মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ এগিয়ে নিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে পাকিস্তান। এর অংশ হিসেবে সৌদি আরব সফর শেষে কাতারে পৌঁছেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছালে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। পরে কাতারের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সফরকালে কাতারের আমিরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন শাহবাজ শরিফ। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, এটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর তিন ধাপের আঞ্চলিক সফরের দ্বিতীয় গন্তব্য। এর আগে তিনি সৌদি আরব সফর করেন এবং সফরের শেষ ধাপে তুরস্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সৌদি আরব সফরকালে জেদ্দায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য মধ্যস্থতা নিয়ে আলোচনা করেছেন শাহবাজ শরিফ। ইসলামাবাদ এই সংকট নিরসনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায় বলে জানানো হয়। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি টেকসই করা এবং পরবর্তী দফার আলোচনার পথ সুগম করতে পাকিস্তান একযোগে বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। কাতার সফর সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টারই অংশ।
শাহবাজ শরিফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা শুধু পাকিস্তানের জন্য নয়, বরং পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও গর্বের মুহূর্ত। এই তথ্য জানিয়েছে ডন। টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি জানান, এই সংকটময় সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন তিনি। তাঁর প্রস্তাব গ্রহণ করে দুই দেশই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে আসতে রাজি হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তান অত্যন্ত সতর্কতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে, যা যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়েছে। এ সময় উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার-এর নেতৃত্বাধীন দলের প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান) আসিম মুনির-এর অবদানও তুলে ধরেন, যিনি উত্তেজনা কমাতে এবং পক্ষগুলোকে আলোচনায় বসাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। শাহবাজ শরিফ এই আলোচনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, যদিও আপাতত যুদ্ধবিরতি হয়েছে, তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সহজ হবে না এবং দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন হবে। উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল শনিবার ইসলামাবাদে বৈঠকে বসছে। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে সেরেনা হোটেল-এ। এরই মধ্যে ইরানের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। তাসনিম বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ-এর নেতৃত্বে দলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি।
আগামী শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা। দীর্ঘ সংঘাতের পর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে এই বৈঠকে অংশ নেবেন দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নীতি-নির্ধারকরা। বৈঠকের আয়োজক দেশ হিসেবে পাকিস্তান ইতোমধ্যে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল: ওয়াশিংটনের পক্ষে আলোচনার নেতৃত্বে থাকছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে প্রতিনিধিদলে রয়েছেন হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক সিনিয়র প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাডভাইজার জ্যারেড কুশনার এবং সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। ইরানের প্রতিনিধিদল: তেহরানের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারকদের এই দলে থাকছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মজিদ তাখত রাভানচি। পাকিস্তানের সমন্বয়কারী দল: আলোচনার প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে থাকছে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি দল। এতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির, উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসিম মালিক এবং আইএসআই প্রধান। এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো চলমান যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিতে রূপান্তর করা এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে সৃষ্ট বৈশ্বিক অচলাবস্থার নিরসন ঘটানো। বিশ্বনেতারা মনে করছেন, ইসলামাবাদের এই উদ্যোগই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর শেষ ভরসা হয়ে উঠতে পারে।
এক চরম নাটকীয়তা আর ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গত ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে বিশ্বকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া চরমসীমা (ডেডলাইন) শেষ হওয়ার মাত্র ৯০ মিনিট আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা সম্ভব হয়। হুমকি ও পাল্টা হুমকি: ধ্বংসের কিনারে বিশ্ব মঙ্গলবার সকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানকে উদ্দেশ্য করে এক চরম হুঁশিয়ারি দেন। তিনি হুমকি দেন যে, মঙ্গলবার ওয়াশিংটন সময় রাত ৮টার (গ্রিনিচ মান সময় মধ্যরাত) মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং পুরো ‘সভ্যতা’ ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এমনকি কয়েক দিন আগেই তিনি ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ (Stone Age) পাঠিয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের এই ‘গণহত্যামূলক’ হুমকিতে বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে ধস নামে এবং বিশ্বনেতারা পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা শুরু করেন। মাঠের পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক তৎপরতা যখন ওয়াশিংটনে চরমসীমা ঘনিয়ে আসছিল, তখন মাঠের পরিস্থিতি ছিল রণক্ষেত্র। ইরানের খারেগ দ্বীপে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া যায়। অন্যদিকে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তারা তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইরানও পাল্টা হুমকি দেয় যে, তারা এই অঞ্চলের সব জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করে দেবে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বিষয়ক একটি প্রস্তাব রাশিয়া ও চীন ভেটো দিয়ে বাতিল করে দেয়। তারা ট্রাম্পের হুমকিতে ইরানের পক্ষ নিয়ে মার্কিন অবস্থানকে ‘একপেশে’ বলে আখ্যা দেয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও সমঝোতা এই চরম উত্তেজনার মাঝে দৃশ্যপটে আসে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পের কাছে দুই সপ্তাহের জন্য ডেডলাইন পেছানোর আহ্বান জানান এবং ইরানকে ‘সদিচ্ছা’ হিসেবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রীর ধারাবাহিক আলোচনার পর অবশেষে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। ট্রাম্প জানান, ইরানের পক্ষ থেকে ১০ দফার একটি ‘কার্যকর’ শান্তি প্রস্তাব পাওয়া গেছে, যা আলোচনার ভিত্তি হতে পারে। এর কিছুক্ষণ পরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ‘প্রস্তর যুগ’ থেকে ‘স্বর্ণযুগ’ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্পের সুর পুরোপুরি বদলে যায়। কয়েক দিন আগে ইরানকে ধ্বংসের হুমকি দিলেও বুধবার তিনি এক পোস্টে বলেন, “বিশ্ব শান্তির জন্য এক বড় দিন! এটি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ‘স্বর্ণযুগ’ (Golden Age) বয়ে আনতে পারে।” সামনের চ্যালেঞ্জ দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় আলোচনার পথ প্রশস্ত করেছে। তবে এই চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং ইসরায়েল লেবাননে তাদের হামলা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে। সাময়িক এই স্বস্তি স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেবে কি না, তা নিয়ে এখনো বিশ্বজুড়ে গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জানান, লেবাননসহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে উভয় পক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সংঘাত বন্ধে সম্মত হয়েছে। বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদের নিয়ে সর্বত্র যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে এবং তা সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে। এই সমঝোতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হতে পারে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ আগামী শুক্রবার শুরু হতে যাচ্ছে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা। এই বৈঠকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন শাহবাজ শরিফ। আলোচনার লক্ষ্য একটি স্থায়ী ও কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানো। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক, আঞ্চলিক অবস্থান এবং বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করার কারণে ইসলামাবাদ উভয় পক্ষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সামনের আলোচনা সহজ হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের বিভিন্ন শর্ত এবং হরমুজ প্রণালি-কে ঘিরে কৌশলগত অবস্থান আলোচনায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, আসন্ন বৈঠকের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথে এগোবে, নাকি আবারও নতুন করে উত্তেজনা বাড়বে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর দেওয়া একটি কূটনৈতিক প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নজরে এসেছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট-কে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানায়। এর আগে শাহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির সময়সীমা দুই সপ্তাহ বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সময়ের জন্য ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাবও দেন তিনি, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং এটি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ পরিস্থিতি প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত কমাতে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শেহবাজ শরিফ। তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-কে পরামর্শ দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে সংলাপে বসার জন্য। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ঈদুল ফিতর ও নওরোজ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য ২২ মার্চ টেলিফোনে কথা বলেন দুই নেতা। সেই কথোপকথনেই আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন শেহবাজ শরিফ। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আলাপচারিতা ছিল আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। ইরানের জনগণের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের জনগণকে ঈদ ও নওরোজের শুভেচ্ছা জানান প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। অন্যদিকে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন শেহবাজ শরিফ এবং সংঘাতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সংলাপ ও কূটনীতিই সবচেয়ে কার্যকর পথ। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, ইরান ও পাকিস্তান-এর মধ্যে সীমান্ত রয়েছে এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও তুলনামূলকভাবে সুদৃঢ়। দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে বিরোধ চলছে। এ ইস্যুতে সমাধানের লক্ষ্যে ফেব্রুয়ারির শুরুতে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। সূত্র : জিও টিভি
বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রভাব মোকাবিলায় কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে সরকারি গাড়িতে হাই-অকটেন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। আজ সোমবার এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এখন থেকে সরকারি কোনো গাড়িতে উন্নতমানের পরিশোধিত জ্বালানি (হাই-অকটেন) ব্যবহার করা যাবে না। এ নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ওই জ্বালানির ব্যয় তাদের ব্যক্তিগতভাবে বহন করতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানেও এর প্রভাব পড়েছে। এর আগে গতকাল রোববার বিলাসবহুল গাড়িতে ব্যবহৃত হাই-অকটেন জ্বালানির ওপর প্রতি লিটারে সারচার্জ ২০০ রুপি বাড়িয়ে মোট ৩০০ রুপি নির্ধারণ করা হয়। তবে গণপরিবহন ও বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানির ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি প্রযোজ্য হয়নি। সরকারের ধারণা, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতি মাসে প্রায় ৯০০ কোটি রুপি সাশ্রয় হবে। সাশ্রয় হওয়া অর্থ জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একই সঙ্গে এ পদক্ষেপে ধনীদের ওপর ব্যয়চাপ বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতির চাপ কিছুটা কমবে বলেও মনে করছে সরকার। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এর আগে সরকার আরও কিছু সাশ্রয়ী উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সরকারি গাড়ির জ্বালানি ভাতা ৫০ শতাংশ কমানো, চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু এবং সরকারি কর্মচারীদের আংশিকভাবে বাসা থেকে কাজের নির্দেশনা। তবে জরুরি সেবাগুলো এসব সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।