লেবাননে জল, স্থল ও আকাশপথে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ত্রিমুখী হামলায় অন্তত ৪০ জন হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা, অবকাঠামো এবং অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, তাদের বিমান বাহিনী হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সাইটগুলোতে আঘাত হেনেছে। একই সময়ে স্থলবাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর বেশ কিছু গোপন আস্তানা শনাক্ত করে তা উচ্ছেদ করেছে। এছাড়া ইসরায়েলি নৌবাহিনী হিজবুল্লাহর একটি বড় অস্ত্রের গুদামে সফল হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত এক দিনে ৪০ জনের বেশি হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে বলে সামরিক বিবৃতিতে জানানো হয়। এদিকে, ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছে হিজবুল্লাহও। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ১০ মিনিটের দিকে লেবাননের মালিকিয়াহ ও ইয়েরুন এলাকায় ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা। এছাড়া লেবাননের মেনাহেম এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলা চালানোর দাবিও করেছে সংগঠনটি। তবে হিজবুল্লাহর এই ড্রোন ও রকেট হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের জ্বালানি অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্র খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, সুরক্ষিত এই দ্বীপে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ প্রাণহানি বাড়ানোর পাশাপাশি কৌশলগতভাবে উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যালকম ডেভিস সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “খারগ দ্বীপে ইরানিদের পক্ষে মার্কিন বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলার সুযোগ থাকবে। এতে প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে।” তিনি জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দ্বীপটিতে প্রতিরক্ষা জোরদার করেছে ইরান। সেখানে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে বিভিন্ন কৌশলগত ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত ইতোমধ্যে এক মাস অতিক্রম করেছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলছেন, অন্যদিকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ম্যালকম ডেভিসের মতে, অদূর ভবিষ্যতেই—সম্ভবত এক সপ্তাহের মধ্যে—যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযানের দিকে এগোতে পারে, যা চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে। কেন গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খারগ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আবোজার, ফোরুজান ও দোরুদ তেলক্ষেত্র থেকে সংগৃহীত তেল এখানেই প্রক্রিয়াজাত হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়, যার বড় অংশ যায় এশিয়ার বাজারে, বিশেষ করে চীনে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান এই টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। বর্তমানে এর দৈনিক ধারণক্ষমতা প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে। অভিযানের সম্ভাব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা মাইকেল রুবিনের মতে, খারগ দ্বীপ দখলে নিতে পারলে ইরানের অর্থনৈতিক ভিত্তি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। এতে সরকার প্রশাসন ও সামরিক ব্যয় নির্বাহে সংকটে পড়তে পারে, যা শাসনব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এদিকে পাকিস্তানসহ কয়েকটি মুসলিম দেশ যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিলেও পরিস্থিতি এখনো শান্তির দিকে এগোচ্ছে—এমন কোনো ইঙ্গিত নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সামরিক প্রস্তুতি, কূটনৈতিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর তৎপরতা-সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতে এখনো দৃশ্যমান কোনো কৌশলগত অর্জন দেখাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় দেশটি কি স্থল অভিযানের দিকে এগোচ্ছে এ প্রশ্ন সামনে আসছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং বিভিন্ন সামরিক ইউনিটের গতিবিধি এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার পাশাপাশি আরও প্রায় ২০ হাজার সেনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মেরিন, প্যারাট্রুপার এবং স্থল অভিযানে দক্ষ বিশেষ বাহিনী রয়েছে। জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন ইউনিট ইতিমধ্যে রওনা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার সুযোগ রাখতে দেশটির জ্বালানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলার সময়সীমা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। নতুন সময়সীমা অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি নিজেদের শর্তে করতে আগ্রহী। দেশটি চায়, ভবিষ্যতে কোনো আক্রমণ না হওয়ার আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা এবং অঞ্চলে তাদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার দাবিও তুলেছে তেহরান। তবে এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আঞ্চলিক রাজনীতিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্ব ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তারা চায়, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল না করে যুদ্ধ শেষ না হোক। এই অবস্থান ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি মূল ভূখণ্ডে আক্রমণের বদলে প্রথমে কৌশলগত দ্বীপপুঞ্জ দখলের পথে হাঁটতে পারে। বিশেষ করে খার্গ দ্বীপ, কেশম, কিশ বা হরমুজ প্রণালীর আশপাশের দ্বীপগুলো দখলে নিলে ইরানের তেল রপ্তানি ও নৌ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। এছাড়া খুজেনস্তান প্রদেশ, চাবাহার বন্দর বা বন্দর আব্বাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে ইরানের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিশেষ করে জাগরোস পর্বতমালা ও মরুভূমি যেকোনো স্থল অভিযানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্ণমাত্রার স্থল যুদ্ধের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। তাই যুক্তরাষ্ট্র সীমিত পরিসরে অভিযান, কমান্ডো হামলা এবং অর্থনৈতিক চাপের সমন্বয়ে কৌশল গ্রহণ করতে পারে। কূটনৈতিক সমাধান না হলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং ইরানে স্থল অভিযান বাস্তব রূপ নিতে পারে এমন আশঙ্কাই এখন প্রধান হয়ে উঠছে।