সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

লন্ডন

যুক্তরাজ্যে ফেরার পর লন্ডনে মালালার সঙ্গে ডিনারে অংশ নিলেন প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে ডিনারে মেগান মার্কেল, ছবি ভাইরাল

যুক্তরাজ্যে ফেরার পর লন্ডনে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দেখা গেল ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলকে। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী পাকিস্তানি শিক্ষা অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে ডিনারে অংশ নেন তিনি। লন্ডনের অভিজাত মেফেয়ার এলাকার পাঁচ তারকা হোটেল ক্ল্যারিজেসে তাঁদের একসঙ্গে সময় কাটানোর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন পর দুই পরিচিত ব্যক্তিত্বের এই সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেরও নজর কেড়েছে।   বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী মেগান মার্কেল এবং ২৯ বছর বয়সী মালালা ইউসুফজাইকে ক্ল্যারিজেস হোটেলের একটি রেস্টুরেন্টে একসঙ্গে রাতের খাবার খেতে দেখা যায়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন একটি টেবিলে মুখোমুখি বসে কথা বলছেন। তাঁদের পাশের টেবিলে বসা এক ব্যক্তি ভিডিওটি ধারণ করে অনলাইনে প্রকাশ করেন। পরে সেটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেগান মার্কেল সাদা রঙের পোশাক পরেছিলেন। অন্যদিকে মালালার পরনে ছিল হালকা বাদামি রঙের কোট। রাতের খাবারের সময় দুজনকে স্বাভাবিক ও আন্তরিকভাবে কথা বলতে দেখা যায়। তবে তাঁদের আলোচনার বিষয়বস্তু জানা যায়নি।   মেগান ও মালালার এই সাক্ষাৎ অবশ্য নতুন কোনো পরিচয়ের সূচনা নয়। এর আগেও নারী শিক্ষা ও মেয়েদের অধিকার নিয়ে একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা।   ২০২০ সালের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনলাইন আলোচনায় মালালার সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন মেগান মার্কেল ও তাঁর স্বামী প্রিন্স হ্যারি। করোনাভাইরাস মহামারির সময় অনুষ্ঠিত সেই আলোচনায় বিশ্বজুড়ে মেয়েদের শিক্ষার অধিকার এবং তাদের সামনে থাকা প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।   ওই আলোচনায় মেগান ও হ্যারি নিজেদের পারিবারিক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছিলেন। বিশেষ করে মহামারির সময় ঘরে থাকার ফলে সন্তান আর্চির বেড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন তাঁরা।   মালালা সে সময় জানিয়েছিলেন, মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে তাঁর ও মেগানের দৃষ্টিভঙ্গিতে মিল রয়েছে। শিক্ষার সুযোগ বাড়লে শুধু মেয়েরা নয়, পুরো সমাজ উপকৃত হয় বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।   ছয় বছর পর লন্ডনে তাঁদের আবার একসঙ্গে দেখা গেল। তবে এবারের সাক্ষাৎ কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির অংশ ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নতুন কোনো যৌথ উদ্যোগ বা প্রকল্প নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেছেন, এমন তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।   এদিকে মেগান মার্কেলের লন্ডনে উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে তাঁর সাম্প্রতিক যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার কারণে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম পিপলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট প্রিন্স হ্যারি ও তাঁদের দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি এবং প্রিন্সেস লিলিবেটকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরেন মেগান।   কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করছিলেন তাঁরা। বর্তমানে যুক্তরাজ্যেও সময় কাটাচ্ছেন এই দম্পতি। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে তাঁদের বাসভবনও রয়েছে।   ২০২০ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের নিয়মিত দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর মেগান ও হ্যারি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন। এরপর রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক এবং যুক্তরাজ্যে যাতায়াত নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা হয়েছে।   সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যে ফেরার পর মেগানকে তুলনামূলক কম প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। তবে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনদের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে সময় কাটানোর খবর প্রকাশিত হয়েছে।   গত ২১ সেপ্টেম্বর অক্সফোর্ডশায়ারে মার্কিন টেলিভিশন উপস্থাপক এলেন ডিজেনারেস এবং তাঁর স্ত্রী পোর্টিয়া ডি রসির সঙ্গে দেখা করেন মেগান। তাঁরা বারফোর্ডের কাছে একটি রেস্টুরেন্টে সময় কাটান বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়।   এরপর ২ অক্টোবর প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে কটসওল্ডস এলাকার ফকল্যান্ড আর্মস নামে একটি পাবেও তাঁকে দেখা যায়।   তবে লন্ডনে ফেরার পর মালালার সঙ্গে ডিনারের ঘটনাটিকেই তাঁর প্রথম প্রকাশ্যে আসা লন্ডন সফর হিসেবে উল্লেখ করেছে পেজ সিক্স ও পিপল।   অন্যদিকে মালালা ইউসুফজাই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। পাকিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে আন্দোলনের কারণে ২০১২ সালে তালেবানের হামলার শিকার হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য তাঁকে যুক্তরাজ্যে নেওয়া হয়েছিল।   পরে তিনি যুক্তরাজ্যেই পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। নারী শিক্ষা ও মানবাধিকারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান মালালা। তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ী হিসেবে পরিচিত।   বর্তমানে মালালা ফান্ডের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।   অন্যদিকে মেগান মার্কেলও বিভিন্ন সময়ে নারী অধিকার, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন। ফলে তাঁদের আগের পরিচয় এবং সামাজিক কাজের অভিন্ন ক্ষেত্রের কারণে এবারের সাক্ষাৎ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   তবে লন্ডনের ক্ল্যারিজেস হোটেলে তাঁদের সাক্ষাতের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   পেজ সিক্স, পিপল এবং ইউএস উইকলির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আপাতত এটি দুই পরিচিত ব্যক্তিত্বের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ বলেই মনে হচ্ছে। নতুন কোনো সহযোগিতা বা আনুষ্ঠানিক প্রকল্পের ঘোষণা আসেনি।   লন্ডনে মেগান মার্কেলের সাম্প্রতিক উপস্থিতি এবং মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে তাঁর পুনর্মিলন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে অতীতে তাঁদের যৌথ কাজের কারণে ভবিষ্যতে আবারও একসঙ্গে কোনো উদ্যোগে দেখা যাবে কি না, সে বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
স্কুলের ডিভাইস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার মুখে শিক্ষক
স্কুলের ডিভাইসে পর্ণো গ্রাফি দেখার অভিযোগে শিক্ষককে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করল কর্তৃপক্ষ

ইংল্যান্ডে স্কুলের কাজের ইমেইল অ্যাকাউন্টে পর্ণো গ্রাফি ও যৌ ন উপকরণ সংরক্ষণ এবং কর্মঘণ্টায় স্কুলের ডিভাইস ব্যবহার করে এসব ওয়েবসাইটে প্রবেশের ঘটনায় এক শিক্ষককে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষকতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   নিষিদ্ধ ওই শিক্ষকের নাম উইলিয়াম শ্যাপার। তার বয়স ৪৯ বছর। তিনি লন্ডনের এলথাম কলেজ জুনিয়র স্কুলে ২০০৩ সাল থেকে কাজ করছিলেন। স্কুলের ইন্টারনেট মনিটরিং ব্যবস্থায় অনুপযুক্ত কিছু উপকরণ শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।   তদন্তে দেখা যায়, শ্যাপার স্কুলের কাজের ডিভাইস ব্যবহার করে একাধিকবার পর্ণো গ্রাফিক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছিলেন। এসব ঘটনার কয়েকটি ঘটেছিল স্কুল চলাকালীন কর্মঘণ্টায়।   তদন্তে আরও জানা যায়, তার স্কুলের Outlook 365 অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের পর্ণো গ্রাফিক ও যৌ ন উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছিল।   বিষয়টি ধরা পড়ার পর শ্যাপার তার ব্রাউজারের ইন্টারনেট হিস্ট্রি ম্যানুয়ালি মুছে ফেলার চেষ্টা করেন। কীভাবে এসব তথ্য মুছে ফেলা যায়, সে বিষয়ে তিনি একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছিলেন বলেও তদন্তে উঠে আসে।   ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন শ্যাপার প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এ ধরনের কাজ করবেন না। তবে একই দিন সন্ধ্যায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তিনি আংশিকভাবে বিষয়টি স্বীকার করেন।   শ্যাপার দাবি করেছিলেন, তিনি এসব উপকরণ দেখার সময় কোনো শিশু তাকে দেখে ফেলেনি। পেশাগত আচরণবিষয়ক প্যানেলও এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত করেনি।   তবে প্যানেল মনে করে, কোনো শিক্ষার্থী সরাসরি বিষয়টি না দেখলেও স্কুলের ডিভাইস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে পর্ণো গ্রাফি ধরনের উপকরণে প্রবেশের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হয়।   প্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্যাপার স্কুলের ডিভাইস ব্যবহার করে অত্যন্ত অনুপযুক্ত উপকরণে প্রবেশ করেছিলেন। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে অসত্য তথ্যও দিয়েছিলেন। এসব কারণে তার আচরণ শিক্ষক পেশার প্রত্যাশিত মানদণ্ড থেকে গুরুতরভাবে বিচ্যুত হয়েছে বলে মনে করে প্যানেল।   প্যানেল তার আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য পেশাগত আচরণ’ হিসেবে বিবেচনা করে। তাদের মতে, স্কুলের ডিভাইস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে এ ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা পেশাগত দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   শ্যাপার প্যানেলের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে জানান, ওই সময় তিনি ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে প্যানেল মনে করেছে, তার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এই আচরণের সম্ভাব্য প্রভাবকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়নি।   এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এলথাম কলেজ জুনিয়র স্কুল তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। পরে বিষয়টি ইংল্যান্ডের শিক্ষক পেশা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে যায়।   পেশাগত আচরণবিষয়ক শুনানিতে শ্যাপারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হয়। সিদ্ধান্তে তাকে ইংল্যান্ডে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষকতা থেকে নিষিদ্ধ করার কথা জানানো হয়।   এই নিষেধাজ্ঞার ফলে শ্যাপার ইংল্যান্ডের কোনো স্কুল, ষষ্ঠ-ফর্ম কলেজ, সংশ্লিষ্ট যুব আবাসন বা শিশুদের আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতে পারবেন না।   তবে এই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে বহাল থাকবে এমন নয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শ্যাপার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৮ থেকে তার বিরুদ্ধে জারি করা নিষেধাজ্ঞার আদেশ বাতিলের আবেদন করতে পারবেন।   তবে আবেদন করার সুযোগ পাওয়ার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পর্যালোচনার প্রয়োজন হবে।   পুরো ঘটনায় স্কুলের ডিভাইসের ব্যবহার, কর্মঘণ্টায় অনুপযুক্ত ওয়েবসাইটে প্রবেশ এবং পরে তথ্য গোপনের চেষ্টাকে গুরুতর পেশাগত আচরণ হিসেবে বিবেচনা করেছে প্যানেল। এসব কারণেই শিক্ষক হিসেবে তার ওপর অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
যু দ্ধের সময় আশ্রয়, মহামারিতে টিকাদান; ১০০ বছর ধরে মানুষের পাশে লন্ডনের ফজল মসজিদ
যু দ্ধের সময় আশ্রয়, মহামারিতে টিকাদান; ১০০ বছর ধরে মানুষের পাশে লন্ডনের ফজল মসজিদ

