দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রায় আট দশক ধরে জাপানের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি হয়ে আছে তার শান্তিবাদী সংবিধান। বিশেষ করে সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ, যা দেশটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধক্ষমতা সম্পন্ন সামরিক বাহিনী গঠন থেকে বিরত রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং ডানপন্থী শক্তির উত্থানের ফলে সেই ঐতিহাসিক অবস্থান এখন বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন শিবির সংবিধান সংশোধনের পক্ষে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর তার সমর্থকরা এখন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষেও দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে বহুদিন ধরে আলোচিত সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া এবার বাস্তবে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের রক্ষণশীল রাজনীতিকরা দীর্ঘদিন ধরেই সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের চেষ্টা করে আসছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন, জনমত এবং সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে তারা সফল হতে পারেননি। এবার সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। রেইতাকু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং অধ্যাপক এবং রক্ষণশীল চিন্তাকেন্দ্র জাপান ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ফান্ডামেন্টালসের জ্যেষ্ঠ সদস্য সুতোমু নিশিওকা বলেন, “সংবিধান সংশোধনের পক্ষে আবারও গতি তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা।” জাপানের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন জোটে থাকা শান্তিবাদী অবস্থানের জন্য পরিচিত কোমেইতো পার্টির প্রভাব কমেছে। তাদের জায়গায় উঠে এসেছে জাপান ইনোভেশন পার্টি, যারা জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশ্নে অনেক বেশি কঠোর অবস্থানের সমর্থক। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও জাপানের রাজনৈতিক আলোচনাকে নতুন দিকে ঠেলে দিয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন, উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির বিষয়গুলো জাপানি জনগণের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত চিন্তাভাবনায় বড় পরিবর্তন এনেছে। টোকিওর ব্যবসায়ী কেন কাতো, যিনি সংবিধান সংশোধনের সমর্থক, বলেন, “আগে মানুষ মনে করত সামরিক বাহিনী থাকলে সংঘাত বাড়বে। এখন অনেকে মনে করেন, আত্মরক্ষার যথেষ্ট সক্ষমতা না থাকলে অন্যরা সেই দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে। তাই প্রতিরোধক্ষমতা জরুরি।” যদিও বাস্তবে জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনী বা সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও সুসজ্জিত বাহিনীর একটি। কয়েক দশক ধরেই তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে সংবিধানের ব্যাখ্যার মাধ্যমে এই বাহিনীর অস্তিত্ব বৈধ করা হয়েছে। রক্ষণশীলদের দাবি, বাস্তবতা ও আইনি অবস্থানের মধ্যে এই বৈপরীত্য দূর করতে হবে। নিশিওকার মতে, বর্তমান সংবিধান আজকের বাস্তবতা কিংবা আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই সংশোধনের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। সংসদের নিম্নকক্ষে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) আইনপ্রণেতা কেইজি ফুরুয়া মনে করেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখন তাদের হাতে রয়েছে। সম্প্রতি জাপান ফরওয়ার্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই সংবিধান সংশোধন নিয়ে গণভোট আয়োজনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তার হিসাব অনুযায়ী, এলডিপি, জোটসঙ্গী দল, ছোট ডানপন্থী দল এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র সদস্যের সমর্থন মিলিয়ে সংসদে সংশোধনী উত্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ভোটসংখ্যা অর্জন করা সম্ভব। ফুরুয়ার মতে, এতদিন ধরে এই প্রশ্নে জনগণের মতামত নেওয়া না হওয়াটা সংসদের ব্যর্থতা। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ সংবিধান নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ সাধারণ নাগরিকদের প্রাপ্য। তবে সংশোধনের পথ যে পুরোপুরি মসৃণ, তা নয়। জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে দীর্ঘ সময় ধরে সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টা করেও সফল হননি। তার উত্তরসূরি ফুমিও কিশিদাও এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেননি। টোকিওর সোফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক তাদাশি আন্নো মনে করেন, বর্তমান উদ্দীপনার মধ্যে কিছুটা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কাজ করছে। তার ভাষায়, “তাকাইচি এখন জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু ইরান সংকট, জাপানে মূল্যস্ফীতি, ইয়েনের অবমূল্যায়ন এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক চাপ ভবিষ্যতে সেই সমর্থন কমিয়ে দিতে পারে।” আন্নো নিজেও সংবিধান সংশোধনের পক্ষে, তবে এলডিপির প্রস্তাবিত পদ্ধতির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তিনি সংবিধানের ২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে বিবাহকে একজন নারী ও একজন পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। তার মতে, এই ধরনের পুরোনো ভাষা আধুনিক সমাজের বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না। তবে ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ নিয়ে তিনি সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ২০১২ সালে এলডিপি যে খসড়া সংবিধান প্রস্তাব করেছিল, তা অত্যন্ত রক্ষণশীল ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, জাপানি জনগণের বড় অংশ হয়তো এমন পরিবর্তন সমর্থন করবে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পর ১৯৪৭ সালে মিত্রবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রণীত জাপানের সংবিধান দেশটির শান্তিবাদী রাষ্ট্রপরিচয়ের ভিত্তি হয়ে ওঠে। সেই সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ যুদ্ধকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে এবং সামরিক শক্তি ব্যবহারে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। কিন্তু বিশ্বরাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ফলে সেই ঐতিহাসিক অনুচ্ছেদ এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে। ফলে জাপান কি সত্যিই তার যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী অবস্থান থেকে সরে আসতে যাচ্ছে, নাকি সীমিত কিছু পরিবর্তনের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান পুনর্নির্ধারণ করবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।
সংবিধান কখনো 'সংস্কার' হয় না, বরং এটি রহিত, স্থগিত বা 'সংশোধন' হয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সকল দলের সমন্বয়ে একটি 'বিশেষ সংসদীয় কমিটি' গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে সম্মান জানিয়ে ২০২৪-এর জুলাই জাতীয় সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্রের নির্যাস সংবিধানে ধারণ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে, যা সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে তিনি গুরুত্বের সাথে স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার সাথে অন্য কোনো কিছুর তুলনা চলে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অনেক 'লেজিসলেটিভ ফ্রড' বা আইনি প্রতারণা করা হয়েছে, যার কিছু অংশ হাইকোর্ট ইতোমধ্যে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে এবং বাকি অংশ এই সার্বভৌম সংসদই সংশোধন করবে। সালাউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে চাপিয়ে দেওয়া ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা বিলুপ্ত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং ২৭শে মার্চ কালুরঘাট থেকে 'প্রোভিশনাল হেড অফ স্টেট' হিসেবে ঘোষণা দেন; এই প্রকৃত ইতিহাসই সংবিধানে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার। এছাড়া জিয়াউর রহমানের অন্তর্ভুক্ত করা 'মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' নীতিটি সংবিধানে পুনর্বহাল করার বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি জানান। রাষ্ট্রের ক্ষমতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সেই ক্ষমতা সংসদের মাধ্যমেই প্রয়োগ হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি 'উচ্চকক্ষ' প্রবর্তনের ম্যান্ডেট পাওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পরিশেষে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি বাইরে থেকে আসা কোনো প্রেসক্রিপশনে নয়, বরং সরকারি দল, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা মিলে বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
সংবিধান পরিবর্তন ও সংশোধনকে সময়ের দাবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই সংবিধান সময়ের প্রয়োজনে সংশোধন করা হয়, তাই জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকারকেও দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। রোববার সকালে সিলেট সার্কিট হাউস-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির, যিনি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাও। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে সেই প্রত্যাশার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। গণভোটের কিছু অংশ বাস্তবায়িত হলেও বাকি অংশ এখনো উপেক্ষিত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-কে ঘিরেও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে তাদের আপত্তি নেই, তবে বর্তমান ব্যক্তিকে নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তির অভাব নেই। সরকারের ইতিবাচক কাজকে সমর্থনের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, জনস্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। রাজনৈতিকভাবেই নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্রুত এ নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন এবং তার দল সে জন্য অপেক্ষা করছে। গত নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, তারা নির্বাচন বর্জন করেননি এবং ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যানও করেননি। তবে নির্বাচন নিয়ে টিআইবি ও সুজন-এর মতো সংগঠনের প্রতিবেদন পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক বলে উল্লেখ করেন তিনি। মতবিনিময় সভায় দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।