সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরকে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের বিভক্তি, প্রতিবাদী চিঠিতে সই করেননি ৪০ জন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৩:৩৯
যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরকে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের বিভক্তি, প্রতিবাদী চিঠিতে সই করেননি ৪০ জন
যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরকে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের বিভক্তি, প্রতিবাদী চিঠিতে সই করেননি ৪০ জন

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ফেডারেল তদন্ত ঘিরে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে শুরু হওয়া এই অভিবাসন তদন্ত বন্ধের দাবিতে দলের শীর্ষ নেতারা একজোট হলেও, বেশ কয়েকজন হাউজ ডেমোক্র্যাট ওমরের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

 

চলতি মাসের শুরুতে ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসভবনে তল্লাশি চালায় ফেডারেল এজেন্টরা। এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে বিচার বিভাগ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বিরুদ্ধে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ এনে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন ১৭৫ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য। তবে ২১৪ সদস্যের ককাসের মধ্যে প্রায় ৪০ জন ডেমোক্র্যাট ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান।

 

প্রমিলা জয়পালের নেতৃত্বে লেখা ওই প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে পুনর্নির্বাচনে লড়তে যাচ্ছেন ইলহান ওমর। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এ ধরনের তল্লাশি ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে, যা মিনেসোটার নাগরিকদের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করার শামিল।

 

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মার্কিন বিচার বিভাগের দীর্ঘদিনের নীতি অনুযায়ী নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এমন কোনো তদন্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্ল্যাঞ্চ নিজেও এর আগে এই নীতির কথা উল্লেখ করেছিলেন।

 

তবে প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি থেকে শুরু করে টম সুওজি, লরা গিলেন, জশ গটেইমার এবং মেরি গ্লুসেনক্যাম্প পেরেজের মতো নেতারা এই চিঠিতে সই করেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এলাকার জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের ঠিক আগে ওমরের মতো বিতর্কিত নেত্রীর সাথে নিজেদের জড়াতে চাইছেন না। বিশেষ করে ইসরায়েল এবং পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তার অতীতের স্পষ্টবাদী সমালোচনার কারণে রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশেই তারা এই দূরত্ব বজায় রাখছেন।

 

চিঠিতে স্বাক্ষর না করার অর্থ অবশ্য এই নয় যে ওই আইনপ্রণেতারা তদন্তকে সমর্থন করেন বা ওমরকে দোষী ভাবছেন। মূলত ইলহান ওমর বা তার প্রয়াত পিতা অভিবাসন সংক্রান্ত কাগজপত্রে জন্মসাল ভুলভাবে উপস্থাপন করেছিলেন কি না, তার ওপর ভিত্তি করেই এই তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। গত ১২ অক্টোবর তার ডিসির বাসভবনে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি ফোন ও নোটবুক জব্দ করে ফেডারেল এজেন্টরা।

 

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ওমর এই তদন্তকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

 

এর আগে রিপাবলিকানদের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটরা ইলহান ওমরের পাশে শক্তভাবে দাঁড়ালেও, এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। ২০২৩ সালে ইসরায়েল নিয়ে মন্তব্যের জেরে তাকে যখন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি থেকে অপসারণ করা হয়, তখন প্রতিটি ডেমোক্র্যাট সদস্য এর বিরোধিতা করেছিলেন।

 

এমনকি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের পর ওমরের করা মন্তব্যের জেরে রিপাবলিকানরা তাকে তিরস্কার করার যে চেষ্টা করেছিল, ডেমোক্র্যাটদের জোরালো বিরোধিতায় ২১৩-২১৪ ভোটে তা বাতিল হয়ে যায়। তবে বর্তমান চিঠিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডেমোক্র্যাট নেতার স্বাক্ষর না থাকাটা প্রমাণ করে যে, সাধারণ ভোটারদের মন জয় করার তাগিদে রাজনৈতিকভাবে ওমরের প্রতি দলের শর্তহীন সমর্থন ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে।

