- প্রচ্ছদ
- Topic
ভোক্তা অধিকার
অ্যামাজন প্রাইমের সাবস্ক্রিপশন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সঙ্গে করা ২৫০ কোটি ডলারের নিষ্পত্তির আওতায় গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হয়েছে। নতুন করে আরও কয়েক মিলিয়ন গ্রাহক এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হয়েছেন। যোগ্য গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ফেরতের সর্বোচ্চ মোট পরিমাণ ২০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। নতুন দফার অর্থ পাঠানো শুরু হয়েছে ১ অক্টোবর থেকে এবং এর জন্য গ্রাহকদের আলাদা করে কোনো আবেদন করতে হচ্ছে না। এফটিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যামাজনের সঙ্গে এই নিষ্পত্তি হয়েছিল। সংস্থাটির অভিযোগ ছিল, অ্যামাজন এমন কিছু নকশা ও প্রক্রিয়া ব্যবহার করেছে, যার মাধ্যমে গ্রাহকদের অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রাইম সদস্যপদে যুক্ত করা এবং পরে সেই সদস্যপদ বাতিল করা কঠিন করে তোলা হয়েছিল। অ্যামাজন অবশ্য এসব অভিযোগের দায় স্বীকার করেনি। নিষ্পত্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ানি জরিমানা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের জন্য ১৫০ কোটি ডলার ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়। এফটিসির ভাষায়, অ্যামাজনের ব্যবহৃত কিছু পদ্ধতিকে ‘ডার্ক প্যাটার্ন’ বলা হয়। অর্থাৎ ওয়েবসাইট বা অ্যাপের এমন নকশা, যা ব্যবহারকারীকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করতে পারে। সংস্থাটির মামলায় বলা হয়েছিল, প্রাইমে যুক্ত হওয়ার সময় সদস্যপদ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ সহজে চোখে পড়ত না এবং সদস্যপদ বাতিলের প্রক্রিয়াটিও ছিল দীর্ঘ ও জটিল। এমনকি অ্যামাজনের কর্মীরা বাতিলের প্রক্রিয়াটিকে অভ্যন্তরীণভাবে ‘ইলিয়াড’ নামে অভিহিত করতেন বলে এফটিসির অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল। নতুন সংশোধিত নিষ্পত্তির আওতায় এবার এমন গ্রাহকরাও অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যারা অ্যামাজন প্রাইমের ১১ থেকে ২০টি সুবিধা যেকোনো ১২ মাসের সময়ে ব্যবহার করেছেন। এর আগে অপেক্ষাকৃত কম সুবিধা ব্যবহার করা গ্রাহকদের জন্য ফেরতের ব্যবস্থা ছিল। এফটিসি জানিয়েছে, নতুন যোগ্য গ্রাহকদের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানো হচ্ছে এবং তাদের কোনো দাবি দাখিল, নোটিশের জবাব বা অতিরিক্ত ফরম পূরণ করতে হবে না। তবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট গ্রাহকরাই এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য। এফটিসির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যামাজন প্রাইম গ্রাহক হতে হবে এবং ২৩ জুন ২০১৯ থেকে ২৩ জুন ২০২৫-এর মধ্যে এফটিসির চ্যালেঞ্জ করা কোনো পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাইম সদস্যপদে যুক্ত হয়ে থাকতে হবে। পাশাপাশি সদস্যপদ নেওয়ার পর যেকোনো ১২ মাসের সময়ে সর্বোচ্চ ২০টি প্রাইম সুবিধা ব্যবহার করা হয়ে থাকতে হবে। প্রাইম সুবিধার মধ্যে অ্যামাজনের বিভিন্ন সেবা ও সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে প্রাইমের মাধ্যমে পাওয়া দ্রুত পণ্য সরবরাহ, প্রাইম ভিডিও বা প্রাইম মিউজিকের মতো সুবিধার ব্যবহার হিসাবের মধ্যে পড়তে পারে। এফটিসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক এক বছরের মধ্যে এসব সুবিধা যতবার ব্যবহার করেছেন, তা মোট ব্যবহারের সংখ্যা নির্ধারণে বিবেচনা করা হবে। তবে যেসব গ্রাহক নিয়মিতভাবে প্রাইমের বহু সুবিধা ব্যবহার করেছেন, এই ফেরত কর্মসূচি মূলত তাদের জন্য তৈরি হয়নি। প্রথম দফায় যোগ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৫১ ডলার পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। সংশোধিত নিষ্পত্তিতে সেই সীমা বাড়িয়ে মোট ২০০ ডলার করা হয়েছে। ফলে কেউ যদি আগের দফায় ৫১ ডলার পেয়ে থাকেন, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে আরও সর্বোচ্চ ১৪৯ ডলার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এফটিসি জানিয়েছে, গ্রাহকরা মোট কত অর্থ পাবেন তা তাদের প্রাইম সদস্যপদ বাবদ দেওয়া অর্থ এবং নিষ্পত্তির আওতায় তাদের যোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে। অর্থ ফেরতের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হবে না। যোগ্য গ্রাহকদের অর্থ ইলেকট্রনিক পেমেন্টের মাধ্যমে পেপ্যাল বা ভেনমোতে পাঠানো হবে, অথবা ডাকযোগে চেক পাঠানো হবে। এফটিসি জানিয়েছে, অর্থ পাওয়ার জন্য কাউকে আগে থেকে টাকা দেওয়া, ব্যক্তিগত তথ্য সরবরাহ করা বা কোনো তৃতীয় পক্ষকে অর্থের বিনিময়ে ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হলে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের যোগাযোগ প্রতারণার চেষ্টা হতে পারে। এফটিসি আরও জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অ্যামাজন ইতোমধ্যে যোগ্য প্রাইম গ্রাহকদের ৮৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি ফেরত দিয়েছে। নতুন সংশোধিত ব্যবস্থার আওতায় স্বয়ংক্রিয় অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। অর্থাৎ এখনো যারা অর্থ পাননি, তাদের ক্ষেত্রে যোগ্যতা থাকলে পরবর্তী সময়েও অর্থ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি আগের দফায় অর্থ পাওয়া কিছু গ্রাহকের জন্য আরও অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এফটিসির সংশোধিত আদেশ অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে গ্রাহকদের গ্রহণ করা অর্থ নির্ধারিত সীমায় না পৌঁছালে অতিরিক্ত অর্থ বিতরণ করা হবে। আগের অর্থ গ্রহণ করা যোগ্য গ্রাহকরা সর্বোচ্চ আরও ১৪৯ ডলার পেতে পারেন, যার ফলে তাদের মোট ফেরত ২০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার দফা ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে অর্থ ফেরতের নামে প্রতারণা নিয়ে সতর্ক করেছে এফটিসি। সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা এই অর্থ ফেরতের বিষয়ে গ্রাহকদের ফোন করে অর্থ চাইবে না। অ্যামাজনও ফেরত পাওয়ার জন্য কোনো গ্রাহকের কাছে টাকা চাইবে না। তাই কেউ যদি নিজেকে এফটিসি বা অ্যামাজনের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে অর্থ দাবি করে কিংবা ফেরত নিশ্চিত করার বিনিময়ে ফি চায়, তার সঙ্গে লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। সূত্র: ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি)
ডিজিটাল মূল্যতালিকা চালুর পর গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ দূর করতে নতুন করে আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন ফার্নার জানিয়েছেন, গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য, কেনাকাটার ইতিহাস, আয় বা কোনো পণ্যের জন্য তিনি কত টাকা দিতে রাজি হতে পারেন, এসব তথ্য ব্যবহার করে আলাদা আলাদা দাম নির্ধারণ করবে না ওয়ালমার্ট। শুক্রবার ওয়ালমার্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ফার্নার বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ‘ব্যক্তির পরিচয় নয়, পণ্যের মূল্য’ নির্ধারণের নীতিতে থাকবে। তার ভাষ্য, কে পণ্যটি কিনছেন বা দিনের কোন সময়ে কিনছেন, তার ওপর ভিত্তি করে একই পণ্যের জন্য আলাদা দাম নেওয়া হবে না। ওয়ালমার্টের দোকানগুলোতে কাগজের মূল্যতালিকার পরিবর্তে ধীরে ধীরে ছোট ডিজিটাল পর্দা বা ডিজিটাল শেলফ লেবেল বসানো হচ্ছে। এসব পর্দায় পণ্যের দাম দেখানো হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে দাম পরিবর্তন করা যায়। প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গ্রাহক ও ভোক্তা অধিকারকর্মীর মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তিভেদে পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হতে পারে কি না। ওয়ালমার্ট অবশ্য বলছে, ডিজিটাল শেলফ লেবেলের কাজ শুধু পণ্যের দাম প্রদর্শন করা। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব লেবেল গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে না, তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে না এবং নিজেরা পণ্যের দাম নির্ধারণও করে না। অনুমোদিত মূল্য পরিবর্তন কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে করা হয় এবং দোকানের তাকের দাম ও ক্যাশ কাউন্টারে নেওয়া দাম একই রাখাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ফার্নার আরও জানিয়েছেন, ওয়ালমার্টের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটা সহকারী ‘স্পার্কি’র ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। গ্রাহক