মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত কমাতে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শেহবাজ শরিফ। তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-কে পরামর্শ দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে সংলাপে বসার জন্য। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ঈদুল ফিতর ও নওরোজ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য ২২ মার্চ টেলিফোনে কথা বলেন দুই নেতা। সেই কথোপকথনেই আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন শেহবাজ শরিফ। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আলাপচারিতা ছিল আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। ইরানের জনগণের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের জনগণকে ঈদ ও নওরোজের শুভেচ্ছা জানান প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। অন্যদিকে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন শেহবাজ শরিফ এবং সংঘাতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সংলাপ ও কূটনীতিই সবচেয়ে কার্যকর পথ। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, ইরান ও পাকিস্তান-এর মধ্যে সীমান্ত রয়েছে এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও তুলনামূলকভাবে সুদৃঢ়। দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে বিরোধ চলছে। এ ইস্যুতে সমাধানের লক্ষ্যে ফেব্রুয়ারির শুরুতে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। সূত্র : জিও টিভি
বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রভাব মোকাবিলায় কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে সরকারি গাড়িতে হাই-অকটেন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। আজ সোমবার এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এখন থেকে সরকারি কোনো গাড়িতে উন্নতমানের পরিশোধিত জ্বালানি (হাই-অকটেন) ব্যবহার করা যাবে না। এ নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ওই জ্বালানির ব্যয় তাদের ব্যক্তিগতভাবে বহন করতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানেও এর প্রভাব পড়েছে। এর আগে গতকাল রোববার বিলাসবহুল গাড়িতে ব্যবহৃত হাই-অকটেন জ্বালানির ওপর প্রতি লিটারে সারচার্জ ২০০ রুপি বাড়িয়ে মোট ৩০০ রুপি নির্ধারণ করা হয়। তবে গণপরিবহন ও বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানির ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি প্রযোজ্য হয়নি। সরকারের ধারণা, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতি মাসে প্রায় ৯০০ কোটি রুপি সাশ্রয় হবে। সাশ্রয় হওয়া অর্থ জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একই সঙ্গে এ পদক্ষেপে ধনীদের ওপর ব্যয়চাপ বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতির চাপ কিছুটা কমবে বলেও মনে করছে সরকার। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এর আগে সরকার আরও কিছু সাশ্রয়ী উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সরকারি গাড়ির জ্বালানি ভাতা ৫০ শতাংশ কমানো, চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু এবং সরকারি কর্মচারীদের আংশিকভাবে বাসা থেকে কাজের নির্দেশনা। তবে জরুরি সেবাগুলো এসব সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন সরকার বিভিন্ন মিতব্যয়ী পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এ ঘোষণা দেন। বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় পাকিস্তানে পেট্রল ও ডিজেলের দাম ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটি ব্যয় সংকোচন ও সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, পুরো অঞ্চল বর্তমানে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে, যা শান্ত করতে পাকিস্তান কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। ব্যয় সংকোচনের পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে সরকারি গাড়িতে জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো, সরকারি কর্মকর্তা ও সংসদ সদস্যদের বেতন কাটা, সরকারি দপ্তরের ব্যয় ২০ শতাংশ কমানো, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ সফর নিষিদ্ধ, মাসিক বেতন ৩ লাখ রুপির বেশি কর্মকর্তাদের দুই দিনের বেতন কাটা, সরকারি নৈশভোজ ও ইফতার পার্টি বন্ধ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৫০ শতাংশ কর্মী ওয়ার্ক ফ্রম হোম এবং স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাস। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারের লক্ষ্য দেশীয় অর্থনীতিতে চাপ কমানো এবং জনসাধারণের ওপর তেলের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব সীমিত করা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে পাকিস্তান ‘অসাধারণভাবে ভালো’ অবস্থায় রয়েছে। শুক্রবার ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “পাকিস্তানের একজন দারুণ প্রধানমন্ত্রী আছেন। সেখানে একজন অসাধারণ জেনারেলও আছেন—একজন শক্তিশালী নেতা। তাঁদের দুজনকেই আমি অত্যন্ত সম্মান করি।” পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনায় হস্তক্ষেপের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, “আমি চাইলে হস্তক্ষেপ করতে পারি। তবে আপনারা জানেন, পাকিস্তানের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো—অত্যন্ত ভালো।” চাইলে আরও সংক্ষিপ্ত, আনুষ্ঠানিক বা সংবাদ শিরোনাম উপযোগী করে লিখে দিতে পারি। সূত্র: আল জাজিরা।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান–এর শপথ গ্রহণকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। নিরঙ্কুশ নির্বাচনী জয়ের পর দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের শুভেচ্ছা বার্তা দুই দেশের সম্পর্কের সম্ভাব্য নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে অভিনন্দন জানানোয় বিষয়টি কূটনৈতিক মহলে গুরুত্ব পেয়েছে। খবর প্রকাশ করেছে দ্য ডন। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনকে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় দুই দশক পর সরকার গঠন করে দলটি নতুন বাস্তবতায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদের অভিনন্দন বার্তা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা তৈরির কূটনৈতিক ইঙ্গিতও বহন করছে। জয়ের পরপরই অভিনন্দনের ঢল শপথের পর পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং নির্বাচনে বিএনপির ‘নির্ণায়ক বিজয়’-এর প্রশংসা করেন। প্রেসিডেন্ট সচিবালয়ের বার্তায় বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি কামনা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। পৃথক বার্তায় শাহবাজ শরিফ বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে সহযোগিতা বাড়াতে এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে তিনি তার ‘ভাই’ তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাষা ব্যক্তিগত উষ্ণতা ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের সম্ভাবনা—দুটিকেই সামনে এনেছে। নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিলেন, যখন দেশের অর্থনীতি ও শিল্পখাত পুনরুদ্ধার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর উত্তরসূরি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–র সন্তান হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা দীর্ঘদিনের। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট অস্থিরতায় তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন—এই তিনটি বিষয় নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসেন পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’-এর সাক্ষী হতে পেরে পাকিস্তান সম্মানিত। নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য শুভকামনাও জানান তিনি। ঢাকা সফরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস–এর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পায়। সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বার্তাগুলোতে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, একাডেমিক বিনিময়, যুব উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সহযোগিতা শুধু দ্বিপাক্ষিক নয়, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে ভারত থেকেও তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে, যা নতুন সরকারের কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তানের উষ্ণ বার্তা ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা—এই সমীকরণই নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বড় পরীক্ষা হতে পারে। কূটনৈতিক মহলের মতে, শাহবাজ শরিফের ‘ভাই’ সম্বোধন শুধু সৌজন্যমূলক শব্দ নয়; এটি দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন রাজনৈতিক বোঝাপড়া ও কৌশলগত যোগাযোগের ইঙ্গিত বহন করে। এখন দেখার বিষয়—এই কূটনৈতিক উষ্ণতা বাস্তবে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় কতটা প্রতিফলিত হয়।
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সশরীরে উপস্থিত থাকবেন না। তবে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসবেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মইজ্জু এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকার আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ গ্রহণ করবে। ইতোমধ্যে নয়াদিল্লি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারছেন না। ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফও ঢাকায় আসছেন না। এর পরিবর্তে অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল। এছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রয়েছেন। সোমবারের (১৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে আরও কয়েকজন অতিথির চূড়ান্ত উপস্থিতির তথ্য জানা যেতে পারে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ এবং ভুটানসহ মোট ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এতে আগে নির্বাচিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলও তুলে ধরা হয়েছে। ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয়লাভ করেছে। ফলাফল স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। দলটির জোটসঙ্গীরা পেয়েছে তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যান্য শরিকরা ৯টি আসনে জয়লাভ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews