বিস্ফোরণ

যুক্তরাষ্ট্রের তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
যুক্তরাষ্ট্রের তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

যুক্তরাষ্ট্র-এর টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের পোর্ট আর্থার শহরের একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।   সোমবার ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জ্বালানি কোম্পানি Valero Energy-এর মালিকানাধীন শোধনাগারে ঘটে। ঘটনার পরপরই শহরের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানায়, শোধনাগার সংলগ্ন এলাকার সবাইকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।   কোম্পানির পক্ষ থেকে আলাদা এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিস্ফোরণের পর সকল কর্মীর খোঁজ পাওয়া গেছে এবং কেউ নিখোঁজ নেই। কর্মীদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, শোধনাগারটিতে আগুনের বিশাল শিখা জ্বলছে এবং সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই প্রবল ছিল যে আশপাশের বাড়িঘরের জানালার কাঁচ ভেঙে গেছে।   উল্লেখ্য, পোর্ট আর্থার শহরটি হিউস্টন থেকে প্রায় ৯০ মাইল পূর্বে অবস্থিত। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শোধনাগারটিতে প্রায় ৮০০ কর্মী কাজ করেন এবং প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। এখান থেকে গ্যাসোলিন, ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করা হয়।   সূত্র : এএফপি

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি সমারিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ। ফাইল ফটো
বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিক বিস্ফোরণ, নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন জুফায়ার সামরিক ঘাঁটি-তে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বীপরাষ্ট্রটির বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা টেলিগ্রামের মাধ্যমে নাগরিকদের নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সাইরেন বাজিয়ে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।   চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার ওপর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, তবে বিস্ফোরণের কারণ ও প্রভাব নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
প্রবাসী আব্দুল্লাহ আল মামুন
সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ময়মনসিংহের প্রবাসী আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৫) মারা গেছেন। তিনি গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের শহীদ সওদাগরের ছেলে।   পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ ইফতারের ঠিক আগে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে একটি শ্রমিক ক্যাম্পে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ক্যাম্পটি আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির অধীনে ছিল। বিস্ফোরণে মামুন গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাকে স্থানীয় ডাক্তার সোলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।   হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) গভীর রাতে, লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে।   নিহতের স্বজনরা জানান, বিস্ফোরণে তার শরীরের প্রায় ৭২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। মামুনের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে।   এ ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি—কিশোরগঞ্জের বাচ্চু মিয়া এবং টাঙ্গাইলের মোশাররফ হোসেন—নিহত হন। এছাড়া মামুনসহ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
লাক্কি মারওয়াত এলাকায় টহলরত একটি পুলিশ গাড়ির কাছে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ফাইল ছবি
পাকিস্তানে বোমা বিস্ফোরণে সাত পুলিশ সদস্য নিহত

লাক্কি মারওয়াত এলাকায় টহলরত একটি পুলিশ গাড়ির কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনায় সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সামা টিভি।   কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের এই এলাকায় নিয়মিত টহল চলাকালে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। এতে একটি টহল গাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজন সদস্য নিহত হন।   জেলা পুলিশের প্রধান কর্মকর্তা (ডিপিও) জানান, বিস্ফোরণটি একটি পুলিশ যানবাহনের খুব কাছে ঘটে। সে সময় টহলরত দলটি দায়িত্ব পালন করছিল। শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।   নিহতদের মধ্যে সদর থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) আজমসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। নিহত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন কনস্টেবল শাহ বাহরাম, শাহ খালিদ, হাজি মুহাম্মদ, গুলজাদা ও সাখি জাদা।   ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে। বিস্ফোরণের ধরন এবং কারা এ হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
বিস্ফোরণে কাঁপল দুবাই
বিস্ফোরণে কাঁপল দুবাই

দুবাইয়ের কেন্দ্রীয় অংশে শুক্রবার (১৩ মার্চ) একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের সময় কিছু ভবন কেঁপে ওঠে এবং আকাশে ঘন ধোঁয়ার চিহ্ন দেখা যায়।   বার্তা সংস্থা এএফপির একজন প্রতিবেদক জানিয়েছেন, তিনি দুটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন, যার প্রভাবে আশেপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে।   দুবাই মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষের কারণে একটি ভবনের বাইরের অংশে সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর নেই।   প্রতিবেদকের তথ্য অনুযায়ী, শেখ জায়েদ রোডের দিক থেকে সাইরেনের শব্দও শোনা গেছে।   ঘটনার পরপরই এলাকা ঘিরে ফেলে দুবাই পুলিশ। জানা গেছে, বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষের কারণে একটি ভবন উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল সেন্টার (ডিআইএফসি) এলাকায়।   তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
নরওয়ের রাজধানী অসলোতে মার্কিন দূতাবাসের কাছে বিস্ফোরণ
নরওয়ের রাজধানী অসলোতে মার্কিন দূতাবাসের কাছে বিস্ফোরণ