 

এই বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য সুওজি, গিলেন, গটেইমার, পেলোসি এবং পেরেজের কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আইসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের আক্রমণ করতেন, এবার সেই আইসের হেফাজতে ম্যাগা ব্লগার
আইসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের আক্রমণ করতেন, এবার সেই আইসের হেফাজতে ম্যাগা ব্লগার

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) দেশজুড়ে তাদের ধরপাকড় অব্যাহত রেখেছে। সংস্থাটির বিতর্কিত গ্রেপ্তার অভিযান নিয়ে সমালোচনা থাকলেও অনেকেই এর কার্যক্রমে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে থাকেন। এমনই একজন কট্টর আইস-সমর্থক এবং 'ম্যাগা' (MAGA) ব্লগার স্যামুয়েল সে এবার নিজেই অভিবাসন আইনের কঠোরতার মুখে পড়েছেন।   ৩৯ বছর বয়সী স্যামুয়েলের জন্ম ঘানায়; পরবর্তীতে তিনি কানাডা এবং সবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। গত ২১ অক্টোবর ওহাইওর কলম্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভ্রমণের সময় আইস এজেন্টরা তাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তাকে বাটলার কাউন্টি জেলে বন্দি রাখা হয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত হওয়ার (ডিপোর্টেশন) ঝুঁকিতে রয়েছেন।   নিজের ‘স্লো টু রাইট’ (SlowToWrite) নামের ব্লগের মাধ্যমে স্যামুয়েল নিজেকে একজন প্রো-লাইফ কর্মী, শিক্ষক এবং পাবলিক স্পিকার হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইসের বিভিন্ন অভিযানের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছিলেন, "আপনি যদি আমেরিকাকে ভালোবাসেন, তবে আপনার আইসকে সমর্থন করা উচিত।" আইসের কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি এমনও দাবি করেছিলেন যে, যারা আইস-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে ঈশ্বর তাদের সমর্থন করেন না এবং এসব আন্দোলনকারী 'শয়তানের দ্বারা প্রভাবিত'।   এর আগে আইসের এক অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হলে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কিন্তু তখনও স্যামুয়েল আইস এজেন্টদের পক্ষ নিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে এটি আত্মরক্ষার অংশ ছিল।   তবে আইসের প্রতি এই একনিষ্ঠ সমর্থন স্যামুয়েলকে বিতাড়নের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বেআইনিভাবে থাকার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   ডিএইচএস-এর তথ্যমতে, ২০২২ সালে স্যামুয়েল বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও তার ভিসার মেয়াদ বেশ আগেই শেষ হয়ে যায়। স্যামুয়েলের মুক্তির জন্য একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে এবং তার স্ত্রী দাবি করেছেন যে এটি কেবল নথিপত্র সংক্রান্ত একটি ছোট ভুল। তবে ডিএইচএস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তার কোনো অভিবাসন আবেদন অপেক্ষমাণ নেই এবং তিনি স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে রাজি হয়েছেন।   সংস্থাটি আরও জানায় যে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে চূড়ান্তভাবে বিতাড়িত না হওয়া পর্যন্ত স্যামুয়েলকে আইসের হেফাজতেই থাকতে হবে। তবে তাকে কানাডা নাকি ঘানায় ফেরত পাঠানো হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ডিএইচএস মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তারা কাউকে আলাদাভাবে বিবেচনা করেন না।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:৪৩
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ, সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলোর তালিকায় ফ্লোরিডা

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ, সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলোর তালিকায় ফ্লোরিডা

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির বাজারে ধস, কিনতে লাগবে ৮১ হাজার ডলারের বেশি অগ্রিম

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির বাজারে ধস, কিনতে লাগবে ৮১ হাজার ডলারের বেশি অগ্রিম

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আল-ফালাহ সুপার মার্কেট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