ঠিক এক শতাব্দী আগে লন্ডনের বুকে গড়ে ওঠা প্রথম মসজিদ 'ফজল মসজিদ' বা 'লন্ডন মসজিদ' তার শতবর্ষ উদ্‌যাপন করছে। ওয়ান্ডসওয়ার্থের সাউথফিল্ডস এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদটি যুক্তরাজ্যের আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।   শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বর্তমানে সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, যার অংশ হিসেবে গৃহহীন মানুষদের জন্য ১০ হাজার বিনা মূল্যের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৯২৪ সালে যখন মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়, তখন প্রায় ৬০০ জন বিশিষ্ট অতিথির উপস্থিতিতে একটি রুপালি চাবি দিয়ে এর বিশাল কালো দরজা খোলা হয়েছিল।   এই মসজিদ নির্মাণের পেছনে রয়েছে এক অনন্য ত্যাগের ইতিহাস। ভারতের কাদিয়ানের একদল আহমদিয়া মুসলিম এর জন্য অর্থায়ন করেছিলেন, যাঁদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন নারী। নিজেদের অলংকার বিক্রি করে তাঁরা লন্ডনের প্রথম এই মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন, যদিও তাঁরা জানতেন যে এই মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার সুযোগ হয়তো তাঁদের কখনোই হবে না।   ২০১৮ সালে 'হিস্টোরিক ইংল্যান্ড' এই ভবনটিকে সংরক্ষিত স্থাপনার মর্যাদা দেয়। ১০০ বছর পেরিয়ে গেলেও এর ছিপছিপে জানালা, সবুজ গম্বুজ, শুভ্র দেয়াল এবং চারপাশের মনোরম গোলাপ বাগানের খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।   শুধুমাত্র উপাসনালয় নয়, বরং ফজল মসজিদ বিভিন্ন সময়ে মানবতার সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি বিমান হামলার হাত থেকে বাঁচতে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এখানে রক্তদান কর্মসূচি এবং কোভিড-১৯ টিকাদান কেন্দ্রও পরিচালিত হয়েছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই মসজিদ।   ঈদের সময় শিশুদের মিষ্টি বিতরণ, প্রতিবেশীদের বড়দিনের শুভেচ্ছা জানানো কিংবা অন্য ধর্মের মানুষের ওপর হামলার প্রতিবাদ—সবকিছুতেই তারা সোচ্চার। তাদের মূলমন্ত্র হলো 'সবার জন্য ভালোবাসা, কারও জন্য ঘৃণা নয়'।   মসজিদটি বিশ্ব ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও নীরব সাক্ষী। ১৯৩০-এর দশকে এই মসজিদের তৎকালীন ইমাম আবদুর রহিম দারদ এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন। সে সময় ভারতের রাজনীতি নিয়ে হতাশ হয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ লন্ডনে স্থায়ীভাবে আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু ইমাম দারদ তাঁকে বুঝিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফিরে যেতে রাজি করান।   এই ফজল মসজিদের বাগানে দাঁড়িয়েই জিন্নাহ একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে ভারত ভাগ এবং স্বাধীন পাকিস্তানের জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছিল।   মসজিদটির অতীত ও বর্তমান নিয়ে আহমদিয়া মুসলিম কমিউনিটির বর্তমান প্রধান মির্জা মাসরুর আহমদ বলেন, এই মসজিদের ইতিহাস প্রতিবেশীদের সেবা করা এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সঙ্গে শান্তি বজায় রাখার নীতিকে দারুণভাবে প্রতিফলিত করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই মসজিদটি আগামী প্রজন্মের জন্যও শান্তির বাতিঘর হয়ে থাকবে। ফজল মসজিদ প্রমাণ করেছে যে, তাদের সম্প্রীতির বার্তাটি চিরন্তন এবং এর কোনো মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নেই।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০
লন্ডনে প্রথম ও প্রাচীনতম ফজল মসজিদ প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পূর্ণ করেছে। ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনের প্রথম মসজিদের শতবর্ষ উদযাপনে গৃহহীনদের জন্য ১০,০০০ বেলা খাবারের উদ্যোগ

তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের আহমদিয়া নারীদের গয়না দানসহ কমিউনিটির স্বেচ্ছা অনুদানে নির্মিত লন্ডনের ফজল মসজিদ প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের সাউথফিল্ডসে অবস্থিত মসজিদটি ১৯২৬ সালের ৩ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয়। শতবর্ষ উপলক্ষে আহমদিয়া মুসলিম কমিউনিটি ইউকে গৃহহীন ও অভাবী মানুষের জন্য ১০ হাজার বেলা খাবার এবং যুক্তরাজ্যজুড়ে ১০ হাজার ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবার বছরব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।    লন্ডনে মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নির্মিত প্রথম ভবন হিসেবে পরিচিত ফজল মসজিদ। এর প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে ভারতের কাদিয়ানের মানুষের অনুদানের ইতিহাস। আহমদিয়া মুসলিম কমিউনিটি ইউকের তথ্য অনুযায়ী, নারীরা তাঁদের গয়না দিয়েছেন, শিশুরা দিয়েছে হাতখরচের টাকা, আর পুরুষেরা আয় ও সঞ্চয় থেকে অর্থ দিয়েছেন। দাতাদের প্রায় কেউই মসজিদটি সরাসরি দেখার সুযোগ পাননি।   নারীদের এই অবদান শতবর্ষের আয়োজনে বিশেষভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। দূরদেশে একটি স্থায়ী উপাসনালয় গড়ে তুলতে তাঁরা ব্যক্তিগত সম্পদ দান করেছিলেন। তবে মসজিদটির নির্মাণে শুধু নারীদের অর্থ ছিল, এমন নয়। আয়োজকদের বিবরণ অনুযায়ী, পুরো প্রকল্পটি আহমদিয়া কমিউনিটির স্বেচ্ছা অনুদানে বাস্তবায়িত হয়, যেখানে নারীদের ত্যাগ ছিল উল্লেখযোগ্য।    প্রায় ১৫০ জনের নামাজ আদায়ের জায়গা থাকা মসজিদটি একটি আবাসিক সড়কে অবস্থিত। শতবর্ষের কর্মসূচিতে শান্তি, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও মানুষের সেবাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের ঘোষণায় বলা হয়েছে, খাবার বিতরণ ও স্বেচ্ছাসেবা যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনের মধ্যে থাকা মানুষকে সহায়তার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হবে। ঘোষিত সংখ্যাগুলো বছরব্যাপী কর্মসূচির লক্ষ্য, ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া কাজের হিসাব নয়।   মসজিদটির ইতিহাস ও শান্তির বার্তা তুলে ধরতে অক্টোবর মাসে লন্ডনের ১০০টি বাসে প্রচার চালানোর পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে। পরে যুক্তরাজ্যের অন্য এলাকাতেও এই প্রচার সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছেন আয়োজকেরা। আহমদিয়া কমিউনিটির বিশ্বপ্রধান মির্জা মাসরুর আহমদ শতবর্ষ উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিবেশীর সেবা এবং ধর্ম বা পটভূমি নির্বিশেষে মানুষের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।    দীর্ঘ ইতিহাসে ফজল মসজিদ আহমদিয়া কমিউনিটির সাংগঠনিক কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কমিউনিটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে তাদের চতুর্থ নেতা মির্জা তাহির আহমদ পাকিস্তান থেকে যুক্তরাজ্যে এসে সাউথফিল্ডসে বসবাস শুরু করলে এখানে বিশ্ব সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। মসজিদটির শতবর্ষের বিবরণে এই অধ্যায়ও তুলে ধরা হয়েছে।    ব্রিটেনের ঐতিহ্য সংরক্ষণের তালিকাতেও স্থান পেয়েছে ভবনটি। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে হিস্টোরিক ইংল্যান্ড মসজিদটিকে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ভবনের মর্যাদা দেয়। চলতি বছরের মার্চে ওয়ান্ডসওয়ার্থ বরো কাউন্সিল এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্মরণে একটি সবুজ ফলক প্রদান করে।    শতবর্ষের আয়োজনের কেন্দ্রে রয়েছে প্রতিষ্ঠাতাদের অবদান স্মরণ এবং বর্তমান সমাজে সেবার কর্মসূচি। এক শতাব্দী আগে যাঁরা নিজেদের গয়না, সঞ্চয় ও হাতখরচ দিয়ে লন্ডনে মসজিদ নির্মাণে সহায়তা করেছিলেন, তাঁদের সেই অনুদানের ইতিহাস এবার তুলে ধরা হচ্ছে নতুন প্রজন্মের সামনে। একই সঙ্গে গৃহহীন ও অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপনের ঘোষণা দিয়েছে মসজিদটির কমিউনিটি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০
বছরে ১ লাখ পাউন্ড আয় করেও সংসার চালাতে হিমশিম দুই সন্তানের মা
বছরে ১ লাখ পাউন্ড আয় করেও সংসার চালাতে হিমশিম দুই সন্তানের মা, জামাকাপড় কেনাও বন্ধ

