নিরীহ মানুষকে পঙ্গু করায় মার্কিন পুলিশকে ২ কোটি ১০ লাখ ডলার জরিমানা, প্রতি মাসে কাটবে বেতন!
আমেরিকার আটলান্টা শহরে আট বছর আগের এক নৃশংস ঘটনার চূড়ান্ত রায় দিয়েছে আদালত। রাস্তায় সাহায্য চেয়ে হাত পাতা এক নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ ও গৃহহীন মানুষকে ইলেকট্রিক শক দিয়ে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে দেওয়ার অপরাধে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারকে এখন ২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা গুনতে হবে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আটলান্টা পুলিশের অফিসার জন গ্রাবসকে এখন থেকে প্রতি মাসে তার বেতন থেকে ৭০০ ডলার করে ভুক্তভোগী জেরি ব্লেসিংগেমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে। যদি প্রতি মাসে ৭০০ ডলার করে কাটা হয়, তবে এই বিপুল পরিমাণ জরিমানা শোধ করতে ওই পুলিশ অফিসারের প্রায় আড়াই হাজার বছর সময় লাগবে!
২০১৮ সালের জুলাই মাসে এই ঘটনার সময় জেরির বয়স ছিল ৬৫ বছর। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে সাহায্য চাওয়ার অপরাধে পুলিশ তাকে ধাওয়া করে। কোনো রকম সতর্কবার্তা না দিয়েই জেরি পালানোর সময় পেছন থেকে তার পিঠে ইলেকট্রিক শক দেন অফিসার গ্রাবস। তীব্র শকের আঘাতে জেরি একটি উঁচু ঢাল থেকে ছিটকে নিচে কংক্রিটের ওপর পড়েন। এতে তার মাথার খুলি ও মেরুদণ্ড ভেঙে যায় এবং গলা থেকে নিচের পুরো অংশ আজীবনের জন্য অবশ হয়ে যায়। এই পঙ্গুত্ব নিয়ে পাঁচ বছর বেঁচে থাকার পর ২০২৩ সালে জেরি মারা যান।
এই ঘটনার পর জেরি যখন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন, তখন এই পুলিশ অফিসার তার কেবিনে গিয়ে উল্টো তার নামেই মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন। এছাড়া ঘটনার সময় নিজের বডি ক্যামেরা বন্ধ রাখার অপরাধে পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিভাগ থেকে তাকে অভিযুক্ত করা হলেও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন। ২০২৪ সালে তার বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৯২ হাজার ডলার। এখন কর বাদ দিয়ে তার মাসের বেতনের প্রায় ১৩ শতাংশ এই ক্ষতিপূরণের পেছনে চলে যাবে। যদি তিনি চাকরিও হারান, তবুও তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে এই টাকা আদায় করা হবে।
আইনি লড়াইয়ে ওই পুলিশ অফিসার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য থাকা বিশেষ সুরক্ষাকবচ বা 'কোয়ালিফাইড ইমিউনিটি'র দোহাই দিয়ে পার পাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, একজন নিরস্ত্র ও নিরীহ মানুষকে এভাবে পেছন থেকে ইলেকট্রিক শক দেওয়া সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং চরম অপরাধ।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreক্যালিফোর্নিয়ার হাইস্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বা ইউসি সিস্টেমে ভর্তির নতুন পরিসংখ্যানে চমকপ্রদ চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের ফল অনুযায়ী, সান ফ্রান্সিসকোর মিশন হাইস্কুল ইউসি বার্কলিতে ভর্তির হারে রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি সব হাইস্কুলকে ছাড়িয়ে গেছে। ইউসি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মিশন হাইস্কুল থেকে ইউসি বার্কলিতে আবেদন করা ৭৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ জন ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। অর্থাৎ স্কুলটির গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ৪৫ শতাংশ। একই সঙ্গে মিশন হাইস্কুলের আবেদনকারীদের গড় জিপিএ ছিল ৩.৯৩, আর যারা ভর্তির সুযোগ পেয়েছে তাদের গড় জিপিএ ছিল ৪.০৮। মিশন হাইস্কুলের এই সাফল্য আরও উল্লেখযোগ্য, কারণ স্কুলটিতে আর্থসামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউসি বার্কলিতে ভর্তির ক্ষেত্রে স্কুলটি ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করছে। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফ্রেসনোর এডিসন হাইস্কুল। স্কুলটি থেকে ইউসি বার্কলিতে আবেদন করা ৬২ জনের মধ্যে ২১ জন ভর্তি হয়েছে, যা ৩৪ শতাংশ গ্রহণযোগ্যতার হার। এরপর রয়েছে ইউসিএলএর জেফেন একাডেমি, যেখানে ৬১ জন আবেদনকারীর মধ্যে ১৯ জন ভর্তি হয়েছে এবং গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ৩১ শতাংশ। বে এরিয়ার আরও কয়েকটি হাইস্কুলও ইউসি বার্কলিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। রেডউড সিটির স্ট্যানফোর্ড অনলাইন হাইস্কুলের গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ২৭ শতাংশ। অকল্যান্ডের বেসরকারি বিশপ ও’ডাউড হাইস্কুলেও একই হার দেখা গেছে। বার্কলে হাইয়ের হার ছিল ২৩ শতাংশ, এল সেরিটো হাইয়ের ২৩ শতাংশ, হারকিউলিস হাইয়ের ২২ শতাংশ এবং ড্যানভিলের সান রামন ভ্যালি হাইয়ের ২২ শতাংশ। অন্যদিকে, কিছু স্কুলের শিক্ষার্থীদের ইউসি বার্কলিতে ভর্তির হার ছিল তুলনামূলকভাবে কম। ক্যাম্পবেলের ওয়েস্টমন্ট হাইস্কুলে এই হার ছিল ৪ শতাংশ, এলক গ্রোভের প্লেজ্যান্ট গ্রোভ হাইস্কুলে ৪ শতাংশ এবং ওয়েস্ট স্যাক্রামেন্টোর রিভার সিটি হাইস্কুলে ৫ শতাংশ। ২০২৫ সালের সামগ্রিক ইউসি ভর্তি চিত্রেও কিছুটা স্বস্তির খবর ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য। রাজ্যের যেসব শিক্ষার্থী ইউসি ক্যাম্পাসে আবেদন করেছিল, তাদের ৭৭ শতাংশের বেশি অন্তত একটি ইউসি ক্যাম্পাসে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। প্রায় এক দশকের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতার হার। তবে ইউসি সিস্টেমের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্যাম্পাসগুলোতে ভর্তি এখনও কঠিন। ২০২৫ সালের হিসাবে ইউসিএলের গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ৯.৪ শতাংশ এবং ইউসি বার্কলির ১১.৪ শতাংশ। এরপর ইউসি সান দিয়েগোর ২৮.৪ শতাংশ, ইউসি আরভাইনের ২৮.৭ শতাংশ এবং ইউসি সান্তা বারবারার ৩৮.৩ শতাংশ। বিষয়ভেদেও ভর্তির প্রতিযোগিতায় বড় পার্থক্য রয়েছে। ইউসি বার্কলিতে পাবলিক হেলথ ছিল সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক বিষয়গুলোর একটি, যেখানে গ্রহণযোগ্যতার হার মাত্র ২ শতাংশ। অন্যদিকে আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজে এই হার ছিল ২৫ শতাংশ। ইউসিএলে নার্সিংয়ে ভর্তি সবচেয়ে কঠিন ছিল, গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল মাত্র ১ শতাংশ। বে এরিয়ার আরও কিছু হাইস্কুল ইউসি মার্সেড ও ইউসি রিভারসাইডে প্রায় শতভাগ ভর্তি সাফল্য দেখিয়েছে। ইউসি মার্সেডে সান ফ্রান্সিসকোর ১৩টি হাইস্কুলের আবেদনকারীদের গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ১০০ শতাংশ। পুরো ইউসি মার্সেড ক্যাম্পাসের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ৯৫.১ শতাংশ। ইউসি রিভারসাইডের সামগ্রিক হার ছিল ৮৭.১ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, ক্যালিফোর্নিয়ার হাইস্কুল থেকে ইউসি ক্যাম্পাসে ভর্তির ক্ষেত্রে স্কুলভেদে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে ইউসি বার্কলির মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ক্যাম্পাসে মিশন হাইস্কুলের ৪৫ শতাংশ গ্রহণযোগ্যতার হার স্কুলটির শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক সাফল্যকে আরও নজরকাড়া করে তুলেছে।
মিশিগানে সরকারি চাকরির সুযোগ! ঘণ্টায় প্রায় ২২ থেকে ৩০ ডলার আয়
নিউইয়র্কে বাবা-মায়েদের একান্ত সময়ের সুযোগ, মামদানির ‘পেরেন্টস নাইট আউট’-এ ৪ ঘণ্টার ফ্রি চাইল্ডকেয়ার
গাজায় শান্তি পরিকল্পনায় ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে ২০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন জমি ও বসতবাড়ি দখল এবং বাসিন্দাদের উচ্ছেদের ঘটনায় কট্টরপন্থী ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। তিনি বলেছেন, অন্যের জমি ও বাড়ি জোরপূর্বক দখল করা শুধু মানবিক ও আইনি নীতির লঙ্ঘন নয়, এটি ধর্মীয় দৃষ্টিতেও গুরুতর অন্যায়। সম্প্রতি পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামে ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নাগরিক লুই রিদির বাড়িসহ কয়েকটি ফিলিস্তিনি বাড়ি ঘিরে রাখে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে বাড়িগুলোর বাইরে অবস্থান নিয়ে তারা বাসিন্দাদের চলাচলে বাধা দেয়। পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর হাকাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বসতিস্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডকে তীব্র ভাষায় নিন্দা করেন। তিনি বলেন, কোনো পরিবার যদি কোনো জমি ও বাড়ির বৈধ মালিক হয়, তাহলে অন্য কেউ সেখানে গিয়ে জোর করে দখল নিতে পারে না এবং ভয় দেখিয়ে পরিবারটিকে সরিয়ে দিতে পারে না। ধর্মীয় দৃষ্টান্ত টেনে হাকাবি ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মীয় ঐতিহ্যের ‘দশ আজ্ঞা’র কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। অন্যের সম্পত্তি চুরি বা লোভ না করার নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যা নিজের নয়, তা জোর করে নেওয়ার কোনো অধিকার কারও নেই। কুসরার ঘটনায় এর আগে হাকাবি আরও কঠোর ভাষা ব্যবহার করে বসতিস্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। মার্কিন দূতাবাসের অনুরোধে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও পুলিশ সেখানে গিয়ে অবৈধভাবে স্থাপিত বসতিগুলো সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। কুসরা পশ্চিম তীরের এমন একটি এলাকায় অবস্থিত, যেখানে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বেসামরিক প্রশাসনিক দায়িত্ব রয়েছে এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অনুমোদিত নয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও সেখানে বসতিস্থাপনকারীদের স্থাপিত কাঠামোগুলোকে অবৈধ ও নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেছে। এদিকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ে ইসরায়েলকে জেরুজালেমের পূর্বে ই-১ এলাকায় নতুন বসতি নির্মাণ পরিকল্পনা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। দেশগুলো বলেছে, এই পরিকল্পনা পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক সংযোগ আরও দুর্বল করে ভবিষ্যৎ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্সে ফুল ফ্রি টিউশন, সঙ্গে প্রায় ৩২ লাখ টাকার স্টাইপেন্ড
জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিত পুলিশ অফিসারকে মুক্তির দাবি ইলন মাস্কের, ফের তীব্র বিতর্ক
সাবেক প্রেমিকাকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে চ্যাটজিপিটিতে আলোচনা, গোয়েন্দা সংস্থাকে জানিয়ে দিলো এআই
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যালবানিতে অবস্থিত ক্যাপিটল ভবনে বোমা হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে জেসিকা বোয়ি (৩৫) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই হামলার ছক কষেন। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ২০০১ সালের ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলার পর এই নারীই আমেরিকার পতাকা হাতে রাস্তায় নেমেছিলেন, অথচ এখন তিনি সেই হামলারই বন্দনা করছেন। গত বুধবার অ্যালবানি থেকে জেসিকা বোয়িকে গ্রেপ্তার করা হয়। মার্কিন গোয়েন্দাদের দেওয়া ফৌজদারি অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ক্যাপিটল ভবনে ‘ডোরড্যাশ’ ফুড ডেলিভারি ব্যাগের ভেতরে বোমা রেখে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন ওই নারী। পাঁচ বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে জেসিকা নিজের নাম রাখেন ‘আয়েশা সাইফ’। গ্রেপ্তারের দিন তিনি গাড়ির ভেতর এফবিআইয়ের দুই গোপন তথ্যদাতার সাথে দেখা করেন। সেখানে তিনি স্বীকার করেন যে, একসময় আমেরিকাকে ভালোবাসলেও তিনি এখন আর আগের মানুষটি নেই। অভিযোগপত্রে বলা হয়, তথ্যদাতাকে জেসিকা জানান, ৯/১১-এর পর আমেরিকার পতাকা ওড়ানো সেই ছোট্ট মেয়েটি এখন টুইন টাওয়ার ধ্বংসের স্টিকার নিজের কাছে রাখেন। ২০০১ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। বুধবারের ওই বৈঠকের ভিডিও ও অডিও রেকর্ডিংয়ে দেখা যায়, জেসিকা একটি পিস্তল ও গুলি কেনার জন্য ওই তথ্যদাতাকে ১৫০ ডলার নগদ অর্থ দেন। যদিও অস্ত্রগুলো ছিল নিস্ক্রিয়। এছাড়া গত ৫ আগস্ট বোরকা পরিহিত অবস্থায় ‘হোম ডিপো’ থেকে কেনা সরঞ্জাম দিয়ে তৈরি একটি নিস্ক্রিয় বোমাও জেসিকাকে দেখান ওই তথ্যদাতা। এরপর তিনি বোমা তৈরির জন্য আরও ২০০ ডলার অনুদান দেন এবং জানান যে, তিনি একটি বড় হামলায় অর্থায়ন করতে চান। জেসিকা অত্যন্ত নির্দয়ভাবে ওই তথ্যদাতাকে এও জানান যে, তার রুমমেট যদি ভুলবশত বোমার সরঞ্জামগুলো দেখে ফেলে, তবে তাকে চুপচাপ হত্যা করবেন তিনি। এমনকি তাকে টুকরো করার কথাও বলেন তিনি। অস্ত্র ও ভুয়া বিস্ফোরক নিয়ে গাড়ি থেকে নামার পরপরই এফবিআই তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে কয়েকটি ছুরি এবং আইএস-এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের হাতে লেখা একটি শপথপত্র বা বায়াহ উদ্ধার করা হয়। হামলার পরিকল্পনার আগে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে তাকে নজরদারিতে রেখেছিল মার্কিন কর্তৃপক্ষ। রাজ্য আইনসভার ভেতরে থাকা প্রায় ২০০ মানুষের অন্তত অর্ধেককে হত্যার পরিকল্পনা ছিল তার। গত ২৯ জুলাই তিনি এক তথ্যদাতাকে খুদে বার্তায় লিখেছিলেন, “আমি ভবনের যতটা সম্ভব ধ্বংস করতে চাই এবং বৈঠক চলাকালীন সিনেটরদের হত্যা করতে চাই। আমি চাই তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিও ধ্বংস হোক।” অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্যাপিটল ভবনের আশেপাশে নজরদারি চালান এবং কাছাকাছি একটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে ভবনের বিভিন্ন ছবি তোলেন। মার্কিন গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, এই আইএস অনুসারী হামলা সফল করার পর সিরিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিলেন। গত ৫ আগস্ট তিনি তথ্যদাতাকে জানিয়েছিলেন, হামলা সফল হলে পরবর্তীতে ‘টাইম স্কয়ারে নববর্ষের আগের রাতে’ আরও বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতেন তিনি। কীভাবে তিনি ইসলামি চরমপন্থীদের সাথে যুক্ত হলেন, তা পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও বৃহস্পতিবার ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিউইয়র্কের শেনেকট্যাডির এই বাসিন্দা মূলত অনলাইনে কট্টরপন্থায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভুয়া প্রোফাইল খুলে তিনি আমেরিকান বিরোধী বার্তা ছড়াতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ২৮ মে তার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ৯/১১ হামলার প্রশংসা করে একটি পোস্টও দেওয়া হয়। অ্যালবানির এফবিআই ফিল্ড অফিসের স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ ক্রেইগ এল. ট্রেমারোলি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, জেসিকা বোয়ি কেবল আইনপ্রণেতাদের হত্যা করতেই চাননি, তিনি আমাদের সরকারের সম্পূর্ণ ধ্বংস চেয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ড ঋণে শীর্ষ ছয়ে ফ্লোরিডা, গড় বকেয়া ৫ হাজার ডলারের বেশি
সন্তান জন্ম দিতে বিদেশে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের জেন-জি বাবা-মায়েরা, পছন্দ কানাডা-যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