- প্রচ্ছদ
- Topic
#যুক্তরাষ্ট্রেরসংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরে এক ভয়াবহ পারিবারিক গুলির ঘটনায় গর্ভবতী মেয়ে, দুই নাতি-নাতনি ও অন্য স্বজনসহ আটজন নি হ ত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিও মারা গেছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর বিকেলে একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারী ছিলেন নিহতদের মধ্যে সাতজনের স্বজন এবং এক নারীর বন্ধু ছিলেন অষ্টম ভুক্তভোগী। সব মিলিয়ে হামলাকারীসহ মৃ ত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাঞ্জেলিনা স্টোন নামে এক তরুণী, যিনি তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁর অনাগত সন্তানের নাম রাখা হয়েছিল কাইরি। এ ছাড়া তাঁর পাঁচ বছর বয়সী ছেলে ইসাইয়া এবং এক বছর বয়সী মেয়ে আমারিয়ানাও প্রাণ হারিয়েছে। পরিবার ও স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনাগত শিশুটির জন্ম হওয়ার কথা ছিল ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই। নিহতদের পরিচয় নিয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে সব তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের উদ্যোগে চালু করা অনুদান সংগ্রহের পাতায় কয়েকজনের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে লোরা রবার্টস ও টুইলা ট্যানারের নামও রয়েছে। তাঁদের দুজনই শিশুদের রক্ষায় এগিয়ে গিয়েছিলেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো এরি শহরের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৫টার কিছু আগে শহরের পেরি স্ট্রিটের একটি বাড়ির কাছে গুলির শব্দ শনাক্তকারী ব্যবস্থা থেকে সতর্কবার্তা পায় পুলিশ। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান কর্মকর্তারা। সেখানে বাড়ির বাইরে দুই নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। পরে বাড়ির ভেতরেও একাধিক ব্যক্তিকে নি হ ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ জানান, তদন্তকারীরা বাড়ির ভেতর থেকে গুলির শব্দ শোনার প্রমাণ পেয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পর দুই নারী বাড়িটির সামনে এসে দরজায় জোরে আঘাত করতে থাকেন। তাঁদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল, তাঁরা উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং ভেতরে কী ঘটছে, তা নিয়ে সাহায্য চাইছিলেন। তদন্তকারীদের হাতে থাকা ভিডিও ও অডিও ফুটেজে ঘটনার এই অংশ উঠে এসেছে বলে জানানো হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি বাড়ির বাইরে এসে দুই নারীর দিকে গুলি চালান। এরপর তিনি আবার বাড়ির ভেতরে চলে যান। পরে পুলিশ বাড়িতে প্রবেশ করে একাধিক মরদেহ উদ্ধার করে। নিরাপত্তার কারণে কর্মকর্তারা ড্রোন ও রোবট ব্যবহার করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সব ভুক্তভোগীর মৃ ত্যু হয়েছিল বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। শিশুদের বাঁচাতে এগিয়ে গিয়েছিলেন দুই নারী অনুদান সংগ্রহের পাতায় টুইলা ট্যানারকে স্মরণ করে বলা হয়েছে, ৯ অক্টোবর তিনি এক বন্ধুকে তাঁর পরিবারকে বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করার চেষ্টা করেছিলেন। সেই সময় তিনি নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অন্যদের সাহায্যে এগিয়ে যান। তাঁর বয়স ছিল ৫১ বছর। অন্যদিকে, ৩৭ বছর বয়সী লোরা রবার্টসকেও সাহসী ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন স্বজনেরা। তাঁর স্মরণে তৈরি অনুদান সংগ্রহের পাতায় বলা হয়েছে, অন্য একজনকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। লোরা পাঁচ সন্তানের মা ছিলেন এবং দীর্ঘদিনের সঙ্গী জেরেমির সঙ্গে তাঁর বাগদান হয়েছিল। পুলিশের তদন্তে ওই দুই নারীর ঘটনাস্থলে যাওয়ার কারণ এবং বাড়ির ভেতরে কী ঘটছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। তাঁদের ফোনসহ বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা করার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্বজনদের শোক ও তদন্ত নিহত ছোট্ট আমারিয়ানার বাবা জুলিয়াস উইন্ডহাম স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তাঁর মেয়েকে হারানোর শোক ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তিনি মেয়েটিকে নিজের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর শিশুগুলোর একজন হিসেবে বর্ণনা করেন। পরিবারের অন্য সদস্যরাও এই ঘটনার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক স্বজন বলেন, নিহত শিশুরা এমন পরিণতির যোগ্য ছিল না। পরিবারের সদস্যদের যথাযথ মর্যাদায় শেষ বিদায় জানাতে তাঁরা চেষ্টা করছেন। তাঁর মতে, এই ঘটনা দীর্ঘদিন এরি শহরের মানুষের স্মৃতিতে থেকে যাবে। এদিকে, হামলার কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশপ্রধান জানিয়েছেন, মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো বিষয় এর পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় প্রকাশের আগে জীবিত স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ ও তাঁদের অবহিত করার প্রক্রিয়া চলছিল। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার কারণ সম্পর্কে অনুমান না করার আহ্বানও জানানো হয়েছে। ঘটনার পর শহরটির বাসিন্দারা বাড়িটির বাইরে ফুল, মোমবাতি ও শিশুদের খেলনা রেখে নিহতদের স্মরণ করেন। স্থানীয় প্রশাসন শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। তদন্তকারীরা এখনো ঘটনার পূর্ণ বিবরণ, হামলার কারণ এবং ওই পরিবারের মধ্যে আগে কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় ডগলাস শহরের একটি বাড়ি থেকে পাঁচজনের গু লি বিদ্ধ দে হ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় শুক্রবার, ৯ অক্টোবর রাত ১১টা ৯ মিনিটের দিকে টাচটন উডস এলাকার রবিন লেনে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পাঁচজনকে গু লি বিদ্ধ অবস্থায় পায়। পরে তাঁদের সবার মৃ ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। শনিবার, ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত চলছে। ডগলাস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে গু লি চলার খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ওই বাড়িতে যান। সেখানে পাঁচজনকে গু লি বিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে পুলিশের প্রাথমিক বিবৃতিতে ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি, সম্ভাব্য উদ্দেশ্য কিংবা কোনো সন্দেহভাজনের পরিচয় জানানো হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডগলাস নাউয়ের প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হ ত্যা কাণ্ডের পর আ ত্ম হ ত্যা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি প্রথমে অন্য চারজনকে গু লি করেন এবং পরে নিজেকেও গু লি করেন। তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ না করা পর্যন্ত এই তথ্যকে প্রাথমিক প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীদের নাম ও বয়সও জানানো হয়নি। কফি কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ঘটনাটিকে একটি ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, যারা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি তারা সমবেদনা জানাচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীদের জন্যও সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট সবার জন্যই কঠিন ছিল। ডগলাস শহরটি জর্জিয়ার কফি কাউন্টিতে অবস্থিত। শহরটি ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলের প্রায় ১১৫ মাইল উত্তর-পশ্চিমে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর ২০২৫ সালের জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী, শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ১১ হাজার ৮৬৪। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে টানা তিন সপ্তাহান্তে একাধিক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বন্দুক হা মলা কিংবা একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর আগের সপ্তাহান্তে ভিয়েনা শহরে একটি হোমকামিং উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গু লি বর্ষণে দুজনের মৃ ত্যু হয় এবং আরও ৩৫ জন আহত হন। ডগলাস থেকে প্রায় ৮০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ভিয়েনার ওই ঘটনায় একটি আবাসিক এলাকার চার ব্লকজুড়ে চলা পার্টিতে ভোররাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে গু লি শুরু হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর জর্জিয়ার ম্যাকন শহরের ক্যারোলিন ক্রেটন পার্কে ১৮তম জন্মদিনের একটি অনুষ্ঠানে গু লি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে ১২ জন কিশোর আহত হয়। ওই ঘটনায় পাঁচজন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী একজনকেও প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। শুধু জর্জিয়াতেই নয়, শুক্রবার রাতে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরেও একটি বন্দুক হা মলায় নয়জনের মৃ ত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে দুজন শিশু ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে বন্দুক সহিংসতার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতার ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো ঘটনায় হা মলাকারীকে বাদ দিয়ে অন্তত চারজন গু লি বিদ্ধ হলে সেটিকে গণগুলিবর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়। আহত ও মৃ ত—উভয় ধরনের ভুক্তভোগীই এই সংজ্ঞার আওতায় পড়েন। ডগলাসের ঘটনায় পাঁচজনের মৃ ত্যু হওয়ায় এটি একাধিক প্রাণহানির গুরুতর ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডগলাস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলছে। শনিবার আরও তথ্য প্রকাশের প্রত্যাশা করা হলেও প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত নিহতদের পরিচয়, তাঁদের বয়স, ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও কফি কাউন্টি শেরিফের কর্মকর্তারা কাজ করেছেন। তদন্তকারীদের সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাড়ির ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল, নিহতদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক কী ছিল এবং গু লি বর্ষণের পেছনে কী কারণ কাজ করেছে, তা নিশ্চিত করা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সম্ভাব্য হ ত্যা কাণ্ডের পর আ ত্ম হ ত্যার যে বিবরণ এসেছে, সেটিও তদন্তের আনুষ্ঠানিক তথ্য দিয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। পুলিশের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার উদ্দেশ্য কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষ আরও তথ্য জানাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ার একটি হাইস্কুলের মেয়েদের লকার রুমে চারটি রেকর্ডিং ডিভাইস পাওয়ার ঘটনায় স্কুলের প্রিন্সিপালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তও শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত প্রিন্সিপালের নাম এরিক জেমস (৫৩)। তিনি ওয়েলসবার্গের ব্রুক হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলের মেয়েদের শরীরচর্চার লকার রুমে চারটি রেকর্ডিং ডিভাইস পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি ছিল আলাদা একটি লকার রুমে এবং আরেকটি স্কুলের ড্যান্স দলের সদস্যদের ব্যবহৃত ড্রেসিং এরিয়ায়। বুধবার শিক্ষার্থীদের ছুটি হওয়ার পর ব্রুক কাউন্টি স্কুলস কর্তৃপক্ষকে লকার রুমে রেকর্ডিং ডিভাইস স্থাপনের অভিযোগের বিষয়ে জানানো হয়। এরপর স্কুলের নিরাপত্তাকর্মী, কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় ডিভাইসগুলো ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেমসের বাড়ি থেকেও অতিরিক্ত কয়েকটি রেকর্ডিং ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেমসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে নর্দার্ন রিজিওনাল জেলে রাখা হয়েছে এবং তার জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ডলার। . তার বিরুদ্ধে দুটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে তারবার্তা, মৌখিক বা ইলেকট্রনিক যোগাযোগ গোপনে ধারণ করা বা ধারণের চেষ্টা এবং আবাসিক নয় এমন স্থাপনায় বেআইনিভাবে প্রবেশ। তদন্ত চলাকালে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্কুলের কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে ব্রুক কাউন্টি স্কুলস। স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা তাদের মৌলিক দায়িত্ব। এসব দায়িত্বের সঙ্গে আপস করে এমন কোনো আচরণ সহ্য করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেদের তদন্তও চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।