নরওয়ের রাজধানী অসলোতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাছাকাছি এলাকায় একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।   বিস্ফোরণের কারণ কী এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত— এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। নরওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তারা নিয়মিতভাবে মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।   এদিকে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। কিছু জায়গায় হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।   তবে অসলোতে মার্কিন দূতাবাসের কাছে যে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তার সঙ্গে এই আঞ্চলিক উত্তেজনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না— সে বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি অসলো পুলিশ।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৮, ২০২৬ 0
কাতার
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সব ধরনের ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়ালো কাতার

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত বিমান চলাচল সংকটের কথা বিবেচনা করে বড় ঘোষণা দিয়েছে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের প্রবেশ ভিসার (Entry Visa) মেয়াদ এক মাসের জন্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই বিশেষ সুবিধা কার্যকর করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।   মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সম্প্রসারণ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে। এর জন্য প্রবাসীদের কোনো ফি প্রদান করতে হবে না এবং কোনো সরকারি দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট বিভাগে সশরীরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এমনকি বাড়তি কোনো আবেদন জমা দেওয়ারও বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। মূলত বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে যারা যাতায়াত নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন, তাদের স্বস্তি দিতেই কাতার সরকার এই মানবিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।   তবে যারা ২৮ ফেব্রুয়ারির আগেই ভিসার মেয়াদ শেষ করে আইন লঙ্ঘন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা ভিন্ন। মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, ওই নির্দিষ্ট তারিখের আগের সময়টুকুর জন্য প্রযোজ্য জরিমানা বা নিষ্পত্তির অর্থ পরিশোধ করতে হবে। জরিমানা পরিশোধের পর থেকেই কেবল বর্ধিত এক মাসের মেয়াদ এবং ফি অব্যাহতির সুবিধাটি তাদের জন্য কার্যকর হবে। কাতারের এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও ভ্রমণকারী বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক জটিলতা থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩, ২০২৬ 0
বিক্ষোভ
ইরানে হা/মলা বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাতে সোমবার (২ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন। তীব্র শীত উপেক্ষা করে দেশটির প্রধান শহরগুলোতে আয়োজিত এই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ থেকে অবিলম্বে সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানানো হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   ‘জাতীয় প্রতিবাদ দিবস’ পালন   যুদ্ধ ও দখলদারিত্ব বিরোধী সংগঠন ‘অ্যানসার কোয়ালিশন’ সোমবারকে ‘ইরান যুদ্ধ বন্ধ করো’ স্লোগানে জাতীয় প্রতিবাদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছিল। তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বোস্টন, নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো এবং পোর্টল্যান্ডসহ অসংখ্য শহরে পরিকল্পিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।   শহরভিত্তিক বিক্ষোভের চিত্র: বোস্টন: তীব্র তুষারপাত ও হিমাঙ্করের নিচের তাপমাত্রা উপেক্ষা করে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। তারা এই অভিযানকে একটি ‘অনৈতিক ও বিপজ্জনক যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিউ ইয়র্ক (ম্যানহাটান): ম্যানহাটানে বিক্ষোভকারীদের একটি বিশাল দল শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা করে। তাদের হাতে থাকা ব্যানার ও পোস্টারে লেখা ছিল— ‘এখনই ইরান থেকে হাত গুটিয়ে নাও’। লস অ্যাঞ্জেলেস: ক্যালিফোর্নিয়ার এই শহরে বিক্ষোভকারীরা বিশাল র‍্যালি বের করেন। তারা ‘ইরানে কোনো যুদ্ধ নয়’ স্লোগান দিয়ে মার্কিন প্রশাসনকে সংঘাত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। শিকাগো ও অন্যান্য: এছাড়া ওরেগন, উইসকনসিনের ম্যাডিসন এবং শিকাগোতেও ছোট-বড় অসংখ্য প্রতিবাদ সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে।   ভিন্নমত টাইমস স্কয়ারে   তবে নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ভিন্ন চিত্রও লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে কয়েক ডজন ইরানি-আমেরিকান নাগরিক ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নিহতের খবরকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেন। তারা ইরানে বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবি জানান। টিনা রাহভার নামে এক ইরানি-আমেরিকান বিক্ষোভকারী বলেন, “নিজের মাতৃভূমি আক্রান্ত হলে কেউ খুশি হয় না। কিন্তু যখন একটি দেশের জাতি মুক্তির জন্য বোমা হামলার আকুতি জানায়, তখন বুঝতে হবে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ।”   ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরের পর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ইরানি কমিউনিটির মধ্যে এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে সাধারণ মানুষ যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে শঙ্কিত, অন্যদিকে প্রবাসীদের একাংশ একে পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩, ২০২৬ 0
ছবি: রয়টার্স
মার্কিন নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার নির্দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের বহু দেশ ত্যাগের নির্দেশনা দিয়েছে। মঙ্গলবার এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহার করে দ্রুত নিচের দেশগুলো ত্যাগ করুন।’   সতর্কবার্তায় অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।   এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাহরাইন, জর্ডান ও ইরাক থেকে অনেক কর্মীকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাহরাইন ও জর্ডানে কর্মরত মার্কিন কর্মীদের পরিবারের সদস্যদেরও দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে।   মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। লেবাননে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।   রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র দাবি করেন, দুটি ড্রোন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে আঘাত হেনেছে এবং এতে আগুন লাগে। পরে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।   এদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে অঞ্চলজুড়ে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চলছে। সংঘাত চতুর্থ দিনে গড়ালেও থামার কোনো ইঙ্গিত নেই।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে জেরুজালেমও রয়েছে বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে তেহরান ও বৈরুতে হামলা চালানোর কথাও জানানো হয়েছে।   ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবির সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, বিস্ফোরণ ঘটলেও সম্প্রচারে বড় ধরনের বিঘ্ন হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় ইরানে এক হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও নৌবাহিনীর স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, সংঘাতের তৃতীয় দিন পর্যন্ত ইরানে শতাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার জবাব শিগগিরই দেওয়া হবে। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান হবে ‘দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক’।   অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩, ২০২৬ 0
রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হা/মলা
সৌদির রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হা/মলা: দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টিত কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ভোরে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা, যার পরপরই দূতাবাস প্রাঙ্গণ থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দূতাবাস সীমানার ভেতরে আগুনের শিখা দেখা যায়। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী নিশ্চিত করেছেন যে, বিস্ফোরণের পর ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এটি মূলত দুটি ড্রোন হামলার ফল। এতে দূতাবাসে 'সীমিত আকারে' আগুন লাগলেও বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে স্থাপনার কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে একটি জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া এক বার্তায় সৌদি আরবে অবস্থানরত সকল মার্কিন নাগরিককে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই অঞ্চলের সামরিক স্থাপনাগুলোর আশেপাশে অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা এবং ভ্রমণ সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই হামলার পেছনে কারা জড়িত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র এবং সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য না পাওয়া গেলেও পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩, ২০২৬ 0
কাতার-আমিরাতের পর বিস্ফোরণে কাঁপল ইরাক
কাতার-আমিরাতের পর বিস্ফোরণে কাঁপল ইরাক

