ইসরাইলের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন নাসর’ নামে নতুন একটি সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটির দাবি, অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরাইলের নেভাতিম ও তেল নফ বিমানঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহেরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। পরে আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তরও এক বিবৃতিতে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে। আইআরজিসি জানায়, তাদের মহাকাশ বা অ্যারোস্পেস বাহিনীর ইউনিটগুলো ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত নেভাতিম বিমানঘাঁটি এবং মধ্যাঞ্চলের তেল নফ বিমানঘাঁটির বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই দুই ঘাঁটিকে ইসরাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে ‘ইয়া হায়দার কারার’ সাংকেতিক নামে এই অভিযান শুরু করা হয়। আইআরজিসির দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে নিহতদের স্মরণ এবং ইরানের বিভিন্ন রাডার ও প্রতিরক্ষা স্থাপনায় ইসরাইলি হামলার জবাব হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনা। তবে হামলার ফলে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইসরাইলের পক্ষ থেকেও ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা রক্ষার অংশ হিসেবে তাদের বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বজায় রেখেছে এবং যেকোনো ধরনের হামলার জবাব দিতে সক্ষম। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি ও পরোক্ষ হামলার অভিযোগ করে আসছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পক্ষ সংঘাত কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে সর্বশেষ এই অভিযানের ঘোষণার পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।
লেবাননে জল, স্থল ও আকাশপথে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ত্রিমুখী হামলায় অন্তত ৪০ জন হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা, অবকাঠামো এবং অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, তাদের বিমান বাহিনী হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সাইটগুলোতে আঘাত হেনেছে। একই সময়ে স্থলবাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর বেশ কিছু গোপন আস্তানা শনাক্ত করে তা উচ্ছেদ করেছে। এছাড়া ইসরায়েলি নৌবাহিনী হিজবুল্লাহর একটি বড় অস্ত্রের গুদামে সফল হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত এক দিনে ৪০ জনের বেশি হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে বলে সামরিক বিবৃতিতে জানানো হয়। এদিকে, ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছে হিজবুল্লাহও। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ১০ মিনিটের দিকে লেবাননের মালিকিয়াহ ও ইয়েরুন এলাকায় ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা। এছাড়া লেবাননের মেনাহেম এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলা চালানোর দাবিও করেছে সংগঠনটি। তবে হিজবুল্লাহর এই ড্রোন ও রকেট হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের জ্বালানি অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্র খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, সুরক্ষিত এই দ্বীপে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ প্রাণহানি বাড়ানোর পাশাপাশি কৌশলগতভাবে উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যালকম ডেভিস সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “খারগ দ্বীপে ইরানিদের পক্ষে মার্কিন বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলার সুযোগ থাকবে। এতে প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে।” তিনি জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দ্বীপটিতে প্রতিরক্ষা জোরদার করেছে ইরান। সেখানে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে বিভিন্ন কৌশলগত ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত ইতোমধ্যে এক মাস অতিক্রম করেছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলছেন, অন্যদিকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ম্যালকম ডেভিসের মতে, অদূর ভবিষ্যতেই—সম্ভবত এক সপ্তাহের মধ্যে—যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযানের দিকে এগোতে পারে, যা চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে। কেন গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খারগ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আবোজার, ফোরুজান ও দোরুদ তেলক্ষেত্র থেকে সংগৃহীত তেল এখানেই প্রক্রিয়াজাত হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়, যার বড় অংশ যায় এশিয়ার বাজারে, বিশেষ করে চীনে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান এই টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। বর্তমানে এর দৈনিক ধারণক্ষমতা প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে। অভিযানের সম্ভাব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা মাইকেল রুবিনের মতে, খারগ দ্বীপ দখলে নিতে পারলে ইরানের অর্থনৈতিক ভিত্তি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। এতে সরকার প্রশাসন ও সামরিক ব্যয় নির্বাহে সংকটে পড়তে পারে, যা শাসনব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এদিকে পাকিস্তানসহ কয়েকটি মুসলিম দেশ যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিলেও পরিস্থিতি