বাস্কেটবল

নিউইয়র্কে খেলা দেখতে গিয়ে গুলিতে প্রাণ হারালেন সাবেক ইউরোপিয়ান বাস্কেটবল তারকা I ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্কে খেলা দেখতে গিয়ে গুলিতে প্রাণ হারালেন সাবেক ইউরোপিয়ান বাস্কেটবল তারকা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের হারলেমে একটি বাস্কেটবল টুর্নামেন্ট চলাকালীন বন্দুকধারীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন সাবেক ইউরোপিয়ান পেশাদার বাস্কেটবল খেলোয়াড় কিনু রচফোর্ড। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে লেনক্স অ্যাভিনিউয়ের মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র টাওয়ারের কিংডোম বাস্কেটবল টুর্নামেন্টে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি লক্ষ্যভিত্তিক বা টার্গেটেড হামলা ছিল। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ৩৫ বছর বয়সী এই তারকা খেলোয়াড়ের মৃত্যু হয়। আকস্মিক এই গোলাগুলির ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।   নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) সূত্র জানায়, ব্রুকলিনের বাসিন্দা রচফোর্ড ওই টুর্নামেন্টে খেলছিলেন। তবে ঘটনার সময় তিনি বিরতিতে কোর্টের বাইরে দাঁড়িয়ে অন্য একটি ম্যাচ দেখছিলেন। সেই মুহূর্তে অপর এক ব্যক্তির সঙ্গে বচসার জেরে এই গোলাগুলির সূত্রপাত হয়। যদিও ঠিক কী নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। জেসিকা মন্টগোমারি নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গোলাগুলির শব্দ শুনে প্রাথমিকভাবে তারা এটিকে আতশবাজি ভেবেছিলেন, কিন্তু এরপর সবাই আতঙ্কিত হয়ে চারদিকে ছুটোছুটি শুরু করেন। খবর পেয়ে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রচফোর্ডকে সিপিআর দিয়ে মাউন্ট সিনাই মর্নিংসাইড হাসপাতালে নিয়ে যান, তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।   ওই টুর্নামেন্ট দেখতে সেখানে প্রায় ৫০০ দর্শকের সমাগম হয়েছিল। হামলার সময় উপস্থিত ২৮ বছর বয়সী এক তরুণের পায়ে এবং ২২ বছর বয়সী এক তরুণীর ডান হাতে গুলি লাগে। তাদের দুজনকেই স্থিতিশীল অবস্থায় হারলেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি রচফোর্ডের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এমন অর্থহীন সহিংসতা অবশ্যই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। নিউইয়র্কবাসী যেন বন্দুক সহিংসতার শিকার হওয়ার ভয় ছাড়াই খেলাধুলা ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি জোর দেন।   ফেয়ারলে ডিকিনসন ইউনিভার্সিটির (এফডিইউ) সাবেক এই তারকা খেলোয়াড় ২০১৩ সাল থেকে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেন। ফ্রান্স, কসোভো, ইসরায়েল, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ডের মতো দেশের লিগে সুনামের সঙ্গে খেলেছেন তিনি। ২০১৭ সালে লিথুয়ানিয়ান ন্যাশনাল বাস্কেটবল লিগের শিরোপাও জিতেছিলেন ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার এই পাওয়ার ফরোয়ার্ড। দীর্ঘদিনের পরিচিত ও কোচ রনি ফ্রান্সিস এই মর্মান্তিক খবরটি রচফোর্ডের মাকে জানান, যা তার জীবনের অন্যতম কঠিন মুহূর্ত ছিল বলে উল্লেখ করেন। তার অকাল মৃত্যুতে এফডিইউ নাইটস এবং বাস্কেটবল অঙ্গনের অনেকেই গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
৫৩ বছর পর চ্যাম্পিয়ন ‘নিক্স’, নিউইয়র্কের রাস্তায় লাখো ভক্তের উন্মাতাল উৎসব