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরান ইসরায়েলের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে জানিয়েছেন, ইরানে হামলার পরিধি বাড়ানো হবে এবং আরও বিস্তৃতভাবে অভিযান পরিচালিত হবে। এমন লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করা হবে, যেগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা পরিচালনায় সহায়ক হিসেবে বিবেচিত। ইসরায়েল কাৎজ বলেন, “ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হবে। যুদ্ধের সব লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমরা পূর্ণ শক্তিতে অভিযান চালিয়ে যাব।” মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সূত্র: আল–জাজিরা
লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে হত্যা করার দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এক বিমান হামলায় ওই কমান্ডার নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, লেবাননের হাজির এলাকায় পরিচালিত হামলায় হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হাসান মোহাম্মদ বশির নিহত হয়েছেন। বুধবার এই হামলা চালানো হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আইডিএফ জানায়, ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের কেরমানশাহ প্রদেশ ও দেজফুল শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ধারাবাহিক সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। একই সময়ে ইরানের ভেতরেও হামলার দাবি করেছে তারা। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে ইসরায়েলের এসব হামলাকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। বেসেন্ট পরিষ্কারভাবে জানান, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে এবং এসব স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী পিছু হটবে না। সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বর্তমান যুদ্ধের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সংবাদ প্রকাশের ধরনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন প্রশাসন ও সামরিক কর্মকর্তারা প্রকৃতপক্ষে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন, সে বিষয়ে দেশটির সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে না। তার মতে, গণমাধ্যমগুলোতে প্রকৃত ঘটনার পরিবর্তে ভিন্ন পরিস্থিতি চিত্রায়িত হচ্ছে। অন্যদিকে, একই অনুষ্ঠানে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে দাবি করেন যে, সরকার বর্তমানে যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মারফির এই অভিযোগের জবাবে পাল্টা আক্রমণ করে বেসেন্ট বলেন, সিনেটরের দাবি সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
পবিত্র রমজান শেষ হওয়ার আগে উত্তেজিত সীমান্ত অঞ্চলে পাকিস্তান সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। বুধবার ঘোষণা করা হয়েছে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা আগামী পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত থাকবে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, এই বিরতির সিদ্ধান্ত সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের অনুরোধে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যদি পাকিস্তানের ভেতরে সীমান্ত পেরিয়ে কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে, তবে সামরিক অভিযান অবিলম্বে পুনরায় শুরু করা হবে।” আফগান তালেবান সরকারও সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। কাবুলের তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার কাবুলের ওমিদ মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে বিমান হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার পর বুধবার গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তালেবান দাবি করেছে, ওই হামলায় ৪০০ জনের বেশি নিহত এবং ২৬৫ জন আহত হয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা লক্ষ্যবস্তু হিসেবে মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রকে ব্যবহার করেনি। বরং ‘নির্ভুলভাবে সামরিক স্থাপনা এবং সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ লক্ষ্য করা হয়েছে। ইসলামাবাদ অভিযোগ তুলেছে, কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান হামলা চালায় এবং কাবুলের তালেবান সরকার তাদের আশ্রয় দেয়। এর আগে সীমান্তে সংঘর্ষের কারণে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও চীনসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা প্রশমিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান সরাসরি আফগান তালেবানকে লক্ষ্যবস্তু করা শুরু করলে উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি পায়।