- প্রচ্ছদ
- Topic
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা
স্টেথোস্কোপের মতো ছোট একটি যন্ত্র হাতে নিয়ে রোগীর শরীরে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করা, আর সেই পরীক্ষার ছবি বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা পাওয়া। চিকিৎসাপ্রযুক্তির এই ধারণাকে বাস্তবে এগিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সো। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ড. ইউসুফ হক। তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর, চিকিৎসা-ইমেজিং এবং ক্ষুদ্রাকৃতির ইলেকট্রনিক চিপ তৈরিতে। এক্সোর লক্ষ্য, বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড প্রযুক্তির মাধ্যমে হাসপাতালের বাইরে, এমনকি প্রত্যন্ত এলাকাতেও রোগ নির্ণয়ের কিছু সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এক্সোর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইউসুফ হক ও সন্দীপ আকারাজু। বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় ইউসুফ হক জানান, প্রথম পর্যায়ে দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে যন্ত্রটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে গ্রামীণ ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও এটি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য তাঁদের। তবে এই ঘোষণা পরিকল্পনার কথা জানায়, বাংলাদেশে যন্ত্রটির ব্যাপক ব্যবহার ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, এমনটি নিশ্চিত করে না। এক্সোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, ইউসুফ হক প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এবং প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে তাঁর কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫টি পেটেন্টের সহ-স্বত্বাধিকারী এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেছেন কানাডার কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা ও পণ্য উন্নয়নেও তিনি কাজ করেছেন। এক্সো প্রতিষ্ঠার আগে ইউসুফ হক স্লাইসএক্স বা ক্রেস্ট সেমিকন্ডাক্টরসের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠানটি দাঁতের ডিজিটাল এক্স-রে ইমেজিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করত। এরও আগে দুই দশকের বেশি সময় তিনি ম্যাক্সিম ইন্টিগ্রেটেড প্রোডাক্টসে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। ওই সময়ে তাঁর কাজের মধ্যে ছিল ডিজিটাল এক্স-রে ইমেজিংয়ের চিপসেট, রক্তে গ্লুকোজ পরিমাপের যন্ত্রে ব্যবহৃত চিপ, চিকিৎসা-আল্ট্রাসাউন্ডের ইলেকট্রনিক উপাদান এবং গাড়ির স্বয়ংক্রিয় পার্কিং ব্যবস্থায় ব্যবহৃত অতিস্বনক প্রযুক্তি। এক্সোর প্রোফাইল অনুযায়ী, বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হওয়া ৩০টিরও বেশি সমন্বিত সার্কিট পণ্য নকশায় তাঁর ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি দুই দশক ধরে আইইইইর বিভিন্ন কারিগরি কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড সিটিতে ইউসুফ হক, সন্দীপ আকারাজু, জানুস ব্রাইজেক ও জন কোকুলিস মিলে এক্সো ইমেজিং প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসা-ইমেজিং প্রযুক্তিকে আরও সহজে বহনযোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য করার ওপর গুরুত্ব দেয়। তাদের তৈরি এক্সো আইরিস একটি হাতে বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড প্রোব। প্রচলিত বড় আল্ট্রাসাউন্ড যন্ত্রের তুলনায় এটি আকারে ছোট এবং রোগীর কাছাকাছি গিয়ে পরীক্ষা করার জন্য নকশা করা হয়েছে। যন্ত্রটির সঙ্গে যুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার পরীক্ষার সময় চিকিৎসককে ছবির মান ও প্রয়োজনীয় দৃশ্য ধারণে সহায়তা করে। এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সুইপএআই। এক্সোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এটি যন্ত্রের ভেতরেই কাজ করতে পারে এবং হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষার সময় ছবির মান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেয়। প্রোবটি শরীরের ওপর দিয়ে চালানোর সময় সফটওয়্যার উপযুক্ত ছবি শনাক্ত করতে এবং পর্যাপ্ত তথ্য ধারণ হয়েছে কি না তা বুঝতে সহায়তা করে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পরীক্ষার জন্য ক্লাউড বা ইন্টারনেট সংযোগের ওপর নির্ভর করতে হয় না। তবে এর অর্থ এই নয় যে যন্ত্রটি নিজে থেকেই সব রোগের চূড়ান্ত নির্ণয় করে ফেলে। এটি চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীকে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার একটি প্রযুক্তি। এক্সোর প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুধু ছবি তোলার মান যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, আইরিসে হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে সহায়ক এআই ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং ফুসফুসের চারপাশে তরল জমা বা ফুসফুসের কিছু অংশে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মতো বিষয় শনাক্ত করতে সহায়তা করা অন্তর্ভুক্ত। এসব তথ্য চিকিৎসকের জন্য প্রাথমিক মূল্যায়নে কাজে লাগতে পারে, তবে রোগীর উপসর্গ, অন্যান্য পরীক্ষার ফল এবং চিকিৎসকের সামগ্রিক মূল্যায়নের বিকল্প নয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক্সো সুইপএআই চালুর ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যবহারের আওতায় হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় এই প্রযুক্তি সহায়তা করে। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ফুসফুসে তরল জমা এবং ফুসফুসের টিস্যুতে ঘনত্ব বা ধসের মতো পরিবর্তন শনাক্তে সহায়ক এআই ব্যবস্থার জন্য এফডিএর ৫১০(কে) ছাড়পত্রের তথ্য প্রকাশিত হয়। একই বছরের জুনে এক্সো ফুসফুসের এসব বৈশিষ্ট্য শনাক্তে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আরও তথ্য জানায়। এ ধরনের নিয়ন্ত্রক ছাড়পত্র নির্দিষ্ট ব্যবহার ও নির্দিষ্ট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সব রোগ শনাক্ত করার সামগ্রিক অনুমোদন হিসেবে একে দেখা ঠিক নয়। বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা স্বাস্থ্যসেবার একটি বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। বড় শহরের বাইরে অনেক এলাকায় উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র, প্রশিক্ষিত কর্মী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সুযোগ সীমিত। রোগীকে পরীক্ষা করাতে দূরের হাসপাতালে যেতে হলে সময় ও অর্থ দুটিই বেশি লাগে। বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড যন্ত্র স্বাস্থ্যকর্মীদের রোগীর কাছাকাছি গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে। তবে বাস্তবে এর সুফল পেতে যন্ত্রের দাম, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা-তথ্যের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজন হলে রোগীকে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এক্সোর প্রধান নির্বাহী সন্দীপ আকারাজু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের বৈঠকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পর এশিয়ায় প্রথম বাংলাদেশে প্রযুক্তিটি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক লক্ষ্য বড় হাসপাতাল হলেও ভবিষ্যতে গ্রামীণ ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এর ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ সফল হলে দূরবর্তী এলাকায় প্রাথমিক পরীক্ষা সহজ হতে পারে। তবে কোন হাসপাতাল থেকে কার্যক্রম শুরু হবে, কতটি যন্ত্র আনা হবে, এর মূল্য কত হবে এবং সাধারণ রোগীরা কখন থেকে সেবা পাবেন, সে বিষয়ে ঘোষণার সময় বিস্তারিত সময়সূচি জানানো হয়নি। ইউসুফ হকের কর্মজীবন দেখায়, চিকিৎসা-প্রযুক্তির উন্নয়নে শুধু চিকিৎসাবিদ্যা নয়, ইলেকট্রনিকস, চিপ নকশা, সফটওয়্যার ও প্রকৌশলের সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর নেতৃত্বে এক্সো যে প্রযুক্তি তৈরি করছে, তা রোগ নির্ণয়ের কিছু ধাপকে সহজ ও দ্রুত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশে এর ব্যবহার কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন, ব্যয়, প্রশিক্ষণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তিটির কার্যকর সংযোগের ওপর। আপাতত প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত পরিকল্পনা দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বহনযোগ্য ও এআই-সহায়ক পরীক্ষাপদ্ধতি যুক্ত করার একটি সম্ভাব্য পথ সামনে এনেছে। সূত্র: এক্সোর অফিসিয়াল প্রোফাইল ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রকাশনা; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর প্রতিবেদন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।