সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ভিসা নিয়ম

ইউএইর ভিসামুক্ত তালিকায় ইউরোপের ৪৬ দেশ
আগাম ভিসা ছাড়াই ইউএই যেতে পারবেন ৪৬ দেশের নাগরিক, তালিকায় নেই বাংলাদেশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আগাম ভিসা ছাড়াই প্রবেশের যোগ্যতা রয়েছে ইউরোপের ৪৬টি দেশের নাগরিকদের। প্রকাশিত একটি তালিকায় এসব দেশের নাম তুলে ধরা হয়েছে। এতে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও যুক্তরাজ্যের মতো বড় ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি মোনাকো, সান মারিনো ও ভ্যাটিকান সিটির মতো ছোট রাষ্ট্রও রয়েছে। তবে এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই।   তালিকাভুক্ত দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের ইউএই ভ্রমণের আগে আগাম ভিসার আবেদন করতে হয় না। ফলে ছুটি কাটানো, ব্যবসায়িক কাজে যাওয়া কিংবা স্বল্প সময়ের জন্য দেশটিতে অবস্থানের পরিকল্পনা করছেন—এমন ভ্রমণকারীদের জন্য ভ্রমণপ্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। তবে আগাম ভিসা না লাগার অর্থ এই নয় যে সব ভ্রমণকারী একই মেয়াদে থাকার সুযোগ পাবেন কিংবা প্রবেশের ক্ষেত্রে অন্য কোনো শর্ত মানতে হবে না। প্রকাশিত তালিকায় ইউরোপের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের দেশগুলো স্থান পেয়েছে। উত্তর ইউরোপের ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেনের পাশাপাশি পশ্চিম ইউরোপের জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস রয়েছে। এ ছাড়া মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকেরাও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। তালিকায় থাকা ৪৬টি দেশ হলো—আলবেনিয়া, অ্যান্ডোরা, অস্ট্রিয়া, বেলারুশ, বেলজিয়াম, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জর্জিয়া, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, কসোভো, লাটভিয়া, লিশটেনস্টাইন, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মলদোভা, মোনাকো, মন্টেনেগ্রো, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, রাশিয়া, সান মারিনো, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য ও ভ্যাটিকান সিটি। তালিকায় ইউরোপের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোও রয়েছে। আলবেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কসোভো, মলদোভা, মন্টেনেগ্রো, সার্বিয়া ও ইউক্রেনের নাম উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া বেলারুশ, জর্জিয়া ও রাশিয়াও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই তালিকা সরাসরি প্রযোজ্য নয়। ইউরোপের কোনো দেশে বসবাস করলেই একজন বাংলাদেশি নাগরিক স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই দেশের নাগরিকদের মতো ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবেন না। ইউএইতে প্রবেশের ক্ষেত্রে মূলত পাসপোর্টের জাতীয়তা এবং সংশ্লিষ্ট ভিসাবিধি বিবেচনা করতে হয়। তাই বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ভ্রমণের আগে নিজেদের জন্য প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন। এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ভিসামুক্ত প্রবেশ, বিমানবন্দরে পৌঁছে ভিসা পাওয়ার সুবিধা এবং ভ্রমণের আগে ভিসা সংগ্রহের নিয়ম এক নয়। কোনো দেশের নাগরিকদের জন্য আগাম ভিসা না লাগলেও তাঁদের প্রবেশের সময় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হতে পারে। একইভাবে, অনুমোদিত অবস্থানকালের মেয়াদও নাগরিকত্ব ও প্রবেশের নিয়ম অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। ইউএই ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এমন ব্যক্তিদের তাই টিকিট বুকিংয়ের আগে সর্বশেষ ভিসাবিধি যাচাই করা উচিত। দেশটির সরকারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অথবা সংশ্লিষ্ট ইউএই দূতাবাস থেকে প্রবেশের যোগ্যতা, পাসপোর্টের মেয়াদ এবং অবস্থানের শর্ত সম্পর্কে তথ্য নেওয়া যেতে পারে। সাধারণভাবে, ইউএইতে প্রবেশের সময় পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ছয় মাস থাকা প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া ভ্রমণের উদ্দেশ্য, পাসপোর্টের ধরন এবং অবস্থানের সম্ভাব্য মেয়াদ অনুযায়ী অতিরিক্ত শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে কোনো তালিকায় দেশের নাম থাকা মানেই সব ধরনের ভ্রমণকারীর জন্য নিঃশর্ত প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। সব মিলিয়ে, ইউরোপের ৪৬ দেশের নাগরিকদের জন্য ইউএইতে আগাম ভিসা ছাড়াই প্রবেশের সুযোগের বিষয়টি আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে একই সুবিধা রয়েছে—এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। ইউএই যাওয়ার আগে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের নিজেদের জন্য প্রযোজ্য ভিসার নিয়ম ও সর্বশেষ প্রবেশশর্ত নিশ্চিত হয়ে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার নিয়মে নতুন পরিবর্তন
অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যেতে চান! শিক্ষার্থী ভিসা ও পরিবারের আবেদন নিয়ে জেনে নিন নতুন নিয়ম

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন শর্তে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন, অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে থেকে নতুন ভিসার আবেদন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার নিয়মে পরিবর্তন করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন বিধি শিক্ষার্থী ভিসা (সাবক্লাস ৫০০) এবং শিক্ষার্থীর অভিভাবক ভিসা (সাবক্লাস ৫৯০)—দুই ধরনের ভিসার আবেদনকারীদের জন্য প্রাসঙ্গিক। নতুন নিয়মের প্রভাব পড়বে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, সেখানে থেকে পরবর্তী শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি এবং আবেদনকারীর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নেওয়ার পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের ওপর। তাই অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা, ভ্রমণ কিংবা বসবাসের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট শর্তগুলো ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন বিধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, এখন থেকে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে করতে হবে। আগে থেকেই দেশটিতে শিক্ষার্থী ভিসায় অবস্থান করছেন—এমন ব্যক্তিরাও চাইলেই অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে থেকে পরবর্তী শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন করতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ছাড়ের আওতায় পড়তে হবে। আবেদনকারীর বর্তমান ভিসার ধরন এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে তিনি দেশটির ভেতরে থেকে আবেদন করতে পারবেন কি না। যাঁরা নতুন শর্ত অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করতে বাধ্য, তাঁদের ভিসা মঞ্জুর হওয়ার সময়ও অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকতে হবে। তবে আবেদন প্রক্রিয়া চলার সময় অন্য কোনো বৈধ ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সুযোগ থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ভিসা মঞ্জুর হওয়ার সময় দেশের বাইরে থাকার শর্ত বহাল থাকবে। অন্যদিকে, নতুন নিয়ম না মেনে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে থেকে আবেদন করলে সেটি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এতে আবেদনকারীর বর্তমান ভিসার অবস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে আগের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পরবর্তী ভিসার আবেদন করার সুযোগও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা ও ছাড়ের শর্ত যাচাই করা জরুরি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। নতুন নিয়মে অধিকাংশ শিক্ষার্থী তাঁদের সঙ্গী বা নির্ভরশীল সন্তানকে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন না। একই বিধি পরবর্তী শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আবার শিক্ষার্থী ভিসা মঞ্জুর হওয়ার পর আলাদা আবেদনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসার সুযোগও সাধারণভাবে বন্ধ করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সীমিত কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। পিএইচডি বা ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থী, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দপ্তর কিংবা প্রতিরক্ষা বিভাগের অর্থায়নে পড়াশোনা করা ব্যক্তি, বিদেশি সরকারের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নির্দিষ্ট দেশ ও আসিয়ানভুক্ত দেশের যোগ্য শিক্ষার্থীরা কিছু শর্তে পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এ ছাড়া বর্তমান ভিসায় আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত পরিবারের সদস্যদের পরবর্তী আবেদনে রাখার সুযোগও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে থাকতে পারে। যেমন, মূল কোর্স শেষ করতে আরও সর্বোচ্চ ১২ মাস প্রয়োজন হলে কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোর্স পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় নতুন আবেদন করতে হলে বিশেষ শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে আবেদনকারী ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের আবেদন জমা দেওয়ার সময় একই স্থানে থাকার শর্তও রয়েছে। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও পরিবারের কাউকে আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করলে তাঁর আবেদন অবৈধ হতে পারে। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে, অর্থাৎ ২ অক্টোবর ২০২৬-এর আগে জমা দেওয়া শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনগুলো আগের বিধি অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে। পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল—এমন পুরোনো আবেদনও এর আওতায় পড়বে। অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়মগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন জমা দেওয়ার আগে ভিসার যোগ্যতা, পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ এবং অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে না বাইরে থেকে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ভর্তি, ভিসা, ভ্রমণ বা আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করলে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়ানো সহজ হবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
সৌদিতে প্রবাসীদের পরিবার নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ
ভিসা শেষ হওয়ার আগেই পরিবার নিতে পারবেন সৌদি প্রবাসীরা

অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিবার নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করেছে দেশটির সরকার। নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য বিদেশি কর্মীরা নিজেদের কাজের ভিসার প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যদের সৌদি আরবে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন।   সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নতুন এ ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এই উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এর লক্ষ্য সৌদি আরবে বসবাসরত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ভিসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও সহজ করা।   নতুন নিয়মে যোগ্য বিদেশি কর্মীরা তাদের স্বামী বা স্ত্রী, ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলেসন্তান এবং অবিবাহিত মেয়েসন্তানকে সৌদি আরবে আনার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রবেশভিসার আবেদন করতে কর্মীর নিজের কাজের ভিসা পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না।   সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যোগ্য পরিবারের সদস্যদের প্রবেশভিসা কর্মীর কর্মভিসা প্রক্রিয়ার সঙ্গেই সমান্তরালভাবে দেওয়া যেতে পারে। তবে এ সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে নির্ধারিত সব শর্ত ও প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে।   আগের ব্যবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরবে আনার প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষেত্রে কর্মীর নিজের কর্মভিসা সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় সেই অপেক্ষার সময় কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে যোগ্য বিদেশি কর্মীরা সৌদি আরবে কাজের জন্য যাওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের প্রবেশের ব্যবস্থাও এগিয়ে নিতে পারবেন।   পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তাদের রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতিসংক্রান্ত প্রক্রিয়া দেশটির প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করা যাবে। অর্থাৎ প্রবেশভিসা পাওয়ার পরও পরিবারের সদস্যদের বৈধভাবে বসবাসের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হবে।   সৌদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিশেষ করে উচ্চ দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কাজের সুযোগের পাশাপাশি পরিবারকে সঙ্গে রাখার সুবিধা বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য সৌদিতে বসবাস ও কর্মজীবনকে আরও সহজ করতে পারে।   সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে নেওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভিসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় জটিলতা কমানো এবং বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য সৌদিতে বসবাসের পরিবেশ আরও সুবিধাজনক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পরিবারের সদস্যদের প্রবেশভিসার ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
ভিসা জালিয়াতি ও অপব্যবহারের অভিযোগ জানাতে নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র
ভিসা জালিয়াতি ঠেকাতে বড় পদক্ষেপ, অভিযোগ জানাতে নতুন ওয়েবসাইট যুক্তরাষ্ট্রের

ভিসা জালিয়াতি, অপব্যবহার ও অভিবাসন আইনের অন্যান্য লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সাধারণ মানুষ এই পোর্টালের মাধ্যমে সন্দেহজনক ভিসা জালিয়াতি বা অপব্যবহারের তথ্য জানাতে পারবেন। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নতুন এই উদ্যোগের ঘোষণা দেন।   পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে চালু করা পোর্টালটির লক্ষ্য হলো ভিসা সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা, যা প্রয়োজনে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ভিত্তি হতে পারে। দপ্তর জানিয়েছে, জমা দেওয়া প্রতিটি অভিযোগ পর্যালোচনা করা হবে এবং মার্কিন আইন কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   অভিযোগ জানানোর সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে যত বেশি তথ্য দেওয়া সম্ভব, তত ভালো। নাম, যোগাযোগের তথ্যসহ বিস্তারিত তথ্য দিলে তদন্তকারীদের প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে যোগাযোগ করা সহজ হবে। তবে চাইলে পরিচয় গোপন রেখেও অভিযোগ জমা দেওয়া যাবে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশনায় এই পোর্টাল চালু করা হয়েছে। দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা জালিয়াতি বা অপব্যবহারের প্রতিটি অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।   নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা ও অভিবাসন আইন প্রয়োগে আরও কঠোর অবস্থানের বিষয়টি সামনে এসেছে। এখন থেকে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ সরকারি সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও সরাসরি সংগ্রহ করা হবে।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জন্ম পর্যটন বা ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন ভিসা বিধিনিষেধের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে এক নাইজেরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তারের ঘটনাও সামনে এসেছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতি ও ৩ লাখ ডলারের বেশি অর্থ চুরির অভিযোগ রয়েছে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, লেজিট ডট এনজি

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ৩ ভিসায় ১ অক্টোবর থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই
১ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ ভিসায় বাধ্যতামূলক সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা যাচাই প্রক্রিয়ায় আরও তিনটি ভিসা শ্রেণি যুক্ত হচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে আই, টিএন ও টিডি ভিসার আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনলাইন উপস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা যাচাই আরও বিস্তৃত করার অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।   নতুন নিয়মের আওতায় আই ভিসা হলো বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য, আর টিএন ভিসা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য। টিডি ভিসা মূলত টিএন ভিসাধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের মতো নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জন্য ব্যবহৃত হয়।   পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আই, টিএন ও টিডি ভিসার সব আবেদনকারীকে নিজেদের সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা সেটিংস ‘পাবলিক’ বা ‘ওপেন’ করতে হবে। এর মাধ্যমে ভিসা কর্মকর্তারা আবেদনকারীর অনলাইন উপস্থিতি পর্যালোচনা করতে পারবেন।   এর আগে থেকেই বেশ কয়েকটি ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য অনলাইন উপস্থিতি যাচাই চালু রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কূটনৈতিক ও সরকারি ভিসার কিছু শ্রেণি, এফ ও এম শিক্ষার্থী ভিসা, এইচ-১বি ও সংশ্লিষ্ট কিছু ভিসা, জে-১ ও জে-২ এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা, কে-১, কে-২ ও কে-৩ ভিসা, কিউ, আর-১ ও আর-২ এবং এস, টি ও ইউ শ্রেণির ভিসা।   পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা যাচাইয়ের সময় আবেদনকারীর বিষয়ে যত ধরনের তথ্য পাওয়া যায়, তা বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে অযোগ্য হতে পারেন বা জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন—এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করা।   দপ্তর আরও জানিয়েছে, প্রতিটি ভিসা আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আবেদনকারী যে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, তার শর্ত মেনে চলার প্রকৃত ইচ্ছা রয়েছে কি না এবং তিনি ওই ভিসার যোগ্যতা যথাযথভাবে প্রমাণ করতে পারছেন কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।   ২০২৬ সালের মার্চেও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বেশ কয়েকটি নতুন ভিসা শ্রেণিতে অনলাইন উপস্থিতি যাচাই সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছিল। তখন সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গোপনীয়তা সেটিংস ‘পাবলিক’ বা ‘ওপেন’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।  

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
জার্মানিতে দক্ষ কর্মীদের চাকরি খোঁজার সুযোগ দিচ্ছে অপরচুনিটি কার্ড। ছবি: সংগৃহীত
জার্মানির অপরচুনিটি কার্ডে নতুন সুবিধা, ভিসা ছাড়াই যেতে পারবেন ৮ দেশের নাগরিক

জার্মানিতে দক্ষ কর্মী হিসেবে কাজের সুযোগ খুঁজতে আগ্রহীদের জন্য চালু থাকা ‘অপরচুনিটি কার্ড’ বা ‘শান্সেনকার্টে’ নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নির্দিষ্ট আট দেশের নাগরিকরা জার্মানিতে যাওয়ার আগে আলাদা করে এই ভিসা না নিয়েও দেশটিতে প্রবেশ করে সেখানে বসেই অপরচুনিটি কার্ডের জন্য বসবাসের অনুমতির আবেদন করতে পারবেন।   জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাসের প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইসরায়েল, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা এই সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ মোট আট দেশের নাগরিক ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে গিয়ে স্থানীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন।   তবে এর অর্থ এই নয় যে এই আট দেশের নাগরিকরা জার্মানিতে প্রবেশ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ড পেয়ে যাবেন। তাঁদেরও কার্ড পাওয়ার জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। জার্মানির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অপরচুনিটি কার্ড মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর যোগ্য ও দক্ষ কর্মীদের জার্মানিতে এসে চাকরি খোঁজার সুযোগ দেয়।   ভিসা ছাড়াই যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়মও রয়েছে। জার্মানিতে পৌঁছে বাসস্থানে ওঠার পর দুই সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে ঠিকানা নিবন্ধন করতে হবে। এরপর দেশটিতে প্রবেশের ৯০ দিনের মধ্যে স্থানীয় বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে। জার্মান কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে, কারণ বড় শহরগুলোর অভিবাসন দপ্তরে সাক্ষাতের সময় পাওয়া কঠিন হতে পারে।   অন্যদিকে, বাংলাদেশসহ তালিকায় থাকা আট দেশের বাইরে থাকা নাগরিকদের ক্ষেত্রে নিয়ম ভিন্ন। তাঁদের জার্মানিতে যাওয়ার আগেই অপরচুনিটি কার্ডের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের নাগরিকরা এই ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে গিয়ে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন করার সুবিধার আওতায় পড়ছেন না।   অপরচুনিটি কার্ড কী জার্মানির দক্ষ কর্মী আকর্ষণের নীতির অংশ হিসেবে অপরচুনিটি কার্ড চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকরা আগে থেকে চাকরির চুক্তি না থাকলেও জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খুঁজতে পারেন। সাধারণত কার্ডটি সর্বোচ্চ ১২ মাসের জন্য দেওয়া হয়।   এই কার্ড পাওয়ার জন্য দুটি প্রধান পথ রয়েছে। প্রথমত, আবেদনকারীর জার্মানিতে স্বীকৃত কোনো বিদেশি পেশাগত বা একাডেমিক যোগ্যতা থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থায় কমপক্ষে ছয় পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে যোগ্যতা, ভাষাজ্ঞান, বয়স, পেশাগত অভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।   আবেদনকারীকেও জার্মানিতে অবস্থানকালে নিজের জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। ২০২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদনকারীর প্রতি মাসে ন্যূনতম ১ হাজার ৯১ ইউরো সমপরিমাণ অর্থের ব্যবস্থা দেখাতে হতে পারে।   জার্মানিতে পৌঁছানোর পর অপরচুনিটি কার্ডধারীরা চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজও করতে পারেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কার্ডধারীরা সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করতে এবং চাকরির উপযুক্ততা যাচাইয়ের জন্য কাজের পরীক্ষামূলক সুযোগ নিতে পারেন।   তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাওয়া আট দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও স্থানীয় নিয়ম বাস্তবায়নে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাস বিশেষভাবে জানিয়েছে, বার্লিনে আগে থেকে নির্দিষ্ট ধরনের ভিসা না থাকলে স্থানীয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন করার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদন গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   জার্মানির শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে অপরচুনিটি কার্ডকে দেখা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীরা জার্মানিতে গিয়ে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন, যদিও কার্ড পাওয়ার জন্য তাঁদের নির্ধারিত যোগ্যতা ও আর্থিক সক্ষমতার শর্ত পূরণ করতে হবে।   সূত্র: জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ড. ফেরদৌস সালেহীনের লেখা সূরা আল-ফাতিহার তাফসির ও জীবনের প্রতিফলনবিষয়ক নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন বা উপস্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত

সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি

অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০