শিশু নিরাপত্তা

মিশিগানে পোষা কুকুরের হামলার ঘটনাটি নতুন করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ১১ মাসের শিশুর ওপর পোষা কুকুরের হামলায় খসে পড়ল শিশুর গালের মাংস, একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও রয়ে গেছে দাগ

ঘরের দীর্ঘদিনের পোষা প্রাণী যে এভাবে নিজের সন্তানের ওপর হিংস্র হয়ে উঠবে, তা কখনো কল্পনাও করতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের অ্যান আরবার শহরের বাসিন্দা হেদার হ্যারিস ও নিকোলাস হ্যারিস দম্পতি। তাদের মাত্র ১১ মাস বয়সী শিশুকন্যা সাভানা হ্যারিসের ওপর হামলা চালিয়ে গালের একটি বড় অংশের মাংস খুবলে নিয়েছে তাদেরই পোষা জার্মান শিকারি প্রজাতির ওয়াইমারেনার কুকুর। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর শিশুটিকে বাঁচাতে বেশ কয়েকটি জটিল অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। তবে ঘটনাটির পেছনে মায়ের দাবি আরও চমকপ্রদ—তার মতে, কুকুরটি তাকে এতটাই অপছন্দ করত যে প্রতিশোধ নিতেই সে তার নিষ্পাপ মেয়ের ওপর আক্রমণটি চালায়।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'কেনেডি নিউজ অ্যান্ড মিডিয়া' এবং 'পিপল'-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে হেদার ও নিকোলাস দম্পতি মাত্র আট সপ্তাহ বয়সী 'রেমিংটন' নামের একটি ওয়াইমারেনার প্রজাতির কুকুর ঘরে আনেন। হেদারের স্বামী নিকোলাস ছোটবেলা থেকেই এই প্রজাতিটি পছন্দ করতেন। তবে কুকুরটি ধীরে ধীরে তার স্বামীর প্রতি অত্যন্ত আসক্ত হয়ে উঠলেও হেদারকে একেবারেই দেখতে পারত না।   হেদার জানান, রেমিংটন তার স্বামীর খুব কাছের হলেও তার প্রতি এক ধরনের বিরূপ মনোভাব দেখাত। এর আগে অন্য একটি পোষা কুকুরের ওপর আক্রমণ করায় তাকে পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রায় আট মাস তাকে মেজাজ শান্ত রাখার ওষুধ (মুড স্ট্যাবিলাইজার) খাইয়ে রাখা হয়েছিল।   ২০২৩ সালে এই দম্পতির কোল আলো করে আসে কন্যাসন্তান সাভানা। এর ফলে পরিবারের গতিশীলতা কিছুটা বদলে যায়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঘটে সেই মর্মান্তিক ঘটনা। তখন ১১ মাস বয়সী সাভানা তার ওয়াকারে চড়ে ঘরের রান্নাঘরে ঘুরছিল। হেদার জানান, তিনি সব সময় সতর্ক থাকতেন যেন শিশুটিকে ওই কুকুরের সাথে একা না রাখা হয়।   হঠাৎ করেই তিনি রেমিংটনের গর্জন শুনতে পান এবং পরক্ষণেই মেয়ের বিকট চিৎকার শুনে দৌড়ে ঘরে যান। সেখানে গিয়ে যা দেখেন, তা তাকে স্তব্ধ করে দেয়। রেমিংটন ততক্ষণে সাভানার গালে কামড় দিয়ে এক টুকরো মাংস ছিঁড়ে নিচে ফেলে দিয়েছে। চারপাশ রক্তে ভেসে যাচ্ছিল এবং শিশুটি ব্যথায় অনবরত চিৎকার করছিল।   তাত্ক্ষণিকভাবে সাভানাকে শিশুদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা বায়োপ্রকৌশলভিত্তিক কৃত্রিম ত্বক প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে গালের কোষ পুনর্গঠনের চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তার মুখমণ্ডলের ক্ষতের দাগ কমাতে আরও একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে দুই বছর বয়সী সাভানার মুখে আগামী মাসে আরও একটি চূড়ান্ত অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে।   হেদার জানান, রেমিংটনের কামড়টি স্নায়ুর এত কাছাকাছি ছিল যে সামান্য এদিক-ওদিক হলেই হয়তো তার মেয়ের জীবনই চলে যেত। চিকিৎসকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও শিশুটির গালে সারা জীবন এই ক্ষতের চিহ্ন থেকে যাবে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে ও পরিবারের নিরাপত্তায় রেমিংটনকে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে মেরে ফেলা হয় (ইউথানেশিয়া)।   পুরো ঘটনার পেছনের কারণ বলতে গিয়ে হেদার বলেন, "আমার মনে হয় এই আক্রমণটি মূলত আমার দিকেই নিশানা করা ছিল। সাভানা জন্মানোর পর থেকে কুকুরটি আমার স্বামীর প্রতি আরও বেশি ব্যাকুল হয়ে ওঠে। আমি অনুভব করতাম, আমাকে আঘাত করার জন্য সে আমার মেয়েকে বেছে নিয়েছিল।"   ঘটনাটি থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যান্য অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে হেদার সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, "ঘরে যদি ছোট বাচ্চা থাকে এবং পোষা প্রাণীর মধ্যে কোনো ধরনের সহিংস বা আগ্রাসী মনোভাব দেখা যায়, তবে তাকে অবিলম্বে ঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত। কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়।"

