সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

লেবাননে হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহতের দাবি ইসরায়েলের

Unknown প্রকাশ: মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৬:২৩
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে হত্যা করার দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এক বিমান হামলায় ওই কমান্ডার নিহত হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, লেবাননের হাজির এলাকায় পরিচালিত হামলায় হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হাসান মোহাম্মদ বশির নিহত হয়েছেন। বুধবার এই হামলা চালানো হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

 

আইডিএফ জানায়, ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের কেরমানশাহ প্রদেশ ও দেজফুল শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ধারাবাহিক সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। একই সময়ে ইরানের ভেতরেও হামলার দাবি করেছে তারা। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে ইসরায়েলের এসব হামলাকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শিকার ফ্রান্সের মুসলিম মেয়র
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শিকার ফ্রান্সের মুসলিম মেয়র

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁদের রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে কাঁদানে গ্যাসের শিকার হয়েছেন সাঁ দেনি শহরের মেয়র বালি বাগায়োকো। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানী প্যারিসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়িয়ে বারবার থামার আহ্বান জানাতে দেখা যায় তাঁকে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত এই কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা, শিক্ষকসংকট এবং শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবিতে চলমান আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন বাগায়োকো। বিক্ষোভের একপর্যায়ে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে তিনি দুই পক্ষের মাঝখানে দাঁড়ান। এ সময় পুলিশের উদ্দেশে তাঁকে বারবার থামতে বলতে শোনা যায়।   পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এতে বাগায়োকো নিজেও আক্রান্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে চোখের অস্বস্তিতে ভুগতে এবং অন্যদের সহায়তায় চোখে স্যালাইন নিতে দেখা যায়। পরে তাঁকে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।   বুধবার (৭ অক্টোবর) রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাগায়োকো জানান, পুলিশ যখন শিক্ষার্থীদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর দাবি, উপস্থিত অনেক শিক্ষার্থী পুলিশের প্রতি কোনো আক্রমণাত্মক আচরণ করেনি। তা সত্ত্বেও পুলিশ তাঁদের দিকে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।   শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেয়র বলেন, রাস্তায় আন্দোলনরত স্কুলশিক্ষার্থীরা তাঁর নিজের সন্তানও হতে পারত। তাই তাঁদের পাশে দাঁড়ানো নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।   প্যারিসের উত্তরাঞ্চলের সাঁ দেনি শহরটি তুলনামূলকভাবে নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাসের এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত সুযোগসুবিধা ও জনবলের অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। বাগায়োকোর মতে, বিত্তশালী এলাকার তুলনায় শ্রমজীবী মানুষের বসবাসের এলাকাগুলোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।   ফ্রান্সে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে শ্রেণিকক্ষের ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত অবস্থাও সন্তোষজনক নয়।   আন্দোলন চলাকালে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। কোথাও গাড়ি ও আবর্জনার পাত্রে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশের অভিযানে বহু শিক্ষার্থী আটক হয়েছে। অন্যদিকে সহিংসতায় পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।   পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ফরাসি সরকার বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ ধরনের বিস্ফোরক গ্রেনেড ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, একটি সংঘর্ষে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত হারানোর ঘটনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুলিশের বলপ্রয়োগসংক্রান্ত ১৮টি ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু হয়েছে।   এদিকে বিক্ষোভে বাগায়োকোর ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি ফ্রান্সের বামপন্থী রাজনৈতিক দল লা ফ্রঁস আঁসুমিজের সদস্য। চলতি বছরের মার্চে সাঁ দেনির মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া বাগায়োকোর বাবা-মা পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির নাগরিক ছিলেন। নিজ শহরের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি আলোচনায় রয়েছেন।   শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের একাংশের আপত্তিও রয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্যারিসের পুলিশ প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবরোধসংক্রান্ত আন্দোলনে কথিত আইনভঙ্গের উসকানির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তবে বাগায়োকো সহিংসতাকে আন্দোলনের পদ্ধতি হিসেবে সমর্থন করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।   মেয়রের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের দাবি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সমাধান করা প্রয়োজন। শুধু পুলিশ মোতায়েন করে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট দূর করা সম্ভব নয়। তিনি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উসকানি এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।   ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকেও শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পর্যালোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু অক্টোবরের শেষ নাগাদ বাস্তবায়নযোগ্য কিছু প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি অব্যাহত রেখেছেন।   এর মধ্যে বাগায়োকোর ঘটনাটি ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে আন্দোলনকারীরা শিক্ষার পরিবেশ ও সুযোগের সমতা দাবি করছেন, অন্যদিকে সরকারকে জননিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ০:৩৬
মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ মিসর, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে বিপুল অস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

মিসর, কুয়েত ও আমিরাতকে ২০০ কোটি ডলারের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে প্রদর্শিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ ভাস্কর্য। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের নগ্ন সোনালি ভাস্কর্য, নাম ‘অরেঞ্জ প্লেগ’

ফিজিক্সে নোবেলজয়ীর ২৩০ পৃষ্ঠার সিভি! গবেষণাজীবনের বিস্ময়কর দলিল

ফিজিক্সে নোবেলজয়ীর ২৩০ পৃষ্ঠার সিভি! গবেষণাজীবনের বিস্ময়কর দলিল

কিম জং উনের বাবার মৃত্যুতে ১১ দিনের শোক, চোখের পানি পড়ছে কিনা দেখতে নিষিদ্ধ ছিল টুপি-গ্লাভস-স্কার্ফ
কিম জং উনের বাবার মৃত্যুতে ১১ দিনের শোক, চোখের পানি পড়ছে কিনা দেখতে নিষিদ্ধ ছিল টুপি-গ্লাভস-স্কার্ফ

২০১১ সালের ডিসেম্বরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইলের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে কঠোর রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে দেখা যায়, পিয়ংইয়ংয়ের সড়ক ও বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভের সামনে হাজার হাজার মানুষ কাঁদছেন, চিৎকার করছেন এবং বুক চাপড়াচ্ছেন। তবে পরে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে, এই শোক শুধু আবেগের প্রকাশ ছিল না, বরং তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল।   কিম জং ইল ২০১১ সালের ১৭ ডিসেম্বর মারা যান। তার মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় ১৯ ডিসেম্বর। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কমিটি ১৭ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক শোকপর্ব ঘোষণা করে। ২৮ ডিসেম্বর পিয়ংইয়ংয়ে তার শেষকৃত্য এবং পরদিন কেন্দ্রীয় স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।   রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে কিম জং ইলের শেষযাত্রার সময় তুষারে ঢাকা সড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক মানুষকে কাঁদতে দেখা যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও সে সময় পিয়ংইয়ংয়ের শোকানুষ্ঠানের দৃশ্য প্রচার করে। তবে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ সূত্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি এনকে পরে জানায়, এসব অনুষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতি এবং আচরণ অনেক ক্ষেত্রেই সংগঠিত ও বাধ্যতামূলক ছিল।   ডেইলি এনকের ২০১১ সালের ডিসেম্বরের একটি প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, কারখানা, কর্মস্থল ও স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিট থেকে নির্দিষ্ট সময় ধরে মানুষকে শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে পাঠানো হচ্ছিল। অনেকের জন্য স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানো কার্যত বাধ্যতামূলক ছিল।   সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ আসে শোকপর্ব শেষ হওয়ার পর। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে ডেইলি এনকে উত্তর হামগিয়ং প্রদেশের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, যারা আয়োজিত শোকসভায় অংশ নেননি অথবা উপস্থিত হয়েও যথেষ্ট দুঃখ প্রকাশ করেননি, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল।   প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়, কারও শোক যথেষ্ট আন্তরিক মনে না হলে তাকে অন্তত ছয় মাসের জন্য শ্রম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কর্মস্থল ও স্থানীয় ইউনিটে আত্মসমালোচনামূলক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। যারা শোকানুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন, তাদের দেশদ্রোহী এবং যাদের আচরণ যথেষ্ট শোকাহত মনে হয়নি, তাদের প্রতিক্রিয়াশীল হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগও উঠে আসে।   তবে উত্তর কোরিয়া অত্যন্ত বন্ধ ও তথ্যনিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র হওয়ায় এসব শাস্তির পূর্ণাঙ্গ সরকারি নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন। ফলে ডেইলি এনকের এসব তথ্যকে অভ্যন্তরীণ সূত্রনির্ভর প্রতিবেদন হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।   শেষকৃত্যের দিন পোশাক নিয়েও কঠোর নির্দেশনার অভিযোগ ছিল। ডেইলি এনকের একটি প্রতিবেদনে পিয়ংইয়ংয়ের এক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ২৮ ডিসেম্বরের শোকযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের টুপি, গ্লাভস ও স্কার্ফ না পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তখন পিয়ংইয়ংয়ের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে ছিল।   প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, শোকযাত্রার সারির পেছনে পর্যবেক্ষক রাখা হয়েছিল। তবে এই দাবির সব অংশ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। একই সময়ের কিছু ছবি ও আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদনে কিছু অংশগ্রহণকারীকে শীতের পোশাক পরতেও দেখা যায়। ফলে পোশাকসংক্রান্ত নির্দেশনার প্রয়োগ কতটা সর্বজনীন ছিল, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।   উত্তর কোরিয়ায় শোকপর্বে বিনোদন, মদ্যপান এবং উচ্চস্বরে উৎসবধর্মী কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার নির্দেশ ছিল বলেও সে সময় একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়। বাজার কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ রাখার কথাও ডেইলি এনকের অভ্যন্তরীণ সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদনে উঠে আসে।   আরও কঠোর কিছু দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর সবগুলো নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত নয়। বিশেষ করে নিজের পরিবারের কেউ মারা গেলে প্রকাশ্যে কাঁদা নিষিদ্ধ ছিল কিংবা শোকের নিয়ম ভাঙলেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন প্রমাণ সীমিত। তাই এসব বিষয়কে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।   তবে তুলনামূলকভাবে শক্তভাবে নথিবদ্ধ যে বিষয়টি হলো, কিম জং ইলের মৃত্যুর পর উত্তর কোরিয়ায় শোক ছিল রাষ্ট্রীয়ভাবে সংগঠিত, পর্যবেক্ষিত এবং রাজনৈতিক আনুগত্যের সঙ্গে যুক্ত। ডেইলি এনকের পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতে অভিযোগ করা হয়, শোকপর্বে অনুপস্থিতি, মদ্যপান, সরকারের সমালোচনা বা শোকের আবহ ভঙ্গ করার অভিযোগে কাউকে শ্রমশিবিরে পাঠানো, দলীয় পদ হারানো কিংবা দূরবর্তী এলাকায় নির্বাসনের মতো শাস্তিও দেওয়া হয়েছে।   কিম জং ইলের শেষকৃত্য শুধু একজন নেতার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। এটি একই সঙ্গে ক্ষমতা তার ছেলে কিম জং উনের হাতে হস্তান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে। শেষযাত্রায় কিম জং উনকে বাবার কফিনবাহী গাড়ির পাশে হাঁটতে দেখা যায়। এরপর দ্রুতই তিনি উত্তর কোরিয়ার নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ২:৩৪
যুক্তরাজ্যের শীর্ষ কলেজে সারোয়ার দম্পতির ৫০ লাখ পাউন্ড আত্মসাৎ

যুক্তরাজ্যের শীর্ষ কলেজে সারোয়ার দম্পতির ৫০ লাখ পাউন্ড আত্মসাৎ, পরিচালকের স্বীকারোক্তি

সৌদিতে নির্যাতনের অভিযোগে গোপনে ভিডিও করা রেহেনা এখন দূতাবাসের হেফাজতে

সৌদিতে নির্যাতনের অভিযোগে গোপনে ভিডিও করা রেহেনা এখন দূতাবাসের হেফাজতে

কানাডায় রাস্তা পার হওয়া পথচারীর সঙ্গে তর্কে জড়ানোয় ভারতীয় নারী গ্রেফতার

কানাডায় রাস্তা পার হওয়া পথচারীর সঙ্গে তর্কে জড়ানোয় ভারতীয় নারী গ্রেফতার, ভিডিও ভাইরাল

প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ফ্লাইট চলাচল করলেও বিমান ভ্রমণ এখনো অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ জীবনে একবারও চড়েননি বিমানে

আধুনিক বিশ্বে বিমান ভ্রমণকে অনেকের কাছে স্বাভাবিক যাতায়াতের মাধ্যম মনে হলেও বৈশ্বিক চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ জীবনে একবারও বিমানে চড়েননি। অর্থাৎ প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ফ্লাইট চলাচল করলেও বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এখনো পৃথিবীর তুলনামূলক ছোট একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।   ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশেরও কম মানুষ জীবনে অন্তত একবার বিমানে ভ্রমণ করেছেন। সেই হিসাবে পৃথিবীর ৮০ শতাংশের বেশি মানুষের এখনো বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নেই। অর্থনৈতিক সামর্থ্য, ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান পরিবহনের সুযোগের পার্থক্য এই বৈষম্যের সঙ্গে যুক্ত।   বিমান চলাচল নিয়ে এর আগের একটি বহুল উদ্ধৃত গবেষণাতেও বৈশ্বিক বিমান ভ্রমণে বড় ধরনের বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছিল। ২০২০ সালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় ২০১৮ সালের বৈশ্বিক বিমান ভ্রমণের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা হিসাব করেছিলেন, সে বছর বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ১১ শতাংশ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন।   আন্তর্জাতিক বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ছিল আরও কম। গবেষণাটির হিসাবে, ২০১৮ সালে বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ২ থেকে ৪ শতাংশ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণ করেছিলেন। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পর্যটন এবং নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণকে যতটা সাধারণ ঘটনা বলে মনে হতে পারে, বৈশ্বিক জনসংখ্যার হিসাবে সেই অভিজ্ঞতা আসলে খুব অল্প মানুষের মধ্যে কেন্দ্রীভূত।   তবে একটি নির্দিষ্ট বছরে কত শতাংশ মানুষ বিমানে ভ্রমণ করেছেন এবং জীবনে কখনো বিমানে চড়েছেন কি না, এই দুটি হিসাব এক নয়। ২০১৮ সালে প্রায় ১১ শতাংশ মানুষের বিমান ভ্রমণের তথ্যের অর্থ এই নয় যে বাকি ৮৯ শতাংশ মানুষ জীবনে কখনো বিমানে ওঠেননি। জীবদ্দশায় বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণার হিসাব আলাদা।   বিমান চলাচলের আরেকটি বড় বৈষম্য দেখা যায় ঘনঘন ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে। আগের গবেষণায় হিসাব করা হয়েছিল, বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ মানুষ যাত্রীবাহী বিমান চলাচল থেকে তৈরি কার্বন নিঃসরণের ৫০ শতাংশের বেশি অংশের জন্য দায়ী।   অর্থাৎ বিশ্বের বিপুলসংখ্যক মানুষ জীবনে কখনো বিমানে না চড়লেও ছোট একটি জনগোষ্ঠী বছরে একাধিকবার কিংবা নিয়মিত বিমান ভ্রমণ করছে। ফলে বিমান খাতের পরিবেশগত প্রভাবও বিশ্বের মানুষের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হয়ে নেই।   বিশেষ করে উচ্চ আয়ের দেশগুলোর মানুষের মধ্যে বিমান ভ্রমণের হার তুলনামূলক বেশি। ব্যবসা, পর্যটন, পারিবারিক ভ্রমণ এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের কারণে এসব দেশের একটি অংশের মানুষের কাছে বছরে একাধিকবার বিমানে ওঠা স্বাভাবিক ঘটনা।   অন্যদিকে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য বিমানের টিকিট এখনো বড় ব্যয়। শুধু টিকিটের মূল্য নয়, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর খরচ, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা ও অন্যান্য ব্যয় এবং অনেক অঞ্চলে পর্যাপ্ত বিমান যোগাযোগ না থাকাও বিমান ভ্রমণের সুযোগকে সীমিত করতে পারে।   এ কারণেই বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বিমানযাত্রা হলেও সেই সংখ্যা দেখে কতজন আলাদা মানুষ বিমানে চড়ছেন, তা বোঝা যায় না। একজন নিয়মিত যাত্রী বছরে বহুবার বিমান ভ্রমণ করতে পারেন এবং প্রতিটি যাত্রাই মোট যাত্রী চলাচলের হিসাবে আলাদাভাবে যুক্ত হয়।   উদাহরণ হিসেবে একজন ব্যবসায়ী বা নিয়মিত পর্যটক বছরে ১০ বার বিমানে ভ্রমণ করলে মোট যাত্রার হিসাবে ১০টি ভ্রমণ যোগ হবে। অন্যদিকে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে থাকা একজন মানুষ হয়তো পুরো জীবনেই একবারও বিমানে ওঠার সুযোগ পাননি। ফলে মোট ফ্লাইট বা মোট যাত্রীযাত্রার সংখ্যা দিয়ে বিমান ভ্রমণ কত মানুষের নাগালে পৌঁছেছে, তার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না।   গবেষণায় বিমান ভ্রমণের সঙ্গে আয় ও সম্পদের সম্পর্কও সামনে এসেছে। উচ্চ আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিয়মিত বিমান ভ্রমণের প্রবণতা বেশি হওয়ায় বিমান চলাচল থেকে তৈরি পরিবেশগত প্রভাবও তুলনামূলকভাবে সেই জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেশি কেন্দ্রীভূত।   বিশ্বের শীর্ষ ঘনঘন বিমানযাত্রীদের ছোট একটি অংশের ভ্রমণের কারণেই যাত্রীবাহী বিমান চলাচলের মোট কার্বন নিঃসরণের বড় অংশ তৈরি হচ্ছে। বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ মানুষের সঙ্গে বিমান খাতের অর্ধেকের বেশি কার্বন নিঃসরণের সম্পর্ক থাকার হিসাব এই বৈষম্যের মাত্রা তুলে ধরে।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত “বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ কখনো বিমানে চড়েননি” দাবিটিকে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার বর্তমান সরাসরি হিসাব হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। সাম্প্রতিক গবেষণায় বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশেরও কম মানুষের জীবনে বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থাকার কথা বলা হয়েছে, যা ৮০ শতাংশের বেশি মানুষের কখনো বিমানে না চড়ার হিসাবকে সমর্থন করে।   এ তথ্য এমন এক বৈশ্বিক বাস্তবতা সামনে আনে, যেখানে বিমান প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক আকাশপথ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হলেও এর ব্যবহার এখনো মানুষের মধ্যে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। বিশ্বের একটি অংশের কাছে বিমান ভ্রমণ দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা হলেও অধিকাংশ মানুষের কাছে এটি এখনো অনভিজ্ঞ একটি বিষয়।   একই সঙ্গে বিমান চলাচলের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে আলোচনাতেও এই বৈষম্য গুরুত্বপূর্ণ। যারা কখনো বিমানে ওঠেননি, তাঁরাও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের মুখোমুখি হতে পারেন। অথচ যাত্রীবাহী বিমান চলাচলের কার্বন নিঃসরণের বড় অংশ তৈরি হচ্ছে তুলনামূলকভাবে ছোট একটি নিয়মিত যাত্রীগোষ্ঠীর ভ্রমণ থেকে।   সব মিলিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের আকাশে হাজার হাজার বিমান চললেও বিমান ভ্রমণ এখনো সর্বজনীন অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠেনি। গবেষণার হিসাবে, পৃথিবীর ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ জীবনে একবারও বিমানে চড়েননি। অন্যদিকে যারা নিয়মিত বিমান ভ্রমণ করেন, তাঁদের মধ্যেও খুব ছোট একটি অংশ বিমান চলাচলের কার্বন নিঃসরণের বড় অংশের জন্য দায়ী।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১০:০
মেঝেতে শুয়েই ওয়াইটের চুল কাটছেন নাপিত ফ্রাঞ্জ

অটিজমে আক্রান্ত শিশুর চুল কাটতে মেঝেতে শুয়ে পড়েন নাপিত, ছবি ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে

গাজায় ইসরায়েলিদের চালানো নির্যাতন ও বেসামরিক প্রাণহানি নিয়ে তথ্যচিত্র 'নাজা' যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা হলে

গাজায় ইসরায়েলিদের চালানো নির্যাতন ও বেসামরিক প্রাণহানি নিয়ে তথ্যচিত্র 'নাজা' যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা হলে

ফ্রান্স থেকে অবৈধ পথে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টায় নৌকায় দুইজনের মৃত্যু

ফ্রান্স থেকে অবৈধ পথে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টায় নৌকায় দুইজনের মৃত্যু, দগ্ধ দুই নারী

0 Comments