- প্রচ্ছদ
- Topic
বিস্ফোরণ
রাজধানীতে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি বক্তব্য নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা দেখছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তবে তাকে বাস্তবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে বিস্ফোরক দ্রব্য ও মুখোশ উদ্ধারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-সাউথ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া এ কথা জানান। সাংবাদিকরা জানতে চান, রাজধানীতে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় শুধু কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িত কি না, নাকি এর সঙ্গে অন্য কোনো পক্ষও যুক্ত রয়েছে। প্রশ্নের প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। জবাবে তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কেন ওই বক্তব্য দিয়েছেন, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বক্তব্যটির কারণ ও প্রেক্ষাপট পরিষ্কার করার জন্য বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানা প্রয়োজন। এরপর সাংবাদিকরা সরাসরি জানতে চান, প্রয়োজনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে কি না। জবাবে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত জানাতে পারবেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর যে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রশ্নটি উঠেছে, সেটি তিনি গত ২১ আগস্ট রাতে রাজধানীর নেভিগলিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দিয়েছিলেন বলে ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, এনসিপি তিনটি দাবিতে রাজপথে রয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ রাখা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের ঘটনার বিচার রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব দাবি সরকার মেনে নিলে ঢাকায় আর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না। এই বক্তব্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পুলিশ দাবি করেনি। বরং ডিএমপির কর্মকর্তার বক্তব্যে মূলত ওই বক্তব্যের কারণ ও প্রেক্ষাপট জানতে চাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এদিকে একই সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি জানায়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য ও ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় অসৎ উদ্দেশ্যে তৈরি করা ৯ হাজার কাগজের মুখোশও উদ্ধার করা হয়। অভিযানে জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ, এসব ঘটনায় কারা জড়িত এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের পেছনে কী প্রেক্ষাপট ছিল—এসব প্রশ্ন ঘিরে পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। তবে শুক্রবার পর্যন্ত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি ডিএমপি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘দু–একটা ককটেল ফুটিয়ে সরকারের কিছু করা যাবে না।’ বক্তব্যটির মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনা দিয়ে সরকারকে চাপে ফেলা সম্ভব নয়—এমন অবস্থানই তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট মন্তব্যটি কোথায় ও কখন করা হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য প্রকাশিত সূত্র এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন জাহেদ উর রহমান। গত ১ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এর আগে ২৫ আগস্ট সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। সে সময় জাহেদ উর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ ধরনের ঘটনা যত ঘটেছিল, তার তুলনায় বর্তমানে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে দু–একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা যে ঘটছে, সেটিও তিনি অস্বীকার করেননি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়েও সাম্প্রতিক ব্রিফিংয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তথ্য উপদেষ্টা। ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি বলেন, দেশে মিথ্যা মামলা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যায্য পদক্ষেপের বিচ্ছিন্ন ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—সরকার এমন দাবি করছে না। এই প্রেক্ষাপটে ককটেল বিস্ফোরণসহ যেকোনো ধরনের সহিংস ঘটনাকে ঘিরে সরকারের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করা হলেও বিচ্ছিন্ন ঘটনা যে ঘটছে, সেটিও স্বীকার করা হচ্ছে। তবে ‘দু–একটা ককটেল ফুটিয়ে সরকারের কিছু করা যাবে না’—এই বক্তব্যটির পূর্ণ ভিডিও, সরকারি ব্রিফিংয়ের নথি বা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বক্তব্যটির সঠিক স্থান, তারিখ এবং কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এটি বলা হয়েছে, তা আরও নির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের একটি নির্জন অংশে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার একটি ভিডিওতে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনের পাশে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি বিস্ফোরণ হতে দেখা যায়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড স্টেশন কর্তৃপক্ষের বরাতে জানিয়েছে, রাত প্রায় ১০টা ৩৭ মিনিটে ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ৩০ নম্বর পিলারের কাছে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। ঢাকা রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার নিকুলিন চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের ঘটনায় কেউ হতাহত হননি এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার পর স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা শুরু করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বিস্ফোরণের আগে ও পরে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্ল্যাটফর্মকেন্দ্রিক টহল ও অন্যান্য নিরাপত্তা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। কমলাপুরের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন একই সন্ধ্যায় রাজধানীর আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণ ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার খবর আসে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে যাত্রাবাড়ী থানার বিপরীতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মিরপুর ও বাড্ডায় তিনটি স্টাফ বাস এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনে একটি পিকআপে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে মিরপুরে দুটি ও বাড্ডায় একটি স্টাফ বাসে আগুন দেওয়া হয়। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনেও একটি পিকআপে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। কালবেলার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মো. বিল্লাল নামের ৩২ বছর বয়সী এক রিকশাচালক আহত হন। কমলাপুর দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলোর একটি। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী এখান থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। ফলে প্ল্যাটফর্মে বিস্ফোরণের ঘটনাটি যাত্রীনিরাপত্তার বিষয়টিকে সামনে এনেছে। ঘটনার পর পুলিশ স্টেশন ও আশপাশে নজরদারি এবং টহল বাড়িয়েছে। তবে কমলাপুরের বিস্ফোরণের দায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের ওপর নিশ্চিতভাবে আরোপ করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাই তদন্তের ফল না আসা পর্যন্ত কারা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে—সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
রাজধানীর মালিবাগে ফরচুন শপিং মলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর এ ঘটনায় ব্যস্ত এলাকাটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনুসন্ধান করছে। প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে মালিবাগ এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ফরচুন শপিং মলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের তথ্য প্রকাশ করেছে একাধিক সংবাদমাধ্যম। অন্যদিকে ঢাকা টাইমস পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বিকেল প্রায় ৩টার দিকে মালিবাগ রেলগেটসংলগ্ন প্রধান সড়কে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা দুটি ককটেল নিচের সড়কে নিক্ষেপ করে। তবে এসব বর্ণনা একই ঘটনার ভিন্ন বিবরণ কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে জনবহুল এলাকায় এ ধরনের বিস্ফোরণ স্বাভাবিকভাবেই পথচারী, ব্যবসায়ী ও আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।কারা ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মালিবাগের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজধানীর আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। জগন্নাথ হলের সামনে দুটি এবং টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়কে আরেকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। সেখানেও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল দল এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়। জগন্নাথ হলের সামনের বিস্ফোরণ কীভাবে ঘটানো হয়েছিল, সে বিষয়ে সে সময় বিভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেলেও তদন্তের আগে কোনো একটি বর্ণনাকে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। টিএসসি এলাকার বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলে এসে ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যাওয়ার তথ্য প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। এর আগে একই দিন, ১৫ সেপ্টেম্বর, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের কাছেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারপতিদের প্রবেশপথের সামনে বিস্ফোরণটি ঘটে বলে সমসাময়িক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় ঘোষণার পর। তবে রায়ের সঙ্গে বিস্ফোরণের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ; শুধু সময়ের নৈকট্য থেকে কোনো উদ্দেশ্য বা দায় নির্ধারণ করা যায় না। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং মালিবাগের মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। তবে ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সাংগঠনিক বা অন্য ধরনের যোগসূত্র রয়েছে—এমন তথ্য এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি। মালিবাগের সর্বশেষ ঘটনায় তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলাকারীদের পরিচয় বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বক্তব্য থেকেই ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও জড়িতদের সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালিবাগের বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের খবর নেই। কারা ককটেল নিক্ষেপ করেছে এবং কেন করেছে—এখন তদন্তের প্রধান প্রশ্ন সেটিই।
যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের গ্র্যানভিলে জন্মদিনের পার্টি চলাকালে একটি বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন ৪৬ বছর বয়সী সারাহ ও’সুলিভান এবং তার ২০ বছর বয়সী ছেলে লিয়াম ও’সুলিভান। পার্টিটি ছিল পরিবারের একজনের জন্মদিন উপলক্ষে। গত ৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিটে গ্র্যানভিলের কানেকটিকাট ট্রেইলের একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর লিয়ামকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়। গুরুতর আহত সারাহকে গিফোর্ড মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে পরে তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তে দুজনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিস্ফোরণে সৃষ্ট আঘাতের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনার সময় বাড়িটিতে জন্মদিনের আয়োজন চলছিল। বিস্ফোরণে আরও তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক আহত হন। তাদের মধ্যে ৬৯ বছর বয়সী শিলা হ্যামন্ড গুরুতর আহত অবস্থায় অন্য অঙ্গরাজ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর দুজন তুলনামূলকভাবে সামান্য আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকট শব্দের পর কয়েকটি বাড়িতে জানালা ও দেয়ালের জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একজন প্রতিবেশী জানান, বিস্ফোরণের কয়েক মিনিট পর তিনি বাতাসে গ্যাসের গন্ধও পেয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি সন্দেহজনক নয় বলে জানিয়েছিল ভারমন্ট স্টেট পুলিশ। পরে ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটির ফায়ার অ্যান্ড এক্সপ্লোশন ইনভেস্টিগেশন ইউনিট নিশ্চিত করে, বাড়ির ভেতরে প্রোপেন গ্যাস লিক থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটে। তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত একটি গ্রিলের সঙ্গে প্রোপেন গ্যাস লিকের সম্ভাব্য সম্পর্ক ছিল। তবে কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তদন্তে মূল কারণ হিসেবে বাড়ির ভেতরের প্রোপেন লিককেই চিহ্নিত করা হয়েছে। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে ভারমন্ট স্টেট পুলিশের ফায়ার অ্যান্ড এক্সপ্লোশন ইনভেস্টিগেশন ইউনিট, ব্যুরো অব ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন, ফিল্ড ফোর্স ডিভিশন, ভিকটিম সার্ভিসেস ইউনিট, ডিভিশন অব ফায়ার সেফটি এবং গ্র্যানভিল ভলান্টিয়ার ফায়ার ডিপার্টমেন্ট কাজ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি আবাসিক এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণে একটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে আশপাশের বাড়িগুলো কেঁপে ওঠে এবং জানালার কাঁচ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় দমকল বিভাগ জানায়, বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে একাধিক ফায়ার ইউনিট, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। ধ্বংসস্তূপে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। কর্তৃপক্ষ আহতদের চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ নিশ্চিত করা না গেলেও, গ্যাস লিকসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনের কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং বিস্ফোরণের উৎস নির্ধারণে দমকল বিভাগের অগ্নিতদন্ত ইউনিট, স্থানীয় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে কাজ করছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় প্রবেশে সতর্কতা জারি রেখেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত বৃহৎ গ্যাসশিল্প এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া এখনও ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে রাজধানী দোহাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ভবনের দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে। অনেকেই প্রথমে এটিকে ভূমিকম্প বা নতুন কোনো নিরাপত্তা সংকট বলে মনে করেছিলেন। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ ও সিনহুয়া জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দূর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা উল্লেখ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল Ras Laffan Industrial City-এর ভেতরে একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি কোনো নিরাপত্তা হামলা বা বাহ্যিক নাশকতার ফল নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল, দমকল বাহিনী এবং বিশেষায়িত নিরাপত্তা ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বিস্ফোরণের ফলে গ্যাস বা অন্য কোনো ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক পদার্থ শিল্পাঞ্চলের বাইরে ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো অতিরিক্ত ঝুঁকির আশঙ্কা নেই। কাতার পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের কিছুক্ষণের মধ্যেই হতাহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তবে আহতদের অবস্থা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাস লাফফান শিল্পনগরী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র। কাতারের জ্বালানি খাতের একটি বড় অংশ এই শিল্পাঞ্চলকে ঘিরেই পরিচালিত হয়। ফলে সেখানে যেকোনো দুর্ঘটনা শুধু দেশটির শিল্পখাত নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। এদিকে বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কারিগরি ত্রুটির উৎস, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত তথ্য প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছে। সূত্র: গালফ নিউজ, সিনহুয়া, কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি অবৈধ আতশবাজি গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে সাতজন নিহতের ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ১ জুলাই এসপার্টো এলাকার কাছে এই বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও দুইজন আহত হন। তদন্তে উঠে এসেছে, গুদামটিতে আইনবহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ আতশবাজি মজুত রাখা হয়েছিল। প্রধান অভিযুক্ত স্যামুয়েল মাচাডো, যিনি ওই গুদামের মালিক এবং ইয়োলো কাউন্টি শেরিফ দপ্তরের সাবেক লেফটেন্যান্ট ছিলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি নিজের প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কার্যক্রম আড়াল করে আসছিলেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে যেখানে ১৩টি কনটেইনার ছিল, তা বেড়ে গত বছর ৫০টিতে পৌঁছায়। এই ঘটনায় আরও যাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে তারা হলেন—কেনেথ চি, জ্যাক লি, গ্যারি চ্যান জুনিয়র এবং ডগলাস টোলেফসেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন আতশবাজি ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং গুদামটি ব্যবহার করতেন সংরক্ষণ ও বিক্রির কাজে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মোট আটজনের বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হত্যা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অবৈধ বিস্ফোরক রাখা, বীমা জালিয়াতি, শিশু বিপন্ন করা এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা। এ ঘটনায় স্যামুয়েল মাচাডোর স্ত্রী ট্যামি মাচাডোকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তবে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকি, বন্ধক জালিয়াতি এবং পরিবারের পাশে অবৈধ বিস্ফোরক রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানান, বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশপাশের বাড়ির দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা এটিকে ‘বোমা বিস্ফোরণের মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন। ঘটনায় নিহতদের মধ্যে কয়েকজন গুদামের কর্মী ছিলেন। বিস্ফোরণের পর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজি উৎসব বাতিল করতে বাধ্য হয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় দায়ীদের আদালতে হাজির করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ইরানের রাজধানী তেহরানে রোববার (২৯ মার্চ) ভোরে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সঠিক স্থান ও কারণ সম্পর্কে পরে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তাদের সাংবাদিকরা উত্তর তেহরানে সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। ওই সময়ে সেখানে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। তবে কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরবর্তীতে আলজাজিরা জানায়, বাংলাদেশ সময় সকাল প্রায় ১১টায় উত্তর তেহরানে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আরও কয়েকটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ ধরা পড়ে। এরপর সাংবাদিকরা একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি ওঠতে দেখেছেন। উল্লেখ্য, ওই এলাকায় অনেক সামরিক স্থাপনা থাকলেও সাধারণ মানুষের আবাসস্থলও রয়েছে। তাই নতুন হামলার সঠিক লক্ষ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর থেকে সংঘর্ষ চলছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে, যা সামরিক অবকাঠামোর পাশাপাশি অসংখ্য বেসামরিক স্থাপনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সূত্র: আলজাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র-এর টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের পোর্ট আর্থার শহরের একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। সোমবার ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জ্বালানি কোম্পানি Valero Energy-এর মালিকানাধীন শোধনাগারে ঘটে। ঘটনার পরপরই শহরের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানায়, শোধনাগার সংলগ্ন এলাকার সবাইকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। কোম্পানির পক্ষ থেকে আলাদা এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিস্ফোরণের পর সকল কর্মীর খোঁজ পাওয়া গেছে এবং কেউ নিখোঁজ নেই। কর্মীদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, শোধনাগারটিতে আগুনের বিশাল শিখা জ্বলছে এবং সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই প্রবল ছিল যে আশপাশের বাড়িঘরের জানালার কাঁচ ভেঙে গেছে। উল্লেখ্য, পোর্ট আর্থার শহরটি হিউস্টন থেকে প্রায় ৯০ মাইল পূর্বে অবস্থিত। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শোধনাগারটিতে প্রায় ৮০০ কর্মী কাজ করেন এবং প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। এখান থেকে গ্যাসোলিন, ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করা হয়। সূত্র : এএফপি
বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন জুফায়ার সামরিক ঘাঁটি-তে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বীপরাষ্ট্রটির বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা টেলিগ্রামের মাধ্যমে নাগরিকদের নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সাইরেন বাজিয়ে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার ওপর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, তবে বিস্ফোরণের কারণ ও প্রভাব নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।