মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের কথিত ‘হত্যার তালিকায়’ তার নাম শীর্ষে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জুন মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি তেহরান বারবার লঙ্ঘন করছে। তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ট্রাম্প জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি কাতারের উপহার দেওয়া বোয়িং উড়োজাহাজে দেশে ফিরবেন না। পরিবর্তে আগে এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত একটি পুরোনো উড়োজাহাজেই ফিরবেন। বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
হাস্যরসের সুরে ট্রাম্প আরও বলেন, “গতকাল আরেকটি তালিকা প্রকাশ হয়েছে। সেখানে হত্যার তালিকায় আমি এক নম্বরে। যদিও টিকটকে এক নম্বরে থাকতে আমার বেশি ভালো লাগে।” তার এই মন্তব্য উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
যুদ্ধবিরতি ঘিরে নতুন উত্তেজনা
জুন মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা ও নৌযান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।
পরে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে বলে জানা যায়। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।
ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কঠোর অভিযোগ
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করছে এবং এ নিয়ে তিনি মোটেও সন্তুষ্ট নন। তার ভাষায়, ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করেছে। তিনি দেশটিকে গত কয়েক দশক ধরে ‘মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারকারী শক্তি’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “আমি মনে করি না, ইরানের সঙ্গে এই চুক্তি টিকবে।” পাশাপাশি সতর্ক করে দেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।
ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন বাহিনী এক রাতেই ইরানের ২৮টি নৌযান ধ্বংস করেছে এবং প্রয়োজনে আরও নৌযান লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
তার বক্তব্য, “ইরানের কাছে যদি পারমাণবিক বোমা থাকত, তারা সেটি ব্যবহার করত।”
খারগ দ্বীপ ও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা
কূটনৈতিক সমাধান না হলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে দেবে না বলে স্পষ্ট করেন ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ইরানের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হতে পারে, যদিও তিনি এমন পরিস্থিতি এড়ানোর আশা প্রকাশ করেন।
এছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে এবং প্রয়োজন হলে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চল নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের কথিত ‘হত্যার তালিকায়’ তার নাম শীর্ষে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জুন মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি তেহরান বারবার লঙ্ঘন করছে। তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ট্রাম্প জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি কাতারের উপহার দেওয়া বোয়িং উড়োজাহাজে দেশে ফিরবেন না। পরিবর্তে আগে এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত একটি পুরোনো উড়োজাহাজেই ফিরবেন। বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। হাস্যরসের সুরে ট্রাম্প আরও বলেন, “গতকাল আরেকটি তালিকা প্রকাশ হয়েছে। সেখানে হত্যার তালিকায় আমি এক নম্বরে। যদিও টিকটকে এক নম্বরে থাকতে আমার বেশি ভালো লাগে।” তার এই মন্তব্য উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। যুদ্ধবিরতি ঘিরে নতুন উত্তেজনা জুন মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা ও নৌযান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। পরে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে বলে জানা যায়। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি। ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কঠোর অভিযোগ ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করছে এবং এ নিয়ে তিনি মোটেও সন্তুষ্ট নন। তার ভাষায়, ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করেছে। তিনি দেশটিকে গত কয়েক দশক ধরে ‘মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারকারী শক্তি’ হিসেবেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমি মনে করি না, ইরানের সঙ্গে এই চুক্তি টিকবে।” পাশাপাশি সতর্ক করে দেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন বাহিনী এক রাতেই ইরানের ২৮টি নৌযান ধ্বংস করেছে এবং প্রয়োজনে আরও নৌযান লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তার বক্তব্য, “ইরানের কাছে যদি পারমাণবিক বোমা থাকত, তারা সেটি ব্যবহার করত।” খারগ দ্বীপ ও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা কূটনৈতিক সমাধান না হলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে দেবে না বলে স্পষ্ট করেন ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ইরানের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হতে পারে, যদিও তিনি এমন পরিস্থিতি এড়ানোর আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে এবং প্রয়োজন হলে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চল নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তথ্যসূত্র: সামা টিভি
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ৭৭ বছর বয়সী দাদির গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে ২০ থেকে ৪৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ম্যাকম্ব কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম জর্ডান এলিংটন (৩৪)। তিনি মিশিগানের ক্লিনটন টাউনশিপের বাসিন্দা। বুধবার (৮ জুলাই) ম্যাকম্ব কাউন্টি সার্কিট কোর্ট তাকে এই সাজা দেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ এলিংটন তার ৭৭ বছর বয়সী দাদির গলায় একটি বেল্ট পেঁচিয়ে ধরেন এবং তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, “পরের বার আরও শক্ত করে টানব।” ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করে হামলার (Assault with a Dangerous Weapon) অভিযোগ আনা হয়। চলতি বছরের মে মাসে আদালত তাকে ওই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, এই অপরাধের জন্য প্রচলিত সাজা সাধারণত ২ থেকে ১৭ মাস কারাদণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে তারা আদালতে যুক্তি দেন, একজন বয়স্ক পরিবারের সদস্যের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তাই প্রচলিত নির্দেশিকার চেয়ে কঠোর সাজা হওয়া উচিত। বিচারক জেমস এম. বিয়ারনাট প্রসিকিউটরদের যুক্তির সঙ্গে একমত হয়ে এলিংটনকে ২০ থেকে ৪৮ মাস কারাভোগের আদেশ দেন। রায়ের পর ম্যাকম্ব কাউন্টির প্রসিকিউটর পিটার জে. লুসিডো বলেন, “আমাদের প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বয়স্ক মানুষদের ভয়, নির্যাতন ও সহিংসতা ছাড়া জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে, বিশেষ করে নিজের পরিবারের মধ্যে, যেখানে তাদের সবচেয়ে নিরাপদ বোধ করার কথা।” তিনি আরও বলেন, তার কার্যালয় প্রবীণদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কারাদণ্ডের ন্যূনতম সময় পার হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্যারোলের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (K-12) পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক আর্থিক জালিয়াতির চিত্র উঠে এসেছে নতুন এক প্রতিবেদনে। এতে দেখা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়ার দুই শিক্ষা কর্মকর্তা পৃথক দুটি ঘটনায় প্রায় ২ কোটি ডলার আত্মসাৎ করে বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, দামী পোশাক, ভ্রমণ ও ব্যক্তিগত জীবনযাপনে ব্যয় করেছেন। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে স্টেট ফিন্যান্সিয়াল অফিসার্স ফাউন্ডেশন (State Financial Officers Foundation)। এতে বলা হয়েছে, গত ছয় বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ২৪টি অঙ্গরাজ্য ও পুয়ের্তো রিকোতে শিক্ষা খাতে প্রায় ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার জালিয়াতির অভিযোগ শনাক্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানো, দরপত্রে অনিয়ম এবং কমিশন নেওয়ার মতো নানা অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্লেষণ করা অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া সবচেয়ে বেশি আলোচিত জালিয়াতির ঘটনাগুলোর একটি। ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার আত্মসাৎ প্রথম ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির ম্যাগনোলিয়া স্কুল ডিস্ট্রিক্ট-এর সাবেক আর্থিক সেবা পরিচালক হোর্হে আরমান্দো কনট্রেরাস কয়েক বছর ধরে প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার আত্মসাৎ করেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ছোট অঙ্কের চেক কাল্পনিক ব্যক্তির নামে প্রস্তুত করতেন। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর নেওয়ার পর চেকের অঙ্ক ও নাম পরিবর্তন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে জমা দিতেন। এই অর্থ দিয়ে তিনি একটি বিলাসবহুল বাড়ি, বিএমডব্লিউ গাড়ি, ডিজাইনার পোশাক, দামী অলংকার, বিলাসবহুল ব্যাগ এবং উচ্চমূল্যের টেকিলা কিনেছিলেন। তদন্তে তার সম্পত্তি থেকে প্রায় ৭৭ লাখ ডলার মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ছিল বাড়ি, গাড়ি, ৫৭টি বিলাসবহুল ব্যাগ, গয়না, পোশাক, জুতা এবং আট বোতল দামি টেকিলা। এমনকি নগদ অর্থের একটি অংশ তিনি একটি ছোট রেফ্রিজারেটরের ভেতরে লুকিয়ে রেখেছিলেন বলেও জানায় কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালে এক ফেডারেল আদালত তাকে ৭০ মাসের কারাদণ্ড দেন এবং আত্মসাৎ করা ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। করদাতাদের অর্থে ব্যক্তিগত ভ্রমণ প্রতিবেদনের আরেকটি আলোচিত ঘটনা লস অ্যাঞ্জেলেসের কমিউনিটি প্রিপারেটরি একাডেমি চার্টার স্কুলকে ঘিরে। স্কুলটির সাবেক নির্বাহী পরিচালক জেনিস বাকনার করদাতাদের অর্থ থেকে ৩০ লাখ ডলারের বেশি আত্মসাৎ করার কথা স্বীকার করেন। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি এই অর্থ ব্যক্তিগত ভ্রমণ, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, কেনাকাটা এবং নিজের সন্তানদের বেসরকারি স্কুলের টিউশন ফি পরিশোধে ব্যয় করেন। এছাড়া ডিজনি ক্রুজ, থিম পার্ক ভ্রমণ এবং অন্যান্য ডিজনি-সংক্রান্ত ব্যয়ে তিনি দুই লাখ ২০ হাজার ৬০০ ডলারের বেশি খরচ করেছিলেন। ২০১৮ সালে নিয়মিত নিরীক্ষার সময় লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট প্রথম আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পায়। পরের বছর স্কুলটির চার্টার নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং পরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। বাকনারকে তিন বছরের প্রবেশন দেওয়া হয়েছে এবং ২৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দেশজুড়ে ২২ কোটি ডলারের বেশি জালিয়াতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে। সেখানে বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়া দুটি অনলাইন চার্টার স্কুল শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখিয়ে ৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার অতিরিক্ত সরকারি অর্থ নিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পুয়ের্তো রিকো-র একটি টিউটরিং প্রতিষ্ঠান কোনো সেবা না দিয়েই ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিল করার অভিযোগের মুখে রয়েছে। অন্যদিকে ফ্লোরিডার ব্রাওয়ার্ড কাউন্টি স্কুল জেলার এক তথ্য কর্মকর্তা প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই বন্ধুর প্রতিষ্ঠানে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের চুক্তি পাইয়ে দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার অভিযোগে তদন্তের মুখে রয়েছেন। ‘সবচেয়ে জঘন্য প্রতারণাগুলোর একটি’ স্টেট ফিন্যান্সিয়াল অফিসার্স ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওজে ওলেকা বলেন, সব ধরনের জালিয়াতিই ক্ষতিকর। তবে শিশুদের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ করা সবচেয়ে জঘন্য অপরাধগুলোর একটি। তিনি বলেন, এই প্রতিবেদনের তথ্য অভিভাবক, শিক্ষক এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত। প্রতিবেদনটি এমন সময় প্রকাশিত হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন সরকারি ব্যয় ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শিক্ষা খাতসহ সরকারি ব্যয়ে অনিয়ম রোধে দেশব্যাপী ‘ওয়ার অন ফ্রড’ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।