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বছরে ১ লাখ পাউন্ড আয় করেও দুই সন্তানকে নিয়ে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ৪০ বছর বয়সী একক মা ইয়াসমিন ক্যামিলা। প্রকল্প ব্যবস্থাপনার চাকরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাজ থেকে এই আয় করলেও বাড়তি জীবনযাত্রার খরচের কারণে নিজের জামাকাপড়, মেকআপ ও দামি ত্বকের প্রসাধনী কেনা বন্ধ করেছেন তিনি। এমনকি দৃষ্টিশক্তির অবনতি হলেও নতুন চশমা কেনার সামর্থ্য হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ইয়াসমিন।   ১৩ ও ১১ বছর বয়সী দুই সন্তানকে নিয়ে লন্ডনের দুই শয়নকক্ষের একটি পুরোনো বাড়িতে থাকেন ইয়াসমিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংসারের মৌলিক খরচই মাসে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ পাউন্ড। এর মধ্যে বাড়ির বন্ধকী ঋণের কিস্তি বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ পাউন্ড। তাঁর ঋণের সুদের হার এখন ১ শতাংশ, যা আগামী ফেব্রুয়ারিতে পরিবর্তিত হওয়ার কথা। এতে মাসিক কিস্তি প্রায় ৬০০ পাউন্ড বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।   প্রায় ১৩ বছর ধরে ওই বাড়িতে বসবাস করছেন ইয়াসমিন। বাড়ির চিলেকোঠা সংস্কার করে থাকার জায়গা বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তা আর করতে পারেননি। পরিবারের জায়গার সংকট মেটাতে খাবার ঘরটিকেই একটি শয়নকক্ষে পরিণত করেছেন তিনি।   খাবারের জন্য ইয়াসমিনের মাসিক বাজেট প্রায় ৪০০ পাউন্ড। তবে ব্যস্ততার কারণে খাবারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাজার ও রান্না করতে না পারলে বাড়তি খাবার কিনতে হয়। এতে মাসিক খাবারের খরচ আরও প্রায় ২০০ পাউন্ড বেড়ে যেতে পারে। সাধারণত স্যান্সবারিজ থেকে অনলাইনে বাজার করলেও বিভিন্ন দোকানের ছাড় ও অফার দেখে কেনাকাটা করেন তিনি।   দুই সন্তানের স্কুলের খাবারের পেছনে প্রতি সপ্তাহে জনপ্রতি ২০ পাউন্ড খরচ হয়। রাতের খাবারে তিনি এমন পদ বেছে নেন, যেগুলো পরদিনও খাওয়া যায়। মরিচ-মাংসের রান্না, ম্যাকারনি ও চিজ, সসেজ পাস্তা এবং এয়ার ফ্রায়ারে তৈরি মুরগির খাবার তাঁদের নিয়মিত খাবারের মধ্যে রয়েছে। আগের দিনের খাবার পরদিন দুপুরের খাবার হিসেবেও ব্যবহার করেন তিনি।   খরচ কমাতে বাজারে দোকানের নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্যকে অগ্রাধিকার দেন ইয়াসমিন। ধোয়ার তরল, কাপড়ের সফটেনার, টয়লেট পেপার ও কফির পডের মতো কিছু পণ্য একসঙ্গে বেশি পরিমাণে কেনেন। মাংসের দাম বেশি হওয়ায় নিরামিষ খাবারও বাড়িয়েছেন। চালের নুডলস দিয়ে ভাজি, ফেটা চিজের সঙ্গে ভূমধ্যসাগরীয় সবজি এবং আলু দিয়ে তৈরি খাবার তাঁর খরচ কমানোর কৌশলের অংশ।   ইয়াসমিনের দাবি, পাঁচ বছর আগের তুলনায় তাঁর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বিল প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের খরচ কমাতে প্রয়োজন ছাড়া বিভিন্ন যন্ত্র ব্যবহার না করার জন্য সন্তানদেরও উৎসাহিত করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, আয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে, কিন্তু বাড়তি অর্থ হাতে থাকার অনুভূতি হচ্ছে না।   সন্তানদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালু রাখতে নিজের অনেক খরচ বাদ দিয়েছেন ইয়াসমিন। তাঁর মেয়ে ব্যালে শেখে এবং ছেলে বিভিন্ন ক্লাবে যায়। এসব খরচকে তিনি সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন। ছেলের বয়স ১৩ বছর এবং জুতার মাপ ১১ হওয়ায় স্কুলে পরার জুতার দাম প্রায় ১০০ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। সন্তানের আত্মবিশ্বাসের বিষয়টি বিবেচনা করে এসব প্রয়োজনীয়তায় সবসময় না বলতে চান না তিনি।   নিজের পোশাকের খরচ কমাতে ইয়াসমিন ব্যবহৃত পোশাকের অনলাইন বাজার ভিন্টেড ব্যবহার করেন। নিজের জন্য নতুন জামাকাপড়, মেকআপ ও দামি ত্বকের প্রসাধনী কেনা বন্ধ করেছেন। নখের সাজও আর করান না। চুলও তিন মাসে একবার করান। সন্তানদের পোশাকের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত পোশাক কেনার দিকে ঝুঁকেছেন।   জন্মদিন ও বড়দিনের খরচের জন্যও নির্দিষ্ট সীমা রেখেছেন ইয়াসমিন। সন্তানপ্রতি জন্মদিনে ৩০০ পাউন্ড এবং বড়দিনে ২০০ পাউন্ড ব্যয়ের বাজেট করেছেন। প্রতি মাসে ১০ বা ২০ পাউন্ড করেও একটি সঞ্চয় প্রকল্পে টাকা রাখেন, যাতে উৎসব বা বিশেষ দিনের খরচ একসঙ্গে বড় চাপ তৈরি না করে।   সন্তানদের নিয়ে বাইরে ঘোরার ক্ষেত্রেও খরচ কমানোর চেষ্টা করেন তিনি। বিনামূল্যের জাদুঘরে যান এবং সঙ্গে বাড়ির খাবার নিয়ে বের হন। রেস্তোরাঁয় খরচ কমাতে বিভিন্ন ছাড়ের কুপন সংগ্রহ করেন। সন্তানদের হাতখরচও সম্প্রতি সপ্তাহে ৫ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ২০ পাউন্ড করেছেন। তাঁর মেয়ে নিজে পোশাক কিনতে চাইতে শুরু করায় ইয়াসমিন তাঁকে বুঝিয়েছেন, ব্যক্তিগত চাহিদাগুলো ওই নির্দিষ্ট হাতখরচের মধ্য থেকেই মেটাতে হবে।   ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ছোটবেলায় তাঁর নিজের পরিবারে অর্থের সংকট ছিল। তাই সন্তানদের ভালো জীবন দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে হয়তো কিছু ক্ষেত্রে বেশি খরচ করেছেন। এখন তিনি সন্তানদের প্রয়োজনীয় সুযোগ দিতে চান, পাশাপাশি অর্থের মূল্যও শেখাতে চান।   তবে ইয়াসমিনের অভিজ্ঞতা তাঁর ব্যক্তিগত আয় ও পারিবারিক বাজেটের হিসাব। এটি লন্ডনের সব পরিবার বা উচ্চ আয়ের মানুষের আর্থিক অবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাড়ির ঋণ, খাবার, জ্বালানি, পানি, শিশুদের কার্যক্রম ও অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে গিয়ে নিজের বিলাসী খরচ কমাতে হচ্ছে তাঁকে।   সূত্র: আই নিউজ

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
সাবেক আইনজীবী ক্যাথরিন থিওডোটুর প্রিয় বিড়াল রিটা
বিড়াল কেড়ে নেওয়ার পর মৃ ত্যু, ম র দে হ দেখতে আদালতে মালিকের মা ম লা

যুক্তরাজ্যে একটি বিড়ালকে ঘিরে মালিক ও প্রাণীকল্যাণ সংস্থা আরএসপিসিএ এবং মেট পুলিশের মধ্যে আইনি বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। ৭৯ বছর বয়সী সাবেক আইনজীবী ড. ক্যাথরিন থিওডোটু তাঁর প্রিয় বিড়াল রিটার ম র দে হ শেষবার দেখতে চান। একই সঙ্গে আরএসপিসিএ ও পুলিশের বিরুদ্ধে মোট ৫ লাখ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।   রিটা ছিল ১৭ মাস বয়সী সাদা-কালো একটি বিড়াল। ২০২৬ সালের মার্চে প্রাণীটির যত্ন নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর আরএসপিসিএ পুলিশের সহায়তায় লন্ডনে থিওডোটুর বাড়িতে গিয়ে বিড়ালটিকে নিয়ে যায়। থিওডোটুর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আরএসপিসিএতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করা হয়েছিল এবং রিটাকে তিনি যথাযথ যত্নেই রেখেছিলেন।   অন্যদিকে আরএসপিসিএর আইনজীবীরা আদালতে বলেছেন, বাড়ি থেকে নেওয়ার সময় রিটার শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের দাবি, প্রাণীটির পরিচর্যা, পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে ঘাটতির লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। মেট পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের অনুমোদিত পরোয়ানা অনুযায়ী তারা আইনগতভাবেই বাড়িতে প্রবেশ করে বিড়ালটি আরএসপিসিএর কাছে হস্তান্তরে সহায়তা করেছিল।   রিটা জন্ম থেকেই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিল এবং তার পেছনের দুই পা স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করতে পারত না। এ কারণে তার মূত্রথলিতে মাঝে মাঝে সংক্রমণও হতো। থিওডোটুর দাবি, রিটাকে নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল এবং সে ধীরে ধীরে চার পায়ে হাঁটতে শিখছিল।   ঘটনাটি আরও জটিল হয়ে ওঠে জুলাইয়ে। তখন জানা যায়, আরএসপিসিএর তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় রিটার মৃ ত্যু হয়েছে। এরপর বিড়ালটির মালিকানা নিয়ে চলা বিরোধ পরিণত হয় তার ম র দে হ ও মৃ ত্যু র কারণ নিয়ে আইনি লড়াইয়ে।   আগের এক আদালতের আদেশে আরএসপিসিএর একজন পশুচিকিৎসক এবং থিওডোটুর বেছে নেওয়া একজন স্বাধীন পশুচিকিৎসকের যৌথভাবে রিটার ম য় না ত দ ন্ত করার কথা বলা হয়েছিল। তবে আরএসপিসিএ যৌথভাবে পরীক্ষা করার জন্য উপযুক্ত পশুচিকিৎসক খুঁজে না পাওয়ায় বিষয়টি আবার আদালতে ওঠে।   সর্বশেষ শুনানিতে বিচারক মি. জাস্টিস কটার বলেন, রিটার মৃ ত্যু র কারণ জানতে পরীক্ষা করা প্রয়োজন হলেও থিওডোটুর ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি আরএসপিসিএ ও বিড়ালের মালিককে পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা করে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানান।   আদালত নির্ধারণ করেছে, লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ে রিটার ম য় না ত দ ন্ত করা হবে এবং থিওডোটুর মনোনীত চিকিৎসক সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন। পরীক্ষা শেষে রিটার ম র দে হ সংরক্ষণ করা হবে, যাতে থিওডোটু চাইলে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করার অনুমতি চেয়ে আদালতে যেতে পারেন।   থিওডোটুর করা ৫ লাখ পাউন্ডের ক্ষতিপূরণের মা ম লাটি রিটার মৃ ত্যু কে কেন্দ্র করে নয়; বরং বিড়ালটিকে তাঁর বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। আরএসপিএর বিরুদ্ধে হয়রানি ও অবহেলার অভিযোগ এবং পুলিশের বিরুদ্ধে আ ক্র ম ণ, বেআইনি প্রবেশ ও অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের কোনোটি এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ইউরোপে বড় উড়োজাহাজের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে ইন্ডিগো। ছবি: সংগৃহীত
খরচের চাপে ইউরোপ কৌশল বদলাচ্ছে ভারতের ইন্ডিগো, বন্ধ হচ্ছে লন্ডন ফ্লাইট

ইউরোপের দূরপাল্লার বাজারে দ্রুত প্রবেশের জন্য ভাড়ায় নেওয়া বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে ভারতের ইন্ডিগো। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ওয়াইড-বডি কার্যক্রম বন্ধ করবে প্রতিষ্ঠানটি এবং একই সঙ্গে সাময়িকভাবে বন্ধ হবে লন্ডন হিথ্রো ফ্লাইট। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আকাশসীমার বিধিনিষেধ, জ্বালানির উচ্চ মূল্য ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপের কারণে পরিচালন ব্যয় প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   ইন্ডিগোর এই সিদ্ধান্তকে শুধু একটি রুট বন্ধের ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। ২০২৫ সালের শুরুতে নরওয়ের নর্স আটলান্টিক এয়ারওয়েজ থেকে ছয়টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ড্যাম্প লিজে নিয়ে দূরপাল্লার বাজারে প্রবেশ করেছিল ইন্ডিগো। নিজস্ব ওয়াইড-বডি বহর আসার আগেই ইউরোপের বাজারে অভিজ্ঞতা অর্জন, ব্র্যান্ড পরিচিতি তৈরি এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নেওয়াই ছিল এই প্রকল্পের লক্ষ্য।   এই উড়োজাহাজ দিয়েই যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ বাজারে প্রবেশ করে ইন্ডিগো। ২০২৫ সালের অক্টোবরে মুম্বাই থেকে লন্ডন হিথ্রোতে দৈনিক সরাসরি ফ্লাইট চালু করা হয়েছিল। তখন লন্ডনকে ইন্ডিগোর আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ নতুন ধাপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই সেই পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত এলো।   ইন্ডিগো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন আকাশসীমায় বিধিনিষেধ তৈরি হয়েছে। এতে ইউরোপগামী ফ্লাইটের পথ দীর্ঘ হচ্ছে, বাড়ছে উড্ডয়ন সময় ও জ্বালানি খরচ। এর সঙ্গে উড়োজাহাজের জ্বালানির উচ্চ মূল্য এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপ যোগ হয়ে রুটগুলোর কার্যকারিতা, সময়সূচি, কানেক্টিং ফ্লাইট ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতায় প্রভাব ফেলেছে।   এই চাপ আগেই দৃশ্যমান হয়েছিল। ইন্ডিগো এর আগে কোপেনহেগেন পরিষেবা স্থগিত এবং দিল্লি-লন্ডন ও ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট কমিয়েছিল। পরে ৩১ আগস্ট থেকে ম্যানচেস্টার পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘতর উড্ডয়নপথ ও দ্রুত বাড়তে থাকা খরচের কারণে এসব রুট পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছিল।   এবার ২৫ অক্টোবর থেকে পুরো বোয়িং ৭৮৭-৯ ওয়াইড-বডি কার্যক্রমই বন্ধ হচ্ছে। আর নর্স আটলান্টিকের সঙ্গে ছয়টি উড়োজাহাজের ড্যাম্প লিজ চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে ৩১ অক্টোবর। ড্যাম্প লিজ ব্যবস্থায় উড়োজাহাজ ও পাইলট সরবরাহ করছিল নর্স আটলান্টিক, আর কেবিন ক্রু ছিল ইন্ডিগোর।   তবে ইউরোপ থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছে না ইন্ডিগো। ২৫ অক্টোবর থেকেই মুম্বাই-আমস্টারডাম রুটে বোয়িং ৭৮৭-৯-এর পরিবর্তে এয়ারবাস এ৩২১এক্সএলআর ব্যবহার করবে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ আপাতত বড় ওয়াইড-বডির পরিবর্তে দীর্ঘপাল্লায় সক্ষম তুলনামূলক ছোট উড়োজাহাজের ওপর নির্ভর করে ইউরোপীয় নেটওয়ার্কের একটি অংশ ধরে রাখার কৌশল নেওয়া হচ্ছে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইন্ডিগো এটিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ থেকে পিছু হটা হিসেবে দেখছে না। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নর্স আটলান্টিকের সঙ্গে এই প্রকল্প থেকে দূরপাল্লার নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা, যাত্রীসেবা, ক্রু অপারেশন, রক্ষণাবেক্ষণ, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে। ভবিষ্যতে নিজস্ব ওয়াইড-বডি বহর পরিচালনায় এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।   ইন্ডিগোর নিজস্ব এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ বহরই হবে সেই পরবর্তী ধাপ। তবে এখানে সময় নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। ইন্ডিগোর ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর অফিসিয়াল বিবৃতিতে নিজস্ব এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ ২০২৮ সালের শুরু থেকে বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। সর্বশেষ ঘোষণায় নির্দিষ্ট বছর উল্লেখ না করে বলা হয়েছে, এ৩৫০-৯০০ সরবরাহ পাওয়ার আগ পর্যন্ত লন্ডন হিথ্রো পরিষেবা বন্ধ থাকবে।   লন্ডন রুটে আগে থেকে টিকিট কাটা যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে ইন্ডিগো। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ফ্লাইট অথবা অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।   সব মিলিয়ে, ইন্ডিগোর বোয়িং ৭৮৭ অধ্যায় আপাতত শেষ হলেও ইউরোপ ও দূরপাল্লার বাজারের পরিকল্পনা শেষ হচ্ছে না। বরং ব্যয়বহুল ভাড়ার ওয়াইড-বডি কার্যক্রম থেকে সরে এসে এ৩২১এক্সএলআর দিয়ে কিছু ইউরোপীয় রুট ধরে রাখা এবং ভবিষ্যতে নিজস্ব এ৩৫০ বহর দিয়ে নতুন করে বড় পরিসরে দূরপাল্লার বাজারে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতের বৃহত্তম এয়ারলাইনটি।   সূত্র: ইন্ডিগো, রয়টার্স, ক্যাপা, নর্স আটলান্টিক এয়ারওয়েজ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
গৃহহীন থেকে বাধা পেরিয়ে হার্ভার্ডে মোনে থমাস, স্বপ্ন এখন পরিবর্তনের
গৃহহীন থেকে বাধা পেরিয়ে হার্ভার্ডে মোনে থমাস, স্বপ্ন এখন পরিবর্তনের

দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের লুইশামে সামাজিক আবাসনে বেড়ে ওঠা মোনে থমাস একসময় পরিবারের সঙ্গে দুই বছর অস্থায়ী বাসস্থানে ছিলেন। সেই মোনে এখন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়ছেন।   ২৫ বছর বয়সী এই তরুণী ২০২৫ সালে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে আইন ও নৃবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনের শিক্ষা নেতৃত্ব, সংগঠন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক কর্মসূচিতে ভর্তি হয়েছেন। হার্ভার্ডের নিজস্ব তথ্যেও তাঁর বর্তমান শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।    মোনে তাঁর বাবা-মা ও পাঁচ ভাইবোনের সঙ্গে লন্ডনের লুইশামে সামাজিক আবাসনে বড় হয়েছেন। পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁর শৈশবে নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই বছর পরিবারটি অস্থায়ী বাসস্থানে থেকেছে। তিনি বিগ ইস্যুকে জানিয়েছেন, এসব পরিস্থিতি তাঁর শিক্ষাজীবনেও প্রভাব ফেলেছিল।   ছোটবেলা থেকেই সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মোনে। কিশোর বয়সে নাটকের কর্মশালায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ও সামাজিক সমস্যাগুলোকে নতুনভাবে বোঝার সুযোগ পান। পরে স্থানীয় বিভিন্ন কমিউনিটি আর্টস প্রকল্পে যুক্ত হন। এসব উদ্যোগে তরুণদের নিজেদের এলাকার পরিবর্তনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহ দেওয়া হতো।   শিক্ষাজীবন শেষ করার পরও তরুণদের নিয়ে কাজ চালিয়ে যান তিনি। বিগ ইস্যুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডনের ১০টি সরকারি স্কুলের ৩০০টির বেশি শিক্ষার্থীকে সহায়তা করেছেন মোনে। বিভিন্ন দেশে ১০০ জনের বেশি তরুণের শেখার কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের ৬০ জনের বেশি তরুণকে মেন্টরিং করেছেন। তাঁর কাজের ক্ষেত্রের মধ্যে শিক্ষা, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং কমিউনিটি কার্যক্রম রয়েছে।   হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগটি আসে ২০২৬ সালের মার্চে। এক বন্ধুর সঙ্গে আলোচনার পর তিনি হার্ভার্ডের বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে খোঁজ নেন। শেষ পর্যন্ত শিক্ষা নেতৃত্ব, সংগঠন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক কর্মসূচিটিকে নিজের দীর্ঘদিনের কাজ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করেন। ভর্তির খবর পাওয়ার পর মায়ের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন তিনি। পরে বাবা যে বক্সিং জিমে ছিলেন, সেখানেও মেয়ের হার্ভার্ডে ভর্তি হওয়ার খবর জানান।   তবে হার্ভার্ডে ভর্তি হলেও আর্থিক চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি শেষ হয়নি। বিগ ইস্যুর হিসাবে, টিউশন ও জীবনযাত্রার খরচসহ সেখানে পড়তে আনুমানিক ৮০ হাজার পাউন্ড প্রয়োজন হতে পারে। মোনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন এবং বাকি অর্থের জন্য অনলাইন তহবিল সংগ্রহ করছেন। তাঁর নিজের তহবিল সংগ্রহের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ডে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের একটি বড় অংশ এখনো সংগ্রহ করা বাকি।    মোনের অভিজ্ঞতা যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষায় আর্থসামাজিক বৈষম্যের আলোচনার সঙ্গেও যুক্ত। বিগ ইস্যু ইনস্টিটিউট ফর ফিসকাল স্টাডিজের গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, র‍্যাসেল গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা স্কুলজীবনে বিনামূল্যে স্কুল খাবারের জন্য যোগ্য ছিল, তাদের অংশ ছিল ২ দশমিক ৮ শতাংশ। একই প্রতিবেদনে সাটন ট্রাস্টের গবেষণার উল্লেখ করে স্বাধীন বা বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের র‍্যাসেল গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার হারের সঙ্গে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে।    আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে মোনে হার্ভার্ডে ক্লাস শুরু করেন। হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে শিক্ষা নেতৃত্ব, সংগঠন ও উদ্যোক্তা বিষয়ে এডমাস্টার ডিগ্রি করছেন এবং তরুণদের উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া, বিকাশ ও নিজেদের কমিউনিটিতে পরিবর্তন আনার সুযোগ তৈরিতে কাজ করতে চান।    হার্ভার্ডের পড়াশোনা শেষ করার পর শিক্ষা ও সরকারি ব্যবস্থাপনার সংযোগস্থলে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে মোনের। তাঁর লক্ষ্য, শিক্ষা, নেতৃত্ব ও সেবাকে কাজে লাগিয়ে এমন তরুণ ও কমিউনিটির জন্য সুযোগ তৈরি করা, যারা সবসময় প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুযোগ পায় না। তাঁর নিজের ভাষায়, নিজের শৈশবের পরিস্থিতি যেন কোনো তরুণের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ না করে, সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি সামনে এগোতে চান।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার
ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ লন্ডনের বাসিন্দা কারা মিলারের পেটের সমস্যাকে চিকিৎসকরা প্রথমে সাধারণ 'ফুড পয়জনিং' বা খাদ্যে বিষক্রিয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু নিজের উপসর্গের বিষয়ে সন্দেহ থাকায় তিনি আরও পরীক্ষার জন্য জোর দেন এবং শেষ পর্যন্ত তার তৃতীয় ধাপের কলোরেক্টাল বা অন্ত্রের ক্যানসার ধরা পড়ে।   ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে টিভিতে ক্যানসারের লক্ষণ বিষয়ক একটি অনুষ্ঠান দেখে তিনি প্রথম চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সে সময় টেলিফোনে পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসক তাকে জানান যে এটি কেবল পাইলসের সমস্যা। পারিবারিক একটি শোকের কারণে তখন তিনি বিষয়টি নিয়ে আর এগোতে পারেননি এবং নিজের করপোরেট চাকরি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।   ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠার পর কারা হঠাৎ খুব অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। সাধারণ চিকিৎসক এবং একজন বেসরকারি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল বিশেষজ্ঞ উভয়েই তার এই অবস্থাকে ফুড পয়জনিং বলে ধারণা করেন। এমনকি চিকিৎসকরা তাকে এ-ও বলেছিলেন যে ক্যানসার হওয়ার জন্য তার বয়স নিতান্তই কম। তবে কারা দমে না গিয়ে রক্ত পরীক্ষা এবং এফআইটি (FIT) টেস্টের জন্য চিকিৎসকদের বাধ্য করেন।   টেস্টের ফল পজিটিভ আসার পর ২০২২ সালের মার্চ মাসে তার কোলোনোস্কোপি করা হয় এবং তখনই মলদ্বারে একটি টিউমারের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এক্স-রে, এমআরআই এবং সিটি স্ক্যানের পর ৫ এপ্রিল চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয় যে, ক্যানসারটি ইতোমধ্যেই তার লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি তৃতীয় ধাপের কলোরেক্টাল ক্যানসার।   ছয় সেন্টিমিটার লম্বা টিউমারটি তার মলদ্বারের প্রায় অর্ধেক অংশ আটকে রেখেছিল। টিউমারটি ছোট করার জন্য তাকে প্রথমে পাঁচ সপ্তাহের কেমোরেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। কিন্তু সার্জারির জন্য চারপাশের কোষগুলো সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত না হওয়ায় তাকে আরও ১২ সপ্তাহের কেমোথেরাপি নিতে হয়। এরপর দীর্ঘ ছয় ঘণ্টার সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসকরা টিউমারটি অপসারণ করতে সক্ষম হন।   এ সময় তার শরীরে একটি অস্থায়ী ইলিওস্টোমি ব্যাগ পরানো হয়। বড়দিন হাসপাতালে কাটানোর পর তাকে আরও ১২ সপ্তাহের কেমোথেরাপি নিতে হয়েছিল। টানা নয় মাস পর ২০২৩ সালের আগস্টে রিভার্সাল সার্জারির মাধ্যমে তার ইলিওস্টোমি ব্যাগটি খুলে ফেলা হয়।   বর্তমানে কারা মিলার ক্যানসারমুক্ত জীবনের তৃতীয় বছরে পদার্পণ করেছেন। রোগমুক্তির পর নিজের আগের করপোরেট পেশা ছেড়ে তিনি ক্যানসার পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এখন তিনি একটি দাতব্য সংস্থার হয়ে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা ও ক্যানসারের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই কঠিন যাত্রার কথা শেয়ার করতে শুরু করেছেন কারা।   তবে সবাইকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে তিনি জানিয়েছেন, নিজের শরীরের যেকোনো অস্বাভাবিক উপসর্গের ক্ষেত্রে রোগীদেরকেই সবার আগে সচেতন হতে হবে এবং সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকদের কাছে দাবি জানাতে হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
ভেহিকল ট্যাক্স না দেওয়ার অভিযোগে জরিমানার মুখে পড়েছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। ছবি: সংগৃহীত
নিজের নয় এমন গাড়ির ট্যাক্স না দেওয়ায় জরিমানা, প্রতারণার শিকার দাবি সাদিক খানের

লন্ডনের মেয়র সাদিক খানকে ২৪ বছর পুরোনো একটি নিসান মাইক্রার ভেহিকল ট্যাক্স না দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে জরিমানা করা হয়েছে। তবে খান ও লন্ডন সিটি হলের কর্মকর্তারা বলছেন, গাড়িটি তার নয় এবং তার নামে ভুলভাবে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। বিষয়টি এখন তদন্ত করছে ব্রিটেনের ড্রাইভার অ্যান্ড ভেহিকল লাইসেন্সিং এজেন্সি বা ডিভিএলএ।   ডিভিএলের করা মামলায় গত ১৮ আগস্ট হেরেফোর্ডশায়ার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে সিঙ্গেল জাস্টিস প্রসিডিউরের মাধ্যমে অনুপস্থিতিতে খানকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাকে ২২০ পাউন্ড জরিমানা, ৮৫ পাউন্ড কোর্ট খরচ এবং গাড়িটির বকেয়া ৩৫.৮৪ পাউন্ড ট্যাক্স পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তাকে ৩৪০.৮৪ পাউন্ড দিতে হবে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, নীল রঙের নিসান মাইক্রাটি ২০০২ সালে প্রথম রেজিস্ট্রেশন করা হয়। গাড়িটির বার্ষিক ট্যাক্স ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়ে যায়। এরপর চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি গাড়িটি ট্যাক্সবিহীন অবস্থায় শনাক্ত হলে ডিভিএলএ নথিতে খানকে গাড়িটির কিপার হিসেবে পাওয়া যায়।   ডিভিএলএ জানায়, গাড়িটির মালিকানা নিশ্চিত করতে জানুয়ারিতে খানকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তবে সেই চিঠির জবাব না পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।   তবে মামলায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে চিঠি পাঠানোর ঠিকানা নিয়ে। আদালতের নথিতে দেখা যায়, খানের নামে পাঠানো ডিভিএলের চিঠি তার বা ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের অফিসে না গিয়ে লন্ডনের একটি গর্ডন রামসে রেস্তোরাঁয় পৌঁছায়। ফলে খান মামলাটি সম্পর্কে সময়মতো জানতে পারেননি বলে তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।   লন্ডন সিটি হলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাড়িটি খান বা ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের কোনোটিরই নয়। খানের একজন মুখপাত্র ঘটনাটিকে প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এর আগেও তার নামে ভুয়া গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের ঘটনা ঘটেছে।   সাদিক খানের বিরুদ্ধে এমন ভুয়া রেজিস্ট্রেশনের ঘটনা তার আল্ট্রা লো এমিশন জোন বা ইউলেজ সম্প্রসারণের বিরোধিতার সঙ্গেও যুক্ত বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ইউলেজ পুরো লন্ডনে সম্প্রসারণের পর কিছু মোটরচালক খানের নামে গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন, যাতে গাড়ির দায় তার ওপর পড়ে।   এদিকে ডিভিএলএ জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে। মামলাটি পুনরায় খোলার সুযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিঙ্গেল জাস্টিস প্রসিডিউর নিয়ে যুক্তরাজ্যে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। এই ব্যবস্থায় তুলনামূলক কম গুরুতর মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট একাই, অনেক সময় ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে, সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
পূর্ব লন্ডনের মদের বার কিনে সেটিকে মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরকারী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জিয়া বিন রাসেল। ছবি: সংগৃহীত
৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে মদের বার কিনে মসজিদ বানালেন বাংলাদেশের জিয়া

পূর্ব লন্ডনের একটি ভবন, যেখানে একসময় মদের বার ও আড্ডার আয়োজন ছিল, সেটি এখন মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবনটি কিনে মসজিদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন লন্ডনপ্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জিয়া বিন রাসেল। তাঁর সঙ্গে যুক্ত মানবিক কার্যক্রমের দাবিগুলোর কিছু অংশ হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের প্রকাশিত তথ্যেও পাওয়া যায়।   জিয়া বিন রাসেলের উদ্যোগে ভবনটিতে বর্তমানে আজান, কুরআন তিলাওয়াত ও জামাতে নামাজ অনুষ্ঠিত হয় বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে ভবনটির আগের ব্যবহার, বর্তমান বাজারমূল্য ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি হওয়া এবং জিয়া বিন রাসেলের ব্যক্তিগত অর্থায়নের পরিমাণ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।   বাংলাদেশে তাঁর মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার তথ্য অবশ্য সংগঠনটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে রয়েছে। সংস্থাটি নিজেদের সরকার নিবন্ধিত, অরাজনৈতিক ও অলাভজনক মানবিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘হাফেজ্জী স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ চালু করা হয়েছে।    সংস্থাটির সাম্প্রতিক কার্যক্রমের তালিকায় প্রতিবন্ধী পরিবারকে সহায়তা, সেলাই মেশিন বিতরণ, বন্যার্তদের ত্রাণ এবং চট্টগ্রামের বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো কর্মসূচির তথ্য রয়েছে। গাজা ও সুদানেও খাদ্য, পানি ও অন্যান্য মানবিক সহায়তার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।   প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তার বাইরে প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি। তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা সহায়তা, হুইলচেয়ার ও অন্যান্য সহায়ক উপকরণ, থেরাপি সাপোর্ট এবং পরিবারকে সচেতন করার কার্যক্রমও এর আওতায় রয়েছে।    নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিনসহ আয়মুখী উপকরণ দেওয়ার কার্যক্রমও সংগঠনটির সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে দেখা যায়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ২০টি পরিবারের হাতে সেলাই মেশিন দেওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে তারা।    আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গাজা ও সুদানে সহায়তার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালে গাজায় পানি ও খাদ্য বিতরণ এবং সুদানে খাদ্য সহায়তার একাধিক কর্মসূচির উল্লেখ রয়েছে।    জিয়া বিন রাসেলের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব কার্যক্রমের কত অংশ পরিচালিত হয়েছে বা তিনি মোট কত অর্থ ব্যয় করেছেন, সে বিষয়ে স্বাধীন আর্থিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর ব্যক্তিগত অনুদানের পরিমাণ বা সম্পত্তির বাজারমূল্যকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উল্লেখ করার সুযোগ নেই।   তবে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটির প্রকাশিত কার্যক্রম থেকে স্পষ্ট যে, প্রতিবন্ধী সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং গাজা ও সুদানের মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংগঠনটির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের মানবিক কাজে সম্পৃক্ত করাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যে নতুন ডেটা সেন্টার, বছরে কার্বন ছড়াবে নিউইয়র্কগামী ৮,৪৮০ ফ্লাইটের সমান
যুক্তরাজ্যে নতুন ডেটা সেন্টার, বছরে কার্বন ছড়াবে নিউইয়র্কগামী ৮,৪৮০ ফ্লাইটের সমান

লন্ডনের নর্থ অকেন্ডনে প্রস্তাবিত ১৪.৭ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার চালু হলে বছরে ১২ লাখ টনের বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য নিঃসরণ হতে পারে বলে পরিকল্পনা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিমাণ নিঃসরণ লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে প্রায় ৮ হাজার ৪৮০টি ফ্লাইটের বার্ষিক কার্বন ফুটপ্রিন্টের সমান।    ইস্ট হ্যাভারিং ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস নামে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ইউরোপের অন্যতম বড় ডেটা সেন্টারে পরিণত হতে পারে। ২১৮ হেক্টর গ্রিন বেল্ট জমিতে গড়ে ওঠার কথা রয়েছে এই ক্যাম্পাসের। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রক্রিয়াকরণের অবকাঠামো হিসেবে এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।   পরিকল্পনা নথি অনুযায়ী, ডেটা সেন্টারটির সম্ভাব্য ৬০ বছরের আয়ুষ্কালে মোট কার্বন নিঃসরণ ৭ কোটি ২০ লাখ টনেরও বেশি হতে পারে। আর ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হলেও বছরে প্রায় ২৬৫ কোটি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে, যা যুক্তরাজ্যের ১০ লাখের বেশি পরিবারের বার্ষিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের কাছাকাছি।    প্রকল্পটির জন্য জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বড় ধরনের সংযোগ প্রয়োজন হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৬০০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার সক্ষমতার সংযোগ এবং সংশ্লিষ্ট গ্রিড অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে।   কার্বন নিঃসরণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা নথিতে প্রকল্পটির কার্বন নিঃসরণ যুক্তরাজ্যের ২০৫০ সালের নেট-জিরো লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩৮ সালের হিসাবে প্রকল্পটির পরিচালনাগত কার্বন নিঃসরণ হ্যাভারিং এলাকার পুরো কার্বন বাজেটের প্রায় ২০ গুণ এবং যুক্তরাজ্যের মোট কার্বন বাজেটের প্রায় ১ শতাংশের সমান হতে পারে।    তবে প্রকল্পটির পক্ষে অর্থনৈতিক সুবিধার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ডেভেলপারদের দাবি, ক্যাম্পাসটি স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি হ্যাভারিংয়ের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। প্রকল্পের পরিকল্পনায় ১১৩ হেক্টরের একটি ইকোলজি পার্ক, ইনডোর হর্টিকালচার সুবিধা এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সবুজ জায়গার কথাও রয়েছে।    হ্যাভারিং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকল্পটি এখনো অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে স্থানীয় উন্নয়ন আদেশের খসড়া নিয়ে জনমত গ্রহণ করা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে পরিকল্পনা, পরিবেশগত প্রভাব ও কারিগরি বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে।    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে বড় ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব স্থাপনার জন্য বিপুল বিদ্যুৎ, জমি ও শীতলীকরণ অবকাঠামোর প্রয়োজন হওয়ায় পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ইস্ট হ্যাভারিং প্রকল্পকে ঘিরে সেই বিতর্কই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
১৫ বছর ব্যথার পর ধরা পড়ল আসল রোগ, এরই মধ্যে ভুল চিকিৎসায় দুই অঙ্গ হারিয়েছে ব্রিটিশ নারী
১৫ বছর ব্যথার পর ধরা পড়ল আসল রোগ, এরই মধ্যে ভুল চিকিৎসায় দুই অঙ্গ হারিয়েছে ব্রিটিশ নারী

লন্ডনের ৩৫ বছর বয়সী অ্যাম্বার উইলিয়ামসের জীবনে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলেছে অসহ্য ব্যথা, একের পর এক চিকিৎসা আর অনিশ্চয়তা। তার দাবি, তীব্র মাসিকের ব্যথাকে বছরের পর বছর স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস ও পিত্তথলির সমস্যার সন্দেহে তার অ্যাপেন্ডিক্স ও গলব্লাডার অপসারণ করেন। পরে এসব অস্ত্রোপচারও তার দীর্ঘদিনের ব্যথার প্রকৃত কারণ খুঁজে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের জুলাইয়ে পরীক্ষায় ধরা পড়ে ব্যাপক এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিস।    উইলিয়ামসের সমস্যা শুরু হয় মাত্র ১১ বছর বয়সে, প্রথম মাসিকের সময়। ১৪ বছর বয়সের মধ্যে ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যেত। চিকিৎসকের কাছে একাধিকবার যাওয়ার পরও তাকে বলা হতো, মাসিকের সময় এমন ব্যথা স্বাভাবিক। কয়েক বছর জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ ব্যবহার করেও খুব একটা উপকার পাননি বলে জানান তিনি।   ২০১২ সালে ২১ বছর বয়সে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে জরুরি বিভাগে গেলে চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস সন্দেহ করেন। তার অ্যাপেন্ডিক্স অপসারণ করা হয়। কিন্তু পরে উইলিয়ামসের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে জানানো হয় যে অ্যাপেন্ডিক্সে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ অস্ত্রোপচারের পরও তার মূল সমস্যার কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি।    এরপরও বছরের পর বছর পেট ও পেলভিক ব্যথা চলতে থাকে। ২০১৬ সালে চিকিৎসকেরা গলস্টোন ও প্যানক্রিয়াটাইটিসের কথা জানান। সে সময় তার গলব্লাডারও অপসারণ করা হয়। উইলিয়ামসের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর তাকেও বলা হয়েছিল যে অঙ্গটিতে উল্লেখযোগ্য সমস্যা পাওয়া যায়নি।    এই সময় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তিনি অতিরিক্ত রক্তপাত, বমি ও তীব্র ব্যথার কথা জানিয়েছেন। এমনকি ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি। একপর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও তার শারীরিক সমস্যার যোগসূত্র খোঁজা হয় এবং তাকে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে তার ভাষ্য।   প্রকৃত রোগের সন্ধান পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও কয়েক বছর। ২০২৫ সালে স্বামীকে নিয়ে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও সফল না হওয়ার পর তিনি ফার্টিলিটি সেবার দ্বারস্থ হন। সেখানে একজন বিশেষজ্ঞ তার দীর্ঘদিনের উপসর্গ ও এন্ডোমেট্রিওসিস নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠান।    ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ল্যাপারোস্কোপি করার পর চিকিৎসকেরা ব্যাপক এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিস শনাক্ত করেন। অস্ত্রোপচারের সময় তার ডিম্বাশয় পেলভিক দেয়ালের সঙ্গে জোড়া লেগে থাকার মতো জটিল অবস্থাও পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    এন্ডোমেট্রিওসিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেখানে জরায়ুর ভেতরের আবরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বেড়ে ওঠে। এর ফলে তীব্র মাসিকের ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথা, পেট ফাঁপা এবং সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের প্রায় ১০ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ১৯ কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। সংস্থাটি বলছে, রোগটির কারণে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও বন্ধ্যাত্বসহ জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রেই রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়।    অন্যদিকে অ্যাডেনোমায়োসিসে জরায়ুর যে টিস্যু সাধারণত জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ তৈরি করে, সেটি জরায়ুর পেশির দেয়ালের ভেতরে প্রবেশ করে। এর অন্যতম লক্ষণ তীব্র মাসিকের ব্যথা ও অতিরিক্ত রক্তপাত; কারও কারও ক্ষেত্রে পেলভিক ব্যথা ও যৌনমিলনের সময় ব্যথাও হতে পারে।    উইলিয়ামসের ঘটনা চিকিৎসাব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। তবে তার ক্ষেত্রে অ্যাপেন্ডিক্স ও গলব্লাডার অপসারণকে চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিতভাবে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলা যায় কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন মেডিকেল মূল্যায়নের তথ্য প্রতিবেদনে নেই। তাই বিষয়টি তার নিজের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখা উচিত।   দীর্ঘদিনের ব্যথা শেষ পর্যন্ত তার কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনেও বড় প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন উইলিয়ামস। এখনো মাসিকের প্রথম কয়েক দিন তিনি সর্বোচ্চ মাত্রার ব্যথা অনুভব করেন এবং নিয়মিত ব্যথানাশকের ওপর নির্ভর করতে হয় বলে জানান। সন্তান ধারণের সক্ষমতার ওপর দীর্ঘদিনের রোগের কী প্রভাব পড়েছে, সেটি নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন।    তার অভিজ্ঞতা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, তীব্র ও বারবার ফিরে আসা মাসিকের ব্যথাকে শুধু ‘স্বাভাবিক’ বলে এড়িয়ে যাওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, এমন ব্যথা যদি দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, অতিরিক্ত রক্তপাত বা দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথার সঙ্গে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ । 

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
নিকাব পরায় বাসে হত্যার হুমকি
নিকাব পরায় বাসে হত্যার হুমকি, লন্ডনে প্রতিদিন হেনস্থার শিকার তরুণী