দীর্ঘ ৫৩ বছরের খরা কাটিয়ে অবশেষে বাস্কেটবল টুর্নামেন্ট এনবিএ (NBA) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নিউইয়র্ক নিক্স। ঐতিহাসিক এই ট্রফি জয় উদযাপনে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে নেমেছিল লাখো মানুষের ঢল। ট্রফি জয়ী খেলোয়াড়দের এক নজর দেখতে এবং ঐতিহ্যবাহী 'টিকার-টেপ প্যারেড' উৎসবে যোগ দিতে সকাল থেকেই ব্রডওয়ে ও ব্যাটারি পার্ক এলাকায় জড়ো হন হাজার হাজার ভক্ত।   নিউইয়র্ক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্যারেড শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই (সকাল ৭টা ২৫ মিনিটের মধ্যে) দর্শকদের জন্য নির্ধারিত জায়গাগুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ভক্তদের পরনে ছিল দলের নীল ও কমলা রঙের জার্সি, ক্যাপ এবং চেইন। বাঁধভাঙা এই আনন্দের জোয়ারে অনেক ভক্তকে পুলিশের গাড়ি এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ট্রাকের ওপর উঠেও উল্লাস করতে দেখা যায়।   প্যারেডে একটি সুসজ্জিত গাড়িতে (ফ্লোট) চড়ে ট্রফি হাতে ভক্তদের অভিবাদনের জবাব দেন দলের তারকা খেলোয়াড় কার্ল-অ্যান্টনি টাউনস এবং ওজি আনুনোবি। তাদের সঙ্গে যোগ দেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও সাবেক নিক্স তারকা কারমেলো অ্যান্থনি। এছাড়া দলের দীর্ঘদিনের অন্ধ ভক্ত ও বিখ্যাত হলিউড পরিচালক স্পাইক লি, অভিনেতা বেন স্টিলার, ক্রিস রক এবং টিমোথি শালামের মতো তারকারাও এই রাজকীয় প্যারেডে অংশ নেন।   প্যারেডে অংশ নেওয়া ৬৯ বছর বয়সী জন রিভেরা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "১৯৭৩ সালে নিক্স যখন শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দলের প্রতি বিশ্বাস হারাইনি। আজকের এই উৎসব আমাকে আবারও এই শহরের আপন করে তুলেছে।" আরেক ভক্ত বারবারা ইথারেজ বলেন, "এখানে আমরা কেউ কাউকে চিনি না, সবাই সবার কাছে অপরিচিত। কিন্তু আজ এই এক জায়গায় এসে মনে হচ্ছে—আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য।"   উৎসবের আমেজ আরও বাড়িয়ে দিতে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বিখ্যাত 'বাকলাভা গাই' খ্যাত রয় ডঙ্ক পুরো প্যারেডে ভক্তদের মাঝে বিনামূল্যে মিষ্টি ও বাকলাভা বিতরণ করেন। সব মিলিয়ে নিক্সের এই শিরোপা জয় যেন পুরো নিউইয়র্ক সিটিকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলেছে।

তাবাস্সুম জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে সমর্থকদের উৎসবমুখর পরিবেশ । ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় মুখর নিউইয়র্ক, উৎসবে মেতেছে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও

নিজেদের জনপ্রিয় বাস্কেটবল এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে ঘিরে ক্রীড়া উন্মাদনায় ভাসছে নিউইয়র্ক। একদিকে এনবিএ শিরোপা জয়ের আনন্দ, অন্যদিকে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ম্যাচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। মাঠের খেলার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় উদযাপন, ফ্যান জোন এবং বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন এই আমেজকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আমেরিকানদের পাশাপাশি বাঙালিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষও অংশ নিচ্ছেন এই উৎসবে।   জানা গেছে, গত ১৩ জুন এনবিএ ফাইনাল সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে সান আন্তোনিও স্পার্সকে ৯৪-৯০ পয়েন্টে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে নিউইয়র্ক নিক্স। এই জয়ের মাধ্যমে দলটি ১৯৭৩ সালের পর প্রথমবারের মতো এনবিএ চ্যাম্পিয়ন হয়। দীর্ঘ ৫৩ বছরের অপেক্ষার অবসানে শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় ব্যাপক আবেগ ও আনন্দ।   ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় উদযাপন। ম্যানহাটন, টাইমস স্কয়ার এবং ব্রুকলিনে হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে আনন্দ প্রকাশ করেন। খেলোয়াড়দের ঘিরে তৈরি হয় নতুন ক্রীড়া নায়কত্বের আবহ। শহরের বাস্কেটবল ইতিহাসে এই সাফল্যকে বিশেষ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সমর্থকেরা। শিরোপা জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শহরজুড়ে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য প্যারেডও।   একই সময়ে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি অঞ্চল ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-কে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গত ১১ জুন শুরু হওয়া টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। বিশ্বকাপ চলাকালে এই ভেন্যু নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়াম নামে পরিচিত হবে।   আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই স্টেডিয়ামে মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, নকআউট রাউন্ডের খেলা এবং টুর্নামেন্টের ফাইনাল। আগামী ১৯ জুলাই ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   বিশ্বকাপকে ঘিরে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন, ব্রুকলিন ও কুইন্সে গড়ে তোলা হয়েছে ফ্যান জোন। বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা এবং ফ্যান ফেস্টের আয়োজন করা হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শক ও পর্যটকদের উপস্থিতিতে শহরটি এখন এক বৈশ্বিক ক্রীড়া মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।   তবে এই বৃহৎ আয়োজনের সঙ্গে কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে। দর্শনার্থীদের চাপ সামলাতে প্রশাসনকে বাড়তি ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর সময় বৃদ্ধি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মেটলাইফ স্টেডিয়াম এলাকায় নিরাপত্তা ও জনসমাগম ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।   ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। প্রিয় দল ও খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থন জানাতে অনেকে জার্সি, পতাকা এবং বিভিন্ন ধরনের ফুটবল সামগ্রী সংগ্রহ করছেন। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিশ্বকাপের আমেজ স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে। বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপের থিমে সাজানো হয়েছে।   মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং ইয়ামালের মতো তারকা ফুটবলারের জার্সির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক দোকানে ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী জার্সিতে নাম ও নম্বর সংযোজনের সেবাও দেওয়া হচ্ছে।   নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার জ্যাকসন হাইটসে জার্সির দোকান পরিচালনাকারী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, “বিশ্বকাপ শুরুর আগেই জার্সির এমন চাহিদা আমরা আগে কখনও দেখিনি। বিশেষ করে মেসি, রোনালদো আর এমবাপ্পের জার্সি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে।”   একই এলাকার ফুটবল সমর্থক রাকিবুল হাসান বলেন, “আমরা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে প্রতিদিন বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করি। খেলা শুরু হলেই পুরো এলাকা যেন উৎসবের মাঠে পরিণত হবে।”   প্রবাসী কমিউনিটি সংগঠক নাজনীন আক্তার বলেন, “এই বিশ্বকাপ আমাদের নতুন প্রজন্মকে একত্র করছে। তারা খেলা দেখার পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে এবং নিজেদের সংস্কৃতিও ভাগাভাগি করছে।”

