সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি

অভিবাসন নথি ও অতীতের বিয়ে নিয়ে তদন্তের মুখে রয়েছেন মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমর। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্তে ডিএনএ প্রমাণের দাবি, অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে ডিএনএ প্রমাণ ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফেডারেল তদন্তকারীরা। ২০০৯ সালে সাবেক স্বামী আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে বিয়ে করার সময় তিনি তাঁর ভাইকে বিয়ে করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে অভিযোগের সমর্থনে এই প্রমাণ কাজে লাগানো হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট। তবে অভিযোগটি এখনো প্রমাণিত নয় এবং ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কেও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।   প্রতিবেদনটিতে তদন্ত সম্পর্কে অবগত কয়েকজন অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই তদন্তে তথ্যদাতা, সরকারি নথি এবং সম্প্রতি পাওয়া ডিএনএ-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, ইলহান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা। অভিযোগ অনুযায়ী, এলমিকে বিয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পেতে সহায়তা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সূত্রগুলোর বক্তব্যের বাইরে ডিএনএ নমুনা কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বা পরীক্ষায় কী পাওয়া গেছে, তা স্পষ্ট নয়।   গত ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে ইলহান ওমরের বাসায় তল্লাশি চালায় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কর্মকর্তারা। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই তল্লাশিতে কিছু নথি ও অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাসায় তল্লাশি এবং ডিএনএ-সংক্রান্ত তথ্যসহ অন্যান্য উপাদান মিলিয়ে অভিবাসন জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্র্যান্ড জুরির সামনে মামলা উপস্থাপনের ভিত্তি তৈরি হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ওমরের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় কোনো অভিযোগপত্র দাখিল বা অপরাধ প্রমাণের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   তদন্তের আওতায় তাঁর আর্থিক বিবরণীও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন পিরো বলেছেন, আদালত সম্ভাব্য কারণের ভিত্তি না পেলে তল্লাশির পরোয়ানা অনুমোদন করতেন না। তবে এ বক্তব্য অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়। সাবেক ফেডারেল কৌঁসুলি নেমা রাহমানি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হলে মূল ঘটনার কিছু অংশ তামাদি হওয়ার সময়সীমার বাইরে থাকলেও সেগুলো সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট হিসেবে বিবেচনায় আসতে পারে। তদন্তের চূড়ান্ত আইনি পরিণতি কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।   ইলহান ওমর দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ভাইকে বিয়ে করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনের সময়ও একই ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছিল। তখনকার তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অপরাধের পর্যাপ্ত প্রমাণ পাননি বলে সাবেক অভিবাসন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। বর্তমান তদন্তে ওমরের জন্মতারিখ ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত নথি এবং তাঁর প্রয়াত বাবা নুর ওমর মোহাম্মদের অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   ওমরের আইনজীবীরা তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন এবং তল্লাশিতে জব্দ করা সামগ্রী ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে ওমরকে লক্ষ্যবস্তু করেছেন এবং তল্লাশির সময় আদালতের নির্ধারিত শর্ত মানা হয়নি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তাদের আইনজীবী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো আদালতের আদেশ এবং আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই কাজ করেছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের ফলাফল ও আদালতের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হবে।   সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ইলহান ওমর ১৯৯৫ সালে পরিবারের সঙ্গে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০০০ সালে দেশটির নাগরিকত্ব পান। তিনি মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি হিসেবে কংগ্রেসে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা কথা বলেছেন। তবে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেস সদস্যের নাগরিকত্ব বাতিল বা তাঁকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নজিরবিহীন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, ওয়াশিংটন পোস্ট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ইলহান ওমরের বাসায় তল্লাশির পর তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয়নি মার্কিন সরকার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব বাতিল কি আদৌ সম্ভব? যা বলছেন আইন বিশেষজ্ঞরা

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসায় ফেডারেল কর্মকর্তাদের তল্লাশির পর তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে সরকারকে কঠোর আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে এবং আদালতে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। ১২ অক্টোবর ২০২৬ তাঁর বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। এর কয়েক দিন পর সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার এখন পর্যন্ত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয়নি।   মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর ১৯৯৫ সালে সোমালিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০০০ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। ফেডারেল তদন্তকারীরা তাঁর অভিবাসন ও নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় জমা দেওয়া নথিতে কোনো ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তাঁর বয়সসংক্রান্ত তথ্য এবং এ বিষয়ে তাঁর বা পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য সঠিক ছিল কি না। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   তল্লাশির সময় ফেডারেল কর্মকর্তারা নথিপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং তাঁর পাসপোর্টসহ বিভিন্ন জিনিস জব্দ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইলহান ওমরের আইনজীবীরা এ তল্লাশির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং জব্দ করা সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, তদন্তটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে, বিচার বিভাগ বলেছে, আদালতের অনুমোদিত ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই তল্লাশি চালানো হয়েছে।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়াকে ডিন্যাচারালাইজেশন বলা হয়। সাধারণত নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা আইনগতভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা না থাকার মতো বিষয় প্রমাণ করতে হয়। শুধু তদন্ত শুরু হওয়া কিংবা কোনো অভিযোগ ওঠার কারণে নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় না। সরকারকে প্রযোজ্য আইনি মানদণ্ড পূরণ করে আদালতে মামলা করতে হবে। এ ধরনের মামলায় প্রমাণের ভিত্তি ও আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বোস্টন কলেজের অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ক্যানস্ট্রুমের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, নাগরিকত্ব একবার পাওয়ার পর তা বাতিল করার ক্ষেত্রে সরকারের জন্য আইনি বাধা অনেক উঁচু। নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা সফল করতে হলে সরকারকে শক্তিশালী প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। ফলে ইলহান ওমরের বাসায় তল্লাশি চালানো হলেও তা থেকে সরাসরি তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।  ইলহান ওমর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে এ তদন্তে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি বলে সিএনএন জানিয়েছে। তদন্তের ফলাফল, সম্ভাব্য অভিযোগ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ। নাগরিকত্ব বাতিলের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয় কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসনসংক্রান্ত নথি নিয়ে তদন্তের মধ্যে রয়েছেন মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশির পর ফোন জব্দ, পরিবারের সদস্যদের তলব

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ফোন জব্দ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ডিসিতে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় ফোনটি জব্দ করা হয়। একই তদন্তে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছেও তথ্য চেয়ে প্রায় এক ডজন সমন পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা ষড়যন্ত্র এবং অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মতো সম্ভাব্য অপরাধের বিষয় খতিয়ে দেখছেন। তবে এখন পর্যন্ত ওমরের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ আনার তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   গত সোমবার, ১২ অক্টোবর, ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসায় তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। এর কয়েক দিন আগে, শুক্রবার তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে সমন পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্ত সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে। তদন্তটি মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের একটি কেন্দ্রীয় গ্র্যান্ড জুরির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। গ্র্যান্ড জুরি সম্ভাব্য অপরাধের প্রমাণ পর্যালোচনা করে এবং মামলায় অভিযোগ আনার যথেষ্ট ভিত্তি আছে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। তবে ওমর নিজে এ পর্যায়ে সমন পাননি বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।   তদন্তকারীরা মূলত ওমর ও তাঁর পরিবারের অভিবাসনসংক্রান্ত অতীত নথিপত্র পরীক্ষা করছেন। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ওমর ১৯৯০-এর দশকে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। তদন্তের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানিয়েছে, তাঁর জন্মতারিখসহ অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য ও নথিপত্রে কোনো অসংগতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত চললেও কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে, এমন তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা ওমরের বোনের সঙ্গেও কথা বলতে চান, তবে তাঁর সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করতে পারেননি। পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে পাঠানো সমনের মাধ্যমে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তদন্ত পরিচালনা করছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, মিনিয়াপোলিসের মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং বিচার বিভাগ। তদন্তের সম্ভাব্য অভিযোগের মধ্যে ষড়যন্ত্র ও অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্রে মিথ্যা বিবৃতি দেওয়ার বিষয় রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে তদন্তের পূর্ণ বিবরণ বা জব্দ করা ফোন থেকে কী তথ্য পাওয়া গেছে, তা কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি।   ইলহান ওমর এই তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে নিয়ে ভিত্তিহীন বক্তব্য ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। সর্বশেষ তল্লাশিকে তিনি সেই চাপেরই নতুন ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেন। ওমরের মুখপাত্রের কাছ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে কোনো জবাব পাওয়ার কথা জানানো হয়নি। বিচার বিভাগও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।   ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুনর্নির্বাচনে লড়ছেন ওমর। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রচলিত নীতিতে নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে ভোটের ফল প্রভাবিত করতে পারে এমন প্রকাশ্য তদন্তমূলক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার রীতি রয়েছে। তবে এ ধরনের নীতি সব তদন্তে স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা তৈরি করে না। কংগ্রেস সদস্যের ফোন জব্দ করার ক্ষেত্রে আইনপ্রণেতাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব ও আইনসভায় বক্তব্য দেওয়ার স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হয়।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, সরকার ওমরকে ‘খুব সতর্কভাবে’ পর্যবেক্ষণ করছে। পরে ওহাইওতে রিপাবলিকানদের একটি সমাবেশেও তিনি ওমরকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেন। ট্রাম্পের প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তাও এর আগে ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত নথি নিয়ে তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে তদন্তের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে ওমর ও তাঁর সমর্থকেরা যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সরকারিভাবে স্বীকার করা হয়নি। অন্যদিকে, তদন্তকারীরা কী ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ্যে আসেনি।   ওমর মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য এবং প্রগতিশীল নারী আইনপ্রণেতাদের ‘দ্য স্কোয়াড’ নামে পরিচিত গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য। অভিবাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তাঁর অবস্থানের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থকদের সমালোচনার মুখে রয়েছেন। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি, ফোন জব্দ এবং পরিবারের সদস্যদের সমন পাঠানোর ঘটনা তাই রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   সূত্র: এনবিসি নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থ ও সরকারি দায়িত্ব নিয়ে নতুন জরিপে নাগরিকদের মতামত উঠে এসেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
দেশের চেয়ে নিজের সম্পদ বাড়ানোয় ট্রাম্পের বেশি মনোযোগ, মনে করেন অধিকাংশ মার্কিন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত সম্পদ ও ব্যবসায়িক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে করেন দেশটির অধিকাংশ নাগরিক। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি অনৈতিক বা বেআইনিভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলেও মনে করেন অনেক মার্কিন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও নরক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের (এপি-নরক) নতুন এক জনমত জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। তবে জরিপে উঠে আসা এসব তথ্য নাগরিকদের মতামত তুলে ধরে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়।    ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ট্রাম্প হয় বেআইনিভাবে লাভবান হয়েছেন, নয়তো এমন কিছু করেছেন যা অনৈতিক হলেও আইনত অপরাধ নয়। তাঁদের মধ্যে ৪১ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্প বেআইনি কিছু করেছেন। আর ১৮ শতাংশের ধারণা, তাঁর আচরণ অনৈতিক, তবে বেআইনি নয়। বিপরীতে ১৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। আরও ২১ শতাংশ এ বিষয়ে মত দেওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্য জানেন না বলে জানিয়েছেন।    ট্রাম্প ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন, সে বিষয়েও প্রশ্ন করা হয় জরিপে অংশগ্রহণকারীদের। এতে ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ট্রাম্প তাঁর নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থকে ‘অনেক বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের ব্যবসায়িক স্বার্থের ক্ষেত্রেও একই মূল্যায়ন করেছেন ৫৪ শতাংশ। অন্যদিকে, দেশের সামগ্রিক স্বার্থকে তিনি ‘অনেক বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে করেন ২৩ শতাংশ। আর নিজের মতো সাধারণ মানুষের স্বার্থকে তিনি একই মাত্রায় গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে করেন মাত্র ১১ শতাংশ উত্তরদাতা।   জরিপের ফলাফলে আরও দেখা যায়, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলভেদে মতের পার্থক্য রয়েছে। ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র ভোটারদের বড় অংশ মনে করেন, ট্রাম্প নিজের এবং ঘনিষ্ঠজনদের ব্যবসায়িক স্বার্থকে অন্তত কিছুটা হলেও অগ্রাধিকার দিয়েছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ বিষয়ে সমালোচনামূলক মনোভাব তুলনামূলক কম। তবে রিপাবলিকানদের মধ্যেও প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্প নিজের ও ঘনিষ্ঠদের ব্যবসায়িক স্বার্থকে ‘অনেক বেশি’ অথবা ‘কিছুটা’ গুরুত্ব দিয়েছেন।   ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকাণ্ডের ধারণার ক্ষেত্রেও দলীয় বিভাজন স্পষ্ট। জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন, প্রেসিডেন্ট বেআইনি কিছু করেছেন। স্বতন্ত্র উত্তরদাতাদের মধ্যে এই ধারণা পোষণ করেন প্রায় ৩০ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের বড় অংশ মনে করেন ট্রাম্প কোনো অন্যায় করেননি, অথবা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্য তাঁদের কাছে নেই। ফলে জরিপের ফলাফলে শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ নিয়ে উদ্বেগই নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে মতামতের সম্পর্কও স্পষ্ট হয়েছে।   ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে বিতর্কের পেছনে তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক আর্থিক বিবরণীতে ট্রাম্প তাঁর নতুন ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের তথ্য জানিয়েছেন। এসব ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সময় ক্রিপ্টো খাতের নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। তবে ব্যবসায়িক আয় এবং প্রেসিডেন্টের সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে বেআইনি সুবিধা নেওয়া এক বিষয় নয়; জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মতামতকে এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না।   এপি আরও জানিয়েছে, ট্রাম্পের অন্যতম বড় ক্রিপ্টো উদ্যোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আসে। ওই উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রে আইনি জটিলতায় থাকা এক চীনা ধনকুবের প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টোকারেন্সি সংগঠনের সহায়তাও পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের প্রথম বছরে তাঁর পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ট্রাম্প অর্গানাইজেশন আবাসন খাতে বিদেশে আটটি ব্যবসায়িক চুক্তি করেছে বলে এপির প্রতিবেদনে জানানো হয়। এসব ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও আর্থিক কার্যক্রম প্রেসিডেন্টের দায়িত্বের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থের সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।   প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত ব্যবসা ও সরকারি দায়িত্বের মধ্যে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর পরিবারের বিদেশি ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ প্রভাব ফেলছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি বা আয় নিজে থেকেই বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রমাণ নয়। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রযোজ্য আইন এবং প্রাসঙ্গিক প্রমাণ আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।   হোয়াইট হাউস ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের ব্যবসা সরকারি দায়িত্বের কারণে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে, এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে একদিকে নাগরিকদের মধ্যে ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ধারণা এবং অন্যদিকে প্রশাসনের অবস্থান, দুটিই এই বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের ধারণা জনমতের একটি চিত্র তুলে ধরলেও, তা দিয়ে কোনো অভিযোগের আইনি সত্যতা নির্ধারণ করা যায় না।   এপি-নরকের জরিপটি ২০২৬ সালের ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ১৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে পরিচালিত হয়। নরক সেন্টারের সম্ভাবনাভিত্তিক আমেরিস্পিক প্যানেল থেকে উত্তরদাতাদের নির্বাচন করা হয়েছিল। জরিপে অনলাইন ও টেলিফোনে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সামগ্রিক নমুনার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য নমুনাগত ত্রুটির সীমা ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। এই ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর মনোভাব সম্পর্কে ধারণা দিলেও, জরিপের পরিসংখ্যানকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), এপি-নরক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্প ওশান রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ করার প্রস্তাব ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ অথবা ‘আমেরিকার মহাসাগর’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার, ১০ অক্টোবর, টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ক্লার্কসভিলে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ধারণার কথা জানান। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা নির্বাহী আদেশের ঘোষণা আসেনি। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন এর আগে মেক্সিকো উপসাগর ও লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে তাঁর প্রশাসন।   সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাম পরিবর্তন করা একটি উপসাগর ও একটি সুন্দর হ্রদ রয়েছে। এবার কেউ একজন তাঁকে একটি নদীর নাম পরিবর্তনের কথাও বলেছেন। তবে হাডসন নদীর নাম পরিবর্তন করতে চান না বলে জানান তিনি। এরপর আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে যেকোনো একটির নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, এর নাম ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ অথবা ‘আমেরিকার মহাসাগর’ রাখা যেতে পারে। তাঁর বক্তব্যে নতুন নামকরণের বিষয়টি উঠে এলেও কোন মহাসাগরকে বেছে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু জানাননি তিনি।   বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প এর আগেও কথা বলেছেন। গত ২৭ আগস্ট একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের সময় তিনি মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনা তুলে ধরেছিলেন। শনিবারের সমাবেশে সেই প্রসঙ্গ আবার সামনে এনে তিনি বলেন, তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে একটি বড় নদীর নাম পরিবর্তনের ইচ্ছার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তবে মিসিসিপি নদীর নাম পরিবর্তন করবেন না বলে স্পষ্ট করেন ট্রাম্প। মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই অঙ্গরাজ্যকে তিনি ভালোবাসেন।   ট্রাম্পের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক স্থানের নাম নতুন করে নির্ধারণের ধারাবাহিকতা। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে মেক্সিকো উপসাগরের নাম ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নেন। এর আগে উপসাগরটি আন্তর্জাতিকভাবে ‘গালফ অব মেক্সিকো’ নামেই পরিচিত ছিল। ট্রাম্প নতুন নামটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উপযুক্ত বলে বর্ণনা করেছিলেন। তাঁর প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নামটির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।   চলতি বছরের আগস্টে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার উদ্যোগও নেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তবর্তী পাঁচটি বৃহৎ হ্রদের একটি লেক অন্টারিও। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই নাম পরিবর্তনের এই পদক্ষেপ আসে। ট্রাম্প একটি ভিডিওতে মানচিত্রে হ্রদটির পুরোনো নামের ওপর দাগ টেনে নতুন নাম লেখার দৃশ্য দেখিয়েছিলেন। পরে তাঁর প্রশাসনের নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবহারে নতুন নামটি অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ডেনালির নাম পরিবর্তন করে মাউন্ট ম্যাককিনলি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও নিয়েছিলেন ট্রাম্প। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন ২০১৫ সালে আলাস্কার আদিবাসীদের ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে পর্বতটির নাম ডেনালি পুনর্বহাল করেছিল। ট্রাম্পের প্রশাসন আবার পুরোনো নামটি ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেয়। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি তাঁর প্রশাসনের আলোচিত নীতিগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার নিজস্ব সরকারি নথি ও দেশীয় মানচিত্রে ভৌগোলিক নাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে পারলেও অন্য দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থাকে একই নাম গ্রহণে বাধ্য করতে পারে না। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এ সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশাল জলভাগের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট হবে না। আন্তর্জাতিক মানচিত্র, ভৌগোলিক নামের স্বীকৃতি এবং অন্যান্য দেশের সরকারি ব্যবহারে নামটির গ্রহণযোগ্যতা আলাদা বিষয়।   এখন পর্যন্ত আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্প কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করেননি। ফলে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ বা ‘আমেরিকার মহাসাগর’ নাম দুটি আপাতত তাঁর বক্তব্যে উত্থাপিত প্রস্তাব হিসেবেই রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নাম ব্যবহারে কী প্রভাব ফেলবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   সূত্র: পিপল ম্যাগাজিন, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং ওয়াশিংটন পোস্ট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিকল্প হিসেবে লুক্সেমবার্গের পাসপোর্ট চাইছেন অনেক মার্কিনি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার বিকল্প খুঁজছেন আমেরিকানরা, পূর্বপুরুষের সূত্রে নিচ্ছেন লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত হয়ে দেশ ছাড়ার কথা ভাবতে শুরু করেছিলেন ডেনভারের বাসিন্দা পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী ট্রান্সজেন্ডার নারী ক্যারিস ক্যাসিডি। ছোটবেলা থেকেই ইউরোপে পাড়ি জমানোর স্বপ্ন দেখতেন তিনি, যা বয়স বাড়ার সাথে সাথে আরও প্রবল হয়। নিউজউইককে তিনি জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগেও আমেরিকায় সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বিভাজন ছিল এবং এখানকার তুলনায় ইউরোপে সামাজিক গতিশীলতা অনেক বেশি। আমেরিকায় সাধারণ মানুষের কাছে কেবল একটাই প্রত্যাশা থাকে যে তারা সারাজীবন কাজ করে যাবে। কেউ নিজের অবস্থার উন্নতি করতে চাইলে তাকে বিশাল ঋণের বোঝায় পড়তে হয় অথবা জীবনের অন্যান্য আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে হয় বলে মনে করেন ক্যাসিডি।   