ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই ভোটকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের সর্বশেষ প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট পড়ে ২১৪টি, বিপক্ষে ২০৮টি। এতে চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। তারা হলেন—মিশিগানের টম ব্যারেট, পেনসিলভানিয়ার ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, ওহাইওর ওয়ারেন ডেভিডসন এবং কেনটাকির থমাস ম্যাসি।
ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি প্রমিলা জয়াপাল উত্থাপিত প্রস্তাবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে প্রস্তাবটি মূলত প্রতীকী। কারণ গত কয়েক মাসে কংগ্রেসে একই ধরনের যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত একাধিক প্রস্তাব পাস হয়েছে। কিন্তু এসব উদ্যোগ এখন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত বন্ধ করতে পারেনি।
এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি ইরান ও তাদের মিত্র হুথিদের বিরুদ্ধে “বড় ধরনের সামরিক শাস্তি” দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়েছে। ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের হামলায় লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথেও উত্তেজনা বেড়েছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির কার্যত ভেঙে পড়ার পর ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রতিনিধি পরিষদের সর্বশেষ ভোট ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতির ওপর কংগ্রেসের রাজনৈতিক চাপ বাড়ালেও, তাৎক্ষণিকভাবে ইরান যুদ্ধ বন্ধে এর বাস্তব প্রভাব কতটা পড়বে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামি মহানগর এলাকায় বসবাসের খরচ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্ক মহানগর এলাকার চেয়েও বেশি হয়ে গেছে। একসময় কম কর, উষ্ণ আবহাওয়া ও তুলনামূলক কম খরচের কারণে যেসব মানুষ নিউইয়র্ক ছেড়ে মায়ামিতে চলে যেতেন, সেই সমীকরণ এখন বদলে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ আয়ের মানুষদের জন্য শহরটি এখনও আকর্ষণীয় হলেও মধ্যবিত্ত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিসের সর্বশেষ আঞ্চলিক মূল্যসূচক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মায়ামি–ফোর্ট লডারডেল–ওয়েস্ট পাম বিচ মহানগর এলাকার জীবনযাত্রার ব্যয়ের সূচক নিউইয়র্ক মহানগর এলাকার চেয়েও বেশি। বর্তমানে কেবল সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়াই মায়ামির চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড-১৯ মহামারির পর নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক উচ্চ আয়ের মানুষ এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দক্ষিণ ফ্লোরিডায় চলে আসে। এতে আবাসন বাজারে চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়। পাশাপাশি বাড়ির মূল্য, ভাড়া, বীমা, ব্যক্তিগত স্কুলের খরচ এবং রেস্তোরাঁয় খাওয়ার ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০১৯ সালের পর থেকে মায়ামি অঞ্চলে ভোক্তা মূল্য প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বড় মহানগরগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চাপে পড়েছেন মধ্যম আয়ের চাকরিজীবী, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সেবাখাতের কর্মীরা। তাদের অনেকের আয় বাড়লেও তা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। ফলে শহরের কেন্দ্র থেকে দূরের এলাকায় চলে যাওয়া বা অন্য অঙ্গরাজ্যে স্থানান্তরের প্রবণতাও বাড়ছে। অন্যদিকে উচ্চ আয়ের পেশাজীবী, আর্থিক খাতের কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে মায়ামির আকর্ষণ এখনো কমেনি। কারণ, ফ্লোরিডায় এখনো কোনো অঙ্গরাজ্য আয়কর নেই। অনেকের মতে, উচ্চ করের অঙ্গরাজ্য থেকে আসা ধনীদের জন্য কর-সুবিধা ব্যয় বৃদ্ধির একটি অংশ পুষিয়ে দেয়। তবে সাধারণ পরিবারের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা কার্যত মিলছে না। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মায়ামির দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ আবাসনের সীমিত সরবরাহ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, উচ্চ বীমা ব্যয় এবং শক্তিশালী রিয়েল এস্টেট বাজার। এসব কারণে শহরটির দীর্ঘদিনের ‘সাশ্রয়ী বিকল্প’ হিসেবে পরিচিতি প্রায় হারিয়ে গেছে। যদিও মায়ামি এখনও উষ্ণ আবহাওয়া, সমুদ্রসৈকত ও কর-সুবিধার কারণে অনেকের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য, তবু জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় শহরটির ভবিষ্যৎ আবাসন বাজার এবং মধ্যবিত্তের টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে চলতি বছরে কত মানুষকে বিতাড়িত করা হবে, সেই সংখ্যা নিয়ে অর্থের বিনিময়ে পূর্বাভাস দেওয়ার সুযোগ চালু করায় অনলাইন প্রেডিকশন মার্কেট কালশির তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান সেথ মলটন। তাঁর অভিযোগ, অভিবাসীদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে এভাবে বাজির বিষয়ে পরিণত করা অনৈতিক। ম্যাসাচুসেটসের এই আইনপ্রণেতা বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে কালশির উদ্যোগকে ‘ঘৃণ্য’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবনকে ক্যাসিনোর চিপ হিসেবে দেখা যায় না। একই সঙ্গে বিতাড়নের সংখ্যা নিয়ে চালু করা বাজারটি বন্ধ করতে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আহ্বান জানান তিনি। কালশির ওয়েবসাইটে ‘এ বছর কত মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা হবে’—এমন একটি বাজার চালু রয়েছে। এতে অংশগ্রহণকারীরা নির্দিষ্ট সংখ্যার ওপর অর্থ বিনিয়োগ করতে পারেন। বছরের শেষে সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে ফল নির্ধারণ করা হবে এবং সঠিক পূর্বাভাসে অর্থ দেওয়া হবে। প্রেডিকশন মার্কেটে সাধারণত নির্বাচন, অর্থনীতি, আবহাওয়া, খেলাধুলা ও সরকারি সিদ্ধান্তসহ ভবিষ্যতের বিভিন্ন ঘটনার সম্ভাব্য ফল নিয়ে চুক্তি কেনাবেচা করা হয়। চুক্তির দাম থেকে কোনো ঘটনার সম্ভাবনা সম্পর্কে বাজারে অংশগ্রহণকারীদের সম্মিলিত ধারণা পাওয়া যায়। তবে যুদ্ধ, মৃত্যু, নিখোঁজ ব্যক্তি কিংবা বিতাড়নের মতো মানবিক সংকটকে কেন্দ্র করে বাজার চালুর নৈতিকতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক বাড়ছে। মলটন এর আগেও এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। ২০২৬ সালের মার্চে তিনি নিজের কংগ্রেস কার্যালয়ের সব কর্মীর জন্য কালশি ও পলিমার্কেটের মতো প্রেডিকশন মার্কেটে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করেন। তাঁর কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের বাজার গোপন সরকারি তথ্য জানা ব্যক্তিদের আর্থিক লাভের সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনৈতিক প্রণোদনা সৃষ্টি করতে পারে। এর আগে যুদ্ধের মধ্যে নিখোঁজ এক মার্কিন সেনাসদস্যকে জীবিত পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে পলিমার্কেটে বাজির বাজার চালু হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মলটন। তাঁর সমালোচনার পর ওই বাজারটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কীভাবে সেটি অনুমোদন পেয়েছিল, তা তদন্তের কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি। কালশি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কমোডিটি ফিউচারস ট্রেডিং কমিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি বৈধ ইভেন্ট-কন্ট্রাক্ট বাজার হিসেবে পরিচয় দেয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, রাজনীতি, অর্থনীতি ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ের সম্ভাব্য ফল নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা সেখানে চুক্তি কেনাবেচা করতে পারেন। তবে বিতাড়নের মতো বিষয়ে বাজার পরিচালনা নিয়ে মলটনের সমালোচনার জবাবে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, আটক ও বিতাড়ন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, প্রশাসনের অভিযানে ছয় লাখের বেশি মানুষকে বিতাড়িত করা হয়েছে এবং আরও অনেকে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। তবে স্বাধীন গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ভিন্ন পদ্ধতিতে হিসাব প্রকাশ করায় মোট বিতাড়নের নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রেডিকশন মার্কেটের সীমা ও নৈতিকতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, ভবিষ্যৎ ঘটনা অনুমান ও আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নামে মানুষের আটক, বিতাড়ন কিংবা জীবন-মৃত্যুর মতো সংবেদনশীল বিষয়কে লাভের বাজারে পরিণত করার অনুমতি দেওয়া উচিত কি না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার পর তার মরদেহ স্যুটকেসে ভরে ফেলে রাখার অভিযোগে বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ২২ বছর বয়সী সল মার্টিনেজ জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে শিশুকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তদন্তকারীদের সেই স্থানে নিয়ে যান, যেখানে স্যুটকেসের ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মেমফিস পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুলাই শিশুটির মা পুলিশকে জানান, তাদের তিন বছর বয়সী ছেলে জোসেফ মার্টিনেজকে তার জৈবিক বাবা, যিনি শিশুটির অভিভাবক ছিলেন না, অনুমতি ছাড়াই বাড়ি থেকে নিয়ে গেছেন। পরদিন সল মার্টিনেজ বাড়িতে ফিরলেও শিশুটি তার সঙ্গে ছিল না। এরপরই নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধারে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্তের বাবা গভীর রাতে তাকে একটি বড় বাদামি রঙের স্যুটকেস গাড়িতে তুলতে দেখেছিলেন। পরে ছেলে কোথায়, এমন প্রশ্ন করলে প্রথমে সল মার্টিনেজ দাবি করেন, শিশুটি এক বন্ধুর কাছে রয়েছে। তবে কিছুক্ষণ পর তিনি স্বীকার করেন যে শিশুটি মারা গেছে এবং তার মরদেহ উলফ রিভারের কাছে ফেলে রাখা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে সল মার্টিনেজ তদন্তকারীদের একটি বনাঞ্চলে নিয়ে যান। সেখানে একটি স্যুটকেসের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় তিন বছর বয়সী জোসেফের মরদেহ। তবে কী কারণে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। এ ঘটনায় সল মার্টিনেজের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যা, গুরুতর শিশুনির্যাতন, মরদেহের অবমাননা, আলামত নষ্ট এবং গুরুতর শিশুনির্যাতনের সময় হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। মেমফিস পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত এখনো চলছে। একই সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারীরা।