বিস্ফোরণ

ছবি: সংগৃহীত
ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল কাতার, আহত ৫৪; নিখোঁজ ১৮

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত বৃহৎ গ্যাসশিল্প এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া এখনও ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে রাজধানী দোহাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ভবনের দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে। অনেকেই প্রথমে এটিকে ভূমিকম্প বা নতুন কোনো নিরাপত্তা সংকট বলে মনে করেছিলেন।   রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ ও সিনহুয়া জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দূর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা উল্লেখ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।   ঘটনার পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল Ras Laffan Industrial City-এর ভেতরে একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি কোনো নিরাপত্তা হামলা বা বাহ্যিক নাশকতার ফল নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল, দমকল বাহিনী এবং বিশেষায়িত নিরাপত্তা ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বিস্ফোরণের ফলে গ্যাস বা অন্য কোনো ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক পদার্থ শিল্পাঞ্চলের বাইরে ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো অতিরিক্ত ঝুঁকির আশঙ্কা নেই। কাতার পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের কিছুক্ষণের মধ্যেই হতাহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তবে আহতদের অবস্থা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   রাস লাফফান শিল্পনগরী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র। কাতারের জ্বালানি খাতের একটি বড় অংশ এই শিল্পাঞ্চলকে ঘিরেই পরিচালিত হয়। ফলে সেখানে যেকোনো দুর্ঘটনা শুধু দেশটির শিল্পখাত নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।   এদিকে বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কারিগরি ত্রুটির উৎস, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত তথ্য প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছে।   সূত্র: গালফ নিউজ, সিনহুয়া, কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজি গুদামে বিস্ফোরণ: ৭ জন নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি অবৈধ আতশবাজি গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে সাতজন নিহতের ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ১ জুলাই এসপার্টো এলাকার কাছে এই বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও দুইজন আহত হন। তদন্তে উঠে এসেছে, গুদামটিতে আইনবহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ আতশবাজি মজুত রাখা হয়েছিল।   প্রধান অভিযুক্ত স্যামুয়েল মাচাডো, যিনি ওই গুদামের মালিক এবং ইয়োলো কাউন্টি শেরিফ দপ্তরের সাবেক লেফটেন্যান্ট ছিলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি নিজের প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কার্যক্রম আড়াল করে আসছিলেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে যেখানে ১৩টি কনটেইনার ছিল, তা বেড়ে গত বছর ৫০টিতে পৌঁছায়।   এই ঘটনায় আরও যাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে তারা হলেন—কেনেথ চি, জ্যাক লি, গ্যারি চ্যান জুনিয়র এবং ডগলাস টোলেফসেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন আতশবাজি ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং গুদামটি ব্যবহার করতেন সংরক্ষণ ও বিক্রির কাজে।   অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মোট আটজনের বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হত্যা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অবৈধ বিস্ফোরক রাখা, বীমা জালিয়াতি, শিশু বিপন্ন করা এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা।   এ ঘটনায় স্যামুয়েল মাচাডোর স্ত্রী ট্যামি মাচাডোকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তবে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকি, বন্ধক জালিয়াতি এবং পরিবারের পাশে অবৈধ বিস্ফোরক রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।   তদন্তকারীরা জানান, বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশপাশের বাড়ির দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা এটিকে ‘বোমা বিস্ফোরণের মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন।   ঘটনায় নিহতদের মধ্যে কয়েকজন গুদামের কর্মী ছিলেন। বিস্ফোরণের পর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজি উৎসব বাতিল করতে বাধ্য হয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় দায়ীদের আদালতে হাজির করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের রাজধানী তেহরান -পুরোনো ছবি
তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখা গেছে

ইরানের রাজধানী তেহরানে রোববার (২৯ মার্চ) ভোরে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সঠিক স্থান ও কারণ সম্পর্কে পরে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে।   বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তাদের সাংবাদিকরা উত্তর তেহরানে সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। ওই সময়ে সেখানে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। তবে কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   পরবর্তীতে আলজাজিরা জানায়, বাংলাদেশ সময় সকাল প্রায় ১১টায় উত্তর তেহরানে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আরও কয়েকটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ ধরা পড়ে। এরপর সাংবাদিকরা একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি ওঠতে দেখেছেন।   উল্লেখ্য, ওই এলাকায় অনেক সামরিক স্থাপনা থাকলেও সাধারণ মানুষের আবাসস্থলও রয়েছে। তাই নতুন হামলার সঠিক লক্ষ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর থেকে সংঘর্ষ চলছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে, যা সামরিক অবকাঠামোর পাশাপাশি অসংখ্য বেসামরিক স্থাপনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।   সূত্র: আলজাজিরা

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
যুক্তরাষ্ট্রের তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

যুক্তরাষ্ট্র-এর টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের পোর্ট আর্থার শহরের একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।   সোমবার ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জ্বালানি কোম্পানি Valero Energy-এর মালিকানাধীন শোধনাগারে ঘটে। ঘটনার পরপরই শহরের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানায়, শোধনাগার সংলগ্ন এলাকার সবাইকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।   কোম্পানির পক্ষ থেকে আলাদা এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিস্ফোরণের পর সকল কর্মীর খোঁজ পাওয়া গেছে এবং কেউ নিখোঁজ নেই। কর্মীদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, শোধনাগারটিতে আগুনের বিশাল শিখা জ্বলছে এবং সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই প্রবল ছিল যে আশপাশের বাড়িঘরের জানালার কাঁচ ভেঙে গেছে।   উল্লেখ্য, পোর্ট আর্থার শহরটি হিউস্টন থেকে প্রায় ৯০ মাইল পূর্বে অবস্থিত। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শোধনাগারটিতে প্রায় ৮০০ কর্মী কাজ করেন এবং প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। এখান থেকে গ্যাসোলিন, ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করা হয়।   সূত্র : এএফপি

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০
বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি সমারিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ। ফাইল ফটো
বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিক বিস্ফোরণ, নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন জুফায়ার সামরিক ঘাঁটি-তে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বীপরাষ্ট্রটির বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা টেলিগ্রামের মাধ্যমে নাগরিকদের নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সাইরেন বাজিয়ে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।   চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার ওপর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, তবে বিস্ফোরণের কারণ ও প্রভাব নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০