ইউরোপকে নিজের স্বপ্ন পূরণের একটি আদর্শ জায়গা হিসেবে বিবেচনা করতেন ক্যাসিডি। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার একজন পূর্বপুরুষ উনিশ শতকে লুক্সেমবার্গ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। এই সূত্র ধরেই প্রায় ছয় লাখ একানব্বই হাজার মানুষের ছোট ও স্থলবেষ্টিত দেশ লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব দাবি করার সুযোগ পান তিনি। দেশটির আইন অনুযায়ী, ১৮১৫ সাল বা তার পরে জন্মগ্রহণকারী কোনো পূর্বপুরুষের সাথে অবিচ্ছিন্ন পুরুষ বংশানুক্রমিক সম্পর্ক থাকলে নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব। এছাড়া ১৯৬৯ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্মগ্রহণকারী সন্তানরাও নারীদের মাধ্যমে এই নাগরিকত্ব পেতে পারেন।   প্রায় এক বছর ধরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের পর অবশেষে গত মার্চ মাসে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব লাভ করেন ক্যাসিডি। লুক্সেমবার্গের পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য কোনো ভাষা পরীক্ষা দেওয়া বা দেশটিতে ভ্রমণের বাধ্যবাধকতা নেই। নাগরিকত্ব পাওয়ার পরপরই তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে সুইডেনে পাড়ি জমান। ক্যাসিডি জানান, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকার কারণেই তিনি দ্রুত দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক আমেরিকানই এখন বিকল্প পাসপোর্ট হিসেবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন।   ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে এই ছোট্ট ইউরোপীয় দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য মার্কিনিদের আবেদন বহুগুণ বেড়ে গেছে। জাতীয় নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে তিন হাজার পাঁচশো চুয়াত্তর জন আমেরিকান লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই বছর ৬৫৭ জন মার্কিনি স্বেচ্ছায় আবেদনের মাধ্যমে নতুন নাগরিক হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন যা আগের বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। বাকিরা জন্মসূত্রে বা ১৯৪৮ সালের এপ্রিলের আগে দেশটিতে জন্মের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন।   নেব্রাস্কার বাসিন্দা ড্যানিয়েল অ্যাটজও একইভাবে ইউরোপে বসবাসের স্বপ্ন দেখছিলেন এবং ২০০৮ সালের লুক্সেমবার্গের জাতীয়তা আইন তাকে সেই সুযোগ এনে দেয়। ওই আইন অনুযায়ী, ১৯০০ সালের ১ জানুয়ারি জীবিত থাকা কোনো লুক্সেমবার্গ নাগরিকের বংশধররা তাদের নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার করার সুযোগ পান। অ্যাটজ ২০১৪ সালে তার নাগরিকত্ব ফিরে পান এবং সেখানে নিজের হারিয়ে যাওয়া ইউরোপীয় আত্মীয়দের সাথে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করেন। তিনি নিউজউইককে জানান, লুক্সেমবার্গের এই পরিবারটি তাকে অনেক মানসিক সমর্থন দিয়েছে এবং এই নাগরিকত্ব তার জীবনকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।   বর্তমানে অ্যাটজ লাক্সসিটিজেনশিপ ডটকম নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অন্যান্য আমেরিকানদের লুক্সেমবার্গের পাসপোর্ট পেতে সহায়তা করছেন। তিনি জানান, ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো মার্কিনিদের মধ্যে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নেওয়ার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। আর এখন প্রতি তিন মাসে প্রায় নয়শ জন আমেরিকান লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব পাচ্ছেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে তার প্রতিষ্ঠানে সেবাপ্রত্যাশীদের ভিড় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অ্যাটজ জানান, ক্যাসিডির মতো এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে ভীত এবং তারা ইউরোপে স্থায়ী হতে চাইছেন।   নাগরিকত্ব পাওয়ার হার বাড়লেও এর মানে এই নয় যে আমেরিকানরা দলে দলে লুক্সেমবার্গে গিয়ে বসবাস শুরু করছেন। লুক্সেমবার্গ ইউরোপের অন্যতম ব্যয়বহুল দেশ এবং সেখানে সব ধরনের পেশার মানুষের জন্য পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ নেই। তাই অনেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের টিকিট হিসেবে এই পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। অ্যাটজ জানান, পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নব্বই শতাংশেরও বেশি মানুষ স্প্যানিশ, পর্তুগিজ বা ফরাসি শহরগুলোতে পাড়ি জমান। ক্যাসিডি নিজেও লুক্সেমবার্গে স্থায়ী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও আর্থিক দিক বিবেচনায় তিনি ইউরোপের অন্য কোনো দেশে বাস করার কথা ভাবছেন।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশে বসবাসকারী অনেক আমেরিকান তাদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করছেন এবং এই সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। তবে ক্যাসিডি এখনই নিজের মার্কিন পাসপোর্ট ছাড়তে রাজি নন। তিনি বলেন, অনেক খারাপ ঘটনা ঘটলেও হয়তো আগামী দিনে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তার ভেতরের আমেরিকান সত্তা এখনও আশাবাদী যে শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে এবং একটি সুন্দর সমাপ্তি দেখা যাবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের শেষ কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে কী ঘটে, তা সবার জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করেন তিনি।   উৎস: নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০
কংগ্রেসের অনুমোদিত সরকারি তহবিল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের নির্দেশে ৮১০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিল বাতিল, বড় কাটছাঁট অভিবাসন খাতে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদিত প্রায় ৮১০ মিলিয়ন ডলারের অব্যবহৃত সরকারি তহবিল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার দেওয়া এই নির্দেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন, অভিবাসন, জাতিগত সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক সহায়তাসহ বিভিন্ন খাতের ১১টি তহবিল বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাতটি ফেডারেল বিভাগ ও সংস্থার এসব তহবিলের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ, ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগকে দেওয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসীদের সামাজিক সেবা দেওয়ার জন্য। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় করার কথা ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে অনিয়মিত প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় এই অর্থের আর প্রয়োজন নেই।   ট্রাম্পের পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত অর্থ বাতিলের আওতায় রয়েছে বাণিজ্য বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ, আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ এবং বিচার বিভাগ। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা কর্মসূচির কিছু তহবিলও বাতিল করা হচ্ছে।   দ্বিতীয় বৃহত্তম কাটছাঁটের পরিমাণ ৭০ মিলিয়ন ডলার। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের জন্য ফেলোশিপ ও অনুদান কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকেরা যেখানে এসব কর্মসূচির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশাসনও কয়েকটি প্রকল্পকে নীতিগতভাবে আপত্তিকর হিসেবে দেখেছে।   আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের একটি কর্মসূচি থেকে আরও ৫৬ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হচ্ছে। এই অর্থ বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের মাধ্যমে আবাসন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার কাজে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এর একটি অংশ এমন সংগঠনের কার্যক্রমে যাচ্ছিল, যেগুলো জাতিগত ও বৈচিত্র্যভিত্তিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত।   স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের আরও ২৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান বাতিল করা হচ্ছে। প্রশাসনের ভাষায়, এসব অনুদানের কিছু ছিল অপচয়মূলক, একই ধরনের কর্মসূচির পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে নীতিগতভাবে আপত্তিকর ছিল। তবে ঠিক কোন কোন প্রকল্পের অর্থ এই কাটছাঁটের আওতায় পড়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।   শিক্ষা বিভাগের অভিবাসী শিক্ষার্থী উদ্যোগ থেকেও ২৫ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির আওতায় এমন কিছু সংগঠন অর্থ পেয়েছিল, যাদের বিরুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা না করতে উৎসাহিত করার অভিযোগ ছিল।   বিচার বিভাগের কমিউনিটি রিলেশনস সার্ভিসেস কর্মসূচি থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিচিতি, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি পরামর্শসংক্রান্ত একটি কর্মসূচি থেকেও ১৫ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হচ্ছে।   এ ছাড়া সংখ্যালঘু মালিকানাধীন ব্যবসায়ীদের জন্য অনুদান দেওয়া সংখ্যালঘু ব্যবসা উন্নয়ন সংস্থা থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার, অভিবাসীদের আইনি সহায়তা দেওয়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটির আরেকটি কর্মসূচি থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সংখ্যালঘু স্বাস্থ্য কার্যালয় থেকে ৫ মিলিয়ন ডলার বাদ দেওয়া হচ্ছে।   ট্রেজারি বিভাগের ট্রপিক্যাল ফরেস্ট অ্যান্ড কোরাল রিফ কনজারভেশন অ্যাক্ট কর্মসূচি থেকেও ৯ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কর্মকাণ্ডের বিনিময়ে বিভিন্ন দেশের ঋণ কমানোর ব্যবস্থা ছিল।   এই অর্থ বাতিলের প্রক্রিয়াকে ‘পকেট রেসিশন’ বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বাজেট ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ বাতিলের জন্য বিশেষ বার্তা পাঠাতে পারেন এবং সাধারণ নিয়মে কংগ্রেসের তা বিবেচনার জন্য ৪৫ দিন সময় থাকে। কিন্তু অর্থবছর শেষ হওয়ার ঠিক আগে এমন প্রস্তাব পাঠানো হলে কংগ্রেসের পক্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং অর্থ অব্যবহৃত অবস্থায় মেয়াদ শেষ করতে পারে। সরকারি অর্থব্যবস্থার এই পদ্ধতির আইনগত বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সরকারি জবাবদিহি দপ্তর বা জিএও ২০২৫ সালে বলেছিল, এ ধরনের ‘পকেট রেসিশন’ আইনসঙ্গত নয়।   এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সহায়তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই পদক্ষেপকে ঘিরে আদালতে আইনি লড়াই শুরু হয়। পরে ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ ভোটের আদেশে প্রশাসনকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ওই অর্থ আটকে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে সেই আদেশটি মূলত নিম্ন আদালতের নির্দেশ স্থগিত রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল এবং ‘পকেট রেসিশন’ ব্যবস্থার আইনি প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ করেনি।   এবারের উদ্যোগটি এসেছে ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবছর শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে। ফলে কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থের ওপর নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রেসিডেন্টের ব্যয় কমানোর ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে।   ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, অব্যবহৃত বা প্রশাসনের বর্তমান নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন অর্থ বাতিল করে সরকারি ব্যয় কমানোই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য। অন্যদিকে, ‘পকেট রেসিশন’ নিয়ে সমালোচকেরা বলছেন, কংগ্রেস যে অর্থ আইন করে বরাদ্দ করেছে, প্রেসিডেন্টের একতরফাভাবে তা বাতিলের ক্ষমতা থাকা উচিত কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জবাবদিহি দপ্তর (GAO), যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসনাল জেলার সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে কোটি কোটি মানুষের নির্বাচনী জেলা বদলে গেছে। ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনী সীমানা পুনর্বিন্যাসে বদলে গেল ৩ কোটি ৪৮ লাখ মার্কিন নাগরিকের কংগ্রেসনাল জেলা