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে নিকস ভক্তদের ভয়ংকর তাণ্ডব, স্কুল বাসে আগুন ও ভাঙচুর

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বাস্কেটবল দল নিকসের ভক্তদের উন্মাদনা চরম ধ্বংসযজ্ঞ ও তাণ্ডবে রূপ নিয়েছে। এই উৎসবমুখর এলাকায় জড়ো হওয়া উচ্ছৃঙ্খল ভক্তরা বেশ কয়েকটি স্কুল বাস ব্যাপক ভাঙচুর করার পাশাপাশি একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়।   প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, উন্মত্ত জনতা জ্বলন্ত পোশাক বাসের ভেতর ছুড়ে মারছে এবং দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা বাসের ছাদে উঠে বন্য উল্লাসে নাচানাচি করছে। ৪২তম স্ট্রিট সাবওয়ে স্টেশনের কাছে পার্ক করে রাখা বাসগুলোকে রীতিমতো ছিন্নভিন্ন করে ফেলে এই দাঙ্গাকারীরা।   হামলাকারীরা বাসের ইঞ্জিন কভার বা হুড উপড়ে ফেলে এবং কেউ কেউ সেই উন্মুক্ত ইঞ্জিনের ওপর দাঁড়িয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ উল্লাস প্রকাশ করে। রাস্তায় কাঁচের বিয়ারের বোতল ভাঙার শব্দ এবং চারদিকের তাণ্ডবে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে এক আতঙ্কিত ভক্ত চিৎকার করে বলে ওঠেন, "আমি আমার বন্ধুদের জন্য ভয় পাচ্ছি!" অন্য একটি ভিডিওতে এক নারীকে এই ধ্বংসযজ্ঞের আর্থিক ক্ষতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলতে শোনা যায়, "আপনারা কি জানেন আমাদের করের টাকায় সরকারি স্কুলগুলো চলে?" তাণ্ডবকারীদের বাসের গ্রিল ও আয়না ভেঙে রাস্তায় ফেলে তার ওপর লাফিয়ে টুকরো টুকরো করতে দেখা যায়।   ধ্বংস হওয়া একটি বাসের গায়ে স্প্রে পেইন্ট দিয়ে "লেটস গো নিকস" এবং "ফাক আইস" লিখে দেওয়া হয়।   এই ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর রাত আড়াইটার দিকে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি হস্তক্ষেপে বাধ্য হয়।   রবিবার সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, এই তাণ্ডবের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাণ্ডব চলাকালে ওই এলাকায় পার্ক করে রাখা আরেকটি বাসেও হামলার চেষ্টা করা হয়।   তবে বাসের অসহায় চালক নিজের শরীর দিয়ে বাসটিকে আড়াল করে হামলাকারীদের কাছে সেটি অক্ষত রাখার আকুতি জানান। হতাশাগ্রস্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, "এতে আমার রুটিরুজি নষ্ট হচ্ছে, এই ক্ষতিপূরণ আমার বেতন থেকেই কাটা যাবে!" এই ঘটনার পর শহরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

US Releases Official 10-Step Guide to Becoming an American Citizen Through Naturalisation

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে ১০ ধাপের সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ, গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য যা জানা জরুরি

বায়জিদ হাসান জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০