সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মেট্রো ট্রেনে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীর মুখোমুখি এশীয় বংশোদ্ভূত যাত্রী, ‘ভয় আর অনিশ্চয়তায় জমে গিয়েছিলাম’

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ২০:৪০
ওয়াশিংটনের মেট্রো ট্রেনে রসওয়েল এনসিনাকে ঘিরে প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
ওয়াশিংটনের মেট্রো ট্রেনে রসওয়েল এনসিনাকে ঘিরে প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে স্বাধীনতা দিবসের (৪ জুলাই) শোভাযাত্রার সময় শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী হিসেবে পরিচিত প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট নামের একটি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে একই মেট্রো ট্রেনে যাত্রা করতে গিয়ে আতঙ্কের মুহূর্ত পার করেছেন এশীয় বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিক। ঘটনাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির নাম রসওয়েল এনসিনা। স্বাধীনতা দিবসে তিনি মেরিল্যান্ডে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই মুখোশ পরা প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টের সদস্যরা তার মেট্রো ট্রেনে ওঠেন। পরে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা গেটি ইমেজেস-এর তোলা কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, একা বসে থাকা এনসিনাকে ঘিরে রয়েছেন মুখোশধারী কয়েকজন সদস্য।

 

এনবিসি ওয়াশিংটনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এনসিনা বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য কেউ প্রস্তুত থাকে না। এমন মুহূর্তে শরীর শক্ত হয়ে আসে, আর মনে প্রশ্ন জাগে, আসলে কী ঘটছে।”

তিনি জানান, পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কারও সঙ্গে চোখাচোখি করেননি। নিজেকে নিরাপদ রাখাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য।

 

তবে এই অভিজ্ঞতার মধ্যেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস থেকে সাহস নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এনসিনা বলেন, “আমি প্রথম ব্যক্তি নই, যিনি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। রুবি ব্রিজেসসহ পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে অসংখ্য আফ্রিকান-আমেরিকান শিশু, কিশোর ও শিক্ষার্থী আরও কঠিন সময় পার করেছেন। তখন বুঝতে পারি, তাদের মতো সাহসই আমাকে ধরে রাখতে হবে।”

 

এটি এনসিনার জীবনের প্রথম বৈষম্যমূলক অভিজ্ঞতাও নয়। তিনি জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে একই মেট্রোতে যাত্রার সময় একদল কিশোর তার এবং আরেক এশীয় বংশোদ্ভূত যাত্রীর ওপর কফি ছুড়ে মারে। কিন্তু একই ট্রেনের অন্য অ-এশীয় যাত্রীদের তারা কিছুই করেনি। সে সময়ও তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন।

এনসিনার ভাষায়, “পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও মনে হচ্ছে যেন একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই দেশে এখনো বিভাজন রয়ে গেছে।”

 

এদিকে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম অন এক্সট্রিমিজম-এর গবেষক লুক বাউমগার্টনার এনবিসি ওয়াশিংটনকে বলেন, প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টের মতো সংগঠনগুলো মূলত জনসম্মুখে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে চায়।

তার ভাষায়, “তাদের মূল বার্তা হলো, আমেরিকা শুধু শ্বেতাঙ্গদের জন্য। প্রচার পাওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য এবং অধিকাংশ উগ্রপন্থী সংগঠন এ ধরনের কৌশলই অনুসরণ করে।”

 

উল্লেখ্য, অ্যান্টি-ডিফেমেশন লীগ (ADL) প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টকে একটি শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংগঠনটি বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে মিছিল ও জনসমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের মতাদর্শ প্রচারের চেষ্টা করে।

 

সবকিছুর পরও মানবতার প্রতি নিজের বিশ্বাস হারাতে চান না এনসিনা। তিনি বলেন, “আমাদের আশা ধরে রাখতে হবে। এমন সময়গুলোতে আশাই সবচেয়ে বড় ভরসা। আমি এখনো বিশ্বাস করি, অধিকাংশ মানুষ মূলত ভালো।”


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের আগে যে ৮ বিষয় অবশ্যই বিবেচনায় রাখবেন - মঞ্জুর আহমেদ
রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের আগে যে ৮ বিষয় অবশ্যই বিবেচনায় রাখবেন - মঞ্জুর আহমেদ

রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কেবল সম্পত্তির বর্তমান দাম বা অবস্থান দেখলেই চলে না, বরং বাজার পরিস্থিতি থেকে শুরু করে নানা দিক সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হয়। ফ্লোরিডার রিয়েলটর ও রিয়েল এস্টেট উদ্যোক্তা মঞ্জুর আহমেদের মতে, এই খাতে নিশ্চিত লাভের কোনো সুনির্দিষ্ট ফর্মুলা নেই।   বিনিয়োগকারীকে নিজের গবেষণা, অভিজ্ঞতা ও বাস্তবসম্মত হিসাব-নিকাশের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এক্ষেত্রে প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে মার্কেট রিসার্চ বা বাজার গবেষণার ওপর। একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সম্পত্তির বর্তমান চাহিদা, বিগত বছরগুলোর দামের ওঠানামা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও নতুন উন্নয়ন প্রকল্পগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা উচিত।   একইসঙ্গে লোকেশন বা অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ামক, কারণ যাতায়াত ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর নৈকট্য সম্পত্তির ভবিষ্যৎ মূল্যবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। এছাড়া সম্পত্তির বর্তমান বাজারদর যাচাই করে ভবিষ্যতে এর দাম বাড়ার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা আছে কি না, সে বিষয়েও পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করে অগ্রসর হওয়া জরুরি।   সম্পত্তির দাম বাড়ার প্রত্যাশার পাশাপাশি বিনিয়োগ থেকে সম্ভাব্য আয়ের বিষয়টিও পরিষ্কারভাবে হিসাব করতে হবে। বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে কেনা সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে কত আয় হতে পারে এবং সেই আয় দিয়ে প্রপার্টি ট্যাক্স, ইনস্যুরেন্স, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও মর্টগেজ পেমেন্টের মতো নিয়মিত ও লুকায়িত খরচগুলো সামলানো যাবে কি না, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করা প্রয়োজন।   অন্যদিকে, যেকোনো বিনিয়োগের সঙ্গেই ঝুঁকি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অর্থনৈতিক মন্দা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভাড়ার চাহিদা কমে যাওয়া বা এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনায় হঠাৎ পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো যেকোনো সময় বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কেবল সম্ভাব্য লাভের আশায় অন্ধ না হয়ে, সম্ভাব্য ক্ষতির দিকটিও আগে থেকে বিবেচনায় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।   বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর নিয়ন্ত্রণের বাইরের বিষয়গুলোও সমানভাবে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকারের ভূমি ব্যবহার নীতি, জোনিং, ট্যাক্স আইন বা অন্য কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পত্তির মূল্য ও আয়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। পাশাপাশি মর্টগেজ নিয়ে সম্পত্তি কিনলে সুদের হারের ওঠানামা মাসিক পেমেন্ট এবং দীর্ঘমেয়াদি মোট খরচে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।   মঞ্জুর আহমেদের মতে, বাজার, অর্থনীতি বা সরকারি নীতির মতো বিষয়গুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলেও একজন সচেতন বিনিয়োগকারী তথ্য ও গবেষণার মাধ্যমে ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারেন। তাই রিয়েল এস্টেটে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গড়ার ক্ষেত্রে আবেগের বশবর্তী না হয়ে তথ্য, বাস্তবসম্মত হিসাব এবং নিজের আর্থিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নেওয়াই বিনিয়োগের সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৬:৪০
দু’বার প্রাণঘা তী ইনজেকশনেও বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইককে কি আবার মৃ ত্যুদণ্ড দেওয়া হবে?

দু’বার প্রাণঘা তী ইনজেকশনেও বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইককে কি আবার মৃ ত্যুদণ্ড দেওয়া হবে?

যুক্তরাষ্ট্রে ধনকুবেরদের সম্পদে ৫% কর বসিয়ে ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার আদায়ের পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রে ধনকুবেরদের সম্পদে ৫% কর বসিয়ে ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার আদায়ের পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আবারও সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত ফেডারেল রিজার্ভের

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আবারও সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত ফেডারেল রিজার্ভের

নিউইয়র্কে সম্পর্ক জোড়া লাগাতে এসে প্রেমিকা ও ৫ মাসের শিশুকে  ১৫ তলা থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ
নিউইয়র্কে সম্পর্ক জোড়া লাগাতে এসে প্রেমিকা ও ৫ মাসের শিশুকে ১৫ তলা থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে এক মর্মান্তিক ঘটনায় নিজের প্রেমিকা এবং ৫ মাস বয়সী কন্যা সন্তানকে ১৫ তলার বারান্দা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার ভোর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে ২৫৫০ অলিনভিল অ্যাভিনিউয়ের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে।   অভিযুক্ত ৩১ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেল কারাস্কো বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং পুলিশ তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। এই ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী প্রেমিকা নাথালি রামিরেজ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। তবে সৌভাগ্যবশত তাদের শিশু সন্তানটি বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় জ্যাকোবি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।   পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, ঘটনার দিন অ্যাঞ্জেল কারাস্কো তাদের টানাপোড়েনের সম্পর্ক জোড়া লাগানোর উদ্দেশ্যে এক তোড়া ফুল হাতে নিয়ে নাথালির অ্যাপার্টমেন্টে এসেছিলেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার একাধিক অভিযোগ ছিল।   কিন্তু তাদের এই আপসের চেষ্টা ব্যর্থ হলে অ্যাঞ্জেল হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং কোলে সন্তান থাকা অবস্থাতেই নাথালিকে ১৫ তলার বারান্দা থেকে নিচে ফেলে দেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত অ্যাঞ্জেল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে পুলিশ সেখানে সেই ফুলের তোড়াটি পড়ে থাকতে দেখে, যা দিয়ে সে মূলত সম্পর্ক ঠিক করার আশা করেছিল। এছাড়া ভবনের নিচে একটি ডায়াপার ও শিশুর কম্বল পড়ে থাকতে দেখা যায়।   এর আগে চলতি বছরেই অ্যাঞ্জেলের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে অন্তত দু’বার মামলা হয়েছিল। গত ৫ জানুয়ারি নাথালিকে চড় মারার অভিযোগে এবং এর ঠিক তিন দিন পর ৮ জানুয়ারি নাথালির অ্যাপার্টমেন্টের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার অপরাধে তিনি অভিযুক্ত হন।   শুধু তাই নয়, প্রাক্তন এক প্রেমিকাকে হুমকি দিয়ে মেসেজ পাঠানো এবং ২০১৬ সালে ভুয়া পরিচয় দেওয়া ও অবৈধ মাদক রাখার মতো অপরাধের রেকর্ডও তার রয়েছে।   নিহত নাথালি রামিরেজকে তার প্রতিবেশীরা অত্যন্ত 'মিষ্টি স্বভাবের' ও স্নেহময়ী মা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। লিঙ্কডইন প্রোফাইলের তথ্যমতে, তিনি ব্রঙ্কস লিডারশিপ একাডেমি হাই স্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে বারুচ কলেজে মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন।   পাশাপাশি ম্যানহাটনের 'লিশন কনসাল্টিং' নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তার সহকর্মীদের মতে, তিনি অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমী, দৃঢ়চেতা এবং ক্যারিয়ারের লক্ষ্য পূরণে নিবেদিতপ্রাণ একজন তরুণী ছিলেন। তার এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও পরিচিতদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটায় চিকিৎসকের বদলে এআই দেবে প্রেসক্রিপশন, শুরু হচ্ছে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটায় চিকিৎসকের বদলে এআই দেবে প্রেসক্রিপশন, শুরু হচ্ছে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে পরিত্যক্ত গুদামঘর রূপান্তর করে গৃহহীনদের জন্য তৈরি হলো ১০০টি বাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে পরিত্যক্ত গুদামঘর রূপান্তর করে গৃহহীনদের জন্য তৈরি হলো ১০০টি বাড়ি

ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের টাকোমা শহর

টাকোমায় ৪ কোটি ডলারের বাজেট ঘাটতি, চাকরি কাটার পাশাপাশি কর বাড়ানোর পরিকল্পনা

ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।
আটলান্টাসহ যুক্তরাষ্ট্রে পানির বিল এক দশকে ৬২ শতাংশ বেড়েছে, বাড়ছে পরিবারের খরচের চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের দৈনন্দিন খরচের তালিকায় পানির বিলও এখন বড় চাপ হয়ে উঠছে। নতুন এক গবেষণা বলছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আমেরিকার বড় পানি সরবরাহ ব্যবস্থাগুলোতে সাধারণ পরিবারের পানির বিল গড়ে ৬২ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধি একই সময়ের মূল্যস্ফীতি ও মুদি পণ্যের দামের বৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত হয়েছে।   গবেষণাটি করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা ফুড অ্যান্ড ওয়াটার ওয়াচ। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ৫০০টি বড় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ২০২৫ সালের বিলের সঙ্গে ২০১৫ সালের তথ্য তুলনা করেছে। গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বছরে ৬০ হাজার গ্যালন পানি ব্যবহারকারী একটি সাধারণ পরিবারের গড় পানির বিল ছিল প্রায় ৫৩১ ডলার।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দশকে পানির বিল বেড়েছে মূল্যস্ফীতির হারের প্রায় ১ দশমিক ৬ গুণ এবং মুদি পণ্যের দামের বৃদ্ধির দ্বিগুণেরও বেশি হারে।   একই সময়ে পানির বিলের বৃদ্ধি গড় পরিবারের আয় বৃদ্ধির চেয়েও ১৯ শতাংশ বেশি ছিল। ফলে বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে খাবার, বিদ্যুৎ, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের পাশাপাশি পানির বিল সামলাতেও বাড়তি চাপ নিতে হচ্ছে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বেসরকারি মালিকানাধীন পানি ব্যবস্থার গ্রাহকেরা সরকারি মালিকানাধীন ব্যবস্থার গ্রাহকদের তুলনায় বেশি অর্থ দিচ্ছেন। ২০২৫ সালে করপোরেট মালিকানাধীন পানি ব্যবস্থায় সাধারণ পরিবারের বিল সরকারি ব্যবস্থার তুলনায় গড়ে ৬৭ শতাংশ বেশি ছিল, যা বছরে প্রায় ৩২৯ ডলার অতিরিক্ত খরচের সমান।   তবে সব শহর বা রাজ্যে পরিস্থিতি একই নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি তুলনামূলক কম খরচের পানি ব্যবস্থায় সাধারণ পরিবারের বার্ষিক বিল ২৬০ ডলারের নিচে ছিল। এসব ব্যবস্থাই ছিল সরকারি মালিকানাধীন। জর্জিয়া ও ফ্লোরিডার বেশ কয়েকটি পানি ব্যবস্থা এই কম খরচের তালিকায় রয়েছে।   আটলান্টার জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শহরটির পানি অবকাঠামো অনেক পুরোনো এবং হাজার হাজার মাইল পাইপলাইনের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন। গতকাল আটলান্টা সিটি কাউন্সিল পানি অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরঞ্জামের জন্য ৪০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুমোদন করেছে।   শহরটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটলান্টার পানি ব্যবস্থায় প্রায় ৪ হাজার মাইল পাইপ রয়েছে। পুরোনো অবকাঠামো সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে কর্মকর্তারা প্রায় ২০ বছরের একটি পরিকল্পনার কথা জানান, যার সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার।   অন্যদিকে আটলান্টা শহরের পানি বিলের বকেয়াও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিটি কাউন্সিলের আলোচনায় প্রায় ২৫ কোটি ডলার বকেয়া পানি বিলের বিষয়টি উঠে এসেছে। কর্তৃপক্ষ বকেয়া আদায়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা, বিলম্ব ফি এবং দীর্ঘদিন বিল না দিলে পানি সংযোগ বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।   গবেষণায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, জরিপ করা পানি ব্যবস্থার ৯৩ শতাংশেই নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য পানির খরচকে অসহনীয় বা সামলানো কঠিন বলে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় গড় বার্ষিক পানির খরচ ছিল সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১ হাজার ৩৮৩ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়া ও পেনসিলভানিয়ার একাধিক পানি ব্যবস্থাও সবচেয়ে ব্যয়বহুল তালিকায় রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাড়িভাড়া, গাড়ির খরচ, বিদ্যুৎ, খাবার ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ের সঙ্গে পানির বিলও মাসিক বাজেটের একটি অংশ। বিশেষ করে বড় পরিবার বা সীমিত আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে ছোট ছোট বিল বৃদ্ধিও বছরে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত খরচ তৈরি করতে পারে।   পানি সরবরাহের পুরোনো অবকাঠামো সংস্কার, পরিষেবা এলাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং পানি ব্যবস্থার মালিকানা ও পরিচালনার ধরনসহ বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে বিলের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে পানির দাম নিয়ন্ত্রণে অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য সহায়তা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১২:২১
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ডিলান শান আশার চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছরের ছাত্র নিখোঁজ, চার দিনেও মেলেনি সন্ধান

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে শিক্ষিকা সেজে স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী গালাগাল, গ্রেপ্তার তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে শিক্ষিকা সেজে স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী গালাগাল, গ্রেপ্তার তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ওপিটি কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপিটিতে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

0 Comments