বিশ্ব

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কি লন্ডনে পৌঁছাতে পারে? ব্রিটিশ সরকারের ভিন্নমত

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মার্চ ২১, ২০২৬ ২১:৪৫
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের কাছে লন্ডন পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে—ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

 

ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি লন্ডনে পৌঁছাতে পারে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য তাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে দেশটির ক্যাবিনেট মন্ত্রী স্টিভ রিড বলেন, ইরান যুক্তরাজ্যকে লক্ষ্যবস্তু করছে বা তা করার সক্ষমতা রাখে—এমন সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন আমাদের কাছে নেই।

 

এর আগে আইডিএফ দাবি করেছিল, তেহরান-এর হাতে এমন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এদিকে সাম্প্রতিক এক ঘটনায় ইরান ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই ঘাঁটির দূরত্ব প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার।

 

স্টিভ রিড জানান, নিক্ষেপ করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং অন্যটি মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়। তবে এগুলো ব্রিটিশ ভূখণ্ডের কতটা কাছাকাছি পৌঁছেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

 

বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ৩,৮০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানার সক্ষমতা ইরানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তবে লন্ডন যেহেতু ইরান থেকে প্রায় ৪,৪০০ কিলোমিটার দূরে, তাই ব্রিটিশ সরকার এখনই এটিকে সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে না।

 

তবে ইসরায়েল বারবার সতর্ক করে বলছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ক্রমেই বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার পর সুইজারল্যান্ডে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আজ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার পর সুইজারল্যান্ডে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আজ

যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর পরবর্তী ধাপে আজ সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার (২০ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে আয়োজিত এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আলোচনায় মূলত যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এবং ভবিষ্যৎ শান্তিচুক্তির রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।   এই বৈঠকে অংশ নিতে ইতোমধ্যে ওয়াশিংটন থেকে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে দেশটির প্রতিনিধি দল জুরিখে পৌঁছেছে।   যদিও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, তবুও এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সেটি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান এই প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।   এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে যোগ দেবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ১৪ দফা চুক্তির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধের বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত প্রমাণ তার কাছে নেই।   অন্যদিকে ইরানও জানিয়েছে, তারা একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করবে। তবে এর মাঝেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ইরান আবারও হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে। দেশটির সামরিক কমান্ডের কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। তারা এটিকে ‘প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেছে, আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।   উল্লেখ্য, কাতার ও পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের লুজানের কাছাকাছি বুর্গেনস্টক রিসোর্টে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা খসড়া সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতেই আগামী ৬০ দিনের জন্য একটি রোডম্যাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির পথ সুগম করা।   বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক সফল হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ১:৩১
স্পেনের পাহাড়চূড়ার রহস্যময় প্রাসাদ

স্পেনের পাহাড়চূড়ার রহস্যময় প্রাসাদ: সত্যিই কি পুতিনের ‘গোপন ভিলা’?

ছবি: সংগৃহীত

চুক্তি না হলে হরমুজ প্রণালিতে টোল বসানোর হুমকি ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপে যাওয়ার পথে নৌকাডুবি, লিবিয়ার উপকূলে ভেসে এল ১৫ অভিবাসীর মরদেহ

ছবি: সংগৃহীত
জাপান যেতে বাড়বে খরচ, বিদেশিদের জন্য বাড়ছে ভিসা ফি

প্রায় পাঁচ দশক পর বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই ফি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।   জাপানের মন্ত্রিসভা শুক্রবার এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১ জুলাই বা এর পর জমা দেওয়া সব ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সংশোধিত ফি প্রযোজ্য হবে।   নতুন কাঠামো অনুযায়ী, একবার প্রবেশের (সিঙ্গেল এন্ট্রি) ভিসার ফি ৩ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার ইয়েন করা হয়েছে। একইভাবে একাধিকবার প্রবেশের (মাল্টিপল এন্ট্রি) ভিসার ফি ৬ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার ইয়েন নির্ধারণ করা হয়েছে।   জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বর্তমান ভিসা ফি সর্বশেষ ১৯৭৮ সালে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তিত হয়েছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, “বিভিন্ন বিষয় সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে জাপানে আগত পর্যটকের সংখ্যার ওপর তাৎক্ষণিক কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমরা মনে করি না।”   গত মাসে জাপানের পার্লামেন্টে একটি আইন পাস হয়, যার মাধ্যমে সরকারকে অভিবাসন ও আবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন ফি বাড়ানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের মতে, বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসনিক ব্যয়ও বেড়েছে। নতুন ফি থেকে পাওয়া অর্থ সেই ব্যয় মেটাতে সহায়তা করবে।   জাপান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ভিসা ফিই নয়, আবাসিক মর্যাদা পরিবর্তন, ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং স্থায়ী বসবাসের আবেদন সংক্রান্ত ফিও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।   সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, আবাসিক মর্যাদা পরিবর্তন এবং অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন ফি আবেদনভেদে ১০ হাজার থেকে ৭০ হাজার ইয়েন পর্যন্ত হতে পারে।   এছাড়া স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন ফি বর্তমান ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ইয়েন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জাপানি সংবাদমাধ্যম নিপ্পনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মার্চে চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই এসব পরিবর্তন কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।   সরকার বলছে, অতিরিক্ত রাজস্ব অভিবাসন সেবা উন্নয়ন, জাপানি ভাষা শিক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম জোরদারে ব্যয় করা হবে।   জাপানের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে। কর্মসংস্থান, উচ্চশিক্ষা এবং দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, জাপান দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলকভাবে কম অভিবাসন ফি বজায় রেখেছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশটি উন্নত অর্থনীতির অন্যান্য দেশের সঙ্গে ফি কাঠামোর সামঞ্জস্য আনতে চাচ্ছে। অনেক উন্নত দেশে ভিসা ও আবাসন-সংক্রান্ত আবেদন ফি জাপানের তুলনায় অনেক বেশি।   নতুন ফি কাঠামো কার্যকর হলে জাপানে ভ্রমণ, পড়াশোনা বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের পরিকল্পনা থাকা বিদেশি নাগরিকদের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ২৩:১২
ছবি: সংগৃহীত