স্পার্কির সঙ্গে কী তথ্য শেয়ার করছেন বা তার কেনাকাটার ইতিহাস কী, সেসবের ভিত্তিতে বেশি দাম নেওয়া হবে না। একইভাবে কোনো গ্রাহকের প্রয়োজনের সঙ্গে মেলে এমন কম দামের পণ্য গোপন করার জন্যও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। ডিজিটাল মূল্যতালিকার ব্যবহার ওয়ালমার্টে দ্রুত বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটি মার্চে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ওয়ালমার্ট শাখায় তখন এই প্রযুক্তি চালু ছিল এবং আগামী এক বছরের মধ্যে পুরো মার্কিন শাখা নেটওয়ার্কে এটি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ওয়ালমার্টের মতে, কাগজের লেবেল বদলানোর পরিবর্তে ডিজিটাল লেবেল ব্যবহারে কর্মীদের সময় সাশ্রয় হচ্ছে। নতুন পণ্য আসা, ছাড়ের দাম পরিবর্তন বা বিশেষ মূল্য নির্ধারণের মতো ক্ষেত্রে কর্মীদের হাতে হাতে হাজার হাজার কাগজের লেবেল বদলাতে হয় না। ফলে দোকানের তাকের দাম দ্রুত হালনাগাদ করা এবং ক্যাশ রেজিস্টারে থাকা দামের সঙ্গে মিল রাখা সহজ হচ্ছে। তবে বিষয়টি সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রক পর্যায়েও আলোচনা চলছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে কোনো গ্রাহক একটি পণ্যের জন্য কত টাকা দিতে রাজি হতে পারেন, সেই ধারণার ভিত্তিতে দাম নির্ধারণের বিষয়ে একটি প্রস্তাবিত নীতিমালা প্রকাশ করে। কমিশন বলেছে, কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে দাম নির্ধারণ করলে এবং সে বিষয়টি গ্রাহকদের কাছে যথাযথভাবে প্রকাশ না করলে তা ভোক্তা সুরক্ষা আইনের আওতায় প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এফটিসি অবশ্য বলেছে, সব ধরনের ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নিষিদ্ধ করার আইনগত ক্ষমতা তাদের নেই। তবে বিভ্রান্তিকর বা অন্যায্যভাবে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন প্রয়োগ করা হতে পারে। আগস্টে প্রকাশিত প্রস্তাবের ওপর জনমত নেওয়ার সময়সীমাও পরে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে ওয়ালমার্টের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের উদ্দেশে দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল মূল্যব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফার্নারের বক্তব্য অনুযায়ী, বাজার পরিস্থিতির কারণে পণ্যের দাম কমতে বা বাড়তে পারে। কোনো পণ্য কম দামে সংগ্রহ করা গেলে ওয়ালমার্ট সেই সাশ্রয় গ্রাহকদের দিতে পারে। আবার পণ্য সংগ্রহ বা পরিবহনের খরচ বেড়ে গেলে দামও বাড়তে পারে। তবে ব্যক্তিগত গ্রাহকের তথ্য বা তার অর্থ দেওয়ার সক্ষমতার ভিত্তিতে একই পণ্যের জন্য আলাদা দাম নেওয়া হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন। সূত্র: ওয়ালমার্ট
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কস্টকোর কিছু গ্রাহক একটি ক্লাস অ্যাকশন মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। নির্দিষ্ট অভিযোগের আওতায় থাকা গ্রাহকদের জন্য এই অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মামলাটি কস্টকোর কিছু নির্দিষ্ট পণ্য ও গ্রাহক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে করা হয়েছিল। অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, প্রতিষ্ঠানটির কিছু কার্যক্রমের কারণে গ্রাহকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে কস্টকো অভিযোগগুলো স্বীকার করেনি এবং কোনো অনিয়ম করার কথা অস্বীকার করেছে। চূড়ান্ত নিষ্পত্তির মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হচ্ছে। আদালতের অনুমোদিত নিষ্পত্তি চুক্তি অনুযায়ী, যোগ্য গ্রাহকরা তাদের দাবির ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি জমা দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়েছেন, তারাই এই অর্থ পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন। ক্লাস অ্যাকশন মামলা হলো এমন একটি আইনি প্রক্রিয়া যেখানে একই ধরনের অভিযোগ থাকা অনেক ব্যক্তি একসঙ্গে একটি মামলা করেন। এতে প্রত্যেক ব্যক্তিকে আলাদাভাবে মামলা পরিচালনা করতে হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় কোম্পানির বিরুদ্ধে এমন নিষ্পত্তি গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কোনো ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আগে