নিউইয়র্কের কারাগারের অন্ধকার জগৎ: নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ চিত্র
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কারাগারগুলোতে বন্দীদের ওপর নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গত পাঁচ বছরে অন্তত ১৭০টি মামলা আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি করেছে রাজ্য সরকার। এসব মামলায় মোট ২৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও কোনো ক্ষেত্রেই আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করা হয়নি। তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে পাওয়া নথির ভিত্তিতে দ্যা সিটি রিপোর্টারের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই চিত্র।
অ্যান্টোয়ান গ্যালোওয়ে এখনও স্পষ্টভাবে মনে করতে পারেন ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির সেই দিনটির কথা। নিউইয়র্কের ক্লিনটন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করার পর সাতজন কারারক্ষী তাকে ঘিরে ধরেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে মুখে ঘুষি মারা হয়। এরপর বুকে কিল, স্টিলের বুট দিয়ে লাথি এবং ব্যাটন দিয়ে পায়ের গোড়ালিতে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তিনি বারবার জ্ঞান হারাতে থাকেন। বর্তমানে ৪৮ বছর বয়সী ইস্ট ফ্ল্যাটবুশের বাসিন্দা গ্যালোওয়ে দ্যা সিটি রিপোর্টারকে বলেন, "আমি মাথা ঢাকার চেষ্টা করছিলাম। দুইবার জ্ঞান হারিয়েছিলাম। ফিরে আসছিলাম, আবার হারাচ্ছিলাম। ওরা লাথি মারছিল, পা দিয়ে মাড়াচ্ছিল, জাতিবিদ্বেষী গালি দিচ্ছিল।"
ঘটনার আট বছর পর নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য তার মামলা ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার দিয়ে নিষ্পত্তি করে। তবে সেই সমঝোতায় কোনো দায় স্বীকার করা হয়নি।
দ্যা সিটি রিপোর্টার তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে যে নথি সংগ্রহ করেছে, তাতে দেখা যায় গত পাঁচ বছরে অন্তত ১৭০টি মামলায় নিউইয়র্ক সরকার ২৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।
মামলাগুলোর অভিযোগের মধ্যে ছিল কারারক্ষীদের মারধর, নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা এবং এমন ঘটনা, যেখানে চিকিৎসা না পাওয়ায় বন্দীদের কারও কারও অঙ্গ কেটে ফেলতে হয়েছে।
এসব মামলার বেশিরভাগই আদালতের বাইরে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও কোনো ক্ষেত্রেই সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি।
গ্যালোওয়ের আইনজীবী ব্রায়ান ড্র্যাচ বলেন, "আমি রাজ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করি। সপ্তাহে দুইবারও করি।" প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি এই ধরনের মামলা পরিচালনা করছেন। তার দাবি, এ ধরনের মামলার সংখ্যা কমেনি, বরং বেড়েছে।
পাঁচ মাস চিকিৎসা না পেয়ে ক্যানসারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছান বন্দী দ্যা সিটি রিপোর্টারের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে জর্ডান ওয়ার্নারের ঘটনাও।
মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি আপস্টেট কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে সাজা ভোগ করছিলেন। একসময় তার গলার পাশে মাংস ফুলে ওঠে, দ্রুত ওজন কমতে থাকে, দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হয় এবং রাতে অতিরিক্ত ঘামে ভিজে যেতেন। ওয়ার্নার বলেন, "আমি প্রতিদিন ডাক্তার দেখাতে চাইতাম। পাঁচ মাস ধরে আবেদন করেছি। কারারক্ষীরা বলেছে আমি মিথ্যা বলছি।"
তার অভিযোগ, ওষুধ বিতরণকারী নার্সরাও তার সেলের সামনে দিয়ে চলে যেতেন।
একদিন করিডরে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অ্যালবেনি মেডিকেল সেন্টারে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফুসফুসের চারপাশে জমে থাকা তরল বের করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা শনাক্ত করেন স্টেজ ফোর-বি হজকিন্স লিম্ফোমা, যা ক্যানসারের অত্যন্ত অগ্রসর পর্যায়।
মায়ের জন্মদিনে ফোন করে তিনি প্রথম নিজের অসুস্থতার কথা জানান।
তার ভাষায়, "মা ভেবেছিলেন আমি জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে ফোন করেছি। আমি বললাম, আমার স্টেজ ফোর ক্যানসার। একজন আইনজীবী ধর, এখনই।"
তার অভিযোগ, এরপরও কারা কর্তৃপক্ষ তিনবার কেমোথেরাপি নিতে অস্বীকৃতি জানানোর মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরি করেছিল।
তিনি বলেন, "বেঁচে থাকার জন্য কে কেমোথেরাপি নিতে অস্বীকৃতি জানায়?"
