বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ২৩:৪৩
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার পর কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট উপসাগরীয় দেশগুলো জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে সক্রিয় রয়েছে।

 

আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি ও শেখ ইসা বিমানঘাঁটি ছিল হামলার লক্ষ্যবস্তু। একই সঙ্গে কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

 

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তায় সম্ভাব্য হুমকি কমাতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে।

হামলার পর বাহরাইনজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়।

 

কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কাজ করেছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের যে শব্দ শোনা গেছে, তার বেশিরভাগই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার ফল।

এদিকে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিরাপত্তা সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে চলাচল থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

 

ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, ইরানি বাহিনীর হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

 

তবে সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের তথ্য এখনো যাচাই-বাছাই চলছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকেও সব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার পর কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট উপসাগরীয় দেশগুলো জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে সক্রিয় রয়েছে।   আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি ও শেখ ইসা বিমানঘাঁটি ছিল হামলার লক্ষ্যবস্তু। একই সঙ্গে কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তায় সম্ভাব্য হুমকি কমাতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর বাহরাইনজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়।   কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কাজ করেছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের যে শব্দ শোনা গেছে, তার বেশিরভাগই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার ফল। এদিকে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিরাপত্তা সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে চলাচল থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।   ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, ইরানি বাহিনীর হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।   তবে সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের তথ্য এখনো যাচাই-বাছাই চলছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকেও সব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ২৩:৪৩
প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিমান নিরাপদে অবতরণ করান শিক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীত

প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে বিমানের বাইরে ঝাঁপ দিলেন প্রশিক্ষক, নিরাপদে অবতরণ করালেন শিক্ষার্থী

দাঁতের চিকিৎসার সময় মারা যাওয়া সাত বছরের এলা কোকাচোগুর। ছবি: সংগৃহীত

একসঙ্গে আটটি দাঁতের ফিলিং করতে গিয়ে ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

‘মার্কিন রণতরীতে হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রিপাবলিক জাপান’, কেন বললেন ট্রাম্প

ইরানের ইরানশাহর বিমানবন্দর এলাকায় হামলার পরের পরিস্থিতি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ইরানশাহর বিমানবন্দরে মার্কিন হামলা, নিহত ১ দমকলকর্মী

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান ও বেলুচেস্তান প্রদেশের ইরানশাহর শহরের একটি বিমানবন্দর স্থাপনায় মার্কিন হামলায় একজন দমকলকর্মী নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে বিমানবন্দরে হামলার পর দায়িত্ব পালনকালে ওই দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়।   তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরানশাহর কাউন্টির গভর্নর সেলিম কাদখোদা বলেন, বিমানবন্দর স্থাপনায় হামলার পর ঘটনাস্থলে কাজ করার সময় ওই দমকলকর্মী নিহত হন। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং মেহর নিউজ এজেন্সি ইরানশাহর বিমানবন্দরে বিস্ফোরণের খবর প্রচার করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার গভীর রাতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে মার্কিন হামলার খবর প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানশাহর বিমানবন্দরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে ওই অঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে।   এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা এবং অবাধ নৌচলাচলে হুমকি সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও দুর্বল করতেই এই অতিরিক্ত হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। মার্কিন বাহিনী দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।   তবে ইরানশাহর বিমানবন্দরে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নিহত দমকলকর্মীর পরিচয়ও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ২১:২২
ট্রাম্পের চাপের মুখে ন্যাটো সম্মেলনে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অস্ত্র চুক্তি

ট্রাম্পের চাপের মুখে ন্যাটো সম্মেলনে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অস্ত্র চুক্তি

তেলের দাম বাড়ায় চাপে ভারতীয় রুপি, বিদেশি বিনিয়োগে কিছুটা স্বস্তি

তেলের দাম বাড়ায় চাপে ভারতীয় রুপি, বিদেশি বিনিয়োগে কিছুটা স্বস্তি

ইন্দোনেশিয়াকে ব্রহ্মোস ও অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র দেবে ভারত

ইন্দোনেশিয়াকে ব্রহ্মোস ও অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র দেবে ভারত

‘ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিলে পুরো জোটের প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে’
‘ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিলে পুরো জোটের প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে’—জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের মধ্যেও ইউক্রেন যে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলেছে, তা ন্যাটোর সামষ্টিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।   জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন এখন নিয়মিতভাবে রাশিয়ার শত শত ড্রোন প্রতিহত করছে, একই সঙ্গে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার উচ্চ সক্ষমতা ধরে রেখেছে। যুদ্ধ চললেও দেশটি নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে।   তিনি বলেন, “যদি ইউক্রেন ইতোমধ্যেই এমন সক্ষমতা অর্জন করে থাকে এবং ইউক্রেনীয়রা এভাবে যুদ্ধ করতে জানে, তাহলে এই সক্ষমতাগুলো ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষার অংশ হওয়াই যৌক্তিক। এতে আমরা সবাই আরও শক্তিশালী হব।”   জেলেনস্কির মতে, ইউক্রেন ও ন্যাটো ইতোমধ্যেই একে অপরের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। তাই একটি অভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হওয়া স্বাভাবিক অগ্রগতি হবে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা ইউক্রেনকে ন্যাটোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত করেছে।   ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই ন্যাটোর পূর্ণ সদস্যপদের চেষ্টা করছে। তবে চলমান যুদ্ধের কারণে সদস্যপদ নিয়ে এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি জোটের সদস্য দেশগুলো। ন্যাটো ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখলেও যুদ্ধ চলাকালে সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।   এদিকে আঙ্কারায় চলমান ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার, অস্ত্র উৎপাদনে যৌথ বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সহযোগিতা অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়াতে মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ৩:৪৭
ইরানে নতুন মার্কিন হামলাকে ‘অত্যন্ত প্রয়োজনীয়’ বললেন ন্যাটো মহাসচিব

ইরানে নতুন মার্কিন হামলাকে ‘অত্যন্ত প্রয়োজনীয়’ বললেন ন্যাটো মহাসচিব

মার্কিন ৮৫ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলার অভিযোগ

মার্কিন ৮৫ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলার অভিযোগ, বাড়ছে যুদ্ধশঙ্কা

খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরাকে ইরানি প্রেসিডেন্ট

খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরাকে ইরানি প্রেসিডেন্ট

0 Comments