‘আমার জনপ্রিয়তা নয়, নিজেরটা দেখুন’, ট্রাম্পকে কড়া জবাব মেলোনির

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ ৬ ফিলিস্তিনি নিহত, প্রাণ হারালেন আল জাজিরার ক্যামেরাপারসনও

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কাল পদত্যাগ করতে পারেন

ছবি: সংগৃহীত
গেমিং জগতের শোক, বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ইউবিসফটের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন

বিশ্বখ্যাত ভিডিও গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউবিসফটের (Ubisoft) সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্লদ গুইলেমো ফ্রান্সে এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হলে তাঁর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় বিমানটির প্রশিক্ষক পাইলটও প্রাণ হারিয়েছেন।   ফরাসি কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট সেসনা ৪২১ মডেলের বিমানটি আটলান্টিক উপকূলবর্তী লা বোল বিমানবন্দরের কাছে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সেই সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি খোলা মাঠে বিধ্বস্ত হয়।   লা বোল শহরের মেয়র ফ্রাঙ্ক লুভরিয়ে এক বিবৃতিতে জানান, বিমানটিতে থাকা ক্লদ গুইলেমো এবং তাঁর সঙ্গে থাকা ফ্লাইট প্রশিক্ষক দুজনই অভিজ্ঞ ও লাইসেন্সধারী পাইলট ছিলেন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।   ঘটনার পর ইউবিসফট ক্লদ গুইলেমোর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। গেমিং শিল্পের অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান ইউবিসফট ১৯৮৬ সালে ক্লদ গুইলেমো ও তাঁর চার ভাই মিলে প্রতিষ্ঠা করেন। ছোট একটি পারিবারিক উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে বিশ্বের বৃহৎ ভিডিও গেম নির্মাতাদের কাতারে জায়গা করে নেয়।   বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ‘অ্যাসাসিনস ক্রিড’ সিরিজ ইউবিসফটের সবচেয়ে পরিচিত গেমগুলোর একটি। ইতিহাসভিত্তিক এই অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার সিরিজ কোটি কোটি খেলোয়াড়ের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এছাড়া ‘জাস্ট ড্যান্স’, ‘রেম্যান’ এবং ‘টম ক্ল্যান্সি’ সিরিজের বিভিন্ন গেমও ইউবিসফটের সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   প্রযুক্তি ও বিনোদন খাতের বিশ্লেষকদের মতে, ইউবিসফট শুধু একটি গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং আধুনিক গেমিং শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড। সেই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতার আকস্মিক মৃত্যু গেমিং জগতে শোকের আবহ তৈরি করেছে।   বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা এপিকে জানিয়েছেন, বিমানটি অবতরণের ঠিক আগে দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তদন্তকারীরা বিমানটির কারিগরি অবস্থা, আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং ফ্লাইট সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গেমপ্রেমী ও প্রযুক্তি অঙ্গনের ব্যক্তিরা ক্লদ গুইলেমোর প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। অনেকেই তাঁকে ইউরোপের গেমিং শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ২১:১
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণায় লেবাননে হামলা বন্ধের নির্দেশ নেতানিয়াহুর

ছবি: পৃষ্ঠা ছয়

ইলন মাস্কের প্রস্তাবিত ৪০ মিলিয়ন ডলারের এনডিএ প্রত্যাখ্যান করলেন অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার

ছবি: সিএনএন

কাতারের উপহার দেওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

0 Comments