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বহনকারী স্কুলবাসে অশালীন আচরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন স্টিভেন এডওয়ার্ড উইলকিন্স। ছবি: সংগৃহীত
স্কুলবাসে অশালীন আচরণের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক বাসচালকের ২০ বছরের সাজা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গুইনেট কাউন্টিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি স্কুলবাসে অশালীন যৌন আচরণের অভিযোগে সাবেক এক বাসচালককে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে পাঁচ বছর তাকে কারাগারে কাটাতে হবে। পাশাপাশি তাকে আজীবনের জন্য শিশু-যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকতে হবে এবং কোনো অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না।   গুইনেট কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম স্টিভেন এডওয়ার্ড উইলকিন্স (৬৭)। তিনি ২০২৩ সালে গুইনেট কাউন্টির একটি স্কুল জেলায় বাসচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।   আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চারটি ভিন্ন দিনে সুওয়ানি এলিমেন্টারি স্কুল-এর বাস লেনে অপেক্ষা করার সময় বাসের ভেতরে তিনি অশালীন যৌন আচরণ করেন। প্রতিটি ঘটনায় বাসে অন্তত একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।   বিচার চলাকালে প্রসিকিউশন আদালতে বাসের নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিও উপস্থাপন করে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিভিন্ন দিনে তিনি দুই মিনিট থেকে প্রায় ২০ মিনিট পর্যন্ত ওই অশালীন আচরণে লিপ্ত ছিলেন।   ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন এক অভিভাবক নিজের সন্তানকে স্কুলবাসে তুলে দেওয়ার সময় চালকের সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। এরপর তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের ভিত্তিতে স্টিভেন উইলকিন্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ গঠনের পরই তাকে স্কুল জেলা থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বিচার শেষে আদালত তাকে শিশু শ্লীলতাহানির ছয়টি অভিযোগ এবং প্রকাশ্যে অশালীন আচরণের চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে চার দিনের ঘটনায় মোট কতজন শিক্ষার্থী তার আচরণের মুখোমুখি হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। একইভাবে কারাদণ্ডের পর অবশিষ্ট ১৫ বছরের প্রবেশনের বিস্তারিত শর্তও প্রকাশ করা হয়নি।   গুইনেট কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি প্যাটসি অস্টিন-গ্যাটসন এক বিবৃতিতে বলেন, অভিযুক্তের আচরণ "একেবারেই জঘন্য এবং অগ্রহণযোগ্য।" তিনি বলেন, "আমরা সব ধরনের ভুক্তভোগীর সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বিশেষ করে যারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। আগামী ২০ বছর এই আসামির ওপর কঠোর নজরদারি থাকবে এবং তাকে সারাজীবন তার কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে।"   আদালতের রায় অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কারাভোগের পর উইলকিন্সকে প্রবেশনের আওতায় থাকতে হবে। এছাড়া আজীবনের জন্য শিশু-যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হবে এবং তিনি কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না।   সূত্র: গুইনেট কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
কিশোরীকে প্রলোভন দেখানোর অভিযোগে সন্দেহভাজন ব্যক্তির খোঁজ করছে শিকাগো পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
শিকাগোয় কিশোরীকে অপহরণের চেষ্টা, ‘বাড়তি আয়ের’ লোভ দেখিয়ে প্রলোভন ডেলিভারি ম্যানের