আটলান্টার বাংলাদেশি কমিউনিটির জনপ্রিয় সুপার মার্কেট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরকে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের বিভক্তি, প্রতিবাদী চিঠিতে সই করেননি ৪০ জন
যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরকে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের বিভক্তি, প্রতিবাদী চিঠিতে সই করেননি ৪০ জন

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ফেডারেল তদন্ত ঘিরে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে শুরু হওয়া এই অভিবাসন তদন্ত বন্ধের দাবিতে দলের শীর্ষ নেতারা একজোট হলেও, বেশ কয়েকজন হাউজ ডেমোক্র্যাট ওমরের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।   চলতি মাসের শুরুতে ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসভবনে তল্লাশি চালায় ফেডারেল এজেন্টরা। এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে বিচার বিভাগ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বিরুদ্ধে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ এনে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন ১৭৫ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য। তবে ২১৪ সদস্যের ককাসের মধ্যে প্রায় ৪০ জন ডেমোক্র্যাট ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান।   প্রমিলা জয়পালের নেতৃত্বে লেখা ওই প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে পুনর্নির্বাচনে লড়তে যাচ্ছেন ইলহান ওমর। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এ ধরনের তল্লাশি ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে, যা মিনেসোটার নাগরিকদের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করার শামিল।   চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মার্কিন বিচার বিভাগের দীর্ঘদিনের নীতি অনুযায়ী নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এমন কোনো তদন্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্ল্যাঞ্চ নিজেও এর আগে এই নীতির কথা উল্লেখ করেছিলেন।   তবে প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি থেকে শুরু করে টম সুওজি, লরা গিলেন, জশ গটেইমার এবং মেরি গ্লুসেনক্যাম্প পেরেজের মতো নেতারা এই চিঠিতে সই করেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এলাকার জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের ঠিক আগে ওমরের মতো বিতর্কিত নেত্রীর সাথে নিজেদের জড়াতে চাইছেন না। বিশেষ করে ইসরায়েল এবং পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তার অতীতের স্পষ্টবাদী সমালোচনার কারণে রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশেই তারা এই দূরত্ব বজায় রাখছেন।   চিঠিতে স্বাক্ষর না করার অর্থ অবশ্য এই নয় যে ওই আইনপ্রণেতারা তদন্তকে সমর্থন করেন বা ওমরকে দোষী ভাবছেন। মূলত ইলহান ওমর বা তার প্রয়াত পিতা অভিবাসন সংক্রান্ত কাগজপত্রে জন্মসাল ভুলভাবে উপস্থাপন করেছিলেন কি না, তার ওপর ভিত্তি করেই এই তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। গত ১২ অক্টোবর তার ডিসির বাসভবনে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি ফোন ও নোটবুক জব্দ করে ফেডারেল এজেন্টরা।   অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ওমর এই তদন্তকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ বলে আখ্যায়িত করেছেন।   এর আগে রিপাবলিকানদের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটরা ইলহান ওমরের পাশে শক্তভাবে দাঁড়ালেও, এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। ২০২৩ সালে ইসরায়েল নিয়ে মন্তব্যের জেরে তাকে যখন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি থেকে অপসারণ করা হয়, তখন প্রতিটি ডেমোক্র্যাট সদস্য এর বিরোধিতা করেছিলেন।   এমনকি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের পর ওমরের করা মন্তব্যের জেরে রিপাবলিকানরা তাকে তিরস্কার করার যে চেষ্টা করেছিল, ডেমোক্র্যাটদের জোরালো বিরোধিতায় ২১৩-২১৪ ভোটে তা বাতিল হয়ে যায়। তবে বর্তমান চিঠিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডেমোক্র্যাট নেতার স্বাক্ষর না থাকাটা প্রমাণ করে যে, সাধারণ ভোটারদের মন জয় করার তাগিদে রাজনৈতিকভাবে ওমরের প্রতি দলের শর্তহীন সমর্থন ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে।   এই বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য সুওজি, গিলেন, গটেইমার, পেলোসি এবং পেরেজের কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৩:৩৯
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় করোনা মহামারীর সময় শিশুদের খাবার সরবরাহের তহবিল জালিয়াতির মামলায় সালিম সাঈদের ৪০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন প্রসিকিউটররা। ছবি: সংগৃহীত