গ্রাহকদের অবশ্যই নিজেদের যোগ্যতা, দাবির শর্ত এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কস্টকো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় সদস্যভিত্তিক খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান, যেখানে লাখ লাখ গ্রাহক নিয়মিত পণ্য কেনাকাটা করেন। এ ধরনের আইনি নিষ্পত্তি তাই বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের নজরে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজন প্রাইম গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর। অ্যামাজনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন বা এফটিসির ২.৫ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতার আওতায় যোগ্য গ্রাহকেরা প্রাইম সদস্যপদের জন্য পরিশোধ করা অর্থের একটি অংশ ফেরত পেতে পারেন। যারা ইতোমধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিফান্ড পাননি, তাদের ক্লেম করার শেষ সময় ২৭ জুলাই ২০২৬। এফটিসির অভিযোগ ছিল, অ্যামাজন অনেক গ্রাহককে তাদের যথাযথ ও স্পষ্ট সম্মতি ছাড়াই প্রাইম সদস্যপদে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং সদস্যপদ বাতিলের প্রক্রিয়াকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল করে তুলেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মামলাটি নিষ্পত্তিতে ২.৫ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় পৌঁছায় অ্যামাজন। তবে প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগের দায় স্বীকার করেনি। সমঝোতার মোট অর্থের পুরোটাই গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে না। এর মধ্যে ১.৫ বিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে যোগ্য গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য। বাকি ১ বিলিয়ন ডলার অ্যামাজনকে দেওয়ানি জরিমানা হিসেবে দিতে হচ্ছে। এফটিসির তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী একজন গ্রাহক প্রাইম সদস্যপদের জন্য পরিশোধ করা অর্থ থেকে সর্বোচ্চ ৫১ ডলার পর্যন্ত ফেরত পেতে পারেন। কারা রিফান্ড পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন এফটিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যামাজন প্রাইম গ্রাহক হতে হবে। ২৩ জুন ২০১৯ থেকে ২৩ জুন ২০২৫ সালের মধ্যে এফটিসির মামলায় চ্যালেঞ্জ করা নির্দিষ্ট পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাইম সদস্যপদ নেওয়া অথবা ওই সময়ে অনলাইনে প্রাইম সদস্যপদ বাতিল করতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি যোগ্যতা নির্ধারণে বিবেচিত হবে। চ্যালেঞ্জ করা পদ্ধতিগুলোর মধ্যে অ্যামাজনের প্রাইমে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তসংক্রান্ত পৃষ্ঠা, পণ্য পাঠানোর পদ্ধতি নির্বাচনের পৃষ্ঠা, এক পাতার ক্রয় সম্পন্ন করার ব্যবস্থা এবং প্রাইম ভিডিওতে সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে একজন গ্রাহক ঠিক কোন পদ্ধতিতে প্রাইমে যুক্ত হয়েছিলেন, সেটি তাকে নিজে খুঁজে বের করতে হবে না। অ্যামাজনের কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করা হবে। ইতোমধ্যে অনেক গ্রাহক রিফান্ড পেয়েছেন অ্যামাজন ২০২৫ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে যোগ্য অনেক প্রাইম গ্রাহককে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ ফেরত দিয়েছে। যারা সেই পর্যায়ে রিফান্ড পেয়েছেন, তাদের একই অর্থের জন্য নতুন করে দাবি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যেসব যোগ্য গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিফান্ড পাননি, তাদের কাছে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ই-মেইল অথবা ডাকযোগে ক্লেম করার নোটিশ পাঠানো শুরু হয়। ক্লেম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৭ জুলাই ২০২৬। ক্লেম জমা দেওয়ার সময় গ্রাহককে মূলত নিশ্চিত করতে হবে, সংশ্লিষ্ট সময়ে তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রাইম সদস্যপদে যুক্ত হয়েছিলেন কি না অথবা অনলাইনে সদস্যপদ বাতিলের চেষ্টা করেও তা সম্পন্ন করতে পারেননি কি না। ক্লেম যাচাইয়ের পর অনুমোদিত হলে একজন গ্রাহক প্রাইম সদস্যপদের জন্য পরিশোধ করা অর্থ থেকে সর্বোচ্চ ৫১ ডলার পর্যন্ত ফেরত পেতে পারেন। অনুমোদিত গ্রাহকেরা চেক, পেপ্যাল অথবা ভেনমোর মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের সুযোগ পেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি গ্রাহকদেরও খোঁজ নেওয়া উচিত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা সংশ্লিষ্ট সময়ে অ্যামাজন প্রাইম ব্যবহার করেছেন, তাদেরও নিজের যোগ্যতা যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে অ্যামাজন অথবা সমঝোতার অর্থ ফেরত কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত ই-মেইল বা চিঠি পেয়ে থাকলে সেটি ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি। তবে ২.