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের নরউড পার্ক এলাকায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অতিরিক্ত আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিজের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাটিকে সম্ভাব্য শিশু প্রলুব্ধ করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করে এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে শিকাগো পুলিশ বিভাগ (সিপিডি)।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি৭ শিকাগো এবং শিকাগো পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নরউড পার্ক এলাকার নর্থ নেপার অ্যাভিনিউয়ের ৬২০০ ব্লকে ঘটে। পুলিশ জানায়, ওই সময় ১৩ বছর বয়সী কিশোরীটি নিজের বাড়ির সামনের বারান্দায় বসে ছিল। এ সময় একটি পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পোশাক পরা এক ব্যক্তি তার কাছে এসে কথা বলতে শুরু করেন।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি কিশোরীকে বলেন, সে চাইলে 'অতিরিক্ত কিছু অর্থ উপার্জন' করতে পারে। এরপর তিনি দাবি করেন, কীভাবে তা সম্ভব, সেটি তিনি নিজের মোবাইল ফোনে দেখাতে পারবেন। পরে কিশোরীকে তার সঙ্গে যাওয়ারও প্রস্তাব দেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে কিশোরী কোনো কথায় সাড়া না দিয়ে দ্রুত বাড়ির ভেতরে চলে যায়। এতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলে তদন্ত শুরু হয়।   শিকাগো পুলিশ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য শিশু প্রলুব্ধ করার ঘটনা হিসেবে তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তার উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি থেকে ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি। তার মাথায় লম্বা ড্রেডলকস ধরনের চুল ছিল। ঘটনার সময় তিনি একটি পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীর পরিচয়ে সেখানে এসেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।   তদন্তকারীরা আশপাশের এলাকার নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করছেন এবং ওই সময় এলাকায় থাকা সম্ভাব্য সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলছেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে জনগণের সহযোগিতাও চেয়েছে পুলিশ। শিকাগো পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে এরিয়া-৫ গোয়েন্দা বিভাগে যোগাযোগ করতে অথবা পুলিশের নির্ধারিত অনলাইন টিপস পোর্টালের মাধ্যমে গোপনীয়ভাবে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।   ঘটনার পর অভিভাবকদের শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা, অর্থ বা উপহারের প্রলোভনে সাড়া না দেওয়া এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার বিষয়ে সচেতন করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে মাল্টনোমাহ কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত
পোর্টল্যান্ডের পার্কে ৭ বছরের শিশুকে অপহরণের চেষ্টা, পথচারীদের সহায়তায় গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ড শহরের একটি নদীতীরবর্তী পার্কে ৭ বছর বয়সী এক পর্যটক শিশুকে তার মায়ের কাছ থেকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ৩১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের সদস্য ও আশপাশে থাকা কয়েকজন পথচারীর দ্রুত হস্তক্ষেপে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।   পোর্টল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে টম ম্যাককল ওয়াটারফ্রন্ট পার্কে এক ব্যক্তি অস্বাভাবিক আচরণ করছেন এবং পোশাকবিহীন অবস্থায় দৌড়াচ্ছেন বলে একাধিক ফোনকল আসে। একজন কলকারী অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি তাকে মাথায় আঘাত করারও চেষ্টা করেছিলেন।   তবে সে সময় জরুরি অন্য ঘটনার কারণে সব পুলিশ সদস্য ব্যস্ত থাকায় ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে পাঠানো সম্ভব হয়নি বলে জানায় পুলিশ। প্রায় ১২ মিনিট পর আরেকটি জরুরি ফোনকলে জানানো হয়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি ৭ বছর বয়সী শিশুর হাত ধরে তাকে তার মায়ের কাছ থেকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাছাকাছি উইলামেট নদীতে সাঁতার কাটতে থাকা ওই ব্যক্তিকে আটক করে।   গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম ড্যানিয়েল ভেসি (৩১)। তার বিরুদ্ধে প্রথম ও দ্বিতীয় ডিগ্রির অপহরণের চেষ্টা, বৈধ অভিভাবকের হেফাজতে হস্তক্ষেপ, তৃতীয় ডিগ্রির হামলা এবং হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে মাল্টনোমাহ কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ড্যানিয়েল ভেসি শিশুটির একটি হাত ধরে টানতে শুরু করেন। তখন শিশুটির মা অন্য হাত ধরে তাকে নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে দুই দিক থেকে টানাটানির কারণে শিশুটি মাটি থেকে কিছুটা ওপরে উঠে যায়।   এ সময় শিশুটির বাবা এবং আশপাশে থাকা কয়েকজন পথচারী দ্রুত এগিয়ে এসে সন্দেহভাজনকে প্রতিরোধ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, উপস্থিত কয়েকজন তাকে ধাক্কা দেন, চড়-ঘুষি মারেন এবং জোর করে শিশুটিকে তার কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেন। একজন পথচারী অন্যদের নিরাপদ রাখতে সন্দেহভাজনের দিকে মরিচের স্প্রেও ব্যবহার করেন। ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা শিশুটিকে ঘটনাস্থলেই পরীক্ষা করেন। তার শরীরে কয়েকটি আঁচড়ের দাগ পাওয়া গেলেও গুরুতর কোনো আঘাত ছিল না। তাই তাকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।   তদন্তে আরও জানা গেছে, শিশুটি ও তার পরিবার অন্য একটি অঙ্গরাজ্য থেকে পোর্টল্যান্ডে বেড়াতে এসেছিলেন। ঘটনার সময় তারা টম ম্যাককল ওয়াটারফ্রন্ট পার্কে অবস্থান করছিলেন।   পোর্টল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণ তদন্ত চলছে। সন্দেহভাজনের উদ্দেশ্য, মানসিক অবস্থা এবং ঘটনার পেছনের অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী মামলায় আরও অভিযোগ যুক্ত হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
আদালতে জমা দেওয়া নথির স্থিরচিত্রে ধরা পড়েছে ঘটনার মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৩ মাসের শিশুকে ওপরে ছুড়ে দেন ডে-কেয়ার কর্মী, পরে মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে ২৩ মাস বয়সী এক শিশুকে খেলার সময় ওপরে ছুড়ে দিয়ে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় সে মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির বাবা-মায়ের করা এক মামলায় দাবি করা হয়েছে, ওই দুর্ঘটনায় তার মস্তিষ্কে আঘাত লাগে এবং শ্রবণশক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার এল সেগুন্দো শহরের দ্য বে ক্লাব ক্লাবহাউস-এ ঘটে। মামলায় শিশুটির পরিচয় গোপন রাখতে তাকে "সি.কে." নামে উল্লেখ করা হয়েছে।   আদালতে দাখিল করা নথিতে থাকা স্থিরচিত্রে দেখা যায়, ডে-কেয়ার কেন্দ্রের এক কর্মী শিশুটিকে দুই হাত ধরে খেলাচ্ছলে ওপরে ছুড়ে দেন। এক পর্যায়ে তিনি শিশুটিকে ধরতে ব্যর্থ হন। এতে শিশুটি মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে ওই কর্মীও শিশুটির ওপর পড়ে যান। মামলায় বলা হয়েছে, পড়ে যাওয়ার সময় শিশুটির মাথায় আঘাত লাগে। এরপর সে জোরে কান্না শুরু করে। কক্ষে উপস্থিত অন্য প্রাপ্তবয়স্করাও ঘটনাটি দেখে হতবাক হয়ে যান।   শিশুটির বাবা-মা ম্যাট ও এলেনা কিটলের অভিযোগ, ওই দুর্ঘটনায় তাদের সন্তানের ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি (মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত) হয় এবং তার শ্রবণশক্তিরও ক্ষতি হয়। মামলায় দাবি করা হয়েছে, এখনো সে ওই আঘাতের প্রভাব বহন করছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে ম্যাট কিটল শিশুটিকে ডে-কেয়ারে রেখে যান। কিছুক্ষণ পর ডে-কেয়ার কর্তৃপক্ষ ফোন করে জানায়, শিশুটি পড়ে গিয়েছিল, তবে এখন শান্ত রয়েছে এবং তাকে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।   প্রায় ১৫ মিনিট পর আবার ফোন করে জানানো হয়, শিশুটিকে আর শান্ত করা যাচ্ছে না, তাই তাকে নিয়ে যেতে হবে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তখনও কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের কাছে বিষয়টিকে একটি সামান্য দুর্ঘটনা হিসেবেই উপস্থাপন করেছিল। শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর তার ডান পাশের মুখে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন, ডান চোখ ফুলে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মুখে ফোলাভাব দেখা যায়। এছাড়া সে অস্বাভাবিকভাবে ঝিমিয়ে পড়ে এবং বিরক্তিকর আচরণ করতে থাকে।   পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাকে টরেন্স হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা মাথায় গুরুতর আঘাত শনাক্ত করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আরও বলা হয়েছে, প্রথমে ডে-কেয়ারের এক কর্মী দাবি করেছিলেন, শিশুটি মাত্র দেড় ফুট উচ্চতা থেকে পড়েছিল। কিন্তু পরে সিসিটিভি ভিডিও দেখে বাবা-মায়ের দাবি, শিশুটি অন্তত ছয় ফুট ওপরে উঠেছিল, সেখান থেকে মাটিতে পড়ে যায়।   এছাড়া মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, দ্য বে ক্লাব ক্যালিফোর্নিয়ার সামাজিক সেবা বিভাগের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডে-কেয়ার কেন্দ্র নয়। তবুও তারা নিজেদের আইনের আওতার বাইরে বলে দাবি করে শিশুদের তত্ত্বাবধান করছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   শিশুটির বাবা-মা মামলায় অবহেলা, শারীরিক ক্ষতি, প্রতারণা এবং মানসিক ক্ষতির অভিযোগ এনেছেন। তারা আদালতের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন, যার পরিমাণ জুরি বোর্ড নির্ধারণ করবে।   মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা

যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামসহ প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকার শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।   সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ওয়েবসাইটে লাইভস্ট্রিমিং সুবিধা সীমিত করা এবং অনলাইন গেমের ভেতরে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।   সরকারি সূত্রগুলো এই পরিকল্পনাকে “অস্ট্রেলিয়া-প্লাস” হিসেবে বর্ণনা করেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা প্রথম দেশ হিসেবে এই ধরনের পদক্ষেপ নেয়। যুক্তরাজ্যের প্রস্তাবিত নীতিটি সেই ব্যবস্থার চেয়েও বেশি কঠোর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, “অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষিত রাখা আমাদের সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। একজন বাবা হিসেবে আমি জানি, প্রতিটি অভিভাবকই চান তাঁদের সন্তান নিরাপদ পরিবেশে বড় হোক।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান ডিজিটাল কাঠামো শিশুদের যথাযথ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।   দ্য সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা মোট ১০টি বড় প্ল্যাটফর্মে কার্যকর হতে পারে। এর মধ্যে টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামের পাশাপাশি ইউটিউব, রেডিট, টুইচ, এক্স, থ্রেডস, ফেসবুক ও কিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সময়সীমা নির্ধারণ, রাতের কারফিউ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।   সরকারের তিন মাসব্যাপী এক গণপরামর্শে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ অভিভাবক ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত দেন।   তবে এই প্রস্তাব ঘিরে সমালোচনাও রয়েছে। অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখে ১৪ বছর বয়সে আত্মহত্যা করা কিশোরী মলি রাসেলের বাবা ইয়ান রাসেল এই উদ্যোগকে “অত্যন্ত দুঃখজনক” এবং “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে মন্তব্য করেছেন।   তার মতে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিশুদের মধ্যে ভুয়া নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে পারে এবং তারা অনলাইন জগতের আরও ঝুঁকিপূর্ণ অংশে প্রবেশ করতে পারে।   অন্যদিকে ব্রিটেনের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী লিসা নন্দী জানিয়েছেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য। এখন শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

Unknown জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আইনিভাবে বাবার ‘ক্রুজ’ পদবি বাদ দিয়ে নতুন নাম গ্রহণ করেছেন সুরি। ছবি: সংগৃহীত

কোটি টাকার সম্পত্তি ও পরিচয় ছেড়ে আইনিভাবে বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন টম ক্রুজের মেয়ে সুরি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০