২৫ কোটি ডলারের ত্রাণ জালিয়াতি, সালিম সাঈদের ৪০ বছরের কারাদণ্ড চাইছে মার্কিন সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর বরফঢাকা পাহাড়ে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী, মিলল শুধু ধসে পড়া তাঁবু

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর বরফঢাকা পাহাড়ে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী, মিলল শুধু ধসে পড়া তাঁবু

নিউইয়র্কের কুইন্স প্যালেসে প্রবাসীদের দক্ষতা ও সহায়তার লক্ষ্যে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে পালন করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে আজ প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আয়োজন, চাকরি প্রস্তুতি থেকে অভিবাসন ও আইনি সচেতনতা সব একত্রে

ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে মাঠে নেমেছে ক্যারিবীয় কমিউনিটির একটি সংগঠন।
নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভোটের লড়াইয়ে নামছে নিউইয়র্কের অভিবাসী কমিউনিটি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে নিউইয়র্কের কুইন্স ও ব্রঙ্কসে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে মাঠে নেমেছে ক্যারিবীয় কমিউনিটির একটি সংগঠন। ক্যারিবিয়ান ইকুয়ালিটি প্রজেক্ট ‘ম্যাশ-আপ দ্য ভোট’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন পাড়ায় ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছে। লক্ষ্য—স্থানীয় নির্বাচন ও নীতিনির্ধারণে কমিউনিটির অংশগ্রহণ বাড়ানো।    প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২২ অক্টোবর কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা দিনের প্রচারের প্রস্তুতি নেন। তাঁরা বিভিন্ন দলের মধ্যে এলাকার ভিত্তিতে কাজ ভাগ করে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রচারের সময় ভোটারদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার গুরুত্ব বোঝানো এবং তাঁদের উদ্বেগ শোনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।    সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ কিউ. আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক পাড়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি হলেও স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণ কম দেখা যায়। এ কারণে নিয়মিত ভোট দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে তাঁরা প্রচার চালাচ্ছেন।    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনের আগে সংগঠনটি প্রায় তিন হাজার বাড়িতে এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় প্রায় পাঁচ হাজার বাড়িতে যোগাযোগ করেছিল বলে সংগঠনের সভাপতি জানান। এবার ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে একই ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে।    এই উদ্যোগ অভিবাসী কমিউনিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্থানীয় নির্বাচন ও নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাসস্থান, জীবনযাত্রার ব্যয়, জননিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে নিজেদের মতামত তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। তবে ভোট দেওয়ার যোগ্যতা, নিবন্ধনের অবস্থা এবং প্রযোজ্য নিয়ম প্রত্যেক ভোটারকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১২:৪৮
স্ট্রিমিং সার্ভিসের সাবস্ক্রিপশন ফি বেড়ে যাওয়ায় খরচ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন মার্কিন গ্রাহকরা। ছবি: সংগৃহীত

দাম বাড়ায় স্ট্রিমিং থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন মার্কিনরা, খরচ কমাতে বাতিল হচ্ছে একের পর এক সাবস্ক্রিপশন

পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় শিশুদের ওপর নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগে এরিকা লিন সেয়ার ও ক্লিফোর্ড গেইল সেয়ার দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ভার্জিনিয়ায় ৩ শিশুকে হন্টেড বাড়িতে আটকে বছরের পর বছর নির্যাতন, দম্পতির বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা

হ্যালোইন উৎসবে শিশুদের জন্য নানা আয়োজন

হ্যালোইন উৎসবে শিশুদের জন্য নানা আয়োজন, নিউইয়র্কে পরিবার নিয়ে আনন্দের সুযোগ

0 Comments