২০২১ সালে করা মামলার চার বছর পর নিউইয়র্ক সরকার তাকে ৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়।
ওয়ার্নার বলেন, "আমি টাকার চেয়ে চেয়েছিলাম যারা দায়ী, তারা চাকরি হারাক।"
২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া ওয়ার্নার বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন। সম্প্রতি তিনি ছেলের প্রথম জন্মদিন উদ্যাপন করেছেন।
অনুসন্ধানে আরও কয়েকটি গুরুতর ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে। গ্রিন হেভেন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে এক বন্দীকে হাতকড়া পরা অবস্থায় দেয়াল ও লোহার রডে বারবার মাথা ঠুকেছিলেন এক কারারক্ষী। পরে বডি ক্যামেরার ভিডিওতে প্রমাণ হয়, কর্মকর্তাদের লিখিত প্রতিবেদন সত্যের সঙ্গে মিলছিল না।
ঘটনায় এক কর্মকর্তা ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করলেও মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরি করা আরেক কর্মকর্তা এখনও চাকরিতে রয়েছেন। ওই মামলায় ৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেয় রাজ্য।
ক্লিনটন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে রিকো সান্তানা নামের এক বন্দীর চোয়াল দুটি পৃথক হামলায় দুইবার ভেঙে দেওয়া হয়। প্রথম হামলার পর অস্ত্রোপচার এক সপ্তাহ বিলম্বিত হয়। সুস্থ হওয়ার আগেই তাকে সাধারণ কক্ষে ফেরত পাঠানো হলে আবার হামলার শিকার হন। এ মামলায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় ২ লাখ ডলার।
ওয়াশিংটন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে আরেক বন্দীর অণ্ডকোষে তীব্র ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিলেও সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরে অস্ত্রোপচার করে অণ্ডকোষটি অপসারণ করতে হয়। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় ৯০ হাজার ডলার।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল রাজ্যের ৪৪টি কারাগারে নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১১টি কারাগারে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি প্রকল্পগুলো এখনও নকশা বা নির্মাণ পর্যায়ে রয়েছে।
কারা প্রশাসন বিশেষজ্ঞ ডিন উইলিয়ামস, যিনি কলোরাডো ও আলাস্কার কারাব্যবস্থা পরিচালনা করেছেন, দ্যা সিটি রিপোর্টারকে বলেন, একটি সুস্থ কারাব্যবস্থায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচিত হয়। তার ভাষায়, "একটা ঘটনা, তারপর আরেকটা, তারপর আরেকটা। এটা স্বাভাবিক নয়। কিন্তু অকার্যকর ব্যবস্থায় এটাই স্বাভাবিক হয়ে যায়।"
নথি অনুযায়ী, এসব মামলা নিষ্পত্তি হতে গড়ে ছয় বছর সময় লাগে। এমন একটি মামলাও রয়েছে, যা নিষ্পত্তি হতে ১৫ বছর লেগেছে। অভিযোগ ছিল একজন বন্দীকে ১২ দিন অতিরিক্ত একাকী কারাবাসে রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন মাত্র ৭৪৮ ডলার।
বর্তমানে অ্যান্টোয়ান গ্যালোওয়ে ইস্ট ফ্ল্যাটবুশে বসবাস করেন। গৃহহীনদের আশ্রয়কেন্দ্রে কাজ করেন। নিজের এলাকায় শিশুদের জন্য উৎসবের আয়োজন করেন, খাবার ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন। তবে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠলেই তিনি পায়ের গোড়ালির ব্যথা অনুভব করেন। গ্যালোওয়ে বলেন, "আমি কখনো সন্তুষ্ট হব না। আমি সারাজীবনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, আর ওরা এখনও চাকরি করছে। আমি জানি, ওরা এখনও অনেকের সঙ্গে একই কাজ করছে। কয়েক হাজার ডলার দিয়ে এটা ঠিক হয় না।" তার কথায়, "আমি ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পেয়েছি। কিন্তু বিচার পাইনি। এই দুইয়ের পার্থক্য অনেক বড়।"
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে হোয়াইট রিভারের পানি ১৯১৩ সালের রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নদীর পানি বর্তমানে ২৪ দশমিক ৫ ফুটের বেশি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা ১১৩ বছর আগের রেকর্ডের চেয়েও এক ফুটের বেশি। এই নজিরবিহীন পানি বৃদ্ধির ফলে ইন্ডিয়ানার বিস্তীর্ণ এলাকা ও পুরো লোকালয় এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে। মঙ্গলবার থেকে ইন্ডিয়ানাপোলিসের পূর্বাঞ্চলে ১১ ইঞ্চিরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর মাইক ব্রন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইন্ডিয়ানা ন্যাশনাল গার্ডকে তলব করেছেন। উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে গভর্নর ব্রন জানান, তাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল রয়েছে। যেখানে প্রয়োজন সেখানে জরুরি সম্পদ ও সহায়তা পাঠানো হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি সম্প্রদায়কে সাহায্য করার জন্য তারা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। এদিকে, ইন্ডিয়ানার অ্যান্ডারসন শহরের রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর কয়েক ফুট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শহরটির বাসিন্দা চার্লি সিমন্স জানান, তিনি গত এক বছর ধরে কাজ করে মাত্র কয়েক মাস আগে তার বাড়িটি নতুন করে তৈরি করেছিলেন, কিন্তু বন্যায় তা এখন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। আজীবন অ্যান্ডারসনে বসবাস করা সিমন্স জানান, তার জীবদ্দশায় তিনি কখনোই এমন ভয়াবহ বন্যা দেখেননি। বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে ডেলাওয়্যার কাউন্টির ইয়র্কটাউন শহর কর্তৃপক্ষের শেয়ার করা ফেসবুক ভিডিওগুলোতেও। সেখানে বন্যার ভয়াবহতা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখা গেছে। অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টিতে ট্রেনের লাইন ও রাস্তাঘাট ঘোলা পানিতে তলিয়ে গেছে এবং টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কেমব্রিজ সিটির বাড়িঘর কয়েক ফুট পানিতে অবরুদ্ধ হয়ে আছে। এভারটন ভলান্টিয়ার ফায়ার ডিপার্টমেন্টসহ বিভিন্ন সংস্থার উদ্ধারকর্মীরা ইতোমধ্যে দুর্যোগকবলিত ওই অঞ্চল থেকে কয়েক ডজন মানুষকে উদ্ধার করেছেন। আগামী রবিবার পর্যন্ত নদীর পানি তীর উপচে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
গ্রিন কার্ড, স্থায়ী চাকরি থাকার পরও কেন বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন না বাংলাদেশীরা!