ইরাকের এরবিল বিমানবন্দর এলাকায় আজ জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই বিমানবন্দরে মূলত যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।   বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক সোমবার (২ মার্চ) এই ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। আগেই এএফপির একজন আলোকচিত্রী জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের নিকটে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এরবিলের আকাশে একাধিক ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। শহরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় কনস্যুলেট কমপ্লেক্সও রয়েছে।   একই সময়ে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে এবং কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দোহায় প্রায় ছয়টি শক্তিশালী বিস্ফোরণ শোনা গেছে, যা ইরানের হামলা এখনও চলমান থাকার ইঙ্গিত দিতে পারে।   উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অভিযান ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে। ইরানি আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, এই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন।   এই হামলার জেরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি বিভিন্ন গালফ দেশ এবং অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২, ২০২৬ 0
বাবা শাখাওয়াত ও ভাই শাওনের সঙ্গে শিশু উম্মে আইমান (মাঝখানে) । ছবি: স্বজনদের সৌজন্য
হালিশহরে বিস্ফোরণ: দগ্ধ তিন শিশু জানে না পরিবারের আর কেউ বেঁচে নেই

চট্টগ্রামের হালিশহরে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ তিন শিশু এখনো জানে না তাদের পরিবারের অন্য কেউ আর বেঁচে নেই। আগুনে পোড়া শরীর নিয়ে ঢাকায় হাসপাতালের শয্যায় কাতরাচ্ছে ১০ বছরের উম্মে আইমান। মাঝেমধ্যে সে মা–বাবাকে দেখতে চেয়ে আকুতি জানায়, অথচ তার মা–বাবা ও বড় ভাই ইতোমধ্যে মারা গেছেন।   উম্মে আইমান চিকিৎসাধীন রয়েছে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট–এ। একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে তার চাচাতো ভাই–বোন আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ (৬)। তাদের মা–বাবাও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শিশুদের এখনো জানানো হয়নি পরিবারের অন্য সদস্যদের মৃত্যুর খবর।   গত সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিশহর এলাকার ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে ফ্ল্যাটে থাকা ৯ জন দগ্ধ হন। এর মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে তিন শিশু।   ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, গ্যাস লাইনে লিকেজ থেকে নির্গত গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তবে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড গ্যাস লিকেজের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।   দুর্ঘটনার সময় ফ্ল্যাটটিতে ছিলেন তিন ভাই শাখাওয়াত হোসেন (৪৯), সামির আহমেদ (৪০) ও শিপন হোসেন (৩০)। শাখাওয়াত ও সামিরের স্ত্রী ও সন্তানরাও সেখানে ছিলেন। বিস্ফোরণে সবাই দগ্ধ হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন ভাইসহ শাখাওয়াতের স্ত্রী নুরজাহান বেগম ও সামিরের স্ত্রী পাখি আক্তারের মৃত্যু হয়। বেঁচে রয়েছে কেবল তিন শিশু আইমান, আয়েশা ও ফারহান।   স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী সামির সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য দেশে ফিরে ভাইয়ের বাসায় উঠেছিলেন।   চিকিৎসকদের তথ্যমতে, আইমানের শরীরের ৩৮ শতাংশ, ফারহানের ৩০ শতাংশ এবং আয়েশার ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার সন্ধ্যায় শিপন হোসেনের মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান।   শিশুদের খোঁজখবর রাখছেন শাখাওয়াতের ব্যবসায়িক অংশীদার মনসুর আলী। তিনি বলেন, তিন শিশুর অবস্থাই গুরুতর। তারা বারবার মা–বাবাকে খুঁজছে, কিন্তু পরিবারের অন্যদের মৃত্যুর বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি।   এদিকে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। তদন্তে ফায়ার সার্ভিস, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও জেলা প্রশাসন পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
নারিন্দায় এসির গ্যাস বিস্ফোরণে একজন নিহত

রাজধানীর পুরান ঢাকার নারিন্দা এলাকায় একটি বাসায় এসির গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে দগ্ধ হয়ে মো. সেলিম (৩৩) মারা গেছেন। শুক্রবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় সেলিমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার শরীরের শতভাগ দগ্ধ ছিল। আইসিইউতে নিবিড় চিকিৎসা চলাকালে তিনি মারা যান।   একই ঘটনায় দগ্ধ মো. মোক্তার বেপারী (৫৫) ও সেলিনা আক্তার (৪৫) বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের তথ্যমতে, মোক্তার বেপারীর শরীরের ২২ শতাংশ এবং সেলিনা আক্তারের শরীরের ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।   এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে দগ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে সেলিমের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারিন্দা এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। ওই বাসায় একাধিক এসির গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকেই গ্যাস লিকেজ হয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনের একটি দেয়াল ধসে পড়ে পাশের একটি টিনশেডের ওপর।   ঘটনার পর স্থানীয়রা বাসা থেকে বেশ কয়েকটি এসির গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করেন এবং দগ্ধদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠান।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
কক্সবাজার শহরের কলাতলী আদর্শগ্রামে গ্যাসপাম্পে বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের ঘরবাড়িতে। বুধবার রাতের চিত্র। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারে এলপিজি পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: আগুনে ঘরবাড়ি পুড়ে আতঙ্ক

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় একটি এলপিজি গ্যাসপাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত আনুমানিক নয়টার দিকে কলাতলী বাইপাস সড়কের আদর্শগ্রাম এলাকায় অবস্থিত এন আলম এলপিজি গ্যাসপাম্প-এ এ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর আগুন দ্রুত আশপাশের বসতবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।   প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর গ্যাসপাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে আগুন ধরে যায়। পাম্পের কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর ট্যাংকে জমে থাকা গ্যাসে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন পুনরায় ছড়িয়ে পড়ে।   ঘটনাস্থলের আশপাশে অন্তত পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি রয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম দিকে অবস্থিত কলাতলী হোটেল–মোটেল জোন এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। বিস্ফোরণের আগুন রাত ১১টার মধ্যে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয় এবং অনেকে পাহাড়ি এলাকায় নিরাপদ আশ্রয় নেন।   আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর সাতটি ইউনিট এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদস্যরা। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানান অলক বিশ্বাস।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে চালু হওয়া এই পাম্পে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার লিটার এলপিজি গ্যাস মজুত ছিল। বিস্ফোরণের ফলে ট্যাংক থেকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের অনেক ঘরবাড়ি আগুনে পুড়ে যায়। ঘরের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারগুলোও থেমে থেমে বিস্ফোরিত হতে থাকে।   ঘটনার পর রাত আটটা থেকে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। ফলে হোটেল–মোটেল জোনের অন্তত দুই শতাধিক স্থাপনা অন্ধকারে রয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন, এটি নাশকতামূলক ঘটনা হতে পারে, তবে কর্তৃপক্ষ এখনো বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।   এ ঘটনায় প্রায় ১০ থেকে ১২ জন দগ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ মা-ছেলের পর আরও একজনের মৃত্যু
চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: মা-ছেলের পর আরও একজনের মৃত্যু

চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণ কেড়ে নিল আরও একটি প্রাণ। মা ও ছেলের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এই শোকাবহ সংবাদে স্তব্ধ পুরো এলাকা।  সোমবার ভোরের সেই বিভীষিকা এখন এক পরিবারের সাত সদস্যের জীবন-মরণের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩: জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা-ছেলেসহ মোট তিনজন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাকি ৭ জনের অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আজ সকালে বার্ন ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী। গ্যাস লিকেজ ও মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার জনিত দুর্ঘটনা রোধে এখন থেকে তিনটি মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে। চট্টগ্রামের এই ঘটনার পাশাপাশি কুমিল্লা এবং রাজধানীর রায়েরবাজারেও একই ধরনের গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছেন আরও ৮ জন। ঘরোয়া গ্যাস সংযোগ এবং সিলিন্ডার ব্যবহারে সচেতনতা এখন সময়ের দাবি।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ নারী-শিশুসহ ৯ জন আহত
চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: নারী-শিশুসহ ৯ জন আহত

চট্টগ্রামের হালিশহরে সোমবার ভোরে একটি বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে নারী ও শিশু সহ নয়জন ব্যক্তি দগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণটি ঘটেছে হালিশহরের এইচ ব্লকের এসি মসজিদ সংলগ্ন এলাকায়।   দগ্ধদের সবাইকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর।   দগ্ধদের মধ্যে আছেন: শাখাওয়াত হোসেন (৪৬), মো. শিপন (৩০), মো. সুমন (৪০), মো. শাওন (১৭), মো. আনাস (৭), মো. আইমান (৯), আয়েশা আক্তার (৪), পাখি আক্তার (৩৫) ও রানী আক্তার (৪০)।   ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিমা মঞ্জিল নামে একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে স্থানীয়রা আগুন লাগার আগে দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।   বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী আলমগীর হোসেন জানান, বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার হয়নি। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সরবরাহকৃত গ্যাসের লিকের কারণে রান্নাঘরে গ্যাস জমে যায় এবং তার ফলেই বিস্ফোরণ ঘটে।   স্থানীয়রা জানান, বাসায় মূলত দুই ভাইয়ের পরিবার থাকলেও, সম্প্রতি বিদেশ থেকে আরেক ভাই পরিবারসহ চিকিৎসার জন্য দেশে এসে অবস্থান করছিলেন। তিনটি পরিবারের সদস্যরাই এই বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
ইসলামাবাদের মসজিদে বিস্ফোরণ ৩১ জন প্রাণহানি, শতাধিক আহত
ইসলামাবাদের মসজিদে বিস্ফোরণ: ৩১ জন প্রাণহানি, শতাধিক আহত

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও ১৬৯ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি জুমার নামাজের সময় মসজিদটি বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। ২০২৩ সালে পেশোয়ারের একটি মসজিদে বড় বিস্ফোরণের পর এটি পাকিস্তানে কোনো মসজিদে সংঘটিত সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানায়, পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবানের (টিটিপি) এক সন্ত্রাসী হামলাটি চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনও কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, আত্মঘাতী হামলাকারীকে মসজিদের প্রবেশদ্বারে আটকানোর চেষ্টা করা হলে তিনি নিজের শরীরে থাকা বোমা বিস্ফোরণ ঘটান। ইসলামাবাদ প্রশাসনের বরাতে জানা গেছে, আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মসজিদের ভেতরে মরদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এবং জানালার কাচ ভেঙে গেছে। এই ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে ইসলামাবাদ ডিস্ট্রিক জুডিশিয়াল কমপ্লেক্সে এক আত্মঘাতী হামলায় ১২ জন নিহত হন। এর আগে, ২০০৮ সালে ইসলামাবাদের ম্যারিয়ট হোটেলের সামনে বোমা বিস্ফোরণে ৬৩ জন নিহত এবং ২৫০-এর বেশি আহত হয়েছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব কি বন্ধ? ইউএস ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে কী বলা আছে

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস  এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

Top week

বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?
আমেরিকা

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0