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৪’-এর ৫৬তম দফায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, এ দফায় ইসরায়েলের কৌশলগত সামরিক অবকাঠামো, রাফায়েল ক্ষেপণাস্ত্র মজুত কেন্দ্র এবং কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অভিযান উৎসর্গ করা হয়েছে নিহত ইরানি সামরিক নেতা শহীদ কাসেম সোলেইমানি এবং দেশের সুরক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী যোদ্ধাদের স্মরণে। খোররামশাহর–৪, এমাদ এবং গদরসহ আধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের সাউদার্ন রিজিয়ন সাপোর্ট কমান্ড এবং উত্তর দখলকৃত অঞ্চলে রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে আঘাত হানা হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, প্রতিটি লক্ষ্যবস্তু অত্যন্ত নির্ভুলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ড্রোন ইউনিট ব্যবহার করে ইরবিলে অবস্থানরত কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, এই গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে মার্কিন ও ইসরায়েলি পক্ষ ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে, এবং এর প্রতিক্রিয়ায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ট্রু প্রমিজ–৪-এর ৫৫তম দফায় ইরান ইসরায়েলি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই), সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমান ঘাঁতিতেও হামলা চালিয়েছিল। খাতাম আল-আমবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর জানায়, সাম্প্রতিক হামলার ফলে মার্কিন বিমান ঘাঁটিগুলোর ৮০ শতাংশেরও বেশি রাডার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অকেজো হয়ে গেছে। বিশেষ করে আল-ধাফরা ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের কারণে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। সূত্র: আল-মায়াদিন
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুঞ্জন উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। বিশেষ করে সোমবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি একটি প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর মৃত্যুর খবর প্রচার করে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার নেতানিয়াহু নিজেই মুখ খোলেন। তিনি দাবি করেন, ইসরাইলের সামরিক অভিযানে ইরানের শাসন ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। নেতানিয়াহু বলেছেন, “এ পর্যন্ত যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই যে আমরা তাদের হাড় ভেঙে দিচ্ছি এবং আমরা এখনো সক্রিয়।” নেতানিয়াহু আরও উল্লেখ করেন, ইরানের জনগণকে বর্তমান শাসনব্যবস্থার নিপীড়ন থেকে মুক্ত করাই ইসরায়েলের লক্ষ্য। তবে শেষ পর্যন্ত এই বিষয়টি নির্ভর করছে ইরানের জনগণের ওপর। তিনি এই বক্তব্য নিজের দফতরের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ করেছেন। এটি নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুজব উঠার পর তার প্রথম সরাসরি প্রতিক্রিয়া। এর আগে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহু নিহত বা আহত হয়েছে এমন গুজব ছড়িয়েছে, যা অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ফার্সি ভাষার প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর ওপর হামলার কোনো প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক ক্ষতির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। তবে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ খবর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করা হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যৌথ সামরিক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলার দিনই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ কয়েকজন নিহত হন। এরপর ইরানও পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে। তেল আবিব ও জেরুজালেমসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষের দিকে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, সংঘাত এখনও শেষ হয়নি এবং সামরিক অভিযান চলমান রয়েছে। সোমবার ইসরায়েলের এক সিনিয়র কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, “এখনও কিছুই শেষ হয়নি। আমাদের প্রাথমিক মূল্যায়ন ছিল, এই যুদ্ধ প্রায় দুই সপ্তাহ চলবে।” তিনি জানান, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের বেশ কিছু লক্ষ্য এখনও অর্জন করা বাকি রয়েছে। তাই যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে বা শেষের পথে—এমন মন্তব্য বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে। তবে ইসরায়েলি সূত্রের মতে, ইরান এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ইসরায়েলের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, অভিযান শুরু হওয়ার সময় থেকেই ধারণা করা হয়েছিল যে এটি স্বল্প সময়ের হলেও তীব্র লড়াই হবে এবং সব লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান বন্ধ করা হবে না। বর্তমানে ইরান ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শেষ হওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভিন্ন বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে যে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত এবং সংঘাত দ্রুত থামার সম্ভাবনা কম।
ব্র্যাড কুপার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযানের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ইরান–এ প্রায় দুই হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এই অভিযানে ইরানের একটি সাবমেরিনসহ অন্তত ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ রণতরী ধ্বংস হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারের বেশি সেনা সদস্য, প্রায় ২০০ যুদ্ধবিমান, দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং একাধিক বোমারু বিমান অংশ নিচ্ছে। সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর আঘাত হানার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দিন দিন কমছে। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার ভাষ্যমতে, ধারাবাহিক হামলার মাধ্যমে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করা হয়েছে। শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং ড্রোন ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরান প্রতিশোধ নিতে এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুই হাজারের বেশি ড্রোন ব্যবহার করেছে। তবে বর্তমানে তাদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা সংকটের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এসব সামরিক দাবি সত্য হয়, তাহলে ইরানের নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর ইরানের পরবর্তী কৌশলের দিকে।
ইরান–এ চলমান সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে সেনাবাহিনীর এলিট ইউনিট ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC)। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর যৌথ হামলার পর এই পাল্টা অভিযান শুরু হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে বিপ্লবী গার্ড স্বাধীনভাবে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং এসব অভিযানে সরকারের সরাসরি নির্দেশনা নেই। ওমান–এর বন্দরে সাম্প্রতিক হামলায় পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরাগচি বলেন, ওই হামলার সিদ্ধান্ত ইরান সরকার নেয়নি। তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর রুহুল্লা খোমেনি–এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তখন সামরিক দায়িত্ব ভাগ করা হয়। সাধারণ সেনাবাহিনীকে দেশ ও সীমান্ত প্রতিরক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হলেও বিপ্লবী গার্ডকে ইসলামিক বিপ্লব রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বা সুপ্রিম লিডারের কাছে সাধারণত এই বাহিনীর কার্যক্রম রিপোর্ট করা হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–এর মৃত্যুর পর বাহিনীর কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আরাগচির বক্তব্য কৌশলগত রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি কূটনৈতিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে তেহরান। সূত্র: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্র–এর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরান-এর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নেবে না। তার মতে, এই অভিযান ইরাক-এ পরিচালিত সামরিক অভিযানের মতো দীর্ঘ সময় চলবে না। সোমবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সামরিক অভিযানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর নির্দেশনা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশল বাস্তবায়ন করবে। হেগসেথ জানান, অপারেশন এপিক ফিউরি এক রাতের মধ্যে শেষ হবে না। ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র এবং ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্য তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে, তবে কোনো তাড়াহুড়া করে সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ইরানের ভূখণ্ডে কোনো মার্কিন সেনা মোতায়েন নেই। ভবিষ্যতে এমন সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ না করলেও তাৎক্ষণিক পরিকল্পনার কথা তিনি উল্লেখ করেননি। এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ইরানের জনগণ এই পরিস্থিতিকে একটি “অবিশ্বাস্য সুযোগ” হিসেবে কাজে লাগাতে পারে। ট্রাম্পের আগের মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এখনই তোমাদের সময়”—এই বার্তাটি ইরানের জনগণের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির অন্তত ৪৮ জন শীর্ষস্থানীয় নেতা নিহত হয়েছেন। রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেন। অভিযানের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, তাদের এই বিশেষ অভিযান অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এবং দ্রুততার সঙ্গে সফলতার দিকে এগিয়ে চলেছে। একই দিনে সিএনবিসিকে দেওয়া অপর একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজের প্রশাসনের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, "এই সামরিক পদক্ষেপ কেবল যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে নয়, বরং বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।" তবে এই অভিযানের বিষয়ে এখন পর্যন্ত তেহরান বা নিরপেক্ষ কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী রোববার (১ মার্চ) দাবি করেছে, সামরিক অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের প্রায় অর্ধেক ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, ইরান প্রতি মাসে ডজনখানেক ভূমি-থেকে-ভূমি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছিল এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রতিমাসে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা ছিল। ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন টেলিভিশনে জানান, সামরিক অভিযানের সময় তারা কমপক্ষে ১৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। সূত্র: এএফপি
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানে একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে BBC Bangla জানিয়েছে, এই হামলায় ইরান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের লক্ষ্য করা হয়েছিল। ইসরাইলি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, অভিযানের সময় তিনটি আলাদা স্থানে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল নির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ধ্বংস করা, যা যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে। আইডিএফ (ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও তারা একই ধরনের অভিযান চালাতে প্রস্তুত। হামলার ফলে ইরানের কতজন কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন এবং সম্পূর্ণ ধ্বংসের পরিমাণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews