- প্রচ্ছদ
- Topic
মিনেসোটা
যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় বসবাসের মান তুলনামূলক ভালো—এ প্রশ্নের নতুন একটি গবেষণায় শীর্ষে উঠে এসেছে মিনেসোটা। টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত দ্বিদলীয় স্টেট অব দ্য নেশন প্রজেক্টের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিকে ৩১টি সূচকের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সব সূচকের গড় অবস্থানের হিসাবে মিনেসোটা প্রথম হয়েছে। গবেষণায় শিক্ষা, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, জীবনসন্তুষ্টি, পরিবেশ, নাগরিক অংশগ্রহণ, সামাজিক সম্পর্ক, বৈষম্য ও নাগরিক স্বাধীনতাসহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গবেষকেরা ১৯৯০ সাল থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে রাজ্যগুলোর বর্তমান অবস্থার পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনের প্রবণতাও বিশ্লেষণ করেছেন। মিনেসোটা বিশেষভাবে ভালো করেছে নাগরিক অংশগ্রহণ, শিক্ষা ও সামাজিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে। স্টেট অব দ্য নেশন প্রজেক্টের হিসাবে নাগরিকত্ব ও গণতন্ত্রের সূচকে রাজ্যটির অবস্থান দ্বিতীয়, শিক্ষায় চতুর্থ এবং সামাজিক পুঁজিতে চতুর্থ। ভোটার অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও মিনেসোটা তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজেও মিনেসোটার বাসিন্দাদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক বেশি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ মিনেসোটাবাসী স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত। এ ধরনের নাগরিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততাই রাজ্যটির সামগ্রিক অবস্থান শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনের বিভিন্ন সূচক থেকে দেখা যায়। তবে গবেষণাটি মিনেসোটাকে সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকা রাজ্য হিসেবে দেখায়নি। পরিবেশ ও নাগরিক স্বাধীনতার কিছু সূচকে রাজ্যটির অবস্থান তুলনামূলক নিচের দিকে। তরুণদের বিষণ্নতার হারও একটি উল্লেখযোগ্য উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে প্রথম হলেও মিনেসোটারও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অন্যদিকে, সিএনবিসির ২০২৬ সালের ‘আমেরিকাস টপ স্টেটস ফর বিজনেস’ প্রতিবেদনে টেক্সাস সামগ্রিকভাবে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। অর্থনীতি, কর্মশক্তি ও মূলধন পাওয়ার সুযোগের মতো ক্ষেত্রে রাজ্যটি শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও জীবনযাত্রার মানের উপশ্রেণিতে টেক্সাস ৫০টি রাজ্যের মধ্যে ৪৯তম হয়েছে। সিএনবিসির জীবনযাত্রার মানের মূল্যায়নে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, অপরাধ, কর্মীদের সুরক্ষা, অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে টেক্সাসের ব্যবসায়িক অবস্থান শক্তিশালী হলেও জীবনযাত্রার মানের সূচকে তার অবস্থান তুলনামূলক নিচে এসেছে। দুটি গবেষণার পদ্ধতি অবশ্য এক নয়। টিউলেনের স্টেট অব দ্য স্টেটস প্রতিবেদনটি মূলত মানুষের জীবনযাপন ও সামাজিক অগ্রগতির ৩১টি সূচকের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। আর সিএনবিসির প্রতিবেদনটি ব্যবসার জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নির্ধারণ করতে ১০টি বিভাগ ও ১৩৮টি সূচক ব্যবহার করেছে। তাই দুটি তালিকার ফলাফলকে একই ধরনের র্যাংকিং হিসেবে দেখা উচিত নয়। স্টেট অব দ্য নেশন প্রজেক্টের প্রতিবেদনে সামগ্রিকভাবে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম-মধ্যাঞ্চল ও নিউ ইংল্যান্ডের রাজ্যগুলো ৩১টি সূচকের গড় ফলাফলে তুলনামূলক ভালো করেছে। বিপরীতে দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্যগুলো গড়ে নিচের দিকে ছিল। একই সঙ্গে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, প্রায় সব রাজ্যই একাধিক ক্ষেত্রে একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে—বিশেষ করে জীবনসন্তুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য, আয়বৈষম্য ও দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের মতো বিষয়গুলোতে। সব মিলিয়ে, নতুন এই গবেষণাগুলো দেখাচ্ছে—কোনো অঙ্গরাজ্যের সামগ্রিক জীবনযাত্রা, অর্থনীতি বা ব্যবসায়িক পরিবেশ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একাধিক সূচক বিবেচনা করা প্রয়োজন। মিনেসোটা জীবনযাত্রার বিভিন্ন সূচকের গড় ফলাফলে শীর্ষে থাকলেও, সেখানেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা রয়েছে। একইভাবে টেক্সাস ব্যবসায়িক দিক থেকে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও জীবনযাত্রার মানের কিছু সূচকে পিছিয়ে রয়েছে।
মিনেসোটায় ট্রাম্প প্রশাসনের অপারেশন মেট্রো সার্জ-এর পর অভিবাসী পরিবারের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে স্কুলগুলোতেও। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে অভিবাসী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এমন ২৯টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও চার্টার স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৭০০ কমেছে। গত শীতকালে মিনেসোটায় হাজার হাজার ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা মোতায়েন করে অপারেশন মেট্রো সার্জ চালানো হয়। অভিযানের সময় আইসিই ও অন্যান্য ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতি স্কুলের আশপাশেও দেখা যায়। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় বলে শিক্ষক ও স্কুল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের নতুন প্রতিবেদনে শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, অভিযানের সময় কিছু শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যায়, কেউ কেউ ক্লাসে মনোযোগ হারায় এবং কয়েকটি পরিবার সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। একজন শিক্ষক পরিস্থিতি বর্ণনা করতে বলেছেন, ‘শিশুরা আক্ষরিক অর্থেই অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল।’ এটি শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা, সরকারি পরিসংখ্যান নয়। সাহান জার্নালের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইংরেজি শেখা শিক্ষার্থীর হার বেশি এমন ২৯টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও চার্টার স্কুলে মার্চ ২০২৬-এ আগের অক্টোবরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী কম ছিল। তুলনায়, একই প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মধ্যবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী কমেছিল ৮০ জনেরও কম। শিক্ষকদের আরেকটি উদ্বেগ হলো, অনুপস্থিতি ও মানসিক চাপের প্রভাব শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং পরীক্ষার ফলাফলেও দেখা যেতে পারে। আগামী স্টেট স্ট্যান্ডার্ডাইজড পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগে শিক্ষকরা বলছেন, শুধু নম্বর দিয়ে ওই সময়ের শিক্ষাগত পরিস্থিতি বিচার করলে অভিযানের কারণে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আসবে না। মিনেসোটা সরকারের সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার স্কুল-নেতাদের জরিপের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এতে রাজ্যের ৮০ শতাংশ পাবলিক স্কুল নেতা বলেছেন, অপারেশন মেট্রো সার্জ শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। টুইন সিটিজ মেট্রো এলাকায় এই হার ছিল ৯৫ শতাংশ। অভিবাসন অভিযানের প্রভাব শুধু স্কুলে উপস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আইসিইর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মিনেসোটা রিফর্মার ও এমপিআর নিউজের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অপারেশন মেট্রো সার্জ চলাকালে আটক হওয়া ২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ পরে বহিষ্কৃত হন বা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যান। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মোট ৩ হাজার ৭০০-এর বেশি গ্রেপ্তারের তথ্য রয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের বড় একটি অংশের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। এদিকে অপারেশন মেট্রো সার্জ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পরও এর বৈধতা ও প্রভাব নিয়ে মামলা চলছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য, মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পল ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযানকে বেআইনি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুনানিতে বিচারক এখনো মামলাটি খারিজ করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেননি। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অবস্থান অবশ্য ভিন্ন। ডিএইচএস বলেছে, এজেন্টদের উদ্দেশ্য স্কুলে শিশুদের গ্রেপ্তার করা নয়; বরং আইন প্রয়োগ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ফলে অভিযানের প্রভাব নিয়ে শিক্ষক, পরিবার ও প্রশাসনের বক্তব্যের পাশাপাশি ফেডারেল সরকারের অবস্থানও বিবেচনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে, মিনেসোটার স্কুলগুলোতে অপারেশন মেট্রো সার্জের প্রভাব নিয়ে যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে শিক্ষার্থী উপস্থিতি, স্কুল পরিবর্তন, মানসিক চাপ ও পড়াশোনায় ব্যাঘাত—সবগুলো বিষয়ই আলোচনায় এসেছে। তবে ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পুরো কারণ শুধু অভিবাসন অভিযান - এমন সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক ওই পরিসংখ্যান একা প্রমাণ করে না। Source: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার বার্নসভিলে তিন বছর বয়সী ছেলে আদনান আবদুল্লাহির মৃ ত্যুর ঘটনায় তার মা সায়নাব আবদুল্লাহি দাহিরের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার ম্যান স্লটার, চারটি শিশু নি র্যা তন বা বি পন্ন করার অভিযোগ এবং হয় রা নির মামলা হয়েছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে তার মা তাকে পার্কের একটি সৈকত এলাকায় নিয়ে গিয়েছিলেন, যাতে রোদে থেকে সে অসুস্থতা ‘ঘামিয়ে বের করে’ দিতে পারে। পরে শিশুটির মৃ ত্যু হয়। ঘটনার পর জরুরি সেবাকর্মীরা শিশুটিকে গুরুতর অপু ষ্টিতে ভুগতে দেখেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তার বয়সের তুলনায় মারাত্মক কম ওজন এবং গুরুতর অপুষ্টি শনাক্ত করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি আর জ্ঞান ফিরে পায়নি এবং ১৩ জুলাই ২০২৩ সালে তার মৃ ত্যু হয়। ময়নাতদন্তে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত আঘাতকে মৃ ত্যুর তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অপু ষ্টি ও মূত্রনালির সং ক্র মণকে সহায়ক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে দাহিরের অন্য চার সন্তানের অবস্থাও সামনে আসে। আদালতের নথি অনুযায়ী, তারাও গুরুতরভাবে কম ওজনের ছিল। শিশুদের বাবার কাছে যাওয়ার পর তাদের ওজন বাড়তে শুরু করে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সন্তানদের নিয়মিত চিকিৎসা না করানোর অভিযোগও রয়েছে। দাহিরকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গ্রে প্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত। মামলাটি মিনেসোটার ডাকোটা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিসে এক ভেনেজুয়েলীয় অভিবাসীকে গুলি করে আহত করার অভিযোগে আইসিই এজেন্ট ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার মিনেসোটা ব্যুরো অব ক্রিমিনাল অ্যাপ্রিহেনশনের সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করেন। গত জানুয়ারির ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হামলা এবং তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযান ঘিরে মিনেসোটায় তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যে আলোচিত হয়ে ওঠে। মিনেসোটা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ জানুয়ারি অভিবাসনবিরোধী অভিযান চলাকালে ২৪ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলীয় নাগরিক হুলিও সিজার সোসা-সেলিসের বাড়ির বন্ধ দরজা দিয়ে গুলি চালান কাস্ত্রো। গুলিতে সোসা-সেলিসের পায়ে আঘাত লাগে। ঘটনার সময় বাড়ির ভেতরে শিশুরাও ছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর কাস্ত্রো দাবি করেন, সোসা-সেলিস ও আরও কয়েকজন তাকে ঝাড়ুর হাতল এবং তুষার সরানোর বেলচা দিয়ে আক্রমণ করেছিলেন। আত্মরক্ষার কারণেই তিনি গুলি চালিয়েছেন বলে তার পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া হয়। তবে পরে প্রকাশিত নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে তার বর্ণনার সঙ্গে ঘটনাস্থলের দৃশ্যের অসঙ্গতি পাওয়া যায়। ভিডিওতে কথিত ঝাড়ু ও বেলচা দিয়ে তাকে মারধরের দৃশ্য দেখা যায়নি। এরপর তদন্তকারীদের কাছে কাস্ত্রোর দেওয়া বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মিনেসোটায় তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর কাস্ত্রো টেক্সাসে চলে যান। তাকে মিনেসোটায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া কয়েক মাস ধরে জটিল হয়ে পড়ে। তিনি প্রায় ৯০ দিন টেক্সাসের একটি কারাগারে ছিলেন এবং গত আগস্টে মুক্তি পান। মিনেসোটা কর্তৃপক্ষ তাকে অঙ্গরাজ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট তাকে হস্তান্তরের অনুমোদন দেননি। পরে বিষয়টি ফেডারেল পর্যায়ের তদন্তেও গড়ায়। ফেডারেল মামলায় কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে তদন্তের সময় তিনি এফবিআইয়ের এক কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ফেডারেল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এটি ছিল ওই অভিযানের পর প্রথম ফেডারেল প্রসিকিউশনের ঘটনা। বৃহস্পতিবার মিনেসোটার হেনেপিন কাউন্টি আদালতে কাস্ত্রোর প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্য মামলায় তার জামিন ৪ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ২ লাখ ডলারে জামিন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরে তাকে ফেডারেল আদালতেও হাজির করা হবে। কাস্ত্রো এখনো তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে দোষ স্বীকার করেননি। কাস্ত্রোর আইনজীবী রোলান্ডো ক্যান্টু এর আগে বলেছিলেন, তার মক্কেল মিনেসোটায় ফিরে এসে অভিযোগের মুখোমুখি হতে চান এবং আদালতে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ চান। অন্যদিকে হেনেপিন কাউন্টির প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন, কাস্ত্রোকে মিনেসোটায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। মামলাটি মিনেসোটায় ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসন অভিযান নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। ওই অভিযানের সময় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন তদন্ত, মামলা ও বিক্ষোভ হয়েছে। কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে রাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ে আনা অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া এখন সামনে এগোবে। আদালতে প্রমাণ ও সাক্ষ্য পর্যালোচনার মধ্য দিয়েই গুলি চালানোর ঘটনা এবং তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া তার বক্তব্যের আইনি অবস্থান নির্ধারিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে চুরির দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া এক নারীর ছবি বা 'মগশট' অনলাইনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কারণ নেটিজেনদের অনেকেই প্রথম দেখায় তাকে বিখ্যাত মার্কিন পপ তারকা ও অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজ ভেবে ভুল করেছেন। সাইরেনা অ্যান কোয়াস্ট নামের ওই নারীকে গত ৩০ আগস্ট মিনেসোটার মন্টিসেলো শহরের একটি দোকান থেকে ব্যাটারি চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর নিয়ম অনুযায়ী পুলিশের তোলা তার ছবিটিই মূলত ইন্টারনেট দুনিয়ায় এই তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন বিনোদন বিষয়ক সংবাদমাধ্যম টিএমজেড-এর প্রাপ্ত পুলিশি অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সাইরেনা প্রায় ৫৮০ ডলার বা প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের পাওয়ার টুলের দুটি ডাবল প্যাক ব্যাটারি চুরি করেছিলেন। ঘটনার দিন ওই দোকানের এক কর্মী তাকে চিনতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। ওই কর্মীর দাবি, সাইরেনা কয়েক দিন আগেও তাদের দোকানে এসে একই ধরনের একটি চুরির ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে রাইট কাউন্টি জেলে পাঠায় এবং তার বিরুদ্ধে 'গ্রস মিসডিমিনর' বা গুরুতর চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়। গ্রেপ্তারের খবরের চেয়েও অনলাইনে নেটিজেনদের বেশি মনোযোগ কেড়েছে সাইরেনার মগশটটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার সাথে জেনিফার লোপেজের চেহারার অদ্ভুত মিল খুঁজে পেয়েছেন। একজন নেটিজেন বিস্ময় প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন, “অবিশ্বাস্য! তাদের চেহারার এই মিল সত্যিই অবাক করার মতো!” আরেকজন আবার অন্যদের প্রতি প্রশ্ন রেখে লিখেছেন, “কীভাবে মানুষ এই দুজনের মধ্যে মিল দেখতে পাচ্ছে না!” এমনকি লোপেজের ২০০২ সালের জনপ্রিয় গান 'জেনি ফ্রম দ্য ব্লক'-এর সূত্র ধরে এক মন্তব্যকারী সাইরেনাকে "আসল জেনি ফ্রম দ্য ব্লক" বলেও আখ্যা দিয়েছেন। তবে সবাই যে এই তুলনার সাথে একমত হয়েছেন, এমনটা নয়। অন্তত একজন মন্তব্যকারী এর চরম বিরোধিতা করে লিখেছেন যে, এই দুজনের চেহারার মধ্যে বিন্দু পরিমাণও মিল নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসউইম্যান ইলহান ওমরকে লক্ষ্য করে আপেল সিডার ভিনেগার নিক্ষেপ করার দায়ে এক ব্যক্তিকে ১৪ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার মিনিয়াপোলিসের ফেডারেল প্রসিকিউটরদের সাথে একটি আপস চুক্তির (প্লি এগ্রিমেন্ট) অংশ হিসেবে ৫৬ বছর বয়সী অ্যান্টনি কাজমিয়ারজ্যাক এই সাজা মেনে নেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি মুক্তির পর তাকে তিন বছর কড়া আইনি নজরদারিতে (সুপারভাইজড রিলিজ) থাকতে হবে এবং এই সময়ের মধ্যে তিনি 'স্কোয়াড' খ্যাত এই কংগ্রেসউইম্যানের সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ করতে পারবেন না। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে ইলহান ওমরের আয়োজিত একটি টাউন হল সভায় এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটে। সেসময় অ্যান্টনি হঠাৎ করে মঞ্চের দিকে তেড়ে যান এবং একটি সিরিঞ্জ থেকে পানি ও আপেল সিডার ভিনেগারের মিশ্রণ ইলহান ওমরের দিকে ছুঁড়ে মারেন। এ সময় তিনি চিৎকার করে বলছিলেন যে, ইলহান ওমর "মিনেসোটাকে বিভক্ত করছেন।" ওমরের নিরাপত্তারক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিবৃত্ত করেন এবং পরবর্তীতে মার্কিন সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় কেউ আহত না হলেও সেখানে উপস্থিত মিনিয়াপোলিস সিটি কাউন্সিলের সদস্য লাট্রিশা ভেতাওয়ের গায়ে কিছুটা ভিনেগার লাগায় পরবর্তীতে তিনি বমি করেছিলেন। হামলার আগে নিজের এক প্রতিবেশীকে অ্যান্টনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তিনি গ্রেপ্তার হতে পারেন। তার ভাই তাকে একজন 'ডানপন্থী চরমপন্থী' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিপক্ষে বিভিন্ন পোস্ট করতেন। পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ইলহান ওমর জানান, সোমালি অভিবাসীদের বহিষ্কার করার বিষয়ে ট্রাম্পের আদেশের ধীরগতি নিয়ে হামলাকারী ক্ষুব্ধ ছিলেন। ইলহান ওমর সোমালিদের রক্ষা করছেন, এমনটা ভেবেই তিনি তার ওপর হামলা চালান। তবে আদালতে বিচারক যখন তাকে হামলার কারণ জিজ্ঞেস করেন, তখন তিনি কেবল বলেন, "বিষয়টি আমার কাছে অস্পষ্ট।" উল্লেখ্য, এই ঘটনার সময় মিনেসোটার টুইন সিটিস এলাকায় কেন্দ্রীয় ইমিগ্রেশন এজেন্টদের অভিযান এবং এর প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের কারণে এক ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। অন্যদিকে, অ্যান্টনির এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন যে, তিনি পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত এবং কয়েক বছর আগে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়ার পর থেকে কড়া ওষুধের ওপর নির্ভরশীল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, আসামিপক্ষের মেমোতে অ্যান্টনির অ্যালকোহল আসক্তি এবং মানসিক ও আবেগজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার ইতিহাসও উল্লেখ করা হয়েছে।
মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে এক টাউন হল সভায় ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের দিকে ভিনেগার ছোড়ার ঘটনায় অ্যান্থনি কাজমিয়ারচাককে বৃহস্পতিবার সাজা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রসিকিউটররা তার জন্য ১৪ মাসের কারাদণ্ডের সুপারিশ করেছেন। জানুয়ারির ওই ঘটনায় ওমর আহত না হলেও নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত তাকে মাটিতে ফেলে আটক করেন। গত ২৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসের একটি টাউন হল সভায় দর্শকসারিতে থাকা কাজমিয়ারচাক হঠাৎ উঠে দাঁড়ান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একটি সিরিঞ্জ থেকে ওমরের দিকে তরল ছুড়ে দেন এবং চিৎকার করে বলেন, ওমর ‘মিনেসোটাকে বিভক্ত করছেন’। এরপর ওমরের নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে মাটিতে ফেলে দেন এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্তে জানা যায়, সিরিঞ্জে থাকা তরলটি ছিল পানি ও অ্যাপল সাইডার ভিনেগারের মিশ্রণ। ঘটনার পরও ওমর টাউন হল সভা চালিয়ে যান। হামলায় তিনি শারীরিকভাবে আহত হননি। পরে কাজমিয়ারচাক ওমরের কাছে চিঠি লিখে তার কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, তিনি ওমরকে ভয় দেখিয়ে থাকলে সে জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। কাজমিয়ারচাকের বিরুদ্ধে একজন মার্কিন কর্মকর্তাকে হামলার অভিযোগ আনা হয়। আদালতে আগের এক শুনানিতে বিচারক তাকে ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ঘটনার স্মৃতি তার কাছে অস্পষ্ট। প্রসিকিউটরদের আদালতে দেওয়া সাজা সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ঘটনার আগে তিনি অন্তত তিনজনকে বার্তা পাঠিয়ে ওই সভায় ওমরকে ঘিরে কিছু করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে নিজের পরিকল্পনার বিস্তারিত তাদের জানাননি। প্রসিকিউটরদের নথিতে আরও বলা হয়েছে, সভায় যাওয়ার আগে কাজমিয়ারচাক প্রতিবেশীর সঙ্গে কুকুরের দেখাশোনা এবং জামিনদারের যোগাযোগের বিষয়ও ঠিক করেছিলেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রসিকিউটররা ঘটনাটিকে আগে থেকে পরিকল্পিত হামলা হিসেবে আদালতের সামনে উপস্থাপন করেছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, কাজমিয়ারচাকের বয়স পঞ্চাশের মাঝামাঝি। তার দীর্ঘদিনের অ্যালকোহল ব্যবহারের সমস্যা এবং মানসিক ও আবেগজনিত নানা সমস্যার ইতিহাস রয়েছে বলেও প্রসিকিউটরদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ সালে তার পারকিনসনস রোগ শনাক্ত হওয়ার পর আরও কিছু শারীরিক সমস্যার কথাও নথিতে উঠে এসেছে। ঘটনার সময় মিনেসোটায় অভিবাসন তৎপরতা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা চলছিল। অপারেশন মেট্রো সার্জের আওতায় টুইন সিটিজ এলাকায় দুই হাজারের বেশি অভিবাসন কর্মকর্তা অভিযান চালিয়েছিলেন। এসব অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার এবং দুই মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মিনেসোটায় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সোমালি শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইলহান ওমর মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি এবং দীর্ঘদিন ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সমালোচনার মুখে রয়েছেন। হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত কাজমিয়ারচাকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টেও ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা এবং ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে প্রসিকিউটরদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কাজমিয়ারচাক বৃহস্পতিবার সাজা পেলে মামলাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হবে। প্রসিকিউটরদের সুপারিশ অনুযায়ী ১৪ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হবে কি না, নাকি আদালত ভিন্ন সাজা নির্ধারণ করবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ঘটনাটি আবারও রাজনৈতিক সমাবেশে নিরাপত্তা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সুরক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান আলোচনাকে সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ির মালিকদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির মর্টগেজ থাকা বাড়িগুলোর ৩ দশমিক ২ শতাংশকে ‘সিরিয়াসলি আন্ডারওয়াটার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এক বছর আগে এই হার ছিল ২ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ, এমন বাড়ির সংখ্যা বাড়ছে যেখানে মালিকের মর্টগেজ ঋণের পরিমাণ বাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্যের চেয়ে অন্তত ২৫ শতাংশ বেশি। রিয়েল এস্টেট ডেটা প্রতিষ্ঠান এটিটিওএম -এর দ্বিতীয় প্রান্তিকের ইউএস হোম ইকুইটি অ্যান্ড আন্ডারওয়াটার রিপোর্টে এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে সিরিয়াসলি আন্ডারওয়াটার মর্টগেজের হার এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে মিনেসোটায়। সেখানে হার ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের ২ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের একই সময়ে ১২ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। ‘আন্ডারওয়াটার মর্টগেজ’ বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হচ্ছে, যখন কোনো বাড়ির বিপরীতে নেওয়া ঋণের মোট বকেয়া ওই বাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে যায়। এটিটিওএম-এর ‘সিরিয়াসলি আন্ডারওয়াটার’ সংজ্ঞা অনুযায়ী, সম্পত্তির বিপরীতে থাকা ঋণের আনুমানিক ব্যালান্স বাড়িটির বাজারমূল্যের অন্তত ২৫ শতাংশ বেশি হলে সেটিকে এই শ্রেণিতে ধরা হয়। এমন অবস্থায় বাড়ির মালিক বাড়িটি বিক্রি করতে গেলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। মিনেসোটার পর সিরিয়াসলি আন্ডারওয়াটার মর্টগেজের উচ্চ হার দেখা গেছে লুইজিয়ানায় ১০ দশমিক ৩ শতাংশ, আইওয়ায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ, মিসিসিপিতে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং আরকানসাসে ৬ শতাংশ। বিপরীতে নিউইয়র্কে এই হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নিউ জার্সিতে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। সবচেয়ে কম হার দেখা গেছে ভারমন্টে, মাত্র শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে বাড়ির মালিকদের ইকুইটির অবস্থানও দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে এটিটিওএম-এর তথ্য। দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের মর্টগেজ থাকা বাড়ির ৪১ দশমিক ১ শতাংশকে ‘ইকুইটি রিচ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, এসব বাড়ির বিপরীতে থাকা ঋণের মোট পরিমাণ বাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্যের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ। এক বছর আগে এই হার ছিল ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকেও হার ছিল ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে টানা চার প্রান্তিক ধরে ইকুইটি রিচ বাড়ির হার কমেছে এবং এটি প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বাড়ির ইকুইটি কমে যাওয়ার অর্থ হলো, অনেক মালিকের বাড়ির বর্তমান মূল্য ও মর্টগেজ ঋণের মধ্যে যে আর্থিক ব্যবধান ছিল, সেটি আগের তুলনায় সংকুচিত হচ্ছে। বিশেষ করে বাড়ির দাম কমে গেলে বা স্থির থাকলে, কিন্তু মর্টগেজের বকেয়া দ্রুত না কমলে এই ব্যবধান আরও সংকুচিত হতে পারে। আর কোনো মালিকের ঋণ যদি বাড়ির বাজারমূল্য ছাড়িয়ে যায়, তখন বাড়ি বিক্রি বা রিফাইন্যান্স করার সুযোগও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতিকে এখনই আবাসন বাজারের বড় ধরনের সংকট হিসেবে দেখছে না এটিটিওএম। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান ইকুইটি পরিস্থিতি ২০২০ সালের আগের সময়ের তুলনায় এখনো তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। অর্থাৎ, ঝুঁকির কিছু সূচক খারাপ দিকে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বাড়ির মালিক এখনো আগের দশকের বড় ধরনের আবাসন সংকটের মতো অবস্থায় নেই। তবু নতুন তথ্যটি বাড়ি মালিক, সম্ভাব্য ক্রেতা এবং মর্টগেজধারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বাড়ির মূল্য কমছে বা দীর্ঘ সময় ধরে স্থির রয়েছে, সেখানে মর্টগেজের বকেয়া ও বাড়ির বর্তমান মূল্যের পার্থক্য ভবিষ্যতে আরও বড় হতে পারে। ফলে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে শুধু মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট নয়, বাড়ির সম্ভাব্য বাজারমূল্য, ডাউন পেমেন্ট, সুদের হার এবং ভবিষ্যৎ বিক্রির সম্ভাবনাও হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় জন্মের সময় মাত্র ৬৮০ গ্রাম ওজনের এক শিশু দীর্ঘ ৩৩৪ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে বাড়ি ফিরেছে। অ্যাডোনিস নামের শিশুটিকে চিকিৎসক ও নার্সরা ‘মিরাকেল বেবি’ হিসেবে অভিহিত করছেন। জন্মের পর তার বেঁচে থাকা এবং স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা থাকলেও প্রায় এক বছর চিকিৎসার পর সে হাসপাতাল ছাড়তে সক্ষম হয়েছে। মিনেসোটার ম্যাপল গ্রোভে নর্থ মেমোরিয়াল হেলথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল অ্যাডোনিস। তার মা জেসমিন ওয়েলিংটনের গর্ভাবস্থা ২৪ সপ্তাহ ৫ দিন চলার সময় হঠাৎ প্রসবব্যথা শুরু হয়। এরপর নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের সময় তার ওজন ছিল ১ পাউন্ড ৮ আউন্স, যা প্রায় ৬৮০ গ্রামের সমান। জন্মের পর অ্যাডোনিসের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। তাকে দীর্ঘ সময় কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের সহায়তা নিতে হয়। চিকিৎসকদের জন্যও তার সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়টি ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। হাসপাতালের নার্স ক্যাথরিন মার্টিনসন জানান, শিশুটির জন্মের পর প্রথম কয়েক দিন এতটাই কঠিন ছিল যে তিনি কাজে ফিরে এসে অ্যাডোনিসকে জীবিত দেখতে পারবেন কি না, তা নিয়েও আশঙ্কা করেছিলেন। চিকিৎসার প্রথম কয়েক মাসেও অ্যাডোনিসকে একের পর এক জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সে আলাদাভাবে মেথিসিলিন-প্রতিরোধী স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস সংক্রমণ এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। এসব শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকার কারণে তার চিকিৎসা ও পরিচর্যাও ছিল অত্যন্ত জটিল। তারপরও চিকিৎসক, নার্স এবং পরিবারের সদস্যদের নিবিড় পরিচর্যায় ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। অ্যাডোনিসের মা জেসমিন ওয়েলিংটন বলেন, পুরো যাত্রাটিই ছিল নানা উত্থান-পতনে ভরা। কখনও তার সন্তানের অবস্থার উন্নতি হয়েছে, আবার কখনও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ের অভিজ্ঞতা তার জন্য উদ্বেগ ও মানসিক চাপের ছিল, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলেও তিনি জানান। শিশুটির বাবা জুনিয়র র্যান্সি-কোয়ায়ে এই কঠিন সময়েও বিশ্বাস ধরে রাখার কথা জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অ্যাডোনিসের বেঁচে থাকাকে সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনা হিসেবে দেখা হয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসার প্রতিটি ধাপে পরিবারের সদস্যরা তার পাশে ছিলেন এবং শিশুটির সুস্থ হয়ে ওঠার আশায় অপেক্ষা করেছেন। হাসপাতালে ৩৩৪ দিন কাটানোর পর অ্যাডোনিস এখন অবশেষে পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে ফিরেছে। তবে চিকিৎসা পুরোপুরি শেষ হয়নি। বর্তমানে তাকে অক্সিজেনের সহায়তা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসা দল আশা করছে, বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একসময় তার আর অক্সিজেনের প্রয়োজন হবে না। প্রায় এক বছর বয়সের কাছাকাছি সময়ে অ্যাডোনিসের ওজন এখন ২০ পাউন্ডের বেশি। জন্মের সময় মাত্র ৬৮০ গ্রাম ওজনের শিশুটির এই বেড়ে ওঠাকে চিকিৎসাকর্মীরা তার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। নার্স ক্যাথরিন মার্টিনসনের মতে, অ্যাডোনিসের ঘটনা একটি অলৌকিক ঘটনা বলেই মনে হয়েছে। তার মতো খুব কম বয়সে জন্ম নেওয়া অনেক শিশুকে জন্মের পর বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে শ্বাসনালিতে বিশেষ ব্যবস্থা বা খাবার দেওয়ার জন্য বিশেষ টিউবের প্রয়োজন হতে পারে। অ্যাডোনিসও জন্মের সময় এমন একটি অবস্থায় ছিল, যেখানে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ছিল। তবে দীর্ঘ চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর অ্যাডোনিস সেই আশঙ্কাগুলোকে অনেকটাই পেছনে ফেলেছে। হাসপাতালের কর্মীরা বলছেন, খুব কম বয়সে জন্ম নেওয়া শিশুরাও প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি ভালো করতে পারে। অ্যাডোনিসের দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার ঘটনাকে তাই তার পরিবার ও চিকিৎসাকর্মীদের কাছে বিশেষ এক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৩৩৪ দিন পর হাসপাতালের বাইরে পরিবারের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেছে অ্যাডোনিস। জন্মের সময় মাত্র ৬৮০ গ্রাম ওজনের সেই শিশুই এখন ২০ পাউন্ডের বেশি ওজন নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। তার চিকিৎসায় যুক্ত নার্স ও চিকিৎসকদের কাছে এই দীর্ঘ যাত্রাই তাকে ‘মিরাকেল বেবি’ হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে। সূত্র: সিবিএস
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় আইসিইর হাতে আটক হওয়ার পর রাস্তায় বা পার্কিং এলাকায় পড়ে থাকা অভিবাসীদের গাড়ি পরিবারের কাছে বিনামূল্যে ফিরিয়ে দিচ্ছেন টো ট্রাক ব্যবসায়ী হুয়ান লিওন। গত ডিসেম্বর থেকে তার ছোট দলটি প্রায় ২৫০টি গাড়ি উদ্ধার করে মালিকদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলে লিওন জানিয়েছেন। মিনেসোটার টুইন সিটিজ এলাকায় আইসিইর অভিযান বাড়ার পর গাড়ি ফেলে রেখে মানুষ আটক হওয়ার ঘটনা লিওনের নজরে আসে। অনেক গাড়ি দিনের পর দিন রাস্তায়, পার্কিং লটে বা বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকছিল। পরে এসব গাড়ি পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। কাজটি করতে লিওনের দলকে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবীরা তথ্য দেন। কোথায় গাড়ি পড়ে আছে, তারা তা জানালে লিওনের দলের একটি অনুসন্ধানী গাড়ি আগে সেখানে গিয়ে অবস্থান নিশ্চিত করে। এরপর টো ট্রাক নিয়ে গাড়িটি সরিয়ে পরিবারের কাছে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হয়। লিওনের মালিকানাধীন লিও’স টো ওয়েস্ট সেন্ট পলে অবস্থিত। তার দল অনেক ক্ষেত্রে কোনো টো বিল না নিয়েই গাড়ি ফিরিয়ে দেয়। শুরুতে স্থানীয়ভাবে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগটি পরে দেশজুড়ে মানুষের অনুদানের মাধ্যমে আরও বড় আকার নেয়। অনুদানের অর্থেই তারা নিয়মিত ব্যবসার পাশাপাশি দিনরাত এই সেবা চালিয়ে যেতে পারছেন। সাধারণত কোনো গাড়ি রাস্তায় পড়ে থাকলে সেটি টো করে ইমপাউন্ড লটে নেওয়া হতে পারে। সেখানে টো ও সংরক্ষণ ফি যোগ হওয়ায় পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি এড়াতেই লিওনের দল সরাসরি গাড়িগুলো পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। মিনিয়াপোলিস কর্তৃপক্ষও পরে আইসিইর হাতে আটক হওয়ার কারণে ইমপাউন্ড লটে যাওয়া গাড়ি মালিকদের বিনা খরচে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা ঘোষণা করে। তবে এই উদ্যোগের জন্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকিতে পড়েছেন লিওন। সিবিএস মিনেসোটাকে তিনি জানান, তার ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার পর টানা তিন সপ্তাহ ধরে তিনি মৃত্যুর হুমকি পাচ্ছিলেন। এরপরও তিনি ও তার দল গাড়ি ফেরত দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই উদ্যোগ শুধু গাড়ি ফেরানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। একটি ঘটনায় গাড়ির মালিকের খোঁজ করতে গিয়ে লিওন এমন এক পরিবারের সন্ধান পান, যেখানে আইসিইর হাতে বাবা-মা আটক হওয়ার পর শিশুরা একা ছিল। পরে তিনি তাদের আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন এবং পরিবারের খোঁজখবরও নেন। লিওনের এই উদ্যোগ মিনেসোটায় আইসিই অভিযানকে ঘিরে গড়ে ওঠা স্থানীয় সহায়তা কার্যক্রমের একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ব্যবসা ও কমিউনিটি সংগঠনও আটক হওয়া অভিবাসীদের পরিবারকে খাবার, পরিবহন ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার কাজে যুক্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে নিজ বাসভবন থেকে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেসহ এক নার্সের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি দুই জনকে হত্যা করে বড় ছেলের নিজের আত্মহত্যা বা 'ডাবল মার্ডার-সুইসাইড'। গত রবিবার ইনভার গ্রোভ হাইটসের একটি টাউনহাউসে ওয়েলফেয়ার চেকের জন্য গিয়ে পুলিশ জেমি লি চার্লস (৪৩) এবং তাঁর দুই ছেলে জেমিসন স্যামুয়েল শ (২২) ও উইলিয়াম স্যামুয়েল শ জুনিয়রের (১৯) মরদেহ উদ্ধার করে। মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রধান মেলিসা চিওদো এই ঘটনার কথা নিশ্চিত করেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, ঘটনাটি ওই বাড়ির ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং এতে কোনো বাইরের লোকের সংশ্লিষ্টতা নেই। প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিহত বড় ছেলে জেমিসন শ-কে এই হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে কী পরিস্থিতিতে বা কার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়েছিল কিংবা ঠিক কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু এখনও প্রকাশ করা হয়নি। নিহত জেমি লি চার্লস দীর্ঘ নয় বছর ধরে মিনিয়াপলিস ভিএ হেলথ কেয়ার সিস্টেমে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মর্মান্তিক এই ঘটনার মাত্র তিন দিন আগে তিনি মিনেসোটা স্টেট ফেয়ার ভ্রমণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন। আরও হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, মৃত্যুর দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে গত ১৬ আগস্ট তিনি নিজের অসুস্থতা থেকে বেঁচে ফেরার এক বছর পূর্তি উদযাপন করে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ঠিক এক বছর আগে তিনি হাসপাতালে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং সেই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন। দুই সন্তানের স্নেহময়ী মা ছিলেন চার্লস। গত জুন মাসেই বড় ছেলে জেমিসন তাঁর ২২তম জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন এবং ছোট ছেলে উইলিয়াম গত বছর হাইস্কুল সম্পন্ন করেন। তাঁদের এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চার্লসের ভাগ্নি পলি মরগান এক ফান্ডরেইজিং বার্তায় শোক প্রকাশ করে বলেন, একসঙ্গে তিনটি অমূল্য প্রাণ হারানোর এই ক্ষত কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। স্থানীয় পুলিশ বর্তমানে এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে থাকা প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে গভীর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় গত জানুয়ারি মাসে জুলিও সিজার সোসা-সেলিস নামের এক ভেনেজুয়েলান অভিবাসীকে পায়ে গুলি করার ঘটনায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের কথা বিবেচনা করছেন ফেডারেল প্রসিকিউটররা। ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রো নামের ওই অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগে মে মাসে মিনেসোটার স্থানীয় প্রসিকিউটররা দ্বিতীয় মাত্রার হামলার চারটি অভিযোগ এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার একটি অভিযোগ এনেছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে মিনেসোটায় অভিবাসন বিরোধী অভিযানের সময় এই ঘটনাটি ঘটেছিল, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জানুয়ারির ওই ঘটনার পরপরই কাস্ত্রোকে টেক্সাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বর্তমানে তিনি ক্যামেরন কাউন্টির একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তবে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট তাকে মিনেসোটায় ফেরত পাঠাতে (প্রত্যর্পণ) অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এর জেরে গত সপ্তাহে মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসন টেক্সাস গভর্নরের এই পদক্ষেপকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। কাস্ত্রোকে মিনেসোটায় প্রত্যর্পণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মঙ্গলবার টেক্সাসের একটি ফেডারেল আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন ফেডারেল প্রসিকিউটররা। সরকারি ক্ষমতায় থেকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কারও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া সরকারকে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে ঘটনার পর ওই ভেনেজুয়েলান অভিবাসী ও তার এক সঙ্গীর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ফেডারেল অভিযোগ আনা হলেও পরে তা খারিজ করে দেয় মার্কিন বিচার বিভাগ। মূলত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সাথে প্রাপ্ত প্রমাণের ব্যাপক অসঙ্গতি পাওয়ায় ফেব্রুয়ারিতে ওই মামলা চিরতরে বাতিল করা হয়। গুলি করার পর কাস্ত্রোর দেওয়া মিথ্যা বিবৃতির কারণেই মূলত তার বিরুদ্ধে ফেডারেল আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। আইসিই-এর সাবেক প্রধান টড লায়ন্স জানান, ভিডিও প্রমাণে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় কাস্ত্রোসহ দুই কর্মকর্তাকে আগেই প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। ঘটনার বিষয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) এবং এফবিআই-এর দেওয়া প্রাথমিক বিবৃতিতেও ব্যাপক অমিল ছিল। ডিএইচএস দাবি করেছিল, সোসা-সেলিস গাড়ি নিয়ে পালানোর সময় ধরা পড়লে দুই ব্যক্তি ঝাড়ু ও বরফ পরিষ্কারের বেলচা নিয়ে আইসিই এজেন্টের ওপর হামলা চালায় এবং আত্মরক্ষার্থে ওই কর্মকর্তা গুলি করেন। অন্যদিকে এফবিআইয়ের দাবি ছিল, সোসা-সেলিস নয়, বরং আলজোর্না নামের অন্য এক ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে পালিয়েছিলেন এবং হামলাকারীর পরিচয় নিয়েও তাদের তথ্যে অস্পষ্টতা ছিল। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক নারীকে বলতে শোনা যায়, তার স্বামীকে আইসিই এজেন্টরা তাড়া করে বাড়ির সামনে এনে পরিবারের সামনেই গুলি করেছে। এই অসঙ্গতিগুলোর কারণেই ঘটনাটি এখন ফেডারেল পর্যায়ে গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে ভয়াবহ এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে হপকিন্স শহরের ওই ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুসহ তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা, যেখানে এক বাবা তার স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করে এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। নিহত তিনজন একই পরিবারের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে হপকিন্সের টাইলার এভিনিউ নর্থের ২০০ ব্লকে অবস্থিত একটি বাড়ির ডে-কেয়ারে এই নারকীয় ঘটনা ঘটে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক অভিভাবক তার সন্তানকে ডে-কেয়ারে নামিয়ে দেওয়ার সময় এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান এবং আতঙ্কিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ৯১১-এ কল করে পুলিশকে খবর দেন। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য শিশুদের চোখের সামনেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় ওই ডে-কেয়ার সেন্টারে মোট সাতজন শিশু উপস্থিত ছিল। তবে নিহত শিশুটি এই সাতজনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার নয়। স্বস্তির বিষয় হলো, ভুক্তভোগী পরিবারটি ছাড়া সেখানে থাকা অন্য কোনো শিশুর শারীরিক ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে নিজ নিজ বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। মিনিয়াপোলিসের ঠিক দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত হপকিন্স শহরতলির এই ঘটনায় প্রশাসন ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার এক বক্তব্যে মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে এই হামলাকে একটি "সংকটজনক ঘটনা" (ক্রিটিক্যাল ইনসিডেন্ট) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমাদের হৃদয় ও প্রার্থনা হপকিন্সের মানুষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে রয়েছে।" তিনি ইতোমধ্যে হপকিন্সের মেয়র হ্যানলনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন এবং এই সংকটময় মুহূর্তে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর। মঙ্গলবারের নির্বাচনে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে টানা পঞ্চম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে যাওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন সোমালি বংশোদ্ভূত এই মার্কিন রাজনীতিক। সিবিএস নিউজের প্রজেকশন অনুযায়ী, প্রাইমারিতে ইলহান ওমরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জুলি টি লে, আবেনা ম্যাকেঞ্জি, লাটোনিয়া রিভস ও নাট শ্লুটার। তবে তাদের কেউই বর্তমান কংগ্রেসওম্যানকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি। মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট দীর্ঘদিন ধরেই ডেমোক্রেটিক পার্টির শক্ত ঘাঁটি। মিনিয়াপোলিসসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনকে মিনেসোটার সবচেয়ে ডেমোক্রেটিক ঝোঁকসম্পন্ন কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১৮ সালে প্রথমবার এই আসন থেকে কংগ্রেসে নির্বাচিত হন ইলহান ওমর। এরপর প্রতিটি নির্বাচনেই আসনটি ধরে রেখেছেন তিনি। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ওমর। একই বছরের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে তার জয়ের ব্যবধান ছিল ১৩ পয়েন্ট। এবারের প্রাইমারিতে পরিস্থিতি ছিল আরও স্বস্তিদায়ক। আগের কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় শক্তিশালী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হতে হয়নি তাকে। শেষ পর্যন্ত ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ায় নিজ দলের ভোটারদের মধ্যে তার শক্ত অবস্থান আবারও স্পষ্ট হলো। ওমরের প্রধান রাজনৈতিক অবস্থানগুলোর একটি হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতির বিরোধিতা। ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন ক্র্যাকডাউনের বিরুদ্ধে লড়াইকে নিজের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি। অন্যদিকে ট্রাম্পও দীর্ঘদিন ধরে ওমরের কঠোর সমালোচক। প্রাইমারির ঠিক আগমুহূর্তে ইলহান ওমরের একটি টাউন হলের বাইরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের একজন আন্ডারকভার এজেন্টের উপস্থিতি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। ওমরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ আগস্ট রিচফিল্ডে তার টাউন হল চলাকালে কমিউনিটি সেন্টারের বাইরে ওই এজেন্টকে একটি গাড়িতে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিষয়টি সামনে আসার পর ওমর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। ওমরের অভিযোগ, ওই এজেন্ট কেন তার কংগ্রেশনাল অনুষ্ঠানের বাইরে অবস্থান করছিলেন এবং তিনি কীভাবে টাউন হলের বিষয়ে জানতে পেরেছিলেন, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। ওই কর্মকর্তা কোনো রাজনৈতিক নজরদারির অংশ হিসেবে সেখানে ছিলেন কি না, সেটিও জানতে চেয়েছেন তিনি। তবে ওই এজেন্ট স্থানীয় পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তিনি একটি আন্ডারকভার ড্রাগ অপারেশনের কাজে সেখানে ছিলেন। এ কারণে ওমরের অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করে তাকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল, এমনটি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়নি। নিরাপত্তা নিয়ে ওমরের উদ্বেগের পেছনে সাম্প্রতিক আরেকটি ঘটনাও রয়েছে। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে একটি টাউন হলের সময় এক ব্যক্তি তার দিকে এগিয়ে এসে একটি তরল পদার্থ ছুড়ে মারেন। পরে সেটি আপেল সিডার ভিনেগার হিসেবে শনাক্ত হয়। ঘটনার পরও ওমর অনুষ্ঠান চালিয়ে যান এবং জানান, তাকে ভয় দেখিয়ে থামানো যাবে না। এদিকে পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের রিপাবলিকান প্রাইমারিতে জন নাগেল ৫২ দশমিক ১ শতাংশ ভোট নিয়ে জয়ী হওয়ার প্রজেকশন পেয়েছেন। ফলে নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে ইলহান ওমরের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছেন তিনি। তবে ডিস্ট্রিক্টটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল বিবেচনায় সাধারণ নির্বাচনে ইলহান ওমরই শক্তিশালী অবস্থানে থাকছেন। ১১ আগস্টের প্রাইমারিতে ৮০ শতাংশের বেশি ভোটের এই জয় সেই অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে চলতি বছরের শিক্ষার্থীদের রাজ্যভিত্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষার ফল প্রত্যাশার তুলনায় কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষকদের একটি অংশ। এর পেছনে সাম্প্রতিক ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এর সময়কার অভিবাসন অভিযান ও এর প্রভাবকে দায়ী করছেন তারা। শিক্ষকদের দাবি, অভিযানের সময় অভিবাসন ও সীমান্ত-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড ঘিরে তৈরি হওয়া আতঙ্ক শুধু পরিবারের ওপর নয়, শ্রেণিকক্ষেও প্রভাব ফেলেছে। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি বেড়েছে, অনেকের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং কেউ কেউ মানসিকভাবে গুটিয়ে গেছে। স্টিলওয়াটারের অভিজ্ঞ জীববিজ্ঞান শিক্ষক স্টেসি বার্টলেট জানান, জানুয়ারিতে তার শিক্ষার্থীদের আচরণে স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলেন তিনি। তার ভাষায়, শ্রেণিকক্ষে এক ধরনের নীরবতা তৈরি হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা কী নিয়ে উদ্বিগ্ন, তা অনেক সময় ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিল না। তার মতে, কোনো না কোনোভাবে প্রায় প্রতিটি শিক্ষার্থীই পরিস্থিতির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। শিক্ষকদের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ শিক্ষক জানিয়েছেন, তাদের শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ ক্লাসে অনুপস্থিত ছিল। ৬৭ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। আর ৪৭ শতাংশ বলেছেন, শিক্ষার্থীদের আচরণে স্পষ্টভাবে গুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। টুইন সিটিজ এলাকার শিক্ষকদের মতামত আলাদাভাবে বিবেচনা করলে পরিস্থিতি আরও বেশি উদ্বেগজনক। সেখানে ৯১ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন এবং ৮৯ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় বা উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। শিক্ষকদের মতে, এর প্রভাব শুধু বিদ্যালয়ে উপস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। যারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, তাদের অনেকের ক্ষেত্রেও মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। বার্টলেট বলেন, শিশুরা ও কিশোর-কিশোরীরা বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেই বাস করে। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা, বাবা-মায়ের অবস্থা, বন্ধুদের পরিস্থিতি কিংবা পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো নিয়ে উদ্বেগ তাদের মনোযোগের ওপর প্রভাব ফেলেছে। শিক্ষা সংগঠন এডুকেশন মিনেসোটার সভাপতি মনিকা বায়রন বলেন, ভীত-সন্ত্রস্ত শিশুদের স্বাভাবিকভাবে পড়ানো সম্ভব নয়। তার মতে, মিনেসোটা কমপ্রিহেনসিভ অ্যাসেসমেন্টস এমনিতেই শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলক কম ঝুঁকির মূল্যায়ন পরীক্ষা। তাই সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে এ বছরের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জরিপটি পরিচালনা করেছে ভস রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি, যা ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি গবেষণা ও কৌশলগত পরামর্শ প্রতিষ্ঠান। তবে শিক্ষকদের আশঙ্কা এখনো পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল দিয়ে নিশ্চিত হয়নি। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের রাজ্য পরীক্ষার ফল আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশের কথা রয়েছে। মিনেসোটা সাধারণত আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে এসব ফল প্রকাশ করে। ফলে শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, মানসিক চাপ ও মনোযোগের ওপর সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলে কতটা পড়েছে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে আজ (১ আগস্ট) থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি এটিএম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন আইনের আওতায় অঙ্গরাজ্যজুড়ে থাকা সব ক্রিপ্টো এটিএম আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে হবে। সাধারণ এটিএমের মতো দেখতে হলেও এসব মেশিনে নগদ অর্থ জমা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনা যেত। ব্যবহারকারীরা নগদ অর্থ, ডেবিট কার্ড বা ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারতেন। অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, ক্রিপ্টো এটিএম ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে এসব মেশিনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও প্রতারণা কমেনি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মিনেসোটায় ক্রিপ্টো এটিএম-সংক্রান্ত ১৩৪টি অভিযোগ জমা পড়ে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ ডলার। এর মধ্যে শুধু ২০২৫ সালেই প্রায় ৭০টি প্রতারণার ঘটনায় প্রায় সাড়ে চার লাখ ডলার হারান ক্ষতিগ্রস্তরা। আইনপ্রণেতাদের শুনানিতে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, আর্থিক প্রতারণার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে এসব ক্রিপ্টো এটিএম। বিশেষ করে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেই প্রতারকরা এসব মেশিন ব্যবহার করছে। কর্তৃপক্ষের মতে, ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন খুব দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং একবার অর্থ স্থানান্তর হয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনা বা আটকে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। এ কারণেই প্রতারণা কমাতে অঙ্গরাজ্যজুড়ে ক্রিপ্টো এটিএম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত সাতটি অঙ্গরাজ্যের পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় পরিচালিত নতুন এক সাইবার হামলায় আধুনিক মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মিনেসোটা ও মিশিগানসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যের পানি শোধনাগার ও ইউটিলিটি সেন্টারগুলোতে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে হস্তচালিত বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কার্যক্রম চালনা করতে হচ্ছে। মার্কিন তদন্তকারী সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখছে যে, এই নাশকতামূলক সাইবার হামলার পেছনে ইরানি হ্যাকারদের হাত রয়েছে কি না। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি কর্মকর্তারা। তদন্তকারীরা এটিও ক্ষতিয়ে দেখছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে অন্য কোনো গোষ্ঠী ইরানের নাম ভাঙিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে কি না। তথ্য অনুযায়ী, কেবল মিনেসোটাতেই ৩০টিরও বেশি এলাকার স্থানীয় পানি সরবরাহ কেন্দ্রের ‘প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার’ (পিএলসি) প্রযুক্তি হামলার শিকার হয়েছে। তবে সময়মতো স্থানীয় টেকনিশিয়ানদের পদক্ষেপে পানীয় জলের সরবরাহ, মান বা চাপে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটেনি। ঘটনার পর ফেডেরাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিআইএসএ) এবং অ্যানভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি (ইপিএ) থেকে যৌথভাবে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। ইন্টারনেট-সংযুক্ত সব পিএলসি ডিভাইস অবিলম্বে জনসমক্ষে উন্মুক্ত নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে সিআইএসএ। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেও ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের পানি শোধনাগারগুলোকে এ ধরনের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে নিশানা করেছিল। সাইবার হামলার উৎস নিয়ে তদন্ত চলার মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। এক ভার্চুয়াল কেবিনেট বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলায় ইরানের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে সরাসরি মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর টিম ওয়ালজকে দায়ী করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, স্থানীয় প্রশাসনের চরম অব্যবস্থাপনা ও অদক্ষতার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে এবং ইরানকে অহেতুক জড়ানো হচ্ছে। ট্রাম্পের এই আক্রমণের তীব্র বিরোধিতা করে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী গভর্নর টিম ওয়ালজ সামাজিক মাধ্যমে জানান, ট্রাম্প প্রশাসন সিআইএসএ-র ওপর আঘাত হেনে কেন্দ্রীয় সাইবার নিরাপত্তাকে দুর্বল করে দিয়েছিল, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিতে পড়েছে। আধুনিক এই অদৃশ্য যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ওয়াশিংটন সংকট সমাধানে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে বলেও তোপ দাগেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে বিদ্যালয়ের লকডাউন মহড়ার সময় শিক্ষার্থীদের শাস্তি দিতে তাদের পিঠের ওপর পা রাখার ঘটনায় অভিযুক্ত এক শিক্ষককে দুই বছরের প্রবেশনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে থাকা শিক্ষকতার লাইসেন্স স্বেচ্ছায় জমা দিতে হবে। এছাড়া রাগ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মূল্যায়নে অংশ নেওয়া, ৯০ ঘণ্টা সমাজসেবা করা, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনার চিঠি লেখা এবং জরিমানা ও আদালতের বিভিন্ন ফি হিসেবে ২ হাজার ২৫০ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিনেসোটার অটার টেইল কাউন্টির আন্ডারউড এলাকার ৪৯ বছর বয়সী শিক্ষক জেসন লাওয়েল রজার্সের বিরুদ্ধে শিশুদের প্রতি বিদ্বেষমূলক শাস্তি দেওয়ার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। স্থানীয় আদালত মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে তার বিরুদ্ধে 'স্টে অব অ্যাডজুডিকেশন' মঞ্জুর করেন। অর্থাৎ তিনি দোষ স্বীকার করলেও আপাতত আনুষ্ঠানিক দণ্ডাদেশ স্থগিত থাকবে। প্রবেশন চলাকালে আদালতের সব শর্ত মেনে চললে অভিযোগগুলো খারিজ হয়ে যাবে। তবে শর্ত ভঙ্গ করলে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারবেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্ডারউড স্কুলে লকডাউন মহড়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। এক ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তদন্তকারীদের জানান, মহড়ার সময় তিনি উপুড় হয়ে মেঝেতে শুয়ে ছিলেন। তখন শিক্ষক জেসন রজার্স তার পিঠের ওপর দুই পা দিয়ে দাঁড়ান। আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়, রজার্সের ওজন ৩৫০ পাউন্ডেরও বেশি, যা প্রায় ১৫৯ কিলোগ্রামের সমান। ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থী তীব্র পিঠের ব্যথায় ভুগতে থাকে এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তদন্ত চলাকালে রজার্স স্বীকার করেন, তিনি শুধু ওই একজন নন, আরও দুই শিক্ষার্থীর পিঠেও পা রেখেছিলেন। তার দাবি ছিল, কয়েকজন শিক্ষার্থী লকডাউন মহড়াকে গুরুত্ব দিচ্ছিল না। তাদের সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই তিনি এমনটি করেছিলেন। তবে তদন্তকারী সংস্থার মতে, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা শিশুদের প্রতি শারীরিক শাস্তির শামিল। ঘটনার পর ২০২৫ সালের মার্চে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর আন্ডারউড স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। এরপর থেকে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন ছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রবেশন চলাকালে রজার্সকে শিক্ষকতার লাইসেন্স ত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি তাকে রাগ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে, সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নিতে হবে এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে স্থগিত থাকা অভিযোগে আনুষ্ঠানিক দণ্ডাদেশ কার্যকর হতে পারে। মার্কিন শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যালয়ে জরুরি পরিস্থিতির মহড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পরিচালিত হলেও তা পরিচালনার সময় শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিকর কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষকদের আচরণবিধি এবং বিদ্যালয়ের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে
ক্যালিফোর্নিয়া ও মিনেসোটার জন্য নির্ধারিত ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল মেডিকেইড অর্থ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, সম্ভাব্য জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থ ছাড়া হবে না। তবে দুই অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এবং সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস) জানায়, ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য ৮৬৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার এবং মিনেসোটার জন্য ১৯৯ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল মেডিকেইড অর্থ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি স্থায়ী অর্থ কর্তন নয়; সংশ্লিষ্ট দাবির বৈধতা প্রমাণে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলে অর্থ ছেড়ে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র বলেন, মেডিকেইড কর্মসূচির অর্থ কেবল বৈধ দাবির ক্ষেত্রেই ব্যয় হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, করদাতাদের অর্থ সুরক্ষিত রাখতে জালিয়াতি, অপচয় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সিএমএসের প্রশাসক ড. মেহমেত ওজও বলেন, অর্থ বিতরণের পর তা উদ্ধারের চেয়ে আগে থেকেই সন্দেহজনক দাবিগুলো যাচাই করাই সংস্থার নতুন কৌশল। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশেষ করে ইন-হোম কেয়ার কর্মসূচির ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং মিনেসোটার ১৪টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেইড সেবা খাতে কিছু দাবির বিষয়ে অতিরিক্ত পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ফেডারেল সরকার নির্দিষ্ট কোনো জালিয়াতির প্রমাণ প্রকাশ করেনি। এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ক্যালিফোর্নিয়ার ইন-হোম সাপোর্টিভ সার্ভিসেস (আইএইচএসএস) কর্মসূচির ওপর, যার মাধ্যমে ৯ লাখের বেশি বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি নিজ বাড়িতে পরিচর্যা সেবা পান। অর্থ দীর্ঘ সময় স্থগিত থাকলে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও পরিচর্যাকারীদের অর্থপ্রদান বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। তবে বর্তমানে মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা বা স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ করা হয়নি। অন্যদিকে মিনেসোটায় স্থগিত হওয়া অর্থ ১৪টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেইড সেবা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেও কতজন সুবিধাভোগী সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন, সে সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেনি ফেডারেল সরকার বা অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের দাবি, প্রশাসন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই অর্থ স্থগিত করেছে এবং এর ফলে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নআয়ের পরিবার, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগীর জন্য পরিচালিত যৌথ ফেডারেল-অঙ্গরাজ্য স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি। সাম্প্রতিক এই অর্থ স্থগিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনে স্বাস্থ্যনীতি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ফেডারেল-অঙ্গরাজ্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মাত্র ৬৫ ডলারের একটি পার্কিং চুক্তি বাতিল না করাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট পলে এক অ্যাপার্টমেন্টের লিজিং অফিসে ঢুকে তিনজন সম্পত্তি ব্যবস্থাপককে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ৩০ বছর বয়সী তসেগাব আদেমাস্সু বিনেসুর বিরুদ্ধে। ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে তিনটি দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ এনেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার সন্ধ্যায় ডাভার্ন পার্ক অ্যাপার্টমেন্টস থেকে গুলির শব্দ ও চিৎকারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। সেখানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই নারী ও এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন ২৫ বছর বয়সী নানসি জি. ফুয়েন্তেস জামব্রানো, ৫৬ বছর বয়সী ডেনা এম. সিলকক্স এবং ৪৩ বছর বয়সী অ্যাডাম জে. উইলওয়ার্ডিং। রামসি কাউন্টির ফৌজদারি অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ঘটনার আগে বিনেসু অ্যাপার্টমেন্ট কর্তৃপক্ষকে ফোন করে মাসিক ৬৫ ডলারের পার্কিং গ্যারেজ চুক্তি বাতিল করতে চান। কর্তৃপক্ষ জানায়, সম্প্রতি নবায়ন করা চুক্তি বাতিল করা সম্ভব নয়। ফোনেই তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, সরাসরি অফিসে এলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে না। অভিযোগে বলা হয়েছে, কিছুক্ষণ পরই তিনি লিজিং অফিসে যান। সেখানে প্রথমে অ্যাডাম উইলওয়ার্ডিংয়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে কোমর থেকে পিস্তল বের করে গুলি করেন। তিনি মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও একাধিকবার গুলি করা হয়। এরপর ডেনা সিলকক্সকে পরপর গুলি করেন। পরে অফিসের ভেতরের আরেকটি অংশে পালানোর চেষ্টা করা নানসি ফুয়েন্তেস জামব্রানোও গুলিতে নিহত হন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, লিজিং অফিসের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনার বড় অংশ ধরা পড়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৯ মিলিমিটার ক্যালিবারের ২১টি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত নানসি ফুয়েন্তেস জামব্রানোর গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে সেন্ট লুইস কাউন্টিতে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট, সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড, একটি খালি ম্যাগাজিন, আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতিপত্র এবং সদ্য কেনা ক্যাম্পিং সরঞ্জাম পাওয়া যায়। তিনি ঘটনার সময় যে পোশাক পরেছিলেন, গ্রেপ্তারের সময়ও একই পোশাকে ছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে বিনেসুর সঙ্গে বসবাস করা এক রুমমেট পুলিশকে জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত তাকে ফোন করে তিনজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। প্রথমে তিনি পুলিশ স্টেশনে আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন বললেও পরে পালিয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদে বিনেসু যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সাত বছরেও ইথিওপিয়ায় থাকা স্ত্রী ও সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে আনতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ অভিবাসন প্রক্রিয়ার কারণে পারিবারিক সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং মানসিক চাপের কারণে তিনি ট্রাকচালকের চাকরিও ছেড়ে দেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অ্যাপার্টমেন্ট কর্তৃপক্ষ তাকে সহায়তা না করে বারবার ‘এটাই সিস্টেম’ বলে দায় এড়িয়েছে। তবে তদন্তকারীদের কাছে তিনি লিজিং অফিসে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও সেখানে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে আর কোনো বক্তব্য দেননি। পরে আইনজীবীর উপস্থিতি চান। রামসি কাউন্টির ফৌজদারি অভিযোগপত্র ও সেন্ট পল পুলিশ জানিয়েছে, বিনেসুর বিরুদ্ধে তিনটি দ্বিতীয়-ডিগ্রি ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন এবং আদালতে তার প্রাথমিক শুনানি নির্ধারিত হয়েছে বুধবার।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত একাধিক ব্যক্তি নিজেদের পক্ষে লড়তে এখন সরকারি খরচে আইনজীবীর সহায়তা পাচ্ছেন। করদাতাদের অর্থে পরিচালিত আইনি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় তাদের জন্য আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেএসটিপির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে সরকারি সামাজিক সেবা কর্মসূচি থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তদের অনেকেই অভিযোগ ওঠার আগে সরকারি অর্থ ব্যবহার করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছিলেন। মিনেসোটার আইন অনুযায়ী, কোনো আসামি নিজ খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিতে অক্ষম বলে আদালত মনে করলে তার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো, অর্থনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রত্যেক অভিযুক্ত যেন ন্যায্য বিচার পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করতে পারেন। তবে আদালত প্রয়োজনে অভিযুক্তের আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনা করতে পারে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইনি ব্যয়ের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দিতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিনেসোটায় সরকারি অর্থ আত্মসাতের একাধিক আলোচিত মামলা সামনে এসেছে। এর মধ্যে শিশুদের খাবার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত 'ফিডিং আওয়ার ফিউচার' কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন সামাজিক সেবা কর্মসূচিতে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগে বহু ব্যক্তি অভিযুক্ত হয়েছেন। ফেডারেল প্রসিকিউটররা এসব ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সরকারি অর্থ জালিয়াতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এদিকে, যাদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, তাদের জন্য আবারও করদাতাদের অর্থ ব্যয় করে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযোগ যত গুরুতরই হোক না কেন, আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন এবং ন্যায্য আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।