- প্রচ্ছদ
- Topic
ভোটাধিকার
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য ফেডারেল হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তাদের গোপনে প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দিচ্ছেন দেশটির বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে ভোটগ্রহণ ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাজ্য পর্যায়ে আগাম পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এসব আশঙ্কা সম্ভাব্য পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, ফেডারেল হস্তক্ষেপ ঘটেছে—এমন প্রমাণ নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা খাতে অভিজ্ঞ প্রায় ১০ জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা অন্তত ১০টি অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি এবং কংগ্রেসের উভয় দলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। প্রশাসনের প্রতিশোধের আশঙ্কায় তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তাদের উদ্বেগের ভিত্তি কোনো গোপন গোয়েন্দা তথ্য নয়; বরং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের প্রকাশ্য বক্তব্য এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিশ্লেষণ। কর্মকর্তাদের আশঙ্কার একটি বিষয় হলো, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে সামরিক বাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড কিংবা অভিবাসন কর্মকর্তাদের মোতায়েন করা হতে পারে। এ ছাড়া ভোটের ব্যালট ও নির্বাচনী নথি জব্দ করা, ভোটার তালিকায় ফেডারেল সরকারের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং ডাকযোগে ভোট দেওয়ার নিয়ম কঠোর করার সম্ভাবনাও তাদের উদ্বেগের তালিকায় রয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে রাজ্যগুলোর নিজস্ব নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন। নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তারাও সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভোটকেন্দ্রে কোনো ফেডারেল এজেন্ট উপস্থিত হলে কী করতে হবে, পরিচয়পত্র কীভাবে যাচাই করতে হবে এবং আদালতের স্বাক্ষরিত পরোয়ানা ছাড়া নির্বাচনী উপকরণ হস্তান্তর করা যাবে কি না—এসব বিষয় নিয়ে তাদের প্রস্তুতি চলছে। ভোটের ব্যালট গ্রহণ থেকে গণনা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নথিপত্রের হেফাজত ও নিরাপত্তা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের প্রচেষ্টা এবং বিভিন্ন রাজ্যের ভোটার তালিকা পর্যালোচনার উদ্যোগও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। প্রশাসন এসব পদক্ষেপের পক্ষে নির্বাচনী জালিয়াতি প্রতিরোধের যুক্তি তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করেন, ফেডারেল সরকারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ রাজ্যগুলোর নির্বাচনী কর্তৃত্ব ও ভোটগ্রহণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা ফেডারেল সংস্থা সাইবারসিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সির (সিআইএসএ) বাজেট ও জনবল কমে যাওয়া নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এদিকে হোয়াইট হাউস এসব উদ্বেগের সঙ্গে একমত নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কঠোর আইন কার্যকর করা এবং জালিয়াতি প্রতিরোধ করাই তাদের লক্ষ্য। প্রশাসন নির্বাচনে ফেডারেল হস্তক্ষেপের আশঙ্কাকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্যালিফোর্নিয়াসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ভোটকেন্দ্রে ফেডারেল এজেন্টদের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচনী যন্ত্রপাতি জব্দের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন ভোটারদের নিরাপত্তা, ভোটগ্রহণের স্বাধীনতা এবং ব্যালটের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন রাজ্য কর্মকর্তাদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ। নির্বাচনের আগে এসব প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল সরকার ও অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচনী ক্ষমতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে। তবে কর্মকর্তারা যে পরিস্থিতিগুলোর আশঙ্কা করছেন, সেগুলো সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে; সেগুলো ঘটবেই, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্বাচনসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে ২৮ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যটির ভোটার তালিকায় থাকা ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যালট গণনা বন্ধের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ফেডারেল সরকার। তবে ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ এই তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং বলেছে, যাচাই করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য তাদের দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ১৯ অক্টোবর জানায়, ‘অপারেশন প্রোটেক্ট দ্য ভোট’ নামের একটি উদ্যোগের আওতায় ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় মার্কিন নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ফেডারেল নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ২৮ জনই যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী। তবে গ্রিন কার্ড থাকলেই মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না। স্থায়ী বাসিন্দারা বৈধভাবে দেশটিতে বসবাস ও কাজ করতে পারলেও সাধারণভাবে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার তাঁদের নেই। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, অভিযুক্তদের কেউ কেউ ভোটার নিবন্ধনের সময় নিজেদের মার্কিন নাগরিক বলে দাবি করেছিলেন। তাঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিচার এখনো শেষ হয়নি। ফলে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, গত সাত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্যে অবৈধ ভোট দেওয়া এবং বেআইনিভাবে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের অভিযোগে মোট ১১৩ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় অ-মার্কিন নাগরিকের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, নিবন্ধন ফরমে নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং একাধিকবার ভোট দেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে অক্টোবরের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলার তথ্য প্রকাশ করছে বিচার বিভাগ। ৫ অক্টোবর ১৬ জন অ-মার্কিন নাগরিককে ঘিরে নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগের কথা জানানো হয়। ১২ অক্টোবর অবৈধ ভোট ও প্রতারণামূলক নিবন্ধনসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার তথ্য প্রকাশ করা হয়। ১৬ অক্টোবর নর্থ ক্যারোলাইনা, নিউইয়র্ক ও আইডাহোর ১৬ জনকে ঘিরে অভিযোগের কথা জানানো হয়। এরপর ১৯ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার ঘোষণা আসে। এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে রাজ্যটির বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। বিচার বিভাগের মামলায় বলা হয়েছে, রাজ্যের ভোটার তালিকায় ২০ হাজারের বেশি এমন ব্যক্তির নাম রয়েছে, যাঁদের সরকার সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক বলে মনে করছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ চায়, এসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যালট গণনা বন্ধ রাখা হোক। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা এই দাবি মেনে নেননি। রাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার বলেছেন, তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাই করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য রাজ্যকে দেওয়া হয়নি। রাজ্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে অযোগ্য ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করলে বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ঠেকাতে রাজ্যে বিদ্যমান সুরক্ষাব্যবস্থাও রয়েছে বলে তারা দাবি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ বিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর প্রশাসন যেসব ব্যালটকে সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত করেছে, সেগুলো গণনা করা হলে ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তাদের কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বিচার বিভাগ সতর্ক করেছে, কোনো নির্বাচনী কর্মকর্তা জেনেশুনে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট গ্রহণ বা গণনায় সহায়তা করলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত কিংবা ফৌজদারি মামলা হতে পারে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ভোটারকে সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করাই কোনো নির্বাচনী কর্মকর্তার অপরাধ প্রমাণ করে না। ফৌজদারি দায় প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রমাণ করতে হবে, কর্মকর্তা জানতেন যে ভোটারটি ভোট দেওয়ার যোগ্য নন এবং জেনেশুনে তাঁকে বেআইনি ভোট দিতে সহায়তা করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিশংসন মামলায় তাঁর পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করা আইনজীবী মাইকেল টি. ভ্যান ডার ভিন বলেন, কোনো ব্যক্তিকে সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করার অর্থ এই নয় যে তাঁর ব্যালট প্রক্রিয়াকরণকারী কর্মকর্তা অপরাধ করেছেন। তাঁর মতে, কর্মকর্তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেছেন, নাকি জেনেশুনে অবৈধ ভোটে সহায়তা করেছেন—সেটিই হবে আইনি বিবেচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ মার্ক গ্রাবারও বলেন, কোনো কর্মকর্তা ভোটারের অযোগ্যতার বিষয়টি জেনেও ব্যালট গণনা করেছেন, এমন প্রমাণ প্রয়োজন হবে। হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ডেভিড ফ্রুমকিনের মতে, ভোটারের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ বা বিরোধ থাকলেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করা যায় না। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার ও ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে বিরোধকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে বিচার বিভাগের অভিযোগ এবং রাজ্য সরকারের আপত্তি—দুটিই এখনো আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ। অভিযুক্তদের অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হওয়া এবং ভোটার তালিকার বিতর্কিত নামগুলোর প্রকৃত অবস্থা যাচাই হওয়ার আগে এসব অভিযোগকে প্রমাণিত ব্যাপক ভোট জালিয়াতির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জনের ভুল ভোটার নিবন্ধনের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। তবে এ ঘটনাকে ভোট জালিয়াতির প্রমাণ হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছেন শ্রমিক নেতা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অভিবাসন ও ভোটাধিকারবিষয়ক গবেষক প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনা। তার মতে, এটি কোনো পরিকল্পিত ভোট জালিয়াতি নয়; বরং সরকারি সফটওয়্যারের ত্রুটির ফল, যা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নিজের মতামতমূলক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, নিউ জার্সির মোটর ভেহিকেল কমিশনের (MVC) একটি পুরোনো সফটওয়্যার সমস্যার কারণে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জন ব্যক্তি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হন, যদিও তারা আবেদন করার সময় স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যক্তি কোনো তথ্য গোপন করেননি কিংবা মিথ্যা তথ্য দেননি। বরং সরকারি ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই তাদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়। পরে গভর্নর মিকি শেরিল বিষয়টি জানতে পেরে তা প্রকাশ করেন এবং সংশোধনের উদ্যোগ নেন। প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনা, যিনি নিজেও একজন স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, লেখায় নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পেতে তার পরিবারকে বছরের পর বছর আইন মেনে চলতে হয়েছে, কর পরিশোধ করতে হয়েছে, নাগরিকত্ব পরীক্ষা ও ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। তাই নতুন অভিবাসীরা ভোটাধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন এবং আইন ভঙ্গের ঝুঁকি নিতে চান না। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসীদের ভোট জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। অথচ বর্তমান ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সেই দাবি সমর্থন করে না। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিউ জার্সিতে বর্তমানে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬৭ লাখ। ভুলবশত নিবন্ধিত ৬ হাজার ৬০০ জন মোট ভোটারের ০.০১ শতাংশেরও কম। তাদের মধ্যে মাত্র ৪০০ জন ভোট দিয়েছেন, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনে পড়া ৪৩ লাখ ভোটের ০.০০৯ শতাংশেরও কম। কাম্পোস-মেদিনার মতে, এসব পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখায় যে ঘটনাটি ব্যাপক ভোট জালিয়াতির প্রমাণ নয়। বরং এটি একটি প্রশাসনিক ত্রুটি, যা দ্রুত শনাক্ত ও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি গভর্নর শেরিলের প্রশংসা করে বলেন, একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে তিনি বিষয়টি গোপন না করে প্রকাশ করেছেন, তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ভুলভাবে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ ঘটনায় একটি স্বাধীন তদন্ত শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তদন্তে কীভাবে সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সুপারিশ দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, এই প্রতিবেদনটি প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনার একটি মতামতমূলক নিবন্ধের ভিত্তিতে তৈরি। এতে প্রকাশিত রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও মতামত তার ব্যক্তিগত অবস্থান, যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প–সমর্থিত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনের সমালোচনায় এবার সরব হলেন হলিউড অভিনেত্রী Meryl Streep। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আইনটি কার্যকর হলে বিশেষ করে বিবাহিত নারীরা ভোটাধিকার প্রয়োগে জটিলতার মুখে পড়তে পারেন। ১ এপ্রিল প্রচারিত The Late Show with Stephen Colbert অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্ট্রিপ বলেন, বিয়ের পর যেসব নারী পদবি পরিবর্তন করেছেন, তাঁদের ভোট দিতে গেলে আলাদা করে পরিচয় প্রমাণ করতে হতে পারে। জন্মসনদ ও ভোটার তালিকার নামের অমিল থাকলে তাঁদের ভোটাধিকার বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক Stephen Colbert–এর প্রশ্নের জবাবে স্ট্রিপ বলেন, “যদি এই আইন পাস হয়, তাহলে অনেক নারীকে রেজিস্ট্রারের কাছে গিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে তাঁরা প্রকৃতপক্ষে তাঁরাই।” তাঁর এ বক্তব্যের সময় স্টুডিওতে উপস্থিত দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও শোনা যায়। স্ট্রিপ সরাসরি Donald Trump–এর নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর মন্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রতি সমালোচনা স্পষ্ট। তিনি বলেন, এই আইন নারীদের জন্য অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করবে এবং তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, ভোটারদের নাগরিকত্ব প্রমাণে স্বঘোষণার পরিবর্তে আনুষ্ঠানিক নথি প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হবে। যাঁদের বৈধ পাসপোর্ট নেই, তাঁদের জন্মসনদ ও পরিচয়পত্র মিলিয়ে দেখাতে হবে। এতে করে বিশেষ করে বিবাহিত নারীদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হলেও এখনো সিনেটে এটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আইনটি পাস করাতে প্রয়োজনীয় সমর্থন পেতে সংশোধন প্রক্রিয়াও চলছে। একই দিনে ট্রাম্প ডাকযোগে ভোট ব্যবস্থার ওপরও কঠোর অবস্থান নেন। একটি নির্বাহী আদেশে তিনি ‘যাচাইকৃত’ ভোটার ছাড়া অন্যদের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করার কথা জানান। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের নীতির সমালোচনায় এর আগেও সরব হয়েছেন স্ট্রিপ। ২০১৬ সালে তিনি ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে মঞ্চে অভিনয় করেন এবং পরবর্তীতে এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাঁর আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।