকাবেতজ স্কুলের অভিভাবক কমিটি জানিয়েছে, ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের অভিযোগের সমাধান না হলে তারা ক্লাস বর্জন করবেন। আগামী মঙ্গলবার থেকে এই কর্মসূচি শুরু করার কথা রয়েছে।    অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলটি মূলত আশপাশের এলাকার শিশুদের জন্য নির্ধারিত হলেও বাইরে থেকে আসা অভিবাসী পরিবারের কিছু সন্তানকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের দাবি, স্থানীয় শিশুদের ক্ষেত্রে যে ভর্তি নীতি ও শর্ত প্রযোজ্য হয়েছে, অভিবাসী পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে তা একইভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। এ নিয়ে স্কুলের ভর্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।    তবে তেল আবিব সিটি কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। শহর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, স্কুলটিতে ভর্তি হওয়া অভিবাসী পরিবারের শিশুর সংখ্যা মোট শিক্ষার্থীর ১০ শতাংশেরও কম। তাদের দাবি, এসব শিক্ষার্থী বিশেষায়িত আর্টস প্রোগ্রামে ভর্তি হয়নি এবং ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম পাশ কাটিয়ে তাদের জায়গা দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগও সঠিক নয়।    বিতর্কের পেছনে রয়েছে দক্ষিণ তেল আবিবের স্কুলগুলোতে বিদেশি নাগরিক ও অভিবাসী পরিবারের শিশুদের শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন। চলতি আগস্টে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট দক্ষিণ তেল আবিবের দুটি স্কুলে বিদেশি শিশুদের অতিরিক্ত ঘনত্বকে জাতিগত বিচ্ছিন্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে রায় দেয়। আদালত শিশুদের বিভিন্ন স্কুলে আরও সমন্বিতভাবে শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশও দেয়।    এর আগে দক্ষিণ তেল আবিবের কয়েকটি স্কুলে আশ্রয়প্রার্থী ও অন্যান্য বিদেশি পরিবারের শিশুদের আলাদা হয়ে পড়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সম্প্রতি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিছু অভিবাসী শিশুকে ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের থেকে আলাদা স্কুলে পাঠানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব ঘটনা নিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় সমতা ও বৈষম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।    তেল আবিবের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় স্কুলে শিক্ষার্থী বণ্টনের ক্ষেত্রে বসবাসের এলাকার দূরত্বসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। শহর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত আবেদন হলে জায়গার প্রাপ্যতা, ভৌগোলিক দূরত্ব ও অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনা করে শিক্ষার্থী বণ্টন করা হয়।   রোনিত এলকাবেতজ স্কুলকে ঘিরে বর্তমান বিরোধ তাই শুধু কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভর্তি নিয়ে নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্থানীয় শিশুদের জন্য স্কুলে জায়গা, অভিবাসী পরিবারের শিশুদের শিক্ষার অধিকার, ভর্তি নীতির স্বচ্ছতা এবং ইসরায়েলি শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিবাসী শিশুদের একীভূত করার বৃহত্তর প্রশ্ন। অভিভাবকদের ক্লাস বর্জনের ঘোষণার পর এখন স্কুল কর্তৃপক্ষ ও সিটি প্রশাসন কীভাবে পরিস্থিতির সমাধান করে, সেদিকেই নজর রয়েছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক

অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০