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী সময়ে কংগ্রেসনাল আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ মানুষ নতুন প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নির্বাচনী জেলার বাসিন্দা হয়েছেন। নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনী চক্রের তুলনায় বর্তমানে প্রতি ১০ জন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে প্রায় একজন ভিন্ন কংগ্রেসনাল জেলায় বসবাস করছেন।   গবেষণাটি করেছে গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে কাজ করা সংগঠন প্রোটেক্ট ডেমোক্রেসি। তাদের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশের কংগ্রেসনাল জেলা ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর পরিবর্তিত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মার্কিন নাগরিক এমন সব জেলায় বসবাস করছেন, যেখানে আগের নির্বাচনী চক্রের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি ভোটার নতুন করে যুক্ত হয়েছেন।   এপি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে দশক শেষ হওয়ার আগেই কংগ্রেসনাল জেলার সীমানা পুনর্নির্ধারণের যে নজিরবিহীন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার প্রভাব এরই মধ্যে দেশজুড়ে পড়েছে। সাধারণত প্রতি ১০ বছর পর আদমশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে কংগ্রেসনাল জেলার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এবার ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।   এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয় টেক্সাসে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত টেক্সাসের আইনপ্রণেতাদের কংগ্রেসনাল মানচিত্র নতুন করে আঁকার আহ্বান জানান। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ায় ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেক্সাসের পদক্ষেপের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্য একই ধরনের পুনর্বিন্যাসের পথে যায়।   প্রোটেক্ট ডেমোক্রেসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এসব পরিবর্তনের ফলে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে সম্ভাব্যভাবে নয়টি আসনের সুবিধা পেতে পারে। তবে এটি কোনো নিশ্চিত নির্বাচনী ফল নয়, বরং নতুন নির্বাচনী সীমানার সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রতিবেদনের হিসাব।   প্রতিবেদনটির লেখকেরা মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে ঘন ঘন নির্বাচনী সীমানা পরিবর্তন হলে ভোটারদের সঙ্গে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। প্রোটেক্ট ডেমোক্রেসির নীতি-পরামর্শক ও প্রতিবেদনের সহলেখক বেন রাডারস্টর্ফ বলেছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে নির্বাচিত কর্মকর্তারা প্রকৃতপক্ষে নিজেদের এলাকার ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করছেন কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলো যদি প্রতিপক্ষকে কোনো সুবিধা না দিতে বারবার নতুন করে নির্বাচনী মানচিত্র আঁকতে থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়তে পারে। এতে নির্বাচনী প্রচার ও রাজনৈতিক সংগঠনের কাজও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মিসৌরিতে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এই জটিলতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সেখানে ২০২৬ সালের প্রাইমারি নির্বাচনে ব্যবহৃত কংগ্রেসনাল মানচিত্র নিয়ে আদালতে দীর্ঘ আইনি লড়াই হয়েছে। মিসৌরি সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর ২০২২ সালের আগের মানচিত্রে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টও সংশ্লিষ্ট একটি স্থগিতাদেশের আবেদন খারিজ করে দেয়।   এই আইনি ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের ফলে মিসৌরির ভোটারদের একটি অংশ প্রাইমারি নির্বাচনে যে জেলার অধীনে ভোট দিয়েছেন, নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তাদের জেলা ভিন্ন হতে পারে। আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রাইমারি নির্বাচনে প্রায় ১২ লাখ মিসৌরির ভোটার অংশ নিয়েছিলেন এবং জেলার সীমানা পরিবর্তনের কারণে কয়েক লাখ ভোটারের নির্বাচনী জেলা বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।   প্রোটেক্ট ডেমোক্রেসি তাদের প্রতিবেদনে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনী জেলা নির্ধারণের জন্য নতুন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের মতো বিকল্প ব্যবস্থা এবং দলগুলোর মধ্যে এমন সমঝোতা, যার মাধ্যমে দলীয় স্বার্থের বাইরে নির্বাচনী জেলার সীমানা নির্ধারণ করা যায়।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি অঙ্গরাজ্যে কংগ্রেসনাল জেলার সীমানা নির্ধারণে দলীয় আইনপ্রণেতাদের পরিবর্তে স্বাধীন বা তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ কমিশন ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় গত বছর টেক্সাসের পুনর্বিন্যাসের প্রতিক্রিয়ায় গণভোটের মাধ্যমে তাদের আগের নিরপেক্ষ মানচিত্রের ব্যবস্থা সাময়িকভাবে পরিবর্তন করা হয়।   প্রোটেক্ট ডেমোক্রেসির প্রতিবেদনের লেখকেরা বলছেন, রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের জন্য নির্বাচনী জেলার সীমানা বারবার পরিবর্তনের প্রবণতা বন্ধ করতে দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচনী সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এ ধরনের সংস্কার কংগ্রেস ও অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভায় বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), প্রোটেক্ট ডেমোক্রেসি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের নীতি প্রচারে হোয়াইট হাউসের পাঁচ রেট্রো গেম
ট্রাম্পের নীতির প্রচারে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে ৫ ভিডিও গেম

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি প্রচারে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে চালু করা হয়েছে পাঁচটি রেট্রো ধাঁচের ভিডিও গেম। বৃহস্পতিবার চালু হওয়া ‘আর্কেড’ নামের এই বিভাগে অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা, স্কুলের খাবার এবং শিশুদের সঞ্চয় প্রকল্পসহ ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতিকে গেমের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। গেমগুলোর একটি ‘বিল্ড দ্য ওয়াল’, যেখানে টেট্রিসের মতো ইট সাজিয়ে সীমান্তে দেয়াল তৈরি করতে হয়। আর ‘রিও রান’ গেমে রিও গ্রান্ডে নদীর পাশে সীমান্ত টহল দেওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারীদের আটক ও ফেরত পাঠানোর বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।  আরেকটি গেম ‘সাপ্লাই লাইন’-এ স্কুলের খাবার বাছাই করতে হয়। স্বাস্থ্যকর খাবার রেখে অস্বাস্থ্যকর খাবার সরানোর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন’ নীতির প্রচার করা হয়েছে।  ‘ফ্ল্যাপি বিল’ গেমে একটি ঈগলকে ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলের ওপর দিয়ে উড়তে হয়। আর ‘ট্রাম্প সেভিংস টাইকুন’ গেমে অর্থ সংগ্রহ করে শিশুদের ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ পূরণ করার লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। এই সঞ্চয় প্রকল্পে যোগ্য শিশুদের জন্য এককালীন ১ হাজার ডলার সরকারি অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।  হোয়াইট হাউস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেমগুলোর প্রচারে এক্সবক্স, প্লেস্টেশন ও নিনটেন্ডোর পুরোনো গেম চালুর পর্দার আদলে বিভিন্ন অ্যানিমেশনও ব্যবহার করেছে। একটি অ্যানিমেশনে সেগার নাম বদলে ‘মাগা’ দেখানো হয়েছে, যা ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানের সংক্ষিপ্ত রূপ।  তবে ‘বিল্ড দ্য ওয়াল’ গেম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে টেট্রিস কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গেমটি তৈরিতে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং টেট্রিসের নাম বা মেধাস্বত্ব ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তারা পর্যালোচনা করছে। 

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী অংশের মতপার্থক্যের মধ্যে নিজের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেছেন হাকিম জেফরিস। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রস্তাব থেকে সরে এলেন হাকিম জেফ্রিস

যুক্তরাষ্ট্রে সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রস্তাব ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ এখন আর সমর্থন করেন না বলে জানিয়েছেন হাউসের ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফরিস। একই সঙ্গে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা বা ডিএসএর ঘোষিত কর্মসূচির প্রতিও সমর্থন নেই বলে স্পষ্ট করেছেন নিউইয়র্কের এই ডেমোক্র্যাট নেতা।   রোববার এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান জানান জেফরিস। একসময় ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বিলের সহ-উদ্যোক্তা থাকলেও বর্তমানে তিনি এই প্রস্তাবের পক্ষে নেই বলে জানান।   জেফরিস বলেন, বর্তমানে তিনি ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ সংক্রান্ত কোনো আইনের সহ-উদ্যোক্তা নন এবং এটি সমর্থনও করেন না। ওয়েলকার তাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই প্রস্তাব সমর্থন করেন কি না। জবাবে জেফরিস তার বর্তমান অবস্থান অপরিবর্তিত রেখে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কংগ্রেসে উত্থাপিত ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ আইনগুলোতে তিনি সহ-উদ্যোক্তা হননি এবং বর্তমানে এগুলো সমর্থন করছেন না।   ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ মূলত যুক্তরাষ্ট্রে একক সরকারি স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা চালুর একটি প্রস্তাব। এর আওতায় অধিকাংশ বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমার পরিবর্তে সরকার পরিচালিত একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে সব নাগরিককে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবটির সমর্থকেরা মনে করেন, এতে সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যক্তির নিজস্ব চিকিৎসা ব্যয় ও বেসরকারি বিমা ব্যবস্থার প্রশাসনিক খরচ কমতে পারে। সমালোচকেরা অবশ্য এর সম্ভাব্য বিপুল সরকারি ব্যয়, কর বাড়ার ঝুঁকি এবং বর্তমান চাকরিভিত্তিক স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থায় পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।   জেফরিসের অবস্থান পরিবর্তন ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরের মতপার্থক্যকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। দলের প্রগতিশীল অংশের কাছে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। অন্যদিকে জেফরিসসহ দলের মধ্যপন্থী নেতারা স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমানো এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।   জেফরিস ডিএসএর কর্মসূচি থেকেও নিজেকে দূরে রেখেছেন। ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল রাজনীতিতে প্রভাব বাড়িয়েছে। বিভিন্ন প্রাথমিক নির্বাচনে সংগঠনটির সমর্থিত বা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের সাফল্যও দলের মধ্যপন্থী ও প্রগতিশীল অংশের মধ্যে বিতর্ক বাড়িয়েছে।   জেফরিস বলেন, ডেমোক্রেটিক ককাসে প্রগতিশীল, মধ্যপন্থী ও ব্লু ডগ ডেমোক্র্যাটদের মতো বিভিন্ন মতের মানুষ রয়েছেন। তবে ডিএসএ নিজে যে কর্মসূচি তুলে ধরেছে, তিনি সেটি সমর্থন করেন না। তার মতে, ডেমোক্র্যাটদের এখন মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার বাড়তি খরচকে তিনি সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।   স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে জেফরিস ‘মেডিকেয়ার ফর অল’-এর পরিবর্তে বিদ্যমান ব্যবস্থায় খরচ কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মেডিকেইডে রিপাবলিকানদের করা কাটছাঁট ফিরিয়ে নেওয়া এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবিমা আইন বা অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের করছাড় বাড়ানোর পক্ষে কথা বলেছেন। স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে জেফরিসের বর্তমান অবস্থান তার আগের ভূমিকার তুলনায় ভিন্ন। তিনি ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বিলের সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন। তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বে আসার পর সাম্প্রতিক সংস্করণগুলোর সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেননি।   জেফরিসের সঙ্গে স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে প্রকাশ্য মতপার্থক্যও দেখিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না। পৃথক এক সাক্ষাৎকারে খান্না বলেন, তিনি ‘মেডিকেয়ার ফর অল’কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রাধিকার হিসেবে দেখেন। তার দাবি, এই ব্যবস্থা স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।   ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বিতর্ক শুধু স্বাস্থ্যসেবা নিয়েই সীমাবদ্ধ নয়। অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থা আইস বা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বিলুপ্ত করার দাবিতেও দলের প্রগতিশীল অংশের সঙ্গে জেফরিসের মতপার্থক্য রয়েছে। জেফরিস আইস পুরোপুরি বিলুপ্ত করার পক্ষে নন। তবে তিনি সংস্থাটির ব্যাপক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত, মানবিক ও যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বর্তমানে আইসের কার্যক্রম ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে গেছে।   এর আগে জেফরিস ও সিনেটের ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমার আইসের কার্যক্রমে বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর মধ্যে অভিবাসন কর্মকর্তাদের মুখ ঢেকে কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা, দৃশ্যমান পরিচয়পত্র বহনের বাধ্যবাধকতা, স্কুল ও গির্জার কাছে অভিযান সীমিত করা, কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো এবং বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ম আরোপের প্রস্তাব ছিল।   জেফরিসের এই বক্তব্যের ঠিক এক দিন আগে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির সদস্যরা আইস বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। একই সময়ে আইস সংস্কারের পক্ষে আরেকটি প্রস্তাবও বেশি ব্যবধানে অনুমোদিত হয়। ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির চেয়ার কেন মার্টিন অবশ্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, দলের আনুষ্ঠানিক নীতিমালা প্রতি চার বছর পর জাতীয় সম্মেলনে নির্ধারিত হয়।   জেফরিসের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ডেমোক্রেটিক পার্টি আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলের ভেতরের মতপার্থক্য সামলে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা আবারও হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাবে। এজন্য অন্তত ২১৮টি আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দল কাজ করছে বলেও জানান তিনি।   তার বক্তব্যে মূল বার্তা ছিল, ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়টি রাখা উচিত। স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোর কাছে দলকে বাস্তবসম্মত সমাধান তুলে ধরতে হবে বলে মনে করেন তিনি। অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশ মনে করে, বিদ্যমান ব্যবস্থার ছোটখাটো সংস্কারের বদলে স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার। ফলে জেফরিসের বর্তমান অবস্থান দলের মধ্যপন্থী নেতৃত্ব ও প্রগতিশীল ঘরানার মধ্যে নীতিগত দূরত্বের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।   এ অবস্থায় ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ থেকে সরে আসা এবং ডিএসএর কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করে জেফরিস কার্যত ডেমোক্রেটিক পার্টির একটি মধ্যপন্থী অবস্থানই সামনে এনেছেন। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অবস্থান দলকে বৃহত্তর ভোটারগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে কতটা সহায়তা করবে, সেটিই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অন্যতম আগ্রহের বিষয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
