মিশিগান প্রাইমারিতে জয়ের পর সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়িদের বিরুদ্ধে ২০ গুণ বেড়েছে মুসলিমবিদ্বেষী পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিক নির্বাচনে বিজয়ের পর আবদুল এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে সামাজিক মাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী বিদ্বেষমূলক প্রচারণা প্রায় ২০ গুণ বেড়েছে বলে এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (CSOH)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৫৫টি ইসলামবিদ্বেষী পোস্টে এল-সায়েদের নাম উল্লেখ করা হলেও ৪ থেকে ১০ আগস্টের মধ্যে সেই সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৯৯টিতে পৌঁছে। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ ধরনের পোস্টের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৮৯৫ শতাংশ বেড়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে মোট ৩৮ হাজার ২৮০টি ইসলামবিদ্বেষী পোস্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ৪ থেকে ১০ আগস্টের সাত দিনেই করা হয়েছে প্রায় ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ পোস্ট। সবচেয়ে বেশি পোস্ট করা হয় ৫ আগস্ট, সেদিন একদিনেই ৬ হাজার ৯২৩টি পোস্ট প্রকাশিত হয়।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য ছড়ানো ৪ লাখ ৯ হাজার ৬৪০টি পোস্টও পর্যবেক্ষণ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। গ্রীষ্মকালজুড়ে এক দিনে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৮৩টি এমন পোস্টও করা হয় ৫ আগস্ট।
গবেষণা অনুযায়ী, বিদ্বেষমূলক প্রচারণার বড় অংশজুড়ে এল-সায়েদকে ভিত্তিহীনভাবে "ইসলামি জিহাদি" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং তাকে হামাস, হিজবুল্লাহ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে জড়িয়ে নানা দাবি করা হয়েছে। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামী আইন চালু করতে চান, মুসলিম সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক অনুদানকে "সন্ত্রাসে অর্থায়ন" হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টি তথাকথিত "ইসলামপন্থী ও কমিউনিস্টদের দখলে চলে যাচ্ছে" এমন ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যও ছড়ানো হয়েছে।
কিছু পোস্টে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ টেনে এল-সায়েদকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। আবার কিছু পোস্টে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে মুসলিমদের ব্যাপকভাবে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, এই প্রচারণার ধরন অনেকটাই নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে গত বছর মুসলিম প্রার্থী জোহরান মামদানির সফল প্রচারণার সময় দেখা ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের সঙ্গে মিল রয়েছে। কোনো মুসলিম প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে গেলে বা জয়ী হলে একই ধরনের বিদ্বেষমূলক ভাষা ও অভিযোগ বারবার সামনে আসে।
আবদুল এল-সায়েদ মিশিগানের সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তিনি কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন। স্টিভেন্সের পক্ষে প্রভাবশালী লবিং সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (AIPAC) ৩ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল বলে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে।
আগামী নভেম্বরে অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের শূন্য আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন এল-সায়েদ। ডেমোক্র্যাটদের জন্য এই আসনটি সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় এল-সায়েদ জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা (মেডিকেয়ার ফর অল), রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব কমানো এবং ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা পুনর্বিবেচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
সম্প্রতি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি রাজনীতি থেকে অর্থের প্রভাব কমাতে চাই, মানুষের পকেটে অর্থ ফেরাতে চাই এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই।" একই সাক্ষাৎকারে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সমালোচনাকে দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এল-সায়েদকে "র্যাডিক্যাল লেফট সোশ্যালিস্ট", "কমিউনিস্ট" এবং ইহুদি ও ইসরায়েলবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যদিও এক নির্বাচনী বিতর্কে এল-সায়েদ নিজেকে সমাজতন্ত্রী নন উল্লেখ করে বলেন, "আমি সমাজতন্ত্রী নই। আমি এমন একজন পুঁজিবাদী, যিনি পুঁজিবাদ কীভাবে কাজ করে তা বোঝেন।"
গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের এক গোলটেবিল বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ব্যঙ্গাত্মকভাবে তাকে "প্রেসিডেন্ট আবদুল এল-সায়েদ" বলে উল্লেখ করেন।
