ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই ভোটকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের সর্বশেষ প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট পড়ে ২১৪টি, বিপক্ষে ২০৮টি। এতে চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। তারা হলেন—মিশিগানের টম ব্যারেট, পেনসিলভানিয়ার ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, ওহাইওর ওয়ারেন ডেভিডসন এবং কেনটাকির থমাস ম্যাসি। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি প্রমিলা জয়াপাল উত্থাপিত প্রস্তাবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি মূলত প্রতীকী। কারণ গত কয়েক মাসে কংগ্রেসে একই ধরনের যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত একাধিক প্রস্তাব পাস হয়েছে। কিন্তু এসব উদ্যোগ এখন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত বন্ধ করতে পারেনি। এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি ইরান ও তাদের মিত্র হুথিদের বিরুদ্ধে “বড় ধরনের সামরিক শাস্তি” দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়েছে। ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের হামলায় লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথেও উত্তেজনা বেড়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির কার্যত ভেঙে পড়ার পর ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিনিধি পরিষদের সর্বশেষ ভোট ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতির ওপর কংগ্রেসের রাজনৈতিক চাপ বাড়ালেও, তাৎক্ষণিকভাবে ইরান যুদ্ধ বন্ধে এর বাস্তব প্রভাব কতটা পড়বে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘিত হলে লেবাননের বিরুদ্ধে ‘দ্রুত সামরিক অভিযান’ চালানোর হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির। দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত বিউফোর্ট দুর্গ (আরবিতে কালআত আল-শাকিফ) পরিদর্শনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। আনাদোলু সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, রোববার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাপ্রধান ইয়াল জামির ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিউফোর্ট এলাকায় মোতায়েন সেনাদের পরিদর্শন করেন। ওই সফরেই তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ হলে ইসরায়েল দ্রুত সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত থাকবে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বিউফোর্ট দুর্গকে ‘কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, এলাকাটি হিজবুল্লাহর বিভিন্ন অবকাঠামোতে পরিপূর্ণ। জামির আরও দাবি করেন, ইরানের অর্থায়ন ও সহায়তায় কয়েক দশক ধরে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের বসতিগুলোকে লক্ষ্য করে বিস্তৃত সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। তিনি লেবাননের সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় নিজেদের দায়িত্ব পালন করে ওই এলাকা থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সরিয়ে দিতে হবে। তবে সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যের বিষয়ে লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গত মে মাসের শেষ দিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘোষণা দেন, ইসরায়েলি বাহিনী বিউফোর্ট দুর্গের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ২০০০ সালের পর এটিই লেবাননের ভেতরে ইসরায়েলি বাহিনীর সবচেয়ে গভীর অগ্রযাত্রা বলে দাবি করা হয়। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ সে সময় জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী দুর্গে প্রবেশের সময় সেখানে তাদের কোনো সামরিক উপস্থিতি ছিল না। সংগঠনটি অভিযোগ করে, প্রচারণার উদ্দেশ্যেই ইসরায়েল ওই এলাকা দখল করেছে। দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনা হিসেবে পরিচিত বিউফোর্ট দুর্গ। ২০০০ সালে ইসরায়েলি বাহিনী সেখান থেকে সরে গেলেও সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে এলাকাটি আবারও আলোচনায় আসে। উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর লক্ষ্য ছিল দুই পক্ষের সংঘাত বন্ধ করা এবং দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মূল কারণগুলো সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। তবে যুদ্ধবিরতির এই উদ্যোগের মধ্যেও সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। লেবাননের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অন্তত ৪ হাজার ৩০৩ জন নিহত এবং ১২ হাজার ২০২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া সংঘাতের কারণে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে বলে লেবাননের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলেও এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইসরাইলের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন নাসর’ নামে নতুন একটি সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটির দাবি, অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরাইলের নেভাতিম ও তেল নফ বিমানঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহেরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। পরে আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তরও এক বিবৃতিতে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে। আইআরজিসি জানায়, তাদের মহাকাশ বা অ্যারোস্পেস বাহিনীর ইউনিটগুলো ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত নেভাতিম বিমানঘাঁটি এবং মধ্যাঞ্চলের তেল নফ বিমানঘাঁটির বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই দুই ঘাঁটিকে ইসরাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে ‘ইয়া হায়দার কারার’ সাংকেতিক নামে এই অভিযান শুরু করা হয়। আইআরজিসির দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে নিহতদের স্মরণ এবং ইরানের বিভিন্ন রাডার ও প্রতিরক্ষা স্থাপনায় ইসরাইলি হামলার জবাব হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনা। তবে হামলার ফলে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইসরাইলের পক্ষ থেকেও ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা রক্ষার অংশ হিসেবে তাদের বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বজায় রেখেছে এবং যেকোনো ধরনের হামলার জবাব দিতে সক্ষম। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি ও পরোক্ষ হামলার অভিযোগ করে আসছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পক্ষ সংঘাত কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে সর্বশেষ এই অভিযানের ঘোষণার পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।
লেবাননে জল, স্থল ও আকাশপথে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ত্রিমুখী হামলায় অন্তত ৪০ জন হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা, অবকাঠামো এবং অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, তাদের বিমান বাহিনী হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সাইটগুলোতে আঘাত হেনেছে। একই সময়ে স্থলবাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর বেশ কিছু গোপন আস্তানা শনাক্ত করে তা উচ্ছেদ করেছে। এছাড়া ইসরায়েলি নৌবাহিনী হিজবুল্লাহর একটি বড় অস্ত্রের গুদামে সফল হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত এক দিনে ৪০ জনের বেশি হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে বলে সামরিক বিবৃতিতে জানানো হয়। এদিকে, ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছে হিজবুল্লাহও। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ১০ মিনিটের দিকে লেবাননের মালিকিয়াহ ও ইয়েরুন এলাকায় ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা। এছাড়া লেবাননের মেনাহেম এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলা চালানোর দাবিও করেছে সংগঠনটি। তবে হিজবুল্লাহর এই ড্রোন ও রকেট হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের জ্বালানি অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্র খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, সুরক্ষিত এই দ্বীপে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ প্রাণহানি বাড়ানোর পাশাপাশি কৌশলগতভাবে উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যালকম ডেভিস সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “খারগ দ্বীপে ইরানিদের পক্ষে মার্কিন বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলার সুযোগ থাকবে। এতে প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে।” তিনি জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দ্বীপটিতে প্রতিরক্ষা জোরদার করেছে ইরান। সেখানে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে বিভিন্ন কৌশলগত ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত ইতোমধ্যে এক মাস অতিক্রম করেছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলছেন, অন্যদিকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ম্যালকম ডেভিসের মতে, অদূর ভবিষ্যতেই—সম্ভবত এক সপ্তাহের মধ্যে—যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযানের দিকে এগোতে পারে, যা চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে। কেন গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খারগ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আবোজার, ফোরুজান ও দোরুদ তেলক্ষেত্র থেকে সংগৃহীত তেল এখানেই প্রক্রিয়াজাত হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়, যার বড় অংশ যায় এশিয়ার বাজারে, বিশেষ করে চীনে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান এই টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। বর্তমানে এর দৈনিক ধারণক্ষমতা প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে। অভিযানের সম্ভাব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা মাইকেল রুবিনের মতে, খারগ দ্বীপ দখলে নিতে পারলে ইরানের অর্থনৈতিক ভিত্তি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। এতে সরকার প্রশাসন ও সামরিক ব্যয় নির্বাহে সংকটে পড়তে পারে, যা শাসনব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এদিকে পাকিস্তানসহ কয়েকটি মুসলিম দেশ যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিলেও পরিস্থিতি এখনো শান্তির দিকে এগোচ্ছে—এমন কোনো ইঙ্গিত নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সামরিক প্রস্তুতি, কূটনৈতিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর তৎপরতা-সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতে এখনো দৃশ্যমান কোনো কৌশলগত অর্জন দেখাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় দেশটি কি স্থল অভিযানের দিকে এগোচ্ছে এ প্রশ্ন সামনে আসছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং বিভিন্ন সামরিক ইউনিটের গতিবিধি এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার পাশাপাশি আরও প্রায় ২০ হাজার সেনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মেরিন, প্যারাট্রুপার এবং স্থল অভিযানে দক্ষ বিশেষ বাহিনী রয়েছে। জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন ইউনিট ইতিমধ্যে রওনা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার সুযোগ রাখতে দেশটির জ্বালানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলার সময়সীমা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। নতুন সময়সীমা অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি নিজেদের শর্তে করতে আগ্রহী। দেশটি চায়, ভবিষ্যতে কোনো আক্রমণ না হওয়ার আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা এবং অঞ্চলে তাদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার দাবিও তুলেছে তেহরান। তবে এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আঞ্চলিক রাজনীতিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্ব ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তারা চায়, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল না করে যুদ্ধ শেষ না হোক। এই অবস্থান ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি মূল ভূখণ্ডে আক্রমণের বদলে প্রথমে কৌশলগত দ্বীপপুঞ্জ দখলের পথে হাঁটতে পারে। বিশেষ করে খার্গ দ্বীপ, কেশম, কিশ বা হরমুজ প্রণালীর আশপাশের দ্বীপগুলো দখলে নিলে ইরানের তেল রপ্তানি ও নৌ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। এছাড়া খুজেনস্তান প্রদেশ, চাবাহার বন্দর বা বন্দর আব্বাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে ইরানের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিশেষ করে জাগরোস পর্বতমালা ও মরুভূমি যেকোনো স্থল অভিযানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্ণমাত্রার স্থল যুদ্ধের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। তাই যুক্তরাষ্ট্র সীমিত পরিসরে অভিযান, কমান্ডো হামলা এবং অর্থনৈতিক চাপের সমন্বয়ে কৌশল গ্রহণ করতে পারে। কূটনৈতিক সমাধান না হলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং ইরানে স্থল অভিযান বাস্তব রূপ নিতে পারে এমন আশঙ্কাই এখন প্রধান হয়ে উঠছে।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরান ইসরায়েলের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে জানিয়েছেন, ইরানে হামলার পরিধি বাড়ানো হবে এবং আরও বিস্তৃতভাবে অভিযান পরিচালিত হবে। এমন লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করা হবে, যেগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা পরিচালনায় সহায়ক হিসেবে বিবেচিত। ইসরায়েল কাৎজ বলেন, “ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হবে। যুদ্ধের সব লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমরা পূর্ণ শক্তিতে অভিযান চালিয়ে যাব।” মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সূত্র: আল–জাজিরা
লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে হত্যা করার দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এক বিমান হামলায় ওই কমান্ডার নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, লেবাননের হাজির এলাকায় পরিচালিত হামলায় হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হাসান মোহাম্মদ বশির নিহত হয়েছেন। বুধবার এই হামলা চালানো হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আইডিএফ জানায়, ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের কেরমানশাহ প্রদেশ ও দেজফুল শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ধারাবাহিক সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। একই সময়ে ইরানের ভেতরেও হামলার দাবি করেছে তারা। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে ইসরায়েলের এসব হামলাকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। বেসেন্ট পরিষ্কারভাবে জানান, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে এবং এসব স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী পিছু হটবে না। সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বর্তমান যুদ্ধের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সংবাদ প্রকাশের ধরনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন প্রশাসন ও সামরিক কর্মকর্তারা প্রকৃতপক্ষে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন, সে বিষয়ে দেশটির সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে না। তার মতে, গণমাধ্যমগুলোতে প্রকৃত ঘটনার পরিবর্তে ভিন্ন পরিস্থিতি চিত্রায়িত হচ্ছে। অন্যদিকে, একই অনুষ্ঠানে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে দাবি করেন যে, সরকার বর্তমানে যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মারফির এই অভিযোগের জবাবে পাল্টা আক্রমণ করে বেসেন্ট বলেন, সিনেটরের দাবি সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।