তিনবার এইচ-১বি লটারিতে ব্যর্থ, ৭০০ পৃষ্ঠার প্রমাণ আর ১৩ হাজার ডলারে পেলেন কাঙ্খিত ভিসা
চিকিৎসা গবেষণার আশায় মায়ের দেহ দান, পরে জানলেন বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করেছে সেনাবাহিনী
পড়াশোনার খরচ চালাতে কখনো কম্পিউটারের দোকানে কাজ করেছেন, আবার সরকারি চাকরিতে ছিলেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর। সীমিত সুযোগ আর আর্থিক সংকটের মধ্যেও গবেষক হওয়ার স্বপ্ন ছাড়েননি আশুতোষ নাথ। সেই পথ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস বোস্টন থেকে অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি শেষ করেছেন তিনি। এবার ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের কলেজ অব ফার্মেসিতে পিএইচডি পরবর্তী গবেষণায় যুক্ত হয়ে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে কাজ করতে যাচ্ছেন ৩৪ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি গবেষক। আশুতোষের বেড়ে ওঠা খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা স্বচ্ছল ছিল না। তাঁর বাবা মিলন নাথ জীবিকার সন্ধানে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থেকে পরিবার নিয়ে মানিকছড়িতে চলে গিয়েছিলেন। মা নিয়তী দেবীও সংসারের হাল ধরেছিলেন। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে আশুতোষ সবার ছোট। তাঁর উচ্চশিক্ষার পথ তৈরিতে বড় ভাই পরিতোষ নাথের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। পোশাক সেলাই করে উপার্জনের একটি বড় অংশ ছোট ভাইয়ের পড়াশোনায় ব্যয় করতেন তিনি। স্কুল ও কলেজ শেষ করার পর আশুতোষ ভর্তি হন চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের রসায়ন বিভাগে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনার সঙ্গে বেড়ে যায় খরচ। বই কেনা থেকে শুরু করে নিজের দৈনন্দিন ব্যয় মেটানোও কঠিন হয়ে পড়ে। তখন চট্টগ্রামের চকবাজারের একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ শুরু করেন তিনি। সেখানকার আয় দিয়ে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকেও কিছু অর্থ পাঠাতেন। স্নাতকে পড়ার সময়ই সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন আশুতোষ। ২০১৬ সালে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি পেয়ে ঢাকায় চলে আসেন। চাকরির বেতনে সংসারের প্রয়োজন মেটানো কঠিন হওয়ায় পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিংও করতেন। দিনের চাকরির পর রাত জেগে কাজ করে নিজের পড়াশোনা ও পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন সামলেছেন তিনি। স্নাতকে রসায়ন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য নতুন সুযোগ আসে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। বুয়েটে রসায়নে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন আশুতোষ। ২০১৯ সালে সেখান থেকে ডিগ্রি শেষ করেন। এই সময়টিই তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে দেয়। নিয়মিত গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর গবেষণাপত্র প্রকাশ হতে থাকে। বুয়েটে গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন আরও দৃঢ় হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে থাকেন আশুতোষ। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে শতভাগ স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস বোস্টনে পিএইচডি করার সুযোগ পান। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েট টিচিং ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবেও কাজ করেন। ২০২৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস বোস্টন থেকে কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক গ্র্যাজুয়েশন নথিতেও তাঁর পিএইচডি এবং অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে গবেষণার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র ছিল জটিল পলিহেটেরোসাইক্লিক অণু তৈরির নতুন ও কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন। অধ্যাপক ওয়েই ঝাংয়ের তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষণার সময় সিনথেটিক অর্গানিক কেমিস্ট্রির বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। অর্গানিক সিনথেসিস, রিঅ্যাকশন অপটিমাইজেশন, এনএমআর, এলসি এমএস, এইচপিএলসি, ক্রিস্টালোগ্রাফি, ডিএফটি ক্যালকুলেশন এবং মলিকিউলার ডকিংয়ের মতো গবেষণা পদ্ধতিতে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার ফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতেও জায়গা পেয়েছে। ২০২৫ সালে আশুতোষ নাথ, জন মার্ক আওয়াদ ও অধ্যাপক ওয়েই ঝাংয়ের একটি গবেষণা বেইলস্টাইন জার্নাল অব অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত হয়। ২০২৬ সালে অর্গানিক লেটারসেও তাঁর একাধিক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। এসব গবেষণায় জটিল রাসায়নিক কাঠামো তৈরির নতুন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও গবেষণার অভিজ্ঞতা হয়েছে আশুতোষের। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ও বোস্টন চিলড্রেনস হসপিটালের গবেষকদের সঙ্গে ছোট অণু ও প্রিসিশন ভ্যাকসিন সংশ্লিষ্ট গবেষণায় সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। পিএইচডির পর এবার গবেষণার ক্ষেত্র আরও সরাসরি ওষুধ আবিষ্কারের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন আশুতোষ। চলতি আগস্টে ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের কলেজ অব ফার্মেসিতে পিএইচডি পরবর্তী গবেষক হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। সেখানে সিনথেটিক অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে মেডিসিনাল কেমিস্ট্রি ও ড্রাগ ডিসকভারির কাজে ব্যবহার করবেন। নতুন গবেষণায় জৈবিকভাবে সক্রিয় ক্ষুদ্র অণুর নকশা, সংশ্লেষণ ও কার্যকারিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। ভবিষ্যতে সিনথেটিক ও মেডিসিনাল কেমিস্ট্রির সঙ্গে কম্পিউটেশনাল মডেলিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে যুক্ত করে ওষুধ উদ্ভাবনের গবেষণা আরও এগিয়ে নিতে চান তিনি। খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত এলাকা থেকে চট্টগ্রামের কম্পিউটার দোকান, সেখান থেকে ঢাকায় সরকারি অফিসের চাকরি, বুয়েটের গবেষণাগার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি, আশুতোষের দীর্ঘ পথচলার নতুন গন্তব্য এখন ওষুধ উদ্ভাবনের গবেষণা। তাঁর লক্ষ্য, এমন গবেষণায় যুক্ত হওয়া যার ফল শেষ পর্যন্ত মানুষের চিকিৎসায় নতুন ও কার্যকর ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগতে পারে।
ঝুঁকির অভিযোগের পর যুক্তরাষ্ট্রে ৪১ হাজার বেবি জাম্পার-সুইং রিকল
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তিতে বিশেষ ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’, যেভাবে আবেদন করবেন
ম্যানহাটনে বাসা ভাড়ায় ৫ হাজার ডলারের রেকর্ড! এক বছরে লিস্টিং কমেছে ৩৯ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রে এক শিশুকে ঘিরে সারোগেট মা ও বায়োলজিক্যাল বাবা-মায়ের বিরোধ এখন জটিল আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। গর্ভাবস্থায় শিশুটির গুরুতর হৃদরোগ ধরা পড়ার পর বায়োলজিক্যাল বাবা-মা গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নিলেও সারোগেট ম্যাককেনা ওয়েস্ট তাতে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত টেক্সাসে শিশুটির জন্ম হয়েছে এবং বর্তমানে বায়োলজিক্যাল বাবা-মা নওশিন গিলকার ও ওমর আহমেদের শারীরিক হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে নবজাতক। আলাস্কার নার্স ম্যাককেনা ওয়েস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতি নওশিন গিলকার ও ওমর আহমেদের জন্য সারোগেট হিসেবে শিশুটিকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন। ২০২৫ সালের আগস্টে তাদের মধ্যে সারোগেসি চুক্তি হয় এবং পরে আইভিএফের মাধ্যমে ওয়েস্ট গর্ভবতী হন। গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহে চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, শিশুটি হাইপোপ্লাস্টিক লেফট হার্ট সিনড্রোম বা এইচএলএইচএস নিয়ে বেড়ে উঠছে। এটি জন্মগত একটি গুরুতর হৃদরোগ, যেখানে হৃদযন্ত্রের বাম পাশ স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয় না। আক্রান্ত শিশুর জীবন রক্ষায় জন্মের পর একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। আদালতের নথির বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, শিশুটির সম্ভাব্য কষ্ট ও ভবিষ্যৎ জীবনমান নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শের পর গিলকার ও আহমেদ গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেন। তাদের দাবি, সারোগেসি চুক্তিতে ভ্রূণের গুরুতর অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে গর্ভপাতের অনুরোধ করার বিধান ছিল। ওয়েস্ট অবশ্য শেষ পর্যন্ত গর্ভপাত করতে অস্বীকৃতি জানান। তার বক্তব্য, তিনি শিশুটির জীবন শেষ করতে চাননি। এরপর দুই পক্ষের সম্পর্ক দ্রুত খারাপ হতে থাকে এবং বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন ওয়েস্ট টেক্সাসে চলে যান। টেক্সাসে প্রায় সব পরিস্থিতিতেই গর্ভপাত নিষিদ্ধ। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত আগেই গিলকার ও আহমেদকে শিশুটির আইনি বাবা-মা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আলাস্কার একটি আদালত ওয়েস্টকে জোর করে ক্যালিফোর্নিয়ায় পাঠানোর আবেদন প্রত্যাখ্যান করলেও মামলার মূল বিচারিক এখতিয়ার ক্যালিফোর্নিয়ার রয়েছে বলে জানায়। এর মধ্যেই বিষয়টি টেক্সাসের আদালত ও রাজ্য সরকারের নজরে আসে। শিশুটির জন্মের ঠিক আগে মামলায় হস্তক্ষেপ করেন টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন। তার দপ্তরের আবেদনের পর আদালত নির্দেশ দেয়, জন্মের পর শিশুটিকে প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ও স্থিতিশীল রাখার চিকিৎসা দিতে হবে এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সেই চিকিৎসায় কেউ বাধা দিতে পারবে না। ১২ আগস্ট নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে টেক্সাসে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পরপরই এইচএলএইচএসের চিকিৎসার জন্য তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হয়। বায়োলজিক্যাল বাবা-মায়ের আইনজীবী লি বাডনার নিশ্চিত করেছেন, শিশুটি বর্তমানে গিলকার ও আহমেদের শারীরিক হেফাজতে রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে আদালতের নথিতে শিশুটিকে ‘রুমি’ নামে উল্লেখ করা হচ্ছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট এবং তার সমর্থকেরা তাকে ‘গ্যাব্রিয়েল’ নামে ডাকছেন। তবে শিশুর জন্মের মধ্য দিয়ে আইনি বিরোধের অবসান হয়নি। আদালতের বর্তমান আদেশ অনুযায়ী, ওয়েস্ট নিজেকে শিশুটির বাবা-মা বা অভিভাবক হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন না, শিশুটির চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না এবং তাকে হাসপাতাল থেকে সরিয়েও নিতে পারবেন না। ওয়েস্টের আইনজীবীর দাবি, সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তাকে শিশুটিকে দেখা বা কোলে নেওয়ারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। ওয়েস্ট এখনো শিশুটির কাস্টডি চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার আইনজীবীরা ক্যালিফোর্নিয়ায় দেওয়া প্যারেন্টেজ আদেশকেও চ্যালেঞ্জ করতে চাইছেন। অন্যদিকে গিলকার ও আহমেদের পক্ষ বলছে, তারা এখন সন্তানের চিকিৎসাতেই মনোযোগ দিতে চান। শিশুটিকে চিকিৎসা না দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের ছিল না বলেও তারা দাবি করেছেন। মামলাটি সারোগেসি চুক্তি, গর্ভবতী নারীর নিজের শরীর সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার এবং জন্মের পর শিশুর আইনি অভিভাবকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সারোগেসি ও প্যারেন্টেজ আইন একরকম না হওয়ায় ক্যালিফোর্নিয়া, আলাস্কা ও টেক্সাসের আইন এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ২৫ আগস্ট। ওই দিন ডালাস কাউন্টির আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে শিশুটির কাস্টডি এবং চলমান বিরোধের পরবর্তী দিকনির্দেশনা নিয়ে আরও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সন্তানের কবরও রেহাই পেল না, মায়ের ২৪ বছরের শোক ভাঙচুরে ফিরল নতুন যন্ত্রণায়
নিউজার্সির সৈকতে ঘুরতে গিয়ে মিলল লক্ষ বছর আগের বিলুপ্ত দানব হাঙর মেগালোডনের দাঁত