এখনো শান্তির দিকে এগোচ্ছে—এমন কোনো ইঙ্গিত নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সামরিক প্রস্তুতি, কূটনৈতিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর তৎপরতা-সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতে এখনো দৃশ্যমান কোনো কৌশলগত অর্জন দেখাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় দেশটি কি স্থল অভিযানের দিকে এগোচ্ছে এ প্রশ্ন সামনে আসছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং বিভিন্ন সামরিক ইউনিটের গতিবিধি এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার পাশাপাশি আরও প্রায় ২০ হাজার সেনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মেরিন, প্যারাট্রুপার এবং স্থল অভিযানে দক্ষ বিশেষ বাহিনী রয়েছে। জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন ইউনিট ইতিমধ্যে রওনা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার সুযোগ রাখতে দেশটির জ্বালানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলার সময়সীমা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। নতুন সময়সীমা অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি নিজেদের শর্তে করতে আগ্রহী। দেশটি চায়, ভবিষ্যতে কোনো আক্রমণ না হওয়ার আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা এবং অঞ্চলে তাদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার দাবিও তুলেছে তেহরান। তবে এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আঞ্চলিক রাজনীতিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্ব ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তারা চায়, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল না করে যুদ্ধ শেষ না হোক। এই অবস্থান ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি মূল ভূখণ্ডে আক্রমণের বদলে প্রথমে কৌশলগত দ্বীপপুঞ্জ দখলের পথে হাঁটতে পারে। বিশেষ করে খার্গ দ্বীপ, কেশম, কিশ বা হরমুজ প্রণালীর আশপাশের দ্বীপগুলো দখলে নিলে ইরানের তেল রপ্তানি ও নৌ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। এছাড়া খুজেনস্তান প্রদেশ, চাবাহার বন্দর বা বন্দর আব্বাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে ইরানের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিশেষ করে জাগরোস পর্বতমালা ও মরুভূমি যেকোনো স্থল অভিযানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্ণমাত্রার স্থল যুদ্ধের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। তাই যুক্তরাষ্ট্র সীমিত পরিসরে অভিযান, কমান্ডো হামলা এবং অর্থনৈতিক চাপের সমন্বয়ে কৌশল গ্রহণ করতে পারে। কূটনৈতিক সমাধান না হলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং ইরানে স্থল অভিযান বাস্তব রূপ নিতে পারে এমন আশঙ্কাই এখন প্রধান হয়ে উঠছে।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরান ইসরায়েলের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে জানিয়েছেন, ইরানে হামলার পরিধি বাড়ানো হবে এবং আরও বিস্তৃতভাবে অভিযান পরিচালিত হবে। এমন লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করা হবে, যেগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা পরিচালনায় সহায়ক হিসেবে বিবেচিত। ইসরায়েল কাৎজ বলেন, “ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হবে। যুদ্ধের সব লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমরা পূর্ণ শক্তিতে অভিযান চালিয়ে যাব।” মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সূত্র: আল–জাজিরা
লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে হত্যা করার দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এক বিমান হামলায় ওই কমান্ডার নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, লেবাননের হাজির এলাকায় পরিচালিত হামলায় হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হাসান মোহাম্মদ বশির নিহত হয়েছেন। বুধবার এই হামলা চালানো হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আইডিএফ জানায়, ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের কেরমানশাহ প্রদেশ ও দেজফুল শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ধারাবাহিক সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। একই সময়ে ইরানের ভেতরেও হামলার দাবি করেছে তারা। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে ইসরায়েলের এসব হামলাকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। বেসেন্ট পরিষ্কারভাবে জানান, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে এবং এসব স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী পিছু হটবে না। সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বর্তমান যুদ্ধের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সংবাদ প্রকাশের ধরনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন প্রশাসন ও সামরিক কর্মকর্তারা প্রকৃতপক্ষে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন, সে বিষয়ে দেশটির সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে না। তার মতে, গণমাধ্যমগুলোতে প্রকৃত ঘটনার পরিবর্তে ভিন্ন পরিস্থিতি চিত্রায়িত হচ্ছে। অন্যদিকে, একই অনুষ্ঠানে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে দাবি করেন যে, সরকার বর্তমানে যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মারফির এই অভিযোগের জবাবে পাল্টা আক্রমণ করে বেসেন্ট বলেন, সিনেটরের দাবি সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।