একটি অনুষ্ঠানে হেঁটে যাওয়ার সময় পেছন থেকে ধারণ করা ট্রাম্পের ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের পোশাকে অস্বাভাবিক আকৃতি, ফের ছড়াল ‘ডায়াপার’ পরার গুঞ্জন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোশাকের একটি ছবি ও ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও শুরু হয়েছে ‘ডায়াপার’ পরার গুঞ্জন। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের পেছন দিকের পোশাকে অস্বাভাবিক আকৃতি দেখা যাচ্ছে দাবি করে অনেকে নানা মন্তব্য করেন। তবে ট্রাম্প প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার ব্যবহার করেন, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।   ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ভিডিওতে একটি অনুষ্ঠানের পর ট্রাম্পকে হেঁটে চলে যেতে দেখা যায়। এ সময় তার স্যুটের নিচের অংশের আকৃতি নিয়ে কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী প্রশ্ন তোলেন। কারও কারও দাবি, পোশাকের নিচে একটি চৌকো ধরনের ফোলা অংশ দেখা যাচ্ছে।   এক্সে ব্রায়ান ক্রাসেনস্টেইন নামের এক ব্যবহারকারী ট্রাম্পের পেছনের দিকের পোশাকের আকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার পোস্টের পরপরই মন্তব্যের ঝড় ওঠে। ট্রাম্পের সমর্থকদের অনেকে এমন মন্তব্যের সমালোচনা করেন এবং প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত শারীরিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করাকে অশোভন বলে মন্তব্য করেন।   অন্যদিকে, কিছু ব্যবহারকারী ছবিতে দেখা আকৃতিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে দাবি করেন। কেউ কেউ সরাসরি ‘ডায়াপার’ ব্যবহারের প্রসঙ্গ তোলেন। তবে এসব মন্তব্য মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুমান ও ব্যঙ্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কোনো চিকিৎসা নথি, সরকারি বিবৃতি বা নির্ভরযোগ্য সূত্র এসব দাবিকে সমর্থন করেনি।   ট্রাম্পকে ঘিরে এমন গুঞ্জন অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের এপ্রিলেও তাঁর ‘৬০ মিনিটস’ সাক্ষাৎকারের পর একই ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছিল। সিবিএসের অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নোরাহ ও’ডনেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ট্রাম্পের স্যুটের পেছনের দিকে একটি ফোলা অংশ দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন কিছু দর্শক। পরে সেই দৃশ্যের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে সেটিকে প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার বলে অনুমান করেন।   তবে ওই সময়ও দাবিটির পক্ষে কোনো যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ পোশাকের ভাঁজ, স্যুটের কাটিং, শরীরের ভঙ্গি কিংবা নিরাপত্তা সরঞ্জামের মতো বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণের কথা বলেন। অর্থাৎ একটি ছবিতে দেখা আকৃতি থেকেই ট্রাম্পের স্বাস্থ্য বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।   মে মাসে আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারিতে মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের অংশগ্রহণের ছবিকে ঘিরেও একই ধরনের আলোচনা হয়েছিল। তাঁর যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা মার্গো মার্টিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশ করার পর কিছু ব্যবহারকারী ট্রাম্পের স্যুটের আকৃতি নিয়ে মন্তব্য করেন এবং আবারও ডায়াপার ব্যবহারের দাবি তোলেন। কিন্তু সেই দাবিরও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।   জুলাই মাসেও একই ধরনের গুঞ্জন ছড়ায়। ট্রাম্পের সহযোগী নাটালি হার্পকে একটি বড় কালো ব্যাগ হাতে তাঁর পেছনে দেখা যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারী সেটিকে কথিত ‘ডায়াপার ব্যাগ’ বলে দাবি করেন। পরে এসব পোস্ট নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও ট্রাম্পের ডায়াপার ব্যবহারের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি হার্প যে কোনো ধরনের চিকিৎসা বা পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছেন, এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।   ট্রাম্পকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া এসব গুঞ্জনের পেছনে মূলত ছবি ও ভিডিওর নির্দিষ্ট কিছু অংশকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীদের অনুমান কাজ করছে। বিশেষ করে স্যুট পরা অবস্থায় তাঁর বসা বা হাঁটার সময় পোশাকের আকৃতি নিয়ে নানা ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো ছবির দৃশ্যমান আকৃতি থেকে চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি নয়।   এ ধরনের গুঞ্জন নিয়ে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য সম্পর্কেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়েছে। তবে চলতি বছরের এপ্রিল ও জুলাইয়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার ব্যবহারের অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি বা যাচাই করা চিকিৎসা প্রমাণ নেই।   সম্প্রতি জীবনীকার মাইকেল উলফও ট্রাম্পের ডায়াপার ব্যবহারের দীর্ঘদিনের গুঞ্জন নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাকে প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়, কিন্তু তিনি এমন দাবির কোনো ভিত্তি দেখেননি। একই সঙ্গে ট্রাম্পের যোগাযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে উলফের বক্তব্য ও তার বিশ্বাসযোগ্যতার সমালোচনা করা হয়েছে।   ফলে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ছবিকে ঘিরে আলোচনা থাকলেও ট্রাম্প সত্যিই ডায়াপার ব্যবহার করছেন কি না, তা নিশ্চিত করার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্য ও অনুমানকে তাই প্রমাণিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয়ের পর আবদুল এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে সামাজিক মাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী পোস্টের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগান প্রাইমারিতে জয়ের পর সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়িদের বিরুদ্ধে ২০ গুণ বেড়েছে মুসলিমবিদ্বেষী পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিক নির্বাচনে বিজয়ের পর আবদুল এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে সামাজিক মাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী বিদ্বেষমূলক প্রচারণা প্রায় ২০ গুণ বেড়েছে বলে এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে।   ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (CSOH)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৫৫টি ইসলামবিদ্বেষী পোস্টে এল-সায়েদের নাম উল্লেখ করা হলেও ৪ থেকে ১০ আগস্টের মধ্যে সেই সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৯৯টিতে পৌঁছে। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ ধরনের পোস্টের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৮৯৫ শতাংশ বেড়েছে।   গবেষণায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে মোট ৩৮ হাজার ২৮০টি ইসলামবিদ্বেষী পোস্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ৪ থেকে ১০ আগস্টের সাত দিনেই করা হয়েছে প্রায় ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ পোস্ট। সবচেয়ে বেশি পোস্ট করা হয় ৫ আগস্ট, সেদিন একদিনেই ৬ হাজার ৯২৩টি পোস্ট প্রকাশিত হয়।   একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য ছড়ানো ৪ লাখ ৯ হাজার ৬৪০টি পোস্টও পর্যবেক্ষণ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। গ্রীষ্মকালজুড়ে এক দিনে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৮৩টি এমন পোস্টও করা হয় ৫ আগস্ট।   গবেষণা অনুযায়ী, বিদ্বেষমূলক প্রচারণার বড় অংশজুড়ে এল-সায়েদকে ভিত্তিহীনভাবে "ইসলামি জিহাদি" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং তাকে হামাস, হিজবুল্লাহ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে জড়িয়ে নানা দাবি করা হয়েছে। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামী আইন চালু করতে চান, মুসলিম সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক অনুদানকে "সন্ত্রাসে অর্থায়ন" হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টি তথাকথিত "ইসলামপন্থী ও কমিউনিস্টদের দখলে চলে যাচ্ছে" এমন ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যও ছড়ানো হয়েছে।   কিছু পোস্টে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ টেনে এল-সায়েদকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। আবার কিছু পোস্টে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে মুসলিমদের ব্যাপকভাবে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।   গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, এই প্রচারণার ধরন অনেকটাই নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে গত বছর মুসলিম প্রার্থী জোহরান মামদানির সফল প্রচারণার সময় দেখা ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের সঙ্গে মিল রয়েছে। কোনো মুসলিম প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে গেলে বা জয়ী হলে একই ধরনের বিদ্বেষমূলক ভাষা ও অভিযোগ বারবার সামনে আসে।   আবদুল এল-সায়েদ মিশিগানের সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তিনি কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন। স্টিভেন্সের পক্ষে প্রভাবশালী লবিং সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (AIPAC) ৩ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল বলে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে।   আগামী নভেম্বরে অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের শূন্য আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন এল-সায়েদ। ডেমোক্র্যাটদের জন্য এই আসনটি সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   নির্বাচনী প্রচারণায় এল-সায়েদ জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা (মেডিকেয়ার ফর অল), রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব কমানো এবং ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা পুনর্বিবেচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।   সম্প্রতি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি রাজনীতি থেকে অর্থের প্রভাব কমাতে চাই, মানুষের পকেটে অর্থ ফেরাতে চাই এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই।" একই সাক্ষাৎকারে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সমালোচনাকে দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা বলে উল্লেখ করেন।   অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এল-সায়েদকে "র‌্যাডিক্যাল লেফট সোশ্যালিস্ট", "কমিউনিস্ট" এবং ইহুদি ও ইসরায়েলবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যদিও এক নির্বাচনী বিতর্কে এল-সায়েদ নিজেকে সমাজতন্ত্রী নন উল্লেখ করে বলেন, "আমি সমাজতন্ত্রী নই। আমি এমন একজন পুঁজিবাদী, যিনি পুঁজিবাদ কীভাবে কাজ করে তা বোঝেন।"   গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের এক গোলটেবিল বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ব্যঙ্গাত্মকভাবে তাকে "প্রেসিডেন্ট আবদুল এল-সায়েদ" বলে উল্লেখ করেন।   স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ডেমোক্রেসি নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এল-সায়েদ বলেন, তিনি প্রথম হওয়ার বিষয়টির চেয়ে নিজের অঙ্গরাজ্যের জন্য একজন কার্যকর সিনেটর হতে চান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি উন্মুক্ত, উদার ও বহুত্ববাদী দেশ, আর সেই মূল্যবোধই তিনি প্রতিনিধিত্ব করতে চান।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর কর নিয়ে নিউইয়র্কের মেয়র ও গভর্নরের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
হোকুলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন মামদানি? আদালতে স্থগিত নিউইয়র্কের বিতর্কিত ‘পিয়ে-আ-তের’ কর

নিউইয়র্ক সিটির বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর আরোপিত বিতর্কিত ‘পিয়ে-আ-তের’ (Pied-à-terre) কর বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন আদালত। এর জেরে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি গভর্নর হোকুলের পুনর্নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।   মঙ্গলবার প্রকাশিত নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ওয়েন ওজি সোমবার কর বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই করটি নিয়ে রাজ্য সরকার ও সিটি হলের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   বিতর্কিত এই করের লক্ষ্য নিউইয়র্ক সিটিতে থাকা উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় আবাসন বা বিলাসবহুল বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা। চলতি বছরের মে মাসে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা রাজ্য বাজেটের অংশ হিসেবে করটির অনুমোদন দেন। এটি ছিল মেয়র মামদানি এবং তার সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর একটি।   তবে কর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পরপরই একাধিক জটিলতা সামনে আসে। এরপর আদালতের স্থগিতাদেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।   এ অবস্থায় গভর্নর হোকুলের কার্যালয় জানিয়েছে, করটির বাস্তবায়নের দায় নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের। গভর্নরের মুখপাত্র জেনিফার গুডম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, এই মামলাটি কর বাস্তবায়নের প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে, যা আদালত এবং সিটি প্রশাসনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। তবে গভর্নর এখনও মনে করেন, যারা নিউইয়র্ক সিটিতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের দ্বিতীয় বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখেন, তারা ন্যায্য হারে কর দেওয়ারও সামর্থ্য রাখেন।   রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন গভর্নর নির্বাচন সামনে রেখে হোকুল এই বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চাইছেন। ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, নির্বাচনের আগে হোকুলের জন্য ‘কর বাড়ানো ও অতিরিক্ত ব্যয়ের’ ভাবমূর্তি মোটেই সুবিধাজনক নয়।   অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যান এই ইস্যুতে গভর্নরকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। কুইন্সে এক নির্বাচনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, হোকুল নিজের ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। তার দাবি, ডেমোক্রেটিক পার্টিতে এখন মামদানির প্রভাব বেড়েছে এবং গভর্নর তার চাওয়া অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।   এদিকে, আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করেছে মামদানির প্রশাসন। তাদের দাবি, স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হলে মামলার শুনানি চলাকালেও কর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।   তবে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী র‌্যান্ডি মাস্ত্রো অভিযোগ করেছেন, আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পরও সিটি প্রশাসন কর বাস্তবায়নের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আদালতে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘আইনের শাসনের পরিপন্থী’ বলে উল্লেখ করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের বর্তমান স্থগিতাদেশ শুধু তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক জটিলতাই নয়, ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক সিটির দীর্ঘদিনের জটিল সম্পত্তি কর ব্যবস্থার বড় ধরনের সংস্কারের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। কারণ, এই কর কার্যকর করতে হলে শহরের বিদ্যমান সম্পত্তি কর কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে হতে পারে, যা অতীতের কোনো মেয়রই বাস্তবে কার্যকর করতে পারেননি।   রিপাবলিকান নেতারাও এই সুযোগে গভর্নর হোকুলের সমালোচনা আরও জোরদার করেছেন। অঙ্গরাজ্যের কম্পট্রোলার পদপ্রার্থী জোসেফ হার্নান্দেজ বলেন, মামদানি নতুন কর চেয়েছিলেন, হোকুল সেটি অনুমোদন দিয়েছেন। এখন এর পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে নিউইয়র্কের বাড়ির মালিকদের।   স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মাইকেল ট্যানুসিসও দাবি করেন, এই করের বাস্তবায়ন যেমন সমস্যায় পড়েছে, তেমনি করটির প্রয়োজনীয়তাও প্রশ্নবিদ্ধ। তার ভাষায়, শুধু বাস্তবায়ন নয়, এমন করই থাকা উচিত নয়।   নিউইয়র্কে ‘পিয়ে-আ-তের’ কর নিয়ে আইনি লড়াই এখনও চলমান। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে করটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না এবং এটি গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক অবস্থানে কতটা প্রভাব ফেলবে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক ত্যাগের সময় নিরাপত্তার বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের হুমকিতে ট্রাকে লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প, প্রকাশ্যে ছিল ভিন্ন নাটক

ইরানের গুপ্তহত্যার হুমকির মুখে চরম গোপনীয়তা ও নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গত মাসে তুরস্ক ত্যাগ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণ কোনো প্রটোকল নয়, বরং একটি ক্যাটারিং ট্রাকে লুকিয়ে ছোট একটি সামরিক বিমানে করে তাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। এই পুরো সময়টিতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিয়মিত ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানেই ভ্রমণ করছেন। মূলত হামলাকারীদের বিভ্রান্ত করতেই এই প্রতারণামূলক ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল গ্রহণ করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই গোপন যাত্রার রোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।   ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ন্যাটোর একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে কাতারের উপহার দেওয়া একটি বিলাসবহুল ও নতুনভাবে সাজানো বোয়িং ৭৪৭ বিমানে চড়ে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় পৌঁছেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সম্মেলন শেষে তার ফেরার সময় দৃশ্যপট পাল্টে যায়। মার্কিন গোয়েন্দারা ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের ওপর হামলার গুরুতর একটি হুমকির তথ্য পান। এরপরই প্রেসিডেন্টকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে একটি নিখুঁত ও অভিনব ছক কষা হয়। আঙ্কারা ত্যাগ করার সময় ট্রাম্প প্রথমে সবার সামনে ক্যামেরার আলোতে একটি পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে ওঠেন। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি একটি পোস্ট দিয়ে জানান যে, পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ এবং ব্রিটেনের আরএএফ মিলডেনহল ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তিনি এই পুরোনো বিমানটি ব্যবহার করছেন। এটি ছিল মূলত হামলাকারীদের নজর অন্যদিকে ঘোরানোর একটি সুপরিকল্পিত টোপ।   বাস্তবে ক্যামেরার আড়ালে ঘটেছিল অন্য ঘটনা। পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পরপরই ট্রাম্পকে অত্যন্ত গোপনে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ছোট সি-৩২এ সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ট্রাম্পকে বহনকারী সেই সি-৩২এ বিমানটি দ্রুত যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে উড়াল দেয় এবং রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়। অন্যদিকে, মূল টোপ হিসেবে ব্যবহৃত পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটিতে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মীকে ওঠানো হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইট চলাকালীন প্রেস কেবিনের জানালার পর্দা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিকরা জানতেনই না যে তাদের বিমানে প্রেসিডেন্ট নেই। ট্রাম্পের বিমান পৌঁছানোর কয়েক মিনিট পর ওই ডিকয় বা টোপ হিসেবে ব্যবহৃত বিমানটি যুক্তরাজ্যে অবতরণ করে। পরবর্তীতে এক প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের শুধু এতটুকুই জানিয়েছিলেন যে, তারা একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ফ্লাইটে ছিলেন।   মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আকস্মিক ও গোপন ফ্লাইটের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চেউং সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনেক শত্রু রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করছে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রেসিডেন্টের জীবনের সুরক্ষায় এবং সেই হুমকিগুলো মোকাবিলায় হাতে থাকা সম্ভাব্য প্রতিটি উপায় ব্যবহার করে থাকে। তবে এই গোপন অভিযান ও ইরানের নির্দিষ্ট হুমকির বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহতের ঘটনার পর থেকে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলার শঙ্কা প্রকাশ করে আসছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ট্রাম্পের এই রোমহর্ষক গোপন সফর সেই চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকিরই একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
নিউ জার্সি সফরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা যায় সহকারী ন্যাটালি হার্পকে। ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রী মেলানিয়ার অনুপস্থিতিতে ট্রাম্পের সঙ্গে পুরো ছুটি কাটালেন তাঁর 'সবচেয়ে সুন্দরী' সহকারী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর একজন হয়ে উঠেছেন তার সহকারী নাতালি হার্প। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দীর্ঘ অনুপস্থিতির মাঝেই গত সপ্তাহান্তটি ট্রাম্পের সঙ্গেই কাটিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি নিউজার্সি থেকে ছেড়ে আসা এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় ৩৫ বছর বয়সী এই নারী কর্মকর্তার হাতে একটি বিশাল আকারের রহস্যময় লাল ব্যাগ দেখা যায়, যা নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চা শুরু হয়েছে।   গত সপ্তাহান্তে নিউজার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্পের ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে সার্বক্ষণিক তার পাশে ছিলেন নাতালি। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প যখন স্বামীর পাশ থেকে অনেকটাই দূরে এবং তাদের দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের ছায়াসঙ্গী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এই নারী। মরিসটাউন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দর থেকে ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা পড়েন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ এই সহকারী।   প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, গলফ কোর্সে ট্রাম্পের ঠিক পেছনেই একটি গলফ কার্ট চালাচ্ছেন নাতালি। তার মাথায় ছিল ‘ট্রাম্প’ লেখা বেসবল ক্যাপ। মুখে হাসির পাশাপাশি তার হাতের সেই বিশাল লাল ব্যাগটি সবার নজর কাড়ে, যার ভেতরে কী ছিল তা এখনো অজানা। এদিকে, বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যখন চরম উত্তেজনা চলছে, তখন ট্রাম্পের এমন নির্ভার গলফ খেলা এবং সহকারীর এই উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, দেশে জিনিসপত্রের দাম এখনও চড়া, আশা করি গলফ খেলে তার মাথা খুলবে এবং সমস্যা সমাধানের কোনো পথ তিনি বের করবেন। আরেকজন নাতালির সার্বক্ষণিক উপস্থিতিকে 'ভীতিকর' বলে মন্তব্য করেছেন।   নাতালি হার্পের কাজের পরিধি ঠিক কী, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট করা নেই। তবে প্রশাসনে তিনি ট্রাম্পের অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত। গত সপ্তাহে আরেকটি সফরে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামার সময় তার হাতে অন্তত চারটি মোবাইল ফোন এবং দুটি ল্যাপটপ দেখা যায়। হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাকে ট্রাম্পের কাছাকাছি দেখা যায়। রক্ষণশীল ওয়েবসাইট থেকে খবর প্রিন্ট করা, গুগলে তথ্য খোঁজা এবং ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টের জন্য পোস্টের পরামর্শ দেওয়াই মূলত তার কাজ। এ কারণে অনেকেই তাকে ট্রাম্পের ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ বা মানব প্রিন্টার বলে ডাকেন।   তবে ট্রাম্পের সঙ্গে তার এই ঘনিষ্ঠতার পেছনে একটি আবেগঘন কারণ রয়েছে বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা। এর আগে নাতালির অস্থিমজ্জার ক্যানসার চিকিৎসায় একটি পরীক্ষামূলক ওষুধের অনুমোদন দিয়েছিলেন ট্রাম্প, যা তার জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছিল। ‘সার্চলাইট থেরাপি’-এর প্রতিষ্ঠাতা বেন মাশলিন জানান, যখন কোনো ব্যক্তি অন্য কারও জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখেন, তখন তাদের মধ্যকার সম্পর্ক ভিন্ন মাত্রা পায়। নাতালি হয়তো ট্রাম্পকে তার ‘রক্ষাকর্তা’ হিসেবে দেখেন।   তবে এই অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা নিয়ে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস এবং সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তারা নাতালিকে একটি সম্ভাব্য ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে দেখছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা একটি বই অনুযায়ী, নাতালি প্রায়ই ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জায়গাগুলোতে ছোট ছোট চিরকুট রেখে আসতেন। একটি চিরকুটে তিনি লিখেছিলেন, "আপনিই আমার কাছে সবকিছু।" এমন আচরণই নিরাপত্তারক্ষীদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   নাতালির ভাই প্রেস্টন হার্পও এই সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন। দ্য ডেইলি বিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাদের প্রয়াত বাবার সঙ্গে নাতালির সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। তিনি হয়তো ট্রাম্পের মাঝে সেই পিতৃস্নেহ খুঁজে পেয়েছেন। নিকারাগুয়ায় বসবাসরত ৩৮ বছর বয়সী প্রেস্টন আরও বলেন, ট্রাম্পের 'আমেরিকান এক্সেপশনালিজম' বা আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের আদর্শ নাতালিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে এবং তিনি সম্ভবত ট্রাম্পকে একজন আদর্শ পিতার আসনেই বসিয়েছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
