দীর্ঘ ১৮ মাসের অভাবনীয় দায়িত্ব পালন শেষে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঠিক আগের রাতে জাতির উদ্দেশে আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ভাষণে তিনি দেশের বর্তমান স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। অধ্যাপক ইউনূস তাঁর ভাষণে বলেন, "আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন দেশ ছিল এক ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে। আমরা শূন্য থেকে শুরু করিনি—শুরু করেছিলাম মাইনাস থেকে। গত ১৮ মাস আমরা সেই জঞ্জাল পরিষ্কার করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দাঁড় করানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছি।" তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের জন্য এক নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে এবং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই দেশকে প্রকৃত গণতন্ত্রের পথে ফেরাতে হবে। সংস্কার ও অর্জনসমূহের চালচিত্র: ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর সরকারের উল্লেখযোগ্য সংস্কার কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, তরুণদের স্বপ্নের ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন এবং প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়েছে, যার ৮৪ শতাংশ এরই মধ্যে বাস্তবায়িত। আইনশৃঙ্খলা: পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব করতে ‘পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন আর কেউ পুলিশের ভয়ে ‘ডিলিট বাটন’ চাপতে হয় না কিংবা বেআইনিভাবে গুম হওয়ার আতঙ্কে থাকে না। বিচার বিভাগ: বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করে শক্তিশালী সচিবালয় গঠন এবং বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থনীতি: ব্যাংকিং খাতের বিপর্যয় কাটিয়ে রিজার্ভ এখন ৩৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা দেশের স্থিতিশীল অর্থনীতির বড় প্রমাণ। পররাষ্ট্রনীতি: ‘নতজানু’ পররাষ্ট্রনীতি ত্যাগ করে বাংলাদেশের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। ঐতিহাসিক জুলাই সনদ ও গণভবন জাদুঘর: অধ্যাপক ইউনূস তাঁর ভাষণে একটি বিশেষ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ফ্যাসিবাদী শাসনের ইতিহাস ধরে রাখতে পলাতক প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বাসভবন ‘গণভবন’কে ‘জাতীয় জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিনি দেশবাসীকে সপরিবারে এই জাদুঘর পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, "ক্ষমতা মানুষকে কতটা মনুষ্যত্বহীন করে তুলতে পারে, তার চাক্ষুষ প্রমাণ থাকবে এখানে।" এছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে তিনি ‘জুলাই সনদ’কে চিহ্নিত করেন, যা গণভোটে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট পেয়েছে। পরিশেষে, প্রধান উপদেষ্টা শহীদ ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন দায়িত্ব হলো গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার এই চর্চা অব্যাহত রাখা।" দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মিছিলে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিদায় নেন বিশ্ববরেণ্য এই নেতা।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সরকারি কর্মচারীদের পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে একই পদে থাকা ঠিক নয়, কারণ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তাদের মন কাঠামোবদ্ধ হয়ে যায় এবং নতুন চ্যালেঞ্জ বা পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন অভিজ্ঞ ও বাইরের দৃষ্টিভঙ্গির লোকদের দায়িত্বে আনা প্রয়োজন। বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো–র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এবং ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’–এর ওয়েবসাইট ও লোগো উন্মোচনকালে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “গোটা পৃথিবী দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রযুক্তির গতি এত ত্বরান্বিত যে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এবং নীতি প্রণয়নকারী দ্রুত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ব্যক্তি বদলাচ্ছে না। কাজেই যারা পরিবর্তনগুলো বুঝেছে, তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।” প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “যদি এমন লোক আসে যার প্রযুক্তি জ্ঞানের ভিত্তি ৩০ বছর আগের, তাহলে সে যুগের পরিবর্তন ধরতে পারবে না। এটি তার দোষ নয়, তাকে উপলব্ধি করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাই এখন নতুন দক্ষ, জ্ঞানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রজন্মকে দায়িত্বে আনা প্রয়োজন।” প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে অন্তত ১০ বছরের পর পুনর্গঠন করা উচিত। কারণ এ সময়ে পৃথিবী ও নিয়মকানুন বদলে গেছে। নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নীতি ও কাঠামো তৈরি করতে হবে। পুরোনো কাঠামোর ওপর সংশোধন যথেষ্ট নয়, মূলটিই পরিবর্তন করতে হবে।” এছাড়া অধ্যাপক ইউনূস দেশের জালিয়াতির প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জালিয়াতিতে বিশ্বের চ্যাম্পিয়ন। ভিসা, পাসপোর্ট, এমনকি নানা নথি জাল। আমাদের বুদ্ধি আছে, কিন্তু তা ভুল কাজে ব্যবহার হচ্ছে।” অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস