স্টেট অ্যাসেম্বলি

ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ১৩ ভোটে হার শামসুল হকের, নিউইয়র্ক প্রাইমারিতে জিতলেন না কোনো বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী

নিউইয়র্ক স্টেটের বহুল আলোচিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থীদের কেউই জয়লাভ করতে পারেননি। মঙ্গলবার (২৪ জুন) অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত অনানুষ্ঠানিক ফলে কয়েকটি আসনে তারা উল্লেখযোগ্য ভোট পেলেও শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের মুখ দেখেন।   সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩০ আসনে। সেখানে সাবেক এনওয়াইপিডি ডিটেকটিভ ও বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি নেতা শামসুল হক মাত্র ১৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মার্টিনেজ পেয়েছেন ২ হাজার ৭০৩ ভোট, আর শামসুল হক পেয়েছেন ২ হাজার ৬৯০ ভোট। মোট ৬ হাজার ৩৩৬ ভোটের এই নির্বাচনে অল্প ব্যবধানের পরাজয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভোটের ব্যবধান অত্যন্ত কম হওয়ায় শামসুল হকের পক্ষ থেকে পুনর্গণনার আবেদন করা হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন।   অন্যদিকে, অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মেরি জোবাইদা পেয়েছেন ১ হাজার ৯৬৮ ভোট। ওই আসনে বিজয়ী হয়েছেন ডায়ানা মোরেনো, যিনি পেয়েছেন ৯ হাজার ৫১ ভোট। মেরি জোবাইদা ছিলেন এবারের প্রাইমারিতে অংশ নেওয়া একমাত্র বাংলাদেশি-আমেরিকান নারী প্রার্থী। এর আগেও তিনি একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নিউইয়র্ক সিটির বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি স্টেট অ্যাসেম্বলি ছেড়ে মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে এবারও জয় তার নাগালের বাইরে থেকে যায়। ডিস্ট্রিক্ট-৩৭ আসনে পিয়া রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ৮২৭ ভোট। সেখানে বিজয়ী সামান্থা কাটান পেয়েছেন ৭ হাজার ৬৩৬ ভোট।   ডিস্ট্রিক্ট-৩২ আসনে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নেওয়া মোহাম্মদ মোল্লা (সানি) পেয়েছেন ৭৫৫ ভোট। ওই আসনে বিজয়ী নাথানিয়েল হেজেকিয়াহ পেয়েছেন ৩ হাজার ৬১৭ ভোট। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েও তার প্রচারণা স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উল্লেখযোগ্য আলোচনা সৃষ্টি করেছিল।   ব্রঙ্কসের ডিস্ট্রিক্ট-৮৭ আসনে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সিপিএ জাকির চৌধুরী পেয়েছেন ১ হাজার ৬০৯ ভোট। ওই আসনে বিজয়ী হয়েছেন কারিনেস রেয়েস, যিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ১০০ ভোট। এবারের নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জনসংখ্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামাজিক প্রভাব গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও মূলধারার রাজনীতিতে তাদের প্রতিনিধিত্ব এখনও সীমিত।   নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক নির্বাচনী এলাকায় জয়লাভ করতে হলে শুধু নিজস্ব কমিউনিটির সমর্থন যথেষ্ট নয়। আফ্রিকান-আমেরিকান, লাতিনো, শ্বেতাঙ্গ, এশীয় এবং তরুণ ভোটারদের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে হয়। সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থীদের সামনে এখনও রাজনৈতিক ভিত্তি আরও বিস্তৃত করার চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।   তবে প্রার্থীদের অংশগ্রহণ এবং কয়েকটি আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখছেন কমিউনিটির অনেকে। তাদের মতে, পরাজয় সত্ত্বেও এই নির্বাচন নিউইয়র্কের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান করেছে।

তাবাস্সুম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: মেরি জোবাইদা (সংগৃহীত)
নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান মেরি জোবাইদা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির ৩৬ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি সংগঠক মেরি জোবাইদা। দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটি পর্যায়ে কাজ করা এই সংগঠক বলেছেন, সাধারণ কর্মজীবী পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।   নিজের প্রচার ঘোষণায় মেরি জোবাইদা জানান, তিনি সাশ্রয়ী আবাসন, মানসম্মত শিক্ষা, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য শিশু পরিচর্যা সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে চান।   নিউইয়র্কের ৩৬ নম্বর ডিস্ট্রিক্টটি বহুজাতিক ও অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে দক্ষিণ এশীয়, লাতিনো এবং বিভিন্ন অভিবাসী সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলাকাটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বাসাভাড়ার চাপ এবং স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে উদ্বেগ রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।   মেরি জোবাইদার পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি টেলিভিশন, আরবান হেলথ প্ল্যান এবং সংবাদ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা। তিনি “বাংলাদেশি আমেরিকানস ফর পলিটিক্যাল প্রগ্রেস” নামের একটি সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতাও। এছাড়া তিনি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্নাতক।   নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, একজন কর্মজীবী মা, স্বাস্থ্যসেবা খাতের কর্মী এবং কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।   জোবাইদা আরও বলেন, তিনি এমন একটি নিউইয়র্ক গড়তে চান যেখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও অভিবাসী সম্প্রদায় সমান সুযোগ ও প্রতিনিধিত্ব পাবে।   যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে বাড়ছে। স্থানীয় স্কুল বোর্ড থেকে শুরু করে সিটি কাউন্সিল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের উপস্থিতি এখন আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণও এ পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ইসতিয়াক আহমেদ মে ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে বাড়ছে বাংলাদেশি প্রার্থীদের অংশগ্রহণ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। আসন্ন স্টেট অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে একাধিক আসনে বাংলাদেশি প্রার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   কুইন্স থেকে ব্রঙ্কস পর্যন্ত বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্টে অন্তত ছয়জন বাংলাদেশি প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। তাঁরা সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন এবং কমিউনিটির বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরছেন।   উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শামসুল হক (ডিস্ট্রিক্ট ৩০), মাহতাব খান (ডিস্ট্রিক্ট ২৪), মেরি জোবাইদা (ডিস্ট্রিক্ট ৩৬), পিয়া রহমান (ডিস্ট্রিক্ট ৩৭), জাকির চৌধুরী (ডিস্ট্রিক্ট ৮৭) এবং জে মোল্লা সানি (ডিস্ট্রিক্ট ৩২)।   প্রাইমারি নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থীদের পিটিশন জমা দেওয়ার সময়সীমা ছিল ৩০ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত। ডিস্ট্রিক্ট ২৪-এর মাহতাব খান ছাড়া অন্য প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পিটিশন জমা দিয়েছেন।   ডিস্ট্রিক্ট ৩৬-এর প্রার্থী মেরি জোবাইদা প্রায় দুই হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন, যা তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়। পিটিশন জমার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা যাচাই-বাছাই করে এবং সব কিছু ঠিক থাকলে প্রার্থীদের নাম প্রাইমারি ব্যালটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।   এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশি কমিউনিটি নতুন এক ধাপে প্রবেশ করছে। আগে যেখানে প্রবাসীরা ভোটার বা সমর্থক হিসেবে ভূমিকা রাখতেন, এখন তারা সরাসরি প্রার্থী হয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।   আগামী ২৩ জুন ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে পিটিশন যাচাই প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।   নিউইয়র্ক রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের এই ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ প্রবাসী কমিউনিটির রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করছে।

Unknown এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

হত্যাকারী চিকিৎসকের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

দুই ছেলেকে হত্যার পর নিজ চেম্বারে অগ্নিসংযোগ, শেষে গাড়িতে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা চিকিৎসকের

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০