৫ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতার কথা শুনে প্রত্যেক অ্যামাজন প্রাইম গ্রাহক রিফান্ড পাবেন, এমন নয়। কেবল সমঝোতায় নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী গ্রাহকেরাই অর্থ ফেরত পাওয়ার যোগ্য হবেন। রিফান্ডের নামে প্রতারণা থেকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এফটিসি। সংস্থাটি জানিয়েছে, অ্যামাজনের এই রিফান্ড দেওয়ার কথা বলে এফটিসি কাউকে ফোন করছে না। রিফান্ড পেতে কোনো ধরনের ফি দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। অর্থের বিনিময়ে কেউ নিশ্চিত রিফান্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে সেটিকে প্রতারণার লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল ও তার আভিযানিক দলকে সম্প্রতি বিশেষ সাক্ষাৎ ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সাক্ষাতে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় কাজ করা এই দলটির ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন তিনি। সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জব্বার মণ্ডল জানান, প্রধানমন্ত্রী তাদের টিমের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, তবে বিশেষ নির্দেশনার বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি তিনি। এদিকে, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় এসব প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনিকে নিয়ে গঠিত এই কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে চলমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। উক্ত সভায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা তাদের মাঠপর্যায়ের নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে জনবল সংকট, আধুনিক পরীক্ষাগারের অভাব এবং শক্তিশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় নিরাপত্তাঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি জানান তারা। এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী সব প্রতিবন্ধকতা জয় করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে অতিরিক্ত দাম ও ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে আব্দুল জব্বার মণ্ডলের নিরলস ও সাহসী অভিযান সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৭২৮ টাকা নির্ধারণ করলেও লক্ষ্মীপুরে তার কোনো প্রতিফলন নেই। জেলার বিভিন্ন বাজারে সরকারি দরের তোয়াক্কা না করে সিলিন্ডারপ্রতি অতিরিক্ত ৪৭০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ ভোক্তাদের নাভিশ্বাস উঠলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার ২২০০ থেকে ২৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিইআরসি দাম বাড়ানোর ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় খুচরা বিক্রেতা ও ডিলাররা একজোট হয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে ক্রেতাদের অভিযোগ। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় এই সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা একে অপরকে দোষারোপ করছেন। ডিলারদের দাবি, তারা নিজেরাই বেশি দামে গ্যাস কিনছেন। অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, কোম্পানি পর্যায় থেকেই তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বিধায় বাড়তি দামে বিক্রি করা ছাড়া উপায় নেই। অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য থামাতে এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে জেলার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ দ্রুত বাজার অভিযান ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।