মেট্রো ট্রেনে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীর মুখোমুখি এশীয় বংশোদ্ভূত যাত্রী, ‘ভয় আর অনিশ্চয়তায় জমে গিয়েছিলাম’
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে স্বাধীনতা দিবসের (৪ জুলাই) শোভাযাত্রার সময় শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী হিসেবে পরিচিত প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট নামের একটি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে একই মেট্রো ট্রেনে যাত্রা করতে গিয়ে আতঙ্কের মুহূর্ত পার করেছেন এশীয় বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিক। ঘটনাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির নাম রসওয়েল এনসিনা। স্বাধীনতা দিবসে তিনি মেরিল্যান্ডে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই মুখোশ পরা প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টের সদস্যরা তার মেট্রো ট্রেনে ওঠেন। পরে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা গেটি ইমেজেস-এর তোলা কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, একা বসে থাকা এনসিনাকে ঘিরে রয়েছেন মুখোশধারী কয়েকজন সদস্য।
এনবিসি ওয়াশিংটনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এনসিনা বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য কেউ প্রস্তুত থাকে না। এমন মুহূর্তে শরীর শক্ত হয়ে আসে, আর মনে প্রশ্ন জাগে, আসলে কী ঘটছে।”
তিনি জানান, পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কারও সঙ্গে চোখাচোখি করেননি। নিজেকে নিরাপদ রাখাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য।
তবে এই অভিজ্ঞতার মধ্যেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস থেকে সাহস নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এনসিনা বলেন, “আমি প্রথম ব্যক্তি নই, যিনি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। রুবি ব্রিজেসসহ পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে অসংখ্য আফ্রিকান-আমেরিকান শিশু, কিশোর ও শিক্ষার্থী আরও কঠিন সময় পার করেছেন। তখন বুঝতে পারি, তাদের মতো সাহসই আমাকে ধরে রাখতে হবে।”
এটি এনসিনার জীবনের প্রথম বৈষম্যমূলক অভিজ্ঞতাও নয়। তিনি জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে একই মেট্রোতে যাত্রার সময় একদল কিশোর তার এবং আরেক এশীয় বংশোদ্ভূত যাত্রীর ওপর কফি ছুড়ে মারে। কিন্তু একই ট্রেনের অন্য অ-এশীয় যাত্রীদের তারা কিছুই করেনি। সে সময়ও তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন।
এনসিনার ভাষায়, “পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও মনে হচ্ছে যেন একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই দেশে এখনো বিভাজন রয়ে গেছে।”
এদিকে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম অন এক্সট্রিমিজম-এর গবেষক লুক বাউমগার্টনার এনবিসি ওয়াশিংটনকে বলেন, প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টের মতো সংগঠনগুলো মূলত জনসম্মুখে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে চায়।
তার ভাষায়, “তাদের মূল বার্তা হলো, আমেরিকা শুধু শ্বেতাঙ্গদের জন্য। প্রচার পাওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য এবং অধিকাংশ উগ্রপন্থী সংগঠন এ ধরনের কৌশলই অনুসরণ করে।”
উল্লেখ্য, অ্যান্টি-ডিফেমেশন লীগ (ADL) প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টকে একটি শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংগঠনটি বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে মিছিল ও জনসমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের মতাদর্শ প্রচারের চেষ্টা করে।
সবকিছুর পরও মানবতার প্রতি নিজের বিশ্বাস হারাতে চান না এনসিনা। তিনি বলেন, “আমাদের আশা ধরে রাখতে হবে। এমন সময়গুলোতে আশাই সবচেয়ে বড় ভরসা। আমি এখনো বিশ্বাস করি, অধিকাংশ মানুষ মূলত ভালো।”
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় হিন্দু ও দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের জন্য দীপাবলি উদযাপনে নতুন স্বীকৃতি এসেছে। ২০ আগস্ট ২০২৬ ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলি হাউস রেজল্যুশন ১৩৭ গ্রহণ করে ২০২৬ সালের দীপাবলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ বছর দীপাবলি পালিত হবে ৮ নভেম্বর। রেজল্যুশনটি অ্যাসেম্বলিতে সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করা হয়। অ্যাসেম্বলি অধিবেশনে রেজল্যুশনটি উপস্থাপন করেন অ্যাসেম্বলিম্যান দর্শনা প্যাটেল। আলোচনায় তিনি দীপাবলিকে আলোর উৎসব হিসেবে উল্লেখ করে অন্ধকারের ওপর আলো, অশুভের ওপর শুভ এবং অজ্ঞতার ওপর জ্ঞানের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। রেজল্যুশনে হিন্দুদের পাশাপাশি শিখ, জৈন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যেও দীপাবলি পালনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যাসেম্বলিম্যান অ্যাশ কালরাও রেজল্যুশনের সমর্থনে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় দীপাবলি উদযাপন এখন দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষও এতে অংশ নিচ্ছেন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের ৮ নভেম্বরের দীপাবলি উদযাপনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে লিফোর্নিয়ায় দীপাবলিকে স্টেট হলিডে হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আইন করা হয়েছে। ২০২৫ সালে পাস হওয়া অ্যাসেম্বলি বিল ২৬৮ এর মাধ্যমে দীপাবলিকে ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত করা হয় এবং আইনটি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি নথিতেও কার্তিক মাসের ১৫তম দিনকে দীপাবলি হিসেবে রাজ্যের ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এই ছুটির ধরন সাধারণ সরকারি ছুটির মতো সব রাজ্য কর্মীর জন্য বাধ্যতামূলক বন্ধের দিন নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার মানবসম্পদ দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য রাজ্য কর্মীরা দীপাবলি পালনের জন্য নির্দিষ্ট ছুটির ক্রেডিট নেওয়ার সুযোগ পান। অন্যদিকে সরকারি স্কুল ও কমিউনিটি কলেজগুলো স্থানীয় সিদ্ধান্ত ও নিয়ম অনুযায়ী ওই দিনে বন্ধ রাখতে পারে। ২০২৬ সালের ক্যালিফোর্নিয়া শিক্ষা বিভাগের ক্যালেন্ডারেও ৮ নভেম্বরকে দীপাবলি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বছর দিনটি পড়েছে রোববার। ফলে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন মন্দির, সংগঠন, পরিবার ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানে দীপাবলি উপলক্ষে নানা আয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্টেট অ্যাসেম্বলির নতুন রেজল্যুশনের মাধ্যমে দীপাবলির সাংস্কৃতিক গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে। অধিবেশনে বক্তারা পরিবার, ঐক্য, শান্তি, জ্ঞান এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার সঙ্গে উৎসবটির সম্পর্কের কথা বলেন। অ্যাসেম্বলি রেজল্যুশনটি গ্রহণের সময় ৬৩ জন সহ-উদ্যোক্তার নামও যুক্ত করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বড় একটি সম্প্রদায় রয়েছে। ফলে দীপাবলিকে স্টেট হলিডে হিসেবে স্বীকৃতি এবং একই সঙ্গে স্টেট অ্যাসেম্বলির আনুষ্ঠানিক রেজল্যুশন হিন্দু ও অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের জন্য সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে সামনে এসেছে। এবার ৮ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ায় দীপাবলি পালনের সময় পরিবার ও কমিউনিটিগুলো শুধু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবই উদযাপন করবে না, বরং রাজ্য পর্যায়ে পাওয়া এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির বিষয়টিও বিশেষভাবে সামনে আসবে। স্টেট অ্যাসেম্বলির রেজল্যুশনেও ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের দীপাবলি উদযাপনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অটিজম শিশুদের পরিবার নগদ সহায়তাসহ যুক্তরাষ্ট্রে যেসব সরকারি সুবিধা পেতে পারে
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছেড়ে নতুন চাকরিতে কারোলিন লেভিট
এআই প্রশিক্ষণে বই কেটে ধ্বংস করছে অ্যামাজন, এয়ারট্যাগে ফাঁস রহস্য
২০২৬ সালের ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের র্যাঙ্কিংয়ে টেক্সাসের সেরা ৫০টি চার্টার স্কুলের তালিকায় জায়গা পেয়েছে হিউস্টনের ১৩টি স্কুল। রাজ্যের অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় হিউস্টনের স্কুলের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এই তালিকায় হিউস্টনের চারটি চার্টার স্কুল জাতীয় পর্যায়েও সেরা ১০০-এর মধ্যে রয়েছে। এগুলো হলো ওয়েস্টচেস্টার একাডেমি ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ, হারমনি স্কুল অব ইনোভেশন-কেটি, হারমনি স্কুল অব ডিসকভারি-হিউস্টন এবং ওয়াইইএস প্রেপ-নর্থ সেন্ট্রাল। টেক্সাসের সেরা চার্টার স্কুলগুলোর তালিকায় সবচেয়ে বেশি স্কুল রয়েছে আইডিয়া পাবলিক স্কুলসের। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ১৯টি স্কুল শীর্ষ তালিকায় জায়গা পেয়েছে। হারমনি পাবলিক স্কুলসের ১০টি এবং হিউস্টনভিত্তিক ওয়াইইএস প্রেপ পাবলিক স্কুলসের সাতটি ক্যাম্পাসও তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে, কেআইপিপি টেক্সাস থেকে শীর্ষ ৫০-এ জায়গা পেয়েছে শুধু কেআইপিপি হিউস্টন হাই স্কুল। টেক্সাসের সেরা চার্টার স্কুল হিসেবে প্রথম স্থানে রয়েছে সান আন্তোনিওর বেসিস শাভানো। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সান আন্তোনিও ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ইয়াং উইমেনস লিডারশিপ একাডেমি এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে গ্র্যান্ড প্রেইরি ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের গ্র্যান্ড প্রেইরি কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট। ইউএস নিউজের ২০২৬ সালের এই র্যাঙ্কিং তৈরিতে প্রায় ২৭ হাজার যোগ্য উচ্চবিদ্যালয়ের তথ্য মূল্যায়ন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মান নির্ধারণী পরীক্ষার ফলাফল, স্নাতক হওয়ার হার, কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি এবং অ্যাডভান্সড প্লেসমেন্ট ও ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালোরিয়েট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও ফলাফলসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশার তুলনায় কেমন ফল করছে, সেটিও মূল্যায়নের অংশ ছিল। এই র্যাঙ্কিংয়ের জন্য ব্যবহৃত তথ্য মূলত ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। ফলে পরবর্তী সময়ে নতুন তথ্য যুক্ত হলে স্কুলগুলোর অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে। হিউস্টনের ১৩টি চার্টার স্কুলের এই অবস্থান স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ওয়াইইএস প্রেপ ও হারমনি পাবলিক স্কুলসের একাধিক ক্যাম্পাস শীর্ষ তালিকায় থাকায় হিউস্টন অঞ্চলে বিকল্প সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার শক্ত অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান অভিভাবকদের জন্যও সন্তানদের উচ্চবিদ্যালয় বাছাইয়ের সময় এই তালিকা প্রাথমিকভাবে সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু র্যাঙ্কিংয়ের ওপর নির্ভর না করে স্কুলের শিক্ষার মান, অবস্থান, যাতায়াত ব্যবস্থা, ভর্তি নীতি, শিক্ষার্থীদের ফলাফল এবং কলেজে ভর্তির প্রস্তুতির সুযোগও যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
খরচের চাপে চিকিৎসা এড়িয়ে চলছেন ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৫ জন আমেরিকান
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কুমিল্লার সোহাগের অনুপ্রেরণার গল্প
ব্রুস উইলিসের মৃত্যুর পর মস্তিষ্ক বিজ্ঞান গবেষণায় দানের সিদ্ধান্ত পরিবারের
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ক্রেডিট তৈরি করছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার পরের প্রথম কয়েক মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে অতিরিক্ত ব্যালান্স রাখা, পেমেন্টে দেরি করা কিংবা অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করার মতো ভুল ক্রেডিট স্কোরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আই সি ও স্কোরের ক্ষেত্রে পেমেন্ট হিস্ট্রি সাধারণত ৩৫ শতাংশ এবং কত টাকা বকেয়া রয়েছে বা ক্রেডিটের কতটা ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবার ক্ষেত্রে একইভাবে এসব বিষয়ের প্রভাব পড়ে না। একজন ব্যক্তির পুরো ক্রেডিট প্রোফাইলের ওপর নির্ভর করে স্কোরে বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব পরিবর্তিত হতে পারে। প্রথম কয়েক মাসে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার ক্রেডিট ইউটিলাইজেশনে। অর্থাৎ আপনার মোট ক্রেডিট লিমিটের কত শতাংশ ব্যবহার করছেন। যেমন, ৫০০ ডলারের ক্রেডিট লিমিটের কার্ডে ৪০০ ডলার ব্যবহার করলে ইউটিলাইজেশন দাঁড়ায় ৮০ শতাংশ। এত বেশি ব্যবহার ক্রেডিট স্কোরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আই সি ও নির্দিষ্টভাবে ৩০ শতাংশকে বাধ্যতামূলক সীমা হিসেবে নির্ধারণ করেনি। তবে ক্রেডিট লিমিটের তুলনায় ব্যালান্স যত কম রাখা যায়, সাধারণত তত ভালো। তাই নতুন কার্ডধারীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে লিমিটের বড় অংশ ব্যবহার না করাই নিরাপদ অভ্যাস। শুধু মিনিমাম পেমেন্টের ওপর নির্ভর করাও ভালো অভ্যাস নয়। স্টেটমেন্টে নির্ধারিত মিনিমাম পেমেন্ট সময়মতো দিলে সাধারণত অ্যাকাউন্ট লেট পেমেন্ট হিসেবে রিপোর্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে। তবে বাকি ব্যালান্সের ওপর সুদ জমতে পারে। তাই সম্ভব হলে প্রতি মাসে পুরো স্টেটমেন্ট ব্যালান্স পরিশোধ করা ভালো। এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, ক্রেডিট স্কোর বাড়ানোর জন্য সুদ দিতে হয় না। বরং সময়মতো পেমেন্ট করা এবং ক্রেডিট লিমিটের তুলনায় ব্যালান্স কম রাখা ক্রেডিট গড়ার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পেমেন্টের সময় নিয়েও অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে। ডিউ ডেটের একদিন পর পেমেন্ট করলেই সাধারণত সেটি সঙ্গে সঙ্গে ক্রেডিট রিপোর্টে ৩০ দিনের লেট পেমেন্ট হিসেবে যুক্ত হয় না। তবে নির্ধারিত সময়ের পর পেমেন্ট করলে কার্ড কোম্পানি লেট ফি নিতে পারে। আর দীর্ঘ সময় বকেয়া থাকলে তা ক্রেডিট ব্যুরোতে নেতিবাচক তথ্য হিসেবে রিপোর্ট হতে পারে। সাধারণত ৩০ দিন বা তার বেশি সময় পেমেন্ট বকেয়া থাকলে তা ক্রেডিট রিপোর্টে লেট পেমেন্ট হিসেবে দেখা যেতে পারে। নেতিবাচক পেমেন্ট হিস্ট্রি সাধারণত সাত বছর পর্যন্ত রিপোর্টে থাকতে পারে। তাই নতুন কার্ডধারীদের জন্য অটো পে চালু রাখা এবং ডিউ ডেটের আগেই প্রয়োজনীয় অর্থ অ্যাকাউন্টে রাখা ভালো অভ্যাস। প্রথম কয়েক মাসে অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করাও এড়িয়ে চলা উচিত। নতুন ক্রেডিটের জন্য আবেদন করলে হার্ড ইনকোয়ারি হতে পারে। আই সি ও স্কোরে নিউ ক্রেডিটের ওজন প্রায় ১০ শতাংশ। স্বল্প সময়ে একাধিক নতুন ক্রেডিট অ্যাকাউন্ট খোলা, বিশেষ করে যাদের ক্রেডিট হিস্ট্রি এখনও ছোট, ঋণদাতার কাছে ঝুঁকির ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে প্রতিটি হার্ড ইনকোয়ারিতে সবার ক্রেডিট স্কোর নির্দিষ্ট ৫ বা ১০ পয়েন্ট কমে যাবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। এর প্রভাব ব্যক্তির ক্রেডিট প্রোফাইল এবং ব্যবহৃত স্কোরিং মডেলের ওপর নির্ভর করে। পুরনো ক্রেডিট কার্ড অপ্রয়োজনে বন্ধ করে দেওয়াও সবসময় ভালো সিদ্ধান্ত নয়। আই সি ও স্কোরে ক্রেডিট হিস্ট্রির দৈর্ঘ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এর ওজন সাধারণত প্রায় ১৫ শতাংশ। পুরনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলেই সঙ্গে সঙ্গে পুরো ক্রেডিট হিস্ট্রি মুছে যায় না। তবে দীর্ঘমেয়াদে ক্রেডিট প্রোফাইলে এর প্রভাব পড়তে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত ক্রেডিট রিপোর্ট পরীক্ষা করা। অ্যানুয়াল ক্রেডিট রিপোর্ট ডটকম এর মাধ্যমে বিনামূল্যে ক্রেডিট রিপোর্ট পাওয়া যায়। রিপোর্টে ভুল নাম, ভুল অ্যাকাউন্ট, ভুল ব্যালান্স কিংবা নিজের নয় এমন কোনো তথ্য থাকলে তা দ্রুত যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ক্রেডিট রিপোর্টিং কোম্পানির কাছে ডিসপিউট করা উচিত। ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য ভোক্তাদের নিজেরাই ডিসপিউট করার অধিকার রয়েছে। এ কাজের জন্য অবশ্যই কোনো ক্রেডিট রিপেয়ার কোম্পানিকে আসসালামু আলাইকুম টাকা দিতে হবে এমন নয়। নতুন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য মূল বিষয়গুলো তাই সহজ। সময়মতো পেমেন্ট করতে হবে, ক্রেডিট লিমিটের তুলনায় ব্যালান্স কম রাখতে হবে, অপ্রয়োজনে অল্প সময়ে একাধিক নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করা এড়িয়ে চলতে হবে এবং নিয়মিত ক্রেডিট রিপোর্ট দেখে ভুল তথ্য থাকলে তা সংশোধন করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রথম ছয় মাসেই সবার ক্রেডিট স্কোর ৬৮০ বা ৭২০-এ পৌঁছাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। নতুন ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি হতে সময় লাগে। কারও স্কোর কত দ্রুত বাড়বে, তা নির্ভর করে তার সম্পূর্ণ ক্রেডিট প্রোফাইল, অ্যাকাউন্টের ইতিহাস এবং পেমেন্টের অভ্যাসের ওপর। তাই নির্দিষ্ট কোনো স্কোরের পেছনে না ছুটে শুরু থেকেই সময়মতো পেমেন্ট, কম ব্যালান্স এবং দায়িত্বশীল ক্রেডিট ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পেপ্যালের পরিচয়ে ফোন প্রতারণার ফাঁদে ৭৭ বছরের বৃদ্ধ, হারালেন অবসরের ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার
নিউইয়র্কে টিউশন-ফি ছাড়াই বিনামূল্যে পড়ার নতুন সুযোগ