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ডেমোক্রেসি নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এল-সায়েদ বলেন, তিনি প্রথম হওয়ার বিষয়টির চেয়ে নিজের অঙ্গরাজ্যের জন্য একজন কার্যকর সিনেটর হতে চান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি উন্মুক্ত, উদার ও বহুত্ববাদী দেশ, আর সেই মূল্যবোধই তিনি প্রতিনিধিত্ব করতে চান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ঋণ আবারও বেড়েছে এবং তা সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট ক্রেডিট কার্ড ঋণ ২১ বিলিয়ন ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে মোট ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ঋণ গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে গড়া ১ দশমিক ২৮ ট্রিলিয়ন ডলারের সর্বোচ্চ রেকর্ডের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভোক্তাদের শক্তিশালী ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এই ঋণ বাড়ার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার ক্রেডিট কার্ডের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ঋণের পরিমাণই বাড়েনি, বরং অনেক পরিবার সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে যেখানে ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া থাকা ক্রেডিট কার্ড ঋণের হার ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ, তা ২০২৬ সালের শুরুতে বেড়ে ১২ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। নিউইয়র্ক ফেডের গবেষকেরা সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রে এখনও বিপুলসংখ্যক পরিবার মাসিক আয়ের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করে। এমন পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে একটি অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপই ঋণ পরিশোধে বিলম্বের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে গবেষকেরা আরও উল্লেখ করেন, বকেয়া ঋণের হার বৃদ্ধির পেছনে মূলত আগের জমে থাকা ঋণ দায়ী। নতুন করে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা ব্যাপক হারে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন, এমন চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। একই সময়ে অন্যান্য ভোক্তা ঋণের চিত্রেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে গাড়ি কেনার ঋণ এবং হোম ইকুইটি লাইন অব ক্রেডিট বেড়েছে। অন্যদিকে শিক্ষাঋণ ও আবাসন ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ আবাসন ঋণ, যার পরিমাণ ১৩ দশমিক ১২ ট্রিলিয়ন ডলার। এছাড়া গাড়ির ঋণ বেড়ে নতুন রেকর্ড ১ দশমিক ৭১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। শিক্ষাঋণের পরিমাণ ১ দশমিক ৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার, ক্রেডিট কার্ড ঋণ ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং হোম ইকুইটি লাইন অব ক্রেডিটের পরিমাণ ৪৫৯ বিলিয়ন ডলার। নিউইয়র্ক ফেড জানিয়েছে, এই প্রতিবেদনটি ইকুইফ্যাক্সের ক্রেডিট রিপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন পরিবারের পরিচয় গোপন রেখে সংগৃহীত প্রতিনিধিত্বমূলক তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্রেডিট কার্ডের ঋণ ও খেলাপি পরিশোধের হার ভবিষ্যতে ভোক্তাদের ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং সুদের হারের গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের জন্য ফ্রিতে ইংরেজি শেখার সুযোগ! সাথে চাকরির প্রশিক্ষণও
যুক্তরাষ্ট্রে বাবাহীন ছেলেদের পাশে দাঁড়াতে একটি স্কুলে ছুটে এলেন ৬০০ এর বেশি মানুষ
দুই সন্তানকে কাছে পেতেই পদ ছাড়ছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট
জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন একটি ‘বার্থ ট্যুরিজম প্রিভেনশন টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে পরিচালিত অভিযানে এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬০০টির বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে পররাষ্ট্র দপ্তর, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এবং অন্যান্য ফেডারেল সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অস্থায়ী ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্বের সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা রোধ করাই এই টাস্কফোর্সের মূল লক্ষ্য। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব কোনো পণ্য নয়, যা অভিবাসন আইনকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে অর্জন করা যাবে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, নতুন টাস্কফোর্স বিশ্বজুড়ে ভিসাধারীদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করছে। কোথাও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিসার অপব্যবহারের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভিসা বাতিল, জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের ৬০০টির বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা, কোনো ব্যক্তি ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেলে সাধারণত তার ভিসা বাতিল করা হয়। এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিস্তৃত আইনি ক্ষমতা রয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন সেই ক্ষমতা প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বকে কেন্দ্র করে একটি লাভজনক ব্যবসা গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের ডুলা, ধাত্রী, মাতৃত্বসেবা পরামর্শক বা স্বাস্থ্যসেবা পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্যাকেজ, ভিসা পরামর্শ এবং হাসপাতালের ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, এসব নেটওয়ার্কের কেউ কেউ চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি জাল করে, আবার কেউ ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করার কৌশল শেখায়। অনলাইন বিজ্ঞাপনে "স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব" এবং "সীমানাহীন ভবিষ্যৎ"–এর মতো বার্তা ব্যবহার করে গ্রাহক আকৃষ্ট করা হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে কয়েকটি উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। এক দম্পতি সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও ছুটিতে কেনাকাটার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দুই সন্তানের জন্ম দেন। দুটি