লন্ডনের বাসে নিকাব পরার কারণে গালিগালাজ থেকে শুরু করে হত্যার হুমকির মুখে পড়েছেন ২১ বছর বয়সী মুসলিম তরুণী সালসাবিল। তার অভিযোগ, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। ধর্মীয় পোশাকের কারণে লন্ডনে প্রায় প্রতিদিনই থুতু ছোড়া, ধাক্কা দেওয়া এবং অপমানজনক আচরণের শিকার হতে হচ্ছে তাকে। সাম্প্রতিক একটি ঘটনার ভিডিও সামনে আসার পর বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ।   বিবিসিকে সালসাবিল বলেন, গত ৩১ জুলাই সেন্ট্রাল লন্ডন থেকে বাড়ি ফেরার সময় প্রথম একটি বাসে তার নিকাব নিয়ে মৌখিকভাবে অপমান করা হয়। পরিস্থিতি এড়াতে তিনি সেই বাস থেকে নেমে পরের বাসে ওঠেন। কিন্তু সেখানেও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।   দ্বিতীয় বাসে এক যাত্রী তার পোশাক নিয়ে গালিগালাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ সালসাবিলের। তিনি বসতে গেলে ওই ব্যক্তি আক্রমণাত্মকভাবে তাকে বাধা দেন এবং মুখের নিকাব নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে থাকেন।   সালসাবিলের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি তাকে বলেন, মুখে এমন পোশাক পরে তিনি সেখানে স্বাগত নন। একপর্যায়ে নিকাবকে 'সন্ত্রাসবাদ' বলে মন্তব্য করেন ওই যাত্রী এবং সালসাবিল নিজে নিকাব না খুললে জোর করে সেটি খুলে দেওয়ার হুমকি দেন।   পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন ওই ব্যক্তি তাকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সালসাবিল। সে সময় বাসের আরেক যাত্রী তার পক্ষে এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে ওই যাত্রীর হাতাহাতিও হয়।   সালসাবিল জানান, বাসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ওই একজনই সরাসরি তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে বাসের ড্রাইভার হস্তক্ষেপ করেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বাস থেকে নেমে যেতে বলা হয়। তিনি বাস থেকে নেমে গেলে সালসাবিলও উত্তর-পশ্চিম লন্ডনে নিজের নির্ধারিত স্টপে নেমে যান।   ঘটনার সময় তিনি গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যে যাত্রী তার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।   তবে সালসাবিলের জন্য আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এমন অভিজ্ঞতা তার কাছে নতুন নয়। তার দাবি, ধর্মীয় পোশাকের কারণে লন্ডনে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে অপমান বা হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়।   তিনি বলেন, কখনো তার দিকে থুতু ছোড়া হয়, কখনো ধাক্কা দেওয়া হয় কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরে আঘাত করে চলে যাওয়া হয়। এত ঘনঘন এমন ঘটনা ঘটে যে সবকিছু রিপোর্ট করতে গেলে তাকে প্রায় সব সময়ই পুলিশ স্টেশনে থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   ৩১ জুলাইয়ের বাসের ঘটনাটি সালসাবিল মেট্রোপলিটন পুলিশে রিপোর্ট করেননি। এর আগে ইসলামবিদ্বেষী হেইট ক্রাইমের একটি ঘটনা পুলিশকে জানিয়েও প্রত্যাশিত গুরুত্ব পাননি বলে তার অভিযোগ। সেই অভিজ্ঞতার কারণে নতুন করে পুলিশের কাছে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়েছেন তিনি।   লন্ডনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা সালসাবিল জানান, শহরটিতে তিনি আগে সব সময় নিরাপদ বোধ করতেন। কিন্তু গত প্রায় এক বছর ধরে সেই অনুভূতি বদলে গেছে। বিশেষ করে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে চলাচলের সময় নিরাপত্তাহীনতা বেশি অনুভব করছেন তিনি।   তার বক্তব্য, কোনো নারী হিজাব বা নিকাব পরবেন কি না, সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। পোশাকের কারণে কোনো নারীকে ভয় বা নির্যাতনের মধ্যে থাকতে হওয়া উচিত নয়।   ঘটনাটির ভিডিও দেখেছে বিবিসি। ভিডিও সামনে আসার পর ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের নিরাপত্তা, পুলিশিং ও এনফোর্সমেন্ট বিভাগের পরিচালক সিওয়ান হেওয়ার্ড ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, লন্ডনের পরিবহন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে গিয়ে কারও ভয় পাওয়া বা হয়রানির শিকার হওয়া উচিত নয়।   ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে যারা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন অথবা এ বিষয়ে তথ্য রয়েছে, তাদের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।   মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, তারা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সম্পর্কে অবগত এবং সালসাবিলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। পুলিশ বলেছে, লন্ডনের কোনো কমিউনিটিকেই ভয়ভীতি বা নির্যাতন সহ্য করতে হওয়া উচিত নয় এবং সব ধরনের হেইট ক্রাইম মোকাবিলায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   লন্ডনে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে রিপোর্ট হওয়া ধর্মভিত্তিক হেইট ক্রাইম ২৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে রিপোর্ট হওয়া ইসলামবিদ্বেষী অপরাধ বেড়েছে ৩১ শতাংশ।   লন্ডনের ভিকটিমস কমিশনার আন্দ্রেয়া সাইমনও মনে করেন, সালসাবিলের অভিজ্ঞতাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে পোশাক দেখে যাদের মুসলিম বা অন্য কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষ হিসেবে সহজেই চিহ্নিত করা যায়, তারা এমন ঘটনার বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।   ঘটনাটি এখন লন্ডনের পাবলিক ট্রান্সপোর্টে মুসলিম নারীদের নিরাপত্তা এবং হেইট ক্রাইম রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের আস্থার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ইসলাম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ব্রিটিশ ইহুদি নারী খলিলা লিস্টার
ইসলাম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ব্রিটিশ ইহুদি নারী খলিলা লিস্টার

লন্ডনের একটি ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা ব্রিটিশ নারী খলিলা লিস্টার জীবনের এক পর্যায়ে ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকে ধর্মটি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও ব্যক্তিগত উপলব্ধির পর ১৯ বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি একজন পাবলিক স্পিকার, যোগাযোগ প্রশিক্ষক এবং পাওয়ার অব ভয়েস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা।   নিজের ইসলাম গ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে কথা বলেছেন খলিলা। তার বক্তব্য ও একাধিক সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, মুসলিম হওয়ার আগে তিনি বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রেডিও উপস্থাপনা, অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং হিপহপ ঘরানার বিভিন্ন আয়োজনে কাজ করতেন তিনি। বিভিন্ন তারকার সাক্ষাৎকার নেওয়ার পাশাপাশি বড় মঞ্চেও কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল তার।   পেশাগতভাবে এগিয়ে গেলেও জীবনের অর্থ ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে তার মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। সেই সময় তার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু ইসলাম গ্রহণ করেন। বন্ধুর জীবনে পরিবর্তন দেখেই ইসলাম সম্পর্কে তার আগ্রহ আরও বাড়ে।   এক সাক্ষাৎকারে খলিলা জানিয়েছেন, শুরুতে ইসলামকে নিজের জীবনধারার সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়নি তার। মুসলিম নারীদের পোশাক ও জীবনযাপন থেকে শুরু করে ধর্মটির বিভিন্ন বিষয় তার কাছে অপরিচিত ছিল। তবে ইসলাম গ্রহণের পর নিজের বন্ধুর আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান এবং জীবনবোধে পরিবর্তন তাকে ধর্মটি সম্পর্কে আরও জানতে উৎসাহিত করে।   খলিলার ভাষ্য অনুযায়ী, তার বন্ধু প্রায় এক বছর ধরে তার সঙ্গে ইসলাম, হাদিস ও ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেও ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা ও চিন্তাভাবনা শুরু করেন। ধীরে ধীরে এক স্রষ্টার উপাসনা এবং ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের প্রতি আস্থা তৈরি হয় তার।   শেষ পর্যন্ত ১৯ বছর বয়সে শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেন খলিলা। নিজের পুরোনো জীবনধারার সঙ্গে নতুন ধর্মীয় বিশ্বাসের সমন্বয় করতে না পেরে সে সময় বিনোদন জগতের ক্যারিয়ার থেকেও সরে আসেন তিনি।   খলিলা নিজেই ২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ১৯ বছর বয়সে মুসলিম হওয়ার পর তার জীবনের অনেক কিছু বদলে যায়। যে মূল্যবোধের সঙ্গে তিনি আগে যুক্ত ছিলেন, ইসলাম গ্রহণের পর সেগুলোর অনেক কিছুর সঙ্গে আর নিজেকে মেলাতে পারছিলেন না। ফলে সে সময়ের পেশাগত জীবন ছেড়ে নতুনভাবে পথচলা শুরু করেন।   তার পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গেও ধর্মীয় এই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। খলিলা জানিয়েছেন, তার বাবা ছিলেন ইহুদি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাবার মৃত্যুর পর তিনি দাবি করেন, মৃত্যুর প্রায় ৩০ মিনিট আগে তার বাবা শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে পরে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।   ইসলাম গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে আবারও পেশাগতভাবে সক্রিয় হন খলিলা। বর্তমানে তিনি পাওয়ার অব ভয়েস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিশেষ করে মুসলিম নারী, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের পাবলিক স্পিকিং এবং যোগাযোগ দক্ষতার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।   তিনি ইসলাম চ্যানেলে উপস্থাপনার পাশাপাশি পাবলিক স্পিকিং কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চ ও অনুষ্ঠানে নিজের ধর্মীয় যাত্রা, মুসলিম নারীদের প্রতিনিধিত্ব এবং যোগাযোগ দক্ষতা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।   ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা থেকে ইসলাম গ্রহণ পর্যন্ত নিজের যাত্রাকে খলিলা ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আত্মঅনুসন্ধানের ফল হিসেবেই তুলে ধরেছেন। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধুর জীবনে ইসলামের প্রভাব প্রত্যক্ষ করা তাকে ধর্মটি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী করেছিল। সেই কৌতূহল থেকেই শুরু হওয়া অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত ১৯ বছর বয়সে তার ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
ভারতীয় তরুণী কিরণদীপ কৌর
যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসায় অবস্থানরত তরুণীকে ঘুমন্ত অবস্থায় ছুরিকাঘাতে মৃ ত্যু!

যুক্তরাজ্যের পশ্চিম লন্ডনের হেইস এলাকায় স্বামী ও তিন মাসের শিশুর পাশে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন ২৪ বছর বয়সী ভারতীয় তরুণী কিরণদীপ কৌর। বিদেশে উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেওয়া এই তরুণীর আকস্মিক মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে তাঁর পরিবার ও প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং কিরণদীপের মরদেহ নিজ জন্মভূমি ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই সকালে পশ্চিম লন্ডনের হেইস এলাকার আক্সব্রিজ রোডের একটি বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় কিরণদীপ তাঁর স্বামী ও তিন মাস বয়সী সন্তানের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন।   অভিযোগ, হঠাৎ এক ব্যক্তি ওই বাড়িতে ঢুকে কিরণদীপের ওপর হামলা চালায়। তাঁকে বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার শব্দ শুনে তাঁর স্বামী ঘুম থেকে জেগে উঠলেও ততক্ষণে হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।   জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে সকাল ৮টা ২৬ মিনিটে কিরণদীপকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়।   ঘটনার পর পুলিশ ৪৪ বছর বয়সী ড্যানিয়েল শন জেমস নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, একজনকে হত্যাচেষ্টা এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের প্রাথমিক শুনানিতে জানানো হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিহত পরিবারের পূর্বপরিচিত ছিলেন না এবং কিরণদীপের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   কিরণদীপ ২০২৪ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। তিনি ভারতের পাঞ্জাবের তারন তারান জেলার বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের স্বপ্ন ছিল, বিদেশে পড়াশোনা করে তিনি একটি ভালো ভবিষ্যৎ তৈরি করবেন। তাঁকে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর জন্য দরিদ্র পরিবারটি প্রায় ২৫ লাখ রুপি খরচ করেছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।   কিরণদীপের মা ও ভাই স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তাঁরা মেয়েকে নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। এমন মর্মান্তিক ঘটনার কথা তাঁরা কখনো কল্পনাও করেননি। তারা শুধু ন্যায়বিচার এবং কিরণদীপের মরদেহ দ্রুত গ্রামের বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ চান।   এদিকে মরদেহ ভারতে পাঠানো এবং শেষকৃত্যের খরচ বহনের জন্য যুক্তরাজ্যের সাউথহল এলাকার একটি গুরদ্বারা ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   কিরণদীপের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ভারতীয় ও পাঞ্জাবি সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক শোক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে মামলার অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বইমেলার উদ্বোধন, প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চায় গুরুত্বারোপ

সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকের উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে বইমেলা। শনিবার দুপুরে শুরু হওয়া এ আয়োজন সাহিত্যপ্রেমী, লেখক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।   একুশে পদকপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তী প্রধান অতিথি হিসেবে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অনুবাদক আনিসুজ্জামান এবং কবি শামীম আজাদ।   বইমেলা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকের সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উদয় শংকর দুর্জয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য দেন।   উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তী প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।   বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অনুবাদক আনিসুজ্জামান বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বপরিসরে পৌঁছে দিতে অনুবাদের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। কবি শামীম আজাদ বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে সাহিত্যচর্চার বিকল্প নেই।   অনুষ্ঠানে সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ লেখক মাসুক ইবনে আনিস এবং গবেষক ফারুক আহমদকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া ‘বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন হেনা বেগম।   উদ্বোধনী পর্ব শেষে অতিথিরা বইমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। দিনব্যাপী আয়োজনে বই প্রদর্শনী ও বিক্রির পাশাপাশি ছিল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বাংলা সাহিত্য, ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।  

Unknown জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
বজ্রঝড়ের কারণে এটিসি নিষেধাজ্ঞায় ব্রিটিশ এয়ারওয়েজসহ বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থার ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে | ছবি: পিএ
ভয়াবহ ঝড়-বৃষ্টিতে লন্ডনের হিথ্রো ও গ্যাটউইক বিমানবন্দর বিপর্যস্ত, শত শত ফ্লাইট বাতিল!

যুক্তরাজ্য ও ইউরোপজুড়ে রেকর্ড ভাঙা তীব্র দাবদাহের পর হঠাৎ বয়ে যাওয়া ভয়াবহ বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির কারণে লন্ডনের প্রধান দুটি বিমানবন্দর—হিথ্রো এবং গ্যাটউইকে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির কারণে দুই বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী ৬০০-এরও বেশি ফ্লাইট চরম বিলম্বের শিকার হয়েছে এবং কয়েক ডজন ফ্লাইট সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। ফলে তীব্র গরমের মধ্যে শত শত যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানের ভেতরেই আটকে আছেন।   যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ন্যাটস) জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে আবহাওয়া পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রতিকূল থাকায় এই অচলাবস্থা সারা দিন জুড়েই বজায় থাকতে পারে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটঅ্যাওয়ার'-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার হিথ্রো বিমানবন্দরের কমপক্ষে ৩৬৭টি এবং গ্যাটউইক বিমানবন্দরের ৩৫২টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। অনেক যাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তারা সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তীব্র গরমের মধ্যে বিমানের ভেতরেই বসে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।   শুধু লন্ডনেই নয়, ইতালির ভেনিসসহ ইউরোপের অন্যান্য বিমানবন্দরেও হিথ্রো ও গ্যাটউইকগামী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ২৯ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ যাত্রী জানান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) ছাড়াই ভেনিস বিমানবন্দরে তাদের অন্তত চার ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছে। এছাড়াও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এবং ইজিজেটের মতো বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাদের বেশ কিছু ফ্লাইট আগে থেকেই বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে এবং যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।   লন্ডনের প্রধান দুটি বিমানবন্দর ছাড়াও লিডস ব্র্যাডফোর্ড, এডিনবার্গ এবং লন্ডন সিটি এয়ারপোর্টেও এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেশ কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত ও বাতিল করা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিমানের এই শিডিউল বিপর্যয় ঠিক হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাস গড়ছে লন্ডন ম্যারাথন: ২০২৭ সালে হবে দুই দিনব্যাপী, অংশ নেবেন ১ লাখ দৌড়বিদ

বিশ্ববিখ্যাত ‘লন্ডন ম্যারাথন’ নিয়ে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছেন আয়োজকরা। আগামী ২০২৭ সালে এই প্রতিযোগিতাটি দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে। রেকর্ডসংখ্যক ১ লাখ দৌড়বিদকে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে এবং দাতব্য তহবিলের জন্য কোটি কোটি পাউন্ড সংগ্রহ করতেই এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের ২৪ ও ২৫ এপ্রিল (শনিবার ও রবিবার) এই মেগা ইভেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান গত মার্চ মাসেই একচেটিয়া প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন নিয়ে আলোচনা চলছে, যাকে আয়োজকরা ‘দ্য ডাবল’ নামে অভিহিত করেছেন। লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের কার্যালয় শুরুতেই এতে সমর্থন দিলেও লন্ডনের পরিবহন বিভাগ (টিএফএল) এবং অন্যান্য অংশীজনদের রাজি করাতে কিছুটা সময় লেগেছে। কারণ টানা দুই দিন পুরো যুক্তরাজ্যের রাজধানী স্তব্ধ বা বন্ধ রাখার বিষয়ে তাদের কিছুটা আপত্তি ছিল।   তবে শেষ পর্যন্ত ইতিহাস গড়ার এই আইডিয়াটি সবাই লুফে নেয়। আয়োজকদের আশা, এই দুই দিনের আয়োজন থেকে দাতব্য কাজের জন্য রেকর্ড ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বেশি) তহবিল উঠবে এবং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবদান দাঁড়াবে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ড।   লন্ডন ম্যারাথনের প্রধান নির্বাহী হিউ ব্র্যাশার বলেন, “২০২৭ সালের এই আয়োজনটি আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। ১ লাখ দৌড়বিদের জন্য দুয়ার খুলে দিয়ে আমরা আরও বেশি মানুষ, দাতব্য সংস্থা ও সম্প্রদায়কে বিশ্বের সেরা এই ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছি।”   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এক দিনে এলিট নারী, নারী প্যারা-অ্যাথলেট এবং প্রায় ৫০ হাজার সাধারণ দৌড়বিদ অংশ নেবেন। অন্য দিনে এলিট পুরুষ অ্যাথলেটদের পাশাপাশি বাকি ৫০ হাজার সাধারণ দৌড়বিদ দৌড়াবেন। তবে কোনো প্রতিযোগীই টানা দুই দিন অংশ নিতে পারবেন না। লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি যুক্তরাজ্যের ক্রীড়া ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তহবিল সংগ্রহের রেকর্ড তৈরি করবে।

তাবাস্সুম জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যের প্রিন্সেস অব ওয়েলস কেট মিডলটন | ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে কেট মিডলটনের চিকিৎসার তথ্য ফাঁসের চেষ্টা, সাবেক স্বাস্থ্যকর্মীকে শাস্তি

যুক্তরাজ্যের প্রিন্সেস অব ওয়েলস কেট মিডলটনের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত মেডিকেল রেকর্ড অনৈতিকভাবে হাতিয়ে নিয়ে তা অর্থের বিনিময়ে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রির চেষ্টা করায় এক সাবেক স্বাস্থ্যকর্মীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করেছে দেশটির তথ্য কমিশনারের কার্যালয় (আইসিও)। লন্ডনের একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা প্রিন্সেসের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষার নীতি ভাঙার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি বুধবার (১৭ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে লন্ডনের ওই বেসরকারি হাসপাতালটি (দ্য লন্ডন ক্লিনিক) তাদের এক কর্মীর বিরুদ্ধে কেটের চিকিৎসার নথিপত্রে অবৈধভাবে প্রবেশের গুরুতর অভিযোগটি প্রথম সামনে আনে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাজ্যের তথ্য ও প্রাইভেসির ডেটা ওয়াচডগ ‘আইসিও’ তাৎক্ষণিকভাবে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ওই সাবেক স্বাস্থ্যকর্মীকে ২০১৮ সালের ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্টের ধারা অনুযায়ী এই আনুষ্ঠানিক আইনি সতর্কতা (ফরমাল কশন) দেওয়া হয়েছে।   তদন্ত সংস্থা আইসিও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত তথ্যের ইচ্ছাকৃত অপব্যবহার করেছেন এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে তা বাইরে পাচারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা স্পষ্টতই একটি চরম বিশ্বাসভঙ্গ। ক্রাউন প্রসিকিউটরদের নীতিমালা এবং আইসিও-র নিজস্ব আইনি পদক্ষেপের নিয়মনীতি puঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন করেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় হাসপাতালের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় কোনো ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে একে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে একটি অজ্ঞাত শারীরিক সমস্যার কারণে এই লন্ডন ক্লিনিকে কেট মিডলটনের একটি পূর্বপরিকল্পিত পেটের অস্ত্রোপচার (অ্যাবডোমিনাল সার্জারি) করা হয়েছিল। সেখানে তিনি প্রায় দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ার বিষয়টি প্রকাশ পায়। প্রিন্সেস কেট ছাড়াও ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজা চার্লসও বিভিন্ন সময়ে এই নামী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।   আইসিও-র রেগুলেটরি সুপারভিশনের নির্বাহী পরিচালক ইয়ান হুলমে বলেন, "চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রে মানুষ যে ব্যক্তিগত তথ্য দেয়, তা যেন সবসময় সুরক্ষিত থাকে এবং কোনো ধরনের শোষণের শিকার না হয়, সেটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। যখন এই বিশ্বাসের জায়গাটি ভেঙে ফেলা হয়, তখন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া আমাদের দায়িত্ব।" হাসপাতালের এক মুখপাত্রও এই তদন্তের সমাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তারা সবসময় রোগীদের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তাবাস্সুম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
লন্ডনে এনসিপির সভা ঘিরে উত্তেজনা, ডিম নিক্ষেপ ও হাতাহাতি
লন্ডনে এনসিপির সভা ঘিরে উত্তেজনা, ডিম নিক্ষেপ ও হাতাহাতি; আটক ৩

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত একটি সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সভায় অংশ নিতে আসা দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।   স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ জুন) বিকেলে পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সভা শুরুর আগেই যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সেখানে বিক্ষোভ শুরু করেন। একই সময় এনসিপির সমর্থক ও কর্মীরাও ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে এনসিপি সমর্থকদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয়।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শেষ পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা পর হাসনাত আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই এলাকা ত্যাগ করেন।   এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, সভাস্থলের বাইরে একটি পার্ক এলাকায় হাঁটার সময় হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার সহযোগীদের অনুসরণ করে কয়েকজন বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তিনি পাশের একটি রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হক আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।   পরবর্তীতে এহতেশামুল হকের সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীমের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।   স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, আটক তিনজনের মধ্যে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেক রয়েছেন। তাকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ভ্যানে তোলার দৃশ্যও দেখা গেছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।   ঘটনার পর এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, হাসনাত আবদুল্লাহর সফরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা ও উসকানিমূলক আচরণ করেছেন। সংগঠনটির দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড তাদের রাজনৈতিক সহনশীলতার ঘাটতিরই বহিঃপ্রকাশ।   তবে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   লন্ডনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম ঘিরে মাঝে মধ্যেই উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ এই ঘটনাকে ঘিরেও প্রবাসী মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০