সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

কানাডায় ভাড়াটিয়া গরুর মাংসের বারবিকিউ করাতে উ/ত্ত/প্ত হয়ে হা/তা/হা/তি করায় ভারতীয় নারী গ্রেফতার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৬:৫৯
কানাডায় ভাড়াটিয়া গরুর মাংসের বারবিকিউ করাতে উ/ত্ত/প্ত হয়ে হা/তা/হা/তি করায় ভারতীয় নারী গ্রেফতার
কানাডায় ভাড়াটিয়া গরুর মাংসের বারবিকিউ করাতে উ/ত্ত/প্ত হয়ে হা/তা/হা/তি করায় ভারতীয় নারী গ্রেফতার

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারিতে গরুর মাংসের বারবিকিউ নিয়ে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার বিরোধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাড়াটিয়ার প্রকাশ করা একাধিক ভিডিওতে বাড়ির মালিক রাজ টিওয়ানা-র সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং পরবর্তী কয়েকটি সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা যায়। 

 

ঘটনার শুরু হয় ভাড়াটিয়া এক বন্ধুর সঙ্গে বাড়ির বাগানে বারবিকিউতে খাবার রান্না করার সময়। ভিডিওতে রাজ টিওয়ানাকে বারবিকিউ ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানাতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, গ্রিল ব্যবহারের কারণে তাঁর বাড়ির ক্ষতি হতে পারে। ভাড়াটিয়া অবশ্য দেয়ালে থাকা দাগকে পোড়া দাগ নয়, মরিচা বলে দাবি করেন। 

 

এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একটি ভিডিওতে রাজ টিওয়ানাকে গ্রিল থেকে খাবার সরিয়ে দিতে দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাড়াটিয়া তখন গরুর মাংস রান্না করছিলেন। টিওয়ানা তাঁকে বারবিকিউ বন্ধ করতে বলেন এবং প্রয়োজনে পুলিশে ফোন করার কথা জানান। 

 

এরপর ভাড়াটিয়া ‘টিওয়ানা ফার্ম সারভাইভার’ নামে একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আরও কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, বাড়ির মালিক তাঁর ভাড়া নেওয়া ইউনিটে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করেছেন, তালা পরিবর্তন করেছেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছেন। কয়েকটি ভিডিওতে রাজ টিওয়ানার সঙ্গে ভাড়াটিয়ার শারীরিক সংঘর্ষের দৃশ্যও দেখা যায়। 

 

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে পুলিশকে রাজ টিওয়ানাকে আটক করতে দেখা যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর গ্রেপ্তারের কথা বলা হলেও, তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী অভিযোগ বা চার্জ আনা হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি। 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে গরুর মাংস খাওয়া, ধর্মীয় বিশ্বাস বা সাম্প্রদায়িক বিরোধের ঘটনা হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু সারে পুলিশ সার্ভিস এই ব্যাখ্যা নাকচ করেছে।

 

পুলিশের মিডিয়া রিলেশনস কর্মকর্তা ইয়ান ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, এটি বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার চলমান বিরোধের অংশ এবং পুলিশ একাধিকবার সেখানে হস্তক্ষেপ করেছে। তাঁর ভাষায়, ওই গ্রেপ্তারের সঙ্গে গরুর মাংস, মাংস, ধর্ম বা মতাদর্শের কোনো সম্পর্ক ছিল না। পুলিশ একই সঙ্গে জানিয়েছে, তদন্ত চলায় বাড়ির মালিকের পরিচয় বা অনুমোদিত চার্জের বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে নতুন তথ্যচিত্র
কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে নতুন তথ্যচিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘সতর্কবার্তা’ দাবি নির্মাতাদের

কানাডাকে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একটি প্রগতিশীল মডেল হিসেবে তুলে ধরা হলেও, নতুন একটি ডকুমেন্টারি সেই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ‘ব্রোকেন কান্ট্রি’ নামের এই ডকুমেন্টারির নির্মাতারা পুরো কানাডা ঘুরে ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি কানাডীয় এবং ৭০ জনের বেশি নীতি বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয়, মাদকনীতি, ইমিগ্রেশন, অপরাধ ও সরকারি ব্যয় - এসব বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছে ডকুমেন্টারিটি।   ডকুমেন্টারিতে উঠে এসেছে মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পাওয়া এক ব্যক্তির ঘটনাও। নির্মাতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরফের ওপর পড়ে তিনি মেরুদণ্ডে আঘাত পান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর সার্জনের দেখা পেতে ১৫ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করেন।   ডকুমেন্টারির পরিচালক মিরা মেটার জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি হাসপাতালে অপেক্ষা করার সময় ব্যথা কমাতে একাধিকবার মরফিন দেওয়া হয়। কিন্তু সার্জনের কাছে পৌঁছানোর সময় কোমরের নিচের অংশে তিনি আর অনুভূতি পাচ্ছিলেন না এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর স্থায়ী স্পাইনাল কর্ড ক্ষতি হয়।    নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসক পরে তাঁকে জানিয়েছিলেন, আঘাতের এক ঘণ্টার মধ্যে সার্জারি করা সম্ভব হলে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার সুযোগ পেতে পারতেন। তবে এই চিকিৎসা-সংক্রান্ত দাবি ডকুমেন্টারির নির্মাতাদের সরবরাহ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে।   ঘটনার পর ওই ব্যক্তি দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভুগতে থাকেন। নির্মাতাদের তথ্য অনুযায়ী, ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য পেইন ক্লিনিকে চিকিৎসা পেতে তাঁর ১০ মাসেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। সেখানে ব্যথার মাত্রা ১০-এর মধ্যে ১০ বলার পর তাঁকে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ডায়িং বা এমএআইডি-এর প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে পরিচালক জানিয়েছেন। ওই ব্যক্তি তখন প্রশ্ন তোলেন, তিনি মৃত্যুর সমাধান চাননি - তিনি শুধু ব্যথার চিকিৎসা চেয়েছিলেন।    ডকুমেন্টারির নির্মাতারা বলছেন, এই ঘটনা কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সংকটের একটি উদাহরণ। একই সঙ্গে তারা আবাসন ব্যয়, ইমিগ্রেশন, মাদকনীতি ও সরকারি সেবার ওপর চাপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব বক্তব্য মূলত ডকুমেন্টারির নির্মাতাদের বিশ্লেষণ ও সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে - এগুলোকে কানাডার পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার চূড়ান্ত চিত্র হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না।    পরিচালক মিরা মেটার বলেন, দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের সঙ্গে কথা বলেও তারা একই ধরনের সমস্যার কথা শুনেছেন - বাড়ি কেনার সামর্থ্য, মাসের খরচ চালানো, প্রয়োজনের সময় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এবং ফ্যামিলি ডক্টর পাওয়া যাচ্ছে কি না।   ‘ব্রোকেন কান্ট্রি’ ডকুমেন্টারিটি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ সেপ্টেম্বর সীমিত পরিসরে মুক্তি পাওয়ার কথা। পরে ২৬ অক্টোবর অ্যামাজন প্রাইমে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৭:৪৬
কানাডায় ভাড়াটিয়া গরুর মাংসের বারবিকিউ করাতে উ/ত্ত/প্ত হয়ে হা/তা/হা/তি করায় ভারতীয় নারী গ্রেফতার

কানাডায় ভাড়াটিয়া গরুর মাংসের বারবিকিউ করাতে উ/ত্ত/প্ত হয়ে হা/তা/হা/তি করায় ভারতীয় নারী গ্রেফতার

গণেশ বারাইয়া ছবি: সংগৃহীত

উচ্চতা মাত্র ৩ ফুট, বলা হয়েছিল ডাক্তার হওয়া সম্ভব নয় - আজ তিনিই রোগী দেখছেন

২ বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ৪৭ বাংলাদেশি

২ বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ৪৭ বাংলাদেশি

জীবন বাঁচাতে ডোনারের হার্ড নিয়ে ২০ কিমি পথ ১৬ মিনিটে পাড়ি দিল পুলিশ!
জীবন বাঁচাতে ডোনারের হার্ড নিয়ে ২০ কিমি পথ ১৬ মিনিটে পাড়ি দিল পুলিশ!

ভারতের উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় জীবন বাঁচাতে মাত্র ১৬ মিনিটে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে একটি ডোনার হার্ট। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানবন্দর থেকে ফোর্টিস হাসপাতাল নয়ডায় হৃদ্‌যন্ত্রটি পৌঁছে দিতে গ্রিন করিডোর তৈরি করে ট্রাফিক পুলিশ। পরে ৫০ বছর বয়সী এক রোগীর শরীরে সফলভাবে হৃদ্‌যন্ত্র প্রতিস্থাপন করা হয়।    হৃদ্‌যন্ত্রটি চণ্ডীগড় থেকে বিমানযোগে গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানবন্দরে আনা হয়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নয়ডার সেক্টর ৬২-এর ফোর্টিস হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া হয়েছিল। হৃদ্‌যন্ত্র বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরই দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তর করা হয়।   জীবন রক্ষার এই অভিযানে গাজিয়াবাদ ও গৌতমবুদ্ধনগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সমন্বয় করে পুরো রুটে গ্রিন করিডোর তৈরি করে। ফলে যানজট এড়িয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ মাত্র ১৬ মিনিটে অতিক্রম করে হাসপাতালে পৌঁছায়।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ অভিযানে শতাধিক পুলিশ সদস্যকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছিল। গাজিয়াবাদ কন্ট্রোল রুম থেকেও অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল সমন্বয় করা হয়। পুলিশের একটি এসকর্ট গাড়িও অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে ছিল।    হাসপাতালে ডোনার হার্ট পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা দ্রুত প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া শুরু করেন। ৯ সেপ্টেম্বর সফলভাবে রোগীর শরীরে হৃদ্‌যন্ত্রটি প্রতিস্থাপন করা হয়।   হৃদ্‌যন্ত্র প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দাতার শরীর থেকে বের করার পর হৃদ্‌যন্ত্র দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা যায় না। অঙ্গটি যত বেশি সময় শরীরের বাইরে থাকে, রক্ত ও অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত ক্ষতির ঝুঁকি তত বাড়ে। এ কারণে অঙ্গ সংগ্রহ, পরিবহন ও প্রতিস্থাপনের প্রতিটি ধাপে দ্রুত সমন্বয় প্রয়োজন।    চণ্ডীগড় থেকে হিন্ডন বিমানবন্দর পর্যন্ত আকাশপথে এবং এরপর গ্রিন করিডোরে সড়কপথে দ্রুত হৃদ্‌যন্ত্রটি হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় চিকিৎসক, হাসপাতাল প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সমন্বয় ছিল। এই সমন্বিত উদ্যোগেই সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সফল হয়ে একজন রোগীর জন্য নতুন জীবনের সুযোগ তৈরি হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৩:১৮
সন্তান জন্মের পর মাকে নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করে হত্যা

সন্তান জন্মের পর মাকে নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করে হত্যা! মৃত্যুর আগে করা হয় মাথা ন্যাড়া

কাঠমান্ডুর ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপের অভিযোগে হোটেল থেকে ১০ বাংলাদেশি আটক

কাঠমান্ডুর ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপের অভিযোগে হোটেল থেকে ১০ বাংলাদেশি আটক

জার্মান নারীকে  ৩৩ ছুরিকাঘাতে হত্যা সোমালি অভিবাসীর

“সুযোগ পেলে আবারও করতাম” জার্মান নারীকে ৩৩ ছুরিকাঘাতে হত্যা সোমালি অভিবাসীর

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের একটি ফাইল ছবি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের যৌথ মহড়া শেষ হতেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার একদিন পর পূর্ব উপকূল থেকে সাগরের দিকে একাধিক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। শনিবার স্থানীয় সময় ভোরে চালানো এই উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।   দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় শহর ওনসানের এলাকা থেকে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এগুলো প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ব সাগরে গিয়ে পড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সুনির্দিষ্ট ধরন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিস্তারিত বিশ্লেষণ চলছে।   দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উৎক্ষেপণের শুরু থেকেই উত্তর কোরিয়ার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। জাপানের সঙ্গেও এ বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে। সম্ভাব্য আরও উৎক্ষেপণের আশঙ্কায় দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী নজরদারি ও সতর্কতা জোরদার করেছে।   উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তর জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক করে। বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ঘটনাটিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে এবং উত্তর কোরিয়াকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানায়।   যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ উৎক্ষেপণ তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড বা দেশটির মিত্রদের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করেনি। তবে দক্ষিণ কোরিয়াসহ আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতিরক্ষায় ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি বহাল রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।   উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণটি এমন সময়ে হলো, যখন দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান তাদের পাঁচ দিনের ‘ফ্রিডম এজ’ যৌথ সামরিক মহড়া শেষ করেছে। ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ উপকূলের জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা মোকাবিলায় তিন দেশের সামরিক সমন্বয় ও প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোই ছিল মহড়ার অন্যতম লক্ষ্য।   উত্তর কোরিয়া শুরু থেকেই এই মহড়ার বিরোধিতা করে আসছিল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম সং-গি মহড়া শুরুর দিন সতর্ক করে বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়া শক্ত অবস্থান থেকে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে সম্ভাব্য আগ্রাসনের প্রস্তুতি হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া প্রায়ই দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়ার সময় বা তার পরপরই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। গত ২০ আগস্টও দেশটি পূর্ব সাগরের দিকে একাধিক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এবার ২৩ দিনের বিরতির পর আবারও একই ধরনের উৎক্ষেপণ করা হলো।   এদিকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে দেশটি ‘ক্যাং কন’ নামে প্রায় ৫ হাজার টন ওজনের একটি নতুন যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীতে যুক্ত করেছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন জানিয়েছেন, জাহাজটি দেশটির পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।   উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে তাই শুধু সামরিক মহড়ার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং দেশটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা প্রদর্শনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে উৎক্ষেপণটি যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সামরিক হামলার প্রস্তুতি নির্দেশ করে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।   সূত্র: আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ২৩:৪১
জর্ডানে অবস্থিত মুওয়াফাক সালতি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলার আগে চীনা স্যাটেলাইটের ছবি সংগ্রহ করেছিল ইরান। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলায় চীনা স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করেছে ইরান

নতুন নিয়মে কাজ শেষে বিদেশি শ্রমিকদের আর রাশিয়ায় থাকার সুযোগ থাকবে না, তাদের সরাসরি নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। ছবি: সংগৃহীত

কাজে এসে কাজ শেষেই ফিরতে হবে দেশে, রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য আসছে নতুন নিয়ম

নরওয়ের প্রয়াত রাজা হ্যারাল্ড ও তাঁর বড় বোন রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড। ছবি: সংগৃহীত

নরওয়ের রাজা হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যের দুই দিন পর মারা গেলেন রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড

0 Comments