রিপাবলিকান প্রাইমারিতে পরাজিত কংগ্রেস সদস্য অ্যান্ডি ওগলস। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েও প্রাইমারিতে হারলেন মুসলিমবিরোধী মন্তব্য করা অ্যান্ডি ওগলস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন থাকা সত্ত্বেও টেনেসির রিপাবলিকান প্রাইমারিতে পরাজিত হয়েছেন কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি ওগলস। ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনে টেনেসির পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে সাবেক অঙ্গরাজ্য কৃষি কমিশনার চার্লি হ্যাচারের কাছে প্রায় ৬ শতাংশ ব্যবধানে হেরে যান তিনি। মুসলিমদের নিয়ে তার বিতর্কিত মন্তব্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে কয়েক মাস ধরে সমালোচনার মুখে ছিলেন ওগলস।   ওগলস ২০২২ সালে প্রথমবার কংগ্রেসে নির্বাচিত হন এবং পরে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিতি পান। এবারের নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ওগলসকে সমর্থন করেন। এমনকি তার পক্ষে প্রচারণামূলক টেলিফোন সমাবেশেও অংশ নেন ট্রাম্প। কংগ্রেসের স্পিকার মাইক জনসনও ওগলসকে সমর্থন করেছিলেন।   তবে রিপাবলিকান ভোটারদের কাছে শেষ পর্যন্ত জয় পাননি ওগলস। তার প্রতিদ্বন্দ্বী চার্লি হ্যাচার টেনেসির সাবেক কৃষি কমিশনার। রাজ্যের গভর্নর বিল লিসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা হ্যাচারকে সমর্থন করেছিলেন।   ওগলসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিতর্কগুলোর একটি ছিল মুসলিমদের নিয়ে তার মন্তব্য। চলতি বছরের ৯ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, “Muslims don’t belong in American society. Pluralism is a lie.” অর্থাৎ, “মুসলিমরা আমেরিকান সমাজের অংশ নয়। বহুত্ববাদ একটি মিথ্যা।”   তার এই মন্তব্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। মুসলিম অধিকার সংগঠন, নাগরিক অধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারাও বক্তব্যটির নিন্দা জানান। তার নির্বাচনী এলাকাতেও বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়।   টেনেসির পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ফলে ওই এলাকার একজন নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্যের মুখে মুসলিমদের আমেরিকান সমাজে জায়গা নেই বলে মন্তব্য ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।   ওগলস এর আগেও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কয়েকটি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার বিভিন্ন বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়ে মার্চে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।   তার মন্তব্যের বিরুদ্ধে কংগ্রেসেও ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যায়। নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য শ্রী থানেদার ওগলসের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কারের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন।   তবে ওগলসের পরাজয়ের একমাত্র কারণ তার মুসলিমদের নিয়ে মন্তব্য ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। নির্বাচনী এলাকার নতুন সীমানা, প্রার্থীদের স্থানীয় রাজনৈতিক সমর্থন এবং রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাও নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   এই নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের জন্যও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ট্রাম্প প্রকাশ্যে সমর্থন করার পরও তার পছন্দের প্রার্থী নিজ দলের প্রাথমিক নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। তবে হ্যাচারও ট্রাম্পের নীতির সমর্থক হওয়ায় ওগলসের পরাজয়কে সরাসরি ট্রাম্পবিরোধী ভোট হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না।   অ্যান্ডি ওগলসের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে টেনেসির পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে গেলেন চার্লি হ্যাচার। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ডেমোক্র্যাট প্রার্থী চাজ মোল্ডারের সঙ্গে।   ওগলসের মুসলিমদের নিয়ে করা মন্তব্যের পর যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই নির্বাচনে এই পরাজয় যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমান নাগরিক অধিকার এবং রাজনৈতিক বহুত্ববাদ নিয়ে আলোচনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে নির্বাচনের ফলকে কোনো একটি বক্তব্যের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখার আগে স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অন্যান্য নির্বাচনী কারণও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
লাস ভেগাসে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উপস্থিতির ছবি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
লাস ভেগাসে ট্রাম্পের চুল নিয়ে নতুন করে তুমুল আলোচনা, সামাজিক মাধ্যমে ছড়াচ্ছে মিম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলের সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বুধবার লাস ভেগাসে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্পের চুল আগের তুলনায় বেশি ঘন ও ভলিউমযুক্ত দেখায়। তার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় নানা মন্তব্য, প্রশ্ন ও মিম।    লাস ভেগাসের ওই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তবে অনুষ্ঠানের ভিডিও ও ছবিতে তার চুলের চেহারা অনেকের নজর কাড়ে। সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পুরোনো ছবির সঙ্গে নতুন ছবির তুলনা করে দেখতে শুরু করেন। কেউ কেউ জানতে চান, চুলের এই পরিবর্তন কি নতুন কোনো হেয়ারস্টাইলের কারণে, নাকি অন্য কোনো পরিবর্তন হয়েছে।   এরপর থেকেই ট্রাম্প নতুন কোনো উইগ বা হেয়ারপিস ব্যবহার করছেন কি না, তা নিয়ে অনলাইনে নানা জল্পনা শুরু হয়। তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প নিজে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি এবং নতুন উইগ ব্যবহারের দাবির পক্ষে কোনো নিশ্চিত প্রমাণও প্রকাশ্যে আসেনি।    ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাস ভেগাসের বক্তব্যে ট্রাম্পের চুলকে আগের তুলনায় বেশি পূর্ণ ও কিছুটা ভিন্ন রঙের দেখাচ্ছিল। এই দৃশ্যমান পরিবর্তনই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার মূল কারণ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের হেয়ারস্টাইল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনমনে কৌতূহল রয়েছে।    সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে কেউ এটিকে নতুন হেয়ারস্টাইল বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ উইগ বা হেয়ারপিসের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এসবের পাশাপাশি ট্রাম্পের চুল নিয়ে নানা ধরনের মিমও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে সামাজিক মাধ্যমের এসব মন্তব্যকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নেওয়ার সুযোগ নেই।    ট্রাম্পের চুল নিয়ে আলোচনা অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। বহু বছর ধরেই তার স্বতন্ত্র হেয়ারস্টাইল যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমে আলোচিত হয়ে আসছে। ২০১১ সালের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই তার চুলের স্টাইল নিয়ে কথা বলেছিলেন। পরবর্তী বছরগুলোতেও বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও সামাজিক মাধ্যমে তার চুল নিয়ে নানা রসিকতা ও আলোচনা হয়েছে।   ২০১৮ সালে প্রবল বাতাসে ট্রাম্পের চুলের স্টাইল কিছুটা এলোমেলো হয়ে যাওয়ার একটি ভিডিওও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ঘটনার পরও তার চুল নিয়ে নতুন করে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল।   এবার লাস ভেগাসের উপস্থিতি সেই পুরোনো কৌতূহলকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। তবে চুলের ঘনত্ব বা চেহারায় পরিবর্তন দেখালেই সেটিকে উইগ, হেয়ারপিস বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কসমেটিক পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আলো, ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল, চুলের স্টাইলিং এবং মঞ্চের পরিবেশেও একজনের চুলকে ভিন্ন দেখাতে পারে।   ফলে আপাতত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, লাস ভেগাসে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উপস্থিতির পর তার চুলের চেহারা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়েছে এবং তা নিয়ে নানা মিম ছড়িয়েছে। কিন্তু তিনি নতুন কোনো উইগ বা হেয়ারপিস ব্যবহার করছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের পরিচিত নাচ ও অঙ্গভঙ্গি নিয়ে আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত
আমার নাচ আর অঙ্গভঙ্গি মেলানিয়ার একদম পছন্দ নয়:ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনী সমাবেশে তার নাচ এবং বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি প্রথম নারী মেলানিয়া ট্রাম্পের পছন্দ নয়। তার ভাষায়, মেলানিয়া মনে করেন এসব আচরণ একজন প্রেসিডেন্টের ভাবমূর্তির সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই নয়।   নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার নেভাদার লাস ভেগাসে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প ব্যক্তিগত এই কথোপকথনের কথা তুলে ধরেন। সমাবেশে তিনি বলেন, নারী ক্রীড়ায় ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি যে ওজন উত্তোলনের ভঙ্গি করেন, সেটি মেলানিয়ার একদম পছন্দ নয়।   ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, "আমি যখন ওজন উত্তোলনের ভঙ্গি করি, মেলানিয়া বলেন এটি প্রেসিডেন্টসুলভ নয়। আমি তাকে বলেছি, হয়তো এটি প্রেসিডেন্টসুলভ নয়, কিন্তু আমি বড় ব্যবধানে নির্বাচন জিতেছি।" বক্তৃতার সময় তিনি সেই পরিচিত অঙ্গভঙ্গিও করে দেখান।   এটি প্রথম নয় যে ট্রাম্প প্রকাশ্যে মেলানিয়ার এমন মন্তব্যের কথা জানালেন। এর আগেও তিনি একাধিকবার বলেছেন, তার নির্বাচনী সমাবেশের নাচ কিংবা মঞ্চে করা বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি নিয়ে মেলানিয়ার আপত্তি রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মেলানিয়াকে "অত্যন্ত মার্জিত রুচির মানুষ" বলেও উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশের অন্যতম পরিচিত অংশ হলো বক্তব্য শেষে জনপ্রিয় গান 'ওয়াই.এম.সি.এ.'-এর (Y.M.C.A.) তালে তার নাচ। গত কয়েক বছরে এটি তার সমর্থকদের কাছে এক ধরনের নিয়মিত রাজনৈতিক প্রতীক হয়ে উঠেছে।   চলতি বছরের জানুয়ারিতে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছিলেন, মেলানিয়া তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, "তুমি কি কল্পনা করতে পারো, সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট এভাবে নাচতেন?" ২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া রিপাবলিকান পার্টির এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প একই ধরনের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, মেলানিয়া তাকে বলেছিলেন, "এটা প্রেসিডেন্টসুলভ নয়।"   জবাবে তিনি নাকি বলেছিলেন, "কিন্তু মানুষ এটা পছন্দ করে।" ট্রাম্পের দাবি, সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকেরা প্রায়ই তাকে "নাচুন, নাচুন" বলে উৎসাহিত করেন। ট্রাম্প আরও বলেন, শুধু নাচ নয়, নারী ক্রীড়ায় ট্রান্সজেন্ডার অংশগ্রহণ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তার অভিনয়ধর্মী অঙ্গভঙ্গিও মেলানিয়ার ভালো লাগে না। জানুয়ারিতে তিনি স্মরণ করেন, মেলানিয়া তাকে বলেছিলেন, "প্রিয়, দয়া করে ওজন তোলার ভঙ্গিটা কোরো না। এটা খুবই খারাপ দেখায়।"   ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তখনও তিনি একই উত্তর দিয়েছিলেন "কিন্তু আমি তো প্রেসিডেন্ট হয়েছি।" এছাড়া অতীতেও ট্রাম্প বলেছেন, টেলিভিশনে তার সাক্ষাৎকার দেখার পর মেলানিয়া মাঝে মাঝে তার উপস্থাপনা বা ক্যামেরায় উপস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। একবার তিনি নাকি বলেছিলেন, "তোমাকে ভালো লাগছিল না, আলোটা খুব বেশি ছিল।"   যদিও মেলানিয়া ট্রাম্প সাধারণত ব্যক্তিগত এসব কথোপকথন নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন না, তবু ট্রাম্প বিভিন্ন সমাবেশে প্রায়ই তাকে এমন একজন হিসেবে তুলে ধরেন, যিনি তার জনসমক্ষে উপস্থিতি ও উপস্থাপনা নিয়ে পরামর্শ দেন।   তবে স্ত্রী আপত্তি জানালেও ট্রাম্প তার পরিচিত নাচ ও অঙ্গভঙ্গি চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দাবি, সমর্থকেরা এসব মুহূর্ত উপভোগ করেন এবং নির্বাচনী সমাবেশে এগুলো দেখার প্রত্যাশা নিয়েই আসেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ ও তার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে ডেমোক্র্যাট মুসলিম প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের স্ত্রী কে? জানুন তার পরিবার ও রাজনৈতিক পথচলা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রগতিশীল রাজনীতিক আবদুল এল-সাইয়েদ। দলীয় প্রাইমারিতে অল্প ব্যবধানে জয়ের পর নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হতে যাচ্ছে।   নিউইয়র্ক টাইমসের ভোটের তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে এল-সাইয়েদ মধ্যপন্থী কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সকে এক শতাংশেরও কম ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন। এই রাজনৈতিক সাফল্যের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার।   এল-সাইয়েদের নির্বাচনী প্রচারণার ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তার স্ত্রী ডা. সারা জুকাকু একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। দুজনের পরিচয় হয়েছিল ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে পড়াশোনার সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংবাদপত্র 'দ্য মিশিগান ডেইলি'-তে ২০০৬ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে।   সেই সময় সারা জুকাকু জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে পড়ার সময়ই তাদের বাগদান সম্পন্ন হয়। একই প্রতিবেদনে আবদুল এল-সাইয়েদ বলেছিলেন, ইসলাম ধর্মের শিক্ষা তাকে অল্প বয়সেই বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করেছিল। তার ভাষায়, "আমি ভাবতাম, একজন মানুষের সঙ্গেই আমার দেখা হবে এবং তাকেই আমি বিয়ে করব। আমার কাছে এটিই একটি সম্পর্কের সবচেয়ে নির্মল রূপ।"   নির্বাচনী প্রচারণার বিভিন্ন ভিডিওতেও সারাকে দেখা গেছে। একটি ভিডিওতে তিনি সন্তান জন্মদানের সময় জটিলতার মুখে নিজের শ্রমিক ইউনিয়নের সহায়তার কথা তুলে ধরেন। সে সময় তিনি চিকিৎসক হিসেবে রেসিডেন্সি করছিলেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন না হওয়া পর্যন্ত অনেকেই ইউনিয়নের গুরুত্ব বোঝেন না, কিন্তু কঠিন সময়ে সেই সহায়তা তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।   আবদুল এল-সাইয়েদ তার লেখা 'হিলিং পলিটিক্স: আ ডক্টরস জার্নি ইনটু দ্য হার্ট অব আওয়ার পলিটিক্যাল এপিডেমিক' বইতেও স্ত্রী সম্পর্কে লিখেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, সারার বাবা-মা ভারতের একটি গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেছিলেন। স্ত্রীর আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করে তিনি লেখেন, জীবনে নিজের পরিচয় খুঁজে পেতে তাকে সংগ্রাম করতে হয়েছে, কিন্তু সারা সবসময় আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তার মতে, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়া সারার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে দারুণভাবে মানানসই।   মাদার্স ডে উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এল-সাইয়েদ সারাকে "আমার সবচেয়ে বড় ভরসা এবং আমাদের দুই কন্যার অসাধারণ মা" বলে উল্লেখ করেন। দম্পতির দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। তাদের নাম এমালি (Emmalee) ও সেরিন (Serene)।   এল-সাইয়েদের পারিবারিক শিকড়ও বৈচিত্র্যময়। তার প্রচারণা শিবিরের তথ্য অনুযায়ী, তার বাবা মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ মিশর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন। তিনি বাবার পাশাপাশি সৎমা জ্যাকির সঙ্গেও বেড়ে উঠেছেন, যার পরিবারের শিকড় মিশিগানের গ্রাটিয়ট কাউন্টিতে। অন্যদিকে 'আরব আমেরিকা'র তথ্য অনুযায়ী, তার মা ডা. ফাত্তেন এলকোমি মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে নার্স প্র্যাকটিশনার হিসেবে কর্মরত।   এদিকে নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান নেতা ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে।   ইপিক-এমআরএ পরিচালিত এক জরিপে রজার্স ৪৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এল-সাইয়েদের (৪৩ শতাংশ) চেয়ে তিন পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। তবে মিচেল রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশনসের আরেকটি জরিপে দুজনই ৪৫ শতাংশ করে সমর্থন পেয়েছেন। অন্যদিকে গ্লেনগারিফ গ্রুপের এক জরিপে রজার্স ৪৯ শতাংশ এবং এল-সাইয়েদ ৩৯ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, মিশিগান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ 'ব্যাটলগ্রাউন্ড' অঙ্গরাজ্য। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প অল্প ব্যবধানে রাজ্যটিতে জয় পান। ফলে এখানে ডেমোক্র্যাটদের জয় নিশ্চিত করতে শুধু দলীয় ভোটার নয়, স্বতন্ত্র ভোটারদেরও সমর্থন অর্জন করতে হবে। সেই দিক থেকে আবদুল এল-সাইয়েদের প্রার্থিতা প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষাও হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
নিউ জার্সিতে ভোটার নিবন্ধন ত্রুটি নিয়ে চলছে স্বাধীন তদন্ত। ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সির ভোটার নিবন্ধন ত্রুটি ভোট জালিয়াতির নয়, অভিবাসীবিরোধী রাজনীতির প্রতিফলন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জনের ভুল ভোটার নিবন্ধনের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। তবে এ ঘটনাকে ভোট জালিয়াতির প্রমাণ হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছেন শ্রমিক নেতা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অভিবাসন ও ভোটাধিকারবিষয়ক গবেষক প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনা। তার মতে, এটি কোনো পরিকল্পিত ভোট জালিয়াতি নয়; বরং সরকারি সফটওয়্যারের ত্রুটির ফল, যা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।   নিজের মতামতমূলক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, নিউ জার্সির মোটর ভেহিকেল কমিশনের (MVC) একটি পুরোনো সফটওয়্যার সমস্যার কারণে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জন ব্যক্তি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হন, যদিও তারা আবেদন করার সময় স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যক্তি কোনো তথ্য গোপন করেননি কিংবা মিথ্যা তথ্য দেননি। বরং সরকারি ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই তাদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়। পরে গভর্নর মিকি শেরিল বিষয়টি জানতে পেরে তা প্রকাশ করেন এবং সংশোধনের উদ্যোগ নেন।   প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনা, যিনি নিজেও একজন স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, লেখায় নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পেতে তার পরিবারকে বছরের পর বছর আইন মেনে চলতে হয়েছে, কর পরিশোধ করতে হয়েছে, নাগরিকত্ব পরীক্ষা ও ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। তাই নতুন অভিবাসীরা ভোটাধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন এবং আইন ভঙ্গের ঝুঁকি নিতে চান না।   তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসীদের ভোট জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। অথচ বর্তমান ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সেই দাবি সমর্থন করে না।   তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিউ জার্সিতে বর্তমানে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬৭ লাখ। ভুলবশত নিবন্ধিত ৬ হাজার ৬০০ জন মোট ভোটারের ০.০১ শতাংশেরও কম। তাদের মধ্যে মাত্র ৪০০ জন ভোট দিয়েছেন, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনে পড়া ৪৩ লাখ ভোটের ০.০০৯ শতাংশেরও কম।   কাম্পোস-মেদিনার মতে, এসব পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখায় যে ঘটনাটি ব্যাপক ভোট জালিয়াতির প্রমাণ নয়। বরং এটি একটি প্রশাসনিক ত্রুটি, যা দ্রুত শনাক্ত ও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   তিনি গভর্নর শেরিলের প্রশংসা করে বলেন, একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে তিনি বিষয়টি গোপন না করে প্রকাশ করেছেন, তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ভুলভাবে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন।   এ ঘটনায় একটি স্বাধীন তদন্ত শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তদন্তে কীভাবে সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সুপারিশ দেওয়া হবে।   প্রসঙ্গত, এই প্রতিবেদনটি প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনার একটি মতামতমূলক নিবন্ধের ভিত্তিতে তৈরি। এতে প্রকাশিত রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও মতামত তার ব্যক্তিগত অবস্থান, যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক ফেডারেল বিচারক। ছবি: সংগৃহীত
বিচারকদের কড়া সমালোচনার মুখে ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ, প্রশ্ন সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ফেডারেল বিচারকদের একটি অংশ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগের (ডিওজে) আইনজীবীদের আচরণ ও আদালতে দেওয়া তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছেন। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন মামলায় সরকারের আইনজীবীরা এমন আচরণ করেছেন, যা আদালতের ভাষায় "অবৈধ", "অনৈতিক", "অশোভন" বা বিভ্রান্তিকর। এর ফলে সরকারের বক্তব্যকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্বাস করার দীর্ঘদিনের বিচারিক নীতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে শত শত মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৪০টিরও বেশি মামলায় বিচারকেরা সরাসরি সরকারের প্রতি প্রচলিত বিচারিক আস্থার নীতি বা "প্রিজাম্পশন অব রেগুলারিটি" নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই নীতির অর্থ হলো, আদালত সাধারণভাবে ধরে নেয় যে সরকারি কর্মকর্তারা আইন ও নীতিমালা মেনেই দায়িত্ব পালন করেছেন, যদি না তার বিপরীত প্রমাণ পাওয়া যায়।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিচারকদের সমালোচনার বড় অংশই অভিবাসন অভিযান, ব্যাপক বহিষ্কার, সরকারি কর্মী ছাঁটাই এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য নীতিগত পদক্ষেপসংক্রান্ত মামলাগুলোকে ঘিরে। অনেক বিচারক মন্তব্য করেছেন, সরকারের আইনজীবীদের বক্তব্য এখন আর আগের মতো বিনা প্রশ্নে গ্রহণ করা যাচ্ছে না।   রোড আইল্যান্ডে ট্রাম্প মনোনীত ফেডারেল বিচারক মেরি ম্যাকএলরয় একটি মামলায় অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগ তথ্য গোপন করেছে এবং আদালতের কাছে ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছে। হাসপাতালের বিরুদ্ধে তদন্তে সংবেদনশীল চিকিৎসা নথি সংগ্রহের জন্য সরকারের কৌশল নিয়ে তিনি কড়া ভাষায় প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, বিচার বিভাগের প্রতি যে আস্থা এতদিন ছিল, তা এই মামলায় আর বজায় নেই।   নিউ জার্সির ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টিন ও'হার্ন এক অভিবাসন মামলায় মন্তব্য করেন, ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা শপথ নিয়ে তথ্য না দিলে তিনি আর সরকারের বক্তব্য অন্ধভাবে গ্রহণ করবেন না। তার অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এক আটক ব্যক্তিকে অন্য একটি কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছিল।   মিনেসোটার একটি মামলায় বিচারক প্যাট্রিক শিল্টজও সরকারের পদক্ষেপকে "ভিত্তিহীন" বলে সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি বা চাপ সৃষ্টি করতে ফৌজদারি তদন্তের ব্যবহার আইনের সুস্পষ্ট অপব্যবহার এবং অনৈতিক আচরণ। অন্যদিকে বিচার বিভাগ সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিভাগের মুখপাত্র কিয়ারস্টেন পেলস এক বিবৃতিতে বলেন, ডিওজের আইনজীবীরা সততা, পেশাদারিত্ব এবং আইনগত দায়িত্ব মেনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে বিভাগ একমত নয়।   প্রোপাবলিকার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন মামলায় বিচারকেরা সরকারের নথিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি অস্তিত্বহীন মামলার নজির, ভুল তারিখ, তথ্যগত অসঙ্গতি এবং বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনার উদাহরণও উল্লেখ করেছেন। এসব ঘটনার কারণে সরকারের প্রতি আদালতের আস্থায় ধীরে ধীরে ভাঙন তৈরি হচ্ছে বলে আইন বিশেষজ্ঞদের মত।   সাবেক ফেডারেল বিচারক জন ই. জোনস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি আগে দেখা যায়নি। তার মতে, বর্তমানে অনেক বিচারকই সরকারি কৌঁসুলিদের বক্তব্যকে আগের মতো নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছেন না।   আইন বিশেষজ্ঞ জেরেমি ফোগেলের ভাষায়, আদালতে যা ঘটছে তা এখন শুধু আইনি বিরোধ নয়, বরং সরকারের একটি শাখা আরেকটি শাখার বৈধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে ন্যাচারাল রিসোর্সেস ডিফেন্স কাউন্সিলের প্রধান আইনজীবী মিচ বার্নার্ড বলেন, বিচার বিভাগের বর্তমান আচরণের কারণে সরকার ভবিষ্যতে আরও বেশি মামলায় পরাজিত হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকিব খন্দকারের বিশেষ সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

আপনার সন্তানকে হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ডের মতো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন?

অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০