পৃথক ভিসা আবেদনে তারা ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করেন এবং দ্বিতীয়বার আগের সন্তানের তথ্যও প্রকাশ করেননি। পরে তাদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। আরেক ঘটনায়, একটি বিদেশি সরকারের এক কর্মকর্তা সরকারি সফরের জন্য এক সপ্তাহের ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। কিন্তু তিনি তিন মাস অবস্থান করে সেখানে সন্তান জন্ম দেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তার ভিসাও বাতিল করা হয়। এ ছাড়া আরেক ভ্রমণকারী অরল্যান্ডোতে ছুটি কাটানোর কথা জানিয়ে ভিসা নিলেও পরে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পাঁচ দিনের মাথায় সন্তান জন্ম দেন। তদন্ত শেষে তার ভিসাও বাতিল করা হয়েছে বলে জানায় পররাষ্ট্র দপ্তর। পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করে বলেছে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন বা ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করেন, তারা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বা দেশটিতে প্রবেশের অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। একই সঙ্গে যারা এ ধরনের কার্যক্রমে সহায়তা করেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন এই টাস্কফোর্স গঠন সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করছেন অভিবাসনবিষয়ক বিশ্লেষকরা। তবে অভিবাসন অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো বলছে, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেন বৈধ ভ্রমণকারী বা গর্ভবতী নারীরা অযথা হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
মিশিগান প্রাইমারিতে জয়ের পর সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়িদের বিরুদ্ধে ২০ গুণ বেড়েছে মুসলিমবিদ্বেষী পোস্ট
ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করবেন কীভাবে? সিটিজেন, নন-সিটিজেন ও রিমোট চাকরিতে যেভাবে আবেদন করবেন
ভুয়া পরিচয়ে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে মর্মান্তিক এক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডে চার শিশু ও তাদের মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, পরিবারের সদস্যদের গুলি করে হত্যার পর বাবা নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (কেবিআই) এবং উইনফিল্ড পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ৫৩ বছর বয়সী রোনাল্ড উইলিয়ামস সিনিয়র নিজেই পুলিশে ফোন করেন। তিনি জানান, পরিবারের সবাইকে হত্যা করেছেন এবং এরপর নিজের জীবনও শেষ করতে যাচ্ছেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও বাড়ির ভেতর থেকে একটি গুলির শব্দ শোনা যায়। পরিস্থিতির ঝুঁকি বিবেচনায় কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে সরে গিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলেন এবং বিশেষায়িত সোয়াট (SWAT) দলের সহায়তা চান। সকাল প্রায় ১১টার দিকে সোয়াট সদস্যরা বাড়িতে প্রবেশ করে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী কেলি জর্জ এবং তার চার সন্তান। তাদের পরিচয় হলো ৯ বছর বয়সী ক্যারল উইলিয়ামস, ৭ বছর বয়সী রোনাল্ড উইলিয়ামস জুনিয়র, ৫ বছর বয়সী সারাহ উইলিয়ামস এবং ৩ বছর বয়সী কেলি ম্যাগি-উইলিয়ামস। এছাড়া রোনাল্ড উইলিয়ামস সিনিয়রের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। উইনফিল্ড পুলিশের প্রধান রবি ডিলং সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে রোনাল্ড উইলিয়ামসের অস্বাভাবিক ও আক্রমণাত্মক আচরণ সম্পর্কে একাধিক অভিযোগ পেয়েছিল পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে মানুষকে ধমক দেওয়া বা চিৎকার করার মতো ঘটনার তথ্যও তাদের কাছে ছিল। তিনি আরও জানান, এর আগে ওই এলাকার আশপাশে গুলির শব্দ শোনার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও গুলির উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ডিলং বলেন, আগের অভিযোগগুলো এমন পর্যায়ের ছিল না, যাতে এত বড় একটি ট্র্যাজেডির আশঙ্কা করা যায়। তার ভাষায়, "২০ বছরের বেশি সময়ের চাকরি জীবনে এর কাছাকাছিও কোনো ঘটনার মুখোমুখি হইনি।" কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন জানিয়েছে, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা প্রতিবেশী, স্বজন ও পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রোনাল্ড উইলিয়ামস সিনিয়র পূর্বে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। কানসাসের আদালতের নথিতে দেখা যায়, ১৯৯৯ সালে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে কেন্দ্র করে শিশু নির্যাতনের চেষ্টাসহ একাধিক অপরাধে তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন। এ কারণে তার নাম রাজ্যের যৌন অপরাধীর নিবন্ধন তালিকাতেও ছিল। এই ঘটনা ঘটল মাত্র দুই সপ্তাহ আগে মিশিগানে আরেকটি ভয়াবহ পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের পর। সে ঘটনায় এক ব্যক্তি তার স্ত্রী ও ছয় সন্তানকে গুলি করে হত্যা করার পর আগুন লাগিয়ে দেন বলে তদন্তে উঠে আসে। গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, কানসাসের এই ঘটনাসহ চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১৫টি গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অন্তত ৯টি ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন। অপরাধবিশেষজ্ঞরা এ ধরনের ঘটনাকে 'ফ্যামিলি অ্যানাইহিলেশন' বা পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন
নিউ জার্সিতে বাসা থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার
অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তার ১৫ কোটি ডলারের চুক্তি ফিরিয়ে দিল ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ আইন প্রতিষ্ঠান